ঘরে বসেই রিচার্জ করা যাবে মেট্রোরেল কার্ড

ঢাকার জনপ্রিয় গণপরিবহন মেট্রোরেলের স্থায়ী কার্ড রিচার্জ সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। এখন থেকে কার্ড রিচার্জে স্টেশনে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হবে না। ঘরে বসেই ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, নগদ, রকেটসহ সব ধরনের অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কার্ডে টাকা ভরা যাবে। আগামী ২৫ নভেম্বর থেকে এ সেবা চালু হবে।

তবে শুরুতে ডিটিসিএর ওয়েবসাইটে থাকা লিংকে গিয়ে কার্ড রিচার্জ করতে হবে। এর মধ্যে আগামী মাসে একটি অ্যাপ চালু করবে ডিটিসিএ। তখন অ্যাপের মাধ্যমে টাকা রিচার্জ করা যাবে।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) ডিটিসিএর ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এসব তথ্য জানানো হয়। ওই পোস্টে বলা হয়, আগামী ২৫ নভেম্বর থেকে র‍্যাপিড পাস অনলাইন রিচার্জ চালু হবে। ওই দিন থেকে ঘরে বসেই সহজে, নিরাপদে এবং দ্রুত র‍্যাপিড পাস বা এমআরটি পাস কার্ড রিচার্জ করা যাবে। এতে স্টেশন কাউন্টারে লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা নেই। এখন থেকে মোবাইল বা কম্পিউটারেই কয়েকটি ক্লিকের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অনলাইনে রিচার্জ করা যাবে।

ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। তাদের নিজস্ব স্থায়ী কার্ডের নাম এমআরটি পাস। অন্যদিকে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সরবরাহ করা স্থায়ী কার্ডের নাম র‍্যাপিড পাস। এটি মেট্রোরেল ছাড়াও বাস, ট্রেনসহ অন্যান্য গণপরিবহনে ব্যবহার করার কথা।

স্থায়ী কার্ডের লেনদেন নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্র নিকাশ ঘর (ক্লিয়ারিং হাউজ) ডিটিসিএর অধীন। ঘরে বসে র‍্যাপিড ও এমআরটি পাস রিচার্জ করার কাজে সহায়তা করছে ডেটাসফট নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

ডিটিসিএ সূত্র জানায়, বর্তমানে মেট্রোরেলে দুই ধরনের স্থায়ী কার্ড ব্যবহৃত হচ্ছে—র‍্যাপিড ও এমআরটি পাস। নতুন ব্যবস্থায় দুই ধরনের কার্ডই অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ইচ্ছামতো রিচার্জ করা যাবে। তবে টাকা রিচার্জের পর গ্রাহককে তার স্থায়ী কার্ডটি একবার অন্তত স্টেশনে থাকা বিশেষ যন্ত্রে স্পর্শ করিয়ে হালনাগাদ করে নিতে হবে, যা অ্যাড ভ্যালু মেশিন (এভিএম) নামে পরিচিত।

এর মধ্যে ঘরে বসে মেট্রোরেলের স্থায়ী কার্ড রিচার্জ করার কয়েকটি ধাপ রয়েছে। ডিটিসিএর তৈরি করা এ ব্যবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, প্রথমে ডিটিসএর ওয়েবসাইট বা মুঠোফোন অ্যাপে নিবন্ধন করে লগইন করতে হবে। রিচার্জ অপশনে ক্লিক করে র‍্যাপিড পাস নাকি এমআরটি পাস রিচার্জ করা হবে, তা নির্বাচন করতে হবে। এরপর ব্যাংকের কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পেমেন্ট মাধ্যম নির্বাচন করে টাকা ভরতে হবে। টাকা পরিশোধ সফল হলে স্টেশনে থাকা যন্ত্রে কার্ডটি স্পর্শ করে রিচার্জ সম্পন্ন করতে হবে।

ডিটিসিএ সূত্র জানিয়েছে, গত সোমবার মেট্রোরেলের স্টেশনগুলোতে এভিএম যন্ত্র বসানোর প্রস্তুতি শুরু হয়। প্রতিটি স্টেশনের দুটি প্রশস্ত স্থানে এ যন্ত্র বসানো হবে। ২১ ও ২২ নভেম্বর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ১৬টি স্টেশনে ৩২টি এভিএম যন্ত্র বসানো হবে।

ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, বর্তমানে মেট্রোরেলের ৫৫ শতাংশ যাত্রী র‍্যাপিড বা এমআরটি কার্ডে যাতায়াত করেন। বাকি ৪৫ শতাংশ যাত্রী ব্যবহার করেন একক যাত্রার কার্ড।




নগদের ২০০০ কোটি আত্মসাৎ, পুরোনো ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

 

নগদের সাবেক ম্যানেজমেন্ট প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে এবং পুনরায় নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন বাংলা‌দেশ ব‌্যাং‌কের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে কোর্টে আপিল করা হয়েছে এবং শিগগিরই শুনানির তারিখ নির্ধারিত হবে। ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে যেন নতুন করে বড় ক্ষতির সুযোগ না থাকে।

সোমবার (১৯ মে) দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে পাচার টাকা ফেরত আনার বিষ‌য়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক নগদে অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নিয়োগ দিয়েছিলেন। কিন্তু আগের যারা ম্যানেজমেন্টে ছিল সম্প্রতি তারা সেটা আবার দখল করেছে। এ প্রক্রিয়াটা এখন কোন পর্যায়ে আছে?

আহসান এইচ মনসুর বলেন, নগদের বিষয়ে আমাদের পজিশন সুস্পষ্ট। আমরা মনে করি নগদের যারা অরিজিনাল ম্যানেজমেন্ট ছিল, বোর্ড ছিল তারা অর্থনৈতিক দুর্নীতি করে টাকা আত্মসাৎ করেছে। আমরা জানি ৬৫০ কোটি টাকা তারা ই-মানি ক্রিয়েট করেছে। যেটা আসলে প্রকৃত অর্থ ছিল না। সরকারের দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচির আওতায় যেসব টাকা ট্রান্সফার করা হতো সেগুলো নগদের মাধ্যমে করা হতো। সেখানে তারা প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার ওপরে আত্মসাৎ করেছে। এটা আমাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিটেও ধরা পড়েছে এবং আমরা যে ইন্টারন্যাশনাল অডিট ফার্ম দিয়ে অডিট করেছিলাম সেখানেও ধরা পড়েছে। আমরা মনে করি তাদের হাতে নগদের কার্যক্রম আবার ফেরত যাওয়াটা উচিত নয়। যেহেতু কোর্টের একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমরা এটাকে আপিল করেছি। শিগগিরই শুনানির ডেট দেওয়া হবে। আমরা মনে করি আমাদের পক্ষে রায় পাব। কিন্তু আমরা শঙ্কিত। এই সময়ের মধ্যে তারা তাদের পুরো কন্ট্রোল কিন্তু নিয়ে নিয়েছে সিস্টেমের, যেটার ওপর আমাদের কোনো হাত থাকবে না। কারণ আইনগতভাবে আমরা একটু অসুবিধাজনক অবস্থায় আছি।

তিনি বলেন, তারা এই সময় বড় কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। কারণ, আমরা ব্যাংকগুলোকে বলে দিয়েছি তারা শুধুমাত্র ক্যাশ ইন ও সেন্ড মানি করতে পারবে। তারা তাদের ডাটাবেজ মুছে ফেলার চেষ্টা করতে পারে। তারা ডাটাবেজ মুছে ফেলতে পারে। যেটা আমাদের কাজ আরও কঠিন করে তুলবে।

ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন- প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান এ এফ এম শাহীনুল ইসলাম।




‘নগদ’ কার্যালয়ে ‍দুদকের অভিযান

বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’র প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে অর্থপাচারের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অভিযান পরিচালনা করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুদকের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযান পরিচালনা করছেন। অভিযানে লেনদেনসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।

দুদকের জনসংযোগ দপ্তর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

অভিযোগসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (এমএফএস) প্রায় পাঁচ হাজার অবৈধ এজেন্ট রয়েছে। এসব এজেন্টের মাধ্যমে গত এক বছরে প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এজেন্টরা হুন্ডির মাধ্যমে ওই টাকা পাচার করেছে। এসব বিষয় সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করতেই আজকের অভিযান। পর‌্যায়ক্রমে অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের প্লাটফর্মের লেনদনের তথ্য-উপাত্তও সংগ্রহ করা হবে বলে দুদকের একটি সূত্রে জানা গেছে।

আরএম/জেডএস




নগদের ব্যবসা আরও প্রসারের চেষ্টা করব

মোবাইল আর্থিক প্রতিষ্ঠান নগদ বন্ধ করতে নয়, বরং প্রতিষ্ঠানটির যাতে আরও উন্নতি হয় তার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটিতে সদ্য প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মুহম্মদ বদিউজ্জামান দিদার।

