জাল নথিতে ১৭৬ কোটি টাকার রাজস্ব আত্মসাৎ

শুল্ক সুবিধার অপব্যবহার ও জাল দলিলের মাধ্যমে সরকারের প্রায় ১৭৬ কোটি টাকা রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগে অভিযোগে সাবেক তিন কাস্টমস কর্মকর্তাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

অনুমোদিত প্রথম চার্জশিটে জাল দলিল ও কম শুল্কযুক্ত ব্যবহার করে সরকারের প্রায় ৮০ কোটি ৯২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা রাজস্ব আত্মসাতের আমদানিকারক, সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট ও কাস্টমস কর্মকর্তাসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

অন্যদিকে দ্বিতীয় চার্জশিটে চীন থেকে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য আমদানির নামে ভুয়া ঘোষণা, কম শুল্কযুক্ত এইচএস কোড ব্যবহার ও জাল দলিলের মাধ্যমে সরকারের প্রায় ৯৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগে আমদানিকারক, সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট ও কাস্টমস কর্মকর্তাসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা, জালিয়াতি ও অসদাচরণের মাধ্যমে ভুয়া জাহাজি দলিল তৈরি ও ব্যবহার করে রাজস্ব আত্মসাৎ করেছেন।

প্রথম মামলার চার্জশিটে গ্যানী ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক মোহাম্মদ কাসিফ ফোরকান, মেসার্স সাই অ্যান্ড কোং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোস্তফা কামাল চৌধুরী, সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম ও আমদানিকারক শওকত আনোয়ার চৌধুরীকে আসামি করা হয়েছে।

অন্যদিকে দ্বিতীয় মামলার চার্জশিটের আসামি হলেন- সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা হুমায়ন কবির, মুজিবুর রহমান ও সাদমান এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. আবুল হাসনাত সোহাগ।

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।




শত কোটি টাকা আত্মসাৎ: অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক জিএম মাসুদ গ্রেফতার

অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ব্যাংক থেকে শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তিনি।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। দুদকের উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইসলামী ব্যাংকেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে গত ৯ অক্টোবর অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

এছাড়া অগ্রণী ব্যাংক থেকে প্রায় ১৯০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২৮ সেপ্টেম্বর ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলার অভিযোগে বলা হয়, চট্টগ্রামে অগ্রণী ব্যাংকের আছাদগঞ্জ শাখা থেকে বিতরণ করা টিআর (ট্রাস্ট রিসিপ্ট) ঋণের ৫১ কোটি টাকা অসাধু উদ্দেশ্যে পরস্পর যোগসাজশে আত্মসাৎ করা হয়। বর্তমানে সুদে-আসলে এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

গ্রেফতার ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ অগ্রণী ব্যাংকের ঢাকা সার্কেল-২ এর সাবেক মহাব্যবস্থাপক ছিলেন। মামলাটি এখন তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।

সংস্থাটি আরও জানায়, তদন্ত ও বিচারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে জেলহাজতে রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে মামলার বিচারাধীন এলাকা চট্টগ্রামের মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে পাঠাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।




এবার দুদকের মামলায় গ্রেফতার বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান মোরশেদ

জুলাইয়ের হত্যা মামলার পর এবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য এবং বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান মোরশেদ আলমকে।

সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ইব্রাহিম মিয়া শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এ দিন কারাগার থেকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। তার উপস্থিতিতে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গত ৪ মে দুদকের উপ-পরিচালক শেখ গোলাম মাওলা বাদী হয়ে এ মামলা করেন। এতে মোরশেদ আলমসহ তিনজনকে আসামি করা হয়।

মামলার অপর দুই আসামি হলেন- মোরশেদ আলমের ছেলে বেঙ্গল কনসেপ্ট অ্যান্ড হোল্ডিংস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুল আলম এবং মোরশেদ আলমের ভাই বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির এরিয়া অফিসের জন্য ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম ও তার ভাই মো. জসিম উদ্দিনের মালিকানাধীন জমি কেনায় কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট থাকায়, তা গোপন করে অস্বাভাবিক দামে কেনার মাধ্যমে ২ কোটি ৮৬ লাখ ৬ হাজার ১৪৫ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল রাতে রাজধানীর গুলশান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরের দিন রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় কিশোর মো. শামীম হত্যা মামলায় বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-২ আসনের সাবেক এমপি মোরশেদ আলমকে কারাগারে পাঠান আদালত। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে আটক আছেন।




এস আলমের দুই ছেলেসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

৭৫ কোটি টাকার কর ফাঁকির অভিযোগে আলোচিত শিল্পগ্রুপের কর্ণধার এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল আলমের দুই ছেলে ও কর কর্মকর্তাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন।

মামলার আসামিরা হলেন- সাইফুল আলমের ছেলে আশরাফুল আলম; আসাদুল আলম মাহির, সাবেক উপ কর কমিশনার আমিনুল ইসলাম।

এছাড়া কর ফাঁকির ঘটনার সম্পৃক্ততায় সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৭ কর্মকর্তা আসামি হয়েছেন। তারা হলেন- ব্যাংকটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. হেলাল উদ্দিন, শাখা প্রধান মুহাম্মদ আমির হোসেন, প্রাক্তন এসএভিপি মো. আহসানুল হক, প্রাক্তন এসএভিপি রুহুল আবেদীন, কর্মকর্তা শামীমা আক্তার, , মো. আনিস উদ্দিন ও গাজী মুহাম্মদ ইয়াকুব।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা একে অপরের সহায়তায় জাল-জালিয়াতির আশ্রয়ে অপরাধমূলক অসদাচরণ করে ভুয়া পে-অর্ডার তৈরি করে তা সঠিক হিসেবে ব্যবহার করা এবং ৫০০ কোটি টাকার অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ বা কালো টাকা সাদা করার জন্য ১২৫ কোটি টাকার আয়কর পরিশোধ করার কথা থাকলেও তারা ৫০ কোটি টাকার আয়কর পরিশোধ করেন। অবশিষ্ট ৭৫ কোটি টাকা সরকারের রাজস্ব ক্ষতি সাধন করেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৮০৯/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা তৎসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত বছরের অক্টোবরে ব্যবসায়ী সাইফুল আলম ওরফে এস আলমের দুই ছেলের আয়কর নথিতে বাড়তি সুবিধা দেওয়া এবং এর বিনিময়ে ঘুস নেওয়ার অভিযোগে আয়কর বিভাগের তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে এনবিআর। এই অভিযোগ আমলে নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

আওয়ামী লীগ সরকার ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ১০ শতাংশ কর দেওয়ার মাধ্যমে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার অনুমতি দেয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যক্তিগত পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ করের হার বিবেচনায় নিলে আশরাফুল ও আসাদুলকে অপ্রদর্শিত ৫০০ কোটি টাকার বিপরীতে কমপক্ষে ১২৫ কোটি টাকা কর দিতে হতো। অথচ তারা মাত্র ৫০ কোটি টাকা দিয়েই এই টাকা সাদা করে নেন।




মুন্নী সাহা ও তার স্বামীর সম্পদের হিসাব তলব করল দুদক

সাংবাদিক মুন্নী সাহা ও তার স্বামী মো. কবীর হোসেনের নামে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (১৪ আগষ্ট) সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।

তিনি বলেন, অনুসন্ধানকালে তাদের নামে ঘোষিত আয়ের তুলনায় বিপুল পরিমাণ অপ্রকাশিত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। সে কারণে অর্জিত সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও আয়ের উৎস যাচাইয়ের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬ (১) ধারায় উভয়ের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারি করা হয়েছে।

দুদকের হাতে থাকা তথ্য অনুসারে, ২০২৪-২০২৫ করবর্ষ পর্যন্ত মুন্নী সাহা ১ কোটি ৮৫ লাখ ৩২ হাজার ৪০০ টাকার স্থাবর ও ১১ কোটি ৯৬ লাখ ১৭ হাজার ৭৪৯ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৫০ হাজার ১৪৯ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। একই সময়ে তার গ্রহণযোগ্য আয় ছিল ৩ কোটি ২৪ লাখ ২৩ হাজার ৫১৩ টাকা এবং ব্যয় ২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার ২৫৬ টাকা। ব্যয় বাদে সঞ্চয় দাঁড়ায় ৭৩ লাখ ৯৩ হাজার ২৫৭ টাকা। অর্থাৎ সঞ্চয়ের তুলনায় ১৩ কোটি ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৮৯২ টাকার সম্পদ বেশি পাওয়া গেছে, যা জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।

অন্যদিকে, তার স্বামী মো. কবীর হোসেন ২ কোটি ১২ লাখ ৪ হাজার ১৩৫ টাকার স্থাবর ও ১৪ কোটি ৫৫ লাখ ৮৯ হাজার ২০৫ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ১৬ কোটি ৬৭ লাখ ৯৩ হাজার ৩৪০ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। একই সময়ে তার গ্রহণযোগ্য আয় ছিল ৮ কোটি ১৭ লাখ ৪২ হাজার ৭২৫ টাকা এবং ব্যয় ৮৩ লাখ ৮৬ হাজার ৪০২ টাকা। ব্যয় বাদে সঞ্চয় দাঁড়ায় ৭ কোটি ৩৩ লাখ ৫৬ হাজার ৩২৩ টাকা। ফলে সঞ্চয়ের তুলনায় ৯ কোটি ৩৪ লাখ ৩৭ হাজার ১৭ টাকার সম্পদ বেশি পাওয়া গেছে, যা জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।

