জাপানি ক্রেতা-বিনিয়োগকারীদের জন্য ওয়ান-স্টপ প্ল্যাটফর্ম চালু বিজিএমইএ’র

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের জাপানের বাজারে রপ্তানি বাড়ানো এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) উদ্যোগে ‘বিজিএমইএ জাপান ডেস্ক’ চালু করা হয়েছে।

‘সংযোগ, সহযোগিতা ও সমৃদ্ধি’-এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে চালু করা জাপান ডেস্ক মূলত জাপানি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ওয়ান-স্টপ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নূরুল কাদির মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে ডেস্কটির উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। এ সময় ঢাকায় জাপান দূতাবাস, জেট্রো ঢাকা অফিস, ঢাকা শো-কু-কাই, টয়োটা সুশো, টেইজিন ফ্রন্টিয়ার, মারুবেনি, ইতোচু করপোরেশন এবং জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (জেবিসিসিআই) শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান (বাবলু), সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহসভাপতি বিদিয়া অমৃত খান, সহসভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, সহসভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরীসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ-জাপান অংশীদারত্ব নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়। বিজিএমইএর সামগ্রিক কার্যক্রমের ওপর আরেকটি উপস্থাপনা দেন সংগঠনের মহাসচিব মেজর জেনারেল (অব.) ড. মো. সাহেদুল ইসলাম।

স্বাগত বক্তব্যে বিজিএমইএর সহসভাপতি (অর্থ) এবং জাপান মার্কেট স্ট্র্যাটেজি ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তা, বিশেষ করে বিপণন ও মার্চেন্ডাইজিং কর্মকর্তাদের জাপান ভ্রমণের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য জাপানের রাষ্ট্রদূতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বিজিএমইএতে জাপান ডেস্কের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন বিজিএমইএর জাপান কমিটির উপদেষ্টা ও ফুরুশিমা (বিডি) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সারওয়ার হাবিব এবং বিজিএমইএর পরিচালক ও জাপান মার্কেট স্ট্র্যাটেজি ডেভেলপমেন্ট কমিটির কোঅর্ডিনেটিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ সোহেল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি জাপান ডেস্ক চালুর জন্য বিজিএমইএ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন এই ডেস্ক বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করবে। টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, কোনো একটি নির্দিষ্ট খাত বা প্রচলিত কয়েকটি বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল থাকা সমীচীন নয়। এ কারণে বিজিএমইএ পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তার মতে, জাপানের বাজার বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য সম্ভাবনাময়। সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতেই জাপান ডেস্ক চালু করা হয়েছে।

মাহমুদ হাসান খান আরও বলেন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে কম সময়ে পণ্য সরবরাহ বা ‘লিড টাইম’ নিশ্চিত করা বর্তমানে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

অনুষ্ঠানে জাপানের ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের অগ্রগতি, কর্মপরিবেশের উন্নয়ন ও কমপ্লায়েন্স মানের প্রশংসা করেন।

তারা বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের আস্থার সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও জোরদার করার সুযোগ রয়েছে।

অনুষ্ঠানে জেট্রো ঢাকা অফিসের ওভারসিজ বিজনেস অ্যাডভাইজার দাইসুকে আরায়, ঢাকা শো-কু-কাইয়ের সভাপতি ও টয়োটা সুশো করপোরেশনের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ইউজি ওয়াগাটা, টেইজিন ফ্রন্টিয়ার কো. লিমিটেডের ঢাকা লিয়াজোঁ অফিসের জেনারেল ম্যানেজার তাকামাসা ইয়ামামোতো, মারুবেনি করপোরেশনের বাংলাদেশ কান্ট্রি হেড ও জেনারেল ম্যানেজার সুগাওয়ারা মানাবু, ইতোচু করপোরেশনের ঢাকা লিয়াজোঁ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ও জেনারেল ম্যানেজার হিরোয়াকি ওউরা এবং জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া (জুন) উপস্থিত ছিলেন।

বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান তার বক্তব্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের রূপান্তর, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও কমপ্লায়েন্সের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে জাপানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানে একটি ইন্টারেক্টিভ প্রশ্নোত্তর পর্বও অনুষ্ঠিত হয়। এতে পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তা ও অতিথিরা জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা, ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেন। পরে দ্বিপক্ষীয় নেটওয়ার্কিংয়ের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, জাপানের বাজারে পোশাক রপ্তানি সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে প্রায় এক বছর আগে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের উদ্যোগে ‘জাপান মার্কেট স্ট্র্যাটেজি ডেভেলপমেন্ট কমিটি’ গঠন করা হয়। কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন বিজিএমইএর সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান এবং কোঅর্ডিনেটিং ডিরেক্টর হিসেবে আছেন পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল। সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় জাপান ডেস্ক চালু করা হলো।

বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন এই ডেস্কের মাধ্যমে জাপানি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশি পোশাক উদ্যোক্তাদের যোগাযোগ সহজ হবে। পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি আকারের অর্ডার ব্যবস্থাপনা, জাপানি বিনিয়োগে সহায়তা এবং দুই দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ডেস্কটি ভূমিকা রাখবে।




আমদানি নয়, দেশেই রাসায়নিক কারখানা তৈরি করতে চান ব্যবসায়ীরা

খাদ্য, চাষাবাদ, তৈরি পোশাকসহ প্রায় সবক্ষেত্রে রাসায়নিকের ব্যবহার হয়। বিশাল সম্ভাবনাময় এ খাতের বড় একটি বাজার বাংলাদেশ। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই রাসায়নিক কারখানা প্রতিষ্ঠা ও এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকারের সহায়তা চান এই খাতের ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি সহজীকরণ ও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে বরাদ্দকৃত জমির দ্রুত হস্তান্তর চান তারা।

শনিবার (১৮ মে) এফবিসিসিআইয়ের মতিঝিল কার্যালয়ে আয়োজিত রাসায়নিক ও পারফিউমারি বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় এসব কথা বলেন ব্যবসায়ীরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন, রাসায়নিকের ব্যবহার এখন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক শিল্পকারখানা আছে যেগুলো রাসায়নিক ছাড়া চলে না। কিন্তু এর ব্যবহার পরিকল্পিত ও সুরক্ষিত হতে হবে। ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই ট্রেড লাইসেন্স দরকার। ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া প্রতিষ্ঠান ও কারখানা কমপ্লায়েন্সের বাইরে চলে যাবে। ব্যবসায়ীদের রাসায়নিকের গুদাম ও কারখানার জন্য প্রয়োজনীয় জমি বিতরণ ও ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তিতে সরকারের সহযোগিতা চাই।

বিশাল সম্ভাবনাময় এ শিল্পের সমস্যা সমাধানে সরকারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এফবিসিসিআই আলোচনা করবে বলেও জানান মাহবুবুল আলম।

এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী বলেন, সরকার ও বেসরকারি খাত এক সঙ্গে কাজ করে এগিয়ে নিচ্ছে দেশকে। বাংলাদেশ ন্যাশনাল অথরিটি ফর কেমিক্যাল ওয়েপনস কনভেনশন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। এই প্ল্যাটফর্মটির সঙ্গে ব্যবসায়ীরা সমন্বয় করে কাজ করতে পারলে দেশে রাসায়নিক শিল্প অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

কমিটির ডিরেক্টর ইন-চার্জ নিয়াজ আলী চিশতী বলেন, খাদ্য, চাষাবাদ, পোশাক শিল্পসহ প্রায় সবখানে রাসায়নিকের ব্যবহার রয়েছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ এ উপাদানের প্রায় পুরোটাই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। দেশেই এর কারখানা তৈরি করা গেলে আমদানি কমানোর পাশাপাশি রপ্তানিরও সুযোগ তৈরি হবে। তবে দুর্ঘটনা রোধে এটি ব্যবহারের পর রাসায়নিকের সঠিক নিয়ন্ত্রণ ও রি-সাইক্লিং নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ অ্যাসিড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ পলাশ। তিনি বলেন, রাসায়নিক বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে পেছন থেকে অবদান রাখছে। আমদানি কমিয়ে রপ্তানি বাড়াতে নতুন প্রজন্মকে দেশে রাসায়নিক এর কারখানা প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল অথরিটি ফর কেমিক্যাল ওয়েপনস কনভেনশনের (বিএনএসিডব্লিউসি) উপপরিচালক রফিকুল ইসলাম ও বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর উপ-সহকারী পরিচালক ফয়সালুর রহমান।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআইর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত সরকার, পরিচালক হাফেজ হাজী হারুন অর রশীদ, এফবিসিসিআই ফায়ার সেফটি কাউন্সিলের উপদেষ্টা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আবু নাঈম মো. শহিদ উল্লাহ, এফবিসিসিআই মহাসচিব মো. আলমগীর, কমিটির কো-চেয়ারম্যান ও সদস্যরা।