ডিএসইর বাজার মূলধন কমলো ৫ হাজার কোটি টাকা

দেশের শেয়ারবাজার গত সপ্তাহে (৩-৭মে) দরপতনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এতে কমেছে এক্সচেঞ্জটি প্রধান মূল্যসূচকও। সেই সঙ্গে ডিএসইর বাজার মূলধন পাঁচ হাজার কোটি টাকার ওপরে কমে গেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার কার্যদিবসে মূল্যসূচক কমেছে। এতে সপ্তাহের ব্যবধানে যে কয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, তার প্রায় দ্বিগুণ প্রতিষ্ঠানের স্থান হয়েছে দাম কমার তালিকায়।

সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৪১টির শেয়ার ও ইউনিটের স্থান হয়েছে দাম বাড়ার তালিকায়। বিপরীতে দাম কমেছে ২২২টির। আর ২৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এতে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা। যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৬ লাখ ৮৫ হাজার ১১৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ৫ হাজার ১২৪ কোটি টাকা।

 

বাজার মূলধন কমার পাশাপাশি গত সপ্তাহে প্রধান মূল্য সূচকও কমেছে। ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে কমেছে ৫২ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট বা ১ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ১১ দশমিক ৭২ পয়েন্ট বা দশমিক ২২ শতাংশ।

অপর দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে কমেছে ১৫ দশমিক ৪০ পয়েন্ট বা দশমিক ৭৬ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ২ দশমিক শূন্য ৭ পয়েন্ট বা দশমিক ১০ শতাংশ।

আর ইসলামী শরিয়াহভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ৫ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট বা দশমিক ৫১ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ১৩ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৩০ শতাংশ।

 

এদিকে, গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের গতি কমেছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৮৩০ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৯৪৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ১১৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা বা ১১ দশমিক ৯৯ শতাংশ।




ডিএসইর নতুন স্বতন্ত্র পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আশিকুর রহমান

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নতুন স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আশিকুর রহমান। আগামী তিন বছরের জন্য তাকে এ পদে অনুমোদন দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় ডিএসইর স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগের বিষয়টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বিএসইসির মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন থেকে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ডিএসইর প্রকাশনা ও জনসংযোগ বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুর রহমান রাইজিংবিডিকে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, “ডিএসইর নতুন স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আশিকুর রহমানকে নিয়োগ দিয়েছে বিএসইসি। তিনি মঙ্গলবার কাজে যোগদান করবেন।”

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, ডিএসইর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবটি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে মনোনীত প্রার্থীর ‘ফিট অ্যান্ড প্রপার’ মানদণ্ড যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই শেষে কমিশন এ নিয়োগে সম্মতি দেয়।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আশিকুর রহমান ডিএসইর স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মফিজুল ইসলাম রাশেদের স্থলাভিষিক্ত হবেন, যিনি পূর্বে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিএসইসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিএসইর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনাপূর্বক, উপযুক্ত ও সঠিক মানদণ্ড যাচাই করে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডিএসইর বোর্ডে অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তি করপোরেট সুশাসন জোরদার করবে। এতে পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরো শক্তিশালী হবে।

বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ আশিকুর রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪৬ পদাতিক ব্রিগেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।




ডিএসইর পিই রেশিও বেড়েছে ৩.৬৪ শতাংশ

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (১ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) বেড়েছে। আলোচ্য এ সময়ে ডিএসইর পিই রেশিও বেড়েছে ৩.৬৪ শতাংশ।

‎শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

‎তথ্য মতে, বিদায়ী সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ৯.৩৩ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে তা অবস্থান করছে ৯.৬৭ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও বেড়েছে ০.৩৪ পয়েন্ট বা ৩.৬৪ শতাংশ।

‎এর আগের সপ্তাহের শুরুতে (২৫ থেকে ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬) পিই রেশিও ছিল ৯.০১ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে তা অবস্থান করছে ৯.৩৩ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও বেড়েছে ০.৩২ পয়েন্ট বা ৩.৫৫ শতাংশ।

খাতভিত্তিক পিই রেশিওগুলোর মধ্যে- জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ৫.৩১ পয়েন্টে, ব্যাংক খাতে ৬.৯৭ পয়েন্টে, ওষুধ ও রসায়ন খাতে ৯.৭৩ পয়েন্টে, আর্থিক খাতে ১০.৩৮ পয়েন্টে, মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ১১.৪৭ পয়েন্টে, টেক্সটাইল খাতে ১১.৯০ পয়েন্টে, সেবা ও আবাসন খাতে ১২.৮২ পয়েন্টে, টেলিযোগাযোগ খাতে ১৩.০৬ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতে ১৩.৫৮ পয়েন্টে, বিবিধ খাতে ১৪.১৫ পয়েন্টে, প্রকৌশল খাতে ১৪.৪১ পয়েন্টে, সাধারণ বিমা খাতে ১৪.৪৩ পয়েন্টে, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ১৫.৩৮ পয়েন্ট, আইটি খাতে ১৬.৪৭ পয়েন্টে, খাদ্য ও আনুসঙ্গিক খাতে ১৬.৭৯ পয়েন্টে, পেপার ও প্রিন্টিং খাতে ২৩.৫৬ পয়েন্টে, পাট খাতে ২৫.১০ পয়েন্টে, ট্যানারি খাতে ৪৫.৬৮ পয়েন্টে এবং সিরামিক খাতে ১২২.৩৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।




গ্রামীণফোনের লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত টেলিকমিউনিকেশন খাতের কোম্পানি গ্রামীণফোন লিমিটেড গত ৩১ শে ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আলোচিত বছরের জন্য কোম্পানিটি সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ১০৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেবে।

মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সর্বশেষ হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, সর্বশেষ হিসাববছরে সমন্বিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি ২১ টাকা ৯০ পয়সা আয় হয়েছে। আগের বছর আয় হয়েছিল ২৬ টাকা ৮৯ পয়সা।

গত ৩১ শে ডিসেম্বর,২০২৫ তারিখে সমন্বিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য ছিল ৪১ টাকা ৪৯ পয়সা।

আগামী ২০ এপ্রিল হাইব্রিড পদ্ধতিতে মাধ্যমে কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ মার্চ।




টেকনো ড্রাগসের অর্ধবার্ষিকে মুনাফা কমেছে ১৯.৪৪ শতাংশ

পুঁজিবাজারে ওষুধ ও রসায়ন খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি টেকনো ড্রাগস লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক (অক্টোবর-ডিসেম্বর, ২০২৫) ও অর্ধবার্ষিক (জুলাই-ডিসেম্বর, ২০২৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য প্রন্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা কমেছে ১৯.৪৪ শতাংশ।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে চলতি হিসাববছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়।

তথ্য মতে, আলোচ্য অর্থবছরে দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ০.৪০ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ০.৪৮ টাকা। সে হিসেবে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা কমেছে ০.০৮ টাকা বা ১৬.৬৭ শতাংশ।

অপরদিকে, ৬ মাস বা অর্ধবার্ষিক প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ০.৮৭ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ১.০৮ টাকা। সে হিসেবে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা কমেছে ০.২১ টাকা বা ১৯.৪৪ শতাংশ।

২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সমাপ্ত সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ২৭.৩৮ টাকা।




টেকনো ড্রাগসের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানি টেকনো ড্রাগস লিমিটেড পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করেছে। আগামী ৩১ জানুয়ারি বিকাল ৪ টায় কোম্পানিটির পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, আলোচিত সভায় ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-২৫ থেকে ডিসেম্বর-২৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে। পর্ষদ এ প্রতিবেদন অনুমোদন করলে তা প্রকাশ করবে কোম্পানিটি।




ডিএসইতে সাপ্তাহিক দাম কমার শীর্ষে সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (১৬ থেকে ২০ নভেম্বর) লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে বস্ত্র খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ারের দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে। বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম থাকায় কোম্পানিটির শেয়ার ডিএসইর সাপ্তাহিক দাম কমার তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে।

শনিবার (২২ নভেম্বর) ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, বিদায়ী সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ার দর কমেছে ১৬.৪১ শতাংশ। বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ারের সমাপনী মূল্য ছিল ৩২.৯০ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারের সমাপনী মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৭.৫০ টাকা। এর ফলে কোম্পানিটির শেয়ার ডিএসইর সাপ্তাহিক দাম কমার তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে।

ডিএসইতে সাপ্তাহিক দাম কমার শীর্ষ তালিকায় উঠে আসা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে- ফারইস্ট নিটিংয়ের ১৫.২৫ শতাংশ, জিকিউ বলপেনের ৯.৬৮ শতাংশ, মতিন স্পিনিংয়ের ৫.৭৬ শতাংশ, স্কয়ার ফার্মার ৫.৬৮ শতাংশ, মেঘনা সিমেন্টের ৪.৬১ শতাংশ, পেনিনসুলা চিটাগাংয়ের ৩.৯৫ শতাংশ, বাটা সুর ৩.৪৮ শতাংশ, স্কয়ার টেক্সটাইলের ২.৬১ শতাংশ ও এসিআইয়ের ২.৪৯ শতাংশ শেয়ার দর কমেছে।




ডিএসইর পিই রেশিও বেড়েছে ১.৫২ শতাংশ

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (১৬ থেকে ২০ নভেম্বর) সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) বেড়েছে। আলোচ্য এ সময়ে ডিএসইর পিই রেশিও বেড়েছে ১.৫২ শতাংশ।

‎শনিবার (২২ নভেম্বর) ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

‎তথ্য মতে, বিদায়ী সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ৮.৫৭ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে তা অবস্থান করছে ৮.৭০ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও বেড়েছে ০.১৩ পয়েন্ট বা ১.৫২ শতাংশ।

‎এর আগের সপ্তাহের শুরুতে (৯ থেকে ১৩ নভেম্বর) পিই রেশিও ছিল ৯.৬১ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে তা অবস্থান করছে ৮.৫৭ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও কমেছে ১.০৪ পয়েন্ট বা ১০.৮২ শতাংশ।

