যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তি পুনর্বিবেচনার দাবি ডিসিসিআই’র

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের হওয়া ‘বাণিজ্য চুক্তি’ পুনর্বিবেচনা করতে নতুন সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

সংগঠনটি বলছে, ‘চুক্তির বিষয়টি একটি নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়াই ছিলো যুক্তিযুক্ত। তড়িঘড়ি করে নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (এনডিএ) করে চুক্তি স্বাক্ষরের কারণে অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। নতুন সরকারকে চুক্তিটি এমনভাবে পুনর্বিবেচনা করতে হবে, যাতে দুই দেশের জন্যই তা উইন-উইন হয়।’

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অডিটরিয়ামে আয়োজিত বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় নবগঠিত সরকারের কাছে ঢাকা চেম্বারের প্রত্যাশা বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ এসব কথা বলেন। ডিসিসিআই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ ছিল না। তারা যুক্তরাষ্ট্রপন্থি চুক্তি সই করেছে। এ চুক্তির কারণে আমরা বিস্মিত। আমরা বিচলিত। আমরা বারবার সরকারের কাছে জানতে চেয়েছি—প্রাইভেট সেক্টরের জন্য করা এই ট্রেড ডিলে কী আছে। না জেনে আমরা কীভাবে সমর্থন দেব?

 

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, নন ডিসক্লোজার এই চুক্তির অনেক বিষয়ই অস্পষ্ট। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সংসদে উপস্থাপন না করেই করা হয়েছে। সংবিধানের ১৪৫(ক) ধারা অনুযায়ী সংসদে উপস্থাপনের বিষয়টি এখানে মানা হয়নি। চুক্তিতে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ কমানোর কথা বলা হলেও কত শতাংশ কটন ব্যবহার করলে শুল্ক ছাড় মিলবে—তা স্পষ্ট নয়। এমনকি রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ শূন্য হলেও নিয়মিত সাড়ে ১৬ শতাংশ ট্যারিফ বহাল থাকবে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দাবি করা হচ্ছে, চুক্তি অনুযায়ী আগামী ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলারের এলএনজি কিনতে হতে পারে। কিন্তু কোন দামে, কী শর্তে কেনা হবে—তা পরিষ্কার নয়। ওমান বা কাতার থেকে আমদানি করলে সময় ও খরচ কম হওয়ার কথা। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনতে লিড টাইম ও ব্যয়—দুটোই বেশি হতে পারে।

চুক্তিতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ভর্তুকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে মন্তব্য করে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, কৃষিখাতে দীর্ঘদিন ধরে সারের, ডিজেল ও কেরোসিনে ভর্তুকি দেওয়া হয়। কিন্তু চুক্তিতে নাকি বলা হয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাজারে পণ্য বিক্রিতে ভর্তুকি দিতে পারবে না—এমন শর্ত থাকলে তা কৃষি ও উৎপাদন খাতের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

তিনি বলেন, গার্মেন্টস আমাদের রপ্তানির লাইফলাইন হলেও জিডিপিতে এর অবদান মাত্র ১৩ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যও মোট বাণিজ্যের ২ শতাংশের কম। তাই বড় অংশীদার চীন, ভারতসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা মারাত্মক হবে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশকে নিষেধাজ্ঞা দিলে সেই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ বাণিজ্য করতে পারবে না—এমন শর্ত থাকলে তা ভবিষ্যতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বা প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) করার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন ডিসিসিআই সভাপতি।

তিনি বলেন, ‘মার্কিন প্রশাসনের নীতিতে দ্রুত পরিবর্তন আসছে। তাই কৌশলগতভাবে বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। চুক্তি বহাল থাকলে অবিলম্বে পুনরায় আলোচনায় বসে রিনিগোশিয়েট করা উচিত। চুক্তিটি এমনভাবে পুনর্বিবেচনা করতে হবে, যাতে দুই দেশের জন্যই তা উইন-উইন হয়।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রেসিপ্রোকাল ট্যারিফকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। তবে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বিভিন্ন দেশের দ্বিপাক্ষিক চুক্তির কী হবে সে বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেছেন, চুক্তিটি যদি বাদ হয়ে যায় সেটি বাংলাদেশের জন্য মঙ্গলজনক। আর চুক্তিটি বাদ না হয়, তবে নতুন সরকারকে বুঝেশুনে উদ্যোগ নিতে হবে। কোনো তড়িঘড়ি করে নয়। এক্ষেত্রে উভয় দেশের স্বার্থ যাতে রক্ষা পায় সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে।




ডিসিসিআই ও ডিএসইর মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই

পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বিনিয়োগকারীর আস্থা জোরদারে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসির (ডিএসই) মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ ও ডিএসই চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি অনুযায়ী, পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা, সক্ষমতা বাড়ানো ও বিনিয়োগকারীর আস্থা জোরদারে দুই প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে গবেষণা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম এবং নীতি সংলাপ আয়োজন করবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) উদ্যোক্তাদের মূলধন বাজারে অংশগ্রহণ সহজতর করতে সচেতনতা কার্যক্রম ও সহজ মানদণ্ড প্রণয়নেও একসঙ্গে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, ‘সমঝোতা স্মারক দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়, উদ্ভাবন ও সহযোগিতার এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করবে এবং এসএমই উদ্যোক্তাদের আর্থিক সংস্থান প্রাপ্তিতে নতুন সুযোগ তৈরি করবে।’

ডিএসই চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে যৌথ গবেষণা, নীতিমালা প্রণয়ন ও উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও ফলপ্রসূ হবে। অনেক এসএমই উদ্যোক্তা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত নন। ডিএসই ও ডিসিসিআইয়ের যৌথ উদ্যোগে তারা প্রয়োজনীয় তথ্য ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জানতে পারবেন।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিসিসিআই সিনিয়র সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, ডিএসই’র প্রধান কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আসাদুর রহমান।




কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ডিসিসিআই’র উদ্বেগ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

রোববার (১৯ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে ডিসিসিআই এই উদ্বেগ জানায়।

বিবৃতিতে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ দেশের প্রধান এই বিমানবন্দরসহ অন্যান্য বন্দরসমূহের সব স্তরে অগ্নিনিরাপত্তাসহ সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

তিনি বলেন, যাত্রীসেবার পাশাপাশি পণ্য আমদানি-রপ্তানির আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য দেশের ব্যবসায়ী সমাজ এ বিমানবন্দর অধিকহারে ব্যবহার করে থাকেন, তাই এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ফলে স্থানীয় ও বিদেশি উদ্যোক্তাদের নিকট পণ্য পরিবহনে অনিরাপত্তা ও অনিশ্চয়তায় দেশের বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই সঙ্গে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা উদ্যোক্তাদের আস্থা ও ব্যবসা পরিচালনা কার্যক্রমকে আরও সংকটে ফেলবে।

তাসকীন আহমেদ বলেন, সাপ্তাহিক ছুটিতে গত শুক্র ও শনিবার বিমানবন্দরের কার্গো খালাস প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় আমদানি-রপ্তানির জন্য কার্গো ভিলেজে অপেক্ষমাণ পণ্যে অগ্নিকাণ্ডের ফলে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ দ্রুত নিশ্চিতের আহ্বান জানাচ্ছে ডিসিসিআই। দেশের ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া ছুটির দিনগুলোতেও অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

অগিকাণ্ডের ঘটনায় আহতদের দ্রুত আরোগ্য লাভে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকল্পে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ডিসিসিআই সভাপতি।




 খেলনা শিল্প রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে বাংলাদেশ

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশে খেলনা শিল্প রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এ শিল্পকে পৃষ্ঠপোষকতা দিলে তা দেশের রপ্তানি বৈচিত্র্য আনয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর পাশাপাশি এটি নারী কর্মসংস্থান ও টেকসই অর্থনীতির ভবিষ্যতেও বড় ভূমিকা রাখবে।

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ডিসিসিআই অডিটরিয়ামে ‘রপ্তানি বহুমুখীকরণ: খেলনা শিল্পের উদ্ভাবন, রপ্তানি সম্ভাবনা ও বাজার সম্প্রসারণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস (পলিসি ও আইসিটি) সদস্য মোহাম্মদ মুবিনুল কবির, ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর মার্টিন ডসন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) সভাপতি ও জলালাবাদ পলিমারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম আহমেদ। এছাড়াও ব্যবসায়ী নেতা, ডিসিসিআই এর সদস্য এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ এরইমধ্যে ৮৮টি দেশে প্রায় ৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের খেলনা রপ্তানি করছে। বর্তমানে ১৪৭টির বেশি কারখানা এ খাতে জড়িত, যেখানে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। এর মধ্যে ৮০ শতাংশই নারী। স্থানীয়ভাবে খেলনা শিল্পে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক খেলনা বাজার ২০২৩ সালে ১০২ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২০৩২ সালে ১৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। চীন ধীরে ধীরে কম খরচের খেলনা উৎপাদন থেকে সরে আসছে, ফলে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

তবে এ শিল্পকে টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মধ্যে রয়েছে কাঁচামালের উচ্চ শুল্ক, আমদানি-নির্ভর প্যাকেজিং, জটিল বিধিনিষেধ এবং লাইসেন্সকৃত খেলনা বাজারে সীমিত প্রবেশাধিকার।

এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে স্থানীয় পরীক্ষাগার স্থাপন, ডিজাইন ট্রেনিং, বিশ্ববিদ্যালয় ও টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের সহায়তা, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং নতুন বাজারে প্রবেশের জন্য দূতাবাস ও বাণিজ্য মিশনের উদ্যোগের ওপর জোর দেন তিনি।

এ সময় তাসকীন আহমেদ বলেন, খেলনা শিল্প কেবল রপ্তানি বৈচিত্র্যে অবদান রাখবে না, বরং নারী কর্মসংস্থান ও টেকসই অর্থনীতির ভবিষ্যতেও বড় ভূমিকা রাখবে।




বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে চীনের সহযোগিতা চাইলো ডিসিসিআই

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে চীনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় চীনা দূতাবাসে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনায় তিনি এ আহ্বান জানান।

