ডিএসইর বাজার মূলধন কমলো ৫ হাজার কোটি টাকা

দেশের শেয়ারবাজার গত সপ্তাহে (৩-৭মে) দরপতনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এতে কমেছে এক্সচেঞ্জটি প্রধান মূল্যসূচকও। সেই সঙ্গে ডিএসইর বাজার মূলধন পাঁচ হাজার কোটি টাকার ওপরে কমে গেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসে মূল্যসূচক কমেছে। এতে সপ্তাহের ব্যবধানে যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, তার প্রায় দ্বিগুণ প্রতিষ্ঠানের স্থান হয়েছে দাম কমার তালিকায়।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৪১টির শেয়ার ও ইউনিটের স্থান হয়েছে দাম বাড়ার তালিকায়। বিপরীতে দাম কমেছে ২২২টির। আর ২৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এতে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা। যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৬ লাখ ৮৫ হাজার ১১৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ৫ হাজার ১২৪ কোটি টাকা।

 

বাজার মূলধন কমার পাশাপাশি গত সপ্তাহে প্রধান মূল্য সূচকও কমেছে। ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে কমেছে ৫২ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট বা ১ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ১১ দশমিক ৭২ পয়েন্ট বা দশমিক ২২ শতাংশ।

অপর দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে কমেছে ১৫ দশমিক ৪০ পয়েন্ট বা দশমিক ৭৬ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ২ দশমিক শূন্য ৭ পয়েন্ট বা দশমিক ১০ শতাংশ।

আর ইসলামী শরিয়াহভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ৫ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট বা দশমিক ৫১ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ১৩ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৩০ শতাংশ।

 

এদিকে, গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের গতি কমেছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৮৩০ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৯৪৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ১১৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা বা ১১ দশমিক ৯৯ শতাংশ।




বিনিয়োগকারীর অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তিতে ডিএসইর নতুন প্রবিধান

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নতুন প্রবিধানমালা প্রণয়ন করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি। ‘ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (সেটেলমেন্ট অব ডিস্পুট) রেগুলেশনস, ২০২৬’ শিরোনামে প্রণীত এ বিশেষ বিধিমালা গত ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রীয় প্রকাশনা সংস্থা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে।

ডিএসই জানিয়েছে, তাদের ট্রেকহোল্ডার কোম্পানি ও তালিকাভুক্ত কোম্পানির বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিষ্পত্তির জন্য এই প্রবিধানমালা কার্যকর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অভিযোগ গ্রহণ, পর্যালোচনা এবং নিষ্পত্তির একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন বিধিমালা এবং সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় ফরমসমূহ ডিএসইর ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অভিযোগ দাখিল ও নিষ্পত্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সেখান থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।

নতুন প্রবিধানমালা ও এই সংশ্লিষ্ট ফরম নিম্নোক্ত ওয়েব লিংকে পাওয়া যাবে- https://www.dsebd.org/SettlementofDisputeRegulationse.php




ডিএসইর পিই রেশিও বেড়েছে ৩.৬৪ শতাংশ

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (১ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) বেড়েছে। আলোচ্য এ সময়ে ডিএসইর পিই রেশিও বেড়েছে ৩.৬৪ শতাংশ।

‎শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

‎তথ্য মতে, বিদায়ী সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ৯.৩৩ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে তা অবস্থান করছে ৯.৬৭ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও বেড়েছে ০.৩৪ পয়েন্ট বা ৩.৬৪ শতাংশ।

‎এর আগের সপ্তাহের শুরুতে (২৫ থেকে ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬) পিই রেশিও ছিল ৯.০১ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে তা অবস্থান করছে ৯.৩৩ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও বেড়েছে ০.৩২ পয়েন্ট বা ৩.৫৫ শতাংশ।

খাতভিত্তিক পিই রেশিওগুলোর মধ্যে- জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ৫.৩১ পয়েন্টে, ব্যাংক খাতে ৬.৯৭ পয়েন্টে, ওষুধ ও রসায়ন খাতে ৯.৭৩ পয়েন্টে, আর্থিক খাতে ১০.৩৮ পয়েন্টে, মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ১১.৪৭ পয়েন্টে, টেক্সটাইল খাতে ১১.৯০ পয়েন্টে, সেবা ও আবাসন খাতে ১২.৮২ পয়েন্টে, টেলিযোগাযোগ খাতে ১৩.০৬ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতে ১৩.৫৮ পয়েন্টে, বিবিধ খাতে ১৪.১৫ পয়েন্টে, প্রকৌশল খাতে ১৪.৪১ পয়েন্টে, সাধারণ বিমা খাতে ১৪.৪৩ পয়েন্টে, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ১৫.৩৮ পয়েন্ট, আইটি খাতে ১৬.৪৭ পয়েন্টে, খাদ্য ও আনুসঙ্গিক খাতে ১৬.৭৯ পয়েন্টে, পেপার ও প্রিন্টিং খাতে ২৩.৫৬ পয়েন্টে, পাট খাতে ২৫.১০ পয়েন্টে, ট্যানারি খাতে ৪৫.৬৮ পয়েন্টে এবং সিরামিক খাতে ১২২.৩৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।




ডিএসইতে সাপ্তাহিক দাম কমার শীর্ষে সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (১৬ থেকে ২০ নভেম্বর) লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে বস্ত্র খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ারের দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম থাকায় কোম্পানিটির শেয়ার ডিএসইর সাপ্তাহিক দাম কমার তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে।

শনিবার (২২ নভেম্বর) ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, বিদায়ী সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ার দর কমেছে ১৬.৪১ শতাংশ। বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ারের সমাপনী মূল্য ছিল ৩২.৯০ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারের সমাপনী মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৭.৫০ টাকা। এর ফলে কোম্পানিটির শেয়ার ডিএসইর সাপ্তাহিক দাম কমার তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে।

ডিএসইতে সাপ্তাহিক দাম কমার শীর্ষ তালিকায় উঠে আসা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে- ফারইস্ট নিটিংয়ের ১৫.২৫ শতাংশ, জিকিউ বলপেনের ৯.৬৮ শতাংশ, মতিন স্পিনিংয়ের ৫.৭৬ শতাংশ, স্কয়ার ফার্মার ৫.৬৮ শতাংশ, মেঘনা সিমেন্টের ৪.৬১ শতাংশ, পেনিনসুলা চিটাগাংয়ের ৩.৯৫ শতাংশ, বাটা সুর ৩.৪৮ শতাংশ, স্কয়ার টেক্সটাইলের ২.৬১ শতাংশ ও এসিআইয়ের ২.৪৯ শতাংশ শেয়ার দর কমেছে।




শেয়ারবাজারের প্রতারক চক্র গোয়েন্দা সংস্থার নজরে : ডিএসই

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নাম, লোগো ও অফিসের ঠিকানা ব্যবহার করে যেসব প্রতারক চক্র বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা চালাচ্ছে তারা ইতোমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থার নজরে এসেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আসাদুর রহমান। তিনি বলেন, ওইসব প্রতারক হোয়াটসঅ্যাপসহ অনলাইন মাধ্যমে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিল। শিগগিরই তারা হয়ত আইনের আওতায় আসবে। তবুও বিনিয়োগকারীদের সচেতন থাকতে হবে।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর পল্টনে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরামের (সিএমজেএফ) অডিটোরিয়ামে ডিএসই আয়োজিত ‌‘প্রতারক চক্রের আর্থিক প্রতারণা রোধে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএসইর চিফ রেগুলেটরি অফিসার (সিআরও) শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া ও উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে আসাদুর রহমান বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের একমাত্র বৈধ মাধ্যম হলো বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), ডিএসই ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) অনুমোদিত স্টক ব্রোকার। এর বাইরে অন্য কোনো মাধ্যমে বিনিয়োগ করলে তা প্রতারণার শামিল হতে পারে।

তিনি বলেন, কিছু প্রতারক চক্র ডিএসই ও বিএসইসির নাম ব্যবহার করে মানুষকে বিনিয়োগের লোভ দেখাচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা আইনপ্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে জানিয়েছি। তাদের সহায়তায় প্রতারকদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে।

ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত এমডি আরও বলেন, আমরা বিনিয়োগকারীদের জানাতে চাই স্টক এক্সচেঞ্জ বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা সরাসরি কারো সঙ্গে বিনিয়োগে সম্পৃক্ত নয়। বিনিয়োগের একমাত্র বৈধ পথ হলো অনুমোদিত স্টক ব্রোকার। তাই অচেনা ব্যক্তি বা গ্রুপের প্রলোভনে পড়লে আপনার অর্থ ঝুঁকিতে পড়বে। যদি কেউ প্রতারণায় জড়িত থাকেন, তাদের সতর্ক করছি—এখনও সময় আছে ভালো হয়ে যান। নইলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত এমডি স্বীকার করেন, মাঝে মাঝে দেখা যায় ডিএসইর কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। এ ধরনের ঘটনা রোধে আমরা সচেতন এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।

আসাদুর রহমান জানান, প্রতারকরা মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই ব্যবহার করে লোভনীয় বার্তা পাঠায়। শুরুতে সামান্য মুনাফা দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের আস্থা অর্জন করে। পরে আরও কিছু মুনাফা দেখানোর পর বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করে। বিনিয়োগকারী টাকা দিলে জানানো হয়—অ্যাপে সমস্যা হয়েছে, আরও অর্থ দিতে হবে। কিন্তু অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার পর প্রতারক চক্র ভুক্তভোগীকে ব্লক করে দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএসইর পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রতারণার এ ধরনের ফাঁদ থেকে বাঁচতে বিনিয়োগকারীদের অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। কেবল অনুমোদিত স্টক ব্রোকারের মাধ্যমেই লেনদেন করতে হবে। ডিএসই ও বিএসইসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে অনুমোদিত ব্রোকারদের তালিকা পাওয়া যায়। অচেনা ব্যক্তি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রলোভনমূলক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ডিএসই কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের প্রতারণা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির কারণ নয়, বরং পুঁজিবাজারের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করে। তাই গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনপ্রয়োগকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা।




বাজেটে পুঁজিবাজার উন্নয়নে সহায়ক নীতিমালা রয়েছে: ডিএসই

আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে পুঁজিবাজারবান্ধব বলে অভিহিত করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তপক্ষ।

ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, এবারের বাজেটে দেশের পুঁজিবাজার উন্নয়নে সহায়ক নীতিমালা রয়েছে। এসব প্রস্তাব পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ জন্য অর্থ উপদেষ্টাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