খাতভিত্তিক পিই রেশিওগুলোর মধ্যে- মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৩.৩০ পয়েন্টে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ৪.৪৫ পয়েন্টে, ব্যাংক খাতে ৬ পয়েন্টে, ওষুধ ও রসায়ন খাতে ৯.০৯ পয়েন্টে, আর্থিক খাতে ৯.৯২ পয়েন্টে, টেক্সটাইল খাতে ১০.৬০ পয়েন্টে, প্রকৌশল খাতে ১০.৬৯ পয়েন্টে, সাধারণ বিমা খাতে ১২.৩৩ পয়েন্টে, সেবা ও আবাসন খাতে ১২.৫৭ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতে ১২.৫৯ পয়েন্টে, টেলিযোগাযোগ খাতে ১৩.০৪ পয়েন্টে, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ১৩.২৭ পয়েন্ট, আইটি খাতে ১৪.৩৬ পয়েন্টে, বিবিধ খাতে ১৫.৩২ পয়েন্টে, খাদ্য ও আনুসঙ্গিক খাতে ১৬.১৯ পয়েন্টে, পেপার ও প্রিন্টিং খাতে ২২.৯৬ পয়েন্টে, পাট খাতে ২৭.৩০ পয়েন্টে, ট্যানারি খাতে ৫১.৬১ পয়েন্টে এবং সিরামিক খাতে ৮২.৬১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

 




বড় পতনে শেষ হয়েছে লেনদেন 

চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার (১০ নভেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের বড় পতনের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এ নিয়ে টানা সাত কার্যদিবস পুঁজিবাজারে পতন ঘটেছে।

এর ফলে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪ হাজার পয়েন্টের ঘরে নেমে এসেছে, যা সাড়ে চার মাস আগের অস্থানে নেমে এসেছে।

এদিন আগের কার্যদিবসের চেয়ে ডিএসই ও সিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেন কমেছে। একইসঙ্গে পুঁজিবাজারে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার এবং মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম কমেছে।

বাজার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অনেক দিন ধরে পুঁজিবাজারে লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থান দেখা গেলেও লেনদেন শেষে তা পতনে রূপ নেয়। সোমবার সকালে ডিএসইএক্স সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় লেনদেন শুরু হয়। তবে লেনদেন শুরুর ২০ মিনিটের পর থেকে সূচকের পতন লক্ষ্য করা যায়। এর পর আবার বেলার সাড়ে ১২টার দিকে সূচক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ফেরে। তবে ১টা নাগাদ সূচক ফের পতনমুখী অবস্থানে চলে আসে। লেনদেন শেষ পর্যন্ত পতনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত ছিল। গত কয়েক মাসের ব্যবধানে পুঁজিবাজারে লেনদেন অনেক কমে গেছে।

ডিএসই ও সিএসই সূত্রে জানা গেছে, দিনশেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৩৯.১৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৮৬০ পয়েন্টে। এর আগে গত ৩০ জুন ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৪ হাজার ৮৩৮ পয়েন্টে। এদিন ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১১.৮৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০ পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ সূচক ১৮.৪৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯১০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

ডিএসইতে মোট ৪০৬টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে ৭০টি কোম্পানির, কমেছে ২৭৫টির এবং অপরিবর্তিত আছে ৪১টির।

এদিন, ডিএসইতে মোট ৩৫৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪০২ কোটি ২০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সিএসসিএক্স সূচক আগের দিনের চেয়ে ৭৭.৩৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৮ হাজার ৫০২ পয়েন্টে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৪৬.৩৫ পয়েন্ট কমে ১৩ হাজার ৭৩৭ পয়েন্টে, শরিয়াহ সূচক ৯.০৯ পয়েন্ট কমে ৮৬১ পয়েন্টে এবং সিএসই ৩০ সূচক ৭২.৫০ পয়েন্ট কমে ১২ হাজার ৩২৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সিএসইতে মোট ১৭৩টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে ৩৪টি কোম্পানির, কমেছে ১৩০টির এবং অপরিবর্তিত আছে ৯টির।

সিএসইতে ১৪ কোটি ৫১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ২২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট।




ডিএসইর দুই ব্রোকারেজের ট্রেডিং লাইসেন্স বাতিল

শেয়ারবাজারে সুশাসন ও নিয়মশৃঙ্খলা জোরদারের এই দিনে কঠোর পদক্ষেপ নিল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে মাহিদ সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং আল হারামাইন সিকিউরিটিজ লিমিটেড—এই দুই ব্রোকারেজ হাউসের ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট (ট্রেক) বা ট্রেডিং লাইসেন্স বাতিলের কঠোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ। ডিএসই জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত আজ (২৯ অক্টোবর ২০২৫) থেকেই অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, মাহিদ সিকিউরিটিজ লিমিটেডের (টিআরইসি নং-২৭৩) লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট) বিধিমালা, ২০২০-এর বিধি ৭(১)-এর লঙ্ঘনের কারণে। ট্রেডিং লাইসেন্স পাওয়ার পরও কোম্পানিটি বিএসইসি থেকে স্টক-ডিলার বা স্টক-ব্রোকার রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা লেনদেন কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।

অন্যদিকে, আল হারামাইন সিকিউরিটিজ লিমিটেডের (টিআরইসি নং-২৬৩) ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত আরও কঠোর। বিধি ৩(২)(গ)-এর মতো একটি গুরুতর লঙ্ঘনের কারণে তাদের ট্রেডিং লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডিএসই’র এই দ্বিমুখী পদক্ষেপ শেয়ারবাজারের সকল মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করছে যে, নিয়মের কোনো ধরনের ব্যত্যয় বরদাশত করা হবে না।

ট্রেক বাতিলের এই ঘোষণার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে ডিএসই। মাহিদ সিকিউরিটিজ-এর টিআরইসি সংক্রান্ত কোনো দাবি থাকলে, সেই দাবিদারকে সকল প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ লিখিত অভিযোগ আগামী ১৩ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখের মধ্যে ডিএসই’র চিফ রেগুলেটরি অফিসারের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।

একইভাবে, আল হারামাইন সিকিউরিটিজের ক্লায়েন্টদেরও তাদের নিজ নিজ অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনা করে যেকোনো অমীমাংসিত সেটেলমেন্ট দ্রুত সম্পন্ন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তহবিল বা সিকিউরিটিজ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ থাকলে, আল হারামাইন সিকিউরিটিজ-এর ক্লায়েন্টদেরকে একই তারিখের (১৩ নভেম্বর, ২০২৫) মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ ডিএসই’র কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।




ডিসিসিআই ও ডিএসইর মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই

পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বিনিয়োগকারীর আস্থা জোরদারে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসির (ডিএসই) মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ ও ডিএসই চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি অনুযায়ী, পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা, সক্ষমতা বাড়ানো ও বিনিয়োগকারীর আস্থা জোরদারে দুই প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে গবেষণা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম এবং নীতি সংলাপ আয়োজন করবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) উদ্যোক্তাদের মূলধন বাজারে অংশগ্রহণ সহজতর করতে সচেতনতা কার্যক্রম ও সহজ মানদণ্ড প্রণয়নেও একসঙ্গে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, ‘সমঝোতা স্মারক দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়, উদ্ভাবন ও সহযোগিতার এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করবে এবং এসএমই উদ্যোক্তাদের আর্থিক সংস্থান প্রাপ্তিতে নতুন সুযোগ তৈরি করবে।’

ডিএসই চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে যৌথ গবেষণা, নীতিমালা প্রণয়ন ও উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও ফলপ্রসূ হবে। অনেক এসএমই উদ্যোক্তা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত নন। ডিএসই ও ডিসিসিআইয়ের যৌথ উদ্যোগে তারা প্রয়োজনীয় তথ্য ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জানতে পারবেন।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিসিসিআই সিনিয়র সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, ডিএসই’র প্রধান কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আসাদুর রহমান।




শেয়ারবাজারের প্রতারক চক্র গোয়েন্দা সংস্থার নজরে : ডিএসই

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নাম, লোগো ও অফিসের ঠিকানা ব্যবহার করে যেসব প্রতারক চক্র বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা চালাচ্ছে তারা ইতোমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থার নজরে এসেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আসাদুর রহমান। তিনি বলেন, ওইসব প্রতারক হোয়াটসঅ্যাপসহ অনলাইন মাধ্যমে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিল। শিগগিরই তারা হয়ত আইনের আওতায় আসবে। তবুও বিনিয়োগকারীদের সচেতন থাকতে হবে।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর পল্টনে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরামের (সিএমজেএফ) অডিটোরিয়ামে ডিএসই আয়োজিত ‌‘প্রতারক চক্রের আর্থিক প্রতারণা রোধে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএসইর চিফ রেগুলেটরি অফিসার (সিআরও) শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া ও উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে আসাদুর রহমান বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের একমাত্র বৈধ মাধ্যম হলো বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), ডিএসই ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) অনুমোদিত স্টক ব্রোকার। এর বাইরে অন্য কোনো মাধ্যমে বিনিয়োগ করলে তা প্রতারণার শামিল হতে পারে।

তিনি বলেন, কিছু প্রতারক চক্র ডিএসই ও বিএসইসির নাম ব্যবহার করে মানুষকে বিনিয়োগের লোভ দেখাচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা আইনপ্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে জানিয়েছি। তাদের সহায়তায় প্রতারকদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে।

ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত এমডি আরও বলেন, আমরা বিনিয়োগকারীদের জানাতে চাই স্টক এক্সচেঞ্জ বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা সরাসরি কারো সঙ্গে বিনিয়োগে সম্পৃক্ত নয়। বিনিয়োগের একমাত্র বৈধ পথ হলো অনুমোদিত স্টক ব্রোকার। তাই অচেনা ব্যক্তি বা গ্রুপের প্রলোভনে পড়লে আপনার অর্থ ঝুঁকিতে পড়বে। যদি কেউ প্রতারণায় জড়িত থাকেন, তাদের সতর্ক করছি—এখনও সময় আছে ভালো হয়ে যান। নইলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত এমডি স্বীকার করেন, মাঝে মাঝে দেখা যায় ডিএসইর কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। এ ধরনের ঘটনা রোধে আমরা সচেতন এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।

আসাদুর রহমান জানান, প্রতারকরা মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই ব্যবহার করে লোভনীয় বার্তা পাঠায়। শুরুতে সামান্য মুনাফা দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের আস্থা অর্জন করে। পরে আরও কিছু মুনাফা দেখানোর পর বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করে। বিনিয়োগকারী টাকা দিলে জানানো হয়—অ্যাপে সমস্যা হয়েছে, আরও অর্থ দিতে হবে। কিন্তু অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার পর প্রতারক চক্র ভুক্তভোগীকে ব্লক করে দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএসইর পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রতারণার এ ধরনের ফাঁদ থেকে বাঁচতে বিনিয়োগকারীদের অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। কেবল অনুমোদিত স্টক ব্রোকারের মাধ্যমেই লেনদেন করতে হবে। ডিএসই ও বিএসইসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে অনুমোদিত ব্রোকারদের তালিকা পাওয়া যায়। অচেনা ব্যক্তি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রলোভনমূলক প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ডিএসই কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের প্রতারণা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির কারণ নয়, বরং পুঁজিবাজারের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করে। তাই গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনপ্রয়োগকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা।