আলোচনায় ডিসিসিআই সভাপতি জানান, ২০২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৭ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ চীন থেকে আমদানি করেছে ১৬ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার এবং রফতানি করেছে ৭১৫ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন ও এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়ায় চীনের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাসকীন আহমেদ বলেন, চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক দেশ। অবকাঠামো, জ্বালানি-বিদ্যুৎ, শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়নসহ নানা খাতে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অটোমোবাইল, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, পাদুকা, লজিস্টিকস, চিকিৎসা সরঞ্জাম, স্বাস্থ্যসেবা, এপিআই, সেমিকন্ডাক্টর এবং জাহাজ নির্মাণসহ সম্ভাবনাময় খাতে চীনের বাড়তি সহযোগিতা জরুরি বলে মত দেন তিনি। একইসঙ্গে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে চীনকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান ডিসিসিআই সভাপতি।

অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, গত এক বছরে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে ২০টিরও বেশি নতুন চীনা প্রতিষ্ঠান প্রায় ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের অঙ্গীকার করেছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের রফতানি সক্ষমতা আরও বাড়বে। চীনা উদ্যোক্তারা বিদ্যুৎচালিত যানবাহন (ইলেকট্রিক ভেহিকল) খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী, তবে উচ্চ শুল্ক ও সহায়ক নীতিমালার অভাব এ খাতের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে।

রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নীতিমালার যুগোপযোগীকরণে উদ্যোগ নেবে। এ ক্ষেত্রে ঢাকা চেম্বারকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের মোট রফতানির ৮৫ শতাংশই তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে; যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। তাই রফতানিতে বহুমুখীকরণ ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। একইসঙ্গে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে চীনের প্রযুক্তিগত সহায়তা গ্রহণের পরামর্শ দেন রাষ্ট্রদূত।




এক মাসের মধ্যে হবে বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার খসড়া আইন  : বাণিজ্য সচিব

এক মাসের মধ্যে বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার খসড়া আইন তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।

মঙ্গলবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘অ্যাডভান্সিং ডিসপিউট সেটেলমেন্ট অ্যান্ড কন্ট্রাক্ট এনফোর্সমেন্ট অব বিজনেস’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

সেমিনারে ডিসিসিআই জানায়, বাণিজ্যিক বিরোধের অমীমাংসিত অবস্থার কারণে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হচ্ছে। একটি বিশেষায়িত আদালত হলে দ্রুততার সঙ্গে স্বচ্ছভাবে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।

এতে ব্যবসায় আস্থা ফেরার সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান তৈরি হবে, আর দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি টেকসই হবে বলেও আলোচনায় উঠে আসে।
এসময় বাণিজ্য সচিব বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার খসড়া আইন তৈরি করা হবে।

 




‘বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তিসহ চুক্তি বাস্তবায়নে জরুরি কার্যকর পদক্ষেপ’

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ও অধিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হলে বাণিজ্যিক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি ও চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে হবে।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) ডিসিসিআই’র আয়োজিত সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। সেমিনারের বিষয়বস্তু ছিল ‘ব্যবসার জন্য বিরোধ নিষ্পত্তি ও চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি’।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মহবুবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশের প্রধান প্রতিনিধি মাইকেল মিলার এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান।

তাসকীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে। তবে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিরোধ ও মামলা জটও বাড়ছে। কার্যকর সমাধান না হলে এ সংকট আমাদের অগ্রযাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশের বিভিন্ন আদালতে বিপুল পরিমাণ মামলা ঝুলে ছিল। আপিল বিভাগে ২৯১টি, হাইকোর্টে ৯৮ হাজার ৬১৯টি এবং নিম্ন আদালতে প্রায় ৬৪ লাখ মামলা এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এ মামলাগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক বিরোধের মূল্য প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তাসকীন আহমেদ বলেন, যদিও সম্প্রতি দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে, তবুও জটিল বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট বিধান নেই। একইভাবে, সালিশি আইন ২০০১ কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হয়নি।

তিনি এ অবস্থায় একটি বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত গঠনের আহ্বান জানান। তার মতে, প্রশিক্ষিত বিচারক নিয়ে গঠিত এই আদালত স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারবে। এতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত হবে।

সভাপতি আশা করেন, আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবমুখী নীতিগত সুপারিশ পাওয়া যাবে যা বাংলাদেশকে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে আরও শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।




মুদ্রাস্ফীতি কমাতে বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের আহ্বান ডিসিসিআইয়ের

দেশে সামগ্রিক ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ দুই অঙ্কে উন্নীত করা, আর্থিক খাতে সুশাসন ও স্বচ্ছতা আনা, ঋণের সুদের হার কমানোসহ স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নীতি সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

পাশাপাশি অবকাঠামো খাতে সমন্বিত উন্নয়ন করা, মুদ্রাস্ফীতি কমাতে বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর ভ্যাট কমানো এবং শিল্প খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহায়ক জ্বালানি মূল্য নির্ধারণ নীতি প্রণয়ন করা অপরিহার্য।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই আয়োজিত ‘বাংলাদেশ অর্থনীতির দ্বিবার্ষিক অর্থনৈতিক অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গিঃ বেসরকারি খাতের দৃষ্টিকোণ জুলাই-ডিসেম্বর, ২০২৪’ শীর্ষক একটি সেমিনারে এই আহ্বান জানান ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ।

সেমিনারে ২০২৪ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন ও সঞ্চালনা করেন তাসকিন আহমেদ।

তার উপস্থাপনায়, তিনি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মুদ্রানীতি, মুদ্রাস্ফীতি, বেসরকারি বিনিয়োগ, এফডিআই, কৃষি, শিল্প ও সেবা খাত, সিএমএসএমই, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, লজিস্টিক অবকাঠামো, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আর্থিক খাত তুলে ধরেন। রাজস্ব উৎপাদন এখন একটি উদ্বেগের বিষয় হওয়ায় তিনি আরও কৃচ্ছ্রসাধনের মাধ্যমে সরকারি ব্যয় কমানোর পরামর্শ দেন।

তিনি উদ্যোক্তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ দুই অঙ্কে উন্নীত করা, অনাদায়ি ঋণ কমাতে কঠোর নজরদারি, আর্থিক খাতে সুশাসন ও স্বচ্ছতা এবং ঋণের সুদের হার কমানোর পরামর্শ দেন। ডিসিসিআই সভাপতি মুদ্রাস্ফীতি কমাতে বাজার পর্যবেক্ষণ উন্নত করা, অবৈধ সিন্ডিকেট ভাঙতে আইনশৃঙ্খলার কঠোর প্রয়োগ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ওপর ভ্যাট কমানোর পাশাপাশি বিলাসবহুল পণ্যের ওপর ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব করেন।

তিনি স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নীতি সহায়তা অব্যাহত রাখা, অবকাঠামো খাতের সমন্বিত উন্নয়নের ওপর জোর দেন। তিনি আফ্রিকান এবং ল্যাটিন আমেরিকার বাজারকে বাংলাদেশি পণ্যের অন্যতম সম্ভাবনাময় রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে অভিহিত করেন। মসৃণ শিল্প পরিচালনার জন্য তিনি শিল্পে নিরাপত্তা, কম খরচের অর্থায়ন এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের আহ্বান জানান।

তাসকিন আহমেদ বলেন, এসএমই খাতের উন্নয়নের জন্য, ঋণ পাওয়ার জন্য বিদ্যমান নীতিগুলি সহজ করা, কম খরচের অর্থায়নের জন্য বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থা চালু করা এবং ডিজিটাল অর্থায়ন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। তিনি জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। সেই সঙ্গে নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং শিল্প ও সাধারণ ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের জ্বালানি মূল্য নির্ধারণের ওপরও জোর দেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত (রপ্তানি) সচিবের রুটিন দায়িত্বে থাকা আব্দুর রহিম খান বলেন, বর্ধিত রাজস্ব উৎপাদন এবং রপ্তানিমুখী বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আকর্ষণ বিনিয়োগের ব্যবধান কমাতে পারে। বর্তমানে আমলাতন্ত্র এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে কোনো ব্যবধান নেই। তিনি এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রপ্তানি প্রতিযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

অর্থনীতির জন্য হালকা প্রকৌশল শিল্পকে গেম-চেঞ্জার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হালকা প্রকৌশল খাতের উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা তৈরি এবং সহায়তা করার জন্য গাজীপুরে একটি টেকনোলজি সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।

বিআইডিএস-এর গবেষণা পরিচালক ড. মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের শিল্পে সম্মতি বাড়াতে হবে এবং ব্যাপক গবেষণার ভিত্তিতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় বাড়াতে হবে। রাজস্ব বাড়াতে তিনি কর ও ভ্যাট নেট বাড়ানোর পরামর্শ দেন। তিনি বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের ওপর জোর দেন, বিশেষ করে চামড়া ও ওষুধ খাতে, কারণ আরএমজির পরে এই দুটি খাতের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে।

ডিসিসিআই-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট সালেম সুলাইমান এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।




উচ্চ নীতি সুদহার বেসরকারি খাতে প্রবৃদ্ধি ব্যাহত করবে : ডিসিসিআই

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে নীতি সুদহার ১০ শতাংশ রাখার পাশাপাশি সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বজায় রাখার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

সংগঠনটি মনে করছে, বিদ্যমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে এই কঠোর অবস্থানের উদ্যোগ বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনৈতিক সম্প্রসারণকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি ঘোষণার পর ডিসিসিআই থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়, বিনিয়োগের জন্য দেশের বেসরকারি খাত ব্যাংকগুলোর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে থাকে, তবে উচ্চ সুদের হার পণ্য উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ১০.৮৯ শতাংশ হতে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মুদ্রাস্ফীতি ৯.৯৪ শতাংশে নেমে আসা সত্ত্বেও এটি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নামেনি।

ডিসিসিআই জানুয়ারি-জুন ২০২৫ সালের জন্য বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৯.৮%-এ অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত বেসরকারি খাতকে কিছুটা আশাহত করেছে, যদিও ২০২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত প্রকৃত প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.৩%, যা বিগত ১২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। অপরদিকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ১৪.২% হলেও তা বেড়ে ১৮.১% পৌঁছেছে, এটি মোকাবিলায় সরকারকে কৃচ্ছতা সাধনের দিকে আরও মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন, অন্যথায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ আরও হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেবে।

খাতের আস্থা ও ব্যবসায়িক কার্যকলাপ পুনরুদ্ধারের জন্য এ খাতে ঋণ প্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা অবশ্যই দ্বি-অঙ্কের ঘরে থাকা প্রয়োজন। নিয়ন্ত্রণমূলক আর্থিক নীতিমালার কারণে অর্থনীতিতে স্থবিরতা তৈরির ঝুঁকি মোকাবিলায় ঢাকা চেম্বার ঋণের প্রবাহ বাড়াতে খাতভিত্তিক তহবিল এবং উদ্যোক্তা সহায়তা কর্মসূচি চালু করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।

