কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিয়োগে দুদকের অভিযান

রমজান মাসকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগে চট্টগ্রাম বন্দরে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুদক, জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১ এর একটি এনফোর্সমেন্ট টিম চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষে এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদকের সহকারী পরিচালক সাঈদ মোহাম্মদ ইমরান হোসেন।

দুদক জানায়, অসাধু আমদানিকারকরা ইচ্ছাকৃতভাবে দীর্ঘদিন ধরে লাইটার জাহাজ থেকে পণ্য খালাস না করে নদী ও সমুদ্রে ভাসমান গুদাম হিসেবে জাহাজ ব্যবহার করছেন। এর মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযানকালে এনফোর্সমেন্ট টিমের চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ-সংক্রান্ত বিভিন্ন রেকর্ডপত্র সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করেন।

চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর ও তৎসংলগ্ন এলাকা থেকে স্বচ্ছ, নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খলভাবে পণ্য পরিবহন নিশ্চিত করতে লোকাল এজেন্ট ও পণ্যের এজেন্টদের আইনি কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অনাপত্তি সনদ ছাড়া কোনো লোকাল এজেন্ট বা পণ্যের এজেন্ট যেন চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর ব্যবহার করে পণ্য পরিবহনের কাজে যুক্ত থাকতে না পারে—সে বিষয়ে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর বন্দর কর্তৃপক্ষকে একটি অফিসিয়াল পত্র জারি করেন।

তবে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিমকে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নিশ্চিত করেছেন যে, ওই নির্দেশনার আলোকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এখনো অনাপত্তি সনদ গ্রহণ করছে না। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কি না, তা যাচাই করতে ডেপুটি ট্রাফিক ম্যানেজার (অপারেশন), হারবার মাস্টার এবং ডেপুটি কনজারভেটর দপ্তরের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে লাইটারেজ জাহাজের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকিতে বিদ্যমান অস্পষ্টতা সম্পর্কে আইন ও বিধির আলোকে

দুদক চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ বলেন, সংগৃহীত রেকর্ডপত্র ও বক্তব্য পর্যালোচনা করে অভিযোগের বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে এনফোর্সমেন্ট টিম দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিশনের কাছে একটি প্রতিবেদন দাখিল করবে।




জাল নথিতে ১৭৬ কোটি টাকার রাজস্ব আত্মসাৎ

শুল্ক সুবিধার অপব্যবহার ও জাল দলিলের মাধ্যমে সরকারের প্রায় ১৭৬ কোটি টাকা রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগে অভিযোগে সাবেক তিন কাস্টমস কর্মকর্তাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

অনুমোদিত প্রথম চার্জশিটে জাল দলিল ও কম শুল্কযুক্ত ব্যবহার করে সরকারের প্রায় ৮০ কোটি ৯২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা রাজস্ব আত্মসাতের আমদানিকারক, সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট ও কাস্টমস কর্মকর্তাসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

অন্যদিকে দ্বিতীয় চার্জশিটে চীন থেকে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য আমদানির নামে ভুয়া ঘোষণা, কম শুল্কযুক্ত এইচএস কোড ব্যবহার ও জাল দলিলের মাধ্যমে সরকারের প্রায় ৯৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগে আমদানিকারক, সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট ও কাস্টমস কর্মকর্তাসহ তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা, জালিয়াতি ও অসদাচরণের মাধ্যমে ভুয়া জাহাজি দলিল তৈরি ও ব্যবহার করে রাজস্ব আত্মসাৎ করেছেন।

প্রথম মামলার চার্জশিটে গ্যানী ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক মোহাম্মদ কাসিফ ফোরকান, মেসার্স সাই অ্যান্ড কোং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোস্তফা কামাল চৌধুরী, সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম ও আমদানিকারক শওকত আনোয়ার চৌধুরীকে আসামি করা হয়েছে।

অন্যদিকে দ্বিতীয় মামলার চার্জশিটের আসামি হলেন- সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা হুমায়ন কবির, মুজিবুর রহমান ও সাদমান এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. আবুল হাসনাত সোহাগ।

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।




শত কোটি টাকা আত্মসাৎ: অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক জিএম মাসুদ গ্রেফতার

অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ব্যাংক থেকে শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তিনি।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে পুলিশের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। দুদকের উপ-পরিচালক আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইসলামী ব্যাংকেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে গত ৯ অক্টোবর অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

এছাড়া অগ্রণী ব্যাংক থেকে প্রায় ১৯০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২৮ সেপ্টেম্বর ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। মামলার অভিযোগে বলা হয়, চট্টগ্রামে অগ্রণী ব্যাংকের আছাদগঞ্জ শাখা থেকে বিতরণ করা টিআর (ট্রাস্ট রিসিপ্ট) ঋণের ৫১ কোটি টাকা অসাধু উদ্দেশ্যে পরস্পর যোগসাজশে আত্মসাৎ করা হয়। বর্তমানে সুদে-আসলে এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

গ্রেফতার ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ অগ্রণী ব্যাংকের ঢাকা সার্কেল-২ এর সাবেক মহাব্যবস্থাপক ছিলেন। মামলাটি এখন তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।

সংস্থাটি আরও জানায়, তদন্ত ও বিচারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে জেলহাজতে রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে মামলার বিচারাধীন এলাকা চট্টগ্রামের মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে পাঠাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।




রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ছিদ্দিকুরের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাবেক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. ছিদ্দিকুর রহমান সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে এই মামলা করা হবে। মঙ্গলবার ১৬ (সেপ্টেম্বর) সংস্থার প্রধান কার্যালয় থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিশনের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এসব তথ্য জানিয়েছেন।

রাজউক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদাচরণের মাধ্যমে অজ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৩৬ কোটি ১৫ লাখ ৯৭ হাজার ৬৮৫ টাকার সম্পদ অর্জন করেন। এ ছাড়া নিজের নামে খোলা ৩৮টি ব্যাংক হিসাবে ৭৫ কোটি ৬৫ লাখ ৯৭ হাজার ৫২১ টাকা জমা ও ৭৫ কোটি ৬৫ লাখ ২৪ হাজার ৪৩৬ টাকা উত্তোলনসহ মোট ১৫১ কোটি ৩১ লাখ ২১ হাজার ৯৫৭ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন সম্পন্ন করেন।

এছাড়া সিদ্দিকুরের মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ১৯টি ব্যাংক হিসাবে ১৩ কোটি ১৬ লাখ ৫৭ হাজার ৩৭ টাকা জমা ও ১৩ কোটি ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৬৩৭ টাকা উত্তোলনসহ মোট ২৬ কোটি ২৭ লাখ ৫ হাজার ৬৭৪ টাকার লেনদেন হয়েছে। সব মিলিয়ে সিদ্দিকুর ও তার প্রতিষ্ঠানের নামে ১৭৭ কোটি ৫৮ লাখ ২৭ হাজার ৬৩১ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন চিহ্নিত করেছে দুদক।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়, এসব অর্থ-সম্পদের অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে তিনি রূপান্তর, স্থানান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং অপরাধে জড়িত।

এ ঘটনায় দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।




এবার দুদকের মামলায় গ্রেফতার বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান মোরশেদ

জুলাইয়ের হত্যা মামলার পর এবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য এবং বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান মোরশেদ আলমকে।

সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ইব্রাহিম মিয়া শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এ দিন কারাগার থেকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। তার উপস্থিতিতে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গত ৪ মে দুদকের উপ-পরিচালক শেখ গোলাম মাওলা বাদী হয়ে এ মামলা করেন। এতে মোরশেদ আলমসহ তিনজনকে আসামি করা হয়।

মামলার অপর দুই আসামি হলেন- মোরশেদ আলমের ছেলে বেঙ্গল কনসেপ্ট অ্যান্ড হোল্ডিংস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুল আলম এবং মোরশেদ আলমের ভাই বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির এরিয়া অফিসের জন্য ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম ও তার ভাই মো. জসিম উদ্দিনের মালিকানাধীন জমি কেনায় কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট থাকায়, তা গোপন করে অস্বাভাবিক দামে কেনার মাধ্যমে ২ কোটি ৮৬ লাখ ৬ হাজার ১৪৫ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল রাতে রাজধানীর গুলশান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরের দিন রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় কিশোর মো. শামীম হত্যা মামলায় বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও নোয়াখালী-২ আসনের সাবেক এমপি মোরশেদ আলমকে কারাগারে পাঠান আদালত। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে আটক আছেন।




এস আলমের দুই ছেলেসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

৭৫ কোটি টাকার কর ফাঁকির অভিযোগে আলোচিত শিল্পগ্রুপের কর্ণধার এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল আলমের দুই ছেলে ও কর কর্মকর্তাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন।

মামলার আসামিরা হলেন- সাইফুল আলমের ছেলে আশরাফুল আলম; আসাদুল আলম মাহির, সাবেক উপ কর কমিশনার আমিনুল ইসলাম।

এছাড়া কর ফাঁকির ঘটনার সম্পৃক্ততায় সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৭ কর্মকর্তা আসামি হয়েছেন। তারা হলেন- ব্যাংকটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. হেলাল উদ্দিন, শাখা প্রধান মুহাম্মদ আমির হোসেন, প্রাক্তন এসএভিপি মো. আহসানুল হক, প্রাক্তন এসএভিপি রুহুল আবেদীন, কর্মকর্তা শামীমা আক্তার, , মো. আনিস উদ্দিন ও গাজী মুহাম্মদ ইয়াকুব।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা একে অপরের সহায়তায় জাল-জালিয়াতির আশ্রয়ে অপরাধমূলক অসদাচরণ করে ভুয়া পে-অর্ডার তৈরি করে তা সঠিক হিসেবে ব্যবহার করা এবং ৫০০ কোটি টাকার অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ বা কালো টাকা সাদা করার জন্য ১২৫ কোটি টাকার আয়কর পরিশোধ করার কথা থাকলেও তারা ৫০ কোটি টাকার আয়কর পরিশোধ করেন। অবশিষ্ট ৭৫ কোটি টাকা সরকারের রাজস্ব ক্ষতি সাধন করেন।

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৮০৯/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা তৎসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত বছরের অক্টোবরে ব্যবসায়ী সাইফুল আলম ওরফে এস আলমের দুই ছেলের আয়কর নথিতে বাড়তি সুবিধা দেওয়া এবং এর বিনিময়ে ঘুস নেওয়ার অভিযোগে আয়কর বিভাগের তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে এনবিআর। এই অভিযোগ আমলে নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

আওয়ামী লীগ সরকার ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ১০ শতাংশ কর দেওয়ার মাধ্যমে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার অনুমতি দেয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যক্তিগত পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ করের হার বিবেচনায় নিলে আশরাফুল ও আসাদুলকে অপ্রদর্শিত ৫০০ কোটি টাকার বিপরীতে কমপক্ষে ১২৫ কোটি টাকা কর দিতে হতো। অথচ তারা মাত্র ৫০ কোটি টাকা দিয়েই এই টাকা সাদা করে নেন।




মুন্নী সাহা ও তার স্বামীর সম্পদের হিসাব তলব করল দুদক

সাংবাদিক মুন্নী সাহা ও তার স্বামী মো. কবীর হোসেনের নামে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার (১৪ আগষ্ট) সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।

তিনি বলেন, অনুসন্ধানকালে তাদের নামে ঘোষিত আয়ের তুলনায় বিপুল পরিমাণ অপ্রকাশিত সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। সে কারণে অর্জিত সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও আয়ের উৎস যাচাইয়ের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬ (১) ধারায় উভয়ের বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারি করা হয়েছে।