টানা ৩ দিন বন্ধ থাকবে দেশের শেয়ারবাজার

শুক্রবার থেকে রবিবার (০৪-০৬ জুলাই) দেশের ঊভয় শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন বন্ধ থাকবে। আশুরা উপলক্ষ্যে এ ছুটিতে যাচ্ছে শেয়ারবাজার।সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, রবিবার (০৬ জুলাই) আশুরা। এ উপলক্ষ্যে ওইদিন সরকারি ছুটি। ফলে শেয়ারবাজারেও লেনদেন বন্ধ থাকবে। যাতে করে শুক্রবার থেকে রবিবার শেয়ারবাজার বন্ধ থাকবে।

আগামী সোমবার (০৭ জুলাই) থেকে আগের নিয়মে শেয়ারবাজারে লেনদেন চালু হবে।




ডিএসইর পিই রেশিও বেড়েছে 

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (২২ থেকে ২৬ জুন) পর্যন্ত সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) বেড়েছে। আলোচ্য এ সময়ে ডিএসইর পিই রেশিও বেড়েছে ১.৫৩ শতাংশ।

শনিবার (২৮ জুন) ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, বিদায়ী সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ৯.১৬ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে তা অবস্থান করছে ৯.৩০ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও বেড়েছে ০.১৪ পয়েন্ট বা ১.৫৩ শতাংশ।

এর আগের সপ্তাহের (১৫ থেকে ১৯ জুন) শুরুতে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ৮.৮৩ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে তা অবস্থান করছে ৯.১৬ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও বেড়েছিল ০.৩৩ পয়েন্ট বা ৩.৭৪ শতাংশ।

খাতভিত্তিক পিই রেশিওগুলোর মধ্যে- ব্যাংক খাতে ৫.৪৯ পয়েন্টে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ৫.৬৭ পয়েন্টে, সেবা ও আবাসন খাতে ৮.৯৪ পয়েন্ট, টেক্সটাইল খাতে ৯.৫৯ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতে ১০.১৮ পয়েন্টে, প্রকৌশল খাতে ১০.২৪ পয়েন্টে, ওষুধ ও রসায়ন খাতে ১০.৩৪ পয়েন্টে, আর্থিক খাতে ১০.৩৫ পয়েন্টে, ট্যানারি খাতে ১০.৬১ পয়েন্টে, সাধারণ বিমা খাতে ১১.১৩ পয়েন্টে, খাদ্য ও আনুসঙ্গিক খাতে ১৫.২২ পয়েন্টে, আইটি খাতে ১৫.৪৯ পয়েন্টে, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ১৬.৬৩ পয়েন্ট, বিবিধ খাতে ১৭.৩৫ পয়েন্টে, টেলিযোগাযোগ খাতে ১৭.৪৬ পয়েন্টে, মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ১৭.৫৭ পয়েন্টে, পেপার ও প্রিন্টিং খাতে ১৯.২৩ পয়েন্টে, পাট খাতে ২৪.৪৮ পয়েন্টে এবং সিরামিক খাতে ৫৫.০৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।




বাজেটে পুঁজিবাজার উন্নয়নে সহায়ক নীতিমালা রয়েছে: ডিএসই

আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে পুঁজিবাজারবান্ধব বলে অভিহিত করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তপক্ষ।

ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, এবারের বাজেটে দেশের পুঁজিবাজার উন্নয়নে সহায়ক নীতিমালা রয়েছে। এসব প্রস্তাব পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ জন্য অর্থ উপদেষ্টাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

ডিএসই পাঠানো প্রাথমিক বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই অভিমত তুলে ধরেন।

সোমবার (২ জুন) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেন। এতে তিনি পুঁজিবাজারের জন্য কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হারের মধ্যে ব্যবধান বাড়ানো, ব্রোকারহাউজের লেনদেনে উৎস কর ও মার্চেন্ট ব্যাংকের আয়করের হার কমানো।

ডিএসই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫-২৬ সালের বাজেটে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে করহারের ব্যবধান বৃদ্ধি, মার্চেন্ট ব্যাংকের করহার হ্রাস এবং লেনদেনের উপর উৎসে কর হ্রাস ইত্যাদি পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিস অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বিনিয়োগকারীদের বিও অ্যাকাউন্টের উপর ধার্য অ্যানুয়াল মেইনটেন্যান্স ফি ৪৫০ টাকা থেকে কমিয়ে ১৫০ টাকা করেছে এবং সিসি একাউট-এ অর্জিত সুদের ২৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে ব্যয়ের জন্য ইনভেস্টর্স প্রটেকশন ফান্ডে জমার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এছাড়া, গত বছরের ৪ নভেম্বর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের তালিকাভুক্ত কোম্পানি থেকে অর্জিত ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত মূলধনী আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত রাখার বিধান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ৫০ লাখ টাকার উপরে মূলধনী আয়ের উপর কর ১৫ শতাংশে হ্রাস পুঁজিবাজারের উন্নয়নসহায়ক এসকল নীতিমালা পুঁজিবাজার উন্নয়নে সরকারের দৃড় প্রতিশ্রুতির পরিচায়ক বলে মন্তব্য করেন ডিএসই চেয়ারম্যান।

বাজেট প্রস্তাবনায় সরকারের মালিকানা রয়েছে এমন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোকে সরকারের শেয়ার কমিয়ে পুঁজিবাজারে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, লাভজনক সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তকরণ, বেসরকারি খাতের দেশীয় বড় কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করতে প্রণোদনাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এ বাজারের গভীরতা বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি জানান, পুঁজিবাজারকে ঘিরে সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেশের ক্রমবিকাশমান পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী ও টেকসই হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে বলে ডিএসই বিশ্বাস করে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও দক্ষতাকে পুঁজি করে আগামী প্রজন্মের জন্য একটা টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তোলায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ৷




বোনাস লভ্যাংশ প্রদানে সম্মতি পায়নি অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স

পুঁজিবাজারে বীমা খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের ঘোষিত বোনাস লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের প্রদানের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সম্মতি পায়নি।

সোমবার (১৯ মে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১২ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৬ শতাংশ নগদ ও ৬ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ রয়েছে। ফলে প্রতিটি ১০ টাকা মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে ০.৬০ টাকা নগদ লভ্যাংশ পাবেন শেয়ারহোল্ডারা।

কোম্পানিটির লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড তারিখ আগামী ২০ মে নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু লভ্যাংশ প্রদানে এখনো সম্মতি দেয়নি বিএসইসি। ফলে লভ্যাংশ প্রদানের এ রেকর্ড তারিখ প্রযোজ্য হবে না। কমিশন থেকে অনুমতি পাওয়ার পরে আরেকটি রেকর্ড তারিখ ঘোষণা করবে কোম্পানিটি।

আইন অনুযায়ী, বিএসইসির অনুমোদন ছাড়া কোনো কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের বোনাস লভ্যাংশ প্রদান করতে পারবে না। তাই বোনাস শেয়ার ঘোষণার পর তা প্রদানের লক্ষ্যে যে কোনো কোম্পানি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্মতির জন্য আবেদন করে থাকে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্মতি পেলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের বোনাস লভ্যাংশ প্রদান করতে পারবে।




ডিএসই পরিদর্শনে আসছেন আনিসুজ্জামান চৌধুরী

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পরিদর্শনে আসছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী।

মঙ্গলবার (৬ মে) তিনি ডিএসই পরিদর্শন করবেন। ডিএসই ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, ওই দিন সকাল ১০টার দিকে ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীর ডিএসইতে উপস্থিত হবেন। সেখানে তিনি দুটি আলাদা বৈঠক করবেন। প্রথমে তিনি অংশীজনদার সঙ্গে, পরবর্তীতে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি। এরপর তিনি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এর কার্যক্রম ঘুরে দেখবেন।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, পুঁজিবাজারের নাজুক পরিস্থিতিতে ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীর ডিএসই পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের নানামুখী উদ্যোগে অর্থনীতির কয়েকটি জায়গায় বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের হ্রাস বন্ধ হয়েছে, রিজার্ভের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে, ডলার ও টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল হয়েছে, রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বেড়েছে এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরেছে। তবে এর মধ্যে ব্যতিক্রম কেবল পুঁজিবাজার। অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো ছোঁয়া লাগেইনি এ সেক্টরে। বরং বাজারে দরপতন নিয়মিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। লেনদেনও নেমেছে তলানীতে। ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা একাধিকবার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।

বিষয়টি সরকারের জন্য বেশ বিব্রতকর হয়ে উঠেছে। সরকার উত্তরণের উপায় খুঁজছেন। এর অংশ হিসেবে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করছেন ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী।




বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে চীনা বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার আহ্বান

চীনের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।

মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) ডিএসইর কৌশলগত অংশীদার চীনের শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি। বিএসইসি ভবনে এ বৈঠকে বিএসইসির কমিশনার মো. আলী আকবর ও ফারজানা লালারুখ, ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চীনের শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল ও ডিএসইর পরিচালক ওয়াং হাইয়ের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের আইটি বিভাগের সিনিয়র ম্যানেজার লিন লিন ঝেং চাও, লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার জিয়ান ই এবং ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হাও লিংইউ।

বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেছেন, শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও চীনের প্রতিনিধিদের শুধু ডিএসইর কৌশলগত অংশীদার বা শেয়ারহোল্ডার হিসেবে নয়, আমরা বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করি। এই সম্পর্ককে আমরা বিশেষ গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করি। বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক সহযোগিতায় অনেক কিছু অর্জন সম্ভব।

তিনি ডিএসই ও শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক বোঝাপড়ার প্রশংসা করেন। সেই সঙ্গে ডিএসই ও শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের মধ্যে কম্প্রিহেনসিভ গ্যাপ অ্যানালাইসিসের পরামর্শ দেন।

বিএসইসি চেয়ারম্যান আইটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট, অংশীজনদের সঙ্গে সম্পর্ক ও সমন্বয় রক্ষা এবং প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানান। চীনের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তিনি ডিএসই ও শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জকে অনুরোধ জানান।