ডিসিসিআই আরও নমনীয় মুদ্রানীতি গ্রহণ, ভারসাম্যপূর্ণ আর্থিক নীতি গ্রহণ, মুদ্রাস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধির ওপর এর প্রভাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, যার মাধ্যমে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে।

এ ছাড়া বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশ আগামী দিনে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করতে পারবে বলে মনে করে ডিসিসিআই।




শিল্পখাতের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দ.কোরিয়াকে সহায়তার আহ্বান ডিসিসিআইর

শিল্পখাতের সক্ষমতা বাড়াতে প্রযুক্তিগত সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) ডিসিসিআই’র সভাপতি তাসকীন আহমেদের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং সিক সাক্ষাৎ করলে তিনি এমন আহ্বান জানান।

ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দুদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১.৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৯০২.৯০ মিলিয়ন ও ৪৯১.৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী দেশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান তৃতীয়। এরইমধ্যে দেশটি বাংলাদেশে ১.৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, তৈরি পোশাক, জাহাজ নির্মাণ, এপিআই, অটোমোবাইল, ইলেকট্রনিক্স, সেমিকন্ডাক্টর, তথ্যপ্রযুক্তি প্রভৃতি খাতে আরো বেশি হারে বিনিয়োগের আহ্বান জানান ডিসিসিআই সভাপতি।

তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষিত তরুণ ফ্রিল্যান্সাররা সম্প্রতি সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ডিজাইন তৈরিতে বেশ ভালো করছে, এখাতের প্রযুক্তিগত উন্নয়নে দক্ষিণ কোরিয়া সার্বিক সহযোগিতাও কামনা করেন।

অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং সিক বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ভিসা প্রদান ও নবায়ন প্রক্রিয়া সহজ করা, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া দ্রুত করা, বিডা প্রদত্ত সেবা প্রদান প্রক্রিয়া বেগবান করা, কর্পোরেট করহার সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং লজিস্টিক খরচ হ্রাস করা জরুরি।

তিনি বলেন, বিপুল মানবসম্পদ, ভৌগোলিক অবস্থান, বৃহৎ ভোক্তা বাজার প্রভৃতির ফলে বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। এছাড়াও ইলেকট্রনিক্স পণ্য, মোবাইল, অটোমোবাইল, তথ্যপ্রযুক্তি প্রভৃতি খাতে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের প্রচুর সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রদূত জানান, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্রগুলোর শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদানসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি প্রদানের মাধ্যমে কোরিয়া সহযোগিতা প্রদান করে আসছে।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশেষ করে শিল্পখাতের সক্ষমতা বাড়ানো ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য অধিক হারে জোরারোপ করা প্রয়োজন এবং এলক্ষ্যে দুদেশের যৌথ বিনিয়োগ স্থানীয় উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ সময় ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী বাংলাদেশে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও যৌথ বিনিয়োগের আহ্বান জানান।




‘সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখাই এখন গুরুত্বপূর্ণ’

নিরবচ্ছিন্নভাবে পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে রপ্তানি অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে বিশেষত শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা জোরাদার জরুরি। এখন সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখাই অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের অর্থনীতির দ্বি-বার্ষিক পর্যালোচনা (জানুয়ারি-জুন, অর্থবছর ২০২৪); প্রেক্ষিত বেসরকারি খাত’ শীর্ষক সেমিনারে বিশিষ্টজনেরা এসব কথা বলেন।

ডিসিসিআই মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে ঢাকা চেম্বার সভাপতি আশরাফ আহমেদের সভাপতিত্বে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইউনিটের পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. সেলিম আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক এবং রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‌্যাপিড) নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. খান আহমেদ সাঈদ মুরশিদ।

ড. খান আহমেদ সৈয়দ মুরশিদ বলেন, আমাদের অর্থনীতিবহির্ভূত অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তাই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর মাধ্যমে বেসরকারি খাতের আস্থা বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর ওপর নজর দিলেই হবে না, সুশাসন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার সময় এসেছে। এছাড়াও খাদ্য নিরাপত্তা, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে শিক্ষা কার্যক্রমের সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে শিল্প-কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকল্পে জ্বালানি মূল্য নির্ধারণে নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

ড. আবু ইউসুফ বলেন, কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে খাতভিত্তিক পরিসংখ্যানের কোনো বিকল্প নেই। অর্থনীতিভিত্তিক পরিসংখ্যানগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার সময় এসেছে। চামড়া শিল্পে শুধু কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা সম্ভব হলে এ খাত থেকে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি সম্ভব।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আমরা লক্ষ্য করছি, শুল্ক হ্রাস করা হলেও বাজারে পণ্যের মূল্য হ্রাসে তেমন প্রভাব পড়ছে না। এক্ষেত্রে মুদ্রানীতি, বাজেট এবং বাজার ব্যবস্থাপনার মধ্যকার সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখাই অর্থনীতির জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ।

ড. সেলিম আল মামুন বলেন, মুদ্রানীতি বিনিময় হার ও পণ্যের সাপ্লাইচেইনে অস্থিতিশীলতা এবং সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে অপ্রত্যাশিত বন্যা আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। চলমান সংস্কার কার্যক্রমের একটি অন্যতম অনুষঙ্গ হলো আর্থিক খাতের সংস্কার বাস্তবায়ন, যেখানে এতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের নিম্নআয়ের মানুষকে মূল্যস্ফীতির প্রভাব থেকে রেহাই দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে। মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে আবার টাকার প্রবাহ বাড়বে এবং বেসরকারি খাত সুফল পাবে। তিনি স্বল্প সময়ের জন্য বেসরকারি খাতকে ধৈর্য্য ধারণের আহ্বান জানান।

ডিসিসিআই সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক উচ্চ সুদহার এবং মুদ্রা বিনিময় নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে দেশে মূল্যস্ফীতি কমার পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আমাদের শিল্প-কারখানায় প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতের মাধ্যমে পণ্য উৎপাদন বাড়িয়ে রপ্তানি অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি আশা করেন, ব্যাল্যান্স অব পেমেন্টের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জটিলতা অচিরেই নিরসন হবে এবং মার্কিন ডলারের সুদহার কমার ফলে বাংলাদেশি টাকার মান বাড়বে।

ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, উচ্চ সুদহার, উচ্চ বিনিময় হার, ব্যবসায়িক মূলধনের খরচ বৃদ্ধির কারণে সিএমএসএমই খাতে প্রকৃত ঋণপ্রবাহের কার্যকর হার সংকুচিত করছে। তারপরও দেশের অর্থনীতির সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ করে সিএমএসএমই খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। মূল্যস্ফীতি সহনীয় হলে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি নমনীয় করার প্রস্তাব করেন তিনি।




লজিস্টিক নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়নের দাবি ঢাকা চেম্বারের

লজিস্টিক নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়নে অর্থায়ন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)

সোমবার (২৭ মে) এক সংবাদ বিবৃতিতে ডিসিসিআই এ তথ্য জানিয়েছে।

সংগঠনটি বলছে, বিগত এক দশকে ছয় শতাংশের বেশি হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতির বিকাশমান গতিধারা অব্যাহত রাখার বিষয়টি সারা পৃথিবীর কাছে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। উন্নয়নের এ ধারাবাহিকতা থাকা সত্ত্বেও ব্যবসা পরিচালন ব্যয় (কস্ট অব ডুইং বিজনেস) সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান বেশ নিচের দিকে। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থাগুলো ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অবকাঠামো খাতে প্রায় ৬০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন প্রাক্কলন করেছে। যদিও অবকাঠামো এবং লজিস্টিক খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো আমাদের জন্য এখনও উদ্বেগের বিষয়।

ডিসিসিআই বলছে, দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতি বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়নে একটি সমন্বিত, নিরবচ্ছিন্ন এবং টেকসই লজিস্টিক নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন একান্ত অপরিহার্য। এমন বাস্তবতায় সরকার কর্তৃক লজিস্টিক নীতিমালাটি প্রণয়নের জন্য দেশের বেসরকারিখাতের অন্যতম বাণিজ্য সংগঠন ডিসিসিআই সরকারকে সাধুবাদ জানাচ্ছে।

উল্লেখ্য, লজিস্টিক নীতিমালাটি প্রথমবারের মতো দেশের বেসরকারিখাতের প্রয়োজনের নিরিখে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সরকার প্রণয়ন করেছে। এ প্রেক্ষিতে বলা যায়, আমাদের বেসরকারিখাতের আশা-আকাঙ্ক্ষা, উদ্যোগ ও গবেষণার তথ্যাদি নীতিমালাটি প্রণয়নের প্রতিটি স্তরে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রণীত লজিস্টিক নীতিমালাটি যদি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। সেই সঙ্গে দেশের অবকাঠামো খাতের প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হবে। লজিস্টিক অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ করা হলে, প্রতিটি ডলার বিনিয়োগের বিপরীতে জিডিপিতে অবদান রাখবে বহুগুণ।

ঢাকা চেম্বার মনে করে, ২০৪১ সালে বাংলাদেশের উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে লজিস্টিক নীতিমালাটি সময়োপযোগী ও আবশ্যকীয় একটি উদ্যোগ। লজিস্টিক নীতিমালার বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রায় পিপিপি বাজেট প্রক্রিয়ার সমন্বয় করা প্রয়োজন। লজিস্টিক খাতের অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোর বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারিখাতের সম্পৃক্তকরণ অত্যন্ত জরুরি।

এছাড়াও, লজিস্টিক খাতে অর্থায়ন, বিশেষত অবকাঠামো খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও ইক্যুয়িটি ফাইন্যান্সিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। বাজেট সহায়তা অথবা পেমেন্ট অ্যাসিউরেন্সের মাধ্যমে সরকার নিজেকে এ ধরনের খাতগুলো সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়, নতুন নীতিমালায় সুনির্দিষ্ট ও টেকসই ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্সিং কর্মপন্থার অন্তর্ভুক্তি একান্ত অপরিহার্য, যা বেসরকারিখাতের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য স্টেকহোল্ডাররা উপকৃত হবেন এবং সর্বোপরি আমাদের অর্থনীতি আরো বেগবান হবে।