গত ৩০ জুলাই দুদকের একটি টিম তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। ব্যাংক হিসাবে ১৩৪ কোটি টাকার সন্দেহভাজন লেনদেনসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে গত ২ জানুয়ারি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গত ১৬ জুলাই মুন্নী সাহা, তার মা আপেল রানী সাহা, স্বামী কবির হোসেন তাপস ও ভাই তপন কুমার সাহার নামে থাকা ৩৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেন আদালত।




এবার এস আলম ও ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ৩০ জনকে দুদকে তলব

সিঙ্গাপুর, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, সাইপ্রাস এবং অন্যান্য দেশে এক বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিতর্কিত ব্যবসায়ী শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম, তার ভাই ও ইসলামী ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন ২৮ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলমের ছেলে ও ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসানুল আলমসহ ইসলামী ব্যাংকের ১২ শীর্ষ কর্মকর্তাকে তলব করেছিল সংস্থাটি।

এবারের চিঠিতে এস আলমের সঙ্গে তার ভাই এস আলম ভেজিটেবল ওয়েল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদুল আলমকেও তলব করা হয়েছে যাদের আগামী ৫ মার্চ দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে।

রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুদকের উপপরিচালক আবু সাঈদ সই করা চিঠিতে এস আলম সুপার এডিবল ওয়েল লিমিটেডের অনুকূলে ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ বা বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট এবং টিআইএনসহ প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে।

৬ মার্চ যাদের তলব করা হয়েছে তারা হলেন– ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এসভিপি ও চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ শাখা প্রধান মোহাম্মদ কাইসার আলী, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদ হোসেন খান, সাবেক সিনিয়র অফিসার মো. মিজানুর রহমান, মো. সোহরাব হোসেন, সাবেক এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মোহন মিয়া, সাবেক ইভিপি মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম ও সাবেক সদস্য মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ।

৯ মার্চ যাদের তলব করা হয়েছে তারা হলেন– ব্যাংকটির সাবেক সদস্য আবু রেজা মো. ইয়াহিয়া, মোহাম্মদ আলী, মো. শফিকুর রহমান, মো. নাজিবুর রহমান, মো. শামসুজ্জামান, মো. আব্দুস সাদেক ভূঁইয়া ও রাফি আহমেদ বেগ।

১০ মার্চ যাদের তলব করা হয়েছে– ইসলামী ব্যাংকের সাবেক সদস্য মো. হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, মো. মাহবুব-উল-আলম, ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, সাবেক পর্যবেক্ষক বাংলাদেশ ব্যাংকের জিএম মো. ইস্কান্দার মিয়া, ইসলামী ব্যাংকের সাবেক স্বতন্ত্র পরিচালক ব্যারিস্টার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, হুমায়ুন বখতিয়ার ও মো. আব্দুস সালাম।

এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক এ এইচ জি মহিউদ্দিন, মো. আবুল হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার মো. ইস্কান্দার আলী খান, সাবেই ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর এনআরএম বোরহান, পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মুস্তাফা আনোয়ার, সাবেক মেম্বার সেক্রেটারি প্রফেসর ড. আবু বকর রফিক ও সাবেক ডিএমডি মোহাম্মদ আবুল বাশারকে ১১ মার্চ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।

এরই মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় এস আলমের ছেলে ও ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আহসানুল আলমকে আসামি করে তিনটি মামলা করা হয়েছে। দুদক থেকে পাওয়া তথ্যানুসারে এর আগে গত ১৯ ডিসেম্বর ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের চাকতাই শাখা থেকে এক হাজার ৯২ কোটি টাকা লুটপাটে আহসানুল আলমসহ ৫৮ জন, চট্টগ্রামের জুবিলী রোড শাখা থেকে প্রায় এক হাজার ১১৪ কোটি টাকা লুটপাটে গত ৯ জানুয়ারি এবং গত ২৮ জানুয়ারি ৮২৭ কোটি ৪২ লাখ ১৫ হাজার ৪২৫ টাকা আত্মসাতের ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল আলমের ছেলে আহসানুল আলম এবং সেঞ্চুরী ফুড প্রোডাক্টসের মালিক আরিফুল ইসলাম চৌধুরীসহ ৫২ জনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করে দুদক।

গত ২১ আগস্ট এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল আলমের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগের তদন্ত শুরু করে দুদক। ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় এস আলম গ্রুপ। এরপর বিভিন্ন সময় ব্যাংকটির ঋণ জালিয়াতি ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।




চট্টগ্রামের সাবেক এমপি মোস্তাফিজুরকে দুদকে তলব

চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে তার তলবি চিঠি চট্টগ্রামের বাসার ঠিকানায় সম্প্রতি পাঠানো হয়েছে। যেখানে তাকে আগামীকাল ২৭ অক্টোবর হাজির হয়ে বক্তব্য প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। দুদক উপপরিচালক মুর্তুজা আল মহামুদ সই করা চিঠির সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এর আগে গত ১৫ অক্টোবর মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ও তার স্ত্রী শাহীন আক্তার চৌধুরীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। গত ১৮ সেপ্টেম্বর সাবেক এমপি মোস্তাফিজুর রহমানের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

 

কমিশন থেকে সিদ্ধান্তেরর পর দুদক উপপরিচালক মুর্তুজা-আল-মাহমুদের নেতৃত্বে একটি তিন সদস্যের অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। টিমের অপর সদস্যরা হলেন- সহকারী পরিচালক মো. ফয়সাল কাদের ও উপসহকারী পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন।

অনুসন্ধান কাজ শুরু হওয়ার পর এরই মধ্যে চলতি সপ্তাহে ১৫৪ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথিপত্র তলব করে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। যার মধ্যে জাতীয় সংসদ, বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিস, ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, রাজউক, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনসহ ৩০টি প্রতিষ্ঠান, ৭৯টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ৪৫টি ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি রয়েছে। কিছু কিছু নথিপত্র আসা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগসূত্রে জানা যায়, মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় ছিল ১৫ হাজার টাকা, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ লাখ ৬৮ হাজার ৪৬৫ টাকা। সাবেক এই এমপির নিজ নামে একটি টয়োটা প্রাডো জিপ, যার মূল্য ৩৭ লাখ ২০ হাজার ও একটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রজার স্টেশন ওয়াগন, যার মূল্য ৮৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

সূত্র জানায়, তার পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত চার একর জমি, নিজ নামে বরাদ্দকৃত রাজউকের তিন কাঠার প্লট, ১৪ গন্ডা অকৃষি জমি, চার কাঠার প্লট ও চকবাজার সুপার মার্কেটে দোকান রয়েছে। স্ত্রীর নামে পাঁচতলা বিশিষ্ট বাড়ি ও ঢাকার কাফরুলে ১৮৭২ বর্গফুটের ফ্ল্যাট রয়েছে।




কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে ১৬ কোটি টাকা লুটপাট

নির্মাণ কাজ ও ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করে প্রায় ১৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় প্যাকিং হাউজের অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (১৫ জুলাই) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এনফোর্সমেন্ট টিমের অভিযানে অভিযোগের প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। সংস্থাটির উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নথিপত্র সংগ্রহ শেষে যাচাই-বাছাই করলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শ্যামপুরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় প্যাকিং হাউজ। রপ্তানির আগে কাঁচাপণ্যের মান যাচাই ও প্যাকিংয়ের সুবিধার জন্য এই ল্যাবরেটরিকে আন্তর্জাতিক মানে তৈরির উদ্যোগ নেয় সরকার। ২০২১ সালে নেওয়া এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১৫৮ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের জুন মাসে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে। নিয়মানুযায়ী প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পরই অর্থ ছাড় করার কথা থাকলেও ৩০ হাজার ৬১৭ স্কয়ার ফিটের ৬তলা ভবনের নির্মাণকাজের মাত্র পাইলিংয়ের ক্যাপের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে সিভিল ওয়ার্কের ১২ কোটি টাকার মধ্যে ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা তুলে নিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মার্ল্টিবিজ ইন্টারন্যাশনাল।

অন্যদিকে ল্যাবরেটরি আধুনিকায়নের জন্য কেন্দ্রীয় প্যাকিং হাউজের টক্সিকোলজি ল্যাবে নতুন ১৮টি মেশিন সরবরাহ করার কথা থাকলেও বাস্তবে সরবরাহ করেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কার্নেল ইন্টারন্যাশনাল। কাগজপত্রে মেশিন সরবরাহ দেখিয়ে ১১ কোটি ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।




সময় নিয়েও দুদকে হাজির হননি বেনজীর

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) হাজির হননি। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে দ্বিতীয়বারের মতো আজ রোববার (২৩ জুন) সকাল ১০টায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ডাকা হয়েছিল।

বেলা ১১টা ২০ মিনিটি পর্যন্ত তিনি সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে যাননি। দুদকের তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হওয়ার ব্যাপারে তার অনুরোধে তাকে অতিরিক্ত ১৭ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল।

এর আগে গত ২৮ মে বেনজীর আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬ জুন তলব করে দুদক। একই সঙ্গে বেনজীরের স্ত্রী ও সন্তানদের ৯ জুন তলব করা হয়। দুদকের তলবে হাজির হওয়ার আগের দিন অর্থ্যাৎ ৫ জুন, আইনজীবীর মাধ্যমে দুদকের অনুসন্ধান দলের কাছে বেনজীর ১৫ দিনের সময় চান।

এরপর ৬ জুন বিকেলে দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন জানান, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে দুদক তলব করলেও শুনানিতে অনুপস্থিত থাকায় আগামী ২৩ জুন নতুন তারিখ ঘোষণা করেছে দুদক।

