আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তালিকাভুক্ত কোম্পানির খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস দাবি

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানির খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানিয়েছে পুঁজিবাজারের ষ্টক ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) খন্দকার রাশেদ মাকসুদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ দাবি জানায়।

চিঠিতে সাইফুল ইসলাম বলেন, ডিএসই বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ২২টি খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস অনুসরণ করছে—যার মধ্যে সরকারি ও কর্পোরেট বন্ড এবং মিউচুয়াল ফান্ড অন্তর্ভুক্ত, তা বহু বছর ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে এবং বর্তমান বৈশ্বিক পুঁজিবাজার বাস্তবতার সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

 

তিনি বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ পুঁজিবাজার এখন গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রি ক্লাসিফিকেশন স্ট্যান্ডার্ড (জিআইসিএস) অথবা ইন্ডাস্ট্রি ক্লাসিফিকেশন বেঞ্চমার্ক (আইসিবি) অনুসরণ করছে; যা খাতভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণকে অধিক স্বচ্ছ, তুলনাযোগ্য ও কার্যকর করে তোলে।

ডিবিএ চিঠিতে বিদ্যমান শ্রেণিবিন্যাসের কয়েকটি অসংগতির উদাহরণ তুলে ধরে। যেমন— ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড বর্তমানে ‘ফার্মাসিউটিক্যালস অ্যান্ড কেমিক্যালস’ খাতে এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ ‘ফুড অ্যান্ড অ্যালাইড’ খাতে তালিকাভুক্ত, যেখানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী উভয় কোম্পানি ‘কনজ্যুমার স্ট্যাপলস’ খাতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া যৌক্তিক। একইভাবে ওয়ালটন, সিঙ্গার, বাটা ও এপেক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘কনজ্যুমার ডিসক্রিশনারি’ খাতে শ্রেণিবদ্ধ করা হলে তাদের প্রকৃত ব্যবসায়িক চরিত্র ও ভোক্তা চাহিদা নির্ভরতা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে।

ডিবিএর মতে, খাতভিত্তিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ অর্থনৈতিক প্রবণতা, ভোক্তা আচরণ ও আয় বৃদ্ধির ধারা বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একটি পুরোনো বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ শ্রেণিবিন্যাস কাঠামো এসব বিশ্লেষণের কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন করে। ডিবিএ আরও উল্লেখ করে যে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস গ্রহণ করলে বাজারের স্বচ্ছতা বাড়বে, বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে তুলনাযোগ্যতা তৈরি হবে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের পুঁজিবাজার একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক সূচক হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারবে।

ডিবিএ বিএসইসির কাছে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে ডিএসইর খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে এবং আশা প্রকাশ করেছে যে, এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের প্রতি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীর বিশ্বাসযোগ্যতা, আস্থা, বিশ্লেষণগত গভীরতা ও বৈশ্বিক সংযুক্তি আরও সুদৃঢ় করবে।




পুঁজিবাজারে কারসাজির শাস্তি হয় না, এটাই মূল সমস্যা: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, “পুঁজিবাজারে কারসাজির শাস্তি দেওয়া হয় না। এটাই হচ্ছে পুঁজিবাজারের মূল সমস্যা। পুঁজিবাজারে যারা কারসাজি করেছেন, তারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েছেন। এখন তাদের কেউ কেউ জেলে আছেন। তবে তারা জেলে গেছেন অন্য ঘটনায়। পুঁজিবাজারের অনিয়মের কারণে এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

শনিবার (২৪ মে) রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই ব্রোকার্স অ‍্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনায় পুঁজিবাজার: দর্শন ও অনুশীলন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এসব বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। প‍্যানেল আলোচক হিসেবে ছিলেন বিএসইসি কমিশনার মো. মোহসিন চৌধুরী, জামায়াত ইসলামের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কাউন্সিলের সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাশরুর রিয়াজ, জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ড. তাজনুভা জাবিন, আইসিএমএবির সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমেদসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “শাস্তি যদি না হয় অন্যায় ও দুর্নীতি রোধ করা যায় না। আমরা দেখেছি ১৯৯৬ সালে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় শেয়ারবাজারে অনিয়ম হয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে পথে বসিয়ে দেওয়া হয়। সে সময় বাজার থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। তার কোনো বিচার হয়নি। বিচার না হওয়ার কারণে আমরা ২০১০ সালে আবারও একই ধরনের চিত্র দেখেছি। রাজনৈতিকভাবে সিন্ডিকেট করে পুঁজিবাজার থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা বের করে নেওয়া হয়। এই ঘটনারও কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশের শেয়ারবাজার আশানুরূপ বিনিয়োগ, সঞ্চয় ও কর্মসংস্থান করতে পারছে না। এছাড়া এই বাজার যাদের দ্বারা পরিচালিত হয়, সেই বিনিয়োগকারী, রেগুলেটর, লিস্টেড কোম্পানি ঠিকমতো চলছে না। শেয়ারবাজারে এই মুহূর্তে যে সমস্যা আছে এটা বৃহত্তর কাঠামোতে যদি আলোচনা না করি, তাহলে হবে না। আপনি যদি আলোচনা ছাড়া ঠিক সিদ্ধান্ত নেন, সেটাও ঠিক হবে না। আর শেয়ারবাজার দিন আনি দিন খাইয়ের জায়গা না। এটা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জায়গা।”

তিনি বলেন, “শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিন আইপিও বন্ধ। এছাড়া এরই মধ‍্যে সূচকে অনেক পতনের মাধ‍্যমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এ সমস্যা টোটকা ওষুধ দিয়ে সমাধান হবে না।সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ‍্যমে বড় উদ্যোগ নিয়ে সমাধান করতে হবে।”

তিনি আরো বলেন, “বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার থেকে চালাক। সুতরাং আপনি যদি নিয়ন্ত্রক সংস্থায় আরো বেশি চালাক ব্যক্তিকে দায়িত্ব না দেন, তাহলে ঠেকিয়ে রাখতে পারবেন না।”




শেয়ারবাজারে সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানির তালিকাভুক্তি চায় ডিবিএ

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির অনুরোধ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূসের কাছে চিঠি দিয়েছে পুঁজিবাজারের স্টক ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।

মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলামের সই করা এ চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার গত ১৫ বছর ধরে চরম অনিয়ম, অপশাসন ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে। নানান অনিয়মের ফলে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান প্রায় অকার্যকর ও ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকৃত রিটার্ন এবং মূলধন কমে বাজার প্রকৃত অর্থে প্রায় ৪০ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে।

অতীতে বিভিন্ন প্রতিকূল ঘটনা এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক ঘটনার কারণে বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। বিশেষ করে, ১৯৯৬ এবং ২০১০ সালের স্ক্যামগুলি বাজারের আর্থিক সংকট হিসেবে দাঁড়িয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও বাজারের সামগ্রিক অখণ্ডতার স্থায়ী ক্ষতি করেছে। এ সময়ে অসংখ্য কোম্পানির শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে- বলে চিঠিতে জানিয়েছে ডিবিএ।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২০ সালে কোভিড-১৯ এবং পরবর্তীকালে প্রায় ২০ মাস ধরে শেয়ারের দামের ওপর ফ্লোর প্রাইস আরোপের ফলে বাজারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক ফান্ড ম্যানেজাররা বাংলাদেশ থেকে দূরে সরে গিয়েছে এবং স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের সঞ্চয় ও বিনিয়োগের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো, মানহীন আইপিও তালিকাভুক্তির মাধ্যমে বাজার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে, যার ফলে বাজারে স্থায়ী তারল্য সংকট ও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, পরিচালনাকারী সংস্থা, তালিকাভুক্ত কোম্পানি, বাজার মধ্যস্থতাকারী এবং আর্থিক নিরীক্ষক, রেটিং এজেন্সিসহ অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের মাঝে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ঘাটতির কারণে আস্থার মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। আপনার নেতৃত্বে আমরা যদি এই সংকট থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে না পারি, তাহলে আমরা বাজারকে ঘুরে দাঁড়ানোর, এতে শৃঙ্খলা আনার এবং রাষ্ট্রের জন্য ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য মূলধন সংগ্রহের পরিবেশ তৈরি করার একটি চমৎকার সুযোগ হারাবো।

তাই জবাবদিহি কাঠামো নিয়ে কাজ করার সময় আমাদের অবশ্যই আইপিও দিয়ে বাজারকে সমৃদ্ধ করতে হবে এবং বাজার মধ্যস্থতাকারী ও বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের দুর্ভোগ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য নতুন পণ্য ও কোম্পানি তালিকাভুক্ত করতে হবে। কম বাণিজ্যের পরিমাণ, বিনিয়োগযোগ্য স্টকের অভাব এবং সরবরাহের অসামঞ্জস্যতা, অনুমানমূলক এবং ম্যানিপুলেটিভ কৌশলগুলির জন্য প্রজনন ক্ষেত্রের দিকে পরিচালিত করে। এ পরিবেশ থেকে বাঁচতে যত দ্রুত সম্ভব উচ্চমানের আইপিও পুঁজিবাজারে আনা প্রয়োজন- বলে ডিবিএর চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক ও অবকাঠামো খাতে আমাদের অসংখ্য লাভজনক রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন উদ্যোগ রয়েছে। যদি এই সমস্ত সংস্থাগুলি বাজারে তালিকাভুক্ত হয় তবে বাজারে মানের স্টকগুলির ক্রমবর্ধমান সরবরাহ থাকবে যা চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে সহায়তা করবে। এটি বিনিয়োগকারীদের বাজারে ফিরিয়ে আনবে এবং বাজারে তারল্য সমস্যার সমাধান করবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অনেক সুশাসিত, বড় বহুজাতিক কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে, তাদের মধ্যে কিছু শত বছরের, দেশের অবকাঠামোগত, আর্থিক ও মানবসম্পদকে একত্রিত করছে। আমরা সরকারকে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানিগুলিতে থাকা তার অংশীদারত্ব অফলোড করার জন্য অনুরোধ করছি।

ডিবিএ আশা করছে, পুঁজিবাজারের বৃহৎ স্বার্থে প্রধান উপদেষ্টা তাদের আবেদনটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন এবং এর বাস্তবায়নে কার্যকার পদক্ষেপ নেবেন।




পুঁজিবাজারে বিশেষ তহবিলের সময় বাড়া‌নোর প্রস্তাব ডিবিএ’র

পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল করতে বিনিয়োগের জন্য বিশেষ তহবিলের সময়সীমা বাড়িয়ে ২০৩০ সাল পর্যন্ত করার দাবি জানিয়েছে পুঁজিবাজারের স্টক ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। একই সঙ্গে তহবিলের আকার প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের জন্য ২০০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর কা‌ছে ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম এসব বিষয় সুপারিশ ক‌রে এক‌টি চিঠি দি‌য়ে‌ছে।

চিঠির অনুলিপি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবকেও পাঠানো হয়েছে।

সং‌শ্লিষ্টরা জানান, বিশেষ এ তহবিলের মেয়াদ আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে। পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল করতে এবং বাজারের তারল্য প্রবাহ বাড়াতে গত ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলারের মাধ্যমে তফসিলি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং পুঁজিবাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে পুঁজিবাজারে তাদের নিজস্ব পোর্টফোলিওতে বিনিয়োগের জন্য একটি বিশেষ তহবিল প্রদানের নির্দেশনা জারি করে। এই বিশেষ তহবিলের আকার প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের জন্য ২০০ কোটি টাকায় সীমাবদ্ধ ছিল।