ডিএসই পাঠানো প্রাথমিক বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই অভিমত তুলে ধরেন।

সোমবার (২ জুন) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেন। এতে তিনি পুঁজিবাজারের জন্য কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হারের মধ্যে ব্যবধান বাড়ানো, ব্রোকারহাউজের লেনদেনে উৎস কর ও মার্চেন্ট ব্যাংকের আয়করের হার কমানো।

ডিএসই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫-২৬ সালের বাজেটে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে করহারের ব্যবধান বৃদ্ধি, মার্চেন্ট ব্যাংকের করহার হ্রাস এবং লেনদেনের উপর উৎসে কর হ্রাস ইত্যাদি পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিস অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বিনিয়োগকারীদের বিও অ্যাকাউন্টের উপর ধার্য অ্যানুয়াল মেইনটেন্যান্স ফি ৪৫০ টাকা থেকে কমিয়ে ১৫০ টাকা করেছে এবং সিসি একাউট-এ অর্জিত সুদের ২৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে ব্যয়ের জন্য ইনভেস্টর্স প্রটেকশন ফান্ডে জমার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এছাড়া, গত বছরের ৪ নভেম্বর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের তালিকাভুক্ত কোম্পানি থেকে অর্জিত ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত মূলধনী আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত রাখার বিধান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ৫০ লাখ টাকার উপরে মূলধনী আয়ের উপর কর ১৫ শতাংশে হ্রাস পুঁজিবাজারের উন্নয়নসহায়ক এসকল নীতিমালা পুঁজিবাজার উন্নয়নে সরকারের দৃড় প্রতিশ্রুতির পরিচায়ক বলে মন্তব্য করেন ডিএসই চেয়ারম্যান।

বাজেট প্রস্তাবনায় সরকারের মালিকানা রয়েছে এমন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোকে সরকারের শেয়ার কমিয়ে পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, লাভজনক সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তকরণ, বেসরকারি খাতের দেশীয় বড় কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করতে প্রণোদনাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এ বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি জানান, পুঁজিবাজারকে ঘিরে সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেশের ক্রমবিকাশমান পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী ও টেকসই হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে বলে ডিএসই বিশ্বাস করে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও দক্ষতাকে পুঁজি করে আগামী প্রজন্মের জন্য একটা টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তোলায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ৷




পুঁজিবাজারে পতন অব্যাহত, বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ

পুঁজিবাজারে ধারাবাহিক পতনের প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে মতিঝিলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পুরনো ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন বিনিয়োগকারীরা

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) সূচকের পতনের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। ফলে, পুঁজিবাজারে সূচকের পতন অব্যাহত আছে।

এদিন ডিএসইতে আগের কার্যদিবসের চেয়ে টাকার পরিমাণে লেনদেন অনেক কমলেও সিএসইতে কিছুটা বেড়েছে। দিনশেষে উভয় পুঁজিবাজারে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার এবং মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম কমেছে।

এদিকে, পুঁজিবাজারে ধারাবাহিক পতনের প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুরে বিনিয়োগকারীরা মতিঝিলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পুরনো ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন।

ডিএসই ও সিএসই সূত্র জানিয়েছে, দিনশেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ১৭.১৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৯৩৫ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২.৯২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৩ পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ সূচক ৬.৬০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮২৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

ডিএসইতে মোট ৩৯৭টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে ১৩৬টি কোম্পানির, কমেছে ২১১টির এবং অপরিবর্তিত আছে ৫০টির।

এদিন ডিএসইতে মোট ২৯১ কোটি ৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪৫৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সিএসসিএক্স সূচক আগের দিনের চেয়ে ২১.৭৮ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৮ হাজার ৪২৬ পয়েন্টে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩০.৬৭ পয়েন্ট কমে ১৩ হাজার ৮১৫ পয়েন্টে, শরিয়াহ সূচক ৩.৪৪ পয়েন্ট বেড়ে ৮৯১ পয়েন্টে এবং সিএসই ৩০ সূচক ৯.৪২ পয়েন্ট কমে ১১ হাজার ৬৫৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সিএসইতে মোট ২০০টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে ৭১টি কোম্পানির, কমেছে ৯৭টির এবং অপরিবর্তিত আছে ৩২টির।

সিএসইতে ১০ কোটি ৯৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৯ কোটি ২২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট।




ডিএসই’র নতুন চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পিএলসি’র নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মমিনুল ইসলাম। তিনি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) ডিএসই’র ১০৭৬তম পর্ষদ সভায় তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচন করা হয়। ডিএসই’র উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ ও প্রকাশনা) মো. শফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মমিনুল ইসলামের রয়েছে দেশ-বিদেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কৌশলগত, প্রযুক্তিগত, পুঁজিবাজার ব্যবসা, পণ্য, প্রক্রিয়া এবং বিধি-বিধান সম্পর্কে ২৫ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা। এছাড়াও জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নীতি কাঠামো ও সহযোগিতার বিষয়ে রয়েছে তার কাজ করার দক্ষতা৷ তার রয়েছে বিজনেস ট্রান্সফরমেশন, বিজনেস প্রসেস ম্যানেজমেন্ট, লিন ম্যানেজমেন্ট, অপারেশনাল রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এবং সার্ভিস কোয়ালিটির অভিযোজনসহ সিক্স সিগমা ব্ল্যাক বেল্ট। শিক্ষাজীবনেও রয়েছে অসামান্য কৃতিত্ব।

মমিনুল ইসলাম সিলিংক অ্যাডভাইজরি’র প্রতিষ্ঠাতা। প্রতিষ্ঠানটি কৌশলগত আর্থিক উপদেষ্টা সংস্থা, বিনিয়োগ, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং কৌশলগত রূপান্তরে কাজ করে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়, মমিনুল ইসলাম ২০১২ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের একটি নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সর্বকনিষ্ঠ (৩৫ বছর বয়সে) ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন৷ তিনি ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেডে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন৷ তার আগে তিনি ২০০৮ সালের আগস্ট থেকে ২০১২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ২০০৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০০৮ সালের জুলাই পর্যন্ত অপারেশন ও প্রযুক্তি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন৷

মমিনুল ইসলাম ২০০৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০০৬ সালের মার্চ পর্যন্ত স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে হেড অব অপারেশনাল রিস্ক, প্রকল্প ও বিসিপি এবং রিইঞ্জিনিয়ারিং ও সার্ভিস কোয়ালিটি প্রধান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের মে থেকে ২০০৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আমেরিকান এক্সপ্রেস ব্যাংকে, রিইঞ্জিনিয়ারিং ও প্রজেক্টস, ২০০০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০১ সালের মে পর্যন্ত একই প্রতিষ্ঠানে রেমিট্যান্স বিভাগে অফিসার হিসেবে কাজ করেন। মমিনুল ইসলাম ১৯৯৯ সালে চট্টগ্রামে আমেরিকান এক্সপ্রেস ব্যাংকে অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

মমিনুল ইসলামের রয়েছে নেতৃত্ব, গ্রাহককেন্দ্রিকতা, কৌশলগত যোগ্যতা, যোগাযোগে দক্ষতা, সততা ও উত্তম নাগরিকত্ব। আর্থিক খাতের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নিয়ন্ত্রণ এবং আইনি কাঠামো, টিম উন্নয়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, অপারেশনাল এক্সিলেন্স ও স্টেকহোল্ডার ব্যবস্থাপনায় তার রয়েছে অসামান্য দক্ষতা।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও মমিনুল ইসলামের রয়েছে অনন্য ভূমিকা। তিনি ২০২৩ সালে অ্যাসোসিয়েশন অব ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স ইনস্টিটিউটস–এশিয়া প্যাসিফিকের চেয়ারম্যান, ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান, ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন৷ বর্তমানে তিনি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধীদের জন্য কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বিকাশের জন্য একটি দাতব্য সংস্থা ‘অদম্য ফাউন্ডেশন’ এর ভাইস চেয়ারম্যান৷

উল্লেখ্য, বিএসইসি সাতজন ব্যক্তিকে ডিএসই’র স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। তারা হলেন—বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) অধ্যাপক এবং সাভার আর্মি ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মহাপরিচালক অধ্যাপক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাহিদ হোসেন, ঢাকা সেনানিবাসের ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মফিজুল ইসলাম রাশেদ, মেটলাইফ বাংলাদেশের সাবেক জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দ হাম্মাদুল করিম, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন যৌথ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার ও ডিজাসটার রিকোভারি সাইট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইবার সিকিউরিটি ইউনিটের চিফ ইনফরমেশন সিকিউরিটি অফিসার (লিয়েন) মোহাম্মদ ইশাক মিয়া; কৌশলগত আর্থিক উপদেষ্টা সংস্থা সিলিংক অ্যাডভাইজরি’র প্রতিষ্ঠাতা মমিনুল ইসলাম এবং এফআইএনএস অ্যালায়েন্স রিস্ক অ্যাডভাইজরি অ্যান্ড কনসালটেন্সির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও চিফ কনসালট্যান্ট শাহনাজ সুলতানা৷




সু-শাসনই পুঁজিবাজারের অন্যতম উপাদান: ডিএসই চেয়ারম্যান

বাংলাদেশ বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির একটি দেশ৷ বাংলাদেশ সরকার অতি সম্প্রতি স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নের ঘোষণা করেছে। সরকার দেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করতে চায়। বাংলাদেশকে স্মার্ট বাংলাদেশে পরিণত করতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে হবে। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে উন্নত করার জন্য সু-শাসনের কোন বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু।

আজ (১০ জুলাই) নেদারল্যান্ড ভিত্তিক গ্লোবাল রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভ (জিআরআই) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ যৌথ উদ্যোগে তালিকাভুক্ত ৭৫টি কোম্পানির প্রতিনিধিবৃন্দের অংশগ্রহণে ডিএসইর ট্রেনিং একাডেমি-তে Launch Ceremony of Guidance Document for Sustainability Reporting on the GRI Standards-2021 শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন৷