এদিকে গত ২০ জুন সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের জানান, ২৩ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) বেনজীর আহমেদকে হাজির হতে হবে। এ সময়ে তিনি হাজির না হলে তাকে আর সময় দেওয়া হবে না।

গত ৩১ মার্চ দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় ‘বেনজীরের ঘরে আলাদীনের চেরাগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ তার স্ত্রী জিশান মির্জা এবং দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকার অভিজাত এলাকাগুলোতে বেনজীর আহমেদের দামি ফ্ল্যাট, বাড়ি আর ঢাকার পাশে বিঘার পর বিঘা জমি রয়েছে। দুই মেয়ের নামে বেস্ট হোল্ডিংস ও পাঁচতারা হোটেল লা মেরিডিয়ানের রয়েছে দুই লাখ শেয়ার। পূর্বাচলে রয়েছে ৪০ কাঠার সুবিশাল জায়গাজুড়ে ডুপ্লেক্স বাড়ি, যার আনুমানিক মূল্য কমপক্ষে ৪৫ কোটি টাকা। একই এলাকায় আছে ২২ কোটি টাকা মূল্যের আরও ১০ বিঘা জমি। অথচ গত ৩৪ বছর ৭ মাসের দীর্ঘ চাকরি জীবনে বেনজীর আহমেদের বেতন-ভাতা বাবদ মোট আয় ১ কোটি ৮৪ লাখ ৮৯ হাজার ২০০ টাকার মতো হওয়ার কথা।

এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ এপ্রিল পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের দুর্নীতির অনুসন্ধান চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

এরপর গত ২৩ ও ২৬ মে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালত বেনজীর আহমেদ এবং তার স্ত্রী জিশান মির্জা, বড় মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও ছোট মেয়ে তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের নামে বিভিন্ন সম্পত্তির দলিল, ঢাকায় ফ্ল্যাট ও কোম্পানির শেয়ার জব্দের নির্দেশ দেন।

এছাড়া তাদের বিও হিসাব (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট) অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করতে সোমবার (২৭ মে) সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডকে (সিডিবিএল) নির্দেশ দিয়েছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।




দফতরগুলো শুধু দুদকের ভূমিকা দেখতে চায়: দুদক চেয়ারম্যান

দফতরগুলো শুধু দুদকের ভূমিকা দেখতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, কমিশনে আমার তিন বছরে কোনো রাজনৈতিক বা বেসরকারি কারো প্রভাব বা হুমকি পাইনি। দফতরগুলো সব ছেড়ে দিয়ে রেখেছে, দেখতে চায় দুদক কী করে।

শনিবার (২৫ মে) ‘দুর্নীতি দমনে নাগরিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) এ সেমিনারের আয়োজন করে।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, অর্থ পাচার হয়ে যাওয়ার ছয় মাস পর কেন দুদকের কাছে আসে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউ ছয় মাস পর তথ্য পাঠায়। মন্দ ঋণের তো অডিট হয়। তারা তো আগেই জানতে পারেন। সবগুলো দফতরই তো দায়ী। সংশ্লিষ্ট দফতর আগেই কেন ব্যবস্থা নেয় না। যার যার কাজ সে করলেই তো দুদকের কাছে আসতে হয় না।

তিনি বলেন, সন্তান বাবাকে, স্ত্রী স্বামীকে প্রশ্ন করুক আয়ের বিষয়ে। তাহলেই দুর্নীতি অনেকাংশে কমে আসবে। সামাজিকভাবে দুর্নীতিবাজদের বয়কট করতে হবে। তাদেরকে দাওয়াত দেবেন না। তাদের দাওয়াতে যাবেন না। আমরা তাদেরকে বর্জন করতে পারি।

তিনি আরো বলেন, নাগরিক একটা অভিযোগ দিয়েই খালাস। সব প্রমাণ কর্মকর্তাকেই যোগাড় করতে হয়। জেলা, উপজেলায় দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি হয়ে গেলে এ বিশিষ্ট নাগরিকদের আর পাওয়া যায় না। তারা অনেকে শুধু গাড়িতে স্টিকার লাগিয়ে ঘুরে বেড়ান।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হুমায়ুন রশিদ, ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমিন মোরশেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন, সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামিম হায়দার পাটওয়ারী এবং এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জ ই মামুন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এইচআরপিবির প্রেসিডেন্ট সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।




ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালক-এমডিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

৮৭ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় শত কোটি টাকা পাচার ও আত্মসাতের অভিযোগে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের দুই পরিচালক রণ হক সিকদার ও রিক হক সিকদার এবং ব্যাংকের সাবেক দুই এমডিসহ সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির পরিচালক মো. বেনজীর আহম্মদ বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন।

সোমবার (১ এপ্রিল) দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

প্রথম মামলার আসামিরা হলেন- সিকদার রিয়েল এস্টেটের মালিক রিক হক সিকদার, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ সৈয়দ আব্দুল বারী ও চৌধুরী মোশতাক আহমেদ, সাবেক এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব কার্ড ডিভিশন মো. মাহফুজুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ ওয়াদুদ, সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এস এম বুলবুল।

এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ২৬ লাখ ২২ হাজার ৪৯৯ মার্কিন ডলার (২০১৭ সালের হিসাবে) আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বধি বহির্ভূতভাবে ক্রেডিট কার্ডের লিমিটের অতিরিক্ত ২৬ লাখ ২২ হাজার ৪৯৯ মার্কিন ডলার বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থপাচার করে। পাচার করা অর্থ হস্তান্তর/স্থানান্তর, রূপান্তর গোপনকরণের মাধ্যমে বৈধতা দানের চেষ্টা করেছে।

দ্বিতীয় মামলার আসামিরা হলেন ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালক রণ হক সিকদার, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ সৈয়দ আব্দুল বারী ও চৌধুরী মোশতাক আহমেদ, সাবেক এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব কার্ড ডিভিশন মো. মাহফুজুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ ওয়াদুদ ও সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এস এম বুলবুল।

এই মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে নিজেরা লাভবান হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিধি বহির্ভূতভাবে ক্রেডিট কার্ডের লিমিটের অতিরিক্ত ৬০ লাখ ৯২ হাজার ২২৫ মার্কিন ডলার বিদেশে ব্যয় করে পরে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থপাচার করে এবং পাচার করা অর্থ হস্তান্তর/স্থানান্তর, রূপান্তর ও গোপন করার চেষ্টা করেছে আসামিরা।

আসামিদের বিরুদ্ধে দুদক আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।




চট্টগ্রামে ‘চাঁদাবাজি’ করতে গিয়ে দুদক কর্মকর্তা আটক

চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে কামরুল হুদা নামে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক কর্মকর্তা পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন।

শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পাঁচলাইশ এলাকার বিমল ধর নামে এক স্বর্ণকারের কাছ থেকে মামলার ফাঁদে ফেলার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে ধরা পড়েন। নগরীর হাজারি গলিতে বিমল ধরের সোনার ব্যবসা আছে।

আটক কামরুল হুদা দুদকের সহকারী উপ-পরিদর্শক পদে কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ে পদায়িত আছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সন্তোষ কুমার চাকমা। আটক কামরুল হুদার বাসা চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া এলাকায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের দায়িত্বশীল কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, কামরুল হুদা নামে দুদকের ওই এএসআই পাঁচলাইশ থানায় আটকের খবরে দুদক চট্টগ্রামের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পাঁচলাইশ থানায় যান। গভীর রাত পর্যন্ত তারা থানায় ছিলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুদকের এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন, কামরুল হুদা দুদকের এএসআই। এর আগেও রাঙ্গামাটিতে পদায়িত থাকার সময়ে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে হাতেনাতে জনতার হাতে আটক হয়ে গণপিটুনির শিকার হয়েছিলেন।




এস কে সুরের ব্যাংক হিসাব তলব

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী (এস কে সুর) চৌধুরীর সব ধরনের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার স্ত্রী সুপর্ণা রায় চৌধুরী ও মেয়ে নন্দীতা সুর চৌধুরীর হিসাবের তথ্যও চাওয়া হয়েছে। অনিয়ম-দুর্নীতির ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ তদন্তের প্রয়োজনে এসব হিসাবের তথ্য চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) তাদের সব ধরনের হিসাবের তথ্য চেয়ে ব্যাংকগুলোতে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)। আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব ধরনের তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী (এস কে সুর) ও তার স্ত্রী সুপর্ণা চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে, এস কে সুর চৌধুরী ও তার স্ত্রী সুপর্ণা রায় চৌধুরী এবং মেয়ে নন্দীতা সুর চৌধুরীর নামে কোন শাখায় কোন ধরনের ব্যাংক হিসাব, ঋণ হিসাব, এফডিআর বা সঞ্চয়পত্র থাকলে তা জানাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে হিসাব খোলার ফরম, দাখিলের রেকর্ডপত্র, কেওয়াইসি, নমিনী, টিপি, সিগনেচার কার্ড এবং হিসাব বিবরণীসহ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র পাঠাতে বলা হয়েছে।