চিঠিতে ডিবিএ বলেছে, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার একটি চ্যালেঞ্জিং সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত ২০২১ সালের শেষ থেকে পুঁজিবাজারে দীর্ঘ মন্দা বিরাজ করছে, যার ফলে ইক্যুইটি বাজার মূলধন (প্রায় ৪০%, বা ২,৩০০ বিলিয়ন টাকা) উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। এই মন্দা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী (যেমন, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি এবং মিউচুয়াল ফান্ড) এবং বাজার মধ্যস্থতাকারী, স্টক-ব্রোকার এবং অন্যান্য অংশীদারদেরসহ ২০ লাখেরও বেশি বিনিয়োগকারীকে প্রভাবিত করেছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, এই তহবিলের আওতায় অনেক স্বনামধন্য তফসিলি ব্যাংক পুঁজিবাজারে তাদের নিজস্ব পোর্টফোলিওতে বিনিয়োগ করেছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে যাদের পোর্টফোলিও বিনিয়োগ ৪০ থেকে থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে আছে। এই মুহূর্তে এই ধরনের তহবিল বন্ধ করলে পোর্টফোলিও অ্যাকাউন্টে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হবে এবং বিনিয়োগকারীসহ পুঁজিবাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ডিবিএ জানায়, এ অবস্থা থেকে উত্তরণে বিশেষ তহবিলের সময়সীমা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করে তহবিলের আকার প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের জন্য অতিরিক্ত ১০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি করে ৩০০ কোটি টাকা করার জন্য গভর্নর মহোদয়ের নিকট সুপারিশ করা হয়েছে। আশা করি, পরিস্থিতি বিবেচনা করে পুঁজিবাজারের সার্বিক স্বার্থে সুপারিশগুলো তিনি বিবেচনা করবেন।




মূলধনী আয়ে কর স্থগিতসহ লেনেদেনে কর কমানোর দাবি ডিবিএর

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে মূলধনী মুনাফা উপর বিদ্যমান কর স্থগিত করা এবং সিকিউরিটিজ লেনেদেনের উপর অগ্রিম আয়কর কমানোর দাবি জানিয়েছে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর সংগঠন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।

বুধবার (৩০ অক্টোবর) ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বরাবর পাঠানো হয়েছে।

একই সঙ্গে বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানকেও অবহিত করা হয়েছে।

চিঠিতে ডিবিএ জানিয়েছে, পুঁজিবাজারের স্টক ব্রোকারদের একমাত্র সংগঠন ডিবিএ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে বাংলাদেশ পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি, ডিএসই, সিডিবিএল, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআরসহ বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যবসায়ীক সংগঠনের সাথে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। পুঁজিবাজারে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের দরুন ডিবিএ ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক সংগঠন এশিয়া সিকিউরিটিজ ফোরাম (এএসএফ)-এর সদস্যপদ লাভ করেছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে স্থান করে নিয়েছে। বাংলাদেশ পুঁজিবাজার গত কয়েক বছর ধরে কঠিন সময় পার করছে। কোভিড-১৯, ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ ও দেশি বিদেশি নানান ঘটনার নেতিবাচক প্রভাব পুঁজিবাজারকে অস্থির করে দিয়েছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝে শেয়ার দরে দু’দফায় ফ্লোর প্রাইস আরোপসহ বেশকিছু সিদ্ধান্ত বাজারের শৃংখলা ও স্বাভাবিক কার্যক্রমকে নষ্ট করে দিয়েছে এবং বাজারের পতন দীর্ঘায়িত করেছে। এই দীর্ঘ পতনের ফলে দেশি বিদেশি বহু বিনিয়োগকারী আস্থা হারিয়ে বাজার থেকে পুঁজি তুলে নিয়েছে।

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, আস্থার সংকটের সাথে তারল্য সংকট একাকার হয়ে বাজারের ধারাবাহিক পতন দীর্ঘায়িত হচ্ছে। দীর্ঘ এই পতনের ফলে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী তাদের পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। বাজার সূচক গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে অবস্থান করছে। এই অবস্থায় বিনিয়োগকারীসহ বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় বাজারে বড় বিনিয়োগকারী আনা জরুরি।

মূলধনী আয়ের উপর বিদ্যমান কর স্থগিত এবং সিকিউরিটিজ লেনেদেনের উপর অগ্রিম আয়কর কমানোর বিষয়ে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যমান আয়কর আইনে মূলধনী আয়ে ৫০ (লাখ টাকার অধিক আয়ের উপর স্তরভিত্তিক করারোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে বিগত ও বর্তমান বছরে কোনো মূলধনী লোকসানের ভবিষ্যৎ মূলধনী আয়ের সাথে সমন্বয় করার বিধান রাখা হয়নি। এই করারোপের ফলে বড় বিনিয়োগকারী বিনিয়োগের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে বাজার বিমূখ হয়ে পড়েছে। মূলধনী আয়ের উপর বিদ্যমান করের ছাড় বাজারে বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে। এমতাবস্থায় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে পুঁজিবাজারকে বিনিয়োগ সমৃদ্ধ করতে মূলধনী আয়ের উপর বিদ্যমান কর কমপক্ষে ২ বছর স্থগিত করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে ব্রোকারেজ হাউজগুলো দুটি স্তরে কর প্রদান করে থাকে। প্রথমতঃ সিকিউরিটিজ ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ০.০৫ শতাংশ এবং দ্বিতীয়তঃ কর্পোরেট আয়কর হিসেবে, যেটি বেশী হয় তা চুড়ান্ত কর হিসেবে গন্য করা হয়। এ দ্বিস্তরের কর ব্যবস্থা মন্দা বাজার পরিস্থিতিতে ব্রোকারদের ক্ষতি করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্রোকারদের আয় না হলেও আয়কর প্রদান করতে হয় এবং মাঝারি বাজারে এই করের হার ৬০ শতাংশ বা তারও বেশি ছাড়িয়ে যায়। এরুপ করনীতি ব্রোকারদের ব্যবসাকে সংকুচিত করে দিয়েছে এবং আর্থিক সংকটের দরুন অনেক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এমতাবস্থায় পুঁজিবাজারে ব্রোকারেজ হাউজের ট্রেডিং কার্যক্রম সক্রিয় ও সচল রাখতে রাজস্ব করহার ০.০৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.০২ শতাংশ করার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।




বিএসইসি ও ডিবিএ’র বৈঠকে পুঁজিবাজার সংস্কারে গুরুত্ব আরোপ

পুঁজিবাজারের উন্নয় ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সঙ্গে মতবিনিময় করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বৈঠকে পুঁজিবাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে গঠনমূলক ও টেকসই সংস্কারের বিষয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। সংস্কারের চলমান প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দেশের পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সবার মতামত, অংশগ্রহণ, অংশীজনদের সহযোগিতায় একটি স্বচ্ছ ও সমৃদ্ধ পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিএসইসি।