দুদকের হাতে থাকা তথ্য অনুসারে, ২০২৪-২০২৫ করবর্ষ পর্যন্ত মুন্নী সাহা ১ কোটি ৮৫ লাখ ৩২ হাজার ৪০০ টাকার স্থাবর ও ১১ কোটি ৯৬ লাখ ১৭ হাজার ৭৪৯ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৫০ হাজার ১৪৯ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। একই সময়ে তার গ্রহণযোগ্য আয় ছিল ৩ কোটি ২৪ লাখ ২৩ হাজার ৫১৩ টাকা এবং ব্যয় ২ কোটি ৫০ লাখ ৩০ হাজার ২৫৬ টাকা। ব্যয় বাদে সঞ্চয় দাঁড়ায় ৭৩ লাখ ৯৩ হাজার ২৫৭ টাকা। অর্থাৎ সঞ্চয়ের তুলনায় ১৩ কোটি ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৮৯২ টাকার সম্পদ বেশি পাওয়া গেছে, যা জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।

অন্যদিকে, তার স্বামী মো. কবীর হোসেন ২ কোটি ১২ লাখ ৪ হাজার ১৩৫ টাকার স্থাবর ও ১৪ কোটি ৫৫ লাখ ৮৯ হাজার ২০৫ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ১৬ কোটি ৬৭ লাখ ৯৩ হাজার ৩৪০ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। একই সময়ে তার গ্রহণযোগ্য আয় ছিল ৮ কোটি ১৭ লাখ ৪২ হাজার ৭২৫ টাকা এবং ব্যয় ৮৩ লাখ ৮৬ হাজার ৪০২ টাকা। ব্যয় বাদে সঞ্চয় দাঁড়ায় ৭ কোটি ৩৩ লাখ ৫৬ হাজার ৩২৩ টাকা। ফলে সঞ্চয়ের তুলনায় ৯ কোটি ৩৪ লাখ ৩৭ হাজার ১৭ টাকার সম্পদ বেশি পাওয়া গেছে, যা জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।

গত ৩০ জুলাই দুদকের একটি টিম তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। ব্যাংক হিসাবে ১৩৪ কোটি টাকার সন্দেহভাজন লেনদেনসহ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে গত ২ জানুয়ারি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গত ১৬ জুলাই মুন্নী সাহা, তার মা আপেল রানী সাহা, স্বামী কবির হোসেন তাপস ও ভাই তপন কুমার সাহার নামে থাকা ৩৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেন আদালত।




কাগজপত্র দেখে টিউলিপকে বাংলাদেশি মনে হচ্ছে: দুদক চেয়ারম্যান

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির পার্লামেন্ট সদস্য (এমপি) ও সাবেক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক নিজেকে ব্রিটিশ পরিচয় দিলেও কাগজপত্র দেখে তাকে ‘বাংলাদেশি মনে হচ্ছে’ বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টিউলিপের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা চলমান এবং আরেকটি তদন্তাধীন। যতই বলুক না কেন তিনি ব্রিটিশ, আমরা যখন আমাদের কাগজপত্র দেখছি তাকে বাংলাদেশি মনে হচ্ছে। এখন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নিজের সুবিধার জন্য কখনো ব্রিটিশ, কখনো বাংলাদেশি বলেন; এটি বলা সমীচীন কি না তা আপনারা (সাংবাদিকদের উদ্দেশে) বিবেচনা করবেন।

সোমবার (১৬ জুন) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে দুদক চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

টিউলিপ সিদ্দিক যদি নির্দোষই হয়ে থাকেন তবে তিনি সিটি মিনিস্টার পদ বা মন্ত্রিত্ব কেন ছাড়লেন—এ প্রশ্নও তুলেছেন দুদক চেয়ারম্যান। বলেন, টিউলিপ নিজেকে নির্দোষ দাবি করলে, তার আইনজীবী দুদকে চিঠি লিখলেন কেন? তিনি মন্ত্রিত্ব ছাড়লেন কেন?

এসময় তিনি টিউলিপকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, টিউলিপের ব্যাপারে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত আছে। সঠিক ঠিকানায় তলবগুলো পাঠানো হচ্ছে। রাজউকের প্লট, গুলশানের প্লট বিতরণের অনিয়মসহ আরও অভিযোগ আছে। তার আয়কর রিটার্ন ঘেটে দেখলাম, সেখানে তার স্বর্ণ ১০ ভরি থেকে হঠাৎ লাফ দিয়ে ৩০ ভরি হয়ে গেছে। দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

‘বাংলাদেশের আইনের বিধান অনুযায়ী টিউলিপকে আদালতে মোকাবিলা করতে হবে। আমরা তার আইনজীবীকে এটা জানিয়েছি’- যোগ করেন দুদক চেয়ারম্যান।

বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করছে দুদক। এর মধ্যে লন্ডনে শেখ হাসিনা সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের ফ্ল্যাট টিউলিপ ব্যবহার করেছেন বলে দেশটির সংবাদমাধ্যমের খবরে বেরিয়ে আসে।

এসব নিয়ে সমালোচনার মুখে গত জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্য সরকারের সিটি মিনিস্টারের (ইকোনমিক সেক্রেটারি টু দ্য ট্রেজারি অ্যান্ড সিটি মিনিস্টার) পদ থেকে পদত্যাগ করেন টিউলিপ সিদ্দিক। তিনি গত বছর দেশটির সাধারণ নির্বাচনে লন্ডনের হ্যাম্পস্টিড অ্যান্ড হাইগেট আসন থেকে টানা চতুর্থবারের মতো পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর জুলাইয়ে তাকে লেবার পার্টি সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনীতিবিষয়ক মিনিস্টার করা হয়েছিল।

এরই মধ্যে রাজধানীর গুলশানের একটি প্লট অবৈধভাবে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করিয়ে দিয়ে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের কাছ থেকে ‘ঘুষ’ হিসেবে একটি ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে টিউলিপের বিরুদ্ধে গত ১৫ এপ্রিল মামলা করে দুদক।

টিউলিপকে গত ১৫ জুন দ্বিতীয় দফা তলব করে দুদক। এর আগে গত ১৪ মে তাকে তলব করেছিল দুদক। তবে সেই তলবের কোনো চিঠি পাচ্ছেন না বলে বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি করছেন তিনি।




যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সিকে ধন্যবাদ জানালেন গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ১০ থেকে ১৩ জুন যুক্তরাজ্যের লন্ডন সফর করেছেন। প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসেবে তার এ সফর হলেও, এর পাশাপাশি তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। যা বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণী ও আর্থিক খাতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সফরের শুরুতেই মঙ্গলবার (১১ জুন) গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) পরিদর্শনে যান। সেখানে তারা ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্টি করাপশন কোঅর্ডিনেশন সেন্টারের (আইএসিসিসি) প্রধান ড্যানিয়েল মারফিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বাংলাদেশের অ্যাসেট রিকভারি টাস্কফোর্সের সঙ্গে আইএসিসিসির চলমান সহযোগিতার জন্য গভর্নর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, যুক্তরাজ্যে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সৈয়দুজ্জামান চৌধুরী জাভেদের ১৭০ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের সম্পদ এবং সম্প্রতি বেক্সিমকো গ্রুপের শায়ান রহমান ও শারিয়ার রহমানের ৯০ মিলিয়ন পাউন্ডের সম্পদ জব্দে সহায়তার জন্য এনসিএর প্রতি ধন্যবাদ জানান গভর্নর।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, যুক্তরাজ্যের মোট ২৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের এ উদ্যোগ অন্যান্য মানিলন্ডারিং গন্তব্য দেশগুলোকেও একই পথে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, এনসিএ সফরের পর গভর্নর একটি ‘অ্যাসেট রিকভারি রাউন্ডটেবিল’ বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন, যার আয়োজন করে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইন প্রতিষ্ঠান ডিএলএ পাইপার। এতে ওমনি ব্রিজওয়ে, বেনচওয়াক ক্যাপিটাল, আলভারেজ অ্যান্ড মার্শাল এবং ইউনিটাস গ্লোবালসহ কয়েকটি বিখ্যাত লিটিগেশন ফান্ডিং ও ইনভেস্টিগেশন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৈঠকে গভর্নর জানান, ২০২৫ সালের মধ্যে অন্তত ৩০টি মামলার জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলারের লিটিগেশন ফান্ডিং সংগ্রহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত এনডিএ সই এবং ব্যাংকগুলোর এনপিএল ডেটা শেয়ারিংয়ের প্রক্রিয়া শুরু করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

তারা বাংলাদেশ ব্যাংককে একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত প্রতিষ্ঠান (এসপিভি) গঠনের পরামর্শ দেন, যাতে যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরসহ প্রধান লক্ষ্যবস্তু দেশগুলোতে মামলা পরিচালনা করা যায় এবং প্রক্রিয়াটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাবমুক্ত থাকে। গভর্নর এ প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন।

এছাড়া গভর্নর বিশ্বের বৃহত্তম অ্যাসেট ম্যানেজার ব্ল্যাকরকের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বাংলাদেশে ব্যাংক ও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। লন্ডনের লর্ড মেয়রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গভর্নর তাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। এসময় বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের ফিনটেক ও আর্থিক খাতে পারস্পরিক বিনিয়োগ ও সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়।

অবশেষে, গভর্নর লন্ডনের কয়েকটি মানি এক্সচেঞ্জ হাউজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং রেমিট্যান্স প্রেরণ প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করেন।




রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের অস্থাবর সম্পদ ফ্রিজ

দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় রাজধানীর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ – রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. ছিদ্দিকুর রহমান সরকার ও তার স্ত্রী গাজী রেবেকা রওশনের অস্থাবর সম্পদ ফ্রিজ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১৯ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন গালিবের আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিন দুদকের পক্ষে সংস্থাটির পরিচালক আবুল হাসনাত সম্পদ ক্রোক চেয়ে আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ছিদ্দিকুরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে নিজ নামে ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগটি অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র মোতাবেক জানা যায় অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মো. ছিদ্দিকুর রহমান সরকার ও তার স্ত্রী রেবেকার নামীয় সর্বমোট ১৩টি বিও অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, এফডিআর ও সঞ্চয়পত্রে বিপুল পরিমাণ অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের নামীয় অস্থাবর সম্পদগুলো থেকে টাকা উত্তোলন করতেন। বিদেশে পাচারের চেষ্টা করছেন বলে গোপন সূত্রে জানা গেছে। তারা অর্থ বিদেশে পাচার করলে অনুসন্ধান কার্যক্রম দীর্ঘায়ত বা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মো. ছিদ্দিকুর রহমান সরকার ও তার স্ত্রী গাজী রেবেকা রওশনের অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধকরণ (ফ্রিজিং) করা প্রয়োজন।

 




দেশের ৩৫ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুদকের অভিযান

দলিল রেজিস্ট্রেশন, তল্লাশি ও নকল উত্তোলনসহ অন্যান্য কাজে সেবা প্রার্থীদের হয়রানি এবং ঘুষ দাবিসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে দেশের ৩৫টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অভিযান পরিচালনা করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ (বুধবার) দুদকের বিভিন্ন অফিস থেকে এনফোর্সমেন্ট টিম ওই অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে। সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

অফিসগুলো হলো— মোরেলগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়, বরিশাল সদর সাব-রেজিস্ট্রারের অফিস, বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের অফিস, লক্ষীপুর জেলার রায়পুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের অফিস, কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের অফিস, চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রারের অফিস, চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের অফিস, কুমিল্লা জেলার লাঙ্গলকোট উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের অফিস, ঢাকার আশুলিয়া ও মিরপুর সাব-রেজিস্ট্রারের অফিস, দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের অফিস, ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলা, গাজীপুর জেলার সদর উপজেলা, গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলা, হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলা, যশোর সদর উপজেলা, ঝিনাইদহ সদর উপজেলা, খুলনা জেলা ও খুলনা সদর উপজেলা, কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলা, কুড়িগ্রাম জেলা, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা, শরীয়তপুর সদর উপজেলা, ময়মনসিংহের গৌরিপুর, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা, নোয়াখালী সদর উপজেলা, নওগাঁ সদর উপজেলা, পাবনা সদর উপজেলা, পটুয়াখালী জেলার বাউফল, ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর, রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী, রংপুর জেলা, সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট, টাঙ্গাইলের কালিহাতী, ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী ও জামালপুলের সরিষাবাড়ী সাব-রেজিস্ট্রারের অফিস।

