২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হজ নিবন্ধনের বাকি টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ

হজের আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন শেষ হয়েছে গত ৬ ফেব্রুয়ারি। এখন অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শুরু করতে যাচ্ছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে হজের জন্য নিবন্ধন করেছেন ৮৩ হাজার ১৫৫ জন। তাদের মধ্যে যারা ২ লাখ ৫ হাজার টাকা জমা দিয়ে নিবন্ধন করেছেন তাদের আগামী ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাকি টাকা জমা দিতে বলা হয়েছে।

শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সৌদি সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমের হজযাত্রীদের জন্য মিনায় তাঁবু গ্রহণ, মোয়াল্লেম গ্রহণ, বাড়ি বা হোটেল ভাড়া, পরিবহন চুক্তি প্রভৃতি আবশ্যিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ কারণে ২০২৪ সালে ২ লাখ ৫ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধনকারী হজযাত্রীদেরকে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নিবন্ধনের অবশিষ্ট টাকা জমা দিতে হবে।

চলতি বছর চতুর্থ দফা সময় বাড়িয়েও হজের নির্ধারিত কোটা পূরণ হয়নি। মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারিভাবে নিবন্ধন করেছেন ৮৩ হাজার ১৫৫ হজযাত্রী। ফলে সৌদি আরবের দেওয়া ৪৪ হাজারের বেশি কোটা খালি রেখেই এবারের হজের নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এ কোটা এখন সৌদি আরবকে ফেরত দেওয়া হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধন শেষে এখনও কোটা খালি রয়েছে ৪৪ হাজার ৪৩টি। এ বছর বাংলাদেশের জন্য এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮টি কোটা নির্ধারণ করে দেয় সৌদি আরব। এর মধ্যে সরকারিভাবে হজে যেতে নিবন্ধন করেছেন চার হাজার ২৬০ জন। বেসরকারিভাবে নিবন্ধন করেছেন ৭৮ হাজার ৮৯৫ জন। সবমিলিয়ে মোট নিবন্ধন করেছেন ৮৩ হাজার ১৫৫ জন। বাকি ৪৪ হাজার ৪৩টি কোটা ফেরত যাবে।

এবার হজের নিবন্ধন শুরু হয় ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর, যা ১০ ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রত্যাশিত সাড়া না মেলায় প্রথম দফায় সময় বাড়ানো হয় ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এরপর দ্বিতীয় দফায় ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত নিবন্ধনের সময় বাড়ানো হয়। তৃতীয় দফায় ২৫ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ায় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এতেও হজ নিবন্ধনে কাঙ্ক্ষিত সাড়া না মেলায় শেষ দফায় ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হজ নিবন্ধনের সময় বাড়ানো হয়।

চলতি ২০২৪ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়ার দুটি প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বনিম্ন প্যাকেজের মূল্য পাঁচ লাখ ৭৮ হাজার ৮৪০ টাকা। বিশেষ প্যাকেজের মূল্য নয় লাখ ৩৬ হাজার ৩২০ টাকা। অপরদিকে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি প্যাকেজের মূল্য যথাক্রমে পাঁচ লাখ ৮৯ হাজার ৮০০ টাকা এবং আট লাখ ২৮ হাজার ৮১৮ টাকা। যদিও গত বছরের চেয়ে এ বছর সর্বনিম্ন প্যাকেজের মূল্য এক লাখ চার হাজার ১৬০ টাকা কমানো হয়েছে। এরপরও বর্তমান হজ প্যাকেজের মূল্যকে অনেক বেশি মনে করছেন হজে যেতে আগ্রহীরা।

উল্লেখ্য, চাঁদ দেখা-সাপেক্ষে চলতি বছরের ১৬ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে।




সরকারি ব্যবস্থাপনায় বাড়ি ভাড়া থেকে বেঁচে যাওয়া ৪৯ কোটি টাকা ফেরত পাচ্ছেন হাজিরা

চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়া হাজিরা বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য খাতে উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরত পাচ্ছেন। ১০ হাজার ৩০ জন হাজির ব্যাংক হিসাবে ৪৮ কোটি ৮৮ লাখ ১ হাজার ১৪৯ টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল স্থানীয় কার্যালয় শাখার মহাব্যবস্থাপককে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, ২০২৩ সালের হজের সরকারি মাধ্যমের হজযাত্রীদের সৌদি আরব পর্বে দেওয়া প্যাকেজ মূল্যের বাড়ি ভিত্তিক উদ্বৃত্ত অর্থ নিবন্ধনকালে দাখিল করা বা পরবর্তীতে সংশোধিত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পরিশোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সরকারি হজযাত্রীদের জন্য ১৬টি বাড়ির ভাড়ার ক্ষেত্রে এই অর্থ উদ্ধৃত রয়েছে। এর মধ্যে বাড়ি-১ এর ক্ষেত্রে প্রত্যেক হাজি ৫৬ হাজার ৩২ টাকা, বাড়ি-২ এর ক্ষেত্রে ৫৭ হাজার ৪৮০ টাকা, বাড়ি-৩ এর ক্ষেত্রে ৫১ হাজার ৭৪৫ টাকা, বাড়ি-৪ এর ক্ষেত্রে ৫১ হাজার ৭৪৫ টাকা, বাড়ি-৫ এর ক্ষেত্রে ৬১ হাজার ৭৬৬ টাকা, বাড়ি-৬ এর ক্ষেত্রে ৬০ হাজার ৩৪৭ টাকা, বাড়ি-৭ এর ক্ষেত্রে ৬৩ হাজার ২১৪ টাকা, বাড়ি-৮ এর ক্ষেত্রে ৩১ হাজার ৬৭৩ টাকা করে ফেরত পাবেন।

এছাড়া বাড়ি-৯ এ থাকা হাজিরা প্রত্যেকে ৬৩ হাজার ২১৪ টাকা, বাড়ি-১০ এর প্রত্যেকে ৫১ হাজার ৭৪৫ টাকা, বাড়ি-১১ এর প্রত্যেকে ৬৩ হাজার ২১৪ টাকা, বাড়ি-১২ এর প্রত্যেকে ৪৬ হাজার ১০ টাকা, বাড়ি-১৩ এর প্রত্যেকে ৪৬ হাজার ১০ টাকা, বাড়ি-১৪ এর প্রত্যেকে ৫৪ হাজার ৬১২ টাকা, বাড়ি-১৫ এর প্রত্যেকে ৪৬ হাজার ১০ টাকা এবং বাড়ি-১৬ এর প্রত্যেকে ২৫ হাজার ৯৩৮ করে ফেরত পাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: হজের টাকা ফেরত পেলেন ১০১১৭ প্রাক-নিবন্ধন বাতিলকারী

চলতি বছরের ২৭ জুন (৯ জিলহজ) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। এবার বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২২ হাজার ৮৮৪ জন হজ পালন করেন।

এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. মঞ্জুরুল হক  বলেন, ‘এবার হজে সৌদি অংশে বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে যে খরচটা হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি, তা থেকে উদ্বৃত্ত রয়েছে। অন্যান্য কিছু খাতেও টাকা উদ্বৃত্ত রয়েছে। সব মিলিয়ে সেই টাকাটা আমরা হাজিদের ফেরত দিচ্ছি। হজ কার্যক্রম পরিচালনা করে সরকার লাভ করে না। প্যাকেজের যেটা খরচ হয়, বাকিটা হাজিদের ফেরত দেওয়া হয়। আগেও দেওয়া হয়েছে, এবারও দেওয়া হচ্ছে।’




দেশে ফিরলেন ৯৮ হাজার ৭৪৬ হাজি

পবিত্র হজ পালন শেষে ২৬০ ফ্লাইটে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ৯৮ হাজার ৭৪৬ জন হাজি। এবার হজ করতে গিয়ে এ পর্যন্ত ১১৭ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন।