এসময় উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সাওিক আহমেদ শাহ, ঢাকা সুইডেন দূতাবাস-এর সেকেন্ড সেক্রেটারি ফ্রেডরিকা নরেন (Fredrika Noren) ডিএসই’র প্রধান রেগুলেটরী কমকতা খাইরুল বাসার আবু তাহের, মহাব্যবস্থাপক মোঃ ছামিউল ইসলাম, জিআরআই সাউথ এশিয়া নেটওয়ার্কের পরিচালক ড. অদিতি হালদার (Dr.Aditi Haldar), ম্যানেজার রাহুল সিং (Rahul Singh), আইওটিএ (IOTA) কনসালটিং বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া এবং সাসটেনেবিলিটি নেক্সাস লি. এর পরিচালক মুনতাসির নাহিদ৷

ড. হাফিজ বলেন, জিআরআই প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করে। জিআরআই আমাদের রিপোর্টের মান বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করে। আমি আশা করি জিআরআই এর সহযোগিতা উত্তোরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। গ্লোবাল রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভ(জিআরআই) এর গাইডলাইনগুলো বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য, প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত, বিশ্বস্ত এবং ব্যবহার বান্ধব৷ কোম্পানির প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা হলো সততা ও বিশ্বাস সৃষ্টি করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম৷ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কোম্পানির ব্র্যান্ডিং, খ্যাতি এবং পণ্যের গুণগত পার্থক্য কাঙ্খিত পর্যায়ে বৃদ্ধি করে৷ জিআরআই প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিন-চতুর্থাংশ কোম্পানি সাসটেইন্যাবল রিপোর্ট তৈরিতে জিআরআই এর কাঠামো ব্যবহার করে৷

তিনি আরো বলেন, আমি বিশ্বাস করি যে “জিআরআই স্ট্যান্ডার্ডস ২০২১ এর উপর ভিত্তি করে সাসটেনেবিলিটি রিপোর্টিং-এর জন্য গাইডেন্স ডকুমেন্ট” চালু করার ফলে এটি একটি সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট তৈরিতে তালিকাভুক্ত, অতালিকাভুক্ত এবং বড় কোম্পানিগুলিকে গাইড করার জন্য প্রতিশ্রুতি এবং সচেতনতা তৈরি করতে সাহায্য করবে। যা তাদের কোম্পানি, সমাজ এবং সামগ্রিকভাবে দেশ উভয়ের পরিবর্তনে সাহায্য করবে। ড. হাসান বাবু উল্লেখ করেন যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ব্যাপকভাবে সুরক্ষা, নিরাপত্তা এবং পরিবেশের দৃঢ়তার উপর জোর দিয়েছে৷ ডিএসই ও জিআরআই-এর সহযোগিতায় সাসটেইন্যাবল রিপোর্টিং নির্দেশিকার উপর এই সমর্থন অব্যাহত রাখবে এবং এই কর্মশালা থেকে সকল তালিকাভুক্ত কোম্পানি লাভবান হবে৷

ড. হাসান বাবু বলেন, সাসটেনেবিলিটি রিপোর্ট এখন মূলধারার ব্যবসায়িক অনুশীলন। যা প্রতিষ্ঠানের খ্যাতি এবং ব্র্যান্ড ভ্যালু ও লয়ালিটি বৃদ্ধি করে। আর এর ফলে এক্সটারনাল স্টেকহোল্ডারগন প্রতিষ্ঠানের সঠিত মূল্য এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ সম্পর্কে অবগত হন। সকল মহলের প্রধান চাহিদা কোম্পানিগুলোর আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একটি রিপোর্ট৷ বিশ্বব্যাপী যেটা গ্রহণযোগ্য৷ বাংলাদেশে কিছু মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী রিপোর্ট করে। কিন্ত আরও অনেক ভাল কোম্পানি এটি করতে পারে৷ এই প্রক্রিয়ায় আমাদের পুঁজিবাজার, জিডিপি এবং অর্থনীতি সবই আরো উচ্চ স্তরে যেতে পারে।

তার আগে ডিএসইর মহাব্যবস্থাপক মোঃ ছামিউল ইসলাম স্বাগত বক্তব্যে বলেন, আধুনিক ব্যবসায়িক অনুশীলন, একটি কোম্পানির কৌশল এবং দৈনন্দিন কার্যাবলীতে পরিবেশগত, সামাজিক এবং কর্পোরেট গভর্নেন্স (ESG) নীতি এবং অনুশীলনগুলো একীভূত করে৷ আজকের প্রোগ্রামটি GRI স্ট্যান্ডার্ড ২০২১-এর উপর ভিত্তি করে সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিংয়ের জন্য গাইডেন্স ডকুমেন্টের লঞ্চিং অনুষ্ঠান। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে কমপ্লায়েন্ট, টেকসই এবং সু-শাসিত এক্সচেঞ্জ তৈরিতে ভবিষ্যতে এর প্রভাব ফেলবে। আমি “GRI স্ট্যান্ডার্ডস ২০২১-এর উপর ভিত্তি করে টেকসই প্রতিবেদনের জন্য গাইডেন্স ডকুমেন্টের লঞ্চিং অনুষ্ঠান” সফল করার জন্য উপস্থিত সকল অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানাই৷ ডিএসই তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ, সেমিনারের আয়োজন করে এবং জিআরআই স্ট্যান্ডার্ডের মাধ্যমে টেকসই প্রতিবেদনের ব্র্যান্ডিং করার জন্য ডিএসই ক্রমাগত জিআরআইকে সহায়তা করছে। আমরা পুঁজিবাজারের আরও স্টেকহোল্ডারদের সাথে সামনের দিনগুলিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলির জন্য GRI স্ট্যান্ডার্ড ২০২১-এর উপর ভিত্তি করে একটি টেকসই প্রতিবেদন তৈরির চেষ্ঠা অব্যাহত রাখবে৷

জিআরআই সাউথ এশিয়ার নেটওয়ার্কের পরিচালক ড. অদিতি হালদার ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির একটি দেশ। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ এবং ক্রমবর্ধমান ব্যবসায়িক খাতেও শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত।। একটি আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্য হয়ে উঠতে একটি দেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক বাজার কাঠামো অবদান রাখে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম মাধ্যম এবং প্রায় ৭০ বছর ধরে দেশের শিল্পায়ন, অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখছে। অর্থনীতির অগ্রগতির সাথে, ডিএসই দেশীয় এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি পরিপূণ পুঁজিবাজার গড়ে তুলেছে। এটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যে টেকসই প্রতিবেদন বিশ্বব্যাপী প্রচারণার সাথেও সঙ্গতিপূর্ণ। বিভিন্ন বৈশ্বিক এবং অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, ডিএসই স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সহযোগিতার অংশ হিসেবে, ডিএসই গত ৬ বছর ধরে গ্লোবাল রিপোর্টিং ইনিশিয়েটিভ (জিআরআই)-এর সাথে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বজায় রেখেছে।

ঢাকাস্থ সুইডেন দূতাবাস-এর সেকেন্ড সেক্রেটারি ফ্রেডরিকা নরেন (Fredrika Noren) বলেন, সুশাসন ও স্থায়ীত্ব উন্নয়নের অন্যতম নিয়ামক। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার। নতুন এই সাসটেইনেবিলিটি স্টান্ডার্ড অনুশীলন করার ফলে আগামীতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কম্পিটিটিভনেস বৃদ্ধি পাবে। জিআরআই এর মান অনুশীলনের জন্য সুইডেন অত্যন্ত আনন্দিত এবং বাংলাদেশের জনগণের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করছি।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, দেশের উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে, তালিকাভুক্ত বা অতালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলির মধ্যে সাসটেইনেবিলিটির অনুশীলন করার জন্য, একটি টেকসই প্রতিবেদনের মান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জিআরআই, এই সেক্টরে অগ্রগামী হওয়ায়, তাদের মান বিভিন্ন সেক্টরে এর ব্যবহারকারীদের মধ্যে সাসটেইনেবিলিটির বিভিন্ন বিষয় চিহ্নিতকরণ এবং সংজ্ঞায়িত করতে সহায়তা করবে। কর্পোরেট সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট করার উদ্দেশ্যে হলো বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের সকল স্টেকহোল্ডারদের সকলের উন্নতির জন্য এই ধরনের একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে এবং এটি জিআরআই ইএসজি ডিসক্লোজারের সাহায্যে খুব অর্জনযোগ্য হতে পারে। জিআরআই সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিংয়ের প্রয়োজনীয় ইএসজি (এনভায়রনমেন্টাল, সোশ্যাল, এবং গভর্নেন্স) ডিসক্লোজারের বিষয়ে তালিকাভুক্ত এবং বড় কোম্পানিগুলিকে গাইড করতে “ডিএসই” এবং “জিআরআই” ২০১৮ সাল থেকে একসাথে কাজ করছে। আমি খুবই আনন্দিত যে সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট তৈরির জন্য “জিআরআই স্ট্যান্ডার্ডস ২০২১ এর উপর ভিত্তি করে স্সাসটেনেবিলিটি রিপোর্টিং-এর জন্য গাইডেন্স ডকুমেন্ট’ চালু করার আজকের উদ্যোগ কোম্পানি এবং সমাজ উভয়কেই ইতিবাচক উপায়ে সাহায্য করবে।

পরে জিআরআই-এর বিশ্বব্যাপী আপডেট ও জিআরআই গাইডেন্স ডকুমেন্ট সম্পর্কে বর্ণনা করেন জিআরআই সাউথ এশিয়া নেটওয়ার্কের ম্যানেজার রাহুল সিং, জিআরআই গাইডেন্স ডকুমেন্টের বিস্তারিত এবং বাংলাদেশে সাসটেনিবিলিটি রিপোর্টিং এর ট্রেন্ড সম্পর্কে আলোকপাত করেন আইওটিএ (IOTA) কনসাল্টিং বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া এবং বাংলাদেশে সাসটেনেবিলিটি রিপোর্টিং এর সুবিধা সম্পর্কে বর্ণনা করেন সাসটেনেবিলিটি নেক্সাস লিঃ এর পরিচালক মুনতাসির নাহিদ।

পরিশেষে সমাপনী বক্তব্যে ডিএসইর প্রধান রেগুলেটর কর্মকর্তা খাইরুল বাশার আবু তাহের মোহাম্মদ বলেন, আমরা জিআরআই-এর গাউডলাইনসমূহ অনুসরণ বাস্তবায়ন করতে প্রতিশ্রুতিবন্ধ। আমরা এই বিষয়গুলো লিস্টিং রেগুলেশন্স-এ অন্তভূক্ত করতে চাই। ২০১৮ সাল থেকে ডিএসই জিআরআই এর সাথে সানটেইনেবল প্রতিবেদনের মান উন্নয়নে কাজ করছে। আমি আজকের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সকলকে এই মান অনুসরণের জন্য অনুরোধ করছি। আমাদের মূল উদ্দেশ্য বাংলাদেশের অর্থনীতিকে টেকসই করা। আমরা জিআরআই-এর মানগুলো অনুসরণ করলে বাংলাদেশ এসজিডি গোল বাস্তবায়ণ অধিকতর সহজ হবে।




ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ডিএসই’র চেয়ারম্যানের বৈঠক

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু’র সঙ্গে বাংলাদেশে অবস্থানরত ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই সদস্যের প্রতিনিধিদল পরিসংখ্যান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাবলিক ফাইন্যান্স ম্যানেজমেন্টের প্রকল্প কর্মকর্তা সমষ্টিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ মিঃ মার্গা পিটার্স ও ইনক্লুসিভ গভর্নেন্সের টিম লিডার ফাস্ট সেক্রেটারি মিস এনরিকো লরেনজন ডিএসই কার্যালয়ে বৈঠক করেছেন৷

বুধবার (২৯ মে) এ বৈঠকের সময় তার সঙ্গে ছিলেন ডিএসই’র পরিচালক মোঃ শহীদুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সাত্বিক আহমেদ, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা খাইরুল বাসার আবু তাহের মোহাম্মদসহ ডিএসই’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ৷

বৈঠকে ডিএসই’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার একটি উদীয়মান পুঁজিবাজার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মার্ট বাংলাদেশের সাথে সঙ্গতি রেখে বর্তমান পুঁজিবাজারকে উন্নয়নের সাথে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার বিষয়ে ভাবছেন। পুঁজিবাজারের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে অৰ্থায়ণ হয়। আর এর মাধ্যমে দেশের জিডিপি’র পরিমাণ বৃদ্ধি পায়৷ প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ডিএসই’র সহযোগিতা বৃদ্ধি করার বিষয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি পণ্য এবং প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্টকরণ ইত্যাদি বিষয়সমূহ নিয়েও আলোচনা করেন৷ প্রতিনিধিবৃন্দ বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন৷

পরে প্রতিনিধিবৃন্দকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে এবং “রূপকল্প ২০৪১” বাস্তবায়নে সরকারের সম্ভাব্য উন্নয়ন রূপরেখা বাস্তবায়ন করার তথ্য-বিশ্লেষণ এবং সচিত্র দিক নির্দেশনামূলক “World Leader Sheikh Hasina: The Pioneer of Golden Bangladesh” নামক নিজের লেখা একটি বই উপহার দেন ডিএসই’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু।




নাম পরিবর্তন করবে ডিএসই

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) লিমিটেড এর নাম পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৭ জানুয়ারি) ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড’ এর পরিবর্তে ‘ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি’ রাখা হবে। তবে প্রতিষ্ঠানটির সংক্ষিপ্ত নাম ‘ডিএসই’ হিসাবেই থাকবে।

প্রসঙ্গত, ১৯৫৪ সালের ২৮ এপ্রিল ইস্ট পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ অ্যাসোসিয়েশন লিমিটেড নামে এ প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। আনুষ্ঠানিক লেনদেন শুরু হয় ১৯৫৬ সালে। ১৯৬২ সালের ২৩ জুন নাম পরিবর্তন করে ইস্ট পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড করা হয়। ১৯৬৪ সালের ১৩ মে ওই নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় ডিএসইতে লেনদেন স্থগিত রাখা হয়। ১৯৭৬ সালের ১৬ আগস্ট লেনদেন পুনরায় চালু হয় এবং অদ্যাবধি লেনদেন ও উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত আছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিশ্বমানের সেবা ও স্টেকহোল্ডারদের সর্বোচ্চ আস্থা নিশ্চিত করে এ অঞ্চলের নেতৃস্থানীয় এক্সচেঞ্জ এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন ধরনের সিকিউরিটিজ (শেয়ার, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ট্রেজারি বন্ড, ডিবেঞ্চার ও কর্পোরেট বন্ড) লেনদেন হয়ে থাকে।




বাজার মূলধন ৭ হাজার কোটি টাকা কমেছে

দেশের শেয়ারবাজারে গেলো সপ্তাহে সব ধরনের সূচক কমেছে। এ সময় কমেছে লেনদেনের পরিমাণও। আলোচ্য সময়ে বাজার মূলধন কমেছে ৭ হাজার ২৭৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

শনিবার (১৮ নভেম্বর) সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্যমতে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গেলো সপ্তাহের শুরুতে বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ৭৯ হাজার ২০৯ কোটি ৬২ লাখ ৩ হাজার টাকা। সপ্তাহের শেষ দিন বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৭৫ হাজার ২৪২ কোটি ৫১ লাখ ৫২ হাজার টাকা। আলোচ্য সময়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বাজার মূলধন কমেছে ৩ হাজার ৯৬৭ কোটি ১০ লাখ ৫১ হাজার টাকা।
অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সপ্তাহের শুরুতে বাজার মূলধন ছিল ৭ লাখ ৭৩ হাজার ৭৬৩ কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সিএসইতে সপ্তাহের শেষ দিন বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৭০ হাজার ৪৫৩ কোটি ৬৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। আলোচ্য সময়ে বাজার মূলধন কমেছে ৩ হাজার ৩০৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। দুই স্টক এক্সচেঞ্জে বা পুরো শেয়ারবাজারে বাজার মূলধন কমেছে ৭ হাজার ২৭৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

ডিএসইতে গেলো সপ্তাহে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ১৭৫ কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৫৯৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে লেনদেন কমেছে ৪২২ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

ডিএসইতে গেলো সপ্তাহে মোট ৩৬৮ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এরমধ্যে বেড়েছে ৫০টি, কমেছে ১০৫টি এবং অপরিবর্তিত ছিল ২১৩টির শেয়ার ও ইউনিট দর।

সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৪ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ২৫৭ পয়েন্টে, ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৫৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এদিকে, গেলো সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৪ কোটি ৯০ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। আগের সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৩৯ কোটি ৮৮ লাখ ২৪ হাজার টাকা।

সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৫২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৫৪১ পয়েন্টে, সিএসসিএক্স ৩১ পয়েন্ট কমে ১১ হাজার ৮৯ পয়েন্টে এবং সিএসই৩০ সূচক ৪১ পয়েন্ট কমে ১৩ হাজার ৩৪২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সিএসইতে গেলো সপ্তাহে মোট ২৪৭ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এরমধ্যে বেড়েছে ৩৪টির, কমেছে ৯০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১২৩টির শেয়ার ও ইউনিট দর।




ভিসা নীতির প্রভাবে পুঁজিবাজারে দরপতন

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাদানে দায়ী ও জড়িত ব্যক্তিদের ওপর ভিসা বিধিনিষেধ আরোপের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়। এ ঘোষণার প্রভাব পড়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। গতকাল দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই সূচকের পাশাপাশি দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ কমেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল সকালে লেনদেন শুরুর পর প্রথম ৩ মিনিট পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী ছিল সূচক। এর পর থেকে অস্থিরতা দেখা গেছে। তবে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সূচক মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। তবে এর পর থেকেই ছন্দপতন ঘটে পুঁজিবাজারে। শেষ পর্যন্ত গতকাল দিন শেষে আগের দিনের তুলনায় ২৯ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ২৮১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৬ হাজার ৩১০ পয়েন্টে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইর ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০ গতকাল ৯ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৩৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ১৪৬ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গতকাল দিন শেষে ৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৫৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। গতকাল সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল সি পার্ল বিচ রিসোর্টস অ্যান্ড স্পা, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস, ফু-ওয়াং ফুড, এমারাল্ড অয়েল ও ইস্টার্ন হাউজিংয়ের শেয়ারের।

 

বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভিসা নীতি কার্যকরের ঘোষণা দেয়া হলেও কাদের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে সে তালিকা প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্র। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বেশকিছু নাম এসেছে, যাদের মধ্যে পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামও রয়েছে। তাছাড়া সামনের দিনগুলোয় ভিসা নীতির আওতা কতদূর পর্যন্ত বাড়তে পারে সেটি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। এসব কারণেই গতকাল পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির প্রবণতা ছিল লক্ষণীয়। ফ্লোর প্রাইস না থাকলে দরপতন আরো তীব্র হতো বলে মনে করছেন তারা।

ডিএসইতে গতকাল ৫০০ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৭৩৫ কোটি টাকা। গতকাল এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৩১০টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ১২টির, কমেছে ১৪৮টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৫০টি সিকিউরিটিজের বাজারদর।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে সাধারণ বীমা খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৮ শতাংশ দখলে নিয়েছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত। ৮ দশমিক ৬ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি খাত।




লিগ্যাসি ফুটওয়্যারের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত চামড়া খাতের কোম্পানি লিগ্যাসি ফুটওয়্যার লিমিটেডের শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) এই নির্দেশনা দিয়েছে বিএসইসি।

বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, লিগ্যাসি ফুটওয়্যারের শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ার বিষয়ে ডিএসইকে একটি তদন্ত করা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ২০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন বিএসইসির সার্ভেইল্যান্স বিভাগে জমা দিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানি। কোম্পানিটির শেয়ারের দাম চলতি বছরের ১৯ মার্চ মাসে ছিল ৪২ টাকা ৩০ পয়সা। যা বৃদ্ধি পেয়ে গত ৬ আগস্ট লেনদেন হয়েছে ১৩৬ টাকা ৫০ পয়সায়। শেয়ারের মূল্য অস্বাভাবিক বাড়ার কারণে কোম্পানিটির ১৯ মার্চ থেকে পরবর্তী সময়ের জন্য লেনদেনের ওপর তদন্তের নির্দেশনা দিয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর ডিএসইকে বিএসইসির সার্ভেইল্যান্স বিভাগ থেকে পত্র মারফত ২০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




মার্কেন্টাইল ব্যাংকের নাম পরিবর্তন

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানিটির নাম পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই ধরাবাহিকতায় ব্যাংকটি দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কাছে নাম পরিবর্তনের অনুমতি চায়। তারই আলোকে সার্বিক দিক বিবেচনা করে দিয়েছে ব্যাংকটির নাম পরিবর্তন করার অনুমতি দিয়েছে ডিএসই কর্তৃপক্ষ।

ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জান গেছে।

তথ্য মতে, কোম্পানিটির নাম ‘মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেডের’ পরিবর্তে ‘মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি’ রাখার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ডিএসই। সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) থেকে কোম্পানির নতুন নাম কার্যকর হবে।