সোমবার (১৪ অক্টোবর) বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৪ অক্টোবর পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সঙ্গে ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষ প্রতিনিধিদের একটি মতবিনিময় সভা হয়।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি ভবনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সংস্থাটির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ, কমিশনার মু. মোহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও নির্বাহী পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। ডিবিএ’র পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মো. সাইফুদ্দিন, সহ-সভাপতি ওমর হায়দার খান, পরিচালক মামুন আকবর ও সাবেক পরিচারক মিনহাজ মান্নান ইমন।

মতবিনিময় সভায় সূচনা বক্তব্যে বিএসইসি’র চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ দেশের পুঁজিবাজারের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও সংস্কারে প্রয়োজনীয় ও যথাযথ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সমৃদ্ধ ও সফল পুঁজিবাজার গড়তে হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সাথে সাথে পুঁজিবাজারের সাথে সম্পৃক্ত সকল অংশীজন প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

সকলের সহযোগিতা ও সমর্থনের মাধ্যমেই পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও সংস্কার সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া, পুঁজিবাজারের সংস্কারের জন্য বিএসইসি টাস্কফোর্স গঠন করেছে এবং টাস্কফোর্স ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়, সভায় ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষ প্রতিনিধিবৃন্দ দেশের পুজিবাজারের সার্বিক উন্নয়ন ও সংস্কার সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের মতামত ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এ সময় দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও বিকাশের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও সমাধানের বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে সমন্বিত গ্রাহক হিসাবের (সিসিএ) রিপোর্টিং ও সিসিএ থেকে পাওয়া মুনাফাসহ অন্যান্য বিষয়ে সংস্কার প্রস্তাব, পুঁজিবাজারের রেগুলেটরি কাঠামোর সংস্কার ও উন্নয়ন, পুঁজিবাজারের যথাযথ মনিটরিং ও সুশাসন নিশ্চিতকরণ, আইপিও প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয় সংস্কার আনয়ন, পুঁজিবাজারে সমন্বিত ব্যাক অফিস সফটওয়্যার চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়ন, পুঁজিবাজারে সঠিক তথ্যের প্রবাহ নিশ্চিতসহ গুরুত্বপূর্ণ মূল্য সংবেদনশীল তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, মার্জিন লোনের সুদহার সংশ্লিষ্ট সংস্কারে উদ্যোগ গ্রহণ, পুঁজিবাজারে আরোপিত কর নীতিসম্পৃক্ত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সাথে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি ইত্যাদি প্রস্তাবনা উঠে এসেছে সভার আলোচনায়। পুঁজিবাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির মাধ্যমে গঠনমূলক ও টেকসই সংস্কার সাধনের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। সর্বোপরি, সভায় দেশের পুঁজিবাজারের সংস্কার ও উন্নয়নে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনসমূহের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে যার যার অবস্থান থেকে সকলকে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

উল্লেখ্য, পুঁজিবাজারের সার্বিক সংস্কার সংক্রান্ত বিষয়ে বিএসইসির সঙ্গে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা স্টক এক্সেচেঞ্জ পিএলসি (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সেচেঞ্জ পিএলসি (সিএসই), সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল), সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট (বিআইসিএম), বাংলাদেশ একাডেমি ফর সিকিউরিটিজ মার্কেটস (বিএএসএম) ও ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডের (সিএমএসএফ) শীর্ষ নির্বাহীদের বৈঠক হয়।

গত ১ অক্টোবর ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ), বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ), অ্যাসোসিয়েশন অব ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ (এসিআরএবি), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি), ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি), ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) ও ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা হয়।

এছাড়া, পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সম্ভাব্য সংস্কার সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার নিমিত্তে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বর্তমান কমিশনের সঙ্গে বিএসইসি’র সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভা হয়েছে। একইসঙ্গে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে গত ৬ ও ৯ অক্টোবর বিএসইসি’র সভা হয়েছে। সংস্কারের চলমান প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দেশের পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত ও অংশগ্রহণ এবং অংশীজনদের সহযোগিতায় একটি স্বচ্ছ ও সমৃদ্ধ পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে বিএসইসি কাজ করছে।




টোকিওতে এএসএফ সম্মেলনে ডিবিএ প্রেসিডেন্টের যোগদান

এশিয়া সিকিউরিটিজ ফোরাম (এএসএফ) টোকিও রাউন্ড টেবিল সেমিনারে যোগ দিতে গত শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাপানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম। সেখানে তিনি ৯ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিকিউরিটিজ মার্কেটের ওপর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালায় অংশ নিবেন।

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে ডিবিএ’র সেক্রেটারি মো. দিদারুল গনী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পাঁচ দিনব্যাপী টোকিও রাউন্ড টেবিল সেমিনারে জনাব সাইফুল ডিবিএ’র পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং বাংলাদেশের সিকিউরিটিজ মার্কেটের ওপর আলোচনা করবেন।

উল্লেখ্য, এশিয়া সিকিউরিটিজ ফোরাম (এএসএফ) এশিয়া ও ওশেনিয়া দেশভূক্ত সিকিউরিটিজ মার্কেটের সাথে সম্পৃক্ত প্রায় ৪০টি সংগঠন নিয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক ফোরাম। সিকিউরিটিজ মার্কেটের উন্নয়নে গঠিত এই ফোরামের সচিবালয় জাপানের টোকিওতে অবস্থিত। ডিবিএ ২০২৩ সালে এশিয়া সিকিউরিটিজ ফোরামের স্থায়ী সদস্যপদ লাভ করে।

ডিবিএ’র প্রেসিডেন্টের এই সফরের মধ্য দিয়ে এশিয়া সিকিউরিটিজ ফোরামের সদস্যভুক্ত সংগঠনের সাথে ডিবিএর পারস্পরিক সম্পর্ক ও যোগাযোগ উন্নত হবে এবং বাংলাদেশের সিকিউরিটিজ মার্কেটের উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।




ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স বাতিলসহ যেসব দাবি জানালো ডিবিএ

প্রায় চার বছর ধরে শেয়ারবাজারে মন্দা বিরাজ করছে জানিয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেছেন, চার বছর ধরে সবার অবস্থা খারাপ। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা রুগ্ন হয়ে পড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শেয়ারবাজারে ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স আরোপ না করার দাবি জানিয়েছে ডিবিএ। সেই সঙ্গে আরও ছয়টি দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবার (১১ জুন) এসব দাবি জানানো হয়।