সর্বশেষ মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) মারা গেছেন ২ জন। তবে বুধবার কোনো হাজির মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ সম্পর্কিত সবশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বুধবার (২৬ জুলাই) রাতে হজ বুলেটিনে জানানো হয়, বুধবার রাত ১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ফিরতি ফ্লাইট সংখ্যা ২৬০টি। এরমধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ফ্লাইট ১২৩টি, সৌদি এয়ারলাইন্স পরিচালিত ফ্লাইট ৯৭টি ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স পরিচালিত ফ্লাইট ৪০টি।

এদিকে, এবার হজে গিয়ে এখন পর্যন্ত ১১৭ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। তাদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৯১ ও নারী ২৬ জন। যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে মক্কায় ৯৫, মদিনায় ৮, জেদ্দায় ২, মিনায় ৯, আরাফায় ২, মুজদালিফায় একজন মারা গেছেন। সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী, সেখানেই তাদের দাফন করা হয়েছে।

গত ২৭ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ১ লাখ ২২ হাজার ৮৮৪ জন হজ পালনে সৌদি আরব যান। হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট গত ২ জুলাই শুরু হয় এবং শেষ হবে আগামী ২ আগস্ট।




দেশে ফিরেছেন ২৪ হাজার ১৫৮ হাজি

চলতি বছর পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শনিবার (৮ জুলাই) পর্যন্ত মোট ৬৪টি ফিরতি ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন ২৪ হাজার ১৫৮ জন হাজি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালিত ফ্লাইট সংখ্যা ২২টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স পরিচালিত ফ্লাইট ২৭টি এবং ফ্লাইনাসের ফ্লাইট ১৫টি।

শনিবার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ৪৬তম বুলেটিন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট এক লাখ ২২ হাজার ৮৮৪ জন হজ পালনে সৌদি আরব যান। এসব হজযাত্রী বহন করতে মোট ফ্লাইট পরিচালনা করা হয় ৩২৫টি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৫৯টি ফ্লাইটে ৬১ হাজার ১৮০ জন, সৌদি এয়ারলাইন্স ১১৩টি ফ্লাইটে ৪১ হাজার ৪৬৮ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ৫৩টি ফ্লাইটে ২০ হাজার ২৩৬ জন হজযাত্রী বহন করে।

পবিত্র হজ পালন শেষে বিমান, ফ্লাইনাস ও সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে দেশে আসা হাজিদের মধ্যে জমজমের পানি বিতরণ করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

অন্যদিকে, এবার হজে গিয়ে সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত ইন্তেকাল করেছেন ৯০ জন হজযাত্রী/হাজি। তাদের মধ্যে পুরুষ ৬৯ জন, নারী ২১ জন। মক্কায় মারা গেছেন ৭৪ জন, মদিনায় পাঁচজন, জেদ্দায় একজন, মিনায় সাতজন, আরাফায় দুইজন ও মুজদালিফায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।

চলতি বছর গত ২১ মে হজের প্রথম ফ্লাইট শুরু হয়। হজে যাওয়ার শেষ ফ্লাইট ২২ জুন। অন্যদিকে, হজ পালন শেষে দেশে ফেরার ফ্লাইট শুরু হবে আগামী ২ জুলাই। হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাইট শেষ হবে ২ আগস্ট।




হজ নিবন্ধনের ‘বিশেষ একদিন’ আজ

চলতি বছর হজে যেতে ইচ্ছুক কিন্তু এখনো চূড়ান্ত নিবন্ধন করেননি তাদের জন্য ‘একদিনের বিশেষ’ সুযোগ দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ‌সেজন্য মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) হজের নিবন্ধনের সার্ভার খুলে দেওয়া হবে। চলতি বছর এটিই শেষ সুযোগ বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম হজ নিবন্ধন শুরু হয়। আট দফা সময় বাড়িয়েও কোটা পূরণ না হওয়ায় গত ১১ এপ্রিল উন্মুক্ত নিবন্ধন বন্ধ করা হয়। হজযাত্রী ও এজেন্সিগুলোর অনুরোধে চলতি বছর হজে যেতে ইচ্ছুকদের জন্য আজ নিবন্ধন চলবে।