ব্যাংকগুলোকে দেওয়া দুদকের চিঠিতে এস কে সুর চৌধুরীর পিতা হরিপদ সুর চৌধুরী ও মাতার নাম দেওয়া আছে নিরুপমা সুর চৌধুরী। বর্তমান ঠিকানা দেওয়া আছে দুটি। একটি ২/৬০২, ইস্টার্ণ উলানিয়া, ২ সেগুনবাগিচা, ঢাকা এবং অপরটি ৩০/২ পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা ১২১৯। স্থায়ী ঠিকানা- গ্রাম ও পোস্ট- দয়ারামপুর উপজেলা- লালপুর, জেলা- নাটোর। এ ছাড়া, চিঠিতে সুর চৌধুরীর জাতীয় প‌রিচয়প‌ত্র ও কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) উল্লেখ করা হ‌য়ে‌ছে। তার স্ত্রী ও মেয়েরও একই ঠিকানা দেওয়া আছে।

এস কে সুর চৌধুরী ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে অবসরে যাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি অবসরে রয়েছেন।

ডেপুটি গভর্নর থাকাকালে আলোচিত পি কে হালদারের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সুর চৌধুরী সহযোগী করে ও সুবিধা নিয়েছেন। এ ছাড়া, তিনি অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে ও সরকারের রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে আলাদা অনুসন্ধান ও তদন্ত করছেন দুদকের উপ-পরিচালক নাজমুল হুসাইনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল।

এর আগে, বিভিন্ন সময় অনিয়মের অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য সুর চৌধুরী ও তার স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তলব করেছিল দুদক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কর ফাঁকির দায়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধেরও (ফ্রিজ) নির্দেশনা দেয় এনবিআর।




অবৈধ সম্পদ মামলায় রিজেন্টের সাহেদের ৩ বছরের কারাদণ্ড

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমকে ৩ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

এর পাশাপাশি তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে এই টাকা কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার সকালে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭ এর বিচারক প্রদীপ কুমার রায় এ রায় ঘোষণা করেন।

এদিন রায় ঘোষণার আগে সাহেদকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, আসামি সাহেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬ (২) ধারার অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হলো।

একই আইনের ২৭ (১) ধারা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

এর আগে দুদক ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ১০ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭ এর বিচারক প্রদীপ কুমার রায় সোমবার রায় ঘোষণার তারিখ ঠিক করেন।

অবৈধভাবে এক কোটি ৬৯ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২১ সালের ১ মার্চ সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ মামলায় গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি দুদক আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। এরপর গত বছরের ১৭ জুলাই সাহেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। এই মামলায় ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।

এর আগে ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সাহেদকে অস্ত্র আইনে মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।

প্রসঙ্গত, রিজেন্ট হাসপাতালে করোনার নমুনা পরীক্ষায় জালিয়াতির মামলায় ২০২০ সালের ১৫ জুলাই সাহেদকে অবৈধ অস্ত্রসহ সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।




অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ১০ ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে কৌশলে চার ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাৎ ও কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগে ১০ ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (৫ জুলাই) বিকেলে ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র  নিশ্চিত করেছে।

মামলার আসামিরা হলেন ঋণ গ্রহীতা প্রতারক আরিফ, মেসার্স জারা ফ্যাশন ও জোন কহিনুর ফ্যাশনের মালিক জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, ইলেক্ট্রো ফেয়ার কনজুমার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল ইসলাম জামাল, ওই প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র নির্বাহী কর্মকর্তা (লিগ্যাল) শফিউল আজম, সার্ভে ফর ভ্যালুয়েশন লিমিটেডের এমডি রুহুল আমিন, এঞ্জেল কর্পোরেটসের মালিক শেখ মাসুক রহমান, হাফিজ মোল্লা, জাহিদুল হাসান, মাসুদ রানা ও রাকিব মাহমুদ।

ব্যাংকের আসামিরা হলেন পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের ফকিরাপুল বাজার শাখার সাবেক ম্যানেজার আনিসুল করিম খান, পূবালী ব্যাংকের তৎকালীন আঞ্চলিক জেনারেল ম্যানেজার মামুন বক্স, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের পান্থপথ শাখার সাবেক ম্যানেজার ফারহান খান, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের মহাখালী শাখার সাবেক ম্যানেজার ফারুক আল মাসুদ, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের বংশাল শাখার সাবেক ম্যানেজার হাবিবুল গনি, ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের পান্থপথ শাখার সাবেক ব্রাঞ্চ সেলস অ্যান্ড সার্ভিস অফিসার নূর মোহাম্মদ সাখাওয়াত, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের গাজীপুর চৌরাস্তা শাখার ম্যানেজার অপারেশন যোবায়ের বিন আহম্মেদ, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের এসপিও গোলাম মওলা আকন্দ, ওই ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ফারুক হোসেন এবং বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ অফিসার শামিম আহম্মেদ।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফ্ল্যাটের মালিক ডেভেলপার কোম্পানি। ফ্ল্যাট বিক্রির খবর কোম্পানির কেউ জানেই না। অথচ ওই ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয় দেখিয়ে ২০১৩ সালের নভেম্বরে তা ব্যাংকে মর্টগেজ করেছেন প্রতারকচক্র। ইউনিসন ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন পল্লবী থানার ৫/এ, পলাশনগরের একটি সাততলা বিশিষ্ট বিল্ডিংয়ের ১৩৫০ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাট প্রতিষ্ঠান বিক্রি না করলেও ওই ফ্ল্যাট ভুয়া দাতা সাজিয়ে ক্রয় দেখিয়ে পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের ফকিরাপুল বাজার শাখার মর্টগেজে রেখে ৩৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ঋণ গ্রহীতা আরিফ লাপাত্তা। যে ঠিকানা ব্যবহার করে ফ্ল্যাটের এই ঋণ গ্রহণ করেছে তা ছিল ভুয়া। ফলে প্রতারক আরিফকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতারক আরিফ কুমিল্লার লাঙ্গলকোট থানার ওরগঞ্জের মন্টুর ছেলে।

দুদক সূত্রে আরও জানা যায়, এই প্রতারক আরিফ ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে পূবালী ব্যাংকে ফ্ল্যাট মর্টগেজ দিয়ে পে-অর্ডার সংগ্রহ করে তা ব্র্যাক ব্যাংকের পান্থপথ শাখায় ডেভেলপার কোম্পানি ইউনিসনের নামে একটি হিসাব খুলে সেখানে তা নগদায়ন করে অর্থ তুলে নেয়।

অনুরূপভাবে প্রতারকচক্রটি ইউনিসন ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির নামে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লি., মহাখালী শাখা ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লি., বংশাল শাখায় আরও দুটি হিসাব খুলে। এই তিনটি ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন করার তথ্য পেয়েছে দুদক।

অভিনব এ প্রতারণার মাধ্যম অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

 




মামলা করেছে দুদক

প্রকৃত পরিচয় গোপন করে জালিয়াতির মাধ্যমে মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) ব্যবসার নামে বিভিন্ন ব্যক্তির ১৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমার দেহরক্ষী ও পুলিশের নায়েক টারজান খীসার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (১৭ মে) দুদকের রাঙ্গামাটি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটি সহকারী পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ পুলিশের বরখাস্ত হওয়া নায়েক টারজান খীসা একজন সরকারি কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও প্রকৃত পরিচয় গোপন করে জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবসায়ী পরিচয়ে ব্যাংকে হিসাব খোলা, লেনদেন করা এবং মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) ব্যবসার নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ৫ মাসে দ্বিগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে আমানত গ্রহণ করেন। ব্যক্তিদের নামে ২৩টি ব্যাংক হিসাবে ১৪ কোটি ৬৪ লাখ ৪২ হাজার টাকা স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করে আত্মসাৎ করেন তিনি। দণ্ডবিধির ৪২০/১৬৮ ধারা তৎসহ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪ (২) ও ৪(৩) ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

অনুসন্ধান প্রতিবেদন সূত্রে আরও জানা যায়, টারজান খীসার তত্ত্বাবধানে অনলাইন ভিত্তিক বিটমানিগ্লোবানডটনেট (bitmoneyglobal.net) নামে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি ২০১৬ সালের এপ্রিলে রাঙ্গামাটি শহরের বনরুপান্থ (সবজি বাজার) দীপ্ত প্লাজার ২য় তলার একটি দোকান ঘর ভাড়া নিয়ে মডার্ন হারবাল সাইনবোর্ডের ব্যানারে কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে। প্রকৃতপক্ষে ওই দোকানে মডার্ন হারবালের কোনো ওষুধপত্র ছিল না। টারজান খীসা বাংলাদেশ পুলিশের নায়েক পদে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমার দেহরক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

টারজান খীসা ওই প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক এমএলএম কোম্পানি হিসেবে সম্ভাব্য গ্রাহকদের মাঝে পরিচিতি তৈরি করে তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ৫ মাসে দ্বিগুণ হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমানত সংগ্রহ শুরু করেন। গ্রাহক নিজেই ওয়েব সাইটের মাধ্যমে নিজের হিসাবের সর্বশেষ অবস্থা নিজেই দেখতে পারে। এমন নানাবিধ লোভনীয় কথায় অনেকেই দ্রুত প্রভাবিত হয়ে হিসাব খোলেন। আবার যারা আর্থিকভাবে অসমর্থ কিন্তু অন্য গ্রাহককে প্রভাবিত করতে সমর্থ তাদের টারজান খীসা টার্গেট করেন এবং নিজ অর্থে তাদের নামে হিসাব খুলে দিয়ে তাদের মাধ্যমে আরও নতুন নতুন গ্রাহক পেতে থাকেন। এভাবে ২০১০ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত টারজান খীসা নানা কৌশলে ওই টাকা আত্মসাৎ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।




দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশির সম্পদ অনুসন্ধান করছে দুদক

