ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে সরকার কাজ করছে : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সমাধান অযোগ্য কোনো সমস্যা নেই। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা নিরসনে সরকার কাজ করছে।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে নিজেই বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে এমন কোনো সংকট নেই যা সমাধান করা অসম্ভব। বাংলাদেশ থেকে ইতিবাচক বার্তা নিয়েই তিনি নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলাপ করতে গেছেন। ইতিবাচক ফলাফলের জন্য আমরা অপেক্ষায় আছি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার গুজব এখনো সরকারের নজরে আসেনি উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার এসব আমলে নিচ্ছে না।

 

তিনি বলেন, বর্তমান যুগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগ। যুবকদের আত্ম উন্নয়নে কাজ করছে সরকার। আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদেরই এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।




আমদানি নির্ভরতা ভেঙে নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনে জোর দিচ্ছে সরকার : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সরকারের দৃষ্টিতে উন্নয়ন মানে কেবল দৃশ্যমান বিশাল অট্টালিকা বা মেগা প্রজেক্ট নয়, বরং মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা গ্যাস সম্পদ উত্তোলন করাই এখনকার আসল উন্নয়ন।

আজ রোববার দুপুরে বরিশাল নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলে আঞ্চলিক পত্রিকা ‘দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ’-এর ৫৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার ১৭ বছরে নিজস্ব গ্যাস সম্পদ উত্তোলন না করে আমদানিকারকদের সুবিধা দিতে হাজার হাজার কোটি টাকার জ্বালানি বিদেশ থেকে নিয়ে এসেছে। ফলে পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আমদানি-নির্ভর হয়ে পড়েছিল। মধ্যস্বত্বভোগীদের লাভের সুযোগ দিতেই নিজস্ব উত্তোলন বন্ধ রেখে বেশি দামে গ্যাস আমদানি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, একদল লুটেরাকে ধনী করার উদ্দেশ্যে দুর্বল বৈদেশিক মুদ্রার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি দেশে এমন চক্রান্তই করা হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার নিজস্ব গ্যাস সম্পদ উত্তোলনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সচল রাখতে বাধ্য হয়ে যেটুকু প্রয়োজন কেবল সেটুকুই আমদানি করা হবে, বাকি চাহিদা নিজস্ব উত্তোলনের মাধ্যমেই মেটানো হবে যাতে উৎপাদন খরচ অনেকাংশে কমে আসে।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের গ্রাস থেকে রক্ষার করার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সীমান্ত এলাকায় নেশাদ্রব্য উৎপাদন করে বাংলাদেশকে বাজার হিসেবে ব্যবহারের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। অতীতে কোনো কোনো সংসদ সদস্য এসব কারবারে জড়িত থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সেই সমস্ত কারবারীরা সরকার পরিবর্তনের পর এখন ক্ষমতাসীন দলের পার্টনার খুঁজে বেড়াচ্ছেন। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে এসব চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।

রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত দরকার। তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার কর্মসূচির মধ্য দিয়েই এই সংস্কার ও মেরামতের কাজ সম্পন্ন হবে।

বিএনপিতে কোনো গডফাদার বা মাস্তানতন্ত্রকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকে ‘চাবুকের’ ভূমিকা পালন করতে হবে।

গণমাধ্যমকে সমাজের নিখুঁত আয়না হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম নিখুঁত না হলে সমাজের সঠিক ছবি উঠবে না এবং তা সাধারণ মানুষের আস্থা হারিয়ে ফেলবে।

দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খশরু, বিএনপি নেতা আজিজুল হক আক্কাস, মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসরাইল পণ্ডিত, বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিনসহ স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।




বরিশালে ১৫ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধন তথ্যমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বরিশালে শুরু হয়েছে ১৫ দিনব্যাপী বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা।

আজ নগরীর বেলস পার্ক মাঠে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে বর্ণাঢ্য এ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্ব আজ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বিশেষ করে আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে অবস্থান করছে। এই সমস্যার সমাধানে বৈশ্বিক কার্যকর পদক্ষেপ ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’

জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের পদক্ষেপে গুরুত্ব না দিলে এ পৃথিবী মানুষের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।’

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ রক্ষায় বর্তমান সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো সস্তা উন্নয়নে বিশ্বাসী নন। পরিবেশ রক্ষায় তাঁর দূরদর্শী চিন্তা ও কার্যকর উদ্যোগের বড় প্রমাণ হলো আগামী ৫ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মেগা পরিকল্পনা গ্রহণ।