রিটার্নে জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিবরণ বাধ্যতামূলক না করার প্রস্তাব

শতভাগ ক্যাশ-লেস পদ্ধতির প্রচলন না হওয়া পর্যন্ত আয়কর রিটার্নে করদাতাদের জীবনযাত্রার সকল ব্যয় বিবরণ বাধ্যতামূলক না করার প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা চেম্বার অ্যান্ড কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই)। পাশাপাশি আয়কর আদায় বাড়াতে অটোমেশন করাসহ বেশ কিছু পণ্যে শুল্ক ছাড় চেয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) অনুষ্ঠিত প্রাক বাজেট আলোচনায় এ দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে সভায় এনবিআর ও সংগঠনটির শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংগঠনটি বলছে, যেহেতু আয়করের সংজ্ঞা অনুযায়ী— যা আয় বলে গণ্য হবে সেই আয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তি করদাতার জীবনযাপন সংশ্লিষ্ট ব্যয়কে রিটার্ন ভিত্তিতেই কর প্রদান করা হবে এবং ব্যয় বিয়োজনের সুযোগ নেই। ব্যক্তি করদাতাদের জীবনের সংশ্লিষ্ট ব্যয়কে দাখিলে বাধ্যতামূলক করা হলে করদাতারা রিটার্ন প্রদানে নিরুৎসাহিত হতে পারে।

তারা আরও বলছে, করদাতারা যেহেতু শতভাগ ক্যাশ-লেস পদ্ধতির আওতায় আসেনি, সে কারণে তাদের পক্ষে এ সকল ব্যয় হিসাব রাখা কঠিন।

এছাড়া সংগঠনটি ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডোর পুরোপুরি বাস্তবায়ন, সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক মূসক কার্যক্রম পরিচালনা করা, করদাতাদের অতিরিক্ত কর ফেরত প্রদান, বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধের ক্ষেত্রে উৎসে কর বাতিল, কর জাল বাড়াতে এনবিআরকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।




মূল্যস্ফীতি ও অস্থিতিশীল মুদ্রা বাজারে চ্যালেঞ্জের মুখে অর্থনীতি

মূল্যস্ফীতি ও অস্থিতিশীল বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের কারণে অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন বলে মনে করেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার।

সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) এক সংবাদ বিবৃতিতে তিনি এসব কথা জানান।

ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার বলেন, অর্থনৈতিক সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ অনেক উন্নয়নশীল অর্থনীতির চেয়ে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। যদিও মুডিস’স ইনভেস্টর সার্ভিস বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং এবং দেশের অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে, তারপরেও ২০২৬ সালে এলডিসি গ্রাজুয়েশনকে সামনে রেখে অর্থনীতিতে গতি আনতে কিছু পদক্ষেপ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে আমাদের অর্থনীতি বেশকিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে এবং যেকোনো মূল্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসার যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন প্রয়োজন। বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতির বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা একান্ত আবশ্যক। পণ্যের মূল্য কমিয়ে আনতে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির সঙ্গে রাজস্ব নীতিসমূহের সমন্বয় করা প্রয়োজন। আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে নিয়ে আসা। এ ব্যাপারে যথাযথ এবং কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের নিকট হতে রেমিট্যান্স প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য বাজারভিত্তিক বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার নির্ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও, সরকারকে অবশ্যই রপ্তানি বাজার বৈচিত্র্যকরণে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যাতে করে আমাদের প্রথাগত বাজার ও গতানুগতিক প্রথাগত পণ্যের বাইরেও সম্ভাবনাময় একাধিক বাজারে ভিন্ন ভিন্ন নতুন পণ্য রপ্তানি থেকে আয় বৃদ্ধি করা যায়।

ব্যারিস্টার সাত্তার মনে করেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজস্ব আহরণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা উচিত। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষকরে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে কর অফিস খোলা এবং কর অফিসের কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য একটি যথাযথ ম্যাপিং প্রয়োজন। রাজস্ব বাড়াতে অনানুষ্ঠানিক খাতকে যথাযথভাবে করের আওতায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে রাজস্ব আদায় কার্যক্রম নিশ্চিত করতে রাজস্ব বোর্ডের জনশক্তি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সম্পূর্ণ অটোমেশনের মাধ্যমে করজাল বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়াও ব্যারিস্টার সাত্তার ক্রমবর্ধমান মন্দঋণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধারের জন্য সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যাংকিং খাতে কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দেন।




বিদ্যমান কোম্পানি আইন দ্রুত সংস্কারের তাগিদ ডিসিসিআইয়ের

ব্যবসায়ী সমাজের আস্থা বৃদ্ধি ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যমান কোম্পানি আইন সংস্কার এবং বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

শনিবার (১৮ নভেম্বর) ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর সংস্কারবিষয়ক সেমিনারে ডিসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার সামীর সাত্তার এ তাগিদ দেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি সামীর সাত্তার বলেন, ব্যবসায়ী সমাজের আস্থা বৃদ্ধি ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যমান কোম্পানি আইনের সংস্কার এবং দ্রুত বাস্তবায়ন সময়ের দাবি। দেশে ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি কর্পোরেট খাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিতকল্পে কোম্পানি আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, দীর্ঘদিনের পুরনো এ আইনটি বর্তমানে দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলা ও বেসরকারি খাতের সক্ষমতা বাড়াতে যথেষ্ট নয়। এ লক্ষ্যে তথ্য-প্রযুক্তির সর্বাত্মক ব্যবহারের মাধ্যমে অটোমেশন কার্যক্রম বাস্তবায়ন, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানো এবং মেধা-সত্ত্ব আইনের ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।

এছাড়াও কোম্পানি আইনটি বৈশ্বিক আইনের সঙ্গে মিল রেখে ‘মার্জার’ এবং ‘একুইজেশন’কে অন্তর্ভুক্তির আহ্বান জানান ঢাকা চেম্বারের সভাপতি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, আইন মন্ত্রণালয় থেকে খসড়া কোম্পানি আইনের ওপর বেশ কিছু দিক-নির্দেশনা দিয়েছে, যা নিয়ে কাজ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং দ্রুত তা বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, কোম্পানি আইনে বেশি মাত্রায় ক্ষমতা আরোপ ও শাস্তির বিধান না থাকা প্রয়োজন, কারণ এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।আরজেএসসির কার্যক্রমে আরও অটোমেশন আনতে বর্তমানে বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়। অটোমেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হলে সেবা প্রাপ্তির লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে আরজেএসসির শাখা অফিস স্থাপনের কোনো প্রয়োজন হবে না।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। তিনি বলেন, কোম্পানি আইনে ‘মার্জার’ এবং ‘একুইজেশন’কে অন্তর্ভুক্তির কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে কোনো কোম্পানির অবলুপ্তির প্রক্রিয়া বেশ দীর্ঘ ও ব্যয় সাপেক্ষ, তাই প্রস্তাবিত কোম্পানি আইনে বিষয়টি সহজীকরণে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা প্রয়োজন।

এছাড়াও তিনি খসড়া আইনে ‘বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর)’ এবং ‘মধ্যস্থতা’কে বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করেন এবং সেই সঙ্গে পাবলিক লিস্টেড কোম্পানি নয়, এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে ‘ইন্ডিপেনডেন্ট ডিরেক্টর’ বাধ্যতামূলক করার দাবি জানান।

সেমিনারের নির্ধারিত আলোচনায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশের সভাপতি মো. আব্দুর রহমান খান, জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (আরজেএসসিস)-এর রেজিস্ট্রার (যুগ্ম সচিব) মো. আব্দুস সামাদ আল আজাদ, ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি) বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার মার্টিন হল্টম্যান, দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশ (আইক্যাব)-এর কাউন্সিল মেম্বার ও প্রাক্তন সভাপতি মো. শাহাদত হোসেন এবং ইউনিলিভার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাভেদ আখতার অংশগ্রহণ করেন।

মো. শাহাদত হোসেন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে সময়মত বার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজন, প্রতিষ্ঠান বিলুপ্তির প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও দীর্ঘসূত্রিতা হ্রাস, এসএমইদের জন্য সার্বজনীন সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতকল্পে স্বাধীন পরিচালক নিয়োগ প্রদানের প্রস্তাব করেন।

মো. আব্দুর রহমান খান বলেন, কোম্পানি আইন আধুনিক ও যুগোপযোগী হলে ব্যবসা পরিচালন প্রক্রিয়া আরও সহজতর হবে। তাই আমাদের এ আইন দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশোধন আবশ্যক, পাশাপাশি ২-৩ বছর অন্তর অন্তর আইনটির সংস্কার করার বিধান রাখা প্রয়োজন।




ঢাকা চেম্বার ও মক্কা চেম্বারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং মক্কা চেম্বার অব কমার্সের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

বুধবার (১ নভেম্বর) মক্কা চেম্বারের কার্যালয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা ও বিটুটি সেশনে ওই চুক্তি সই হয়েছে। ডিসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার এবং মক্কা চেম্বার অব কমার্সের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ইঞ্জি. ইশমাট মাটোগ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এ সমঝোতা স্মারকে সই করেন।

ডিসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তারের নেতৃত্বাধীন ৬১ সদস্যবিশিষ্ট বেসরকারিখাতের সর্ববৃহৎ প্রতিনিধিদলের সদস্যবৃন্দ উক্ত বাণিজ্য আলোচনা ও বিটুবি সেশনসমূহে যোগদান করেন।

ডিসিসিআই’র প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে মক্কা চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আব্দুল্লাহ গাদি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের বেশ উন্নতি হয়েছে, যেটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অনুকরণীয় ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা যায়, এটাতে আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আমাদেরকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বেশ সম্ভাবনা আছে।

তিনি বলেন, মক্কা শহরে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার সম্প্রসারণ, আধুনিকায়ন ও সংস্কারের লক্ষ্যে সৌদি সরকার বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যেখানে তার দেশের সরকারের নীতিমালা অনুসরণ করে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে পারে।