দুবাইতে অবস্থানরত ৪৫৯ জন বাংলাদেশি নাগরিকের সম্পদ ক্রয়ের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে তিন সদস্যের টিম গঠন করা হয়েছে বলে সোমবার (১০ এপ্রিল) সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে হাইকোর্টের নির্দেশনার পরপর দুদক কমিশনার (তদন্ত) মো. জহুরুল হক বলেছিলেন, আমরা জেনেছি সুপ্রিমকোর্ট আমাদের তদন্ত করতে বলেছে। তবে আদেশটা হাতে পাইনি। আদেশ পেলেই আমরা অবশ্যই তদন্ত করবো। তদন্ত করে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে তথ্য-উপাত্ত যাচাই বাছাই করা হবে। দেশ থেকে অর্থ পাচার হয়ে থাকলে আমরা কাউকে ছাড় দেবো না।

গত ১৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুবীর নন্দী দাসের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে দুবাইতে অবস্থানরত ৪৫৯ জন বাংলাদেশি নাগরিকের সম্পদ ক্রয়ের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফইউজে) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত করে অগ্রগতি প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াত লিজুর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশ দিয়েছেন।

বিভিন্ন সূত্রে আরও জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজ (সি৪এডিসি) গত বছরের মে মাসে তাদের গবেষণা প্রতিবেদনে উপসাগরীয় দেশগুলোতে মূলত পাচার করা অর্থ দিয়ে আবাসন সম্পদ কেনার বিষয়টি তুলে ধরলে এটা সামনে আসে।

তথ্য লুকিয়ে ৪৫৯ জন বাংলাদেশি দুবাইয়ে মোট ৯৭২টি আবাসন সম্পদের মালিক হয়েছেন। এজন্য তারা ব্যয় করেছেন ৩১৫ মিলিয়ন ডলার। এসব সম্পদের মধ্যে ৬৪টি দুবাইয়ের অভিজাত এলাকা দুবাই মেরিনা ও ১৯টি পাম জুমেইরাহতে অবস্থিত। যেখানে অন্তত ১০০টি ভিলা ও কমপক্ষে ৫টি ভবনের মালিক বাংলাদেশি বলে জানা গেছে। চার থেকে পাঁচ জন বাংলাদেশি প্রায় ৪৪ মিলিয়ন ডলারের সম্পত্তির মালিক। যদিও প্রতিবেদনে কারও নামপরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।




প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ ও অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে দুদক

ঘুষ, দুর্নীতি, জালিয়াতি, প্রতারণা এবং বিদেশে অর্থপাচারকারী প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন কমিশন। বর্তমান কমিশন সম্প্রতি হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে এবার অনেক বেশি কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়ে এগুচ্ছেন।

অনেক প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে, ব্যবসার আড়ালে আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা বিদেশে নিয়ে গেছে। যদিও পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে মাত্র একটি অপরাধ খতিয়ে দেখার এখতিয়ার দুদকের। এরপরও দুদকের কাজের গতি বাড়ানোর জন্য নানা উদ্যোগ নিচ্ছে।

এরমধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঢাকা ওয়াসার প্রভাশালী এমডি প্রকৌশলী তাকসিন এ খানের বিরুদ্ধে টানা ১৩ বছরের নানা অনিয়ম, কমিশন ও লভ্যাংশ ভাগাভাগি, দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য, যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক বাড়ি ক্রয়সহ আলোচিত অভিযোগ নিয়ে হাইকোর্টের নিদেশনার আলোকে দুদকের অনুসন্ধান পুরোদমে এগিয়ে চলছে বলে জানা যায়। এমপি আবদুস সোবহান মিয়া গোলাপের বিরুদ্ধে বিদেশে একাধিক বাড়ি ক্রয় এবং অর্থ পাচারের বিষয়ে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের অভিযোগটিও গুরুত্বের সাথে অনুসন্ধান করছে দুদক। এছাড়াও সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি ক্রয় এবং অর্থ পাচারের বিষয়টি নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত চলছে।

দুদক চেয়ারম্যান ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামায় উল্লেখিত সম্পদ,দায় দেনাসহ তাদের সম্পদের বিষয়ে বিশেষ নজরদারি করর। এরবার সব প্রার্থীর হলফনামার সম্পদ বিবরণী খতিয়ে দেখবে দুদক। গত ২১ মার্চ দুদক কার্যালয়ে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে কঠোর পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরআগে গত ২০ মার্চ রাতে দুদকের ২০২২ সালে বার্ষিক প্রতিবেদন মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে হস্তান্তরকালে দুদকের চেয়ারম্যানকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরো কঠোর অবস্থান নিতে পরামর্শ দিয়েছেন।’ওই সময় দুদক স্বচ্ছতার সঙ্গে সাধ্যমতো কাজ করছেন বলে রাষ্ট্রপতিকে অবগত করা হয়।

সূত্র মতে, দুদকের ২০২২ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯ হাজার ৩৩৮টি অভিযোগ জমা পড়ে। এসব অভিযোগ যাচাই শেষে ৯০১টি অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্যে নেওয়া হয়। দুদকের তফসিলভুক্ত নয়, এমন ৩ হাজার ১৫২টি অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ২০২১ সালে দুদকে ১৪ হাজার ৭৮৯টি অভিযোগের মধ্যে ৫৩৩ অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য নেওয়া হয়। আর দুই হাজার ৮৮৯টি অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। দুদকের ২০২২ সালে চার্জশিট অনুমোদন হয়েছে ২২৪টি, মামলা হয়েছে ৪০৬টি, ফাঁদ মামলা হয়েছে মাত্র ৪টি। ২০২২ সালে ৩৪৬টি দুর্নীতি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। প্রতিবেদনে দেশের ২৯টি বিশেষ জজ আদালতে দুদকের পক্ষে ১২০ জন আইনজীবী মামলা পরিচালনা করেন। ২০২২ সালে সারাদেশে আদালতে তিন হাজার ৩২৬টি বিচারাধীন মামলা ছিল। এর মধ্যে ৪১৯টি মামলার বিচারকার্য উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত থাকায় বাকি দুই হাজার ৯১০টি মামলার বিচারকাজ চলমান ছিল।এসব মামলার মধ্যে ২০২২ সালে কমিশন আমলের ৩০৭টি এবং ব্যুরো আমলের ৩৯টিসহ মোট ৩৪৬টি নিষ্পত্তি হয়। নিষ্পত্তিকৃত মামলার মধ্যে কমিশন আমলের ১৯৭টি এবং ব্যুরো আমলের ১৪টি মামলায় আসামিদের সাজা হয়েছে। আর কমিশনের আমলের ১১০টি এবং ১৫টি মামলায় আসামিরা খালাস পেয়েছেন।




হোমল্যান্ড লাইফে লুটপাট তদন্তে দুদক ও আইডিআরএ’র চেয়ারম্যানকে হাইকোর্টের নির্দেশ

হোমল্যান্ড লাইফ ইন্সুরেন্সের গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা লোপাটের ঘটনা তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে (আইডিআরএ) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে দুদক বরাবর হোমল্যান্ড লাইফ ইন্সুরেন্সের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের একটি আবেদন আগামী দুই মাসের মধ্যে ইতিবাচকভাবে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়ও আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে গ্রাহকদের পুরো অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ কেনো দেওয়া হবে না, সংশ্লিষ্টদের জবাব চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ৪ জুন মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে’ বলেও জানান আইনজীবী।
বুধবার (২৯ মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াত সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ১৪ গ্রাহকের পক্ষে রহিমা আক্তারের করা রিটের শুনানি নিয়ে রুলসহ এ আদেশ জারি করেনে।

রিটে অর্থসচিব, ইন্সুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটির চেয়ারম্যান, দুদক চেয়ারম্যান, হোমল্যান্ড ইন্সুরেন্সের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানসহ প্রতিষ্ঠানের ১৪ পরিচালককে বিবাদী (রেসপনডেন্ট) করা হয়।

রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট আক্তার রসুল মুরাদ, আব্দুল্লাহিল মারুফ ফাহিম ও মো. দিদারুল আলম। এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘পরিচালকদের প্রতারণার খপ্পরে হোমল্যান্ড লাইফ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির অর্থ আত্মসাৎ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আদালত শুনানি শেষে হোমল্যান্ড লাইফ ইন্সুরেন্সের গ্রাহকদের অর্থ লোপাটের অভিযোগ তদন্ত করে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলে করতে আইডিআরএ’র চেয়ারম্যান ও দুদক চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, প্রথম শ্রেণির বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকসহ অনলাইন নিউজ পোটালে ইতিমধ্যে
হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালকসহ ‘টপ টু বটম’ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগে অনেক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু এসব দেখার দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রশাসনের রহস্যজনক নিরবতা সুযোগে এই প্রতিষ্ঠানটি ডুবতে বসেছে।

এদিকে নিরুপায় হয়ে গত ৫ মার্চ হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের গ্রাহকদের ১০৪ কোটি টাকা লোপাটের ঘটনা দ্রুত তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে ১৪ গ্রাহকের পক্ষে রহিমা আক্তার নামের এক ভিকটিম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন দায়ের করেছেন।

রিট আবেদনে বিবাদী করা হয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ), দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, হোমল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানসহ এই প্রতিষ্ঠানটির ১৪ পরিচালককে।

রিট আবেদনে হোমল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের অর্থ আত্মসাতের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়। একই সঙ্গে এ বিষয়ে রুল জারির আবেদন জানানো হয়। পাশাপাশি গ্রাহকদের পাওনা টাকা দ্রুত ফেরতের বিষয়ে নির্দেশনাও চাওয়া হয়।

