৭৩১ শিক্ষার্থীকে ৯২ লাখ টাকার শিক্ষা বৃত্তি দিলো ডিএনসিসি

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) শিক্ষা ও মেধা বৃত্তি নীতিমালা-২০১৭ অনুযায়ী ৭৩১ শিক্ষার্থীর মধ্যে মোট ৯২ লাখ ৪ হাজার ৬০০ টাকা শিক্ষা বৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (১১ মে) গুলশান-২ নগর ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই শিক্ষা বৃত্তির চেক বিতরণ করেন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।

অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও শিক্ষার প্রসারে এ বৃত্তি কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। নিম্ন আয়ের পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তার মাধ্যমে তাদের শিক্ষাজীবন এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য হওয়া উচিত বিভিন্ন পেশায় দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলা।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও দায়িত্ব রয়েছে সন্তানদের সঠিকভাবে যত্ন নেওয়া এবং তাদের মেধাবিকাশের সুযোগ করে দেওয়া।

তিনি বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাসাবাড়ি, আঙিনা, ফুলের টব, বালতি ও বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে, যাতে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তিনি নাগরিকদের নিজ নিজ জায়গা থেকে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি “শনিবারের অঙ্গীকার, নিজ নিজ বাসা ঘর করি পরিষ্কার”—এই স্লোগান বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ২০১৭ সালের নীতিমালার ভিত্তিতে শিক্ষা বৃত্তি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। গত বছর ৬৯ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হলেও এ বছর তা বৃদ্ধি করে ৭৩১ জনে উন্নীত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নিম্ন আয়ের পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করাই এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান বলেন, শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র মেধার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে না, বরং পরিবার ও অভিভাবকদের সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমেই তাদের বিকাশ সম্পন্ন হয়। তিনি বলেন, অভিভাবকদের দায়িত্ব হলো সন্তানদের সঠিকভাবে যত্ন নেওয়া, যাতে তারা ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।




উত্তরখানে ঈদগাহ ও খেলার মাঠ উদ্বোধন করলেন ডিএনসিসি প্রশাসক

রাজধানীর উত্তরখানবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে উন্মুক্ত হলো আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নতুন ঈদগাহ ও খেলার মাঠ।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান উত্তরখান মধ্যপাড়া এলাকায় এই নবনির্মিত স্থাপনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।

প্রায় ২৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মাঠে একসঙ্গে সহস্রাধিক মানুষের নামাজ আদায়ের পাশাপাশি স্থানীয় শিশুদের বিনোদন ও শরীরচর্চার সুযোগ তৈরি হলো।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘এই ঈদগাহটি ঈদের নামাজের পাশাপাশি অত্র অঞ্চলের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। শিশু, বৃদ্ধ এবং নারীরা এই মাঠ নিরাপদে ব্যবহার করতে পারবে।’

এ সময় নগরীর পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ডিএনসিসির অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শুধু মশার ওষুধ দিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। আমাদের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না রাখলে এবং সচেতনতা সৃষ্টি করা না গেলে মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।’

ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন– ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রকিবুল হাসান।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ডিএনসিসির পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের উদ্যোগে অঞ্চল-৮-এর ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। করপোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে এতে ব্যয় হয়েছে ২৭৯.৪২ লাখ টাকা।

প্রায় ৩০ শতাংশ আয়তনের এই মাঠে একসঙ্গে প্রায় ১ হাজার ২৫০ জন মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবেন। এ ছাড়া এখানে জানাজার নামাজ আদায়েরও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মাঠটিতে ১৫০ মিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ৫ ফুট চওড়া ও ১৫০ মিটার দীর্ঘ হাঁটার পথ (ওয়াকওয়ে) এবং ১.৭ মিটার উচ্চতার নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ করা হয়েছে।

সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে ডিএনসিসি জানায়, ঈদগাহে পুরুষ, মহিলা ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য পৃথক ব্যবস্থাসহ একটি আধুনিক পাবলিক টয়লেট, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও অজুখানা রয়েছে। মাঠটি সবুজ ঘাস ও গাছে আচ্ছাদিত।

শিশুদের খেলাধুলার জন্য ফুটবলসহ বিভিন্ন সামগ্রীর পাশাপাশি মাঠে পানি সরবরাহের জন্য পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। যাতায়াতের জন্য রয়েছে দুটি বড় গেট ও একটি পকেট গেট। এ ছাড়া হাঁটার পথের পাশে দর্শনার্থীদের বসার জন্য ১২টি আসন ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় ৬টি ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে।




নাগরিক জীবনে স্বস্তি ফেরাতে দিনরাত কাজ করছি: ডিএনসিসি প্রশাসক

নাগরিক জীবনে স্বস্তি ফেরাতে দিনরাত কাজ করছেন বলে জানিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, আমরা আমাদের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি, যেন জনগণ কিছুটা স্বস্তিতে থাকতে পারে। আমরা সিটি করপোরেশনের আরামদায়ক চেয়ারে সারাদিন বসে থাকি না; মাঠপর্যায়ে কাজ করছি এবং কাজের ফলাফল দৃশ্যমান করতে বদ্ধপরিকর।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কড়াইল বস্তি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। পরিদর্শনকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।

