বহিরাগতদের অবিলম্বে ঠাকুরগাঁও ছাড়ার নির্দেশ ইসির

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের পরিবেশ নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ রাখার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থান নিষিদ্ধ করে অবিলম্বে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই নির্দেশনাটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারকে (এসপি) আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য আসনের এই উপ-নির্বাচন। নির্বাচনকে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময়ের ৪৮ ঘণ্টা পূর্ব থেকে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর আরও ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। অর্থাৎ, ২৭ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে শুরু করে ৩০ অক্টোবর বিকেল ৪টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় কোনো বহিরাগত ব্যক্তি অবস্থান করতে পারবেন না।

সংস্থাটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে নির্বাচনী কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত ব্যক্তি, নির্বাচন কমিশন থেকে বৈধ অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং ওই নির্বাচনী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা বা নিবন্ধিত ভোটার ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি ওই এলাকায় অবস্থান করতে পারবেন না।

চিঠিতে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক গৃহীত এই সিদ্ধান্ত শতভাগ বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এই উপ-নির্বাচনে মোট ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মির্জা ফয়সল আমিন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)। এলাকা জুড়ে বহিরাগতদের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারির পর থেকে নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।




দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির অবস্থা মোটামুটি ভালো : অর্থ উপদেষ্টা

বর্তমানে দেশের বাইরে বাংলাদেশের ইমেজ অনেক বেটার এবং দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির অবস্থা মোটামুটি ভালো বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে তিন দিনের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় অধিবেশন শেষে অর্থ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের এ মন্তব্য করেন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমাদের কিন্তু বর্তমানে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির অবস্থা মোটামুটি ভালো। কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স পজিটিভ, ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট পজিটিভ, রেমিট্যান্স ভালো। বিষয়টা এমন না যে আমরা মরিয়া হয়ে উঠেছি আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংক থেকে ঋণের জন্য। বর্তমানে বাংলাদেশের ইমেজ কিন্তু বাইরে অনেক বেটার।

 

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে কী কোনো নেগোসিয়েশন হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আইএমএফ এর সঙ্গে নেগোসিয়েশন হয়েছে, তারা একটা বোর্ড…। আমরা বলেছি যে আমাদের কিছু কাজ আছে। অনেকেই ভাবছে আমরা ভিক্ষা করে টাকা পয়সা নিয়ে আসছি। আমরা আমাদের নিজস্ব তাগিদে অনেক কন্ডিশন মেনে আনছি। কিছু শর্ত আছে তারা বললেই আমরা করবো, বিষয়টা কিন্তু তা না। আমরা বলেছি আমরা আমাদের মতো করে করবো।

আগামী মার্চ মাসে আইএমএফ এর বোর্ড সভায় বাংলাদেশের ঋণ প্রস্তাব উঠবে, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, মার্চে না, আমরা বলেছি একটু অপেক্ষা করবো। জুনে এক সঙ্গে দুইটার রিভিউ করবো। সেটা আমাদের জন্য বেটার হবে। দ্রুত আমাদের পর্যাপ্ত সাপোর্টের প্রয়োজন।

এটা আমরা চেয়েছি নাকি আইএমএফ নিজে থেকে করবে বলেছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা সাজেস্ট করেছে, তবে আমি বলেছি অনেকগুলো বিষয় আছে যেটা আমরা দ্রুত করতে পারবো না।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) সঙ্গে বৈঠক হয়েছে, সেখান থেকে কী নিয়ে এলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইফাদ বাংলাদেশের কৃষিখাত উন্নয়নে বড় অবদান রাখছে। আমাদের কৃষিখাত, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে যে উন্নয়ন দেখেন সেটা তাদের জন্য হয়েছে। তা না হলে আমরা ১৭ কোটি লোককে খাওয়াতে পারতাম না। আমরা তাদের বলেছি এসব খাতে আরও বেশি অর্থায়ন করতে।