গত ২০ এপ্রিল ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, হজযাত্রী ও এজেন্সিগুলোর অনুরোধে চলতি বছর হজে যেতে আরও একদিন হজযাত্রী নিবন্ধন চলবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর গত ১৬ এপ্রিলের পত্র ও হজযাত্রীদের বিশেষ অনুরোধে সরকারি ব্যবস্থাপনা এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রী নিবন্ধনের জন্য নিবন্ধন সার্ভার আগামী ২৫ এপ্রিল একদিনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

আরও বলা হয়, নিবন্ধনের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় প্রাক-নিবন্ধনের ক্রমিক উন্মুক্ত রয়েছে এবং উভয় ব্যবস্থাপনায় নতুন করে প্রাক-নিবন্ধন করে হজে যাওয়ার সুযোগ আছে। কোটা পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিবন্ধন সার্ভার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। কোনোক্রমেই আর সময় বাড়ানো যাবে না।

বাংলাদেশ থেকে কতজন হজ করতে যাবেন সৌদি সরকারকে আগামী ৯ মের মধ্যে জানাতে হবে। এজন্য নিবন্ধনের শেষ সুযোগটুকু দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৫ হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ১২ হাজার ১৯৮ জন হজে যেতে পারবেন। এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে নিবন্ধন করেছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৯৫ জন। অর্থাৎ নিবন্ধনের বাকি আছে ৭ হাজার ৫০৩ জনের। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকের মতো কোটা সরকারি এবং বেসরকারি হজ ব্যবস্থাপনা টিম সদস্যদের দিয়ে পূরণ হবে। সে হিসেবে নিবন্ধনের জন্য প্রকৃত কোটা বাকি আছে ৪ হাজারের কিছু বেশি।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই কোটা পূরণ না হলে সৌদি সরকারকে ফেরত দিতে হবে। এই ফেরত দেওয়া ঠেকাতে একদিনের সুযোগ দিতে চায় মন্ত্রণালয়। তারা জানান, অনেকে মনে করেছে আরও হয়তো সময় বৃদ্ধি হবে। কিন্তু ১১ তারিখের পর সময় না বাড়ায় অনেকে হজ এজেন্সি অফিসে যোগাযোগ করেন। তাদের অনুরোধে এ সময় বাড়ানো।

এদিকে গত ১৬ এপ্রিল থেকে চূড়ান্ত নিবন্ধন করেছেন এমন হজযাত্রীদের ভিসার জন্য বায়োমেট্রিক শুরু হয়েছে। সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের সব জেলার ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয়, ঢাকায় অবস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন আগারগাঁও, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম মসজিদ কমপ্লেক্স, ওয়াক্ফ প্রশাসকের কার্যালয়, ঢাকা এবং হজ অফিস, আশকোনা, ঢাকায় বায়োমেট্রিক ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীরা যেখানে বায়োমেট্রিক ভিসার জন্য আবেদন করবেন সেখানে তাদের পাসপোর্ট জমা দেবেন এবং রশিদ গ্রহণ করবেন।

বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীরা নিজ নিজ এজেন্সির মাধ্যমে এবং হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) অফিসে বায়োমেট্রিক ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। বায়োমেট্রিক ভিসা আবেদনের পর পাসপোর্ট স্ব স্ব এজেন্সির কাছে জমা দিয়ে রশিদ গ্রহণ করবেন।




