১১ টাকায় ট্রাস্ট ইসলামী লাইফের লেনদেন শুরু

তালিকাভুক্ত হয়ে দেশের পুঁজিবাজারে যাত্রা শুরু করেছে ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। বৃহস্পতিবার (১১ মে) দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সকাল ১০টায় লেনদেন শুরু হয়েছে।

১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ার ১১টাকায় লেনদেন শুরু হয়েছে। কোম্পানিটির ট্রেডিং কোড হলো- ‘টিআইএলআইএল’। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসইর তথ্য মতে, বীমা কোম্পানিটি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। তালিকাভুক্তির লক্ষ্যে গত মাসের ৩ এপ্রিল থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করে।

আইপিওর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পুঁজিবাজার থেকে ১৬ কোটি টাকা উত্তোলন করে। ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে আইপিওর মাধ্যমে ১ কোটি ৬০ লাখ সাধারণ শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ১৬ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

১৬ কোটি টাকার কোম্পানির শেয়ার পেতে ৩০৫ কোটি টাকার আবেদন জমা করেন বিনিয়োগকারীরা। যা প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ১৯ দশমিক ৭ গুন বেশি। ফলে প্রতি লট প্রতি ১০ হাজার টাকা আবেদনের বিপরীতে দেশি বিনিয়োগকারীদের দেওয়া হয়েছে ৩৬টি শেয়ার এবং প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের দেওয়া হয়েছে ৭২টি করে শেয়ার।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৮৫৩তম সভায় কোম্পানিটিকে ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে শেয়ার ছেড়ে এ টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দেওয়া হয়।

পুঁজিবাজারের টাকা দিয়ে সরকারি ট্রেজারি বন্ড ক্রয়, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ, এফডিআর বিনিয়োগ এবং আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। এর ফলে পুঁজিবাজারে বিমা খাতের কোম্পানি তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে ৫৭টি।

কোম্পানিটির ২০২২ সালের ৩০ জুন অ্যাকচুরিয়াল ভ্যালুয়েশন রিপোর্ট অনুযায়ী মোট উদ্বৃত্ত অর্থ ৭৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। আইপিওতে কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে বিএমএসএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।




মার্জিন ঋণ নিয়ে বিএসইসি ও ডিএসই’র বৈঠক আগামীকাল

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ট্রেক হোল্ডারদের জন্য তৈরি মার্জিন আইন নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বৈঠকে বসবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বৈঠকটি আগামী ৩ মে রাজধানীর আগারগাঁও সিকিউরিটিজ কমিশন ভবনের সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

বৈঠকের বিষয়ে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবর পাঠিয়েছে কমিশন। চিঠিতে ট্রেক হোল্ডারদের মার্জিন ঋণের বিষয়ে ডিএসইকে আগামী ৩ মে সকাল ১১টায় সভায় উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান।

ডিএসই থেকে এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (টিআরইসি হোল্ডারস মার্জিন) রেগুলেশনস, ২০১৩’ এর সংশোধিত আইনের বিষয়ে বিএসইসির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। যা গত বছর ২৬ মে সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। সার্বিক বাজার পরিস্থিতি এবং ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) থেকে পাওয়া অনুরোধের কারণে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ট্রেক হোল্ডারস মার্জিন রেগুলেশনস, ২০১৩ আইনটি বাস্তবায়ন করতে পারেনি ডিএসই। আর এ বিষয়ে যথাসময়ে বিএসইসিকে জানিয়েছে ডিএসই।