অনুষ্ঠানের বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার বলেন, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় অর্থনীতি ও নীতি সহায়তা মূলক বিনিয়োগ সুবিধা প্রদান করছে, যার সুযোগ নিয়ে সৌদি আরবের উদ্যোক্তারা একক ও যৌথ বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে পারে।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, দুটি দেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ রূপকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনার পাশাপাশি প্রতিযোগী মূল্যে পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির সুযোগ গ্রহণ করে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গুলোতে আরও বেশি হারে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি এস এম গোলাম ফারুক আলমগীর (আরমান), সহ-সভাপতি মো. জুনায়েদ ইবনে আলী, পরিচালনা পর্ষদ এবং প্রতিনিধিদলের সদস্যরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।




জিডিপিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এলিভিটেড এক্সপ্রেসওয়ে

ঢাকা এলিভিটেড এক্সপ্রেসওয়ে বা উড়াল সড়ক বাংলাদেশে বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিতের পাশাপাশি জিডিপিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে ডিসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার এমন মন্তব্য করে সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সব মহলকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

ঢাকা চেম্বার সভাপতি বলেন, ঢাকা শহর প্রতিনিয়ত নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, তার মধ্যে যানজট সমস্যাটি অন্যতম। এটি আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বর্তমান সরকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৃহৎ প্রকল্পসমূহ যেমন পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর, কর্ণফুলী নদীর নিচ দিয়ে বঙ্গবন্ধু টানেল, পদ্মা সেতুসহ বেশকিছু ফাস্ট ট্র্যাক বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ ও দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

তিনি বলেন, উড়াল সড়কটির প্রথম অংশের কাজের উদ্বোধন আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও বেগবান করবে, ঢাকার পরিবহন সংযোগকে গতিশীল করার সাথে সাথে যানজট নিরসন, যানজট দ্বারা সৃষ্ট অন্যান্য চ্যালেজ্ঞ দূরীকরণ এবং অন্তর্ভূক্তিমূলক উন্নয়নে নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটাবে। অবকাঠমোখাতের বহুল প্রত্যাশিত এ বৃহৎ প্রকল্পটি স্থানীয় সাপ্লাই চেইন নেটওয়ার্ক ও ব্যবসায়ী কার্যক্রমে অসামান্য অবদান রাখবে।

সামীর সাত্তার বলেন, যাত্রী, সাধারণ জনগণ, বিনিয়োগকারী এবং ঢাকার উদ্যোক্তাগণ এই প্রকল্প থেকে আগামী দিনগুলোতে বেশ উপকৃত হবেন কারণ এটি স্থানীয় অন্তঃসংযোগ জোরদার করার পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন যান চলাচল নিশ্চিত করবে এবং নগরবাসীর ওপর ট্রাফিক জ্যামের নেতিবাচক প্রভাব অনেকটাই কমিয়ে আনবে।

বর্তমান সরকারের ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পসমূহের আওতাধীন যোগাযোগ অবকাঠামোর এ বিশাল প্রকল্পটি ঢাকা শহরের যানজট নিরসনের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন যান চলাচলে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, যা রাজধানীতে বসবাসকারী সাধারণ জনগণসহ উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের সার্বিক কার্যক্রমে বহুমাত্রিক পরিবর্তন আনবে। যানজটের কারণে পূর্বে যে শ্রমঘণ্টা নষ্ট হতো তা অনেকাংশে কমে আসবে বলে তিনি ধারণা করেন।

ডিসিসিআই সভাপতি উল্লেখ করেন, রাজধানীর পরিবহন যোগাযোগ ব্যবস্থায় ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারায় ঢাকা এলিভিটেড এক্সপ্রেসওয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নিয়ে আসবে। এটি আমাদের স্থানীয় ও রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন নির্ভর অর্থনৈতিক বিকাশের লক্ষ্য অর্জনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করবে। বহুল প্রত্যাশিত এ উড়াল সড়কটি রপ্তানিকারকদের গাজীপুর এবং সাভার থেকে উৎপাদিত পণ্য স্বল্প খরচে ও দ্রুততম সময়ে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে পৌঁছাতে সাহায্য করবে, যা আমাদের স্থানীয় বাণিজ্যের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশসমূহের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে।

সামনের দিনগুলোতে এটি দেশের অবকাঠামোগত এবং অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর অবদান রাখবে বলেও ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ব্যারিস্টার সামীর সাত্তার আশা প্রকাশ করেন।




টেকসই নগরায়ণে সুশাসন ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিকল্প নেই: ডিসিসিআই

টেকসই নগরায়ণে সুশাসন ও পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্টজনরা।

শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণ এবং বাংলাদেশের টেকসই নগরায়ণ’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে অবকাঠামো উন্নয়ন, পর্যাপ্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা এবং টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন ঢাকা শহরের বিকেন্দ্রীকরণ এবং বাংলাদেশের টেকসই নগারয়ণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।

ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে নগরায়ণ এমনভাবে গড়ে উঠেছে, যেখানে আমাদের জিডিপির ৬৫ শতাংশ আসছে শহরাঞ্চল থেকে। ঢাকা কেন্দ্রিক নগরায়ণের জন্য আমরা যানজট, পানি দূষণ, বায়ু দূষণ প্রভৃতি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছি। সেই সঙ্গে আমাদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে জ্বালানি খরচ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি। এ অবস্থায় ঢাকার বিকেন্দ্রীকরণের কোনও বিকল্প নেই। পাশাপাশি নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য সুচিন্তিত কর্মপরিকল্পনা নীতি গ্রহণ করা সময়ের দাবি।’

দেশের প্রতিটি শহরে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে প্রয়োজনীয় আইনগত, প্রশাসনিক, অবকাঠামো ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো, পরিকল্পিত স্যাটেলাইট শহরের বিকাশ, ঢাকার বাইরে বসবাসকারীদের জন্য ট্যাক্স হলিডে, সুলভ মূল্যে ইউটিলিটি পরিসেবা দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক প্রণোদনার আহ্বান জানান ব্যারিস্টার সামির সাত্তার। এছাড়া টেকসই নগরায়ণ ও শহরের বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করতে সুশাসন, পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়ন ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার কোনও বিকল্প নেই বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের সবকিছু ঢাকা কেন্দ্রিক। এটা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। সরকার ঢাকার বাইরেও অবকাঠমো খাতে উন্নয়ন করেছে। এর সুফল দেশবাসী শিগগিরই পাবেন।’

রাজধানীর উপশহরগুলোকে আরও উপযোগী করার জন্য সরকার নিরসলভাবে কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মেট্রোরেলের অবকাঠামোর সম্প্রসারণ আরও ১০-১৫ বছর চলমান থাকবে। এতে যানজট কমবে এবং নগরবাসী উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা উপভোগ করবেন।’

বর্তমান সরকার অবকাঠামো খাতের উন্নয়ন ও শিল্পায়নে জোর দেওয়ার কারণে আমাদের অর্থনীতিতে গতি এসেছে মন্তব্য করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসা পরিচালন ব্যয় কমানো এবং সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। সিটি জরিপে কিছু ভুল দেখা গেছে, তবে ডিজিটাল সার্ভে গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সম্পন্ন হলে দেশবাসী আধুনিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।’

সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘তিন ফসলি জমিতে কোনও শিল্প-কারাখানা নয়, কারণ আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’ সেই সঙ্গে দুফসলি জমিতেও শিল্প কারখানা স্থাপন না করার জন্য উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। কৃষিভিত্তিক শিল্প-কারখানায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোরা দেন মন্ত্রী।

ইকোনোমিক জোনের আশেপাশের জায়গায় শ্রমিকদের বাসস্থান তৈরিতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে কাজী ওয়াছি উদ্দিন বলেন, ‘ড্যাপের পুরোপুরি সংশোধন না করে, ব্যবসায়ীদের যেন হয়রানি না করা হয়, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। ফ্ল্যাট ও জমি রেজিস্ট্রেশনে করারোপের কারণে জমি ও ফ্ল্যাট বিক্রি বেশ কমে গেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে এনবিআর কাজ করছে। আশাকরি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। গ্রাম উন্নয়নে শুধু প্রকল্প গ্রহণ করলেই হবে না, জীবনযাপনে সব প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কমপক্ষে ২৫ শতাংশ কৃষি জমি সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।’

ড. ফারহিনা আহমেদ বলেন, ‘নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর নগর নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের ব্যবহৃত প্লাস্টিক বর্জ্য দেশের জলবায়ু, নদী দূষণ করছে। এর প্রতি আরও মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। অবকাঠমো উন্নয়নে মান নিশ্চিত করতে হবে, যেন এর মাধ্যমে পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।’

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সহ-সভাপতি ইকবাল হাবিব। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৩৩ শতাংশ লোক নগরে বাস করেন। ঢাকা মহানগরীতে প্রতি বছর নতুন করে ৫ লাখ লোক যোগ হচ্ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য প্রতিনিয়ত গৃহহীন জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বর্জ্য বৃদ্ধি, পানি ও বায়ু দূষণ, বৃক্ষ নিধন ও তাপমাত্রা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা, যানজট ও স্বাস্থ্য সংকটের শিকার হচ্ছি আমরা। রাজধানীতে বিদ্যমান সবুজের পরিমাণ মাত্র আট শতাংশ, যা প্রতিনিয়ত কমছে। সবুজ সুরক্ষায় আমাদের আরও সচেতন হতে হবে।’

নির্ধারিত আলোচনায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের স্থপতি অধিদফতরের সাবেক প্রধান স্থপতি কাজী গোলাম নাসির, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি মোহাম্মদ ফজলে রেজা সুমন এবং নতুনধারা অ্যাসেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. শহীদ-উজ্জ-জামান অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে কাজী গোলাম নাসির বলেন, ‘ঢাকায় মানুষের আসার প্রবণতা কমাতে রাজধানীর বাইরে মানুষের জীবনযাত্রা পরিচালনায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা অতিদ্রুত কৃষি জমি হারিয়ে ফেলছি, যা উদ্বেগের বিষয়। খাদ্য নিরাপত্তায় কৃষিজমি সুরক্ষায় আমাদের আরও মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘ঢাকা শহরের জন্য একটা ভিশন প্রয়োজন এবং এ জন্য সুশাসনের পাশাপাশি জনগণের সম্পৃক্ততা একান্ত অপরিহার্য। রাজউকের পুনর্গঠন করা এখন সময়ের দাবি। এছাড়াও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রতিটি শহরের মাস্টারপ্ল্যান থাকা প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।’

মোহাম্মদ ফজলে রেজা সুমন বলেন, ‘ঢাকা শহরের নগরায়ণে গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠানের উদাসীনতা পরিলক্ষিত হয়। এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমাদের আরও মনোযোগী হতে হবে।

মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে এ খাতের প্রতিনিধিরা যানজট নিরসনে বহুতল বিশিষ্ট পার্কিং সুবিধা বৃদ্ধি, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংখ্যা বাড়ানো, বুড়িগঙ্গা নদীর নাব্য ও ব্যবহার উপযোগিতা বৃদ্ধি, পুরান ঢাকা থেকে কেরানীগঞ্জে শিল্প-কারখানা স্থানান্তরে অবকাঠমো উন্নয়ন ও প্রণোদনা সহায়তা দেওয়ারও সুপারিশ করেন বক্তারা।




নীতি সহায়তায় সমন্বয়হীনতার কারণে শিল্প খাতের বিকাশ থমকে যায়: পরিকল্পনামন্ত্রী

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, সরকারি পর্যায়ে নীতি সহায়তা নিয়ে সমন্বয়হীনতার কারণে শিল্প খাতের বিকাশ থমকে যায়, যেটি কোনভাবেই কাম্য নয়।

বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত “বাংলাদেশের আমদানি বিকল্প শিল্প: প্রেক্ষিত হালকা প্রকৌশল খাত” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা ।

এম এ মান্নান বলেন, হালকা প্রকৌশল খাতে দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া, চীন ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে এবং বাংলাদেশেও সঠিক পথেই রয়েছে, প্রয়োজন যথাযথ নীতি সহায়তা এবং এর সঠিক বাস্তবায়ন। এ ব্যাপারের সরকারের পক্ষ হতে সকল সহযোগিতা প্রদান করা হবে এবং আশা প্রকাশ করেন দেশের বেসরকারি খাত বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এ খাতের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে সফল হবে। তিনি উল্লেখ করেন, মৌলিক মেশিনারিজ উৎপাদনে আমাদের সক্ষমতা আরও বাড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা আবশ্যক। তিনি বলেন, ধোলাইখাল, জিঞ্জিরাসহ তৃণমূলের উদ্যোক্তাদের উৎসাহ বৃদ্ধিতে আরও বেশি হারে নজর দিতে হবে।

স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার বলেন, হালকা প্রকৌশল শিল্পের বিকাশে সহায়ক নীতি সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হলে আমাদের স্থানীয় খাদ্য, চামড়া ও পাদুকা, ইলেকট্রনিক্স, এগ্রো-প্রসেসিং এবং ঔষধ শিল্পের বেকওয়ার্ক লিংকেজ খাত হিসেবে স্থানীয় চাহিদা মেটাতে প্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদনে সক্ষম হবে, পাশাপাশি এ খাত থেকে রফতানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ সম্ভব। তিনি বলেন, এ খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে সরকার ‘শিল্পনীতি ২০২২’-তে খাতটিকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তবে এখন প্রয়োজন আর্থিক ও নীতি সহায়তা।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা বলেন, খাতটি এখনও আমদানিনির্ভর এবং আমাদের শিল্প খাতের বেকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের জন্য একহাতটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তাই এর প্রতি আরও বেশি হারে আমাদের মনোনিবেশ করতে হবে। সচিব আরও বলেন, ‘লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ডেভেলপমেন্ট পলিসি ২০২২’-এ ২০২২-২৭ সালের জন্য একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে, যেটি এ খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এ খাতের উদ্যোক্তাদের আমদানি নির্ভরতা কমাতে উদ্যোক্তাদের আর্থিক প্রণোদনা ও নীতি সহায়তা প্রয়োজন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল সেক্টরের অংশগ্রহণের মাধ্যমে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে সরকার কাজ করছে। শিল্প সচিব বলেন, অটোমোবাইল খাতের রিসার্চ ইনস্টিটিউট স্থাপনে ইতোমধ্যে জাপানের সাথে আলোচনা হয়েছে এবং আশা করেন এ ব্যাপারে প্রযুক্তি ও অবকাঠামো সহায়তা পাওয়া যাবে।

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম শোয়েব হোসেন নোবেল সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, বাংলাদেশের হালকা প্রকৌশল খাত হতে বার্ষিক আয় বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা, জিডিপিতে যার অবদান ৩% এবং প্রতিবছর এ খাতটি ১০% হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ খাতে প্রায় ১.৬ মিলিয়ন লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং স্থানীয় চাহিদার প্রায় ৫০% আমরা উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি বলে, তিনি জানান। শোয়েব আরও বলেন, ২০২১-২২ অর্থবছরে হালকা প্রকৌশল খাত হতে রফতানির পরিমাণ ছিল ৭৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং এখাতের বৈশ্বিক বাজারের পরিমাণ ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এখাতের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক সুবিধা প্রদান, বেকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের উন্নয়নে নীতি সহায়তার পাশাপাশি আর্থিক প্রণোদনা একান্ত আবশ্যক প্রয়োজন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। ইলেকট্রিকাল ও ইলেকট্রনিক্স খাতের সহায়ক নীতি সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে আগামী বছরই ৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি সম্ভব তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আলোচনায় বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফেকচার্স অ্যাসোসিয়েশন ও আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন, ফেয়ার গ্রুপের প্রধান মার্কেটিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মেছবাহ উদ্দিন, মেঘনা গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তাক আহমেদ তানভীর, ট্রান্সকম ইলেকট্রনিক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরশাদ হক এ খাতের প্রযুক্তিগত গবেষণার জন্য ল্যাব স্থাপনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত সহায়তার পাশাপাশি সরকারি পর্যায়ে বিনিয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

মুক্ত আলোচনায় ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি মাতিউর রহমান বলেন, এ খাতের আমদানি শুল্ক হ্রাস, দীর্ঘমেয়াদী নীতি সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।




বিদ্যমান শুল্ক নীতিমালা হালকা প্রকৌশল শিল্প বিকাশে বাধা

বিদ্যমান শুল্ক নীতিমালা হালকা প্রকৌশল শিল্পের বিকাশে তেমন উৎসাহব্যঞ্জক নয়, তাই কাঙ্ক্ষিত বিকাশে সহায়ক শুল্ক কাঠমো নিশ্চিত করা জরুরি বলে একান্ত আবশ্যক মনে করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) ঢাকা চেম্বার আয়োজিত ‘বাংলাদেশের আমদানি বিকল্প শিল্প : প্রেক্ষিত হালকা-প্রকৌশল খাত’ শীর্ষক সেমিনারে স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ব্যারিস্টার সামীর সাত্তার এসব কথা বলেন।

ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিনারে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রধান অতিথি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি সামীর সাত্তার বলেন, হালকা প্রকৌশল শিল্পের বিকাশে সহায়ক নীতি সহায়তা দেওয়া সম্ভব হলে আমাদের স্থানীয় খাদ্য, চামড়া ও পাদুকা, ইলেকট্রনিক্স, এগ্রো-প্রসেসিং এবং ঔষধ শিল্পের বেকওয়ার্ক লিংকেজ খাত হিসেবে স্থানীয় চাহিদা মেটাতে প্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদনে সক্ষম হবে। পাশাপাশি রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ সম্ভব। ২০২৫ সালে আমাদের জিডিপিতে বেসরকারিখাতের অবদান ২৭.৩৫ শতাংশ উন্নীতকরনে এখাতে সার্বিক সহায়তা নিশ্চিতকরন একান্ত অপরিহার্য।

তিনি বলেন, এ খাতের কাঁচামাল আমদানিতে বর্তমানে বিদ্যমান শুল্ক নীতিমালা খাতটির বিকাশে তেমন উৎসাহব্যঞ্জক নয়, এ অবস্থায় হালকা প্রকৌশল খাতের কাঙ্ক্ষিত বিকাশ নিশ্চিতকল্পে সহায়ক শুল্ক কাঠমো নিশ্চিতকরণ একান্ত আবশ্যক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, হালকা প্রকৌশল খাতে দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া, চীন ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে এবং বাংলাদেশেও সঠিক পথেই রয়েছে, প্রয়োজন যথাযথ নীতি সহায়তা এবং এর সঠিক বাস্তবায়ন। মৌলিক মেশিনারিজ উৎপাদনে আমাদের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি বাড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা আবশ্যক। ধোলাইখাল, জিঞ্জিরাসহ তৃণমূলের উদ্যোক্তাদের উৎসাহ বৃদ্ধিতে আরো বেশি হারে নজর দিতে হবে।

সচিব জাকিয়া সুলতানা বলেন, এ খাতের উদ্যোক্তাদের আমদানি নির্ভরতা কমাতে উদ্যোক্তাদের আর্থিক প্রণোদনা ও নীতি সহায়তা প্রয়োজন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট সব সেক্টরের অংশগ্রহণের মাধ্যমে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে সরকার কাজ করছে। অটোমোবাইল খাতের রিসার্চ ইন্সটিটিউট স্থাপনে ইতোমধ্যে জাপানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং আশা করেন এ ব্যাপারে প্রযুক্তি ও অবকাঠামো সহায়তা পাওয়া যাবে।

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম শোয়েব হোসেন নোবেল সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, বাংলাদেশের হালকা-প্রকৌশল খাত হতে বার্ষিক আয় বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা, জিডিপিতে যার অবদান ৩ শতাংশ এবং প্রতিবছর এখাতটি ১০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখাতে প্রায় ১.৬ মিলিয়ন লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং স্থানীয় চাহিদার প্রায় ৫০ শতাংশ আমরা উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি। ইলেকট্রিকাল ও ইলেকট্রনিক্স খাতের সহায়ক নীতি সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে আগামী বছরই ৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি সম্ভব।

ফেয়ার গ্রুপের প্রধান মার্কেটিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মেছবাহ উদ্দিন বলেন, স্থানীয় হালকা-প্রকৌশল শিল্প খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য শিক্ষাখাতের সংষ্কার, নীতি সহায়তা ও নীতির ধারাবাহিকতা একান্ত আবশ্যক, যা স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। তবে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সহায়তার জন্য বিদেশি বিনিয়োগ এখাতে খুবই জরুরি।

মেঘনা গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তাক আহমেদ তানভীর বলেন, আমাদের উৎপাদিত বাইসাইকেল রপ্তানির প্রচুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাইসাইকেলের রপ্তানির জন্য আমাদের টেস্টিং ল্যাব নেই, যার কারণে বিদেশের ল্যাবসমূহে উৎপাদিত পণ্যের টেস্টিংয়ের প্রতিবেদন পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এ অবস্থায় দেশে আন্তর্জাতিক মানসম্মত একটি টেস্টিং ল্যাব স্থাপনে সরকারি বিনিয়োগ খুবই জরুরি।