মন্ত্রী জানান, প্রতি বছর ৫ কোটি করে গাছ রোপণ করা হবে এবং সেই লক্ষ্য অর্জনেই সারাদেশে এই বৃক্ষমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্ এবং বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাধারণ নাগরিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে তথ্যমন্ত্রী মেলায় অংশ নেওয়া ৫০টি স্টল ও নার্সারি ঘুরে দেখেন।

উল্লেখ্য, বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ৫০টি নার্সারি নিয়ে আয়োজিত এ মেলা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে।




রাজনীতিকে কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা কাজ করছে : তথ্যমন্ত্রী

জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের রক্তস্নাত ত্যাগের সঠিক মূল্যায়ন করতে জাতীয় সংসদকেই রাজনীতির প্রধান কেন্দ্রবিন্দু করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, ‘রাজনীতিকে আজও কৃত্রিমভাবে সংসদের বাইরে নিয়ে যাওয়ার একটা প্রবণতা কাজ করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। সংসদকে কার্যকর করা, রাজনৈতিক বিতর্ককে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির মধ্যে আবদ্ধ রাখা এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে মহিমান্বিত করাই আমাদের সবার একমাত্র মানদণ্ড হওয়া উচিত।’

আজ সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীন দেশ অর্জন করেছিলাম, তার ৫৫ বছর পরও যখন ভোটাধিকারের জন্য প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়, তখন তা আমাদের জন্য একইসঙ্গে লজ্জা ও আত্মসমলোচনার বিষয়। তবে, বহু ত্যাগ ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অর্জিত ভোটাধিকারের ভিত্তিতে জনগণ তার ম্যান্ডেট দিয়েছে। বর্তমানে সংসদে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জাতীয় সংসদ পরিচালনা করছে।’

সংসদকে রাজনীতির মূল কেন্দ্র বানানোর ওপর জোর দিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘এত রক্ত ও বিসর্জনের পর অর্জিত এই গণতন্ত্র ও সংসদই হওয়া উচিত আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। অত্যন্ত দুঃখজনক যেÑশহীদদের স্মরণ করতে এসেও আমরা দেখছি, আত্মত্যাগ থেকে পরিপূর্ণ শিক্ষা না নিয়ে রাজনীতিকে রাজপথে বা সংসদের বাইরে কৃত্রিমভাবে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চলছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ মূল্যবোধের বাইরে গিয়ে নানা অশ্লীলতা ও চক্রান্তের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে, যা কোনো শুভ লক্ষণ নয়।’

সুশাসন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষরের সঙ্গে শহীদের রক্ত মিশে আছে। আমাদের নেতা দেশনায়ক তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় বর্তমান সরকার নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমে জুলাই সনদের শতভাগ বাস্তবায়ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংসদকে সক্রিয় করা, বিচার বিভাগকে মর্যাদাপূর্ণ স্থানে উন্নীত করা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বিপুল সংখ্যক তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই এখন বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে ক্ষমতার বাইরে থেকে রাজপথে আমরা যেভাবে সুশাসন ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছি, ঠিক একইভাবে ক্ষমতাসীন হিসেবে আজ প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা সুশাসন নিশ্চিত করতে জীবন বাজি রেখে কাজ করছেন। শহীদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থকতা পাবে, যখন আমরা গণতান্ত্রিক সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রেখে সুশাসন নিশ্চিত করতে পারব।’

আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক খুরশিদ আলমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ’র সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল এবং যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে ডিইউজের সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, ডিইউজের বর্তমান সহ-সভাপতি রাশেদুল হক, যুগ্ম সম্পাদক মো. দিদারুল আলম দিদার, সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খান, বিএফইউজের প্রচার সম্পাদক শাহজাহান সাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




পেঁয়াজের দাম এক সপ্তাহের মধ্যেই কমবে: তথ্যমন্ত্রী

এক সপ্তাহের মধ্যেই পেঁয়াজের দাম কমবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

সোমবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে তিনি সাংবাদিকদের একথা জানান।