ডিবিএ সভাপতি বলেন, চার বছর ধরে শেয়ারবাজারের অবস্থা খারাপ। আমরা চার বছর ধরে এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় পাচ্ছি না। এ পরিস্থিতিতে বাজারে সাপোর্ট দেওয়ার কথা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের। এই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা রুগ্ন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, ২০১০ সাল থেকেই আমরা সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। ১৪ বছরে বাজার স্থিতিশীল করতে পারিনি। একটি প্রজন্ম বাজার বিমুখ হয়ে পড়ছে। যে হারে বাজারে পতন হচ্ছে এর কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে। বিনিয়োগকারীদের ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মূলধন আয়ের ৫০ লাখ টাকার অধিক আয়ের উপর স্তরভিত্তিক করারোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে, কোনো সিকিউরিটিজ বিনিয়োগের সময়কাল ৫ বছর অতিক্রম করলে উক্ত বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত আয়ের উপর ১৫ শতাংশ হারে কর প্রদানের প্রস্তাব করা হয়। গত কয়েকবছর ধরে মন্দাবাজার পরিস্থিতি এবং আর্থিক সংকটে থাকা বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগ পরিস্থিতি বিবেচনা করে মূলধন আয়ের ওপর থেকে করারোপের প্রস্তাব রহিতকরণের জন্য আমরা জোর সুপারিশ করছি।

শেয়ারবাজারের মূল্য সমস্যা কি? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে ডিবিএ সভাপতি বলেন, শেয়ারবাজারের মূল সমস্যা ভালো পণ্যের অভাব। গত ১৫ বছর ধরে ১-২টা ছাড়া আমাদের বাজারে ভালো কোনো কোম্পানি আসেনি।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের পর গত ১০ বছরে স্টক এক্সচেঞ্জের কোনো উন্নতি হয়েছে? যদি না হয় ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন রিভিউ করা উচিত। আমরা মনে করি ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন রিভিউ করার সময় এসেছে।

আরও যেসব দাবি জানিয়েছে ডিবিএ

> ব্রোকারেজ হাউজের রাজস্ব করহার ০.০৫ থেকে ০.০২৫ শতাংশ করা।

> কর্পোরেট আয়করকে ব্রোকারেজের জন্য চূড়ান্ত কর হিসেবে বিবেচনা করা।

> ব্যক্তিশ্রেণির সর্বোচ্চ করহার ৩০ শতাংশের ঊর্ধ্বে অতালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট করহার নির্ধারণ করা।

> নিয়মিত এবং সম্পূর্ন আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের শর্তে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের করহার হ্রাস করা।

> নতুন বিও আইডিগুলোকে ৩ বছরের জন্য করমুক্ত রেখে পরিচালনা করার অনুমতি দেওয়া।

> সব নতুন বিও অ্যাকাউন্টগুলোকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগের সীমা সাপেক্ষে ৩ বছর পর্যন্ত সময়কালের জন্য কর বহির্ভূত রেখে পরিচালনা করার অনুমতি দেওয়া।

> শিক্ষার্থী, সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী এবং প্রবীণ নাগরিকদের দ্বারা পরিচালিত বিও হিসাবধারীদের লাভের জন্য শূন্য হারে কর উপভোগ করার অনুমতি দেওয়া।

> মার্জিন লসকে করছাড় যোগ্য হিসেবে অনুমতি দেওয়া।

মূলধন ক্ষতির উপর আইনের ব্যাখ্যা স্পষ্টী করা

ডিবিএ সভাপতি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মূলধন লাভের উপর করারোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। অথচ মূলধনী লোকসানের উপর ৬ বছর পর্যন্ত মূলধনী ক্ষতির জের বহন কিংবা সমন্বয় করার বিধান বিদ্যমান রয়েছে। এরূপ ক্ষেত্রে আমরা বিনিয়োগকারীর মূলধন ক্ষতির বিষয়ে থাকা বিদ্যমান আইনের সুস্পষ্ট ও কার্যকর ব্যাখ্যা প্রদানসহ এটিকে ৭ বছর পর্যন্ত প্রদেয় আয়করের বিপরীতে বহন বা সমন্বয় করার সুপারিশ করছি।

তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে বাজারে মন্দা বিরাজ করায় অধিকাংশ বিনিয়োগকারী লোকসানের কবলে পড়ে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে রয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে ৫০ লাখের অধিক মূলধন লাভের ওপর করারোপের সঙ্গে বিদ্যমান মূলধনী লোকসানের জের বহন কিংবা সমন্বয় করার অনুমতি দিলে বিনিয়োগকারীদের পুঁজি ধরে রাখতে এবং বাজারের ক্রমবর্ধমান উন্নয়নে বাজারসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজন লাভবান হবে। এর ফলে বিনিয়োগকারী আর্থিকভাবে শক্তিশালী হয়ে বাজারকে সমৃদ্ধশালী করতে সক্ষম হবে এবং এর ফলে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এন্টারপ্রাইজ তালিকাভুক্তির রোডম্যাপ

ডিবিএ সভাপতি বলেন, গত ১ দশকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এন্টারপ্রাইজ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে খুব বেশি অগ্রগতি হয়নি। আমরা পুঁজিবাজারে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থাগুলিকে তালিকাভুক্ত করার জন্য একটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করার অনুরোধ করছি। এ বিষয়ে একটি পরিষ্কার রোডম্যাপ দেওয়া হলে বাজার মানসম্পন্ন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এন্টারপ্রাইজে প্রতিযোগীতামূলক ভালো ব্যবসা তৈরিতে উৎসাহিত হবে।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেয়ারবাজারে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এন্টারপ্রাইজ তালিকাভুক্তির নির্দেশনা প্রদান করেছেন। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এন্টারপাইজ তালিকাভুক্তির বিষয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আশু বাস্তবায়নে সরকার ও বাজার সংশ্লিষ্টদের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছি। আমরা বিশ্বাস করি, শেয়ারবাজারে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এন্টারপ্রাইজ তালিকাভুক্তির ফলে বাজারে তারল্য প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাজারের প্রসার হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে।