বৃহস্পতিবার নগদ লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে এসে দায়িত্ব নেওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নগদ নিয়ে করা সকল অপপ্রচার বন্ধ করে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও এগিয়ে নেওয়াই তার এবং তার সহযোগীদের লক্ষ্য।

এর আগে বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম অফিসের পরিচালক মুহম্মদ বদিউজ্জামান দিদারকে নগদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেই সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান, যুগ্ম পরিচালক আনোয়ার উল্যাহ, যুগ্ম পরিচালক পলাশ মন্ডল, যুগ্ম পরিচালক (আইসিটি) আবু ছাদাত মোহাম্মদ ইয়াছিন, উপ পরিচালক (আইসিটি) চয়ন বিশ্বাস এবং উপ পরিচালক মো. আইয়ুব খানকেও প্রশাসকের সহায়ক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। একই সাথে ডাক বিভাগের এই ডিজিটাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসে ডাক বিভাগের তিন জন কর্মকর্তাকে নগদ অফিসে পদায়ন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে কর্মকর্তারা তাদের দায়িত্ব বুঝে নেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসক মুহম্মদ বদিউজ্জামান দিদার বলেন, ‘আমরা সম্প্রতি দেখছিলাম, ডাক বিভাগের ডিজিটাল সেবা নগদ সম্পর্কে কিছু গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। নগদ সাড়ে ৯ কোটি গ্রাহকের বিশাল একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটি গুজবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই আমরা সব ধরনের গুজব শেষ করে গ্রাহকের আস্থা আরও বাড়াতে এসেছি। বাংলাদেশ ব্যাংক নগদ বন্ধ করতে আসেনি। আমরা নগদকে আরও এগিয়ে যাওয়ার জন্যে সহায়তা করতে এসেছি।

প্রশাসক পরিষ্কার করে বলেন, নগদের কোনো সেবা, কোনো কার্যক্রম বা কোনো অগ্রগতি এক মুহূর্তের জন্য থামবে না। নগদ ছিল এবং থাকবে। নগদের কার্যক্রম যেভাবে চলছিল, সেভাবেই চলবে। নগদ যেভাবে ভাতা বিতরণ চলছিল, যেভাবে লেনদেন করছিল, যেভাবে পেমেন্ট নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল, সেগুলোকে আরও বড় করার জন্যই আমরা কাজ করবো।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক জানান, নগদের নিয়মিত কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। এমনকি মানবসম্পদ বা অন্যান্য সম্পদ যেভাবে ছিল, তাতেও হাত দিয়ে কোনো অস্থিতিশীলতা তৈরি করার চেষ্টা করা হবে না।

বাংলাদেশ ডাক বিভাগের পরিচালক আবু তালেব বলেন, গত পাঁচ বছরে ডাক বিভাগের ডিজিটাল লেনদেন হিসেবে নগদের যে কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে তাতে কোনো অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়নি। এটি ডাক বিভাগের অন্যান্য সেবার মতোই একটি বিশেষায়িত ডিজিটাল আর্থিক সেবা।

সংবাদ সম্মেলনে নগদ লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মো. সাফায়েত আলম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই প্রশাসক নিয়োগকে আমরা স্বাগত জানাই। নগদের বিপক্ষে যে অপপ্রচার চলছিল, সেটা ঠেকাতে সরকারের এটি একটি সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ যা গ্রাহকের আস্থা পুরনদ্ধারে সরাসরি ভূমিকা রাখবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসকের সহায়ক কর্মকর্তা, ডাক বিভাগের প্রতিনিধি এবং অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ আমিনুল হক উপস্থিত ছিলেন।