নাম পরিবর্তন ছাড়া অন্যান্য বিষয় অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক।

 




সূচকের পাশাপাশি লেনদেন কমেছে

সূচকের পাশাপাশি লেনদেন কমেছে দেশের শেয়ারবাজারে। এদিন সূচকের উত্থানে লেনদেনের শুরু হয়। পরবর্তীতে সূচকের অস্বাভাবিক উঠানামার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়। তবে সূচক উত্থানের তুলনায় পতনের পরিমাণ বেশি ছিল। এর ফলে দিনশেষে সূচকের পাশাপাশি টাকার অংকে লেনদেন কমেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩.৭৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩০৭.৮১ পয়েন্টে।

অন্য সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ১.৮১ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৩.২৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে এক হাজার ৩৭২.১১ পয়েন্টে ও দুই হাজার ১৪৩.৪৯ পয়েন্টে।

ডিএসইতে গতকাল ৩২৪ কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এদের মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৫৮টির বা ১৭.৯০ শতাংশের, দর কমেছে ১০২টির বা ৩১.৪৮ শতাংশের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬৪টির বা ৫০.৬২ শতাংশের দর।

এদিন ডিএসইতে ৫৭৭ কোটি ০৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ৩৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা কম। আগের কার্যদিবস লেনদেন হয়েছিল ৬১০ কোটি ৬৫ লাখ টাকার।

এদিন চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৩১.৮৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৬৩১.৫৮ পয়েন্টে।

এছাড়া সিএসসিএক্স ১৯.২৬ পয়েন্ট, সিএসই-৫০ সূচক ১.১৫ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ১৭.২৩ পয়েন্ট এবং সিএসআই ১.২১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১১ হাজার ১৩৯.৩৮ পয়েন্টে, একহাজার ৩০৮.৫৮ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ৩৯৭.৬১ পয়েন্টে এবং একহাজার ১৭৪.৭৭ পয়েন্টে।

সিএসইতে গতকাল ১৪৮টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৩২টির, কমেছে ৬২টির আর দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৩টি। সিএসইতে গতকাল ১৩ কোটি ১১ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।

 

 

 

 




৪ দশমিক ৬১ শতাংশ দর হারিয়েছে সন্ধানী লাইফ

দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে দর কমার তালিকায় দ্বিতীয় শীর্ষে ছিল সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। এ সময় কোম্পানিটির শেয়ার ৪ দশমিক ৬১ শতাংশ দর হারিয়েছে। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির ৩ কোটি ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, গত ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির জীবন বীমা তহবিলের আকার দাঁড়িয়েছে ৬৮৬ কোটি ৪৭ লাখ ৩০ হাজার টাকায়। এর আগের হিসাব বছরের একই সময় শেষে যা ছিল ৭০০ কোটি ১৮ লাখ ৩০ হাজার টাকায়। সে হিসাবে বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির জীবন বীমা তহবিলের আকার কমেছে ১৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

 

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৪৩ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৪১ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়ায় ১৮ টাকা ৬৮ পয়সায়। আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ১৮ টাকা ১৫ পয়সায়।

এর আগে ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরের জন্যও শেয়ারহোল্ডারদের ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।




লেনদেনের শীর্ষে ইস্টার্ন হাউজিং

ঢাকার শেয়ারবাজারে আজ দিনের প্রথম ঘণ্টায় সূচক ও বিভিন্ন শেয়ারের দাম বেড়েছে। আজ বেশ কয়েক মাস পর ফুওয়াং ফুডকে পেছনে ফেলে লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে ইস্টার্ন হাউজিং। এটি দেশের আবাসন খাতের অন্যতম শীর্ষ কোম্পানি। মূলত কোম্পানিটির মুনাফা ও লভ্যাংশ বৃদ্ধির খবরে এটি লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় উঠে এসেছে।

আজ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে ইস্টার্ন হাউজিং বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে, গত ৩০ জুন সমাপ্ত আর্থিক বছর শেষে কোম্পানিটির মুনাফা বা শেয়ার প্রতি আয় আগের বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে তারা বিনিয়োগকারীদের ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। এই দুই খবরে কোম্পানিটির শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে; ফলে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বেড়েছে এটি লেনদেনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে।

এ ছাড়া খাতভিত্তিক মূল্যবৃদ্ধিতে এগিয়ে আছে খাদ্য, তথ্য প্রযুক্তি ও বিমা খাত। তবে এককভাবে অন্য কোনো কোম্পানি মূল্যবৃদ্ধিতে এগিয়ে নেই।

প্রথম ঘণ্টায় লেনদেনের শীর্ষে থাকা ইস্টার্ন হাউজিংয়ের শেয়ারে লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ৫৭ লাখ টাকার; দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফু ওয়াং ফুডের শেয়ারের লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা; তৃতীয় স্থানে থাকা সোনালি পেপারের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

প্রথম ঘণ্টার লেনদেনের পর দেখা যাচ্ছে, আজ ঢাকার বাজারের তিনটি সূচকই ঊর্ধ্বমুখী। বাজারের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট, ডিএসইএস সূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ২০ পয়েন্ট, ডিএস ৩০ সূচক বেড়েছে ২ দশমিক ৭১ পয়েন্ট।
দিনের প্রথম ঘণ্টায় লেনদেন হয়েছে ১২৯ কোটি টাকার শেয়ার।




৩ কোম্পানির সঙ্গে একীভূত হবে ইন্ট্রাকো রি-ফুয়েলিং

পুঁজিবাজারে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইন্ট্রাকো রি-ফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ তিন কোম্পানির সঙ্গে একীভূতকরণের অনুমতি দিয়েছে।

সোমবার (২৮ আগস্ট) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসইর ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে, কোম্পানিটির সঙ্গে এম.হাই অ্যান্ড কোং সিএনজি রি-ফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেড, নেসা অ্যান্ড সনস লিমিটেড এবং গুড সিএনজি রি-ফুয়েলিং স্টেশন একীভূত হবে।

ইন্ট্রাকো রি-ফুয়েলিং আরও জানিয়েছে, শেয়ারহোল্ডার, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), ব্যাংক এবং অন্যান্য ঋণদাতা, একত্রিকরণের সিদ্ধান্ত তিন কোম্পানির সাধারণ সভায় অনুমোদন এবং সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে কোম্পানিগুলোর সঙ্গে একত্রিকরণ হবে।




রূপালী লাইফের শেয়ারদর বেড়েছে ১১%

পুঁজিবাজার তালিকাভুক্ত বীমা খাতের কোম্পানি রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ারদর গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে প্রায় ১১ শতাংশ বেড়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত ‘‌এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর মধ্যে আলোচ্য সপ্তাহে এ কোম্পানির শেয়ারদর সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। সপ্তাহ শুরুর ১০৩ টাকা ৫০ পয়সার শেয়ারটি সপ্তাহ শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৪ টাকা ৭০ পয়সায়। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির মোট ৯১ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, কোম্পানিটির জীবন বীমা তহবিলের আকার চলতি ২০২৩ হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ৪৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা কমেছে। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে এ তহবিল ৩৫ লাখ ২০ হাজার টাকা বেড়েছিল। তবে চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) কোম্পানিটির জীবন বীমা তহবিল ১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা বেড়েছে। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে বেড়েছিল ১ কোটি ৮৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা। গত ৩০ জুন শেষে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মোট জীবন বীমা তহবিলের আকার দাঁড়িয়েছে ৫০৬ কোটি ৯২ লাখ ৯০ হাজার টাকায়। আগের হিসাব বছরের একই সময় শেষে এর আকার ছিল ৫৩০ কোটি ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। সে হিসাবে বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির জীবন বীমা তহবিল কমেছে ২৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছে কোম্পানিটি। ঘোষিত লভ্যাংশ ও আলোচ্য হিসাব বছরের অন্যান্য এজেন্ডায় শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নিতে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট ছিল ১৭ আগস্ট।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১৮ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ২০২০ হিসাব বছরের জন্য মোট ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। এর মধ্যে ১৩ শতাংশ নগদ ও ২ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। ২০১৯ হিসাব বছরে কোম্পানিটি মোট ১৪ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল। এর মধ্যে ১২ শতাংশ নগদ ও ২ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা ২০১৮ হিসাব বছরের জন্য ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন। আগের হিসাব বছরে ৮ শতাংশ নগদের পাশাপাশি ৪ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি।




শোক দিবসে এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ ডিএসইর

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ৷

একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছাসহ ১৫ আগস্টের সব শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় ডিএসইর পক্ষ থেকে আগারগাঁও জামিয়া হোসাইনিয়া আরাবিয়া মাদরাসা ও এতিমখানায় এতিমদের মধ্যে খাবার বিতরণ ও দোয়া করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে ডিএসইর চেয়ারম্যান হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবুর নেতৃত্বে ডিএসইর প্রতিনিধি দল বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। আর এতিমদের মধ্যে খাবার বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর চেয়ারম্যান হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু।

 

ডিএসইর পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগস্ট মাস শোকের মাস। শোকাবহ আগস্টের স্মরণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তার অংশ হিসেবে আজ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ এবং এতিমদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, মো. আফজাল হোসেন, রুবাবা দৌলা, মো. শহীদুল ইসলাম, মো. শাকিল রিজভী, মো. শরীফ আনোয়ার হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এম. সাইফুর রহমান মজুমদারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।




পুঁজিবাজারকে সাইড লাইনে রেখে দেওয়া হয়েছে: ডিএসই চেয়ারম্যান

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে সাইড লাইনে রেখে দেওয়া হয়েছে মন্তব্য করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু বলেছেন, বাইরের শক্তি পুঁজিবাজার দাঁড় করিয়ে দেবে না। আমাদের পুঁজিবাজার আমাদেরকেই দাঁড় করাতে হবে। ডিএসইতে দক্ষ নেতৃত্ব লাগবে।

সোমবার (১৪ আগস্ট) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা ও ১৫ আগস্টের সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, উন্নত দেশে পুঁজিবাজার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। কিন্তু আমাদের দেশে পুঁজিবাজারকে সাইড লাইনে রেখে দেওয়া হয়েছে। বাইরের শক্তি আমাদের পুঁজিবাজার দাঁড় করিয়ে দেবে না। আমাদের পুঁজিবাজার আমাদেরকেই দাঁড় করাতে হবে।