চীনের শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ, সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ ও চীনের নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের অনেক কিছু শেখার আছে বলে উল্লেখ করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান। বাংলাদেশের পুঁজিবাজার উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সকল ধরনের সহযোগিতা করতে বিএসইসি প্রস্তুত আছে বলেও জানান তিনি।

শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল ও ডিএসইর পরিচালক ওয়াং হাই বলেন, কোভিড-পরবর্তী সময়ে পাঁচ বছর পর আমরা বাংলাদেশে এসেছি এবং এর মাধ্যমে বিগত কিছু সময়ের যোগাযোগের গ্যাপ পূরণ হবে বলে আশা করছি। বাংলাদেশে চীনের জন্য ভালো পরিবেশ রয়েছে এবং পুঁজিবাজার ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দুই দেশের টিম ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।

তিনি বিএসইসির পথনির্দেশনা ও সহযোগিতা প্রার্থনা করেন। বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলোতে যথাসম্ভব সহযোগিতার আশ্বাস দেন শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল। ক্রস বর্ডার রোড শো’র বিষয়ে ডিএসই উদ্যোগ গ্রহণ করলে শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ প্রয়োজনীয় সহায়তা করবে বলে জানান তিনি।

ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বৈঠকে পুঁজিবাজার ও ডিএসইর উন্নয়নের ক্ষেত্রে শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও রোডম্যাপের বিষয়ে আলোচনা করেন।

বৈঠকে ডিএসইর পক্ষ থেকে ভি-নেক্সট প্ল্যাটফর্ম ও চীনের বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে ক্রস বর্ডার রোড শোসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ ও সহায়তার অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়াও বৈঠকে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন দিক এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।




ডিএসইতে পিই রেশিও বেড়েছে ০.৯৪ শতাংশ

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (১৬ থেকে ২০ মার্চ) পর্যন্ত সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) বেড়েছে। আলোচ্য সময়ে ডিএসইর পিই রেশিও বেড়েছে ০.৯৪ শতাংশ।

শনিবার (২২ মার্চ) ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, বিদায়ী সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ৯.৫৯ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে তা অবস্থান করছে ৯.৬৮ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও ০.০৯ পয়েন্ট বা ০.৯৪ শতাংশ বেড়েছে।

এর আগের সপ্তাহের (৯ থেকে ১৩ মার্চ) শুরুতে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ৯.৫৯ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে তা অবস্থান করছে ৯.৫৯ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও অপরিবর্তীত ছিল।

খাতভিত্তিক পিই রেশিওগুলোর মধ্যে- জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ৫.৭৯ পয়েন্টে, ব্যাংক খাতে ৬.২৯ পয়েন্টে, সেবা ও আবাসন খাতে ১০.১৮ পয়েন্ট, ওষুধ ও রসায়ন খাতে ১০.৫১ পয়েন্টে, টেক্সটাইল খাতে ১০.৫৫ পয়েন্টে, আর্থিক খাতে ১১.৩৬ পয়েন্টে, সাধারণ বিমা খাতে ১২.২২ পয়েন্টে, খাদ্য ও আনুসঙ্গিক খাতে ১২.৮০ পয়েন্টে, মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ১২.৮৮ পয়েন্টে, টেলিযোগাযোগ খাতে ১৩.১৩ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতে ১৩.৬৬ পয়েন্টে, প্রকৌশল খাতে ১৫.৩২ পয়েন্টে, আইটি খাতে ১৭.০৭ পয়েন্টে, বিবিধ খাতে ১৮.৫১ পয়েন্টে, পেপার ও প্রিন্টিং খাতে ১৯.৫৫ পয়েন্টে, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ২৭.২১ পয়েন্ট, পাট খাতে ২৮.৯৭ পয়েন্টে, ট্যানারি খাতে ৪০.২৫ পয়েন্টে এবং সিরামিক খাতে ১১৭.০৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।




বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে পিই রেশিও অপরিবর্তীত

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (৯ থেকে ১৩ মার্চ) পর্যন্ত সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) অপরিবর্তীত রয়েছে।

শনিবার (১৫ মার্চ) ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, বিদায়ী সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ৯.৫৯ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে তা অবস্থান করছে ৯.৫৯ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও অপরিবর্তীত রয়েছে।

এর আগের সপ্তাহের (২ থেকে ৬ মার্চ) শুরুতে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ৯.৬৬ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে তা অবস্থান করছে ৯.৫৯ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও কমেছে ০.০৭ পয়েন্ট বা ০.৭২ শতাংশ।

খাতভিত্তিক পিই রেশিওগুলোর মধ্যে- জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ৪.৮৬ পয়েন্টে, ব্যাংক খাতে ৬.৪৪ পয়েন্টে, সেবা ও আবাসন খাতে ৯.৯৫ পয়েন্ট, ওষুধ ও রসায়ন খাতে ১০.৫০ পয়েন্টে, টেক্সটাইল খাতে ১০.৬১ পয়েন্টে, আর্থিক খাতে ১১.৪২ পয়েন্টে, সাধারণ বিমা খাতে ১২.৩১ পয়েন্টে, মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ১২.৫১ পয়েন্টে, খাদ্য ও আনুসঙ্গিক খাতে ১২.৯৭ পয়েন্টে, টেলিযোগাযোগ খাতে ১৩.৫৫ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতে ১৩.৯৯ পয়েন্টে, প্রকৌশল খাতে ১৫.২৯ পয়েন্টে, আইটি খাতে ১৭.০৭ পয়েন্টে, বিবিধ খাতে ১৮.৫১ পয়েন্টে, পেপার ও প্রিন্টিং খাতে ২১.৩০ পয়েন্টে, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ২৭.৪৪ পয়েন্ট, পাট খাতে ২৮.৫৪ পয়েন্টে, ট্যানারি খাতে ৪০.৯৯ পয়েন্টে এবং সিরামিক খাতে ১১৫.৩৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।




ডিএসই ও সিএসইতে নতুন ট্রেজারি বন্ডের লেনদেন শুরু

দেশের অপর পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইস্যু করা নতুন ২ বছর মেয়াদের ট্রেজারি বন্ডের লেনদেন শুরু হয়েছে। সোমবার (১০ মার্চ) থেকে ডিএসই ও সিএসইতে ট্রেজারি বন্ডটির লেনদেন শুরু হয়েছে।

এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, নতুন বন্ডটির নাম হলো- ‘‘2 Year BGTB 05/03/2027’’। ডিএসইতে বন্ডটির লেনদেন কোড- ”TB2Y0327” এবং ডিএসইতে স্ক্রিপ্ট কোড- “88530”। একইভাবে সিএসইতে বন্ডটির লেনদেন কোড- ”TB2Y03270” এবং সিএসইতে ট্রেডিং আইডি- “50296”।

তথ্য মতে, ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ডিএসই ও সিএসই’র ডেবট বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে বন্ডটির মেয়াদ আগামী ২০২৭ সালের ৫ মার্চ শেষ হবে। বন্ডটির প্রতি ইউনিটের মূল্য ১০১.২৩৮৪ টাকা এবং অভিহিত মূল্য ১০০ টাকা। বন্ডের মার্কেট লট ১০০০টি করে। এই বন্ড ১১.২০ শতাংশ হারে বছরে ২ বার কুপন প্রদান করবে।




বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে বিএসইসির সঙ্গে কাজ করবো: ডিএসই চেয়ারম্যান

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেছেন, অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) যে তদন্ত কার্যক্রম চলছে এ কাজের সঙ্গে আমরা সম্পূর্ণ একমত আছি। আমরা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে একসঙ্গে কাজ করবো। একইসঙ্গে আমরা চেয়ারম্যান কমিশনারদের অবুরুদ্ধ করে রাখার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

রোববার (৯ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি ভবনে বাংলাদেশ কমিশনের সঙ্গে স্টেকহোল্ডারদের বৈঠক শেষে এ কথা বলেন ডিএসই চেয়ারম্যান।

মমিনুল ইসলাম বলেন, বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে বিএসইসি চেয়ারম্যানসহ কমিশনারদের অবরুদ্ধ করে দাবি আদায়ের ঘটনা নিন্দনীয়। তবে এই অপ্রীতিকর ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার কিছু নেই। যা ঘটার ঘটে গেছে, এখন বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করছি তারা যেন হতাশ না হন। চলমান সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, আমরা তাদের বলেছি, আপনারা শক্ত হাতে হাল ধরেন। এভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে তদন্ত কার্যক্রম বন্ধ করা যাবে না। আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে এটা মোকাবিলা করবো।

তিনি বলেন, কমিশন কারও বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিলে তার যদি মনে হয় যে তার সাথে নিয়ম বহির্ভূত কিছু করা হচ্ছে তবে সে তার বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করতে পারেন। কিংবা আদালতেও যেতে পারেন। কিন্তু এ ধরণের উগ্র আচরণ কখনই সমাধান হতে পারেনা। আমরা কমিশন কে বলেছি শক্ত হাতে এর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।

অতীতে এবং এখনো যারা অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত থেকে পুঁজিবাজার ক্ষতি করার চেষ্টা করছেন তাদের ব্যাপারে কঠোর হওয়ার জন্য সকলকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে রোববার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের (স্টেকহোল্ডাররা) সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।

বৈঠকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) নেতৃত্বে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ), বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ), শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউস, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) ও সেন্ট্রাল কাউন্টার পার্টি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিসিবিএল) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া বিএসইসির কমিশনার মু. মোহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর ও ফারজানা লালারুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ৪ মার্চ নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর দাফতরিক আদেশ দেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। এরপরই দানা বাঁধে তার পদত্যাগের দাবি। চেয়ারম্যানসহ সব কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে কর্মবিরতিও পালন করেন বিএসইসির কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।




ডিএসইতে পিই রেশিও কমেছে ০.৭২ শতাংশ

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (২ থেকে ৬ মার্চ) পর্যন্ত সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) কমেছে। আলোচ্য সময়ে ডিএসইর পিই রেশিও কমেছে ০.৭২ শতাংশ।

শনিবার (৮ মার্চ) ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, বিদায়ী সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ৯.৬৬ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে তা অবস্থান করছে ৯.৫৯ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও কমেছে ০.০৭ পয়েন্ট বা ০.৭২ শতাংশ।

এর আগের সপ্তাহের (২৩ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি) শুরুতে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ৯.৭১ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে তা অবস্থান করছে ৯.৬৬ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও কমেছে ০.০৫ পয়েন্ট বা ০.৫১ শতাংশ।