আবারও বাড়লো হজযাত্রী নিবন্ধনের সময়

আবারও হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় বাড়ানো হয়েছে। ষষ্ঠবারের মতো বাড়ানো সময় অনুযায়ী, আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত হজের নিবন্ধন চলবে। কোটা পূরণ না হওয়ায় ধর্ম মন্ত্রণালয় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সোমবার (২৭ মার্চ) নিবন্ধনের সময় বাড়িয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

আগের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় সোমবার (২৭ মার্চ) শেষ হওয়ার কথা ছিল।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারি ব্যবস্থাপনা এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী নিবন্ধনের সময়সীমা আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত হজযাত্রীদের বিশেষ অনুরোধে বাড়ানো হলো।

নিবন্ধনের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় প্রাক-নিবন্ধনের ক্রমিক উন্মুক্ত রয়েছে এবং উভয় ব্যবস্থাপনায় নতুন করে প্রাক-নিবন্ধন করে হজে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কোটা পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিবন্ধন সার্ভার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে চলতি বছরের ২৭ জুন (৯ জিলহ্জ) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি আরবের সঙ্গে হজচুক্তি অনুযায়ী, এবার বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে পারবেন। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায়




কমলো টাকা , বাড়লো হজ নিবন্ধনের সময় 

অবশেষে টাকা কমিয়ে হজ প্যাকেজ সংশোধন করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে নিবন্ধনের সময়সীমাও আগামী ২৭ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বুধবার (২২ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীনের সই করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি সরকার সৌদি পর্বের মিনার ক্যাটাগরিভিত্তিক সেবা মূল্য বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য কমানোর কারণে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ প্যাকেজ সংশোধন এবং হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় বাড়ানো হয়েছে।

সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের জন্য ঘোষিত প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত মিনার চারটি (এ, বি, সি, ডি) ক্যাটাগরির সেবার মূল্য বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য সৌদি সরকার কমিয়েছে।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় যেহেতু মিনার তাঁবু ‘সি’ ক্যাটাগরি ধরে প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে, সেহেতু সরকারি প্যাকেজ মূল্য ১১ হাজার ৭২৫ টাকা কমানো হলো। সে ক্ষেত্রে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বর্তমান হজ প্যাকেজ মূল্য ৬ লাখ ৭১ হাজার ২৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশও (হাব) যেহেতু মিনার তাঁবু ‘সি’ ক্যাটাগরি ধরে প্যাকেজ নির্ধারণ করেছে, সেহেতু বেসরকারি এজেন্সির ক্ষেত্রেও অনুরূপ পরিমাণ অর্থ কমানোর জন্য হাবকে অনুরোধ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বর্তমান হজ প্যাকেজ মূল্য ৬ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৩ টাকায় নির্ধারিত হবে।

যেসব হজ এজেন্সি মিনার তাঁবুর অন্যান্য ক্যাটাগরি ধরে প্যাকেজ নির্ধারণ করেছে, তাদেরও সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরির হ্রাসকৃত মূল্যে প্যাকেজ নির্ধারণ করে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে।

প্যাকেজ মূল্য হ্রাস পাওয়ায় এবং হজযাত্রীদের বয়সসীমা না থাকায় অনেক হজযাত্রী নতুন করে হজে যাওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করায় পরিবর্তিত প্যাকেজে নিবন্ধনের সময়সীমা আগামী ২৭ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

নিবন্ধনের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় প্রাক-নিবন্ধনের ক্রমিক উন্মুক্ত থাকবে। কোটা পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিবন্ধন সার্ভার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২৭ মার্চ হজ কার্যক্রম পরিচালনাকারী সব ব্যাংককে অফিস সময়ের পরেও প্রস্তুতকৃত ভাউচারগুলোর অর্থ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত ব্যাংকের শাখাগুলো খোলা রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো। ২৫ মার্চ হজ কার্যক্রম পরিচালনাকারী সংশ্লিষ্ট সব ব্যাংকের শাখাগুলো খোলা রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করা হয়েছে।