পুঁজিবাজারে তারল্য বাড়াতে নীতি সহায়তা করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

পুঁজিবাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়াতে নীতি সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলম। বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকে তার কার্যালয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতকালে তিনি এ আশ্বাস দেন।

ডিবিএ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ সময় ডিবিএ’র প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. সাইফুদ্দিন, বিএমবিএ প্রেসিডেন্ট মাজেদা খাতুন ও বিএমবিএ’র সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. ছায়েদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমের সঙ্গে বৈঠকে ডিবিএ ও বিএমবিএ প্রতিনিধিরা পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন। পাশাপাশি এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা চান।

খুরশীদ আলম প্রতিনিধিদলের কথা মনোযোগ সহকারে শুনেন এবং পুঁজিবাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়াতে শিগগির নীতি সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন। এ ছাড়া, বাজারে নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সহায়ক করা হবে বলে জানান।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নানান ইতিবাচক পদক্ষেপের কারণে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। যার প্রতিফলন শিগগির পুঁজিবাজারে দেখা যাবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডিবিএ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। বৈঠকে খুরশীদ আলম বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখার জন্য ডিবিএ এবং বিএমবিএ’র সদস্যদের যথাযথ কার্যক্রম ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পরামর্শ দেন।




শেয়ারবাজার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে : অর্থ প্রতিমন্ত্রী

নতুন অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়েশা খান বলেছেন, শেয়ারবাজারের উন্নয়ন ও অগ্রগতির লক্ষে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রতিনিধিদের কথা শুনে শেয়ারবাজারের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের আস্বাস দেন তিনি।

 

সোমবার (০৪ মার্চ) শেয়ারবাজারে ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএ প্রতিনিধিদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতকালে তিনি একথা বলেন।

 

এদিন ডিবিএর একদল প্রতিনিধি প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়েশা খানের সাথে তাঁর সচিবালয়ের কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন।

 

সাক্ষাতকালে ডিবিএর প্রেসিডেন্ট শেয়ারবাজার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রীকে অবহিত করেন এবং বাজারের উন্নয়নে তাঁর সহযোগিতা কামনা করেন।

 

ডিবিএ প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. সাইফুদ্দিন, সিএফএ, সেক্রেটারি মো. দিদারুল গনী, সিনিয়র ম্যানেজার (একাউন্টস) পংকজ চন্দ্র ভৌমিক।




বিএসইসি চেয়ারম্যানের মায়ের মৃত্যুতে ডিবিএর শোক প্রকাশ

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের মা হাসিনা মমতাজের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে পুঁজিবাজারে স্টক ব্রোকারদের একমাত্র সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।

রবিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এক শোক বার্তায় সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং মরহুমার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন।

শোক বার্তায় বলা হয়, বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের মা হাসিনা মমতাজের মৃত্যুতে গভীর শোকাহত। মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। একইসঙ্গে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের মা হাসিনা মমতাজ আজ রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৭৯ বছর।

আগামীকাল সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বাদ যোহর মরহুমার জানাযা ধানমন্ডির ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। হাসিনা মমতাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী ছিলেন। তিনি ঢাবি থেকে অধ্যয়ন সম্পন্ন করেন। ষাট ও সত্তরের দশকের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ছিলেন হাসিনা মমতাজ। তিনি সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর স্বামী রফিকুল ইসলাম খান ছিলেন ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।




ফ্লোরপ্রাইস তুলে নেওয়ায় বিএসইসি চেয়ারম্যানকে ডিবিএর ধন্যবাদ

শেয়ারের দরে ফ্লোর প্রাইস (লেনদেনে সর্বনিম্ন মূল্যসীমা) তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন পুঁজিবাজার স্টক ব্রোকারদের একমাত্র সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।

বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) বিএসইসি ৩৫টি কোম্পানি ব্যাতিত বাকী সব কোম্পানির শেয়ার দরের উপর থেকে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী রোববার এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

ফ্লোরপ্রাইস তুলে নেওয়ার এ সিদ্ধান্তের ডিবিএ’র প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বিএসইসির চেয়ারম্যান এবং তাঁর কমিশনকে এই ধন্যবাদ জানান।

বিএসইসি কর্তৃক শেয়ার দরের উপর থেকে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয়ার এই সিদ্ধান্তের ফলে বাজারের স্বাভাবিক লেনদেন ও গতি ফিরে আসবে বলে ডিবিএর প্রেসিডেন্ট বিশ্বাস করেন।

আগামীদিনে বাজারে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রাখতে জনাব সাইফুল বিনিয়োগকারীসহ বাজার সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণের অনুরোধ জানান।




বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীকে ডিবিএ’র অভিনন্দন

সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের (ডিএসই) সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট আহসানুল ইসলাম (টিটু)। একইসঙ্গে নতুন মন্ত্রিসভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন ডিবিএ’র সদস্য মো. আব্দুর রহমান। এই দুই সদস্যকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে ডিবিএ।

আহসান ইসলাম (টিটু) বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী এবং মো. আব্দুর রহমান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তাদেরকে এই অভিনন্দন জানান।

সাইফুল ইসলাম বলেন, আহসানুল ইসলাম (টিটু) একজন আত্মপ্রত্যয়ী, প্রতিশ্রুতিশীল ব্যক্তিত্ব। পুঁজিবাজারের উপর তাঁর গভীর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ডিএসই’র পাশাপাশি পুঁজিবাজারের সকল স্তরে ব্যাপক সংস্কার ও উন্নয়ন করেছেন। তিনি ডিবিএ’র প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট এবং একজন সদস্য। ডিবিএ প্রতিষ্ঠায় তার অসামান্য অবদানের কথা ডিএসই ব্রোকার কমিউনিটি আজীবন মনে রাখবে। আমরা তার এই সাফল্যে গভীরভাবে আনন্দিত। আমরা বিশ্বাস করি, একজন দেশপ্রেমিক ও গণমানুষের নেতা হিসেবে, একজন পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক হিসেবে তিনি দেশ ও জাতির উন্নয়নে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাবেন।

আহসানুল ইসলাম টিটুকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদানের জন্য ডিবিএ প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীকে অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