খাতভিত্তিক পিই রেশিওগুলোর মধ্যে- জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ৫.০১ পয়েন্টে, ব্যাংক খাতে ৬.৪০ পয়েন্টে, সেবা ও আবাসন খাতে ১০.০৪ পয়েন্ট, ওষুধ ও রসায়ন খাতে ১০.৪৩ পয়েন্টে, টেক্সটাইল খাতে ১১.৬৩ পয়েন্টে, আর্থিক খাতে ১১.৫৮ পয়েন্টে, সাধারণ বিমা খাতে ১২.০৫ পয়েন্টে, মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ১২.৫৯ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতে ১২.৮৬ পয়েন্টে, খাদ্য ও আনুসঙ্গিক খাতে ১২.৯২ পয়েন্টে, টেলিযোগাযোগ খাতে ১৩.৫৮ পয়েন্টে, প্রকৌশল খাতে ১৫.৩৯ পয়েন্টে, আইটি খাতে ১৭.৩৫ পয়েন্টে, বিবিধ খাতে ১৮.৭৫ পয়েন্টে, পেপার ও প্রিন্টিং খাতে ২১.৪৫ পয়েন্টে, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ২৭.৬১ পয়েন্ট, পাট খাতে ২৯.১১ পয়েন্টে, ট্যানারি খাতে ৪০.৬৪ পয়েন্টে এবং সিরামিক খাতে ১১৭.২৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।




‘বি’ থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে ৪ কোম্পানি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত চার কোম্পানির ক্যাটাগরি পরিবর্তন করা হয়েছে। কোম্পানিগুলোকে ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এতথ্য জানান হয়েছে।

কোম্পানিগুলো হচ্ছে- একমি পেস্টিসাইড লিমিটেড, এসকে ট্রিমস, আলিফ ম্যানুফ্যাকচারিং এবং অ্যাডভেন্ট ফার্মা লিমিটেড।

সূত্র মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদিত ডিভিডেন্ড বিতরণ না করার কারণে এসব কোম্পানির ক্যাটাগরি পরিবর্তন করা হয়েছে।

আজ সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) থেকে কোম্পানিগুলোর শেয়ার ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হবে।




‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত দুই কোম্পানি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুইটি কোম্পানির ক্যাটাগরি উন্নতি হয়েছে। কোম্পানি দুইটি সমাপ্ত হিসাববছরের ঘোষিত লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিতরণ সম্পন্ন করায় ‘জেড’ ক্যাটাগরি থেকে ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

কোম্পানি দুইটি হলো- এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ এবং বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস (বিবিএস)।

তথ্য মতে, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ গত ৩০ জুন, ২০২৪ সমাপ্ত সময়ের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়ে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হয়েছে। আর সমাপ্ত সময়ের জন্য বিবিএস ০.৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়ে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ফিরেছে।

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে কোম্পানিগুলো ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন করবে।

তবে ক্যাটাগরি পরিবর্তনের কারণে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কোম্পানি দুটিকে ঋণ সুবিধা দিতে ব্রোকার হাউজ এবং মার্চেন্ট ব্যাংককে নিষেধ করেছে ডিএসই।




ডিএসইর ৩ সূচক সমন্বয়

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স সমন্বয় করা হয়েছে। সমন্বিত সূচকে নতুন করে ৮৭টি কোম্পানি যুক্ত হয়েছে। আর এই সূচক থেকে বাদ পড়েছে ১৪টি কোম্পানি।

এছাড়া, ডিএসইর ব্লু-চিপ হিসেবে পরিচিত ডিএস৩০ সূচকও সমস্বয় করা হয়েছে। ডিএসই৩০ সূচকে নতুন করে ৯টি কোম্পানি যোগ হয়েছে। আর এই সূচক থেকে বাদ পড়েছে ৯টি কোম্পানি। একই সঙ্গে ডিএসইর ডিএসইএসএমই সূচকে যুক্ত হয়েছে ৩টি কোম্পানি।

সমন্বিত সূচক তিনটি ১৯ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।

ডিএসইর জনসংযোগ বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সমন্বিত সূচকে যোগ হওয়া কোম্পানিগুলো হলো- এবি ব্যাংক পিএলসি, আমান কটন ফাইবারস লিমিটেড, এসিআই লিমিটেড, একমি পেস্টিসাইডস লিমিটেড, অ্যাক্টিভ ফাইন কেমিক্যালস লিমিটেড, এএফসি অ্যাগ্রো বায়োটেক লিমিটেড, আমান ফিড লিমিটেড, অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স লিমিটেড, ব্যাংক এশিয়া পিএলসি অর্থসূচকডট কম, বারাকা পাওয়ার লিমিটেড, বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, বাংলাদেশ ফাইন্যান্স লিমিটেড, বাংলাদেশ ল্যাম্পস লিমিটেড, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার লিমিটেড অর্থসূচকডটকম, কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড অর্থ সূ চক ডটকম, ক্রাউন সিমেন্ট পিএলসি, ঢাকা ব্যাংক পিএলসি, ডরিন পাওয়ার জেনারেশনস অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেড, ডাচ-বাংলা ব্যাংক পিএলসি, এনভয় টেক্সটাইলস লিমিটেড, এস্কয়ার নিট কম্পোজিট পিএলসি, এক্সপোর্ট ইমপোর্ট (এক্সিম) ব্যাংক অফ বাংলাদেশ পিএলসি, ফ্যামিলিটেক্স (বিডি) লিমিটেড, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গোল্ডেন হারভেস্ট অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, গ্লোবাল হেভি কেমিক্যালস লিমিটেড অর্থসূচকডটকম, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক পিএলসি, গোল্ডেন সন লিমিটেড, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, আইবিএন সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি পিএলসি অর্থসূচকডটকম, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অফ বাংলাদেশ লিমিটেড, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক লিমিটেড, আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসি, আইএফএডি অটোস পিএলসি অ র্থ সূ চ ক, ইনডেক্স অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড, জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিকেল ডিভাইসেস লিমিটেড অর্থসূচকডটকম , কেডিএস অ্যাকসেসরিজ লিমিটেড, খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড, কাট্টলি টেক্সটাইল লিমিটেড, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স পিএলসি, ম্যাকসনস স্পিনিং মিলস পিএলসি, মতিন স্পিনিং মিলস পিএলসি, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস লিমিটেড অর্থসূচকডটকম, মিথুন নিটিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড, এমএল ডাইং লিমিটেড, মুন্নু ফেব্রিক্স লিমিটেড, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, নাহি অ্যালুমিনিয়াম কম্পোজিট প্যানেল লিমিটেড, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পিএলসি, নিউ লাইন ক্লোথিংস লিমিটেড অর্থ সূচক ডট কম, ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স পিএলসি অ র্থ সূ চ ক ডট কম, এনআরবি ব্যাংক পিএলসি, ওয়ান ব্যাংক পিএলসি, ফার্মা এইডস লিমিটেড, ফিনিক্স ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেড, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, কাসেম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, রহিম টেক্সটাইল মিলস পিএলসি, আরএকে সিরামিকস (বিডি) লিমিটেড, রিং শাইন টেক্সটাইলস লিমিটেড, রানার অটোমোবাইলস পিএলসি, সাইহাম কটন মিলস লিমিটেড, সাইহাম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, এস. আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেড, সালভো কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড অর্থসূচক ডট কম, এসবিএসি ব্যাংক পিএলসি, শাশা ডেনিমস লিমিটেড, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, অর্থ সূ চক ডটকম, সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, শাহজিবাজার পাওয়ার কোং লিমিটেড, স্কয়ার টেক্সটাইলস পিএলসি, এস. এস. স্টিল লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসি, সামিট পাওয়ার লিমিটেড, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, তিতাস গ্যাস ট্রান্স. অ্যান্ড ডিস্ট্রিক্ট কোং লিমিটেড, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি অর্থ সূচকডটকম, ইউনাইটেড ফাইন্যান্স লিমিটেড, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, ভিএফএস থ্রেড ডাইং লিমিটেড, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি এবং ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেড।

সমন্বিত সূচক থেকে বাদ পড়া কোম্পানিগুলো হলো- আরামিট সিমেন্ট লিমিটেড, বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোডস লিমিটেড, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, হাওয়া ওয়েল টেক্সটাইলস (বিডি) পিএলসি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, জুট স্পিনার্স লিমিটেড, মার্কেন্টাইল ইসলামি ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, নর্দার্ন জুট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড, নর্দার্ন ইসলামি ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, রেনউইক জজনেশ্বর অ্যান্ড কোং (বিডি) লিমিটেড, রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড, সূহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, জিল বাংলা সুগার মিলস লিমিটেড।

ডিএসই৩০ সূচকে নতুন করে যুক্ত হয়েছে- ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি, প্রাইম ব্যাংক পিএলসি, কোহিনূর কেমিক্যালস কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, এমজেএল বাংলাদেশ পিএলসি, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স পিএলসি, পদ্মা অয়েল কোং লিমিটেড, আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসি এবং বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসি।

ডিএসই৩০ সূচক থেকে বাদ পরেছে- হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, সী পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা লিমিটেড, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল পিএলসি, জেনেক্স ইনফোসিস পিএলসি, ইসলামী ব্যাংক বিডি পিএলসি, ওরিয়ন ফার্মা লিমিটেড, লিন্ডে বাংলাদেশ লিমিটেড এবং সামিট পাওয়ার লিমিটেড।

অন্যদিকে ডিএসইএসএমই সূচকে যুক্ত হয়েছে- এগ্রো অর্গানিকা পিএলসি, ক্রাফটসম্যান এবং ওয়েব কোটস পিএলসি।




বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর জন্য সহায়তা করছে সরকার: অর্থ উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর জন্য যথেষ্ট সহায়তা করছে সরকার। নিয়ন্ত্রণ সংস্থাকে সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে, আইসিবিকে তিন হাজার কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে এসব তো আস্থা ফেরাতেই করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৭ জানুয়ারি) রাজধানীর নিকুঞ্জে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ভবনে দেশের পুঁজিবাজারে চলমান সংকট নিরসনে করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, পৃথিবীর বড় বড় দেশগুলোতে ইন্ডাস্ট্রিগুলোর জন্য লং টার্ম ফাইন্যান্সিং পুঁজিবজার থেকে আসে। ব্যাংকের টাকা হলো জণগণের জমা করা টাকা। তাই বড় এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য ব্যাংকের উপর নির্ভরতা কমাতে হবে।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আজকে আমরা পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সকলের থেকে তাদের সুবিধা অসুবিধাগুলো শুনেছি। ইতিমধ্যে এগুলোর মাঝে কতোগুলো সমস্যা সমাধানের জন্য কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আপনারা অনেক সময় দেখেন যে শেয়ারমার্কেট পরে গেছে। এর কারণ বাজার রিফর্ম হচ্ছে৷ কারও উপকার করার জন্য এখানে কোন পলিসি নেয়া হয়নি, যা অতিতে হয়েছিলো।

ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায়- বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ), বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ), সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল), সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল), ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




ডিএসইর সার্ভার জটিলতা তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সার্ভার জটিলতায় রবিবার (৫ জানুয়ারি) নির্ধারিত সময়ে লেনদেন শুরু হতে দেরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির আইটি কর্মকর্তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় দেড় ঘণ্টা পর অর্থাৎ সকাল সাড়ে ১১টায় ডিএসইর লেনদেন চালু হয়।

যথা সময়ে ট্রেডিং কার্যক্রম চালু করতে না পারায় বিনিয়োগকারী ও বাজারে অংশগ্রহণকারীসহ সবার লেনদেনে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। তাই এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ।

ডিএসই থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, ডিএসইতে সার্ভার জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময়ের লেনদেন চালু করা যায়নি। ডিএসইর আইটি টিম সার্ভার জটিলতা নিরসন করার পর বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে লেনদেন চালু হয়। দেড় ঘণ্টা লেনদেন বন্ধ থাকার পরিপ্রেক্ষিতে ডিএসই রবিবার লেনদেনের সময় কিছুটা বাড়িয়েছে। অর্থাৎ অন্যান্য দিনে ডিএসইতে লেনদেন চলে সকাল ১০টা থেকে ২টা ৩০মিনিট পর্যন্ত। কিন্তু রবিবার ২টা ৩০ মিনিটের পরিবর্তে ২টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেন চলে। আর পোস্ট ক্লোজিং চলে ২টা ৫০ মিনিট থেকে ৩টা পর্যন্ত।

ডিএসইর প্রকাশনা ও জনসংযোগ বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিএসইর সেন্ট্রালাইজড অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ওএমএস) ডিএসই ফ্লেক্সটিপিতে কনফিগারেশনজনিত সমস্যার কারণে রবিবার (৫ জানুয়ারি) ট্রেডিং কার্যক্রম চালু করতে বিলম্ব ঘটে।

সমস্যাটি সমাধানের জন্য নির্ধারিত সময়ে সার্বিক লেনদেন স্থগিত রাখা হয়। ডিএসই’র আইসিটি ইঞ্জিনিয়ার এবং ফ্লেক্সট্রেডের সহায়তায় সমস্যাটি সমাধান করে সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে লেনদন শুরু হয় এবং লেনদেন কার্যক্রম দুপুর ৩টা পর্যন্ত চলবে মর্মে সিদ্ধান্ত হয়।

যথা সময়ে ট্রেডিং কার্যক্রম চালু করতে না পারায় বিনিয়োগকারী ও বাজারে অংশগ্রহণকারীসহ সবার সাময়িক অসুবিধার জন্য ডিএসই আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে। উল্লেখ্য যে, এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ডিএসই ৩ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে।




ডিএসইতে পিই রেশিও বেড়েছে ২.৩৭ শতাংশ

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (১৫ থেকে ১৯ ডিসেম্বর) পর্যন্ত সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) বেড়েছে। আলোচ্য সময়ে ডিএসইর পিই রেশিও বেড়েছে ২.৩৭ শতাংশ।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, বিদায়ী সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ৯.২৮ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে তা অবস্থান করছে ৯.৫০ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও ০.২২ পয়েন্ট বা ২.৩৭ শতাংশ বেড়েছে।

এর আগের সপ্তাহের (৮ থেকে ১২ ডিসেম্বর) শুরুতে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ৯.৪৪ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে তা অবস্থান করছে ৯.২৮ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও ০.১৬ পয়েন্ট বা ১.৬৯ শতাংশ কমেছে।

খাতভিত্তিক পিই রেশিওগুলোর মধ্যে- মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৩.২১ পয়েন্টে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ৫.০৪ পয়েন্টে, ব্যাংক খাতে ৬.৩১ পয়েন্টে, সেবা ও আবাসন খাতে ১০.৭০ পয়েন্ট, প্রকৌশল খাতে ১০.৭৩ পয়েন্টে, ওষুধ ও রসায়ন খাতে ১১.৫২ পয়েন্টে, টেক্সটাইল খাতে ১১.৭৫ পয়েন্টে, আর্থিক খাতে ১২.১৯ পয়েন্টে, টেলিযোগাযোগ খাতে ১৩.০১ পয়েন্টে, সাধারণ বিমা খাতে ১৩.১২ পয়েন্টে, খাদ্য ও আনুসঙ্গিক খাতে ১৩.৪৫ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতে ১৪.০৬ পয়েন্টে, বিবিধ খাতে ১৭.০৫ পয়েন্টে, আইটি খাতে ১৭.৯২ পয়েন্টে, পেপার ও প্রিন্টিং খাতে ২৫.০১ পয়েন্টে, ট্যানারি খাতে ৩৫.৬৫ পয়েন্টে, পাট খাতে ৩৯.৬৭ পয়েন্টে, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ৫৮.১ পয়েন্ট এবং সিরামিক খাতে ৮৪.৮১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।




ডিএসইর ফিক্স সার্টিফিকেশন পেল ৩ ব্রোকারেজ হাউজ

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পিএলসির ফিক্স সার্টিফিকেশন পেয়েছে তিন ব্রোকারেজ হাউজ। ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে ফিক্স সার্টিফিকেশন প্রদানের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে ফিক্স সার্টিফিকেশন প্রদান করে ডিএসই।

ডিএসই থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ‌্য জানানো হয়েছে।

ব্রোকারেজ হাউজগুলো হল— বিনিময় সিকিউরিটিজ লিমিটেড, বি রীচ লিমিটেড এবং শেলটেক ব্রোকারেজ লিমিটেড।

ডিএসই বোর্ডরুমে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সার্টিফিকেশন প্রদান করেন ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এজিএম সাত্ত্বিক আহমেদ শাহ্। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা খাইরুল বাশার আবু তাহের মোহাম্মদ, মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. ছামিউল ইসলাম, মহাব্যবস্থাপক মহাব্যবস্থাপক (আইসিটি) ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. তারিকুল ইসলামসহ আইসিটি এবং মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ডিভিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

উল্লেখ্য, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রাম ইন্টারফেস) ভিত্তিক বিএইচওএমএস চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করে ২০২০ সাল থেকে। এরই প্রেক্ষিতে ৬০টি ব্রোকারেজ হাউজ নাসডাক ম্যাচিং ইঞ্জিনে এপিআই সংযোগ নিয়ে নিজস্ব অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে লেনদেন করার জন্য ডিএসইতে আবেদন করেন। আজকের ৩টি ব্রোকারেজ হাউজ নিয়ে মোট ১৯টি ব্রোকারেজ হাউজকে ফিক্স সার্টিফিকেশন প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি ব্রোকার হাউজ ফিক্স সার্টিফিকেশন পাওয়ার পর তারা এপিআই সংযোগের মাধ্যমে নিজস্ব ওএমএস চালু করেছে।




ডিএসইতে পিই রেশিও কমেছে ১.২৫ শতাংশ

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (২৪ থেকে ২৮ নভেম্বর) পর্যন্ত সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) কমেছে। আলোচ্য সময়ে ডিএসইর পিই রেশিও কমেছে ১.২৫ শতাংশ।

শনিবার (৩০ নভেম্বর) ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, বিদায়ী সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ৯.৬৩ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে তা অবস্থান করছে ৯.৫১ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও ০.১২ পয়েন্ট বা ১.২৫ শতাংশ কমেছে।

এর আগের সপ্তাহের (১৭ থেকে ২১ নভেম্বর) শুরুতে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ৯.৮৩ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে তা অবস্থান করছে ৯.৬৩ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও ০.২০ পয়েন্ট বা ২.০৩ শতাংশ কমেছিল।

খাতভিত্তিক পিই রেশিওগুলোর মধ্যে- মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৩.২৫ পয়েন্টে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ৫.২৯ পয়েন্টে, ব্যাংক খাতে ৬.৪৩ পয়েন্টে, সেবা ও আবাসন খাতে ১০.৫১ পয়েন্ট, প্রকৌশল খাতে ১০.৯২ পয়েন্টে, টেক্সটাইল খাতে ১০.৯৯ পয়েন্টে, ওষুধ ও রসায়ন খাতে ১১.১২ পয়েন্টে, টেলিযোগাযোগ খাতে ১২.৬০ পয়েন্টে, আর্থিক খাতে ১২.৬৯ পয়েন্টে, সাধারণ বিমা খাতে ১৩.৫১ পয়েন্টে, খাদ্য ও আনুসঙ্গিক খাতে ১৩.৭৬ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতে ১৪.২৭ পয়েন্টে, বিবিধ খাতে ১৬.৯২ পয়েন্টে, আইটি খাতে ১৮.৯৪ পয়েন্টে, পেপার ও প্রিন্টিং খাতে ২৫.৪০ পয়েন্টে, ট্যানারি খাতে ৩৫.৬৫ পয়েন্টে, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ৬১.৯৪ পয়েন্ট, পাট খাতে ৭৭.৮৯ পয়েন্টে এবং সিরামিক খাতে ৮৩.৪০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।




চেয়ারম্যানের মায়ের মৃত্যুতে ড্সিইর শোক বার্তা

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলামের মা রহিমা খাতুনের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে ডিএসই। রোববার (২৪ নভেম্বর) ডিএসইর ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত একটি শোক বার্তা প্রকাশ করা হয়।

শোক বার্তা জানা যায়, ডিএসইর চেয়ারম্যানের মা বার্ধক্যজনিত কারণে গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনার বয়স ছিলো ৮৪ বছর। ওইদিন জুমার নামাজ শেষে মমিনুল ইসলামের পৈত্রিক নিবাস ঝিনাইদহ জেলার কবরস্থানে মৃতদেহ সমাহিত করা হয়।

মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনার জন্য সকল ট্রেকহোল্ডার এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রার্থনার অনুরোধ জানিয়েছে ডিএসই।