অভিযোগ মূলত সাব-রেজিস্ট্রারের অফিসের দলিল রেজিষ্ট্রেশন, তল্লাশি, নকল উত্তোলনসহ অন্যান্য কাজে প্রার্থীদের হয়রানি ও ঘুষ দাবিসহ নানা অনিয়ম এবং দুর্নীতি।




 বিএসইসির সার্ভিলেন্স বিভাগে এবার দুদকের অভিযান

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) আবারো অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে সার্ভিলেন্স ও মনিটরিং বিভাগে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে দুদক সূত্র জানা গেছে।

সোমবার (১০ মার্চ) ঢাকার আগারগাঁওয়ে সিকিউরিটিজ কমিশন ভবনে বিএসইসির কার্যালয়ে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে এই অভিযান শুরু হয়েছে। দুইজন সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি টিম এই অভিযান পরিচালনা করছেন।

জানা গেছে, দুদকের তদন্ত দল প্রথমে এসেই বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর বিএসইসির সার্ভিলেন্স ও মনিটরিং বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগে অভিযান পরিচালনা করছেন।

এর আগে গত ২ মার্চ বিএসইসিতে অভিযান পরিচালনা করে দুদক। অভিযানকালে পাওয়া অনিয়মগুলো শিগগিরই কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবে বলেও জানায় দুদক।

এর আগে অভিযানকালে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম ২০১০ সাল পরবর্তী দুই কমিশনের মেয়াদের অনিয়ম ও দুর্নীতির অনেক প্রমাণ পেয়েছেন বলে জানা গেছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন কোম্পানির প্রসপেক্টাসে থাকা আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যেও ম্যানিপুলেট করা হয়। আর্থিক অবস্থা দুর্বল থাকা কোম্পানিকে সবল দেখানো হয়। তারপর মার্কেটে ছাড়া হয় আইপিও। সেই কোম্পানি অব্যাহত প্রবৃদ্ধিও করেছে। তারপর একপর্যায়ে তাদের শেয়ারদর পড়তে শুরু করে। এতে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি হয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে বিভিন্ন সময় এসব কোম্পানির বিষয়ে সতর্ক করে সুপারিশ করা হলেও বিএসইসি তা আমলে নেয়নি।

এছাড়া, প্রাইভেট প্লেসমেন্ট জালিয়াতি ও বাণিজ্য, অধিক মূল্যে শেয়ার প্রাইস নিয়ে মার্কেটে প্রবেশ ও অল্প সময়ে শেয়ার বিক্রি, প্রাইসের দ্রুত অবনমনের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়টিও পরিলক্ষিত হয়েছে বলে দুদক জানায়।

দুদক জানিয়েছে, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় টিম আরো প্রত্যক্ষ করে যে দুর্বল কোম্পানিগুলোকে অবৈধভাবে অনুমোদন দেওয়ায় ক্যাপিটাল মার্কেটে প্রবেশের অল্পদিনেই তাদের লো পারফর্মিং কোম্পানি হিসেবে জেড ক্যাটাগরিভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, জালিয়াতির মাধ্যমে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের প্রস্তুতকৃত উইন্ডো ড্রেসড ব্যালান্সশিট ও ফ্যাব্রিকেটেড আর্নিং রিপোর্ট ও ইস্যু ম্যানেজারের তৈরীকৃত ওভারভ্যালুড কোম্পানি প্রোফাইলের পরিপ্রেক্ষিতে অনিয়মের আশ্রয়ে বিএসইসি আইপিওর অনুমোদন দিয়েছে। প্রাপ্ত অনিয়মগুলোর বিষয়ে দুদক টিম প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে কমিশন বরাবর একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবে।




অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিয়োগে ডিএসসিসি’র সাবেক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

প্রায় ১৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক কাউন্সিলর (৫৯ নং ওয়ার্ড) ও মেসার্স তালুকদার অ্যান্ড কোং-এর মালিক আকাশ কুমার ভৌমিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (৩ মার্চ) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপ-পরিচালক মো. আহসানুল কবীর পলাশ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দুদকের অনুসন্ধানে আকাশ কুমার ভৌমিকের নামে ২৮ কোটি ৪৭ লাখ ২৭ হাজার ৩৯১ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। যার মধ্যে গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ১৩ কোটি ৫১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৫ টাকার। অর্থাৎ ১৪ কোটি ৯৬ লাখ ১৯৬ টাকার কোনো বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।




বিএসইসিতে দুদকের অভিযান

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে আজ রোববার (২ মার্চ) আগারগাঁওয়ে বিএসইসি কার্যালয়ে এ অভিযান চালানো হয়। ।

অভিযানকালে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম বিএসইসি থেকে আইপিও অনুমোদন সংক্রান্ত বিষয়ে কোম্পানির আবেদনের তালিকা, তাদের দাখিল করা প্রসপেক্টাস, নিরীক্ষা প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথিপত্র এবং চূড়ান্ত অনুমোদন তালিকা যাচাই করে।

একইসঙ্গে দুদকের আরেকটি দল বিএসইসিতে বেক্সিমকোর সুকুক ও আইএফআইসি আমার বন্ড এর ব্যাপারে তথ্য ও নথিপত্র সংগ্রহ করতে যায়। এগুলো কারাগারে থাকা শেখ হাসিনার সাবেক বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সাথে সংশ্লিষ্ট।দুদকের জনসংযোগ দপ্তর জানায়, প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা যায় যে কোম্পানি কর্তৃক দাখিল করা বানোয়াট উপার্জন এবং সম্পদ বিবরণী ও উইন্ডো ড্রেসিংয়ের মাধ্যমে তৈরি করা ব্যালেন্স শিটের বিপরীতে আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অনেকক্ষেত্রে ডিএসইর সুপারিশ ও পর্যবেক্ষণ বিবেচনা করা হয়নি, যা ব্যাপক অনিয়মের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে।

এছাড়া প্রাইভেট প্লেসমেন্ট জালিয়াতি ও বাণিজ্য, অধিকমূল্যে শেয়ার প্রাইস নিয়ে মার্কেটে প্রবেশ ও অল্প সময়ে শেয়ার বিক্রি, প্রাইসের দ্রুত অবনমনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানায় দুদক। দুর্বল কোম্পানিগুলোকে অবৈধভাবে অনুমোদন দেওয়ায় শেয়ারবাজারে প্রবেশের অল্পদিনেই তাদেরকে নিম্ন কর্মক্ষমতা কোম্পানি হিসেবে ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত করা হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, জালিয়াতির মাধ্যমে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ড কর্তৃক প্রস্তুত করা উইন্ডো ব্যালেন্স শিট ও বানোয়াট উপার্জন রিপোর্টের ভিত্তিতে আইপিও অনুমোদন করা হয়। এছাড়া ইস্যু ম্যানেজারের তৈরি করা অধিমূল্যায়িত কোম্পানি প্রোফাইলের পরিপ্রেক্ষিতে অনিয়মের আশ্রয়ে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক আইপিওর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়।

দুদক জানায়, অভিযানকালে পাওয়া অনিয়মগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবে তাদের এনফোর্সমেন্ট টিম।

উল্লেখ, পতিত আওয়ামীলীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে দেশের পুঁজিবাজারে পরিকল্পিতভাবে লুটপাট করা হয় বলে আভিযোগ আছে। এ সময়ে অনেক দুর্বল মৌলের কোম্পানি, এমনকি উৎপাদন বন্ধ থাকা কোম্পানিকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে বাজার থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান একাই বেক্সিমকো গ্রীন সুকুক ও আমার বন্ড নামের বন্ড ইস্যু করে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা বাজার থেকে উঠিয়ে নেন। এছাড়া নানা ধরনের কারসাজির মাধ্যমে একটি চক্র সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলেও অভিযোগ আছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির প্রশ্রয় ও যোগসাজসেই এমন লাগামহীন অনিয়ম-দুর্ণীতি হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এসব এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতেই আজ দুদক বিএসইসিতে এই অভিযান চালিয়েছে।




এবার এস আলম ও ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ৩০ জনকে দুদকে তলব

সিঙ্গাপুর, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, সাইপ্রাস এবং অন্যান্য দেশে এক বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিতর্কিত ব্যবসায়ী শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম, তার ভাই ও ইসলামী ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন ২৮ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলমের ছেলে ও ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসানুল আলমসহ ইসলামী ব্যাংকের ১২ শীর্ষ কর্মকর্তাকে তলব করেছিল সংস্থাটি।

এবারের চিঠিতে এস আলমের সঙ্গে তার ভাই এস আলম ভেজিটেবল ওয়েল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদুল আলমকেও তলব করা হয়েছে যাদের আগামী ৫ মার্চ দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে।

রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুদকের উপপরিচালক আবু সাঈদ সই করা চিঠিতে এস আলম সুপার এডিবল ওয়েল লিমিটেডের অনুকূলে ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ বা বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট এবং টিআইএনসহ প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে।

৬ মার্চ যাদের তলব করা হয়েছে তারা হলেন– ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এসভিপি ও চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ শাখা প্রধান মোহাম্মদ কাইসার আলী, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহমুদ হোসেন খান, সাবেক সিনিয়র অফিসার মো. মিজানুর রহমান, মো. সোহরাব হোসেন, সাবেক এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মোহন মিয়া, সাবেক ইভিপি মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম ও সাবেক সদস্য মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ।

৯ মার্চ যাদের তলব করা হয়েছে তারা হলেন– ব্যাংকটির সাবেক সদস্য আবু রেজা মো. ইয়াহিয়া, মোহাম্মদ আলী, মো. শফিকুর রহমান, মো. নাজিবুর রহমান, মো. শামসুজ্জামান, মো. আব্দুস সাদেক ভূঁইয়া ও রাফি আহমেদ বেগ।

১০ মার্চ যাদের তলব করা হয়েছে– ইসলামী ব্যাংকের সাবেক সদস্য মো. হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, মো. মাহবুব-উল-আলম, ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, সাবেক পর্যবেক্ষক বাংলাদেশ ব্যাংকের জিএম মো. ইস্কান্দার মিয়া, ইসলামী ব্যাংকের সাবেক স্বতন্ত্র পরিচালক ব্যারিস্টার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, হুমায়ুন বখতিয়ার ও মো. আব্দুস সালাম।

এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক এ এইচ জি মহিউদ্দিন, মো. আবুল হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার মো. ইস্কান্দার আলী খান, সাবেই ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর এনআরএম বোরহান, পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মুস্তাফা আনোয়ার, সাবেক মেম্বার সেক্রেটারি প্রফেসর ড. আবু বকর রফিক ও সাবেক ডিএমডি মোহাম্মদ আবুল বাশারকে ১১ মার্চ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।

এরই মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় এস আলমের ছেলে ও ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আহসানুল আলমকে আসামি করে তিনটি মামলা করা হয়েছে। দুদক থেকে পাওয়া তথ্যানুসারে এর আগে গত ১৯ ডিসেম্বর ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের চাকতাই শাখা থেকে এক হাজার ৯২ কোটি টাকা লুটপাটে আহসানুল আলমসহ ৫৮ জন, চট্টগ্রামের জুবিলী রোড শাখা থেকে প্রায় এক হাজার ১১৪ কোটি টাকা লুটপাটে গত ৯ জানুয়ারি এবং গত ২৮ জানুয়ারি ৮২৭ কোটি ৪২ লাখ ১৫ হাজার ৪২৫ টাকা আত্মসাতের ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল আলমের ছেলে আহসানুল আলম এবং সেঞ্চুরী ফুড প্রোডাক্টসের মালিক আরিফুল ইসলাম চৌধুরীসহ ৫২ জনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করে দুদক।