ডাক বিভাগকে সাড়ে ৫ কোটি টাকা রাজস্ব দিল নগদ

দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদ প্রতি বছরের মতো এবারও বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সাঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি করেছে। ২০২৩ সালের আয় থেকে ৫ কোটি ৫১ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫৮ টাকার রাজস্ব ডাক বিভাগকে বুঝিয়ে দিয়েছে নগদ।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে নগদ কর্তৃপক্ষ ডাক বিভাগের প্রাপ্য রাজস্বের চেক হস্তান্তর করে। অনুষ্ঠানে নগদ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী তানভীর এ মিশুকের কাছ থেকে চেক গ্রহণ করেন ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তরুণ কান্তি সিকদার। এ সময় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং নগদ লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মো. সাফায়েত আলমসহ দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নগদ লিমিটেড ও ডাক বিভাগের চুক্তি অনুযায়ী, নগদের সেবা থেকে মোট আয়ের ৫১ শতাংশ রাজস্ব পায় বাংলাদেশ ডাক বিভাগ, বাকি ৪৯ শতাংশ রাজস্ব পায় নগদ লিমিটেড। এর আগে ২০২০ সালে ১ কোটি ১২ লাখ টাকা, ২০২১ সালে ৩ কোটি ৩১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৭৭ টাকা এবং ২০২২ সালে ৪ কোটি ৫০ লাখ ৪৬ হাজার টাকা রাজস্ব ডাক বিভাগকে বুঝিয়ে দিয়েছে নগদ লিমিটেড।

অনাড়ম্বর এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিজিটাল সেবা হিসেবে নগদের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি মনে করেন, এই মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের কারণে দেশ ডিজিটালাইজেশন থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে অনেকটাই অগ্রগামী হচ্ছে। এছাড়া খুব দ্রুতই যাত্রা শুরু করতে যাওয়া নগদ ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নগদ ডিজিটাল ব্যাংক দেশকে ক্যাশলেস সোসাইটিতে পরিণত করার দিকে এগিয়ে নেবে।

চেক হস্তান্তর শেষে নগদ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী তানভীর এ মিশুক বলেন, ‘আমরা সবসময়ই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে থাকি। আমরা ডাক বিভাগের ডিজিটাল সেবা হিসেবে যাত্রা শুরু করেছি। সেজন্য চুক্তি অনুযায়ী ডাক বিভাগের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি করি আমরা। আশা করি, আমাদের পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ আরও দীর্ঘায়িত হবে এবং আরও অনেক দুয়ার উন্মোচন হবে।’

২০১৯ সালের মার্চে যাত্রার পর থেকেই সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে নগদ। পিছিয়ে পড়া মানুষকে অর্থনৈতিক অন্তৰ্ভুক্তিতে এনে দেশের ডিজিটাল আর্থিক খাতে বিপ্লব ঘটিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এখন দেশের অন্যতম শীর্ষ এই মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সাড়ে ৯ কোটির ওপরে। প্রতিষ্ঠানটি এখন গড়ে দৈনিক এক হাজার ৮০০ কোটি টাকা লেনদেন করে থাকে।

নগদ দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য স্মার্ট ফোনের জন্য ই-কেওয়াইসি ও বাটন ফোনের জন্য *১৬৭# সেবা উদ্ভাবন করে। পাশাপাশি সর্বনিম্ন ক্যাশ আউট চার্জসহ অত্যাধুনিক সব সেবার মধ্য দিয়ে আর্থিক খাতে পরিবর্তন ঘটিয়েছে নগদ। এর পাশাপাশি নগদ অত্যাধুনিক সাইবার নিরাপত্তার মাধ্যমে গ্রাহকের তথ্য ও অর্থের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিচ্ছে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা উপবৃত্তি থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা তহবিল, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বিভিন্ন সহায়তা ও ভাতার টাকা অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে নগদ। সবমিলিয়ে ২৭টি মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিতরণের দায়িত্ব পালন করছে এই প্রতিষ্ঠানটি।




নগদকে ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদনপত্র হস্তান্তর

নগদ ডিজিটাল ব্যাংক লিমিটেডকে অনুমোদনের কপি হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এরমধ্য দিয়ে দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ব্যাংক হিসেবে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে নগদ ডিজিটাল ব্যাংক।

বুধবার (২৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার তার কার্যালয়ে নগদ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুকের হাতে ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদনের কপি বা লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) হস্তান্তর করেন।

এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু ফরাহ মোহাম্মদ নাসের, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক (বিআরপিডি) মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী, বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক (বিআরপিডি) মো. মনিরুল ইসলাম ও নগদের নির্বাহী পরিচালক নিয়াজ মোর্শেদ এলিট উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার শুভেচ্ছা জানান ও নগদের সফলতা কামনা করেন।

দেশের সাড়ে আট কোটি মানুষের আস্থার নাম নগদ। উদ্ভাবনী সব সেবা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি মোবাইল আর্থিক সেবায় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। ফলে খুব অল্প সময়ে বিশাল গ্রাহকভিত্তি ও মার্কেট শেয়ার নিতে সক্ষম হয়েছে। বাজারে প্রতিযোগিতাও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গ্রাহকের লাভ হয়েছে। দ্রুত এগিয়ে চলার এই পথপরিক্রমায় দেশের দ্রুততম ইউনিকর্ন হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকেও স্বীকৃতি পেয়েছে নগদ।

