সৌদি আরবকে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার আহ্বান ঢাকা চেম্বারের

সৌদি আরবের আল মদিনা আল মনোয়ারা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সম্প্রতি মদিনা চেম্বারের কার্যালয়ে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বাংলাদেশ থেকে বিশেষ করে লজিস্টিক, অবকাঠামো, তথ্য-প্রযুক্তি ও আউটোর্সিং প্রভৃতি খাতে আরও বেশি হারে দক্ষ মানবসম্পদ নেওয়ার জন্য মদিনা চেম্বারের উদ্যোক্তাসহ সৌদি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ডিসিসিআই-এর নেতারা।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তারের নেতৃত্বে ৬১ সদস্য বিশিষ্ট বেসরকারি খাতের বৃহৎ বাণিজ্য প্রতিনিধি দলটি সৌদি আরব সফর করছে।

আলোচনা সভায় ডিসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি সৌদি আরবের বিভিন্ন খাতে নিয়োজিত আছেন। বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৩০ শতাংশই সৌদি আরব হতে আসে।’

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবা, পর্যটনসহ অন্যান্য সামাজিক সেবা খাতে সৌদি উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করতে পারে। বাংলাদেশের বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে নানাবিধ প্রণোদনা ও নীতি সহায়তা প্রদান করছে, যেগুলোর সুবিধা গ্রহণ করে সৌদি ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে পারে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য বাজার সম্প্রসারণ খুবই জরুরি। সৌদি আরবের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রফতানিতে এগিয়ে আসার জন্য বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

মদিনা চেম্বারের সহ-সভাপতি ড. খালিদ আব্দুল কাদের দাখাল জানান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, নীতি সহায়তা ও উন্নত সেবা প্রদানের মতো বেশকিছু অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও বৃদ্ধিতে তার চেম্বার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে সচেষ্ট হবে।

তিনি জানান, সৌদি আরবের মোট জিডিপিতে মদিনার অবদান প্রায় ৭ শতাংশ এবং এখানে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমতাবস্থায় তিনি বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, সিরামিক, পর্যটন, এগ্রো-প্রসেসিং, তৈরি পোষাক প্রভৃতি খাতে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। সেইসঙ্গে তিনি দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানোর উপর জোরারোপ করেন।

ঢাকা চেম্বারের সহ-সভাপতি এস এম গোলাম ফারুক আলমগীর (আরমান), সহ-সভাপতি মো. জুনায়েদ ইবনে আলী, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরাসহ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।




ঢাকা চেম্বার ও মক্কা চেম্বারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং মক্কা চেম্বার অব কমার্সের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

বুধবার (১ নভেম্বর) মক্কা চেম্বারের কার্যালয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা ও বিটুটি সেশনে ওই চুক্তি সই হয়েছে। ডিসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার এবং মক্কা চেম্বার অব কমার্সের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ইঞ্জি. ইশমাট মাটোগ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এ সমঝোতা স্মারকে সই করেন।

ডিসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তারের নেতৃত্বাধীন ৬১ সদস্যবিশিষ্ট বেসরকারিখাতের সর্ববৃহৎ প্রতিনিধিদলের সদস্যবৃন্দ উক্ত বাণিজ্য আলোচনা ও বিটুবি সেশনসমূহে যোগদান করেন।

ডিসিসিআই’র প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে মক্কা চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আব্দুল্লাহ গাদি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের বেশ উন্নতি হয়েছে, যেটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অনুকরণীয় ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা যায়, এটাতে আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আমাদেরকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বেশ সম্ভাবনা আছে।

তিনি বলেন, মক্কা শহরে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার সম্প্রসারণ, আধুনিকায়ন ও সংস্কারের লক্ষ্যে সৌদি সরকার বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যেখানে তার দেশের সরকারের নীতিমালা অনুসরণ করে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে পারে।

অনুষ্ঠানের বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার বলেন, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় অর্থনীতি ও নীতি সহায়তা মূলক বিনিয়োগ সুবিধা প্রদান করছে, যার সুযোগ নিয়ে সৌদি আরবের উদ্যোক্তারা একক ও যৌথ বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে পারে।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, দুটি দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ রূপকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনার পাশাপাশি প্রতিযোগী মূল্যে পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির সুযোগ গ্রহণ করে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গুলোতে আরও বেশি হারে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি এস এম গোলাম ফারুক আলমগীর (আরমান), সহ-সভাপতি মো. জুনায়েদ ইবনে আলী, পরিচালনা পর্ষদ এবং প্রতিনিধিদলের সদস্যরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।




বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য সৌদি আরব অত্যন্ত সম্ভাবনাময়: ঢাকা চেম্বার

বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য সৌদি আরব অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বলে মনে করেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার। সোমবার (৩০ অক্টোবর) সৌদি আরবের রিয়াদ চেম্বার অব কমার্সের মধ্যকার দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

রিয়াদ চেম্বার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সামীর সাত্তারের নেতৃত্বে ৬১ সদস্যের একটি বাণিজ্য প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা খুঁজে পেতে দলটি বর্তমানে সৌদি আরব সফর করছে।