গত ২১ আগস্ট এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল আলমের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগের তদন্ত শুরু করে দুদক। ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় এস আলম গ্রুপ। এরপর বিভিন্ন সময় ব্যাংকটির ঋণ জালিয়াতি ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।




এস আলমের ছেলেসহ ইসলামী ব্যাংকের ১২ শীর্ষ কর্মকর্তাকে তলব

বিতর্কিত ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এস আলমের অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ১২ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আগামী ২৬ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি দুদকে হাজির হয়ে তাদের বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক আবু সাঈদ সই করা তলবি চিঠি ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

তলবি চিঠিতে দুদকে হাজির হওয়ার সময়, উল্লেখিত কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র, টিআইএন ও পাসপোর্টের সত্যায়িত ফটোকপি নিয়ে আসার কথা বলা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুর, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, সাইপ্রাস ও অন্যান্য দেশে এক বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের মোনিকো ফার্মা লিমিটেড এর অনুকূলে ১০০ কোটি টাকা ঋণ/বিনিয়োগ সংক্রান্ত বক্তব্য গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন।

ব্যাংকটির ঢাকা সেন্ট্রাল জোনের এসভিপি মো. নাজমুল হুদা সিরাজী, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট দিলরুবা হায়াত, এফএডিপি মো. আবু হানিফ, এসপিও শরিফুল ইসলাম, এস আলম গ্রুপের কর্ণধার মাসুদ আলমের ছেলে ও ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসানুল আলম, ব্যাংকটির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু সাঈদ মোহাম্মদ কাসেমকে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে দুদকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

আর ২৭ ফেব্রুয়ারি তলব করা হয়েছে ব্যাংকটির পর্যবেক্ষক ও পরিচালক মো. সারওয়ার হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তফা চৌধুরী, ইভিপি মো. শামসুদ্দোহা, মীর রহমত উল্লাহ, এসইভিপি আবু সাঈদ মো. ইদ্রিস ও ডিএমডি কাজী মো. রেজাউল করিম।

দুদক থেকে পাওয়া তথ্যানুসারে, এর আগে গত ১৯ ডিসেম্বর ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের চাকতাই শাখা থেকে এক হাজার ৯২ কোটি টাকা লুটপাটে আহসানুল আলমসহ ৫৮ জন, চট্টগ্রামের জুবিলী রোড শাখা থেকে প্রায় এক হাজার ১১৪ কোটি টাকা লুটপাটে গত ৯ জানুয়ারি এবং গত ২৮ জানুয়ারি ৮২৭ কোটি ৪২ লাখ ১৫ হাজার ৪২৫ টাকা আত্মসাতের ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও এস আলম গ্রুপের মালিকের সাইফুল আলমের ছেলে আহসানুল আলম এবং সেঞ্চুরী ফুড প্রোডাক্টসের মালিক আরিফুল ইসলাম চৌধুরীসহ ৫২ জনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করে দুদক।

গত ২১ আগস্ট এস আলম গ্রুপের মালিক সাইফুল আলম বা এস আলমের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগের তদন্ত শুরু করে দুদক।

২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় এস আলম গ্রুপ। এরপর বিভিন্ন সময় ব্যাংকটির ঋণ জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।




চট্টগ্রামের সাবেক এমপি মোস্তাফিজুরকে দুদকে তলব

চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে তার তলবি চিঠি চট্টগ্রামের বাসার ঠিকানায় সম্প্রতি পাঠানো হয়েছে। যেখানে তাকে আগামীকাল ২৭ অক্টোবর হাজির হয়ে বক্তব্য প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। দুদক উপপরিচালক মুর্তুজা আল মহামুদ সই করা চিঠির সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এর আগে গত ১৫ অক্টোবর মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ও তার স্ত্রী শাহীন আক্তার চৌধুরীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। গত ১৮ সেপ্টেম্বর সাবেক এমপি মোস্তাফিজুর রহমানের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

 

কমিশন থেকে সিদ্ধান্তেরর পর দুদক উপপরিচালক মুর্তুজা-আল-মাহমুদের নেতৃত্বে একটি তিন সদস্যের অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। টিমের অপর সদস্যরা হলেন- সহকারী পরিচালক মো. ফয়সাল কাদের ও উপসহকারী পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন।

অনুসন্ধান কাজ শুরু হওয়ার পর এরই মধ্যে চলতি সপ্তাহে ১৫৪ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথিপত্র তলব করে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। যার মধ্যে জাতীয় সংসদ, বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিস, ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, রাজউক, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনসহ ৩০টি প্রতিষ্ঠান, ৭৯টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ৪৫টি ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি রয়েছে। কিছু কিছু নথিপত্র আসা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগসূত্রে জানা যায়, মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় ছিল ১৫ হাজার টাকা, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ লাখ ৬৮ হাজার ৪৬৫ টাকা। সাবেক এই এমপির নিজ নামে একটি টয়োটা প্রাডো জিপ, যার মূল্য ৩৭ লাখ ২০ হাজার ও একটি টয়োটা ল্যান্ড ক্রজার স্টেশন ওয়াগন, যার মূল্য ৮৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

সূত্র জানায়, তার পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত চার একর জমি, নিজ নামে বরাদ্দকৃত রাজউকের তিন কাঠার প্লট, ১৪ গন্ডা অকৃষি জমি, চার কাঠার প্লট ও চকবাজার সুপার মার্কেটে দোকান রয়েছে। স্ত্রীর নামে পাঁচতলা বিশিষ্ট বাড়ি ও ঢাকার কাফরুলে ১৮৭২ বর্গফুটের ফ্ল্যাট রয়েছে।




দুদক ও ব্রিটিশ হাইকমিশনের বৈঠক : আলোচনায় অর্থ পাচার

অর্থ পাচার প্রতিরোধ ও পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে এবার ব্রিটিশ হাইকমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (৬ অক্টোবর) সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ব্রিটিশ হাইকমিশনের চার সদস্য।

ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা হলেন– ফার্স্ট সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল) ডয়েন এডলি শিয়াবলা, হেড অব পলিটিক্যাল অ্যান্ড গভার্নেন্স টিমথি ডুকেট, ইন্টারন্যাশনাল লিয়াজন অফিসার পিটার ভেরনন ও হানাহ রিডলি। এছাড়াও যুক্তরাজ্য থেকে বৈঠকে অনলাইনে যোগ দেন আন্তর্জাতিক দুর্নীতি দমন কোঅর্ডিনেশন সেন্টারের ডেপুটি হেড মাইকেল পেটকভ।

দুদকের পক্ষে মহাপরিচালক মোকাম্মেল হোসেন, পরিচালক আবদুল্লাহ আল জাহিদ, গোলাম শাহরিয়ার ও মোর্শেদ আলম আলোচনায় অংশ নেন।

দুদক জানায়, বৈঠকে দুদক তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতিনিধি দলকে অবহিত করে। এ ছাড়া সংস্থাটির সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ করে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ও পাচার করা সম্পদ পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে যদি কোনো অর্থ পাচার হয়ে থাকে তা ফেরত আনার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে ব্রিটিশ প্রতিনিধি দল সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে।

গত ১ অক্টোবর দুদকের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সভা হয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই), ইউনাইটেড ন্যাশনস অফিস ফর ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম (ইউএনওডিসি), বিশ্বব্যাংক ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ধারাবাহিকভাবে দুদকের সঙ্গে পাচার করা অর্থ ফেরতসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সভা করেছে।

বৈঠকগুলোতে গুরুত্ব পেয়েছিল– দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত বিশেষ করে মানি লন্ডারিং, সাইবার ক্রাইম, আর্থিক লেনদেনের তদন্তের ক্ষেত্রে ফরেনসিক অ্যানালাইসিস, ট্রেড বেইজড মানি লন্ডারিং, অপরাধীদের জিজ্ঞাসাবাদের কৌশল, সম্পদ পুনরুদ্ধার, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত আর্থিক ক্রাইম, মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্টেন্স, তথ্য বিনিময়সহ বিভিন্ন ইস্যু।




সাবেক গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীসহ ৪ এমপির দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু

সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য জাকির হোসেনসহ চারজন সংসদ সদস্যের দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুদকের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দুদকের গোয়েন্দা ইউনিটের অনুসন্ধানে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু হওয়া অন্য সাবেক সংসদ সদস্যরা হলেন– ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসান, বগুড়া-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. নূরুল ইসলাম তালুকদার এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ। তারা সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, একাধিকবার নিজ আসনে হয়েছেন সংসদ সদস্য।

মোহাম্মদ হাবিব হাসানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনৈতিক কার্যক্রমসহ নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিজ ও স্ত্রী এবং পরিবারের নামে কোটি কোটি টাকার সম্পদের তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি। এই সংসদ সদস্যের ছেলে আবির হাসান তানিমের নামে কানাডার বেগম পাড়ায় ১৫ লাখ ৫০ হাজার কানাডিয়ান ডলারে বাড়ি কেনা ছাড়াও তার দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুদকের গোয়েন্দা ইউনিট।

অন্যদিকে নূরুল ইসলাম তালুকদার ও আব্দুল ওদুদের বিরুদ্ধে ক্ষমতা অপব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনৈতিক কার্যক্রমসহ নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পেয়েছে দুদক।

অভিযোগ আছে, নুরুল ইসলাম তালুকদার বাকাদাহ খাড়িখনন প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ কাজ সম্পন্ন না করে আত্মসাত করেছেন। রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গায় বাড়ি ফ্ল্যাট ক্রয়সহ স্ত্রী ও নিজ সন্তানদের নামে কোটি কোটি টাকার সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুদক।

দুদক সূত্র জানায়, সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে নিজ নামে রৌমারী এলাকায় ১০ শতাংশ জমিসহ দোতলা বাড়ি; রৌমারী কুড়িগ্রামে ৩.২৮ একর জমিতে মার্কেট ও চাতাল রয়েছে, বিভিন্ন ব্যাংকে ও ব্যবসায় বিনিয়োগ রয়েছে। তার নামে ৫ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধভাবে কুড়িগ্রামে ২৬টি বিদ্যালয় শিশু কল্যাণ ট্রাস্টে অন্তর্ভুক্তির জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়।

এসএম/এমআরএম/এমএস




আসাদুজ্জামান ও তার ছেলেসহ ৮ কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাব চাইল দুদক

 

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল, তার ছেলে শাফি মোদাচ্ছের খান, সাবেক পিএস অতিরিক্ত সচিব হারুন অর রশিদ বিশ্বাস, যুগ্মসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা ইব্রাহিম হোসেন, সহকারী একান্ত সচিব মনির হোসেন এবং জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপুসহ ৮ জনের ব্যাংক হিসাবের সব লেনদেনের তথ্য তলব করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গোয়েন্দা ইউনিট বিএফআইইউতে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার (২১ আগস্ট) দুদক প্রধান কার্যালয়ের অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম সই করা চিঠির সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

 

চিঠিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা লেনদেনের সব তথ্য চাওয়া হয়েছে। গত ১৫ আগস্ট দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ঢাকা পোস্টকে জানান সংস্থাটির উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই ঘুষ হিসেবে বস্তা বস্তা টাকা নিতেন। পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিস থেকে এই টাকা আদায় করা হতো। এজন্য তৎকালীন অতিরিক্ত সচিব ড. হারুন অর রশীদ বিশ্বাসের নেতৃত্বে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এই সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যরা হলেন- যুগ্মসচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস, মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মনির হোসেন, জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা ইব্রাহিম হোসেন।

 