এরমধ্যে ডিএসই আইনের ক্ষেত্রে কিছু অস্পষ্টতা এবং চ্যালেঞ্জ পর্যবেক্ষণ করেছে।

সংশোধিত আইন বাস্তবায়নের সময় বেশ কিছু বিষয় ডিএসইর নজরে এসেছে। সেগুলোর মধ্যে প্রাথমিক শেয়ারহোল্ডারের ন্যূনতম শেয়ারের সংখ্যাসহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ না করে শেয়ারহোল্ডিং ট্রেকহোল্ডার এবং অন্যান্য ট্রেকহোল্ডারদের জন্য আলাদা নন-মার্জিন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া অনেক আগে থেকেই ট্রেকহোল্ডার কোম্পানিগুলো বিনামূল্যে মার্জিন সীমা/নন মার্জিন সীমা ১০ কোটি টাকা উপভোগ করছে। নতুন প্রবিধান (৩এ) অনুযায়ী শেয়ারহোল্ডিং ট্রেকহোল্ডাদের ৫০ লাখ টাকা জমা দিতে হবে। কিন্তু এ বিষয়ে পরিষ্কার ছিল না যে ট্রেকহোল্ডাররা সিকিউরিটি ডিপোজিট জমা না দিলে ফ্রি মার্জিনসীমা সম্পর্কিত বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বাজারে দীর্ঘ সময়ে নিম্নমুখী প্রবণতা বিবেচনা করে ডিবিএ বেশ কয়েকবার ডিএসইকে ন্যূনতম সিকিউরিটি ডিপোজিটের বিকল্প বা সংশোধিত আইনের আগে থাকা ফ্রি মার্জিন সুবিধা বজায় রাখার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। আলোচ্য জটিল পরিস্থিতি বিবেচনা করে একটি উপযুক্ত বিকল্প সমাধান খুঁজে বের করতে এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার জন্য একটি সভা করার সময় বিএসইসির কাছে চেয়েছিল ডিএসই। এরই আলোকে আগামী ৩ মে কমিশনে বৈঠক হবে বলে জানা গেছে।




ডিএসইর দুই শীর্ষ কর্মকর্তার রদবদল

জেনারেল ম্যানেজার থেকে পদোন্নতি পাওয়া দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) দুই কর্মকর্তার দায়িত্ব রদবদল করা হয়েছে। কর্মকর্তা দুই জনের মধ্যে একজন হলেন ডিএসইর এইচআর অ্যান্ড অ্যাডমিনের সিনিয়র জিএম সামিউল ইসলাম। আরেকজন কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স বিভাগের সিনিয়র জিএম মোহম্মদ আসাদুর রহমান। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসইর তথ্য মতে, সিনিয়র জিএম সামিউল ইসলামকে এইচআর অ্যান্ড এডমিন বিভাগ থেকে মার্কেট ডেভেলপমেন্ট বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর সামিউল ইসলামের জায়গায় এইচআর অ্যান্ড অ্যাডমিন বিভাগে বদলি করা হয়েছে আসাদুর রহমানকে। একইসঙ্গে নতুন কোম্পানি সচিব দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স বিভাগেরও দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।

তারা রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে দায়িত্ব পালন করবেন। গত বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে।

সম্প্রতি ডিএসইর পর্ষদ সভায় দুই জিএমকে সিনিয়র জিএম পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। প্রায় ২৭ বছর ধরে ডিএসইর বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম। অন্যদিকে ২০০৯ সালে ডিএসইতে চাকরি শুরু করেন মোহাম্মদ আসাদুর রহমান।

এর আগের সপ্তাহে নানা ইস্যুতে মার্কেট অপারেশন বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব থাকা এজিএম মোহাম্মদ রনি ইসলাম, একই বিভাগের কামরুজ্জামান, হুমায়ুন কবির ও রাকিবুর রহমানকে অব্যাহতি দিয়েছে ডিএসইর এমডি।

এই চার জনের মধ্যে এজিএম মোহাম্মদ রনি ইসলামের পরিবর্তে এই বিভাগের প্রধান করা হয়েছে এজিএম জলিলুর রহমানকে। নতুন করে এ বিভাগে আরও সংযুক্ত করা হয়েছে প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট বিভাগে দায়িত্ব পালন করা ফয়সাল আব্দুল্লাহ, সিএসডি বিভাগের সাজ্জাদ হোসাইন এবং ইন্টারনাল অডিটের ইয়াসিন মিন্টুকে। এছাড়া এইচআর বিভাগের মাহমুদা আক্তারকে বদলি করা হয়েছে ইন্টারনাল অডিট বিভাগে।