ডিএসইর পরিচালক নাহিদ হোসেন ওএসডি

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত অতিরিক্ত সচিব ড. নাহিদ হোসেনকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে সরিয়ে দিয়েছে সরকার। তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যুক্ত করা হয়েছে।

বুধবার (২০ নভেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধতন নিয়োগ-১ শাখা থেকে ড. নাহিদ হোসেন অতিরিক্ত সচিবকে বদলি/পদায়ন করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

ড. নাহিদ হোসেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পুঁজিবাজার অধিশাখার দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন। তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংক বেসিক ব্যাংকের একজন পরিচালক। তিনি ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে এ দায়িত্বে আছেন।

বুধবার ড. নাহিদের সঙ্গে ওএসডি হয়েছেন পুঁজিবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও একজন অতিরিক্ত সচিব। অমল কৃষ্ণ মন্ডল নামের ওই কর্মকর্তা পুঁজিবাজার অনু শাখার দায়িত্বে ছিলেন।

গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। গত ১ সেপ্টেম্বর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ড. নাহিদসহ ৭ জনকে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়। এদের মধ্যে নাহিদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতের ইস্যুতে বিতর্ক দেখা দেয়। এমন অবস্থায় অপর দু’জন ডিএসইতে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে যোগ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। কিন্তু প্রবল বিতর্ক সত্ত্বেও ড. নাহিদ ডিএসইতে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে যোগ দেন।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ তাদের পক্ষ থেকে ডিএসইর স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে ড. নাহিদ হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছিল। তাই তাকে ওই মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়ায় ডিএসইর দায়িত্ব থেকেও বাদ পড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

ড. নাহিদ ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পুঁজিবাজারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই সময়ে তাকে কেন্দ্র করে একটি অসাধু চক্র করে উঠে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই চক্রটি নানাভাবে পুঁজিবাজারে অনিয়ম-দুর্নীতি ও কারসাজির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ড. নাহিদ আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী সরকারি কর্মকর্তাদের অন্যতম। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি পুলিশ ক্যাডারে ছিলেন। ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে তিনি নাটোরের পুলিশ সুপার (এসপি), বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির পরিচালক ও বাংলাদেশ আর্মড পুলিশ ব্যাটলিয়নের সুপারিনটেন্ডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন।




ডিএসইতে পিই রেশিও কমেছে ৩.১৫ শতাংশ

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (১০ থেকে ১৪ নভেম্বর) পর্যন্ত সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) কমেছে। আলোচ্য সময়ে ডিএসইর পিই রেশিও কমেছে ৩.১৫ শতাংশ।

শনিবার (১৬ নভেম্বর) ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, বিদায়ী সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ১০.১৫ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে তা অবস্থান করছে ৯.৮৩ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও ০.৩২ পয়েন্ট বা ৩.১৫ শতাংশ কমেছে।

এর আগের সপ্তাহের (৩ থেকে ৭ নভেম্বর) শুরুতে ডিএসইর পিই রেশিও ছিল ১০.০৫ পয়েন্টে। আর সপ্তাহ শেষে তা অবস্থান করছে ১০.১৫ পয়েন্টে। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর পিই রেশিও ০.১০ পয়েন্ট বা ১ শতাংশ বেড়েছিল।

খাতভিত্তিক পিই রেশিওগুলোর মধ্যে- মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাতে ৩.২৯ পয়েন্টে,
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ৫.৪৫ পয়েন্টে, ব্যাংক খাতে ৬.৪৫ পয়েন্টে, প্রকৌশল খাতে ১০.৩০ পয়েন্টে, টেক্সটাইল খাতে ১১.৫৬ পয়েন্টে, ওষুধ ও রসায়ন খাতে ১২.০৫ পয়েন্টে, টেলিযোগাযোগ খাতে ১২.৮৪ পয়েন্টে, আর্থিক খাতে ১২.৮৮ পয়েন্টে, পাট খাতে ১৪.৯০ পয়েন্টে, সেবা ও আবাসন খাতে ১২.৯৭ পয়েন্ট, সাধারণ বিমা খাতে ১৩.৯৯ পয়েন্টে, খাদ্য ও আনুসঙ্গিক খাতে ১৪.৩৪ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতে ১৬.০৮ পয়েন্টে, বিবিধ খাতে ১৬.৮৪ পয়েন্টে, ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে ১৮.৪২ পয়েন্ট, আইটি খাতে ১৮.৮৮ পয়েন্টে, পেপার ও প্রিন্টিং খাতে ৩১.১৮ পয়েন্টে, ট্যানারি খাতে ৩৯.১৮ পয়েন্টে এবং সিরামিক খাতে ৯৯.৩১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।




প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তাকে ধরতে ডিএসই কার্যালয়ে পুলিশ

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (সিআরও) খায়রুল বাশার আবু তাহের মোহাম্মদকে আটক করতে পুলিশ নিয়ে ডিএসই কার্যালয়ে হাজির হন একদল বিনিয়োগকারী।

সোমবার (১২ নভেম্বর) এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিনিয়োগকারীরা গণমাধ্যমকে সেটির সত্যতা নিশ্চিত করেন।

মশিউর সিকিউরিটিজ সিআরও সরেজমিনে যাচাই না করায় বিনিয়োগকারীরা ১৬১ কোটি টাকা হারিয়েছেন। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা সোমবার (১১ নভেম্বর) পুলিশ নিয়ে ডিএসইতে যান।

এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর মশিউর সিকিউরিটিজে ব্যর্থতার দায়ে খায়রুল বাশারকে শোকজ করে খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

জানানো হয়েছে, খায়রুল বাশারের ব্যর্থতায় বিনিয়োগকারীদের ১৬১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে মশিউর সিকিউরিটিজ। এর মধ্যে গ্রাহকের সমন্বিত হিসাবে ঘাটতি (সিসিএ) ৬৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং শেয়ার বিক্রি করে নিয়েছে ৯২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। দেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে একক কোনো ব্রোকারেজ হাউজের এটিই সবচেয়ে বড় জালিয়াতি।

ওই ব্রোকারেজ হাউজের মাধ্যমে বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত ৬-৭ জন বিনিয়োগকারী সোমবার ডিএসইতে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে যান। তারা বাশারকে আটকের চেষ্টা করেন। তাদের দাবি, বাশারের কারণেই আজ তাদের বিশাল ক্ষতি হয়েছে। তিনি যদি সঠিক তদন্ত রিপোর্ট দিতেন তাহলে হাউজটির কর্মকর্তারা বিনিয়োগকারীদের টাকা মেরে দিতে পারতো না। তার এ কাজে সহযোগিতা করেছেন ডিএসইর মো. বজলুর রহমান, জাকির হোসেন, মো. ইকরাম হোসেন, আফজালুর রহমানসহ কয়েকজন কর্মকর্তা।

এ সময় বাশারসহ অন্য কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিষয়ে ডিএসইতে আসা বিনিয়োগকারী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করেন ডিএসইর প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্বাত্তিক আহমেদ শাহ।

মশিউর সিকিউরিটিজের ব্যাপারে বেশকিছু ব্যবস্থা নেওয়ার কথা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছে বর্তমান কমিশন। এর মধ্যে আছে মশিউর সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন, ‘ফ্রি লিমিট’সহ দেওয়া সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করা, পরিচালকদের ব্যাংক ও বিও হিসাব স্থগিত এবং জড়িত ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশ থেকে পালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ। এছাড়া তদন্তের পর আইন অনুসারে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা শাস্তি না দিয়ে সহযোগী হয়েছে : ডিএসই চেয়ারম্যান

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেছেন, আমরা অতীতে দেখেছি, আমাদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা দুষ্কৃতিকারীদেরকে শাস্তি না দিয়ে অনেক ক্ষেত্রে তাদের সহযোগী হয়েছেন। আবার অনেকক্ষেত্রে তারাও দুষ্কৃতিকারী হয়েছেন। যার ফলে এ বাজার (শেয়ারবাজার) থেকে যারা পুঁজি সংগ্রহ করবেন বা পুঁজি জোগান দেবেন তারা আশা হারিয়েছেন। একইসঙ্গে আমাদের পুঁজিবাজার অর্থনীতিতে যে কার্যকর ভূমিকা রাখার কথা ছিল তা রাখতে পারেনি।

সোমবার (১১ নভেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে বণিক বার্তা আয়োজিত তৃতীয় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। আয়োজনের বিষয় ছিল ‘বৈষম্য, আর্থিক অপরাধ ও বাংলাদেশের অর্থনীতির নিরাময়’।

মমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের বাজার মূলধন এবং জিডিপির অনুপাত এই মুহূর্তে ৮ শতাংশের নিচে। যেখানে আমাদের পার্শ্ববর্তী কিছু দেশ বিশেষ করে পাকিস্তানের প্রায় ১০ শতাংশ, শ্রীলঙ্কাতে ১৫ শতাংশ, ভিয়েতনামে ৪১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়াতে ৪৪ শতাংশ এবং ভারতে এটির পরিমাণ ১২০ শতাংশ। তবে আশার কথা হচ্ছে, আমরা একটি পরিবর্তনের সুবাতাস পাচ্ছি। আমরা এমন একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি যেখানে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য আমাদের একটি বিরল সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমাদের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের নতুন কমিশন গঠন করা হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে। রেগুলেটরি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতিগুলো তদন্ত করার জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফলে আমরা আশাবাদী যে একসঙ্গে কাজ করলে এই মার্কেটের বর্তমান দুর্দশা থেকে বেরিয়ে আসতে পারব।

তিনি বলেন, মার্কেট নিয়ন্ত্রণে যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করে তাদের অভ্যন্তরীণ দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। সেবা প্রদানের যে দায়বদ্ধতা সেটি নির্ধারণ করার সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক প্রশাসন এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতাও বৃদ্ধি করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, আমরা অতীতে দেখেছি রেগুলেটরি মার্কেটের দৈনন্দিন কার্যক্রমে অযাচিতভাবে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে আমাদের বাজার ব্যবস্থায় স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর ভূমিকা কি হবে সেটা নির্ধারণ করার সময় এসেছে। সেক্ষেত্রে আমাদের আঞ্চলিক সফল মার্কেটগুলো রয়েছে সেগুলোর অভিজ্ঞতা অনুসরণ করতে পারি। এই মুহূর্তে মার্কেট দুর্বল অবস্থায় আছে। ফলে স্বল্প সময়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায় সেটি ভাবতে হবে।

সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে মমিনুল ইসলাম বলেন, আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে নিয়ে আলোচনা করতে হবে। যেখানে আমাদের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে পারস্পরিক পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে সেটি নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তবে হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই। আমরা দেখতে পাচ্ছি পরিবর্তনের বাতাস বইতে শুরু করেছে। আশা করি সবার চেষ্টায় নতুন একটি গল্প আমরা তৈরি করতে পারব। যেখানে একটা শক্ত, সক্ষম, কার্যকর ও স্বচ্ছ শেয়ার মার্কেট আমরা উপহার দিতে পারব।

অর্থনৈতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এ ছাড়া দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান, এমডিসহ চার শতাধিক অতিথি উপস্থিত ছিলেন।




আইপিও, মিউচুয়াল ফান্ড ও বন্ডে সংস্কার দরকার: ডিএসই চেয়ারম্যান

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেছেন, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও), মিউচুয়াল ফান্ড ও বন্ড সম্পর্কিত কাজে কিছু সংস্কারের দরকার আছে। এ সংস্কারের বিষয়ে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও সরকারের সঙ্গে আমরা কাজ করার চেষ্টা করছি।

শনিবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) আয়োজিত পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম, আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ, বিএমবিএর সাবেক সভাপতি ছায়েদুর রহমানসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

মমিনুল ইসলাম বলেন, ডিএসইর হিউম্যান রিসোর্স, টেকনিক্যাল দক্ষতা বাড়াতে হবে। আমরা শিগগিরই সেটা করব। কিছু জায়গায় আমাদের স্বচ্ছতার অভাব আছে। এসব জায়গায় স্বচ্ছতা ফেরাতে আমরা কাজ করব। পুঁজিবাজারে কোথায় কোথায় সংস্কার প্রয়োজন, তা আজ সংবাদিকদের আলোচনায় উঠে এসেছে।

ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজারকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পুঁজিবাজার ও মুদ্রাবাজার অর্থনীতির সুন্দরতম সৃষ্টি। তবে, আমরা সৃষ্টিটাকে অসৃষ্টি তৈরি করে ফেলেছি। সেটা আমাদের সামগ্রিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থারই প্রতিচ্ছবি। দেশের মাঝে দুর্নীতি, বিচারহীনতা, অদক্ষতা এবং ভুল সিদ্ধান্ত, সেই বিষয়গুলো পুঁজিবাজারে আছে। সেটারই ফল আজকের এই পরিস্থিতি। আমরা বিচারহীনতার একটা সংস্কৃতি তৈরি করেছি, যার জন্য মার্কেটে কারসাজি কমেনি। এতে বিনিয়োগকারী, বাজার মধ্যস্থতাকারী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অতিরিক্ত নির্ভরতা ব্যাংককে ধ্বংস করেছে, একইসাথে আমাদের অর্থনীতিকে শেষ করেছে। এটা থেকে আমাদের বের হতে হবে।

ডিএসইর চেয়ারম্যান আরও বলেন, ট্যাক্স সংক্রান্ত কিছু বিষয় আলোচনায় উঠে এসেছে। আমরা এনবিআরের সাথে এ বিষয়ে কাজ করছি। এতে এনবিআর বেশি ট্যাক্স পাবে, একইসঙ্গে বাজারের উন্নতি হবে। তা হবে মার্কেট ফ্রেন্ডলি।

ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জ ও আইসিবির সংস্কার দরকার। এ বিষয়ে স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ও পরিচালকরা এবং আইসিবি চেয়ারম্যান প্রয়োজনীয় ব‍্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ৫ আগস্টের পরে সরকারের কাছে পুঁজিবাজার নিয়ে যেরকম প্রত‍্যাশা ছিল, সেরকম সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই, ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে পুঁজিবাজারের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

মতবিনিময় সভায় ক‍্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরামের (সিএমজেএফ) সভাপতি এম এম গোলাম সামদানি ভুঁইয়া বলেন, বর্তমান কমিশন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর, এমনটি দাবি ও প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু, বিএসইসিতে অনেক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা আছেন। এছাড়া, কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে। তাদের মধ‍্যে একজনের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়নি মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশন। বরং এসব দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার পরামর্শে কাজ করে বর্তমান কমিশন।

দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক ও সিএমজেফের সাবেক সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু বলেন, নিরীক্ষকদের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা নেই। কারণ, তারা জেনে-বুঝে ভুয়া আর্থিক হিসাব সঠিক বলে সত‍্যায়িত করে। এ সমস‍্যা নিয়ে শেয়ারবাজারকে এগিয়ে নেওয়া যাবে না। পুঁজিবাজারের আইপিও অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোম্পানি সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য আইন করা দরকার। শুধু ফিন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট দেখে আর এফআরসি বা অডিট ফার্রমের ওপর নির্ভর করে আইপিওর অনুমোদন দেওয়া বন্ধ করতে হবে।

দৈনিক যুগান্তরের সিনিয়র রিপোর্টার ও সিএমজেফের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে হবে। বিএসইসিতে নতুন কমিশন দায়িত্ব নিলে ডিবিএসহ সবাই প্রশংসা করে। আর বিদায় নিলে সমালোচনা করে। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সমালোচনার কাজ করলে, ক্ষমতায় থাকাকালীনই কমিশনের সমালোচনা করতে হবে। তাহলে সুফল পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ‍্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বর্তমান চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন কমিশনের যোগ্যতা শূন্য। সাম্প্রতিক সময়ে তারা যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটাই তা প্রমাণ করে।

মতবিনিময় সভায় অর্থসূচকের সম্পাদক ও সিএমজেফের সাবেক সভাপতি জিয়াউর রহমান, দৈনিক সমকালের সিনিয়র রিপোর্টার আনোয়ার ইব্রাহিম, প্রথম আলোর বিজনেস এডিটর সুজয় মহাজন, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের বিশেস প্রতিনিধি দৌলত আক্তার মালা, দ্য ডেইলি স্টারের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ও ইআরএফ সভাপতি মোহাম্মদ রেফায়েত উল্লাহ মীরধাসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।




লেনদেন নিষ্পত্তির সময়সীমা কমাতে কমিটি করবে বিএসইসি

পুঁজিবাজারের বিদ্যমান শেয়ার লেনদেন নিষ্পত্তির সময়কে আরও দ্রুত সমাধানে এবং বিনিয়োগকারীসহ বাজার সংশ্লিষ্টদের কাজ করার প্রক্রিয়াসহ সুবিধা-অসুবিধা ও ফলাফলের বিষয়ে ডিএসই, সিএসই, সিডিবিএল, পুঁজিবাজারের ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিসহ বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি নিয়ে কমিটি করবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

শনিবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি ভবনে পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্স, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ও সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) সঙ্গে বিএসইসির এক সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ, কমিশনার মু. মোহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ, বিএসইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্সের সব সদস্য, ডিএসইর এমডির নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল, সিএসইর সিআরওর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল ও সিডিবিএলের এমডির নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে রাসেদ মাকসুদ বলেন, ‘পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও কল্যাণের স্বার্থে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সংস্কারের জন্য বিএসইসি কাজ করছে। সবার সঙ্গে সমন্বয় করেই বাজারের জন্য ভালো কিছু করতে চাই। বিনিয়োগকারীদের কল্যাণের কথা ভেবে বিএসইসি বাজারে মূলধনী আয়ের ওপর আরোপিত করহার কমানোর বিষয়ে সরকার ও এনবিআরের সঙ্গে কথা বলছে। বিষয়টি সমাধানে আমাদের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। খুব দ্রুতই বিষয়টিতে আমরা ভালো কিছু নিয়ে আসতে পারব বলে আশা করছি।’

বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, পুঁজিবাজারের সার্ভেইল্যান্স সিস্টেমের উন্নয়নে বিএসইসি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে এবং বিএসইসির সার্ভেইল্যান্স সিস্টেমের আধুনিকায়নে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’

অনুষ্ঠিত সভায় সাধারণ বিনিয়োগকারী এবং পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও কল্যাণের স্বার্থে পুঁজিবাজারের বিভিন্ন পলিসি নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে পুঁজিবাজারের বিদ্যমান করনীতির প্রয়োজনীয় সংস্কার, পুঁজিবাজারের সার্ভেইল্যান্সের মান উন্নয়ন ও সার্ভেইল্যান্সের মাধ্যমে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনাসহ সার্ভেইল্যান্স ব্যবস্থার সংস্কার ও পুঁজিবাজারের বিদ্যমান শেয়ার লেনদেনের সেটলমেন্ট সময়কে আরো দ্রুত করা ও বিনিয়োগকারীসহ বাজার সংশ্লিষ্টদের জন্য সুবিধাজনক করার বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে।

বৈঠকে পুঁজিবাজারের অনিয়ম রোধে এবং কারসাজিকারীদের শাস্তির আওতায় আনতে সার্ভেইল্যান্স কার্যক্রম আধুনিকায়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া বাজারদর কারসাজি ও ইনসাইডার ট্রেডিংসহ অন্যান্য অনিয়ম রোধকল্পে বিএসইসি, ডিএসই, সিএসই সবার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের সার্ভেইল্যান্স কার্যক্রম আরো শক্তিশালীকরণের বিষয়ে মত দেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি পুঁজিবাজারকে আরো গতিশীল করতে ও বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ আগ্রহী করতে বিদ্যমান করনীতির সংস্কার আনতে এবং করহার অধিকতর যৌক্তিকীকরণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় উপস্থিত সবাই দেশের পুঁজিবাজারকে সংস্কার ও উন্নয়নের মাধ্যমে আরো ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। দেশের পুঁজিবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে আলোচিত বিষয়গুলোয় দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে এবং এটি শিগগিরই দেশের পুঁজিবাজারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।




জেড ক্যাটাগরিতে দুই কোম্পানি

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি দুই কোম্পানিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। জেড ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরিত কোম্পানি দুটি হলো দ্য পেনিনসুলা চিটাগং পিএলসি ও মেট্রো স্পিনিং লিমিটেড।

ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, কোম্পানিটির শেয়ার ‘বি’ ক্যাটাগারি থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করে ডিএসই। মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) থেকে কোম্পানিটির শেয়ার ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন শুরু করেছে।

কোম্পানি দুইটি চলতি হিসাববছর এবং বিগত হিসাববছর অর্থাৎ পরপর দুই বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ । এক্ষেত্রে বিএসইসির আইন অনুযায়ী দ্য পেনিনসুলা চিটাগং পিএলসি ও মেট্রো স্পিনিং লিমিটেড ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়েছে।