টাকা আদায় বা উত্তোলনে মূল ভূমিকা পালন করতেন ড. হারুন অর রশীদ বিশ্বাস। হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এই কামাল-হারুন সিন্ডিকেট। একপর্যায়ে হারুন অর রশীদ অবসরে গেলেও এই মন্ত্রণালয়ের সব ঘুষ, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। ঝুঁকি এড়াতে টাকাগুলো পাঠানো হয়েছে দেশের বাইরে।

অভিযোগ রয়েছে- জেলায় পুলিশ সুপার নিয়োগে সর্বনিম্ন ৮০ লাখ থেকে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত নিতো এই চক্র। এই সিন্ডিকেটের আশীর্বাদ ছাড়া পুলিশের কেউ কোনো জেলায় বা গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন পেতেন না। জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়নের ক্ষেত্রে এক থেকে তিন কোটি টাকা নিতো এই সিন্ডিকেট। ২০২২ সালের ৩০ জুন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান ডিআইজি মোল্ল্যা নজরুল ইসলাম। পাঁচ কোটি টাকার বিনিময়ে মোল্ল্যা নজরুলকে গাজীপুরের কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়। এর মাসখানেক আগে হারুন অর রশীদ বিশ্বাসের কাছে পাঁচ কোটি টাকার একটি চেক দেন মোল্ল্যা নজরুল।

পরবর্তীতে গাজীপুরের কমিশনার হিসেবে নিয়োগের পর হোটেল ওয়েস্টিনে হারুন অর রশীদের কাছে নগদ দুই কোটি টাকা দেন তিনি। এ সময় পূর্বের চেকটি ফেরত নিয়ে মোল্ল্যা নজরুল তিন কোটি টাকার একটি চেক দেন। পরবর্তীতে বাকি টাকাও দেওয়া হয়। এসব টাকা বস্তায় ভরে পৌঁছে দেওয়া হতো আসাদুজ্জামান খান কামালের ফার্মগেটের বাসায়।

সূত্র জানায়, এনজিও’র ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ বা ‘এনওসি’ দিতে গিয়ে প্রতি সংস্থা থেকে ৮০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা দিতে হতো আসাদুজ্জামান খান কামালের দরবারে। এর মধ্যে ২০১৮ সালে রাজধানীর উত্তরা এলাকার একটি উন্নয়ন সংস্থার এনওসি নিতে গেলে বিপত্তি শুরু হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। এর আগে পুলিশের বিশেষ শাখা, জেলা প্রশাসক, এনএসআই ইতিবাচক প্রতিবেদন দাখিল করে। তারপরও অদৃশ্য কারণে ফাইলটি মাসের পর মাস আটকে রাখা হয় মন্ত্রণালয়ে। বাধ্য হয়ে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচনের আগে মন্ত্রীকে ৮৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়। ফার্মগেট এলাকায় কামালের বাসার সামনে টাকার ব্যাগটি দেওয়া হয় তার পরিবারের এক সদস্যের কাছে।

ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্সে কোনো সার্কুলার হলেই মন্ত্রীর দপ্তর থেকে একটি তালিকা পাঠানো হতো। সে মোতাবেক তাদেরকে নিয়োগ দিতে ফায়ার সার্ভিসকে বাধ্য করতেন সাবেক এই মন্ত্রী।

২০২৩ সালের ২ অক্টোবর ৫৩৫ জনকে নিয়োগ দেয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। এর মধ্যে ছিলেন ৪৩৬ জন পুরুষ ফায়ার ফাইটার, ১৫ জন নারী ফায়ার ফাইটার ও ৮৪ জন গাড়িচালক। নিয়োগ কার্যক্রমের শুরুতেই মন্ত্রীর দপ্তর থেকে ২৫০ জনের একটি তালিকা পাঠানো হয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে। সাবেক এই মন্ত্রীর নির্দেশে সেই তালিকা মোতাবেক নিয়োগ দিতে বাধ্য হয় ফায়ার সার্ভিস। নিয়োগের জন্য জনপ্রতি ৮-১২ লাখ টাকা নিতো কামাল-হারুন সিন্ডিকেট।




কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে ১৬ কোটি টাকা লুটপাট

নির্মাণ কাজ ও ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করে প্রায় ১৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় প্যাকিং হাউজের অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (১৫ জুলাই) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এনফোর্সমেন্ট টিমের অভিযানে অভিযোগের প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। সংস্থাটির উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নথিপত্র সংগ্রহ শেষে যাচাই-বাছাই করলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শ্যামপুরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় প্যাকিং হাউজ। রপ্তানির আগে কাঁচাপণ্যের মান যাচাই ও প্যাকিংয়ের সুবিধার জন্য এই ল্যাবরেটরিকে আন্তর্জাতিক মানে তৈরির উদ্যোগ নেয় সরকার। ২০২১ সালে নেওয়া এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১৫৮ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের জুন মাসে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে। নিয়মানুযায়ী প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পরই অর্থ ছাড় করার কথা থাকলেও ৩০ হাজার ৬১৭ স্কয়ার ফিটের ৬তলা ভবনের নির্মাণকাজের মাত্র পাইলিংয়ের ক্যাপের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে সিভিল ওয়ার্কের ১২ কোটি টাকার মধ্যে ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা তুলে নিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মার্ল্টিবিজ ইন্টারন্যাশনাল।

অন্যদিকে ল্যাবরেটরি আধুনিকায়নের জন্য কেন্দ্রীয় প্যাকিং হাউজের টক্সিকোলজি ল্যাবে নতুন ১৮টি মেশিন সরবরাহ করার কথা থাকলেও বাস্তবে সরবরাহ করেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কার্নেল ইন্টারন্যাশনাল। কাগজপত্রে মেশিন সরবরাহ দেখিয়ে ১১ কোটি ৮ লাখ ১০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।




ঢাকা ব্যাংকের ৭ কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দুদকের মামলা

প্রতারণা ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে এক কোটি ৭০ লাখ টাকা ঋণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকা ব্যাংকের সাত কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক মো. শাওন মিয়া বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন।

শনিবার (১৩ জুলাই) দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঢাকা ব্যাংক গোড়ান শাখার সাবেক সিনিয়র অফিসার বর্তমানে বংশাল শাখার সিনিয়র অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন, শাহজাহানপুর শাখার এভিপি মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান, ঢাকা ব্যাংকের সাবেক সেলস এক্সিকিউটিভ বর্তমানে সানসিড পেস্ট সাইডের ম্যানেজার নাজমুল আলম, ঋণ গ্রহিতা জামিল শরীফ ওরফে মো. আল আমীন, মো. মজিবর রহমান ওরফে মো. জয়নুল আবেদীন ওসামছুল আলম ওরফে রেজাউন্নবী সরকারের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এজাহারে তাদের বিরুদ্ধে গোড়ান এসএমই শাখা থেকে প্রতারণা ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে ৮৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করার কথা উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে মো. লিটন চৌধুরী ওরফে মো. ইব্রাহিম খলিল, জামিল শরীফ ওরফে মো. আল আমীন, খাইরুন নাহার ইসলাম এবং ঢাকা ব্যাংক কাকরাইল শাখার সাবেক ম্যানেজার মেহেদী জামান খান, প্রিন্সিপাল অফিসার আয়েশা সাদাফ হুসাইন, প্রিন্সিপাল অফিসার ওবায়দুল হক রনি ও অপারেশনস অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. শাকিল হোসেনের নামে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। এখানেও আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে ৮৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তারা আত্মসাৎ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।




অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পুলিশ কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

৩৯ কোটি ২৭ লাখ ৩৫ হাজার ৯৮১ টাকার সম্পদের তথ্য ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এডিশনাল আইজিপি) ড. শামসুদ্দোহা খন্দকার ও তার স্ত্রী ফেরদৌসী সুলতানার বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম। দুদকের ঊর্ধ্বতন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকের হিসাবে সন্দেহজনক উৎসের অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও অস্বাভাবিক লেনদেনের মাধ্যমে ২১ কোটি ৫ লাখ ২৫ হাজার ১৮২৯ টাকা জমা করে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় উত্তোলন করে তার অবস্থান প্রকৃতি, উৎস, অবস্থান, মালিকানা আড়াল করার চেষ্টা করেছেন।

দালিকৃত সম্পদ বিবরণীতে তিনি ৮ কোটি ৪৪ লাখ ১০ হাজার ২২১ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপনসহ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া দুদকের অনুসন্ধনে ২ কোটি ৮৭ লাখ ৩ হাজার ৭৮ টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। যে কারণে তার বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪ এর (২৬(২) ২৭(১) এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি দমন প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

অন্যদিকে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ২৮ কোটি ৪৭ লাখ ৩ হাজার ৮৯১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করা এবং ২৭ লাখ ৪৮ হাজার ৪৯১ টাকার জ্ঞাতআয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে দ্বিতীয় চার্জশিটে, যেখানে মো. শামছুদ্দোহা খন্দকারকে সহযোগী আসামি করে তার স্ত্রী ফেরদৌসী সুলতানাকে প্রথম আসামি করা হয়েছে।

শামসুদ্দোহা ২০১১ সালে প্রেষণে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান পদে বসেন। ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। ওই মামলায় স্ত্রী ফেরদৌসী সুলতানাও আসামি। ২০২১-২২ সালের পরিষদে শামসুদ্দোহা ছিলেন ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান। তার বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ছিল।




সাভারে কেন্দ্রীয় গো প্রজনন খামারে দুদকের অভিযান

ছাগলকাণ্ডে বহুল আলোচিত সাদিক অ্যাগ্রোকে অনৈতিক সুবিধা দেয়ার মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগে সাভারে কেন্দ্রীয় গো প্রজনন ও দুগ্ধ খামারে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর একটি দল ।

আজ সোমবার সংস্থাটির সহকারি পরিচালক আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অভিযান চালায় ।

চলতি বছরের শুরুতে কোন প্রক্রিয়ায় সরকারের এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১৫টি ব্রাহমা জাতের গরু সাদিক অ্যাগ্রোকে দেয়া হয়েছে, এ নিয়ে খোঁজ নেয় দুদকের টিম।

ব্রাহমা জাতের গরু দেশে নিষিদ্ধ থাকলেও ২০২১ সালে আমেরিকা থেকে ১৮টি ব্রাহমা জাতের গরু জাল কাগজপত্র তৈরি করে দেশে আনেন সাদিক অ্যাগ্রোর ইমরান।

এ সময় কাস্টমস এগুলো জব্দ করে গো প্রজনন কেন্দ্রে পাঠিয়েছে। জালিয়াতির মাধ্যমে আমদানি করা গরু তিন বছর পর আবারও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাথে কারসাজির মাধ্যমে নিলামে অংশ নিয়ে, সেসব গরু ফিরিয়ে নেয় সাদিক অ্যাগ্রো। গো প্রজনন খামারের টেন্ডার জালিয়াতিসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগও খতিয়ে দেখছে দুদক।

সম্প্রতি সাদিক অ্যাগ্রো থেকে ঈদুল আজহার আগে মতিউর রহমানের ছেলে মুশফিকুর রহমান ইফাতের ১৫ লাখ টাকায় ছাগল কেনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এর প্রেক্ষিতেই এনবিআরের এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।




অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অগ্রণী ব্যাংকের অ্যাটর্নি অ্যাসিস্ট্যান্ট ও সিবিএ নেতা খন্দকার মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (২৪ জুন) ঢাকার সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক খোকন চন্দ্র মোহন্ত। মামলায় ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অগ্রণী ব্যাংকের দাপ্তরিক কাজে বরাদ্দ দুটি জিপ গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, গাড়ির জ্বালানি তেল, মালামাল ক্রয়, মেরামত খরচ ও ড্রাইভারের ওভারটাইম বেতন বাবদ মোট ২৫ লাখ ৫৭ হাজার ৪৬৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামি সিবিএ নেতা হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অগ্রণী ব্যাংকের দাপ্তরিক কাজে বরাদ্দ করা জিপ গাড়ি নং-ঘ-১৩-৭২৫২ এবং জিপ গাড়ি নং-ঘ-১৩-৭২৫৩ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারপূর্বক জ্বালানি তেল, মালামাল ক্রয়, মেরামত খরচ ও ড্রাইভারের ওভারটাইম বেতন বাবদ মোট ২৫ লাখ ৫৭ হাজার ৪৬৩ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪০৯ ধারায় এবং ১৯৪৭ সালের ২নং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, জিপ গাড়ি দুটি অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের যানবাহন দপ্তরের আওতাধীন। ২০২১ সালের ২১ মার্চ ও ২০ সেপ্টেম্বরের লগবইয়ের ফটোকপি পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, জিপ গাড়ি দুটি কোনো নির্দিষ্ট কর্মকর্তার নামে বরাদ্দ ছিল না। পরিবহন পুলের অধীনে জরুরি দাপ্তরিক কাজে ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট ছিল। সিবিএ নেতা খন্দকার মো. নজরুল ইসলাম জিপ গাড়ি দুটি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারপূর্বক গাড়ি দুটির লগ বইয়ে বিভিন্ন তারিখে স্বাক্ষর করেছেন। তিনি ২০১৪ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত গাড়ির জ্বালানি ও মেরামত খরচ নিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি ব্যাংকটির সাড়ে ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।




সময় নিয়েও দুদকে হাজির হননি বেনজীর

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) হাজির হননি। অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে দ্বিতীয়বারের মতো আজ রোববার (২৩ জুন) সকাল ১০টায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ডাকা হয়েছিল।

বেলা ১১টা ২০ মিনিটি পর্যন্ত তিনি সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে যাননি। দুদকের তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হওয়ার ব্যাপারে তার অনুরোধে তাকে অতিরিক্ত ১৭ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল।

এর আগে গত ২৮ মে বেনজীর আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬ জুন তলব করে দুদক। একই সঙ্গে বেনজীরের স্ত্রী ও সন্তানদের ৯ জুন তলব করা হয়। দুদকের তলবে হাজির হওয়ার আগের দিন অর্থ্যাৎ ৫ জুন, আইনজীবীর মাধ্যমে দুদকের অনুসন্ধান দলের কাছে বেনজীর ১৫ দিনের সময় চান।

এরপর ৬ জুন বিকেলে দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন জানান, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে দুদক তলব করলেও শুনানিতে অনুপস্থিত থাকায় আগামী ২৩ জুন নতুন তারিখ ঘোষণা করেছে দুদক।

এদিকে গত ২০ জুন সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের জানান, ২৩ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) বেনজীর আহমেদকে হাজির হতে হবে। এ সময়ে তিনি হাজির না হলে তাকে আর সময় দেওয়া হবে না।

গত ৩১ মার্চ দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় ‘বেনজীরের ঘরে আলাদীনের চেরাগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ তার স্ত্রী জিশান মির্জা এবং দুই মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকার অভিজাত এলাকাগুলোতে বেনজীর আহমেদের দামি ফ্ল্যাট, বাড়ি আর ঢাকার পাশে বিঘার পর বিঘা জমি রয়েছে। দুই মেয়ের নামে বেস্ট হোল্ডিংস ও পাঁচতারা হোটেল লা মেরিডিয়ানের রয়েছে দুই লাখ শেয়ার। পূর্বাচলে রয়েছে ৪০ কাঠার সুবিশাল জায়গাজুড়ে ডুপ্লেক্স বাড়ি, যার আনুমানিক মূল্য কমপক্ষে ৪৫ কোটি টাকা। একই এলাকায় আছে ২২ কোটি টাকা মূল্যের আরও ১০ বিঘা জমি। অথচ গত ৩৪ বছর ৭ মাসের দীর্ঘ চাকরি জীবনে বেনজীর আহমেদের বেতন-ভাতা বাবদ মোট আয় ১ কোটি ৮৪ লাখ ৮৯ হাজার ২০০ টাকার মতো হওয়ার কথা।

এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ এপ্রিল পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের দুর্নীতির অনুসন্ধান চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

এরপর গত ২৩ ও ২৬ মে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালত বেনজীর আহমেদ এবং তার স্ত্রী জিশান মির্জা, বড় মেয়ে ফারহিন রিশতা বিনতে বেনজীর ও ছোট মেয়ে তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীরের নামে বিভিন্ন সম্পত্তির দলিল, ঢাকায় ফ্ল্যাট ও কোম্পানির শেয়ার জব্দের নির্দেশ দেন।

এছাড়া তাদের বিও হিসাব (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট) অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করতে সোমবার (২৭ মে) সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডকে (সিডিবিএল) নির্দেশ দিয়েছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।




অবৈধ সম্পদ: সহকারী কর কমিশনারের বিরুদ্ধে মামলা

৩৮ লাখ ৪১ হাজার ৫৪১ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা পশ্চিমের সহকারী কমিশনারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আসামির বিরুদ্ধে, ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারা এবং ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ মে) দুদকের সহকারী পরিচালক সোমা হোড় বাদী হয়ে সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি করেন।

বুধবার (২৯ মে) দুদক সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামি ঠাকুরগাঁওয়ে কাস্টমস এক্সসাইজ ও ভ্যাটের সহকারী কার্যালয়ে থাকাকালীন ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নামে-বেনামে ৫ শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এমন অভিযোগ অনুসন্ধান করে দুদক। আসামি মো. মনিরুল হক সরকার ১৯৯০ সালের জানুয়ারি মাসে মংলা কাস্টমস হাউজের প্রিভেন্টিভ অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। ২০২১ সালে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে কর্মরত ছিলেন। পরে একই পদে সদর দপ্তর ঢাকা পশ্চিমের কাস্টমস এক্সসাইজ অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনারেট যোগ দেন। ২০২২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন।

এজাহারে আরও বলা হয়, আসামির নিজ নামে ৫ কোটি ২৯ লাখ ৯৭ হাজার ১৬০ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। আয়কর নথি পর্যালোচনায় দেখা যায় তিনি ১৯৯৬-১৯৯৭ করবর্ষে আয়কর নথি দাখিল করেন। তবে তার ২০০৮-২০০৯ করবর্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে আয়কর নথি পাওয়া যায়। ২০০৭ সাল পযর্ন্ত ২২ লাখ ২ হাজার টাকা ১৯ বি ধারায় প্রদর্শনপূর্বক কর পরিশোধসহ নিট আয়/সঞ্চয় পাওয়া যায় ২৯ লাখ ১১ হাজার ১১ টাকা। ওই করবর্ষ থেকে ২০২২-২০২৩ পযর্ন্ত মোট আয় প্রদর্শন করেছেন ৫ কোটি ৩৮ লাখ ৪৭ হাজার ১৬৬ টাকা। যার মধ্যে ১৯ বি ধারায় প্রদর্শিত আয় ২৫ লাখ ৫০ হাজার ৫০০ টাকার কোনো উৎস তিনি প্রদর্শন করতে পারেননি। এজাহারে আরও জানানো হয়, কর ও পরিবারিক ব্যয় বাদে তার নিট আয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ২০ লাখ ২১ হাজার ৬১৯ টাকা।

তবে দুদকের অনুসন্ধানে আসামির নামে ৫ কোটি ২৯ লাখ ৯৭ হাজার ১৬০ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া যায়। পিতার কাছ থেকে দান হিসেবে প্রাপ্ত ৭১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা বাদে তার নিট সম্পদ দাঁড়ায় ৪ কোটি ৫৮ লাখ ৬৩ হাজার ১৬০ টাকা।

Jagonews24 Google News Channelজাগোনিউজের খবর পেতে ফলো করুন আমাদের গুগল নিউজ চ্যানেল।
এজাহারে বলা হয়, তার নামে অর্জিত জ্ঞাতআয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৮ লাখ ৪১ হাজার ৫৪১ টাকা। তিনি ২০২০-২০২১ করবর্ষে ১৯ এ ধারায় ২ কোটি ৬২ লাখ ৪২ হাজার ৯৫০ টাকা আয়কর নথিতে প্রদর্শন করেছেন। তবে ওই টাকার কোনো উৎস তিনি প্রদর্শন করতে পারেননি।




দফতরগুলো শুধু দুদকের ভূমিকা দেখতে চায়: দুদক চেয়ারম্যান

দফতরগুলো শুধু দুদকের ভূমিকা দেখতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, কমিশনে আমার তিন বছরে কোনো রাজনৈতিক বা বেসরকারি কারো প্রভাব বা হুমকি পাইনি। দফতরগুলো সব ছেড়ে দিয়ে রেখেছে, দেখতে চায় দুদক কী করে।

শনিবার (২৫ মে) ‘দুর্নীতি দমনে নাগরিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) এ সেমিনারের আয়োজন করে।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, অর্থ পাচার হয়ে যাওয়ার ছয় মাস পর কেন দুদকের কাছে আসে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউ ছয় মাস পর তথ্য পাঠায়। মন্দ ঋণের তো অডিট হয়। তারা তো আগেই জানতে পারেন। সবগুলো দফতরই তো দায়ী। সংশ্লিষ্ট দফতর আগেই কেন ব্যবস্থা নেয় না। যার যার কাজ সে করলেই তো দুদকের কাছে আসতে হয় না।

তিনি বলেন, সন্তান বাবাকে, স্ত্রী স্বামীকে প্রশ্ন করুক আয়ের বিষয়ে। তাহলেই দুর্নীতি অনেকাংশে কমে আসবে। সামাজিকভাবে দুর্নীতিবাজদের বয়কট করতে হবে। তাদেরকে দাওয়াত দেবেন না। তাদের দাওয়াতে যাবেন না। আমরা তাদেরকে বর্জন করতে পারি।

তিনি আরো বলেন, নাগরিক একটা অভিযোগ দিয়েই খালাস। সব প্রমাণ কর্মকর্তাকেই যোগাড় করতে হয়। জেলা, উপজেলায় দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি হয়ে গেলে এ বিশিষ্ট নাগরিকদের আর পাওয়া যায় না। তারা অনেকে শুধু গাড়িতে স্টিকার লাগিয়ে ঘুরে বেড়ান।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হুমায়ুন রশিদ, ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমিন মোরশেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন, সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামিম হায়দার পাটওয়ারী এবং এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জ ই মামুন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এইচআরপিবির প্রেসিডেন্ট সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।




ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালক-এমডিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

৮৭ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় শত কোটি টাকা পাচার ও আত্মসাতের অভিযোগে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের দুই পরিচালক রণ হক সিকদার ও রিক হক সিকদার এবং ব্যাংকের সাবেক দুই এমডিসহ সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির পরিচালক মো. বেনজীর আহম্মদ বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন।

সোমবার (১ এপ্রিল) দুদকের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

প্রথম মামলার আসামিরা হলেন- সিকদার রিয়েল এস্টেটের মালিক রিক হক সিকদার, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ সৈয়দ আব্দুল বারী ও চৌধুরী মোশতাক আহমেদ, সাবেক এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব কার্ড ডিভিশন মো. মাহফুজুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ ওয়াদুদ, সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এস এম বুলবুল।

এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ২৬ লাখ ২২ হাজার ৪৯৯ মার্কিন ডলার (২০১৭ সালের হিসাবে) আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বধি বহির্ভূতভাবে ক্রেডিট কার্ডের লিমিটের অতিরিক্ত ২৬ লাখ ২২ হাজার ৪৯৯ মার্কিন ডলার বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থপাচার করে। পাচার করা অর্থ হস্তান্তর/স্থানান্তর, রূপান্তর গোপনকরণের মাধ্যমে বৈধতা দানের চেষ্টা করেছে।