তিনি বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পুঁজিবাজারের মূল কর্ণধার। এজন্য আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই। তাহলে দেশের পুঁজিবাজার এগিয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে পুঁজিবাজারকে এগিয়ে নিতে হবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে এটুকু আশ্বাস দিতে পারি, আমরা আপনাদের সেবা দিতেই এখানে বসে আছি। আমরা সবসময় আপনাদের কথা ভাবি। একদিন-দুদিনে তো আমরা আর কিছু করতে পারবো না, কিন্তু আমরা সবসময় আপনাদের জন্য আপনাদের পাশে নিয়ে কাজ করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, আমরা এখানে এসেছি দায়িত্ব পালন করতে। এখান থেকে কী পেলাম সেটা বড় বিষয় না। আজ আমাদের পুঁজিবাজার পিছিয়ে থাকার অনেকগুলো কারণ আছে। উন্নত দেশগুলোতে পুঁজিবাজারের ওপর অর্থনীতি নির্ভর করে। তাই আমি বিশ্বাস করি, উন্নত দেশের মতো যে অর্থনীতির স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী দেখছেন, সেখানে পুঁজিবাজারকে নিয়েই তিনি অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় কথা ভাবছেন।

ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে বঙ্গবন্ধুর মতো নেতৃত্ব বিরল। তার মতো শক্তিশালী কণ্ঠ, তার মতো শক্তিশালী নেতৃত্ব, এমন আর বাংলাদেশের মাটিতে আমি দ্বিতীয়টি দেখিনি। এদেশে সবচেয়ে বড় অভাব দেশপ্রেম ও সততার। একটা দেশের মানুষের মাঝে যদি দেশপ্রেম থাকে তাহলে নিজে থেকেই তার মাঝে সততা চলে আসবে। আজ এই স্বদেশ প্রেমের ঘাটতির কারণেই আমরা বঙ্গবন্ধুকে হারিয়েছি।

হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু বলেন, তবুও আমরা সৌভাগ্যক্রমে আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে পেয়েছি। বঙ্গবন্ধু আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাঝে আমি যে মিল খুঁজে পাই তা হলো দেশপ্রেম, প্রচণ্ড দেশপ্রেম। বঙ্গবন্ধু আর প্রধানমন্ত্রী দুজনেরই জীবনযাপন খুবই স্বাভাবিক। তাদের দুজনেরই মনে বিন্দুমাত্র লোভ নেই।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সব সিদ্ধান্ত দেশের মানুষ আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করছেন। দেশের মানুষ চায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আরও সামনে এগিয়ে যাক। কারণ দেশের মানুষ বিশ্বাস করেন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার যে স্বপ্ন তা কেবল শেখ হাসিনার মাধ্যমেই বাস্তবায়ন সম্ভব।

 

ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডের (সিএমএসএফ) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, আমাদের প্রত্যেকের হৃদয়েই বঙ্গবন্ধুর জন্য একটি স্থান রয়েছে। বিদেশে আমি যখনই গিয়েছি, তখনই দেখেছি বাংলাদেশ শুনলেই সবাই বলতো শেখ মুজিবুর রহমানের কথা। বাংলাদেশ মানেই যেন শেখ মুজিবুর রহমান।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর দেশের অবকাঠামো যখন ধ্বংসপ্রাপ্ত ছিল, তখন যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশের সর্বহারা ২০ লাখ মানুষের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা ছিল বিশাল চ্যালেঞ্জ, এর মাঝেও বঙ্গবন্ধু পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা করলেন। ওনার নেতৃত্বে আমরা সংবিধান পেলাম, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা পেলাম। আর দেশের আজকের যত পরিকল্পনা সব পরিকল্পনার বীজ তখনই বুনেছিলেন বঙ্গবন্ধু।

তিনি বলেন, ববঙ্গবন্ধুর শাসনামলে নমিনাল জিডিপি ২৮ শতাংশ হারে বেড়েছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যা ৬ শতাংশে নেমে আসে। আমরা অনেক ভাগ্যবান ওনার দুই কন্যা ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন। দেশে ফিরে শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করলেন, সেই থেকে আমরা আবারও অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়ন করেছি, বিদ্যুৎ খাতের চরম সংকট থেকে তিনি জাতিকে মুক্ত করলেন।

তিনি আরও বলেন, আমরা আগামী ১০০ বছরের ডেল্টা প্ল্যান পর্যন্ত করার চিন্তা করছি। এটা তখনই সম্ভব, যখন দেশের স্বাধীনতার পক্ষের রাজনৈতিক শক্তি দেশ শাসন করে। আমরা আমাদের জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মৃতিকে তখনই সম্মান দেখাতে পারবো, যখন আমরা দুর্নীতিকে পরাস্ত করে, স্বাধীনতার চেতনাকে জাগ্রত করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো।

ডিএসইর সাবেক চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান বলেন, আমাদের দেশে অনেক নেতা ছিলেন, ভবিষ্যতেও হবেন। এ নেতাদের মাঝে বঙ্গবন্ধুকে আলাদাভাবে বঙ্গবন্ধু করার কারণ ওনার আগে আর কোনো নেতা একা পুরো বাঙালিকে কোনো একটি বিষয় নিয়ে ঐক্যবদ্ধ করতে পারেননি। বঙ্গবন্ধুর এ বৈশিষ্ট্যের কারণেই আজ আমরা স্বাধীন হতে পেরেছি।

প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আজকের বাংলাদেশে যেসব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তার রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হলেও এর ভিত্তি প্রস্তর করে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। তার (বঙ্গবন্ধু) হত্যার ২১ বছর পর (১৯৯৬ সাল) শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসেন। এরপর বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু করেন। প্রকাশ্যে হত্যাকারীদের বিচার কার্য নিশ্চিত করেন। কিন্তু এ হত্যাকাণ্ডের পেছনের চক্রান্তকারীরা ছিল ধরাছোয়ার বাইরে। তাদের খুঁজে বের করতে সরকার কাজ করছে। শুনেছি এরই মধ্যে এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন হয়েছে। শিগগির এসব চক্রান্তকারীদের নাম বেরিয়ে আসবে। দৃষ্টান্তমূলক বিচারও হবে।

ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরামের (সিএমজেএফ) প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বলেন, ১৯৭৫ এ যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে তারা ভেবেছিলেন ব্যক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার মধ্যদিয়েই তার স্বপ্নের অবসান ঘটবে, তার আশার অবসান ঘটবে। কিন্তু আসলে সেটি ঘটেনি। আজ বঙ্গবন্ধু নেই, কিন্তু তার যে স্বপ্ন, তার যে আদর্শ, তার যে চেতনা তা সঞ্চারিত হয়েছে বাঙালি জাতির মধ্যেই। যার ফলেই ১৯৭১ এর যুদ্ধ বিধ্বস্ত এ দেশ আজ সমৃদ্ধির দ্বারপ্রান্তে।

তিনি বলেন, যদি ১৯৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে দেশের অগ্রযাত্রাকে লাইনচ্যুত করা না হতো তবে দেশ আজ বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে আরও এগিয়ে যেত।

ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ মৃধা বলেন, দেশের অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে ভিশনারি নেতৃত্ব এবং ১৯৭১ এ অর্জিত স্বাধীনতার জন্য। জাপানিজরা গবেষণা করে দেখেছে বাংলাদেশ ভবিষ্যতের বিজনেসের হাব। তারা গবেষণা করে দেখেছেন বাংলাদেশ সামনে অনেক এগিয়ে যাবে। জাপানিজরা এরই মধ্যে কক্সবাজার জোনে অনেক ধরণের বিনিয়োগ করেছেন।




১৩ কোম্পানির পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ১৩ কোম্পানির প্রান্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ সংক্রান্ত পরিচালনা পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করেছে।

বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করা কোম্পানিগুলো হলো- ন্যাশনাল ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স, নিটল ইন্স্যুরেন্স এবং হাইডেলবার্গ সিমেন্ট।

সভায় এই কোম্পানিগুলো তাদের দ্বিতীয় প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন, ২০২৩ সাল) আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করবে। একই সঙ্গে পর্ষদ সদস্যরা এই প্রতিবেদন অনুমোদন শেষে সবার উদ্দেশ্যে প্রকাশ করবে।

এদের মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংকের পর্ষদ সভা আগামী ২৫ জুলাই বিকেল ৩টায়, যমুনা ব্যাংকের আগামী ২৬ জুলাই বিকেল ৪টায়, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের আগামী ২৬ জুলাই বিকেল ৪টায়, এনআরবিসি ব্যাংকের আগামী ২৪ জুলাই দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে, সাউথইস্ট ব্যাংকের ২৬ জুলাই বিকেল ৩টায়, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ২৬ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টায়, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের ২৭ জুলাই বিকেল ৩টায়, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৩০ জুলাই বিকেল ৩টায়, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের ২৭ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টায়, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সের আগামী ২৫ জুলাই বিকেল ৩টায়, গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের আগামী ২৬ জুলাই বিকেল ৩টায়, নিটল ইন্স্যুরেন্সের আগামী ২৬ জুলাই বিকেল সাড়ে ৩টায় এবং হাইডেলবার্গ সিমেন্টের আগামী ২৫ জুলাই বিকেল ৩টায় পরিচালনা পর্ষদ সভা শুরু হবে।




ডিএসইতে বিদায়ী সপ্তাহে পিই রেশিও বেড়েছে

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (১৬ থেকে ২০ জুলাই) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) বেড়েছে। আলোচ্য এ সময়ে ডিএসইর পিই রেশিও বেড়েছে ১.০৫ শতাংশ।

ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, বিদায়ী সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ১৪.৩১ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে পিই রেশিও অবস্থান করছে ১৪.৪৬ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও ০.১৫ পয়েন্ট বা ১.০৫ শতাংশ বেড়েছে।

এর আগের সপ্তাহের শুরুতে (৯ থেকে ১৩ জুলাই) ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ১৪.৩১ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে পিই রেশিও অবস্থান করছে ১৪.৩১ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও অপরিবর্তীত ছিল।




সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের মুনাফা বেড়েছে

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা খাতের কোম্পানি সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের মুনাফা বেড়েছে। কোম্পানির দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