সূত্র মতে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে ‘পরিচালকদের প্রতারণার খপ্পরে হোমল্যান্ড লাইফ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির অর্থ আত্মসাৎ নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পত্রিকায় বেশ কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়েছে। বোর্ড সভার কার্যবিবরণী জালিয়াতি, জমি কিনতে ভুয়া নথি তৈরি, কমিশন ও অন্যান্য খাতে খরচের ভাউচার তৈরি করে এসব টাকা আত্মসাত করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানের নামে অস্তিত্ববিহীন জমি কেনা হয়েছে। আবার সেই জমিতে মাটি ভরাট ও কাঁটাতারের বেড়া তৈরির নামে আরও অর্থ লোপাট করা হয়েছে।
অপরদিকে ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালকদের মধ্যে ১২ জন পরিচালক যৌথ স্বাক্ষরে লিখিতভাবে আইডিআরএ’র চেয়ারম্যানের দপ্তরে ওই প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত নানা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং বিপুল পরিমান অর্থ লোপাটের অভিযোগ দায়ের করেন।

পরিচালকরা অভিযোগের শুরুতেই উল্লেখ্য করেছেন , হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, আইন কর্মকর্তা ও হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তারা সকল ধরনের গ্রাহক লেনদেনে সম্পৃক্ত। বীমা গ্রাহক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শেয়ারহোল্ডাদের স্বার্থে কোম্পানির বিভিন্ন বিষয়ের প্রকৃত চিত্র বের করতে আইডিআরএ’র চেয়ারম্যানের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন।

আইডিআরএ’র চেয়ারম্যানের কাছে দায়ের করা আবেদন পত্রে স্বাক্ষর করেছেন হোমল্যান্ড লাইফের ভাইস চেয়ারম্যান জামাল মিয়া, পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক, কামাল মিয়া, আবদুর রব, জামাল উদ্দিন, আব্দুল হাই, আব্দুল আহাদ, ফয়জুল হক,শামীম আহমদ,এমাদুল ইসলাম, স্বতন্ত্র পরিচালক শওকতুর রহমান ও ইশতিয়াক আহমেদ চৌধুরী। উক্ত আবেদনের অনুলিপি অর্থমন্ত্রী এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব বরাবরও পাঠিয়েছেন।

তারা অভিযোগ বলেছেন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় হোমল্যান্ড লাইফের কেনা ১২০ কাঠা জমি গ্রাহকের দাবি পরিশোধে বিক্রয় করা হয়। কিন্তু সঠিকভাবে সম্পূর্ণ টাকা গ্রাহকের দাবি পরিশোধে ব্যয় করা হয়নি। গ্রাহকের টাকা পরিশোধ না হওয়ায় পরিচালকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা পর্যন্ত হয়েছে।

কয়েকজনের দুর্নীতির জন্য এই পরিচালকরা অসম্মানিত হয়েছেন উল্লেখ করে আবেদনে ( চিঠিতে) বলা হয়েছে, কোন কোন এরিয়ায় কোন কোন গ্রাহককে কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, তার তালিকা এবং জমির বিক্রয়মূল্য সঠিকভাবে নির্ণয় করা হয়েছে কি না? জমি ক্রয় এবং বিক্রয়ে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না বা একজন ব্যক্তির (পছন্দের ব্যক্তি) মাধ্যমে কেন সম্পূর্ণ জমি বিক্রয় করা হয়, তা তদন্তের মাধ্যমে দেখা দরকার।
জমি বিক্রয়ের টাকা কোন কোন অ্যাকাউন্টে কীভাবে জমা করা হয়েছে তার বিস্তারিত বিবরণ বোর্ডে পেশ করা হয়নি এমন অভিযোগ করে এতে বলা হয়েছে, জমি বিক্রয়ে দাপ্তরিক ও অন্যান্য খরচ দেখিয়ে কোম্পানি থেকে কত টাকা বের করা হয়েছে এবং জমি বিক্রয় গেইন ট্যাক্স কীভাবে কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, তার রশিদসহ প্রমাণাদি পেশ করা হয়নি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, জীবন বীমা তহবিল হ্রাস পাওয়ার সঠিকতা নির্ণয় এবং বর্তমান কোম্পানির জীবন বিমা তহবিল কত তা উপস্থাপন করা হয়নি। আবার কোম্পানির কতগুলো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে এবং বিগত পাঁচ বছর সব ব্যাংকের বিবরণী এফডিআর, বাংলাদেশ সরকারি টেজারী বন্ড সহ (বিজিটিবি) উপস্থাপন করা হয়নি।
কোম্পানির যেসব মামলা চলমান তার বিবরণ এবং প্রত্যেক মামলার বিপরীতে মামলার শুরু থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আইনজীবী ফি, দাপ্তরিক ও টিএ/ডিএ এবং অন্যান্য খরচ যৌক্তিক ভাউচার ছাড়াই এমডি, কোম্পানি সচিব ও আইন কর্মকর্তা জুবায়েরের স্বাক্ষরে বিপুল টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিচালকরা। একে ‘কোম্পানির টাকা কর্মচারী কর্তৃক আত্মসাৎ’ বলে মনে করছেন ওই পরিচালকরা।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তথ্য আড়াল করে নিয়মবহির্ভূত অনেক টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। গত দুই বছরের বিভিন্ন ব্যয়ের বিপরীতে যে ভাউচার আছে, সেগুলো ওই সময়ের ব্যাংক স্টেটমেন্টের সঙ্গে যাচাই করলে জনগণের আমানত খেয়ানত করার প্রমাণ বের হয়ে আসবে।

এছাড়া আরজেএসসি-তে রিটার্ন জমা দেওয়ার দাপ্তরিক ও লিগ্যাল ফি বাবদ কত টাকা খরচ করা হয়েছে তার হিসাবের বৈধতা না থাকায় বিবরণী বোর্ডে পেশ করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন এই পরিচালকরা।
তাদের অভিযোগ, ২০১০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ভুয়া শত শত কোটি টাকা ব্যবসা দেখিয়ে কমিশন, ইনসেনটিভ গ্রহণ ও কোম্পানির টাকায় ওমরাহসহ বিদেশ ভ্রমণ করে কোম্পানির অর্থ অপচয় করা হয়েছে। এ কারণে সঠিক পলিসি গ্রাহক অর্থের সংকটে সেবা পেতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। ভুয়া ব্যবসা বা পলিসির জন্য নবায়ন প্রিমিয়াম না আসায় কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ব্যয় অতিরিক্ত করার পাশাপাশি কোম্পানির টাকা দিয়ে হাতে কলমে ভুয়া ব্যবসা করা এবং কোম্পানির হিসাব বিভাগের কারসাজিতে ব্যবসা হাতে কলমে দেখানো হয় বলেও অভিযোগ তুলেছেন এই পরিচালকরা। তাদের দাবি, ডিসিএস ফাইলসহ যাচাই-বাচাই করলে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যাবে।

কোম্পানির কতগুলো যানবাহন আছে এবং কোন যানবাহন কার নামে বরাদ্দ, কত টাকা বরাদ্দ ও প্রত্যেক যানবাহনের বিপরীতে বছরে কত টাকা ব্যয় করা হয়েছে, তার বিপরীতে রেজিস্ট্রার নেই বলেও অভিযোগ করেছেন হোমল্যান্ড লাইফের পরিচালকরা। এর মাধ্যমে লাখ লাখ আমানতের টাকা লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। ২০১০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ভুয়া ব্যবসা দেখিয়ে কোম্পানি থেকে বড় অঙ্কের টাকা সরিয়ে নেওয়া অভিযোগ আনা হয়েছে।

 




রিজেন্টের সাহেদসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট অনুমোদন

সেনাবাহিনীর মেজর পরিচয়ে ও জাল জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন ভুয়া নথিপত্রে ঋণের নামে এনআরবি ব্যাংক থেকে দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (২৯ মার্চ) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এই চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছে দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র।

অনুমোদিত চার্জশিটে সাহেদ ছাড়াও অন্যান্য আসামিরা হলেন- রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইব্রাহিম খলিল ও কর্পোরেট হেড অফিসের সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার মো. সোহানুর রহমান।

অন্যদিকে এনআরবি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট (এসই ব্যাংকিং) ওয়াহিদ বিন আহমেদকে মামলায় আসামি করা হলেও চার্জশিটে তাকে আসামি করা হয়নি।

লাইসেন্স নবায়নবিহীন রিজেন্ট হাসপাতালকে ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে রূপান্তর, মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ) করতে অনিয়ম কিংবা কোভিড পরীক্ষা করে অবৈধভাবে অর্থ লুটপাটের মতো ঘটনার কারিগর হচ্ছেন এই সাহেদ। ২০২০ সালের ২২ জুলাই এনআরবি ব্যাংক থেকে হাসপাতালের নামে ঋণ বাবদ ১ কোটি ৫১ লাখ ৮১ হাজার ৩৬৫ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সাহেদসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল দুদক। যার তদন্তের দায়িত্ব পালন করেছেন উপ-পরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