দ্বিতীয় মামলার আসামিরা হলেন ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালক রণ হক সিকদার, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ সৈয়দ আব্দুল বারী ও চৌধুরী মোশতাক আহমেদ, সাবেক এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব কার্ড ডিভিশন মো. মাহফুজুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ ওয়াদুদ ও সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এস এম বুলবুল।

এই মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে নিজেরা লাভবান হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিধি বহির্ভূতভাবে ক্রেডিট কার্ডের লিমিটের অতিরিক্ত ৬০ লাখ ৯২ হাজার ২২৫ মার্কিন ডলার বিদেশে ব্যয় করে পরে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থপাচার করে এবং পাচার করা অর্থ হস্তান্তর/স্থানান্তর, রূপান্তর ও গোপন করার চেষ্টা করেছে আসামিরা।

আসামিদের বিরুদ্ধে দুদক আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।




সিরাজগঞ্জে উত্তরা ব্যাংকে দুদকের অভিযান

কৃষি ঋণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সিরাজগঞ্জে উত্তরা ব্যাংক লিমিটেডের কাজিপুর শাখায় অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (১৮ মার্চ) সংস্থাটির পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে পরিচালিত অভিযানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদক সূত্রে জানা যায়, দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিট থেকে পাঁচটি অভিযোগের বিষয়ে একটি অভিযান ও চার দপ্তরে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

অভিযানের বিষয় বলা হয়েছে— সিরাজগঞ্জে উত্তরা ব্যাংক লিমিটেডের কাজিপুর শাখার সাবেক ব্যবস্থাপকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে কৃষকদের নামে কৃষি ঋণ পাশ করিয়ে ঋণের টাকা প্রদান না করে আত্মসাতের অভিযোগের অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনাকালে এনফোর্সমেন্ট টিম কর্তৃক অভিযোগ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয় এবং ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়।

সংগৃহীত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দুদক টিম কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে বলে জানা গেছে।




২৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অগ্রণী ব্যাংকের মৌলভীবাজার শাখার ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে মামলা

ব্যাংকের ভল্ট থেকে ২৮ লাখ ৩৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অগ্রণী ব্যাংকের মৌলভীবাজার শাখার ক্যাশিয়ার ঝন্টু লাল দাশের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

 

রোববার (৩ মার্চ) সংস্থাটির হবিগঞ্জ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শোয়ায়েব হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

তিনি জানান, মামলায় ঝন্টু লাল দাশের বিরুদ্ধে ব্যাংকের ভল্ট থেকে দায়িত্ব পালনকালে ২৮ লাখ ৩৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ব্যাংককে কর্মরত থাকা অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

 

মামলার বিবরণে বলা হয়, আসামি ঝন্টু লাল দাশ ২০২২ সালের ৩০ মে অগ্রণী ব্যাংকের মৌলভীবাজার শাখায় ক্যাশিয়ার হিসেবে যোগ দেন। একই বছরের ৭ জুন ওই শাখার প্রধান ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পান তিনি। গত ১১ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকটির দায়িত্ব পালনকালে ২৮ লাখ ৩৩ হাজার টাকা সরিয়ে ফেলেন ঝন্টু লাল দাশ। সেদিন টাকা গণনা করতে গিয়ে এই টাকা সরানোর বিষয়টি ধরা পড়ে।

 

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দুদককে জানালে তারা সরেজমিনে সেখানে যান। একই সঙ্গে ঝন্টু লাল দাশকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদক কর্মকর্তারা। কিন্তু টাকা কোথায় রেখেছেন তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এই ব্যাংক কর্মকর্তা। পরে মৌলভীবাজার শাখার কয়েকজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানা যায়, ঝন্টু লাল দাশ উচ্চ সুদে বেশ কয়েকটি ঋণ নেন। সেসব টাকা নিজের ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করেন। কিন্তু লোকসান হওয়ায় টাকাগুলো ফেরত দিতে পারেননি। অন্যদিকে ঋণের টাকা পেতে পাওনাদাররা চাপ দিতে থাকেন। পরে নিজ কর্মস্থলের ভল্ট থেকে ২৮ লাখ ৩৩ হাজার টাকা সরান ঝন্টু লাল দাশ।

 

যে কারণে তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ / ৪২০ / ৪৬৭ / ৪৬৮ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় মামলা দায়ের করে দুদক।




পি কে হালদারের সহযোগীর ২৩ কোটি টাকার শেয়ার ফ্রিজ

আর্থিক কেলেঙ্কারির আলোচিত হোতা প্রশান্ত কুমার হালদারের (পি কে হালদার) সহযোগী এবং এফএএস ফাইন্যান্স  অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের সাবেক চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিকুর রহমানের ২৩ কোটি টাকার শেয়ার ফ্রিজ করা হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত থেকে ওই অস্থাবর সম্পত্তি ফ্রিজ করা হয়েছে। বুধবার (১৫ নভেম্বর) দুদকের ঊর্ধ্বতন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ফ্রিজকৃত সম্পদের মধ্যে রয়েছে— সিদ্দিকুর রহমানের নামে সিমটেক্স ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেডের ১০ টাকা মূল্যের মোট ১৬ কোটি ৭২ লাখ ৮৭ হাজার ৩৯০ টাকার ১ কোটি ৬৭ লাখ ২৮ হাজার ৭৩৯টি শেয়ার, তার আত্মীয় মাহফুজা রহমানের নামে ২ কোটি ৩৮ লাখ ৭১ হাজার ৫৫০ টাকা, নিয়ার রহমান সাকিবের নামে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৩ হাজার ৬০০ টাকা, ইসতিয়াক রহমান ইমরানের নামে ১ কোটি ৪৯ লাখ ৬১ হাজার ৪৩০ টাকা এবং অপর আত্মীয় মো. ইনসাফ আলী শেখের নামে ১ কোটি ৪১ লাখ ৯৩ হাজার ৩০০ টাকার শেয়ার। সব মিলিয়ে ২৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকার শেয়ার ফ্রিজ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, পি কে হালদার চক্র কিংবা এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দুদক দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছে। অনুসন্ধান কিংবা তদন্ত যে পর্যায়েই হোক দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা যদি মনে করে কারও সম্পদ ফ্রিজ বা ক্রোক করা দরকার, তাহলে আদালতের অনুমতি নিয়ে তা করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি পি কে হালদার চক্রের একজনের কোম্পানির শেয়ারের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের কাছে ফ্রিজ করার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

দুদকের আবেদন সূত্রে জানা যায়, দুদকের মামলার আসামি মো. সিদ্দিকুর রহমান বিদেশে পলাতক থাকায় অবৈধ পন্থায় অর্জিত অস্থাবর সম্পদ তার আত্মীয় স্বজনকে দিয়ে তার নিয়ন্ত্রণাধীন বিএসইসির লিস্টেড প্রতিষ্ঠান সিমটেক্স ইন্ড্রাস্ট্রিজ লি. এর শেয়ার বিক্রি করে বিদেশে অর্থ পাচারসহ অর্থ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর, বন্ধক বা বেহাত করার প্রচেষ্ট করছেন মর্মে তদন্তকারী কর্মকর্তা বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছেন। বর্ণিত অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত হয়ে গেলে আইনের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। যেহেতু আসামির নামে অনুসন্ধান শেষে মামলা রুজু করা হয়েছে সেহেতু নিম্নবর্ণিত অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধকরণ করার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা আবেদন করেন।

২০২২ সালের ১৯ মে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক এমডি ও পলাতক আসামি প্রশান্ত কুমার হালদারসহ (পি কে হালদার) ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল দুদক। মামলায় কাগুজে প্রতিষ্ঠান দিয়া শিপিং লিমিটেডের নামে এফএএস(ফাস) ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড থেকে ৪৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। এ সংস্থাটির সহকারী পরিচালক রাকিবুল হায়াত বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

আসামিরা হলেন— এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক এমডি ও পলাতক আসামি প্রশান্ত কুমার হালদার, এন্ড বি ট্রেডিংয়ের মালিক সুব্রত দাস ও শ্রভ্রা রাণী ঘোষ, এফএএস ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেষ্টমেন্টের চেয়ারম্যান এম.এ হাফিজ, সাবেক চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিকুর রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম, পরিচালক অরুণ কুমার কুণ্ডু, অঞ্জন কুমার রায়, মো. মোস্তাইন বিল্লাহ, উজ্জ্বল কুমার নন্দী, সত্য গোপাল পোদ্দার এবং এফএএস ফাইন্যান্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেল শাহরিয়ার।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার পূর্বক প্রতারণার মাধ্যমে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করে ভুয়া ও কাগুজে প্রতিষ্ঠান এন্ড বি ট্রেডিং এর নামে জাল রেকর্ডপত্রাদি প্রস্তুত করে তা সঠিক হিসাবে ব্যবহার করে উক্ত অস্তিত্ববিহীন প্রতিষ্ঠানের মালিককে ঋণ পেতে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেন ও সংশ্লিষ্ট ঋণের বেনিফিসিয়ারী কর্তৃক এফএএস ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট থেকে ৪৪ কোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে উক্ত অর্থ বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যক্তির হিসাবে স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে গোপনে পাচার করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৪০৯, ৪২০, ৪৬৮, ৪৭১, ১০৯ ও ১৯৪৭ সনের দুদক আইনের ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪ (২) ও (৩) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আলোচিত পি কে হালদার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত মোট ৪৩টি মামলা দায়ের করেছে দুদক। এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের অর্থ আত্মসাতে ২২টি মামলা ও এফএএস লিজিংয়ের অর্থ আত্মসাতে ১৩ মামলা হয়েছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সম্পদের মামলা রয়েছে। যার মধ্যে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারকে ২২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

২০২২ সালের ১৪ মে ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার অশোক নগরের একটি বাড়ি থেকে পি কে হালদার ও তার পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।




অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আইআইএফডিসির ভাইস প্রেসিডেন্টসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ভুয়া কাগজে তিনটি প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ মঞ্জুর করে এক কোটি ৭৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড ইনফ্র‍্যাক্টচার ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেডের (আইআইডিএফসি) ভাইস প্রেসিডেন্টসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (৫ নভেম্বর) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক মো. নাজমুল হুসাইন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আসামিরা হলেন— আইআইডিএফসির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট রাসেল শাহরিয়ার, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান খান, সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. রেফায়েত উল্ল্যাহ, সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মো. সাইদুর রহমান, সাবেক সিনিয়র অফিসার মো. আব্দুর রহিম ও প্রোপেল প্রিন্টার্সের স্বত্বাধিকারী মো. মনিরুজ্জামান ঢালী।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ভুয়া কাগজে প্রোপেল প্রিন্টার্স, রহমানিয়া পেপার হাউজ ও রহমানিয়া পেপার হাউজের নামে মিথ্যা রেকর্ডপত্র প্রস্তুত করেন আসামিরা। নামসর্বস্ব তিনটি কাগজে প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে এক কোটি ৭৮ লাখ টাকা মঞ্জুর করে ঋণের টাকা আত্মসাৎ করেন আসামিরা।

আসামি মো. মনিরুজ্জামান ঢালী ভুয়া কাগজে প্রতিষ্ঠানের নামে মিথ্যা কাগজপত্র প্রস্তুত করে ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে এক কোটি টাকা ঋণ প্রাপ্তির জন্য আইআইএফডিসি বরাবর আবেদন করে। ওই বছরের ডিসেম্বরে আসামি মো. রাসেল শাহরিয়ার প্রোপেল প্রিন্টার্সের অনুকূলে ভুয়া ঋণ প্রস্তাব তৈরি করেন। প্রস্তাবে প্রোপেল প্রিন্টার্সের অফিস আরেক আসামি রেফায়েত উল্ল্যাহ পরিদর্শন করেছেন মর্মে উল্লেখ করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, আসামি মো. রাসেল শাহরিয়ারের ঋণ প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির ৬০তম এসএমই ক্রেডিট কমিটির সভায় প্রোপেল প্রিন্টার্সের অনুকূলে বারো মাস মেয়াদি এক কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে ওই বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে দুইটি চেকের মাধ্যমে এক কোটি টাকা গ্রহণ করেন।