তিনি বলেন, গত দুই সপ্তাহে বেশিরভাগ দ্রব্যের মূল্য কমেছে। গরুর মাংস আমার এলাকায় ৫৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে মাইকিং করে। যেটি কয়দিন আগেও সাড়ে সাতশ-আটশ টাকা ছিল। শাক-সবজি ও অন্যান্য পণ্যের দামও কমেছে। পেঁয়াজের দামটা হঠাৎ করে বেড়েছে। পেঁয়াজের দাম যেভাবে লাফিয়ে বেড়েছে সে বিষয়ে আমি একমত।

 

মন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজের দাম বাড়ার কোনো কারণ ছিল না। ভারত পেঁয়াজ মার্চ মাস পর্যন্ত রপ্তানি বন্ধের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যাওয়া আমাদের সব পর্যায়ের ব্যবসায়ীর অসৎ মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া কিছু নয়।

তিনি আরও বলেন, হঠাৎ করে প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়া কোনোভাবেই সমীচীন নয়। ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর এরই মধ্যে অভিযান শুরু করেছে। তারা জরিমানা করেছে। এতে বাজারে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরে আসলেও পুরোপুরি আসেনি। যে কোনো কিছু হলেই দাম বাড়িয়ে দেওয়ার যে মানসিকতা এটির বিরুদ্ধে গণমাধ্যমেও যদি রিপোর্টিং হয় তাহলে সেটি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। তবে পেঁয়াজের দাম সহসা কমে যাবে। কারণ এক সপ্তাহের মধ্যে দেশি পেঁয়াজ বাজারে আসা শুরু করবে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ভোক্তাদের একটা ট্রেন্ড আছে, কোনো পণ্যের সংকট হচ্ছে এমন গুজব রটলেও আমরা সবাই গিয়ে এক কেজির জায়গায় পাঁচ কেজি কেনা শুরু করি। এতে করে ব্যবসায়ীরা আরো সুযোগ পায়। এটির ক্ষেত্রেও আমাদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি। তবে পেঁয়াজের দাস সহসা কমে যাবে এবং ভারত থেকেও পেঁয়াজ আসবে। সবমিলে পেঁয়াজের দাম কমে যাবে।




ডাক্তাররা ভালো করে দেখলে রোগীরা বিদেশমুখী হতেন না : তথ্যমন্ত্রী

দেশের ডাক্তাররা ভালো করে দেখলে রোগীরা বিদেশমুখী হতেন না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, বিদেশমুখী অনেক রোগীকে আমি জিজ্ঞেস করেছি—ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অনেক ঝামেলা পেড়িয়ে কেন যান? তখন তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে ডাক্তার ভালো করে কথা বলেন না। যিনি চালু ডাক্তার তার সহকারীরা রোগী দেখেন, আর ডাক্তার দুই মিনিট কথা বলেন। আর বিদেশে ডাক্তাররা প্রয়োজনে আধঘণ্টা কথা বলেন।

শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টশন প্রোগ্রাম ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের ডাক্তাররা অনেক মেধাবী, আমাদের একজন ডাক্তার যদি ভালো করে রোগী দেখেন, তিনি যে ব্যবস্থাপত্র দিতে পারেন তা ইউরোপ আমেরিকায়ও দিতে পারে না। আমি ইউরোপে অনেকদিন ছিলাম, সেখানকার ডাক্তারদের তুলনায় আমাদের দেশের ডাক্তারদের আইকিউ অনেক বেশি। আমাদের ডাক্তারদের অভিজ্ঞতালব্দ যে জ্ঞান, সেটা ইউরোপের ডাক্তারদের নাই। কিন্তু যত ভালো ছাত্রই হোক, মনযোগ দিয়ে পরীক্ষা না দিলে যেমন পরীক্ষা ভালো হয় না, তেমনি মনযোগ দিয়ে রোগী না দেখলে তো রোগীই ভালো হবেনা। প্রতিবছর মানুষ বিদেশে চিকিৎসা নিতে গিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা চলে যাচ্ছে। আমাদের মেধাবী ডাক্তাররা যদি আরেকটু মনযোগ দিয়ে রোগী দেখতেন, তাহলে বিদেশমুখী রোগীরা আর যেতেন না।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, অন্যান্য বিষয় ও মেডিকেলে পড়ালেখায় বিরাট একটা পার্থক্য আছে। মেডিকেল কলেজে যারা ভর্তি হন তারা শুরুতেই একটা শপথ নেন, মানবসেবার। মানবসেবা করার বিরাট একটা সুযোগ স্বাস্থ্যসেবা পেশার সঙ্গে যুক্তদের ছাড়া অন্যদের করা সম্ভব নয়। এজন্য আমি তোমাদের অনুরোধ জানাব, ভালো ডাক্তার হয়ে ভালো উপার্জন করার মানসিকতা নয়, মানবসেবার মানসিকতা লালন করতে হবে।