ট্রান্সকম ইলেকট্রনিক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরশাদ হক বলেন, এ শিল্পের বিকাশে কমপক্ষে ১০ বছর মেয়াদী নীতি সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থায় নিজেদের সম্পৃক্তকরণ খুব জরুরি।

তিনি জানন, আমেরিকাভিত্তিক ওয়ার্লপুল ইতোমধ্যে যৌথভাবে বাংলপাদেশে বিনিয়োগ করেছে। আমাদের প্রচুর মানব সম্পদ রয়েছে, তবে তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলতে হবে।

মুক্ত আলোচনায় ঢাকা চেম্বারের প্রাক্তন সভাপতি মাতিউর রহমান বলেন, এখাতের আমদানি শুল্ক হ্রাস, দীর্ঘমেয়াদী নীতি সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।




ঋণপ্রবাহ বাড়াতে পদক্ষেপের তাগিদ ঢাকা চেম্বারের

বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে প্রবৃদ্ধি আগের চেয়ে কমে গেছে, যা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ঋণপ্রবাহ বাড়াতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চেয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি– ডিসিসিআই। গতকাল ঢাকা চেম্বার এ বিষয়ে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি মো. সামীর সাত্তার বলেন, বেসরকারি খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ আকর্ষণ, উৎপাদনশীলতা ও বাণিজ্য প্রসারের মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি অর্জনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। বাংলাদেশ ২০২৬ সালের মধ্যে একটি উন্নয়নশীল দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি জ্ঞানভিত্তিক স্মার্ট এবং উন্নত অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের ভূমিকা অপরিসীম থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ নিম্নমুখী হওয়া প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

অর্থবছরের প্রথমার্ধে সরকারি খাতের ঋণ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৩ শতাংশ এবং বেসরকারি খাতে ঋণ ১০ দশমিক ৯ শতাংশ। উভয় খাতের মধ্যকার এই ব্যবধান বেসরকারি খাতে কম ঋণপ্রবাহের অন্যতম কারণ। মূল্যস্ফীতি এবং সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি, ক্রমবর্ধমান সরকারি উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে আর্থিক খাত থেকে ঋণ গ্রহণ বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পরিলক্ষিত হয়নি। এছাড়াও, বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের ওপর অতিরিক্ত চাপ এক্ষেত্রে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে।




দক্ষ জনশক্তির অভাবে বছরে ৮-১০ বিলিয়ন ডলার বিদেশে চলে যায়-ডিসিসিআই

আমাদের শিল্পখাত পরিচালনায় অনেক বিদেশি কর্মী কাজ করছে, যাদের বেতন-ভাতা হিসেবে বছরে ৮-১০ বিলিয়ন বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। এজন্য গুণগত শিক্ষাব্যবস্থার অনুপস্থিতি ও দক্ষ জনশক্তির অভাবকে দায়ী বলে মনে করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

রোববার (৮ জুলাই) ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে ‌‘শিল্প-শিক্ষা খাতের সমন্বয় : পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি’ শীর্ষক সেমিনারে সংগঠনটি সভাপতি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু এবং জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান নাসরীন আফরোজ প্রধান অতিথি এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার বলেন, আমাদের শিল্পখাত পরিচালনায় অনেক বিদেশি কর্মী কাজ করছে, যাদের বেতন-ভাতা হিসেবে বছরে ৮-১০ বিলিয়ন বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। এজন্য আমাদের গুণগত শিক্ষাব্যবস্থার অনুপস্থিতি ও দক্ষ জনশক্তির অভাবকে দায়ী করা হয়। দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে শিক্ষা ও শিল্পখাতের সমন্বয় বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।

ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, সরকারের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ-এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ক্রমাগত পরিবর্তনশীল চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করে গড়ে তোলতে হবে।

সামীর সাত্তার বলেন, শিল্পখাতের প্রয়োজনের নিরিখে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিকল্পে শিক্ষা ও শিল্পখাতের সমন্বয় আরও জোরদারের বিকল্প নেই। তবে বাংলাদেশে এ সমন্বয়ের অভাব অত্যন্ত প্রকট, যার ফলে আমাদের তরুণ জনগোষ্ঠীকে শিল্পখাতের জন্য দক্ষ করে গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে না এবং এর প্রভাব প্রতিফলিত হচ্ছে সামগ্রিক অর্থনীতিতে। তিনি শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দের পাশাপাশি বিশেষকরে গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, শিক্ষা ও শিল্পখাতের সমন্বয় নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত আলোচনা হচ্ছে, এখন সময় এসেছে সেটাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এবং এজন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ অতি জরুরি।

তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষা ও শিল্পখাতের মধ্যে কিছুটা আস্থার ঘাটতি আমরা পরিলক্ষিত করছি, যার নিরসন একান্ত আবশ্যক। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি ‘রূপান্তর পরিবর্তন’ আনয়নের লক্ষ্যে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে জনবল তৈরির লক্ষ্যে একটি ইকো-সিস্টেম প্রণয়ন করতে হবে, যাতে করে ম্যাপিং-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বেশকিছু হাই-টেক আইটি পার্ক গঠন করছে, তবে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে স্থানীয়ভাবে দক্ষ মানবসম্পদের কোন বিকল্প নেই এবং এ জন্য সমন্বিত উদ্যোগ ও তার যথাযথ বাস্তবায়ন জরুরি।

জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান নাসরীন আফরোজ বলেন, পরিবর্তনশীল বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে আমাদের শিক্ষার্থীদের উপযোগী ও দক্ষ করে তোলতে শিক্ষা ও শিল্প খাত এবং সরকারের সমন্বয় একান্ত অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এনএসডিতে ১৪টি পরিষদ গঠন করা হয়েছে, যেখান থেকে সমসাময়িক বিষয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং সানেম-এর গবেষণা পরিচালক ড. সায়েমা হক বিদিশা সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

তিনি বলেন, ক্রমাগত পরিবর্তনশীল এ বৈশ্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা বেশ পিছিয়ে রয়েছি এবং এটাকে মোকাবিলায় শিক্ষা ও শিল্প খাতে প্রয়োজনীয় সমন্বয় এখনও পরিলক্ষিত হচ্ছে না। ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের তথ্য অনুযায়ী ২০২৭ সালের মধ্যে সবচেয়ে চাহিদা সম্পন্ন দক্ষতাগুলো হবে, ‘অ্যানালিটিকাল থিংকিং’, ‘ক্রিয়েটিভটি থিংকিং’ এবং ‘এআই ও বিগ ডাটা এনালাইসিস’ খাতে, তাই বিশেষকরে আমাদের তরুণ জনগোষ্ঠীতে তথ্য-প্রযুক্তি খাতে যুগোপযোগী করতে পারলে মানবসম্পদ খাতে বৈশ্বিক চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।

এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর পরিচালক প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন, এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি টমো পুটিনেন, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের গভর্নিং বডি’র সদস্য সাফকাত হায়দার, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর উপাচার্য সত্য প্রসাদ মজুমদার, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে সদস্য ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন সেমিনারের নির্ধারিত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।




নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি পেতে অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প-কারখানা স্থাপনের আহ্বান

অপরিকল্পিত শিল্পায়নের কারণে সরকারের পক্ষে ঠিকমত গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। তাই গ্যাস-বিদ্যুৎসহ অন্যান্য সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিতে উদ্যোক্তাদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে শিল্প-কারখানা স্থাপন ও স্থানান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

শনিবার (২০ মে) ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘জ্বালানি নিরাপত্তা; ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা’ বিষয়ক স্টেকহোল্ডার ডায়ালগ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য ও এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন)।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে। এ লক্ষ্য পূরণে সরকার সব শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সংযোগ অব্যাহত রাখতে ইতোমধ্যে পরিকল্পনা করছে এবং কার্যকরভাবে তা বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সঙ্গতি রেখে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি বা হ্রাস করা হবে। এ খাতে সরকার ভর্তুকি হ্রাসের পরিকল্পনা নিয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে একটি ‘মূল্য নীতিমালা’ প্রণয়ন করেছে।

তিনি আরও বলেন, গ্যাস অনুসন্ধানের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে প্রচুর সময় ও বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগের প্রয়োজন হলেও অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কোনও বিকল্প নেই।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্যাসের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে এবং এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ব্যারিস্টার সামীর সাত্তার বলেন, অস্থিতিশীল বৈশ্বিক ভূ-অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সময়কালে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে জ্বালানি নিরাপত্তা অন্যতম পূর্বশর্ত।

তিনি বলেন, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখতে প্রাথমিক জ্বালানি উৎসে আমাদের আরও বেশি বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে হবে। রাষ্ট্রায়ত্ব বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এগুলোর সংস্কার একান্ত অপরিহার্য। দেশের বেসরকারিখাতের উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় যথাযথ পরিকল্পনা প্রণয়নে একটি পূর্ব অনুমানযোগ্য জ্বালানির মূল্য নীতিমালা একান্ত অপরিহার্য বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। সেই সাথে ভবিষ্যতে জ্বালানি চাহিদা এবং সরবরাহের ভিত্তিতে ‘পাওয়ার সেক্টর মাস্টারপ্ল্যান’ পুনঃসংশোধনের আহ্বান জানান ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ব্যারিস্টার সাত্তার।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন) বলেন, করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সারা পৃথিবীতে জ্বালানি প্রাপ্তিতে স্বল্পতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানির মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে স্থানীয় বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এব সেই সাথে বেড়েছে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি।

তিনি বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দেশের শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকল্পে সরকারকে আরও কৌশলী হওয়া ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে আরও উদ্যোগী হওয়া আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, সরকার গৃহীত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে এখনও গ্যাস-বিদ্যুৎ, পরিবহনসহ অন্যান্য সেবার শতভাগ নিশ্চিত করা যায়নি। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে সকল সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের আলোচনায় সামিট পাওয়ারের পরিচালক ফয়সাল করিম বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি আমদানিতে একটি সুনির্দিষ্ট কর কাঠামোর অনুসরণের আহ্বান জানান।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান শিল্পখাতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণে সরকারকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির ওপর শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব করেন।

