বাংলাদেশকে ৯.৬৫ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেবে দ. কোরিয়া

বাংলাদেশ ও কোরিয়া সরকার ‘প্ল্যাটফর্মভিত্তিক পরিসংখ্যান পরিষেবা সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্পে ৯.৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদানের জন্য রেকর্ড অব ডিসকাশন (আরওডি) এবং টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর) স্বাক্ষর করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি উন্নয়ন সংস্থা- কেওআইসিএ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ৯.৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১০৬.৬৩ কোটি টাকা) অনুদান দেবে।

রোববার (১০ ডিসেম্বর) চুক্তি স্বাক্ষরকালে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং-সিক উপস্থিত ছিলেন।

ইআরডি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ড. শাহনাজ আরেফিন, সচিব পরিসংখ্যান ও তথ্যবিজ্ঞান বিভাগ এবং মো. আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত সচিব (এশিয়া, জেইসি ও এফএন্ডএফ) ইআরডি, কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের পক্ষে কেওআইসিএ’র কান্ট্রি ডিরেক্টর তাইয়ং কিম আরওডি ও টিওআর স্বাক্ষর করেন।

১৯৯৩ সাল থেকে কেওআইসিএ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং তথ্য প্রযুক্তির প্রসারের মতো উদ্যোগকে সহায়তার মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রকল্পটির প্রাথমিক লক্ষ্য হচ্ছে- জাতীয় পরিসংখ্যান ডাটা ওয়্যারহাউজ’র (এনএসডিডব্লিউএইচ) জন্য পরিসংখ্যানগত পরিষেবা বৃদ্ধির প্রয়োজনে একটি সমন্বিত পরিসংখ্যান ডাটা ওয়্যারহাউজ ও সফটওয়্যার টুলস স্থাপন এবং সরঞ্জাম সিস্টেম পরিবেশকে সহায়তা করা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও এর অংশীদারদের সক্ষমতা জোরদার করার পাশাপাশি এনএসডিএস ও ডিজাইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য পরিসংখ্যানগত ডাটা ওয়্যারহাউজ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করাও প্রকল্পটির লক্ষ্য।

প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে, শুমারি ও জরিপ ডাটার জন্য একটি সমন্বিত কেন্দ্রীয় স্টোরেজ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং জাতীয় পরিসংখ্যানগত সক্ষমতা বাড়ানোর পথে সমস্ত প্রতিবন্দকতা দূর করে জাতীয় পরিসংখ্যান ডাটার জন্য বিবিএসকে একটি এক জাতি প্ল্যাটফর্মে উন্নীত করবে।




রোহিঙ্গাদের জন্য ১ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে দ. কোরিয়া

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য এক মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার এ অনুদানকে স্বাগত জানিয়ে ইউএনএইচসিআর বলছে, গুরুত্বপূর্ণ এ আর্থিক সাহায্য বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিতে ইউএনএইচসিআরের কাজকে জোরদার করবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউএনএইচসিআরের সহকারী প্রতিনিধি (ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ) সু-জিন রি বলেন, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার থেকে শরণার্থীদের সর্বশেষ ঢলের পর ছয় বছর পার হয়েছে। আর বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকট এখন একটি প্রলম্বিত পরিস্থিতিতে রূপ নিয়েছে, যেখানে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী তাদের দৈনিক প্রয়োজন মেটাতে এখনও মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

তিনি বলেন, কোরিয়া সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে পাওয়া এই অনুদানের মাধ্যমে ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মর্যাদা ও কল্যাণে কাজ করতে পারবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ক্রমহ্রাসমান আর্থিক সহায়তার এই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার এই অবদান সত্যিই অমূল্য।

বাংলাদেশে নিযুক্ত কোরিয়া রাষ্ট্রদূত পাক ইয়ং-শিক বলেন, ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে কোরিয়া বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয় প্রদানকারী স্থানীয় জনগণের জন্য প্রতি বছর তিন থেকে পাঁচ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়েছে।