তদন্ত প্রতিবেদন সূত্র জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৭ নভেম্বর রিজেন্ট হাসপাতালের নামে হিসাব খোলা হয়। চলতি হিসাবটি খোলার সময় সাহেদের কোনো টাকা জমা হিসাবে গ্রহণ করা হয়নি। ছিল না ঋণের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত জামানত। ঋণ বিতরণের আগে বা পরে যথাযথ তদারকিও করা হয়নি। অথচ হিসাব খোলার একদিন আগেই ঋণ মঞ্জুরির জন্য সুপারিশ করা হয়। এমনকি ঋণ মঞ্জুরিপত্রের শর্তানুযায়ী নির্ধারিত সময়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা হয়নি। কেবলমাত্র ঋণ মঞ্জুরিপত্রের শর্তানুযায়ী এফডিআর করেছিলেন সাহেদ। পরবর্তী সময়ে ঋণ পরিশোধ না করে ওই এফডিআর ক্লোজ করে ঋণ সমন্বয় করেন তিনি।

সূত্র আরও জানায়, সাহেদ স্বেচ্ছায় কখনও ঋণের টাকা পরিশোধ করেননি। দুদকের অনুসন্ধানে আসামিরা প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২০১৪ সালের ৯ নভেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এনআরবি ব্যাংক থেকে দুই মেয়াদে ঋণ রিসিডিউলসহ ২ কোটি ৪ লাখ ৯০ হাজার ৯৮৭ টাকা ঋণ নিয়েছেন। যার মধ্যে ৬৫ লাখ ৭৯ হাজার ২২৭ টাকা সুদ ও অন্যান্য চার্জ ধার্য কেটে রাখা হয়। তবে সুদসহ ব্যাংকের ১ কোটি ৫১ লাখ ৮১ হাজার ৩৬৫ আত্মসাতের অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এছাড়া ফারমার্স ব্যাংক থেকে ১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাহেদসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদ বিবরণী দাখিল না করার মামলায় সাহেদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে দুদক।

অন্যদিকে নমুনা পরীক্ষা বাবদ ও করোনা চিকিৎসায় খরচ বাবদ ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ ও সাহেদ করিমসহ ৬ জনের বিরুদ্ধেও চার্জশিট দেয় দুদক।

মহামারির মধ্যে চিকিৎসার নামে প্রতারণা আর জালিয়াতির মামলায় ২০২০ সালের ১৫ জুলাই সাহেদকে সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। ওই বছরের ৬ ও ৭ জুলাই উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের প্রধান দপ্তরে র‌্যাবের অভিযানের পর থেকে সাহেদ লাপাত্তা ছিলেন। কোভিড-১৯ পরীক্ষার প্রতিবেদন নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পর ওই হাসপাতালে অভিযান চালিয়েছিল র‌্যাব।




বেঙ্গলের ব্যবসা পরিচালনায় বাধা থাকলো না-আইনজীবী

দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মেডিকেল উপকরণ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিকেল কোম্পানিকে কালো তালিকাভুক্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আদেশ স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। ছয়মাসের জন্য এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দুদক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আদেশ কেন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত বুধবার (১৫ মার্চ) এ আদেশ দিয়েছেন। বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিকেল কোম্পানির স্বত্বাধিকারী জাহের উদ্দিন সরকার ও নুসরাত জাহান রত্নার করা এক রিট আবেদনে এ আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রিট আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল সিনিয়র আইনজীবী মুরাদ রেজা, অ্যাডভোকেট মো. রোকনুজ্জামান প্রিন্স, মিল্টন দাস ও স্বপ্নীল ভট্টাচার্য। দুদকের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।
গতকাল আদেশের পর অ্যাডভোকেট মো. রোকনুজ্জামান প্রিন্স জানান, কালো তালিকাভুক্তির আদেশ স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। ফলে বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিকেল কোম্পানির ব্যবসা পরিচালনায় কোনো বাঁধা নেই।
আইনজীবী জানান, বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিকেল কোম্পানি দীর্ঘদিন বাংলাদেশে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। এই কোম্পানিটি এর আগে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, সিটি স্ক্যান, এমআরআই, ইকো, ব্লাড গ্যাস এনালাইজার মেসিনসহ একহাজারের বেশি উপকরণ সরবরাহ করেছে। বিভিন্ন নামিদামী কোম্পানির প্রস্তুতকৃত এসব মেশিনারিজ যথাযথভাবে সচল রয়েছে। কিন্তু দুদক ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর বেশ কয়েকটি কোম্পানিকে কালো তালিকাভুক্ত করতে মন্ত্রী পরিষদ সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে চিঠি দেয়। ওই চিঠিতে বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিকেল কোম্পানির নাম যুক্ত করা হয় উদ্দেশ্যমূলকভাবে। এরপর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিকেল কোম্পানিকে কালো তালিকাভুক্ত করে ২০২০ সালের ১৬ জানুয়ারি আদেশ জারি করে। দুদক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করা হয়। এই রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট দুদক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আদেশের কার্যকারিতা ছয়মাসের জন্য স্থগিত করেছেন এবং রুল জারি করেছেন।




সোনালী ব্যাংকের সাবেক এমডির বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন

প্রায় ৫০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে হলমার্ক কেলেঙ্কারির অন্যতম হোতা ও সোনালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে মামলাটি অনুমোদন দেওয়া হয়। শিগগিরই দুদক উপ-পরিচালক ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করবেন।

সংস্থাটির (জনসংযোগ) কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আরিফ সাদেক ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দুদক সূত্রে জানা যায়, সোনালী ব্যাংকের সাবেক এমডি হুমায়ুন কবীরের দাখিল করা সম্পদ বিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নিজ নামে ৫৪ লাখ ৫১ হাজার ৬৯২ টাকার স্থাবর সম্পদ ও নগদ স্থিতিসহ ৬০ লাখ ২৬ হাজার ৭৭০ টাকার অস্থাবর সম্পদের হিসাব দিয়েছেন। সব মিলিয়ে ১ কোটি ১৭ লাখ ৭৮ হাজার ৪৬২ টাকার সম্পদের হিসাব পাওয়া যায়।

সম্পদ বিবরণীতে গৃহ নির্মাণ ঋণ হিসাবে ৭ লাখ ২১ হাজার ৮৭৪ টাকা দায় দেনা আছে। আর হুমায়ুন কবীরের ২ কোটি ৪৯ লাখ ৫৪ হাজার ৫৩৭ টাকার পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ মোট অর্জিত সম্পদের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৫৭ লাখ ১১ হাজার ১২৫ টাকা।

দুদকের অনুসন্ধানে হুমায়ুন কবীরের গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ৩ কোটি ৭ লাখ ৭৪ হাজার ৭৫৬ টাকা। এক্ষেত্রে তার গ্রহণযোগ্য আয়ের চেয়ে ৪৯ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৯ টাকা বেশি পাওয়া যায়। যা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ বলে দুদকের অনুসন্ধানে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সোনালী ব্যাংকের শেরাটন শাখা থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে হলমার্ক গ্রুপ ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মে পর্যন্ত জালিয়াতির মাধ্যমে ২ হাজার ৯৬৪ কোটি ৮১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। কেলেঙ্কারির ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর অনুসন্ধানে নামে রাষ্ট্রীয় সংস্থা দুদক।

অনুসন্ধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১৪ সালে ফান্ডেড মোট ১ হাজার ৯৫৪ কোটি ৮৩ লাখ ৭১ হাজার ৭৮৩ টাকা আত্মসাতের দায়ে ৩৮ মামলার চার্জশিট দেয় দুদক। তবে নন-ফান্ডেড প্রায় ১ হাজার ৭১০ কোটি টাকার দুর্নীতি অনুসন্ধান এখন পর্যন্ত শেষ করতে পারেনি সংস্থাটি।

২০১২ সালের ৪ অক্টোবর ফান্ডেড (সোনালী ব্যাংক থেকে সরাসরি ঋণ) ১ হাজার ৫৬৮ কোটি ৪৯ লাখ ৩৪ হাজার ৮৭৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২৭ জনকে আসামি করে ১১ মামলা এবং ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে ফান্ডেড প্রায় ৩৭২ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগে ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আরও ২৭ মামলা দায়ের করে দুদক। পরে ফান্ডেড মোট ১ হাজার ৯৫৪ কোটি ৮৩ লাখ ৭১ হাজার ৭৮৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৪ সালের বিভিন্ন সময়ে ৩৮ মামলার চার্জশিট দেয় সংস্থাটি। মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

যেখানে হলমার্ক গ্রুপের এমডি তানভীর মাহমুদ, তার স্ত্রী ও গ্রুপের চেয়ারম্যান জেসমিন ইসলাম, তানভীরের ভায়রা ও গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক তুষার আহমেদ এবং হলমার্ক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও সোনালী ব্যাংকের তৎকালীন শীর্ষ কর্তাদের আসামি করা হয়।




পূর্ণাঙ্গ তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশের আহবান দুদক চেয়ারম্যানের

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ বলেছেন, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে খণ্ডিত তথ্য না দিয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিলে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে সহজতর হয়। তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশ করুন। শুধু নেতিবাচক নয়, ইতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দুর্নীতি দমনে র‌্যাকের সদস্যদেরকে পাশে থাকার আহবান জানিয়েছেন দুদক চেয়ারম্যান।

বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর সেগুন বাগিচার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে দুদক বিটের রিপোর্টারদের সংগঠন ‘রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশনের (র‌্যাক)’ ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে “সুনীতি” নামে প্রকাশিত স্মরণিকার আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