এরপর ঋণ গ্রহীতা ওই অর্থ আত্মসাৎ করেন। ওই ঋণের মেয়াদ ছিল বারো মাস। সে অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ঋণ পরিশোধ করার কথা থাকলেও আসামি এখন পর্যন্ত কোনো ঋণের অর্থ পরিশোধ করেননি। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সনের ২ নম্বর দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।




অপরাধ করিনি, শঙ্কিত কেন হবো:  ড. ইউনূস

অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে করা মামলায় দুদকের তলবে হাজির হয়েছেন নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে বের হন তিনি। এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, কোনো অপরাধ করিনি, শঙ্কিত হবো কেন। দুদক আমাকে ডেকেছে তাই এসেছি।

এর আগে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে আইনজীবী এবং গ্রামীণ টেলিকমের দুই কর্মকর্তাসহ দুদক কার্যালয়ে উপস্থিত হন ড. ইউনূস। কার্যালয় থেকে বের হওয়ার তাকে কী কী বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে সেই বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চান। প্রথমে তিনি কথা বলতে রাজি হচ্ছিলেন না। পরে সাংবাদিকদের অনুরোধে ড. ইউনূস বলেন, আমাকে ডেকেছে তাই এসেছি। এটা যেহেতু আইনের বিষয়, এ ব্যাপারে যা বলার তা আইনজীবী বলে দিয়েছেন। আমার কোনো মন্তব্য নেই।

তিনি আরও বলেন, অপরাধ করিনি। তাই শঙ্কিত হওয়ার কারণও নেই। শঙ্কিত হবো কেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এ ব্যাপারে তার বেশি কিছু বলার নেই।

গত ৩০ মে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৩ জনকে আসামি করে মামলাটি করে দুদক। মামলায় ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়। মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার।

পরবর্তীতে উপযুক্ত বিষয়ে বক্তব্য দেয়ার জন্য ড. ইউনূসকে তলব করে দুদক। আজ ৫ অক্টোবর তাকে সশরীরে দুদকে হাজির হতে বলা হয়।

২৭ সেপ্টেম্বর ড. ইউনূসকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। গ্রামীণ টেলিকম কোম্পানির পরিচালনা পর্যদসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাত ও মানিলন্ডারিং মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আপনার বক্তব্য শ্রবণ ও গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে বক্তব্য প্রদানের জন্য ৫ অক্টোবর সাড়ে ১২টায় দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কাজে সহযোগিতা করার জন্য আপনাকে অনুরোধ জানানো হলো।

মঙ্গলবার ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ৪ অক্টোবর ও ৫ অক্টোবর ড. ইউনূসসহ গ্রামীণ টেলিকমের ৭ জনকে তলব করা হয়েছিল। এই তালিকায় রয়েছেন- গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজমুল ইসলাম, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফুল হাসান, পরিচালক পারভীন মাহমুদ, নাজনীন সুলতানা, মো. শাহজাহান, নূরজাহান বেগম ও এস. এম হাজ্জাতুল ইসলাম লতিফী।




ড. ইউনূস দুদকে যাচ্ছেন আগামীকাল

গ্রামীণ টেলিকমের কল্যাণ তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এজন্য আগামীকাল বেলা সাড়ে ১২টায় ড. ইউনূসকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।

ড. ইউনূস আগামীকাল যথাসময়ে দুদকে হাজির হবেন বলে তার আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন।

গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে গত ৩০ মে দুদক মামলা করে। এই মামলার অভিযোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ড. ইনূসকে দুদক কার্যালয়ে ডাকা হয়েছে।

মামলার ১৩ জন আসামির মধ্যে বুধবার ৩ জনকে দুদক কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা হলেন গ্রামীণ টেলিকমের পরিচালক নাজনীন সুলতানা, নূরজাহান বেগম ও এস এম হাজ্জাতুল ইসলাম লতিফী। দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

এ ছাড়াও গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজমুল ইসলাম, পরিচালক ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফুল হাসান, পরিচালক পারভীন মাহমুদ ও মো. শাহজাহানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে দুদক।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের বাইরে আরও যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে তারা হলেন- অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলী, অ্যাডভোকেট জাফরুল হাসান শরীফ, গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ হাসান ও গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের প্রতিনিধি মো. মাইনুল ইসলাম।




চট্টগ্রামে ‘চাঁদাবাজি’ করতে গিয়ে দুদক কর্মকর্তা আটক

চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে কামরুল হুদা নামে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক কর্মকর্তা পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন।

শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পাঁচলাইশ এলাকার বিমল ধর নামে এক স্বর্ণকারের কাছ থেকে মামলার ফাঁদে ফেলার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে ধরা পড়েন। নগরীর হাজারি গলিতে বিমল ধরের সোনার ব্যবসা আছে।

আটক কামরুল হুদা দুদকের সহকারী উপ-পরিদর্শক পদে কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ে পদায়িত আছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সন্তোষ কুমার চাকমা। আটক কামরুল হুদার বাসা চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া এলাকায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক চট্টগ্রাম কার্যালয়ের দায়িত্বশীল কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, কামরুল হুদা নামে দুদকের ওই এএসআই পাঁচলাইশ থানায় আটকের খবরে দুদক চট্টগ্রামের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পাঁচলাইশ থানায় যান। গভীর রাত পর্যন্ত তারা থানায় ছিলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুদকের এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন, কামরুল হুদা দুদকের এএসআই। এর আগেও রাঙ্গামাটিতে পদায়িত থাকার সময়ে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে হাতেনাতে জনতার হাতে আটক হয়ে গণপিটুনির শিকার হয়েছিলেন।




এস কে সুরের ব্যাংক হিসাব তলব

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী (এস কে সুর) চৌধুরীর সব ধরনের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার স্ত্রী সুপর্ণা রায় চৌধুরী ও মেয়ে নন্দীতা সুর চৌধুরীর হিসাবের তথ্যও চাওয়া হয়েছে। অনিয়ম-দুর্নীতির ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ তদন্তের প্রয়োজনে এসব হিসাবের তথ্য চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) তাদের সব ধরনের হিসাবের তথ্য চেয়ে ব্যাংকগুলোতে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)। আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব ধরনের তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী (এস কে সুর) ও তার স্ত্রী সুপর্ণা চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে, এস কে সুর চৌধুরী ও তার স্ত্রী সুপর্ণা রায় চৌধুরী এবং মেয়ে নন্দীতা সুর চৌধুরীর নামে কোন শাখায় কোন ধরনের ব্যাংক হিসাব, ঋণ হিসাব, এফডিআর বা সঞ্চয়পত্র থাকলে তা জানাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে হিসাব খোলার ফরম, দাখিলের রেকর্ডপত্র, কেওয়াইসি, নমিনী, টিপি, সিগনেচার কার্ড এবং হিসাব বিবরণীসহ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র পাঠাতে বলা হয়েছে।

ব্যাংকগুলোকে দেওয়া দুদকের চিঠিতে এস কে সুর চৌধুরীর পিতা হরিপদ সুর চৌধুরী ও মাতার নাম দেওয়া আছে নিরুপমা সুর চৌধুরী। বর্তমান ঠিকানা দেওয়া আছে দুটি। একটি ২/৬০২, ইস্টার্ণ উলানিয়া, ২ সেগুনবাগিচা, ঢাকা এবং অপরটি ৩০/২ পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা ১২১৯। স্থায়ী ঠিকানা- গ্রাম ও পোস্ট- দয়ারামপুর উপজেলা- লালপুর, জেলা- নাটোর। এ ছাড়া, চিঠিতে সুর চৌধুরীর জাতীয় প‌রিচয়প‌ত্র ও কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) উল্লেখ করা হ‌য়ে‌ছে। তার স্ত্রী ও মেয়েরও একই ঠিকানা দেওয়া আছে।

এস কে সুর চৌধুরী ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে অবসরে যাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি অবসরে রয়েছেন।

ডেপুটি গভর্নর থাকাকালে আলোচিত পি কে হালদারের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সুর চৌধুরী সহযোগী করে ও সুবিধা নিয়েছেন। এ ছাড়া, তিনি অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে ও সরকারের রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে আলাদা অনুসন্ধান ও তদন্ত করছেন দুদকের উপ-পরিচালক নাজমুল হুসাইনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল।

এর আগে, বিভিন্ন সময় অনিয়মের অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য সুর চৌধুরী ও তার স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তলব করেছিল দুদক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কর ফাঁকির দায়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধেরও (ফ্রিজ) নির্দেশনা দেয় এনবিআর।




অবৈধ সম্পদ মামলায় রিজেন্টের সাহেদের ৩ বছরের কারাদণ্ড

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমকে ৩ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

এর পাশাপাশি তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে এই টাকা কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার সকালে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭ এর বিচারক প্রদীপ কুমার রায় এ রায় ঘোষণা করেন।

এদিন রায় ঘোষণার আগে সাহেদকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, আসামি সাহেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬ (২) ধারার অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ৩ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হলো।

একই আইনের ২৭ (১) ধারা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

এর আগে দুদক ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ১০ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭ এর বিচারক প্রদীপ কুমার রায় সোমবার রায় ঘোষণার তারিখ ঠিক করেন।

অবৈধভাবে এক কোটি ৬৯ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২১ সালের ১ মার্চ সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ মামলায় গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি দুদক আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। এরপর গত বছরের ১৭ জুলাই সাহেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। এই মামলায় ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।

এর আগে ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সাহেদকে অস্ত্র আইনে মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।

প্রসঙ্গত, রিজেন্ট হাসপাতালে করোনার নমুনা পরীক্ষায় জালিয়াতির মামলায় ২০২০ সালের ১৫ জুলাই সাহেদকে অবৈধ অস্ত্রসহ সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।




এনআরবি ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতিতে  ৯ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা অনুমোদন

অস্তিত্ববিহীন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির নামে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ঋণের নামে প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক লিমিটেডের ধানমন্ডি শাখার ম্যানেজার ও এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের সাবেক এমডিসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে মামলা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই সংস্থাটির উপ-সহকারী পরিচালক শামীম খন্দকার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করবেন। দুদক পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন- এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক লিমিটেডের ধানমন্ডি শাখার সাবেক ভিপি অ্যান্ড ম্যানেজার মো. নিজাম উদ্দীন, এসপিও অ্যান্ড জেনারেল ব্যাংকিং ইনচার্জ মহিন উদ্দিন, ট্রেইনি অ্যাসিট্যান্ট অফিসার নুর করিম ও তেজগাঁয়ের বাসিন্দা মোক্তার হোসেন পাটোয়ারী।

এছাড়াও আসামি হচ্ছেন এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের সাবেক এমডি মো. রাসেল শাহরিয়া, হেড অব এসএমই ফিন্যান্স মো. আজিমুল হক, সাবেক ভিপি এবং সিএফও মো. মনিরুজ্জামান আকন, সাবেক সিনিয়র অফিসার মো. ফয়সাল আলম, সাবেক অফিসার মো. আউয়াল হোসেন।

অনুসন্ধান প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণামূলকভাবে অস্তিত্ববিহীন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির নাম ঠিকানা ব্যবহার করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ৪৫ লাখ টাকার ঋণ মঞ্জুর করে আত্মসাৎ করেছে। যা বর্তমানে সুদ-আসলসহ মোট ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা দাঁড়িয়েছে। অনুমোদিত মামলায় পুরো টাকাই আত্মসাৎ হিসাবে দেখিয়ে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৫৭১/১০৯ ধারা ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।