দেশে বিনিয়োগ আকর্ষণে চালু হলো ভার্চুয়াল ডেস্ক

আধুনিক প্রযুক্তিতে অগ্রগামী বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আইটি কোম্পানিগুলোর মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে ‘বাংলাদেশ আইটি কানেক্ট পোর্টাল–দক্ষিণ কোরিয়া’ শীর্ষক ভার্চুয়াল ডেস্ক চালু করেছে সরকার।

বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ডিজিটাল মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে এই ভার্চুয়াল ডেস্কের উদ্বোধন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫১ বছরে অর্থনীতিসহ নানা ক্ষেত্রে পারস্পারিক সহযোগিতা বাংলাদেশ ও কোরিয়ার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের আকার ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করে, যা পূর্ববর্তী বছরের চেয়ে ৩৮ দশমিক ৭১ শতাংশ বেশি। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশ রপ্তানি করে ৬৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ২২ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।

২০৪১ সালে দেশের জনগণকে স্মার্ট জাতি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য অর্জনে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগে (এফডিআই) বিশ্বে দক্ষিণ কোরিয়া অবস্থান পঞ্চম ও আগামীতে আইটি খাতে তাদের বিনিয়োগ স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য সহায়ক হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমে সরকার ইতোমধ্যে আইটি খাতে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। তিনি বাংলাদেশের হাই-টেক পার্কে ও আইটি খাতে কোরিয়ার কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই সময়ে মানুষকে কারিগরি ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলার কোনো বিকল্প নেই। কোরিয়া ও বাংলাদেশের যৌথভাবে দীর্ঘ মেয়াদে স্কিল ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচি গ্রহণের ব্যাপারে প্রস্তাব করছি। এ ব্যাপারে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের কেওটিআরএ ও দেশটিতে বাংলাদেশ দূতাবাসকে উদ্যোগী ভূমিকা পালন করবে বলেও আশা প্রকাশ করছি।

দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলোতে বাংলাদেশের মেধাবী তরুণদের নিয়োগদানের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, বৈশ্বিক কোম্পানিগুলোতে বাংলাদেশিরা সুনামের সঙ্গে কাজ করছে। দক্ষিণ কোরিয়া প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণদের তাদের এ দেশে পরিচালিত কোম্পানি অথবা দেশে সরাসরি নিয়োগ দিতে পার।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আইসিটি বিভাগের সচিব মো. সামসুল আরেফিন, দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম দেলওয়ার হোসেন, কোরিয়া ট্রেড-ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন এজেন্সির (কেওটিআরএ) মহাপরিচালক জং ওন কিম, স্টার্টআপ বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামি আহমেদ, ইডিজিই প্রকল্প পরিচালক ড. মুহাম্মদ মেহেদী হাসান, বেসিস সভাপতি রাসেল টি আহমেদ ও উল্কাসেমির চীফ অপারেটিং অফিসার মিজান রহমান।

উল্লেখ্য, আইসিটি বিভাগের অধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) এনহান্সিং ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যান্ড ইকোনমি (ইডিজিই) প্রকল্প ও দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশ দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে স্থাপিত ভার্চুয়াল ডেস্কটি হবে মূলত বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিজনেস টু বিজনেস (বিটুবি) আইটি কানেক্টিভিটি হাব। যা দু’দেশের আইটি কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসায়িক সংযোগ, সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা ও দক্ষিণ কোরিয়ার বাজার থেকে বিনিয়োগ আনায় ভূমিকা পালন করবে।

‘বাংলাদেশ আইটি কানেক্ট পোর্টাল- দক্ষিণ কোরিয়া’ প্লাটফর্ম চালুর মধ্য দিয়ে সরকার এ পর্যন্ত চার দেশে অনুরূপ চারটি প্লাটফর্ম তৈরি করল। বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান ও দুই দেশের আইটি কোম্পানির মধ্যে সংযোগ স্থাপনে এ প্লাটফর্ম অনুঘটকের ভূমিকা পালন করবে। প্লাটফর্মটিতে বাংলাদেশের ৮০টিরও বেশি কোম্পানির প্রোফাইল রয়েছে। দেশে কোরিয়ান বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রযুক্তি ও বিপিও ব্যবসার সম্প্রসারণের অভূতপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি হবে। যা দেশের ডিজিটাল তথা স্মার্ট অর্থনীতির বিকাশের পথ সুগম করবে।