অনুষ্ঠানে প্রাণ-আরএফএল’র চেয়ারম্যান এবং সিইও আহসান খান চৌধুরী বলেন, জ্বালানির দাম বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। জ্বালানির অনুমানযোগ্য মূল্যের বিষয়ে একটি দীর্ঘমেয়েদী পরিকল্পনা থাকা অপরিহার্য।




জাপান-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন দ্বার উন্মোচন করবে

জাপানি বিনিয়োগকারীদের ক্রমাগত বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের মনোভাবই দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করবে। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।

বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জাপান, বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম সহযোগী দেশ। বাংলাদেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ সম্প্রসারণ, অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, মেট্রোরেল এবং মহেশখালী-মাতারবাড়ী প্রভৃতি মেগা প্রকল্পে জাপান ইতিমধ্যে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছে। এছাড়াও দেশের বেসরকারি খাত এবং মানবসম্পদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ইমেজ বৃদ্ধিতে জাপান ক্রমাগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য জাপান ১১তম বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য ও ৭ম বৃহত্তম আমদানির উৎস এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৩.৭৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অপরদিকে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের বিবেচনায় জাপান ১২তম অবস্থানে রয়েছে এবং ইতিমধ্যে জাপানের উদ্যোক্তাবৃন্দ বাংলাদেশে ৪৫৭.৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ করেছে।

সামীর সাত্তার বলেন, জাপানি বিনিয়োগকারীদের ক্রমাগত বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের মনোভাবই দুদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে আরো সুদৃঢ় করবে। বিগত ৫০ বছর ধরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কের ভিত্তি বর্তমানে একটি স্ট্র্যাটেজিক পার্টরশিপে পরিণত হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান জাপান সফর সে সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।

জাপানের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, জাহাজ নির্মাণ, ইলেকট্রনিক্স, পাট, জ্বালানি, অটোমোবাইল, হালকা-প্রকৌশল, তথ্য-প্রযুক্তি, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, শিল্পখাতে মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারী উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রভৃতি খাতে জাপানের উদ্যোক্তাবৃন্দ বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে পারে বলে মনে করেন ডিসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার সাত্তার।

সামীর সাত্তার বলেন, জাপান বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আগামীতে দুই দেশের মধ্যে ইকোনোমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) স্বাক্ষরকে তরান্বিত করবে। এলডিসিকে উত্তরণের পর জাপানের বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা হারানোর বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জে জাপানী বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্ভাবনাময় জাপানী বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি মাইলস্টোন উদ্যোগ বলা যায়।




বঙ্গবাজারে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি ডিসিসিআই’র আহ্বান

রাজধানীর বঙ্গবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন হাজারো ব্যবসায়ী। এ দুর্যোগ বিবেচনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দ্রুত পুনর্বাসনের জন্য তাদের আর্থিক সহায়তার আওতায় নিয়ে আসা প্রয়োজন।

এ প্রেক্ষিতে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যার্থে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে এগিয়ে আসার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

রোববার (৯ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে ডিসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার সাত্তার বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবেচনার জন্য বেশকিছু সুপারিশ করেছেন।

এর মধ্যে রয়েছে- ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের গৃহীত আর্থিক লোনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পুণরায় চালু করতে সুদমুক্ত বা স্বল্প সুদে বিশেষ মেয়াদী ঋণ দেওয়ার জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া, এরই মধ্যে যারা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন ধরনের মেয়াদি, ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ও ক্যাশ ক্রেডিট ঋণ গ্রহণ করেছেন তাদের ঋণের সুদ হার কমানোসহ বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে ঋণের ধরনের ওপর ভিত্তি করে কিস্তি পরিশোধের সময়সীমা বৃদ্ধি করা, সে পর্যন্ত তাদের ঋণসমূহকে ক্লাসিফাইড হিসেবে ঘোষণা না করা এবং সরকারের বিদ্যমান বিভিন্ন পুণঃঅর্থায়ন স্কীমের আওতায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি নিরুপণ পূর্বক তাদের সহজ শর্তে প্রদত্ত ঋণসমূহের আওতায় নিয়ে আসা।

ঢাকা চেম্বার সভাপতি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের সহায়তার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক যদি উপরোক্ত প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করে, তাহলে উদ্যোক্তাদের দ্রুত পুর্নবাসন করা সম্ভব হবে এবং এর সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মচারীদের জীবনাযাত্রা স্বাভাবিক হবে।




প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের অভাবে পুঁজিবাজারের সংকট: সালমান এফ রহমান

‘আমাদের ক্যাপিটাল মার্কেটের একটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রাকচারাল ডিফেট (কাঠামোগত দুর্বলতা) রয়ে গেছে। আমরা অনেকেই অনেক কথা বলি কিন্তু এসব দুর্বলতা সমাধানে যেসব কাজ করা দরকার আমরা তা করছি না।’

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ না থাকাকে দেশের পুঁজিবাজারের চলমান তারল্য সংকটের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান (সালমান এফ রহমান)।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ক্যাপিটাল মার্কেটের একটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রাকচারাল ডিফেট (কাঠামোগত দুর্বলতা) রয়ে গেছে। আমরা অনেকেই অনেক কথা বলি কিন্তু এসব দুর্বলতা সমাধানে যেসব কাজ করা দরকার আমরা তা করছি না।’

বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই), দৈনিক সমকাল এবং চ্যানেল ২৪-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ২০২৩-২৪ প্রাক-বাজেট আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সালমান এফ রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি এ বিনিয়োগ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি এনালাইসিস করে দেখেছি যে, আমাদের দৈনিক যে লেনদেন এতে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ হচ্ছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের। আর ৫ থেকে ১০ শতাংশ হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী। আইসিবি টোটালি ইনঅ্যাকটিভ (নিষ্ক্রিয়), এছাড়া সিটি ব্যাংক ও অন্যান্য বিনিয়োগকারী ব্যাংক রয়েছে তারা দৈনিক লেনদেনের ৫ শতাংশ অংশগ্রহণ করছে। মূল সমস্যাটা এই জায়গাতেই।’

তিনি বলেন, ‘অন্যান্য দেশের ফ্রন্টিয়ার মার্কেটে দৈনিক লেনদেনে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ থাকে ৯০ শতাংশ আর ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী থাকে ১০ শতাংশ।’

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘আমি আজকেও এটা শুনেছি যে, কথার কথায় সবাই বলে ছোট বিনিয়োগকারীদের আমাদের বাঁচাতে হবে। ছোট বিনিয়োগকারীকে রক্ষা করা তো সরকারের দায়িত্ব না। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের এখানে বিনিয়োগ করাই উচিত না। তাদের উচিত প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যমে বিনিয়োগ করা।

‘এখানে আমরা শুধু ব্রোকারকে ব্যবহার করি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে, কিন্তু বিনিয়োগের সিদ্ধান্তগুলো একজন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী হিসেবে আমি নিজে নিচ্ছি। আর যখনই আমার ভুলের কারণে আমি লস করি তখন দায়িত্বটা সরকারে হয়ে যাবে। বাহ খুব সুন্দর।’

প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, ‘এই স্ট্রাকচারাল ডিফেটটা (কাঠামোগত দুর্বলতা) যদি আমরা না ঠিক করতে পারি, তাহলে আমাদের পুঁজিবাজার বড় করা অনেক বেশি কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে।’

সালমান এফ রহামন বলেন, ‘মুদ্রাস্ফীতি বিশ্বব্যাপী সমস্যা। রিজার্ভের সমস্যা সমাধানে আমরা আমদানি কমাতে সক্ষম হয়েছি। আগামী জুনে রিজার্ভ নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হবে, আইএমএফ ঋণ দেবে না বিভিন্ন আশঙ্কা করেছিলেন অনেকে। কিন্তু আইএমএফ থেকে ঋণ পাওয়া গেছে। প্রথম দফায় ঋণ ছাড়ও হয়েছে। ব্যাংক সুদের হার সীমা তুলে দেওয়া হচ্ছে। ম্যাক্রো ইকোনমিতে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে আমরা সঠিক পথেই আছি।’

তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজার চাঙা করতে বন্ড মার্কেটকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সব পণ্যে প্রণোদনা দিতে হবে। আমরা অনেক দেশ, এমনকি উন্নত দেশের তুলনায় ভালো আছি। বেসরকারি খাতের সহযোগিতায় আমরা অনেক ভালো পজিশনে আছি। কৃষি, প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাতের কারণে আমাদের পজিশন ধরে দেখতে পেরেছি।’

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘ট্যাক্স জিডিপি অনুপাত বিশ্বের মধ্যেই কম। ট্যাক্স নেট ও জিডিপি বাড়াতে হলে অটোমেশনের বিকল্প নেই। কাঠামোগত সমস্যা আছে, তা হচ্ছে পরোক্ষ করের নির্ভরশীলতা। এটা কমাতে হবে। প্রত্যক্ষ কর বাড়াতে হবে। বড় সমস্যা হচ্ছে আমরা এখনো রাজস্ব আদায়ে কাস্টমসের নির্ভরতা বেশি। এটা কমাতে হবে।

‘ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন যদি ২০১৪ সালে করতে পারতাম তাহলে এই সেক্টর নিয়ে এতো প্রশ্ন উঠতো না। কর আইন সহজ করতে হবে। কর নেট বৃদ্ধির কথা বলি, কিন্তু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কর দিতে চায় না। এটাই বাস্তবতা। সবাই করের আওতায় না এলে করনেট বৃদ্ধি কীভাবে হবে? ব্যবসায় লাভ করছে, কিন্তু কর দিতে সমস্যা কোথায়? সব জায়গায় কর অব্যাহতি দিলে কর কোথা থেকে আসবে।’

মেনমেইড ফাইবারে কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে মেনমেইড ফাইভার মেনমেইড ফাইভার শুরু করেছি। এতদিন আমরা কী করলাম? ইয়াংওয়ান ২০ বছর আগে এগুলো করেছে। বর্তমানে তারা বিলিয়ন ডলারের মেনমেইড করতেছে, তাদের কি ইনসেন্টিভ দেয়া হইছে? তাহলে আমরা কেন এতদিন বসে রইলাম?’

ডিসিসিআই সভাপতি সামীর সাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, এফবিসিসিআই’র সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, সাবেক সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন) উপস্থিত ছিলেন।