গত তিন বছর ধরে ডিজিটাল ব্যাংকের সেবা চালু করার জন্যে নীতিনির্ধারকদের কাছে অনুরোধ জানিয়ে আসছিল নগদ। অনুমোদন পাওয়ার পর সাধারণ মানুষের কাছে আধুনিক ব্যাংকিং পৌছে দিতে এরইমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে নগদ।

ডিজিটাল ব্যাংক বিষয়ে নগদ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক বলেন, ‘দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে অনুমোদন পেল নগদ। সাধারণ মানুষ যারা নানা কারণে ব্যাংকে আসতে বাধা অনুভব করেন তাদের কাছে সেবা নিয়ে হাজির হবে নগদ ডিজিটাল ব্যাংক। এ পদ্ধতিতে গ্রাহককে আর ব্যাংকে আসতে হবে না বরং ব্যাংকই মানুষের হাতে হাতে ঘুরবে। এরমধ্য দিয়ে দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধিতে আরেকটি উদাহরণ সৃষ্টি হবে। প্রথাগত ব্যবসায়ের বাইরে যারা আছেন, তাদের কোনো রকম জামানত ছাড়াই সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র সঞ্চয় স্কিম চালুসহ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজের সবকিছুর সমাধান দেবে ডিজিটাল ব্যাংক। এর মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের পথ আরও সুগম হবে।’

অনুষ্ঠানিকতা এবং প্রস্তুতি শেষে স্বল্পতম সময়ে নগদ ডিজিটাল ব্যাংকের সেবা কার্যক্রম চালু করা হবে বলেও জানান তিনি।




ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের নীতিগত অনুমোদন পেল নগদসহ ৮ প্রতিষ্ঠান

নগদ ও বিকাশসহ ৮টি প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে এ সিদ্ধান্ত হয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক গণমাধ্যমকে জানান, ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য ৫২টি আবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানের আবেদন যোগ্য বিবেচিত হওয়ায় পরিচালনা পর্ষদে উপস্থাপন করা হয়। তার মধ্যে বিমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি আবেদন বাদ পড়েছে। বাকি ৮টি আবেদন গৃহীত হয়েছে।

এর মধ্যে ৩টি ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার আবেদন এসেছিল বিদ্যমান ব্যাংকগুলো থেকে। এগুলো হলো: ১০টি বেসরকারি ব্যাংকের জোট ‘ডিজি-১০’, ব্রাক ব্যাংক ও বিকাশের যৌথ আবেদন ‘বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক’ এবং ব্যাংক এশিয়ার ‘ডিজিট-অল ব্যাংক’। পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ তিনটি ডিজিটাল ব্যাংক পৃথক ‘উইন্ডো’ খুলে সেবাদান শুরু করতে পারবে।

প্রযুক্তিখাতের যে পাঁচটি কোম্পানি ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অনুমোদন পেয়েছে সেগুলো হলো: নগদ ডিজিটাল ব্যাংক, কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক, স্মার্ট ডিজিটাল ব্যাংক, জাপান বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক ও নর্থ ইস্ট ডিজিটাল ব্যাংক। এর মধ্যে নগদ ডিজিটাল ব্যাংক ও কড়ি ডিজিটাল ব্যাংককে এখনই লেটার অব ইনটেন্ট বা সম্মতিপত্র (এলওআই) দেয়া হবে। বাকি তিনটি ডিজিটাল ব্যাংকের এলওআই দেয়া হবে ৬ মাস পর।

বর্তমানে দেশে প্রচলিত ধারার ব্যাংক আছে ৬১টি। এর মধ্যে তফসিলি ব্যাংক হিসেবে অনুমোদন পাওয়া বিশেষ আইনে গঠিত প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকসহ মোট ১৫টি ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বর্তমান সরকারের টানা তিন মেয়াদে। সরকারের বর্তমান মেয়াদের শেষের দিকে এসে এখন আরও ৮টি ডি‌জিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হলো।




দুই শতাধিক নগদ ডিস্ট্রিবিউটরকে ওমরাহ করাবেন তানভীর

নগদের পথচলার অন্যতম সহযোগীদের নিয়ে প্রতি বছরের মতো এবারও জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে ডিস্ট্রিবিউটরস মিট ২০২৩। এবারের এই আয়োজন থেকে দুই শতাধিক ডিস্ট্রিবিউটরকে ওমরাহ করানোর ঘোষণা দিয়েছেন নগদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক।

ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে গত শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) নগদের ডিস্ট্রিবিউটরস মিট হয়। সেখানে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন বিভাগে দেশব্যাপী বিস্তৃত নগদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড মসৃণ ও সফলভাবে পরিচালনা করা ডিস্ট্রিবিউটরদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নগদের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার সিহাব উদ্দিন চৌধুরী। এ সময় নগদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে ছয়টি ডিস্ট্রিবিউটর হাউস সেরার পুরস্কার পেয়েছে। জাতীয় সেরা পুরস্কারগুলোর মধ্যে ডিস্ট্রিবিউটর এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড, গ্রোথ হ্যাকার ডিস্ট্রিবিউটর অ্যাওয়ার্ড, আল্টিমেট কন্ট্রিবিউটর অ্যাওয়ার্ড, মোস্ট কনসিস্ট্যান্ট পারফরর্মার অ্যাওয়ার্ড, বেস্ট মার্কেট ড্রাইভ অ্যাওয়ার্ড এবং ক্যাম্পেইন অ্যাচিভার অ্যাওয়ার্ড—এই ছয় ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এই ছয়জনের বাইরে একজনকে গ্র্যান্ড পুরস্কার দেওয়া হয়। তিনি ঢাকার একটি অংশ থেকে সর্বোচ্চ লেনদেন করে সেরাদের সেরা হিসেবে একটি সেডান কার পুরস্কার অর্জন করেন।

নগদের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমরা চাইলে প্রত্যেক ডিস্ট্রিবিউটরকে বিভিন্ন ধরনের পুরস্কার দিতে পারতাম। কিন্তু, আমার মনে হয়েছে, এমন কোনো পুরস্কার দিই, যাতে সারা জীবনের জন্য সেটা মধুর স্মৃতি হয়ে থাকে। সেই জায়গা থেকে মুসলমান ডিস্ট্রিবিউটরদের ওমরাহ করানোর এবং অন্য ধর্মের ডিস্ট্রিবিউটরদের বিদেশ ভ্রমণের ঘোষণা দিয়েছি।’

বরাবরের মতো ডিস্ট্রিবিউটর মিট অনুষ্ঠাতে থাকে ব্যতিক্রম সব আয়োজন। তার পাশাপাশি এবার মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজ মিজানুর রহমানও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তার সারা জীবনের স্বপ্ন ছিল হজ পালন করার। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সেই ঘোষণা আবারও দেন নগদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক। এই অদম্য আলেমকে মক্কা-মদিনা ভ্রমণ করানোর জন্য নগদের একজন ডিস্ট্রিবিউটর দায়িত্ব নেন। এ সময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

কৌতুক, ম্যাজিক ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে এবারের আয়োজন শেষ হয়। অনুষ্ঠানে নগদের ডিস্ট্রিবিউটররা আরও একবার নগদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতিতে আরও বেশি কাজ করার আশা প্রকাশ করেন।




আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে লাইসেন্স পাচ্ছে নগদ

নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে লাইসেন্স পাচ্ছে ‘নগদ’। ডাক বিভাগের মোবাইল আর্থিক লেনদেন সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘নগদ ফাইন্যান্স পিএলসি’ নামে প্রতিষ্ঠানটিকে লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার (২ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। এতে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পরিচালনা পর্ষদের সভায় নগদ ফাইন্যান্স পিএলসিকে লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যেকোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান (সাবসিডিয়ারি) হতে হয়। নগদ এতদিন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাবসিডিয়ারি ছিল না। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লাইসেন্স পায়নি প্রতিষ্ঠানটি।

নগদ মোবাইলে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে ডাক বিভাগের প্রতিষ্ঠান হিসেবে। এখন আলাদা আর্থিক প্রতিষ্ঠান তৈরি হলো। পরবর্তী সময়ে ডাক বিভাগ থেকে বের হয়ে ‘নগদ’ মোবাইল ব্যাংকিং নগদ ফাইন্যান্স-এর অধীনে চলে আসতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত বছর মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বিধিমালা ২০২২ জারি করে। ওই বিধিমালা মোতাবেক, ব্যাংকের পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানও এখন থেকে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দিতে পারবে। এসব প্রতিষ্ঠানের সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।