মাড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মো. মোজাম্মেল হক খান ও দুদক কমিশনার মো. জহুরুল হক এবং দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন র‌্যাকের সভাপতি আহম্মদ ফয়েজ এবং সঞ্চালনা করেন র‌্যাকের সাধারণ সম্পাদক জেমসন মাহবুব। প্রথমেই শুভেচ্চা বক্তব্য রাখেন দুদক সচিব সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, র‌্যাকের সাবেক সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ, র‌্যাকের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আদিত্য আরাফাত,র‌্যাকের বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি আবুল কাশেম, সহ সভাপতি মো, রফিকুজ্জামান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাফি উদ্দিন আহেমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব সৈকত, প্রকাশনা সম্পাদক আতিকা রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সোলায়মান সালমান, কোষাধক্ষ্য তাসলিমুল আলম তৌহিদ,দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ ঋয়াদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আলী তালুকদার, কল্যাণ সম্পাদক বশির হোসেন খান, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক মারুফ কিবরিয়াসহ সিনিয়র সাংবাদিকগণ।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন,অনেক সময় ভালো কাজও অনেকে ভালো ভাবে দেখে না। অনেকে শুধুমাত্র ত্রুটি খুঁজতে থাকেন,তারা ত্রুটি ছাড়া,ভাল কিছুই দেখেন না। তবে কাজে কর্মে স্বচ্ছতা বজায় রেখে চললে কারো অযাচিত সমালোচনায় কোনো কিছু ‘আসে -যায়’ না। তিনি বলেন, আমারা সব সময় সমালোচকদেরও সহকর্মী মনে করি। আমাদের (দুদকের) এবং আপনাদের সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য এক এবং অভিন্ন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, সত্যের পরও সত্য থাকে, তথ্যের পরেও তথ্য থাকে। তাই সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আরো একটু দেখে নিবেন, কেউ যেন হয়রানি না হয়, সত্যকে সত্য, সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালা বলতে হবে। অনেক সময় অনেক তথ্য থেকে যায়, কেউকে হেয় প্রতিপন্ন করা আমাদের কাজ না, খন্ডিত তথ্য না দিয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে, ন্যায় বিচারটা আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো।

বিশেষ অতিথি দুদকের কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, সুনীতি একটি মূল্যবান দলিল, এখানে অনেকের ছোট ছোট কথা, সুনীতির পক্ষে আমরা আছি, এটাকে পজিটিভলি নিব। এর কথাগুলো বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবো। আপনারা এই নীতিকে ধারণ করতে পারবে ভালো হবে। এখানে ভাবনার খোরাক আছে কাউকে হয়রানি নয় দেশের স্বার্থে লেখবেন তাহলেই দেশ উপকৃত হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথি দুদক কমিশনার জহুরুল হক বলেন, আপনারা ভালো সংবাদ করবেন এটাই স্বাভাবিক, নেগেটিভ বলবেন, তবে নেগেটিভ দিয়ে সমাজ প্রতিষ্ঠা হয় না, এজন্য পজিটিভ নিউজ করেন সমাজকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।




দুদকের ক্ষমতা বাতিল প্রসঙ্গে আপিলের রায় ১৬ মার্চ

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মচারীকে কারণ দর্শানো ছাড়া যে কোন সময় চাকরি থেকে অপসারণ সংক্রান্ত ৫৪(২) বিধি বলে চাকরিচ্যুতি ক্ষমতা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। এই ক্ষমতা বাতিল করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দুদকের করা আপিলের শুনানি শেষ হলেও আদেশ জারি করেনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। তবে এই বিষয়ে আগামী ১৬ মার্চ আদেশ জারির দিন ধার্য করেছেন দেশের সবোর্চ্চ আদালত।

বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন ৭ বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত আপিল বিভাগের ফুলবেঞ্চে উক্ত মামলাটির চূড়ান্ত শুনানি গ্রহণ করা হয়েছে। আদালত ১৬ মার্চ রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন। এই রায়ের ওপর নির্ভর করছে বহুল আলোচিত দুদকের উপ পরিচালক আহসান আলী ও উপ সহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিনের চাকরিচ্যুতি বিষয়টি। তারা আবার দুদকের কর্মকর্তা হিসেবে বহাল হবেন অথবা কর্তৃপক্ষের চাকরিচ্যূতির আদেশই সঠিক, তা পরিস্কার হয়ে যাবে।

আদালতে শরীফের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. সালাহ উদ্দিন দোলন, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মিয়া মোহাম্মদ ইশতিয়াক। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। ২০০৮ সালের দুদক (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালার ৫৪ (২) বিধিতে বলা হয়েছে, ‘এই বিধিমালায় ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কোনো কারণ না দর্শাইয়া কোনো কর্মচারীকে ৯০ দিনের নোটিশ দিয়ে অথবা ৯০ দিনের বেতন নগদ পরিশোধ করিয়া তাহাকে চাকরি হইতে অপসারণ করিতে পারবে। ’

 

পরে সালাহউদ্দিন দোলন বলেন, আত্মপক্ষ সমর্থন ছাড়া এভাবে কর্মচারী অপসারণ সংবিধানের ২৭,২৯,৩১ ও ১৩৫ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। তাই এটা থাকতে পারে না। হাইকোর্ট এটা বাতিল করেছিলেন। পরে দুদক লিভ টু আপিলের পর আপিল বিভাগ খারিজ করে দিয়েছিলেন। এরপর রিভিউ করে আপিলের সুযোগ পায় দুদক।
২০০৮ সালের দুদক (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালার ৫৪ (২) বিধি অনুসারে মো. আহসান আলী নামে দুদকের এক কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছিল। তিনি ৫৪ (২) বিধির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেছিলেন। সে রিটে হাইকোর্ট ২০১১ সালের ২৭ অক্টোবর এ বিধি বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন।

হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে দুদক লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে, যা ২০১৬ সালের নভেম্বরে খারিজ করেন আপিল বিভাগ। এর বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে দুদক পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করেন। পরে শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ ২০২১ সালের ২৮ নভেম্বর দুদককে আপিল করার অনুমতি দেন। আর এ আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়। পরে দুদক আপিল করে।

এদিকে দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক পদ থেকে চাকরিচ্যুত মো. শরীফ উদ্দিনকে ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি অপসারণ করলে তিনিও দুদক কর্মচারী বিধিমালার ৫৪ (২) বিধি ও চাকরিচ্যুতির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। পরে ১১ এপ্রিল তা শুনানির জন্য ওঠে। কিন্তু তখন পর্যন্ত মো. আহসান আলীর মামলায় দুদকের রিভিউ আবেদনের নিষ্পত্তি না হওয়ায় শরীফের রিটের শুনানি মুলতবি করে আদেশ দেন হাইকোর্ট। পরে এ মুলতবি আদেশের বিরুদ্ধে ২০২২ ১৬ জুন আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন শরীফ। পরে গত ৩ জানুয়ারি শরীফের সেই লিভ টু আপিল ও দুদকের আপিল শুনানির জন্য একসঙ্গে আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় উঠে। এরপর একসঙ্গে দুই আবেদনের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রায়ের জন্য ১৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) দিন ঠিক করেন আপিল বিভাগ।

 




সাত ব্যাংক কর্মকর্তা বিরুদ্ধে মামলা

৩৪৬টি ঋণের ভুয়া নথি তৈরি করে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপকসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (১ মার্চ) দুদকের ফরিদপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে উপপরিচালক রেজাউল করিম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের রাজবাড়ী শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মইনুল ইসলাম, ওয়াহিদুজ্জামান, সিদ্দিকুর রহমান ও এস এম দেলোয়ার হোসেন, একই শাখার বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা ও রাজবাড়ী শাখার সাবেক পরিদর্শক রেজাউল হক, রাজবাড়ী শাখার সাবেক পরিদর্শক মোর্তুজা আলী ও গোলাম গাউস।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রচলিত বিধি বিধান লঙ্ঘন করে ২০১৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রতারণা ও জাল জালিয়াতির মাধ্যম বিভিন্ন গ্রাহকের নাম ব্যবহার করে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের রাজবাড়ী শাখা থেকে মোট ৩৪৬টি ঋণ নথি তৈরি করে ২ কোটি ২ লাখ ৪৭ হাজার ১৮২ টাকা আত্মসাৎ করেছে।

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।




৮৯ লাখ টাকা আত্মসাতে রূপালী ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

গ্রাহকের এফডিআরের সাড়ে ৮৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের সিনিয়র অফিসার বাহাউদ্দীন আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক তরুণ কান্তি ঘোষ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) মোহাম্মদ আরিফ সাদেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামি বাহাউদ্দিন আহমেদ সিনিয়র অফিসার (দ্বিতীয় কর্মকর্তা) হিসেবে খুলনার বয়রার মহিলা শাখায় দায়িত্ব পালনকালে শাখার কর্মকর্তাদের আইডি ব্যবহার করে এফডিআর ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে সাড়ে ৮৯ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।

বাহাউদ্দীন প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাংক শাখায় দায়িত্বশীল পদে কর্মরত থাকা অবস্থায় ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে ৭টি লেনদেনের মাধ্যমে ৮৫ লাখ টাকা এবং পরবর্তী সময়ে ওই বছরের নভেম্বর পর্যন্ত আরও ১৪ লাখ টাকাসহ মোট ওই টাকা আত্মসাত করেন। এছাড়াও চালানে প্রায় এক কোটি ৮৫ লাখ টাকার গড়মিলের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে তিনি ব্যাংক ব্যবস্থাপকের আইডি কৌশলে ব্যবহার করেছেন।

তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪৩০/৪৬৮/৪৭১/৪৭৭(ক) ধারাসহ ১৯৪৭ সালের ২নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।