তিনি বলেন, যারা ডাক্তার হবে, বা হয়েছেন, তারা যদি সবাই সিদ্ধান্ত নেন প্রতি সপ্তাহে একদিন বিনামূল্যে রোগী দেখব, তাহলে দেশের বেশিরভাগ গরীব রোগীর সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, কিন্তু সেটি খুব কম ডাক্তারই করেন। এই বিষয়গুলো ছাত্রছাত্রীদের মনের গভীরে প্রোতিত করা প্রয়োজন। একজন দরিদ্ররোগী যখন অসুস্থ স্বজনকে নিয়ে হাসপাতালে আসেন, টাকা পরিশোধে কি কষ্ট, সেটি আমাদেরকে ভাবতে হবে। সেটি মাথায় রেখে যদি স্বল্প কিংবা বিনামূল্যে সেবা দেওয়া যায় তাহলে সত্যিকারের মানবতার সেবা দেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল সাশ্রয়ীমূল্যে ও গরীবদের বিনামূলে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে উদাহরণ তৈরি করবে আশা প্রকাশ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এখন ডেঙ্গু নিয়েও অপপ্রচার শুরু করেছে। মনে হচ্ছে ডেঙ্গু মশার জন্য আওয়ামী লীগ দায়ী। ডেঙ্গু মশা আওয়ামী লীগ, বিএনপি চেনে না। আমাদের সরকার প্রচেষ্ঠা চালাচ্ছে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় এবং জনগণের সচেতনতায় আমরা ডেঙ্গু সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারব, যেভাবে করোনাকে মোকাবেলা করেছি।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু যেমন মারাত্মক, বিএনপি তার চেয়েও বেশি মারাত্মক। ডেঙ্গু মশা কামড়ায় আর বিএনপি মানুষ পোড়ায়। অনেক ক্ষেত্রে ডেঙ্গুর চেয়ে বিএনপি মারাত্মক। আমরা সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। শুধুমাত্র বস্তুগত উন্নয়নের মাধ্যমে উন্নত দেশ রচনা নয়, আমরা বস্তুগত উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশকে একটি সামাজিক কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে চাই। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্তদের ভুমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হাছান মাহমুদ বলেন, আমাদের সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে গত প্রায় ১৫ বছরে সরকারি বেসরকারি অনেক মেডিকেল কলেজ স্থাপন করেছে। সারাদেশে প্রায় ১২ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক চালু আছে। প্রতি ছয় হাজার মানুষের জন্য একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক আছে। এসব কমিউনিটি ক্লিনিকে ৩০ প্রকারের ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। এটি আশপাশের দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কাসহ কোথাও নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এসব কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপিত হয়েছে।

বিভিন্ন হাসপাতাল এবং ক্লিনিকের অতিরিক্ত মুনাফা লাভের প্রবৃত্তি আমাদের চিকিৎসাবা এবং ডাক্তারদের ওপর আস্থাহীনতা তৈরি করছে এবং সাধারণ মানুষকে প্রচণ্ড ভোগাচ্ছে। অনেক সময় শোনা যায়, রোগীকে আইসিওতে দেওয়ার প্রয়োজন নেই, কিন্তু দিয়ে রেখেছেন। রোগী এমনিতেই মৃত্যুবরণ করবে, সেটাকে লাইফ সাপোর্টে দিচ্ছে। এরকম অহরহ ঘটনা শুনতে পাই। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ও ভূমিকা রাখতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতসহ বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অনেক ভালো জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জি-২০ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। শুধুমাত্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। গতকাল রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে এসেছেন, আগামী ১০ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী আসবেন। কয়েকদিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের নিরাপত্তা সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের বহুমুখী সহযোগিতা এবং বহুমাত্রিক সম্পর্কের প্রমাণ হচ্ছে তাদের সঙ্গে আমাদের নিরাপত্তা সংলাপ।

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের ম্যানেজিং ট্রাস্টি মোহাম্মদ রেজাউল করিম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. ইসমাইল খাঁন, ট্রাস্টি বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. মোরশেদ হোসেন ও অধ্যক্ষ প্রফেসর অসীম বড়ুয়া।