বাণিজ্য আলোচনার উদ্বোধনী সেশনে রিয়াদ চেম্বার অব কমার্সের ভাইস চেয়ারম্যান নাইফ আব্দুল্লাহ্ আল রাজিহ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসা বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে। তিনি আরও বলেন, অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে এবং সম্পদের বহুমুখীকরণে দু-দেশের ব্যবসায়ীদের একযোগে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামীতে সৌদিআরবের সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ খাতগুলোতে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা আরও বেশি হারে বিনিয়োগে এগিয়ে আসবেন। কেননা, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সৌদির বাজার বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষনীয়। উভয় দেশের মধ্যকার যৌথ স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে এগিয়ে আসার জন্য আরও আহ্বান জানান রিয়াদ চেম্বারের ভাইস চেয়ারম্যান।

অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার বলেন, ‘বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য সৌদি আরবের বাজারে ব্যবহারের চাহিদা আমাদের সত্যিই গর্বিত করে।’ তিনি বলেন, ‘বিগত কয়েক দশকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে এক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতা তুলে ধরেছে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ যেহেতু ২০২৬ সালে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হচ্ছে, তাই আমাদের পণ্য বহুমুখীকরণের পাশাপাশি বাজার সম্প্রসারণের ওপর আরও বেশি হারে মনোনিবেশ করতে হবে।’

ডিসিসিআই সভাপতি জানান, গত অর্থবছরের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, তবে এটাকে আরও উন্নীতকরণের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা চেম্বারের প্রতিনিধি দলে তথ্য-প্রযুক্তি, কৃষি, অবকাঠামো, নির্মাণ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, পর্যটন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য প্রভৃতি খাতের উদ্যোক্তারা রয়েছেন, যারা সৌদি আরবে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণে অত্যন্ত আগ্রহী।’

এছাড়াও তিনি বাংলাদেশের স্মার্ট ফার্মিং, তথ্য প্রযুক্তি, ফিনটেক, লজিস্টিক এবং অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার জন্য সৌদি আরবের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে দুদেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যকার প্রায় ১২০টি বিটুবি অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও আগামীতে বাণিজ্য সহযোগিতা সম্প্রসারণে ঢাকা চেম্বার এবং রিয়াদ চেম্বার অব কমার্সের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক সই হয়, যেখানে ডিসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার এবং রিয়াদ চেম্বার অব কমার্সের ভাইস চেয়ারম্যান নাইফ আব্দুল্লাহ্ আল রাজিহ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা চুক্তিতে সই করেন।

ঢাকা চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি এস এম গোলাম ফারুক আলামগীর (আরমান), সহ-সভাপতি মো. জুনায়েদ ইবনে আলী, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, সৌদ আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার (ইকোনোমিক) মোরতুজা জুলফিকার নাইন নোমান এবং কমার্শিয়াল কনস্যুলার (বাংলাদেশ কনস্যুলেট, জেদ্দা) সৈয়দা নাহিদা হাবিবা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।




আগামী বাজেটে রাজস্ব ব্যবস্থায় অটোমেশন চান ব্যবসায়ীরা

 

আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন চান ব্যবসায়ীরা। তাতে কর প্রদান প্রক্রিয়া সহজ হবে। বাড়বে রাজস্ব আহরনের পরিমাণ।

বুধবার (২২ মার্চ) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রাক-বাজেট আলোচনা ২০২৩-২৪ : বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ব্যবসায়ীরা।

 

ব্যবসায়িদের সঙ্গে একমত পোষন করেছেন সভার প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তিনি বলেন, রাজস্ব ব্যবস্থায় অটোমেশনের দাবির পক্ষে আমি একমত তবে সবাইকে কর দিতে হবে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম এবং এফবিসিআই’র সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য মো. শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন)।

এছাড়া সম্মানিত অতিথি ছিলেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ। অনুষ্ঠানে আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট), আর্থিক খাত, শিল্প ও বাণিজ্য এবং অবকাঠামো খাত এই চারটি বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালমান এফ রহমান বলেন, আমাদের অর্থনীতি ভালোই চলছিল। এর মধ্যে প্রথমে আসলো কোভিড-১৯। আমরা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কোভিড ভালোভাবেই মোকাবিলা করতে পেরেছি। এরপরই শুরু হলো ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। এর কিছু প্রভাব আমাদের মধ্যে পড়েছে। প্রথমতো যেটি হলো ফেডারেল রিজার্ভ ইন্টারেস্ট রেট বাড়ালো। তাতে সারা বিশ্বে ডলার শক্তিশালী হতে শুরু করলো। ডলার শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের টাকার মান কমতে শুরু হলো। বড় ধরনের প্রভাব পড়লো আমদানির ওপর। তাতে রিজার্ভে চাপ পড়ল। এরপরেই বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি আমাদের অর্থনীতে আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

তিনি বলেন, উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার আমদানি কার্যক্রমে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করে রিজার্ভেও উপর চাপ কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিলেন এক ইঞ্চি মাটিও যেন পতিত না থাকে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর কৃষি জমির ব্যবহার বাড়লো। তাতে এবার আমাদের সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। তাতে এডিবল অয়েলের ৫০ শতাংশ যোগান দেবে আমাদের দেশের সরিষা।