এদিকে সাইফুল ইসলাম আরো বলেন, আব্দুর রহমান একজন সৎ, নিষ্ঠাবান, দৃঢ়চেতা বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। তিনি একজন দেশপ্রেমিক, গণমানুষের নেতা। তাঁর অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্ব দানের ক্ষমতা রয়েছে। তিনি নিরহংকার, সহজ ও সাধারণ একজন মানুষ। তিনি সকল ক্ষেত্রে দৃঢ়প্রত্যয়ী ও প্রতিশ্রুতিশীল একজন ব্যক্তিত্ব। তিনি ডিবিএ’র একজন সদস্য। পুঁজিবাজারের যে কোনো স্বার্থে তিনি আমাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করেন। আমরা তাঁর এই অবস্থান ও সাফল্যতে আনন্দিত। তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে দেশকে সমৃদ্ধশালী করবেন বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

আব্দুর রহমানকে সরকারের এমন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদানের জন্য ডিবিএ প্রেসিডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে অশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

 




স্টক ডিলার-ব্রোকার বিধির সংশোধন স্থগিত চায় ডিবিএ

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০২৩ এর প্রস্তাবিত সংশোধনী ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে প্রস্তাবিত বিধিমালার সংশোধনী নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সদস্যরা। তাই দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এই বিধিমালার সংশোধন স্থগিত রাখতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বুধবার (১৫ নভেম্বর) স্টক ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএ’র সদস্যদের অংশগ্রহণে বিধিমালার ওপর আয়োজিত আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা জানান। এতে প্রায় ২০৯ স্টক ব্রোকার প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে প্রস্তাবিত বিধিমালার ওপর বক্তব্য ও মতামত দেন।

ডিবিএ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানের শুরুতে বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত খুঁটিনাটি বিষয়ের ওপর উপস্থাপনা প্রদান করেন ডিবিএর ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. সাইফুদ্দিন।

এছাড়া বক্তাদের মধ্যে সবাই বিএসইসির প্রস্তাবিত বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন বিষয়ের ওপর তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সাথে আরও আলোচনা ও মতবিনিময়ের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করেন তারা। পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাসহ আসন্ন জাতীয় নির্বাচন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আলোচ্য বিধিমালা প্রণয়নের কার্যক্রম আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত স্থগিত করতে বিএসইসির প্রতি আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে বক্তারা বলেন, আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে এই বিধিমালা প্রণয়ন পুঁজিবাজারসহ দেশের সার্বিক অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তাই এর কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপস্থিত বক্তারা ডিবিএর প্রতি আহ্বান জানিয়ে এ বিষয়ে ডিবিএর প্রতি তাদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মোনা ফাইন্যান্সিয়াল কন্সালটেন্সি অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং ডিএসই ও ডিবিএর সাবেক প্রেসিডেন্ট আহসানুল ইসলাম টিটু, ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ডিবিএর সাবেক প্রেসিডেন্ট মোস্তাক আহমেদ সাদেক, আলী সিকিউরিটিজ অ্যান্ড কোং-এর চেয়ারম্যান আলী আকবর, বুলবুল সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এস শাহুদুল হক বুলবুল, এসেঞ্জ সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লাইলুন নাহার ইকরাম, শাকিল রিজভী স্টক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ডিএসই ও ডিবিএর সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. শাকিল রিজভী, আইল্যান্ড সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, শান্তা ইনভেস্টমেন্টের ভাইস চেয়ারম্যান আরিফ খাঁন, লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী, ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম, ইবিএল সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েদুর রহমান, বিএলআই সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, প্রুডেন্সিয়াল সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমাদুল হক ববি।

অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন ডিবিএর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সাজিদুল ইসলাম এবং সভাপতিত্ব করেন ডিবিএর প্রেসিডেন্ট রিচার্ড ডি’ রোজারিও।




বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ডিবিএর ১৫ পরিচালক

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুঁজিবাজারে স্টক ব্রোকারদের একমাত্র সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) ১৫ জন পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন।

তারা আগামী দুই বছর পরিচালক হিসেবে সংগঠনটির দায়িত্ব পালন করবেন। ডিবিএর অফিস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিবিএর তথ‍্য মতে, মঙ্গলবার ডিবিএ নির্বাচন বোর্ড পরিচালক পদের জন্য ১৫ জন প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে, যারা অ্যাসোসিয়েশনের আসন্ন এজিএমে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্ষদের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

এর আগে নির্বাচন বোর্ড ১৫ জনকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে। ৩১ অক্টোবর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে কোনো প্রার্থী তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় বিধি মোতাবেক নির্বাচন বোর্ড ১৫ পদের বিপরীতে ১৫ জন প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

নির্বাচিত ১৫ জন পরিচালক হলেন— ব্রাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম, স্যার সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ আতাউর রহমান, আদিল সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দস্তগীর মো. আদিল, এরিস সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুল হক, রেমন্স ইনভেস্টমেন্ট এন্ড সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান মো. মফিজুদ্দিন, কে-সিকিউরিটিজ এন্ড কনসালটেন্টস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিল আফরোজা কামাল, সাবভেলী সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব-ই-ইলাহী, আইডিএলসি সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুদ্দিন, ইমিনেন্ট সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর হায়দার খাঁন, আলী সিকিউরিটিজ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন আকবর, ব্যাংক এশিয়া সিকিউরিটিজের সিইও সুমন দাস, পূবালী ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ, এনএলআই সিকিউরিটিজের সিইও মো. শাহেদ ইমরান, নিউ এরা সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর. ওয়াই. শমসের ও এবি এন্ড কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাফিউজ্জামান বোখারী।




‘প্ররোচিত হয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা ঠিক নয়’