সোমবার (১৭ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসইর তথ্যমতে, ২০০৭ সালে তালিকাভুক্ত বিমা কোম্পানিটির চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন দ্বিতীয় প্রান্তিকে সমন্বিত শেয়ার প্রতি আয় বা মুনাফা (ইপিএস) হয়েছে ৮১ পয়সা। এর আগের বছর শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস ছিল ৬৫ পয়সা। ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে জুন সময়ের তুলনায় মুনাফা বেড়েছে শেয়ার প্রতি ১৬ পয়সা করে।

শুধু দ্বিতীয় প্রান্তিকেই নয়, চলতি বছরের প্রথম দুই প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৩৫ পয়সা। যা ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে জুন সময়ে ছিল ১ টাকা ৪ পয়সা। অর্থাৎ ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালের অর্ধবাষিকীতেও ৩১ পয়সা করে মুনাফা বেড়েছে।

মুনাফা বৃদ্ধির প্রান্তিকে ৩০ জুন ২০২৩ সময়ে কোম্পানির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ৭০ পয়সা। যা ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সময়ে ছিল ১৮ টাকা ৫৭ পয়সা। অর্থাৎ সম্পদ মূল্যের পরিমাণও বেড়েছে।

কোম্পানির বর্তমান শেয়ার সংখ্যা ৬ কোটি ৮১ লাখ ৬৬ হাজার ১২২টি। এই শেয়ারহোল্ডারদের সর্বশেষ ২০২২ সালে সাড়ে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। এর আগের বছর ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল।




ডিএসইতে বিদায়ী সপ্তাহে  অপরিবর্তীত পিই রেশিও

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (৯ থেকে ১৩ জুলাই) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) অপরিবর্তীত রয়েছে।

ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, বিদায়ী সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ১৪.৩১ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে পিই রেশিও অবস্থান করছে ১৪.৩১ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও অপরিবর্তীত রয়েছে।

এর আগের সপ্তাহের শুরুতে (২ থেকে ৬ জুলাই) ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ১৪.৩৫ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে পিই রেশিও অবস্থান করছে ১৪.৩১ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও ০.০৪ পয়েন্ট বা ০.২৮ শতাংশ কমে।




ঘোষিত মুদ্রানীতি পুঁজিবাজার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে : ডিএসই

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত মুদ্রানীতি পুঁজিবাজারের সম্প্রসারণ তথা সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

রোববার (১৮ জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু বলেন, ঘোষিত মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণসহ সামগ্রিক মার্কেট ইকোনমিক স্থিতিশীলতার মাধ্যমে জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের বিষয়ে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য সময়োপযোগী ও দিকনির্দেশনা মূলক মুদ্রানীতি। ঘোষিত মুদ্রানীতিতে পুঁজিবাজারের প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সমর্থনের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের সম্প্রসারণ তথা সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

রোববার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ১ম ষান্মাসিকের জন্য (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৩) নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। এসময় ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল, কাজী ছাইদুর রহমান, আবু ফরাহ মো. নাছের, এ কে এম সাজেদুর রহমান খান, বিএফআইইউ প্রধান মাসুদ বিশ্বাস, প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. হাবিবুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র আবুল বশরসহ গবেষণা বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর জানান, আগামী অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশ এবং সাড়ে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবার প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনের চেয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে জোর দিয়েছে।

তিনি বলেন, ঘোষিত মুদ্রানীতিতে একটি উন্নত ও বিকশিত পুঁজিবাজার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লিখিত হয়েছে। উন্নত ও বিকশিত পুঁজিবাজারের অভাবে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ ব্যাংকের অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়। বন্ড মার্কেট এই বৃহৎ অর্থায়নের চাহিদা পূরণ করতে পারে। সরকারি ও বেসরকারি খাত বন্ডের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে তাদের ব্যয় কমাতে পারে এবং পরিচালনাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারে। এছাড়াও সরকার বন্ডের মাধ্যমে কম খরচে বাজেটের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ উত্তরণে পুঁজিবাজারে পর্যাপ্ত তারল্য নিশ্চিত করার জন্য চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্রোকারেজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক ও স্টক ডিলারদের দেওয়া ব্যাংকের শ্রেণিবদ্ধ ঋণের ক্ষেত্রে সংরক্ষিত প্রভিশন ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করেছে। এছাড়াও ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ না নিয়ে বন্ড ইস্যু করে অর্থের সংস্থান করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে।

মুদ্রানীতিতে পুঁজিবাজারের প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সমর্থন পুঁজিবাজারের সম্প্রসারণ তথা সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। ঘোষিত মুদ্রানীতিতে পুঁজিবাজারকে গুরুত্বারোপ করায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু বাংলাদেশ ব্যাংককে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে সেকেন্ডারি মার্কেটে বন্ডের ট্রেড সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে মার্কেট ইনফ্রাস্টাকচার মডিউল প্লাটফর্ম ব্যবহার করার জন্য গাইডলাইন প্রণয়ন করেছে। এছাড়া ব্যাংকিং কোম্পানি অ্যাক্ট ১৯৯১-এর সংশোধন অনুমোদনের জন্য জাতীয় সংসদে রয়েছে। যা বাস্তবায়িত হলে পুঁজিবাজার উন্নয়নে সহায়ক হবে। বিএসইসি বাজারের প্রবৃদ্ধির জন্য প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছে এবং এজন্য কিছু নীতিগত ব্যবস্থা নিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো– মিউচ্যুয়াল ফান্ড, (স্পেশাল ফান্ড যেমন পেনশন ফান্ড ব্যতীত) এর বিনিয়োগ সীমা বৃদ্ধি করা। বিএসইসি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য ন্যূনতম বিনিয়োগের সীমা ৬০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশে বৃদ্ধি করেছে। একটি শক্তিশালী ও গতিশীল পুঁজিবাজারের জন্য প্রয়োজন বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি এবং সরকারি কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ। ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের এই আশাবাদের সঙ্গে একমত পোষণ করে পুঁজিবাজার উন্নয়নে একযোগে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, ঘোষিত মুদ্রানীতিতে পুঁজিবাজার থেকে দীর্ঘমেয়াদে অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি কার্যকর বন্ড মার্কেট প্রতিষ্ঠিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ দুটো বিষয়ের ওপর ডিএসইও দেশের নীতি নির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। ডিএসই মনে করে, এ দুটো উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে গেলে যথাযথ কৌশল প্রণয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও বিকাশে সারা বিশ্বে নীতি-সমর্থন এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে বলিষ্ঠ ভূমিকা থাকে, ঘোষিত মুদ্রানীতিতে পুঁজিবাজারের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সে ধরনের ভূমিকাই রয়েছে।




প্রথম প্রান্তিকে মুনাফা বৃদ্ধি বিজিআইসির

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের মুনাফা বেড়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিজিআইসি)।

প্রতিষ্ঠানটির জানুয়ারি ৩১ মার্চ, ২০২৩ তারিখে সমাপ্ত প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।

সোমবার (১৯ জুন) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ‍্য জানা গেছে।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৭৩ পয়সা। গত বছর একই সময়ে ইপিএস হয়েছিল ৭১ পয়সা। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় মুনাফা বেড়েছে।

গত ৩১ মার্চ ২০২৩ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ২০ টাকা ১০ পয়সা। এর আগের বছরের একই সময় ছিল ২০ টাকা ২৫ পয়সা।




ক্রেডিট রেটিং সম্পন্ন করেছে ইউনিয়ন ব্যাংক

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেডের ক্রেডিট রেটিং সম্পন্ন করে তা প্রকাশ করা হয়েছে। কোম্পানির ক্রেডিট রেটিং নির্ণয় করেছে আলফা ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (আলফা রেটিং)।

রোববার (১৮ জুন) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আলফা ক্রেডিট রেটিং লিমিটেডের রেটিং অনুযায়ী, কোম্পানির দীর্ঘ মেয়াদে রেটিং হয়েছে “এ+”। আর স্বল্প মেয়াদে রেটিং হয়েছে “এসটি-২”।

২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছর নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং চলতি বছরের ১৪ জুন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক গুনগত তথ্যের ভিত্তিতে এই ক্রেডিট রেটিং নির্ণয় করা হয়েছে।




ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ক্রেডিট রেটিং প্রকাশ

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ক্রেডিট রেটিং সম্পন্ন করে তা প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যাংকটির ক্রেডিট রেটিং নির্ণয় করেছে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)।

বুধবার (৩১ মে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল) রেটিংস অনুযায়ী ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের দীর্ঘমেয়াদে রেটিং হয়েছে ‘এ+’। আর স্বল্পমেয়াদী রেটিং হয়েছে ‘এসটি-২’।

২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যের ভিত্তিতে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের এ রেটিং নির্ণয় করা হয়েছে।




বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে পিই রেশিও বেড়েছে

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (২১ থেকে ২৫ মে) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) বেড়েছে। আলোচ্য এ সময়ে ডিএসইর পিই রেশিও বেড়েছে ০.১৪ শতাংশ।

ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

 

তথ্য মতে, বিদায়ী সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ১৪.৫৩ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে পিই রেশিও অবস্থান করছে ১৪.৫৫ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও ০.০২ পয়েন্ট বা ০.১৪ শতাংশ বেড়েছে।

এর আগের সপ্তাহের শুরুতে (১৪ থেকে ১৮ মে) ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ১৪.৩৫ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে পিই রেশিও অবস্থান করছে ১৪.৫৩ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও ০.১৮ পয়েন্ট বা ১.২৫ শতাংশ বেড়েছিল।




আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ক্রেডিট রেটিং সম্পন্ন

শেয়ারবাজারে আর্থিক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেডের ক্রেডিট রেটিং সম্পন্ন হয়েছে। কোম্পানিটিকে রেটিং দিয়েছে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)।

বৃহস্পতিবার (২৫ মে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেডের রেটিং অনুযায়ী, আইডিএলসি ফাইন্যান্সের দীর্ঘমেয়াদী রেটিং হয়েছে ‘এএএ’ এবং স্বল্পমেয়াদী রেটিং হয়েছে ‘এসটি-১’।

আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ রেটিং নির্ণয় করছে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড।




ফের নতুন এমডি খুঁজছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ

আবারও নতুন করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) খুঁজছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২৩ মে) কয়েকটি জাতীয় দৈনিক ও ওয়েবসাইটে এমডি পদে যোগ্য ও ভালো প্রার্থী চেয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ডিএসই।

 