তিনি বলেন, আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা এবং আইএমএফ ঋণ দেওয়ার পর রিজার্ভ স্বাভাবিক হতে শুরু করল। আশা করছি আগামী জুনে এলসি ও ডলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। তাতে রিজার্ভ আরও বাড়বে।

উপদেষ্টা বলেন, দেশের রাজস্ব ব্যবস্থায় অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসার বিষয়ে আমি একমত। তাতের কর প্রদান প্রক্রিয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে করের আওতা বাড়ানোর বিকল্প নেই, ব্যবসায়ীদের কর প্রদানের মানসিকতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

সালমান এফ রহমান বলেন, তৈরি পোষাক খাতের ন্যায় কৃষি, চামড়া, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং সহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাত সমূহে যথাযথ আর্থিক ও নীতি সহায়তা প্রদান করা প্রয়োজন। এছাড়াও তিনি বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব করেন।

শেয়ারবাজার সম্পর্কে সালমান এফ রহমান বলেন, আমাদের ক্যাপিটাল মার্কেটের স্ট্রাকচারাল ডিফেক্ট রয়ে গেছে। আমরা অনেকেই অনেক কথা বলি, কিন্তু এসব সমাধানে যেসব কাজ করা দরকার আমরা তা করছি না।

তিনি বলেন, আমি অ্যানালাইসিস করে দেখেছি আমাদের মার্কেটে দৈনিক লেনদেনের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ হচ্ছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের। আর ৫ থেকে ১০ শতাংশ হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী। আইসিবি টোটালি ইনঅ্যাকটিভ, এছাড়া সিটি ব্যাংক ও অন্যান্য বিনিয়োগকারী ব্যাংক রয়েছে তারা দৈনিক লেনদেনের ৫ শতাংশ অংশগ্রহণ করছে। মূল সমস্যাটা এই জায়গাতেই। অথচ অন্যান্য দেশের ফ্রন্টিয়ার মার্কেটে দৈনিক লেনদেনে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ থাকে ৯০ শতাংশ আর ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী থাকে ১০ শতাংশ।

স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার বলেন, লিস্টেড এবং নন-লিস্টেড কোম্পানির মধ্যে কর হারের ব্যবধান কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে নন-লিস্টেড কোম্পানির কর্পোরেট করের হার আরও ২.৫ শতাংশ কমাতে হবে। এছাড়াও কর প্রদান প্রক্রিয়া সহজ করতে, কর ও মূসক সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সংষ্কারসহ ব্যবসাবান্ধব অটোমেটেড কর ব্যবস্থাপনা প্রবর্তনের প্রস্তাব করেন তিনি।

খেলাপী ঋণ হ্রাসের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদী রোডম্যাপ প্রণয়নের পাশাপাশি এডিআরের প্রয়োগ, অর্থঋণ ও ব্যাংকিং কোম্পানি আইনের সংস্কার, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়াতে সরকারি খাতে ব্যয় হ্রাস এবং মূল্যস্ফীতির সাথে সঙ্গতি রেখে আমানতের সুদহার ও ঋণের সুদের হার নির্ধারণের প্রস্তাব করেন ডিসিসিআই সভাপতি।

বিশেষ অতিথি পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী সালমান এফ রহমান বলেন, আগামী বাজাটে মূল্যস্ফীতি সহনীয় মাত্রায় রাখা, প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, বিনিয়োগ উৎসাহিতকরণ এবং সরকারের ঋণ গ্রহণের প্রবনতা হ্রাস প্রভৃতি বিষয়সমূহের উপর অধিক গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক ও স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের উচ্চাভীলাষী বাজেট প্রণয়নের সুযোগ নেই, তবে জনগণের খাদ্য নিোপত্তা নিশ্চিত করতে বিষয়টিকে সরকার প্রাধান্য দিচ্ছে।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, বাজেট প্রণয়নে বৈশ্বিক পরিস্থিতি, এলডিসি উত্তোরণ, স্থানীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ প্রভৃতি বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের বেসরকারি খাতের সক্ষমতা প্রতিনিয়ত হ্রাস পাচ্ছে এবং বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে কারণ উদ্যোক্তারা সক্ষমতা হারালে সার্বিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশে ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ উন্নয়নে তিনি লাল ফিতার দৌরাত্য কমানোর উপর জোরারোপ করেন। পাশাপাশি ব্যাকওয়ার্ড লিংকে শিল্পের উন্নয়নে সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব করেন তিনি।

এফবিসিসিআই’র সাবেক এ কে আজাদ বলেন, সম্প্রতি সময়ে গ্যাস, বিদ্যুৎ সহ অন্যান্য জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি আমাদের বেসরকারি খাতকে বেশ প্রতিযোগিতার মুখোমুখি করেছে। এমতাবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজার জ্বালানির মূল্য হ্রাস পেলে স্থানীয়ভাবে তা সমন্বয় করা প্রয়োজন। সেই সাথে ব্যাংকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের উন্নয়ন এবং ম্যান-মেইড ফাইবার-এর ব্যবহার বাড়ানোরও প্রস্তাব করেন তিনি।