বুঝেশুনে পুঁজিবাজারে আসতে হবে। কারো কথায় প্ররোচিত হয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা ঠিক নয়। যারা অন্যের কথায় উৎসাহিত হয়ে বাজারে বিনিয়োগ করে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার মো. আব্দুল হালিম এসব কথা বলেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ডিএসইর চেয়ারম্যান ড. হাফিজ মো. হাসান বাবু। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিএসইর এমডি ড. এটিএম তারিকুজ্জামান।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।বিশেষ করে যেসব জেলার বিনিয়োগকারীদের একেবারেই অংশগ্রহণ নেই সেসব এলাকার মানুষদের বাজারে আনতে হবে। একইসঙ্গে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসার একমাত্র উদ্দেশ্য লাভ অর্জন করা হওয়া উচিত না। পরিবেশের যেন ক্ষতি না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখা উচিত। সরকারের ভিশন স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে পুঁজিবাজারের ভূমিকা রয়েছে। সকলকে সাথে নিয়ে দেশের পুঁজিবাজার উন্নয়নে কাজ করতে হবে। তবেই স্থিতিশীল পুঁজিবাজার গড়ে তোলা সম্ভব।

বিএসইসি কমিশনার বলেন, বর্তমানে আমাদের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ডলার। যারা এখনো অনেক পিছিয়ে আছে তাদেরকে নিয়ে কাজ করা দরকার। কারণ টেকসই সমাজ তৈরি করতে হলে বৈষম্য দূর করতে হবে।

ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু বলেন, টেকসই উন্নয়ন করতে গেলে স্থিতিশীল বিনিয়োগ দরকার, যেটি বর্তমান সরকার করে যাচ্ছে। যে কোনো দেশের বিনিয়োগকারীরা এখানে বিনিয়োগ করার আগে সুশাসনসহ বিভিন্ন বিষয় লক্ষ্য করেন। এ জন্য বিদেশে বিনিয়োগ আনতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।

 




পুঁজিবাজারের উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করবে ডিবিএ ও এফবিসিসিআই

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করবে পুঁজিবাজার স্টক ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) এবং ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।

রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) এর সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও’র নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল। এ সময় উভয় সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা হয়।

এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম ডিবিএ’র সভাপতিসহ প্রতিনিধি দলকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় দেশের শিল্প তথা অর্থনৈতিক বিকাশে পুঁজিবাজারের গুরুত্ব ও ভূমিকার কথা তুলে ধরেন এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম। দেশের পুঁজিবাজারে উন্নয়নে এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

বৈঠকে ডিবিএ’র সভাপতি রোজারিও দেশের শিল্প, বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে পুঁজিবাজারের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। এ খাতের উন্নয়নে এফবিসিসিআই’র সার্বিক সহযোগিতা আহ্বান করেন তিনি।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র সহ-সভাপতি রাশেদুল হোসেন চৌধুরী রনি, এফবিসিসিআই‘র পরিচালকরা, ডিবিএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. সাজিদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মো. সাইফুদ্দিন, ডিবিএ’র পারিচালকরাসহ অন্যান্য সদস্য।




‘পুঁজিবাজার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পরিবর্তন করতে হবে’

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু বলেছেন, পুঁজিবাজারকে ব্র্যান্ডিং করতে হবে। সাধারণ মানুষের কাছে পুঁজিবাজার সম্পর্কে যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, তা পরিবর্তন করতে হবে। আমরা সব সেক্টর নিয়ে কাজ করবো। ভালো ইনভেস্টমেন্ট আনতে হলে ভালো ইন্সটুমেন্ট আনতে হবে।

মঙ্গলবার (২১ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের নব-নিযুক্ত পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে ডিএসই ব্রোকার্স অ‌্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) পরিচালনা পর্ষদের সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এসব কথা বলেন৷

ডিএসই থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অধ্যাপক ড. হাফিজ বলেন, আমরা চাই বাজারের পরিবর্তন। আপনাদের সবার সহযোগিতায় সম্মিলিতভাবে বাজারের উন্নয়ন করতে চাই। আমার সহকর্মীবৃন্দ সকলেই সহযোগী মনোভাবাপন্ন। সকলেই তাদের কর্মক্ষেত্রে দক্ষ ও অভিজ্ঞ। বর্তমান বোর্ড বিশ্বাস করে, আপনাদেরকে ছাড়া পুঁজিবাজারের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই মার্কেটটা আসলে আপনাদেরই সৃষ্টি করা মার্কেট। ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের প্রেক্ষাপটে আমরা হয়ত আজ এখানে এসেছি, কিন্তু এখানে আপনারাই প্রধান চালিকাশক্তি।

তিনি বলেন, আমরা আপনাদেরকে সঙ্গে নিয়েই উন্নয়ন পরিকল্পনা করবো এবং এই প্রতিষ্ঠান, এই মার্কেট এবং দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটাবো। এটাই হলো আমাদের লক্ষ্য। আমাদের নিজস্ব কোনো এজেন্ডা নেই। আমরা এখানে আপনাদের সঙ্গে সমন্বয় করে এই পুঁজিবাজারকে সামনের দিকে নিয়ে যাবো। আমাদের দুইজন সদস্য এখনও বোর্ডে যুক্ত হয়নি। আমরা দ্রুত তাদের নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।

অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ আরও বলেন, ডিএসইর আইসিটি হতে হবে অত্যাধুনিক। বাইরের দেশগুলোর মতো আমাদেরও সবকিছু অটোমেটেড হতে হবে। আমাদের আইটি হতে হবে নম্বর ওয়ান। আমি পূর্বেও ডিএসই’র আইসিটি কমিটিতে ছিলাম। আমাদের আইসিটি শুধু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নয়, সারা বিশ্বের প্রেক্ষাপটে নম্বর ওয়ান হতে হবে। এজন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে এবং পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণে একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

সাক্ষাতে ডিবিএ’র প্রেসিডেন্ট রিচার্ড ডি রোজারিও বলেন, পুঁজিবাজারের প্রাইমারি রেগুলেটরের এই মর্যাদাপূর্ণ পদে আপনাদের নিয়োগ নিঃসন্দেহে আপনাদের সম্ভাব্যতা ও দক্ষতা নিয়ে সরকারের যে আস্থা রয়েছে তারই বহিঃপ্রকাশ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিবিএ’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. সাজেদুল ইসলাম, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. সাইফুদ্দিনসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ এবং ডিএসই’র পক্ষে উপস্থিত ছিলেন নব-নিযুক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, মো. আফজাল হোসেন এবং রুবাবা দৌলা, শেয়ারহোল্ডার পরিচালক মো. শাকিল রিজভী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এম. সাইফুর রহমান মজুমদার এফসিএসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ৷