গত বছরের ২৩ আগস্ট ডিএসইর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তারিক আমিন ভুঁইয়ার পদত্যাগের পর থেকে বেশ কয়েক দফায় এ পদের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময়ের পর দুই দফা সময় বাড়ানোর পরও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ দিতে ব্যর্থ হয়েছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসই। একাধিকবার সময় দিয়েও যোগ্য ব্যক্তির মনোয়ন ডিএসইর কাছ থেকে পায়নি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তাই, এবার ডিএসইকে পুনরায় এমডি নিয়োগ দিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। ওই নির্দেশনার আলোকেই এমডি নিয়োগে ফের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলো ডিএসই।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ৩ বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক ডিএসইর এমডি নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ২২ জুনের মধ্যে অনলাইনে https://career.dse.com.bd:9000/ এবং https://www.dsebd.org/career.php আবেদন জমা দেওয়া যাবে।

এমডি হতে আগ্রহীদের ব্যবসায়, অর্থনীতি, পরিসংখ্যান, গণিত বা আইনসহ স্নাতক ন্যুনতম ১০ বছরের ব্যবস্থাপনা অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এছাড়া ফিনটেক, ইনফরমেশন টেকনোলজি ও গভর্নেন্স বিষয়ে জ্ঞান থাকতে হবে। তবে পুঁজিবাজারে আন্তর্জাতিক এক্সপোজারসহ ব্যতিক্রমী প্রার্থীর বিষয়ে যোগ্যতা শিথিল করতে পারে বোর্ড। এছাড়াও পুঁজিবাজার-ফিনান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন সম্পর্কিত বৈদেশিক অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেন তৎকালীন এমডি তারিক আমিন ভূঁইয়া। নিয়ম অনুযায়ী, ডিএসইর এমডি পদ খালি হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে বিএসইসি এই পদে নিয়োগ দেবে। সে লক্ষ্যে এমডি পদে নিয়োগের জন্য গত বছরের ৬ অক্টোবর জাতীয় পত্রিকা ও ডিএসইর ওয়েবসাইটে এমডি পদের জন্য যোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন চেয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়।

এরপর বিএসইসির কাছে ৪৫ দিন সময় বাড়ানোর আবেদন করলে ডিএসইকে এক মাস সময় দেওয়া হয়। ওই সময়ের মধ্যেও প্রস্তাব জমা দেয়নি। পরে দ্বিতীয় দফায় আবারও সময় বাড়ানোর আবেদন করে ডিএসই। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২ মাস সময় বাড়ায় বিএসইসি।

এদিকে, প্রবিধান অনুসারে ডিএসইর এমডি নিয়োগের প্রক্রিয়ার ধাপগুলো হলো—প্রথমত, ডিএসইর নমিনেশন ও রিমুনেরেশন কমিটি এমডি পদের জন্য আবেদনকারীদের মধ্য থেকে কমপক্ষে তিনজন প্রার্থী নির্বাচন করবে। দ্বিতীয়ত, ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ নমিনেশন ও রিমুনেরেশন কমিটি দ্বারা নির্বাচিতদের মধ্য থেকে কমপক্ষে তিনজন প্রার্থীর জন্য সুপারিশ করবে। এবং সবশেষে বিএসইসি উল্লিখিত পদের জন্য বোর্ডের সুপারিশকৃতের মধ্যে থেকে একজন আবেদনকারীকে অনুমোদন দেবে। এছাড়া, প্রবিধানে লেখা আছে যে, যদি পরিচালনা পর্ষদ এমডি বা সিইও নিয়োগে ব্যর্থ হয়, তাহলে কমিশন একজনকে নিয়োগ করতে পারে।

তারিক আমিন ভূঁইয়া ২০২১ সালের ২৫ জুলাই ডিএসইর এমডি হিসেবে যোগ দেন। তিনি প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞ। তিন বছরের জন্য তাকে নিয়োগ দেয় বিএসইসি। কিন্তু, ১৩ মাসের মাথায় তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। তার আগে ২০২০ সালের ৮ অক্টোবর কাজী ছানাউল হক ডিএসইর এমডি হিসেবে থাকবেন না বলে পদত্যাগপত্র জমা দেন।




রিং সাইন টেক্সটাইলসের এমডি মকবুল হোসেন

পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি রিং সাইন টেক্সটাইলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) এ.এইচ.এম মকবুল হোসেন।

মঙ্গলবার (২৩ মে) কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় তাকে এই পদের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়। বুধবার (২৪ মে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

রিং সাইন টেক্সটাইলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ.এইচ.এম মকবুল হোসেনের নিয়োগ বুধবার (২৪ মে) থেকে কার্যকর করা হবে। এর আগে সোমবার (২২ মে) প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক থেকে পদত্যাগ করেন সাং ওয়াই মিন। ওই দিনই কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ তার এই পদত্যাগ গ্রহণ করেছে।

জানা গেছে, অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এ.এইচ.এম মকবুল হোসেন, এনডিসি, পিএসসি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়ার পর পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি রয়েল টিউলিপ ফ্রাঞ্চাইজ সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানি কুইন সাউথ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন।




ডিএসইর স্বতন্ত্র পরিচালক শহিদুল ইসলাম ও কাওসার আহমেদ

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের(ডিএসই) স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. শহিদুল ইসলাম এবং কাওসার আহমেদ। এ নিয়োগ অনুমোদন দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

মঙ্গলবার (২৩মে) বিএসইসির ৮৬৯তম সভায় ডিএসইর প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে দুইজনের নাম অনুমোদন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম।

তিনি বলেন, সভায় ডিএসইর প্রস্তাবনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান ও ডিএসই রেগুলেশন ২০১৩ পরিপালন সাপেক্ষে ডিএসইর স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে মো. শাহিদুল ইসলাম ও কাওসার আহমেদের নাম অনুমোদন করা হয়েছে। এখন ডিএসইর পর্ষদ তাদের নিয়োগ দেবে।

চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি বিএসইসি ডিএসইর পর্ষদে পরিচালক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্রযুক্তি অনুষদের ডিন ড. হাফিজ হাসান বাবু, ব্যাংকিং এবং বিমা বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন ও ওরাকল বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (নেপাল ও ভুটান) রুবাবা দৌলাকে অনুমোদন দেওয়া হয়।

বর্তমানে ডিএসইর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন ড. হাফিজ হাসান বাবু। এ নিয়োগের মধ্য দিয়ে ডিএসই পর্ষদ পরিপূর্ণ হল।




গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের লভ্যাংশ ঘোষণা

শেয়ারহোল্ডারদের ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।

২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১ টাকা ১২ দশমিক ২৫ পয়সা করে নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ।

বুধবার (২৪ মে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসইর তথ্য মতে, ২০২২ সালে বিমা কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৬৩ পয়সা। সেখান থেকে শেয়ারহোল্ডারদের ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়া হবে।

এর আগের বছর ২০২১ সালে বীমা কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ১ টাকা ৬২ পয়সা। সে বছর শেয়ারহোল্ডারদের মোট ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল বিমা কোম্পানিটি। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় মুনাফা সামান্য বেড়েছে।

ঘোষিত লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের সর্বসম্মতিতে অনুমোদনের জন্য কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৫ আগস্ট। ওইদিন ডিজিটাল প্লাটফর্মে কোম্পানির এজিএম বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৩ জুন।

২০০৫ সালে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ১৩ টাকা ৮০ পয়সা। এর আগের বছর ছিল ১৩ টাকা ৩৭ পয়সা।

কোম্পানিটির বর্তমান শেয়ার সংখ্যা ৪ কোটি ৫ লাখ ৫১ হাজার ৭৬৩টি। আজ (বুধবার) দিনের শুরুতে কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪২ টাকা ৫০ পয়সা। আজ কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে প্রাইজ লিমিট নেই।

এদিকে নতুন বছর প্রথম প্রান্তিক অর্থাৎ ২০২৩ সালে জানুয়ারি থেকে মার্চ এই সময়ে গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৩১ পয়সা। যা এর আগের বছরে ছিল ৩৯ পয়সা। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে ৯ পয়সা। তাতে কোম্পানিটির এনএভি দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ১২ পয়সা।




 বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে পিই রেশিও বেড়েছে ১.২৫ শতাংশ

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (১৪ থেকে ১৮ মে) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) বেড়েছে। আলোচ্য এ সময়ে ডিএসইর পিই রেশিও বেড়েছে ১.২৫ শতাংশ।

ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, বিদায়ী সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ১৪.৩৫ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে পিই রেশিও অবস্থান করছে ১৪.৫৩ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও ০.১৮ পয়েন্ট বা ১.২৫ শতাংশ বেড়েছে।

এর আগের সপ্তাহের শুরুতে (৭ থেকে ১১ মে) ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ১৪.৩৬ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে পিই রেশিও অবস্থান করছে ১৪.৩৫ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও ০.০১ পয়েন্ট বা ০.০৭ শতাংশ কমেছিল।




ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের বোনাস শেয়ার অনুমোদন

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডকে বোনাস দেওয়ার সম্মতি দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বুধবার (১৭ মে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর ২০২২ সালে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এরপর কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বিএসইসির কাছে আবেদন জমা দেয়। বিএসইসি সেই আবেদনে সম্মতি দিয়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

বিদায়ী বছরের কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল দুই টাকা ৮১ পয়সা। এতে কোম্পানির মোট মুনাফার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৯৩ কোটি ৯২ লাখ ৮২ হাজার ৮২০ টাকা।

ব্যাংকটি শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দেবে। এর আগের বছর ২০২১ সালে ছিল শেয়ার প্রতি আয় ৩ টাকা ২০ পয়সা। সে বছর মুনাফা হয়েছিল ৩৩৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার টাকার।




আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের ক্রেডিট রেটিং প্রকাশ

পুঁজিবাজারে প্রকৌশল খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি আনোয়ার গ্যালভানাইজিং লিমিটেডের ক্রেডিট রেটিং সম্পন্ন করে তা প্রকাশ করা হয়েছে।

কোম্পানিকে ক্রেডিট রেটিং দিয়েছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (সিআরআইএসএল)।

মঙ্গলবার (১৬ মে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের রেটিং অনুযায়ী কোম্পানির দীর্ঘ মেয়াদে রেটিং হয়েছে ‘এএ-’ এবং স্বল্প মেয়াদে রেটিং হয়েছে ‘এসটি-২’।

কোম্পানির ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ মাসের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং প্রাসঙ্গিক গুণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ ক্রেডিট রেটিং নির্ণয় করা হয়েছে।