এসময় মশক নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে প্রশাসক জানান, মশক নিয়ন্ত্রণে একটি মনিটরিং সেল গঠন করে নির্দিষ্ট পরিকল্পনামাফিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই নগরবাসী এ কার্যক্রমের সুফল দেখতে পাবেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক বলেন, নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। রাস্তাঘাট সংস্কার, লেকসমূহের সুরক্ষা এবং বাসযোগ্য নগর পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জনগণ যে আশা ও বিশ্বাস থেকে আমাদের ভোট দিয়েছেন, সেই প্রত্যাশা পূরণে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।




প্রতিদিন ৭২ হাজার শিশুকে টাইফয়েড টিকা দেবে ডিএনসিসি

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত পরিচালনা করা হবে। প্রতিটি টিমে দুই জন ভ্যাকসিনেটর ও তিন জন ভলান্টিয়ার কাজ করছে। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিদিন ৭২ হাজার শিশু ও ছাত্র-ছাত্রীকে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হবে।

রোববার (১২ অক্টোবর) ডিএনসিসির টাইফয়েড ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয় ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ থেকে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মুখপাত্র জোবায়ের হোসেন জানান, টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১০টি অঞ্চলে আজ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত মাসব্যাপী ১৮ কর্মদিবসে (শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত) ডিএনসিসি এলাকার মোট ১২ লাখ ৯৪ হাজার ৬৯ জন শিশুকে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হবে।

ডিএনসিসির আওতাধীন এলাকার ২১৮১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭ লাখ ৬০ হাজার ৭৯০ জন ছাত্র-ছাত্রী ও কমিউনিটি পর্যায়ে ৬৫৬টি ইপিআই কেন্ত্রে প্রায় ৫ লাখ ৩৩ হাজার ২৭৯ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।

ডিএনসিসির আওতাধীন এলাকার ২১৮১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০২টি ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলের ৫৪ হাজার ৬৬৮ জন, ২১টি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড স্কুলের ৫৬ হাজার ৪৬৫ জন ও ৫১০টি মাদ্রাসার ৩ লাখ ৪ হাজার ৩১৬ জন ছাত্র-ছাত্রীদের টিকা প্রদান করা হবে। টিকা কার্যক্রমে প্রতিদিন ৭১২ জন ভ্যাকসিনেটর ও ৯৭২ জন স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণ করবে।

১২ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মোট ১০ দিন টিকা দেওয়া হবে। আর ১৩ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী ইপিআই টিকাদান কেন্দ্র এবং ১ নভেম্বর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত স্যাটেলাইট/আউটরিচ ইপিআই কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হবে। ডিএনসিসির এ কার্যক্রম কেন্দ্রীয় ও অঞ্চল পর্যায়ের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক সুপারভিশন ও মনিটরিং করবেন। টিকাদান কার্যক্রম সমন্বয়ে নগর ভবন, ডিএনসিসি পর্যায়ে একটি মনিটরিং সেল এবং মাঠ পর্যায়ের জন্য একটি ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে।




ঈদে দিনের বর্জ্য দিনেই অপসারণ হবে : ডিএনসিসি প্রশাসক

আসন্ন কোরবানি ঈদে দিনের বর্জ্য দিনের মধ্যেই অপসারণ করে শহর পরিচ্ছন্ন রাখা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।

বুধবার (৪ জুন) আমিন বাজার ল্যান্ডফিল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

কোরবানির বর্জ্য অপসারণের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে জানিয়ে প্রশাসক বলেন, এবার ঈদে প্রায় ২০০০০ টন বর্জ্য তৈরি হবে। এ বর্জ্য দ্রুততার সঙ্গে অপসারণ করার জন্য সিটি কর্পোরেশনের প্রায় ১০০০০ কর্মী ৩ দিনব্যাপী নিয়োজিত থাকবে। এবার ঈদে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজে ২২৪টি ডাম্প ট্রাক, ৩৮১টি পিকআপ, ২৪টি পেলোডার সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, বর্জ্য সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য ১২ লাখ ৫০ হাজার পলিব্যাগ, আড়াই হাজার বস্তা ব্লিচিং, চার হাজার ক্যান স্যাভলন বিতরণ করা হয়েছে।

এছাড়া আমিন বাজার ল্যান্ডফিলে কোরবানির বর্জ্য ডাম্পিংয়ের জন্য আলাদা প্লাটফর্ম রেডি রাখা হয়েছে এবং পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ২টি পরিখা খনন করা হয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য ডিএনসিসির কর্মকর্তা কর্মচারীদের সমন্বয়ে তদারকি টিম গঠন করা হয়েছে।

প্রথমে কোরবানির বর্জ্য সংগ্রহ করে এসটিএসে আনা হবে এবং এসটিএস থেকে থেকে বর্জ্য ডাম্পিং স্টেশনে (আমিনবাজার ল্যান্ডফিল) ডাম্প করা হবে বলেও জানান প্রশাসক।

পরিদর্শনের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এ বি এম সামসুল আলমসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।




ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ ক্যাথরিন কুক। বৈঠকে ডিএনসিসির প্রশাসক বলেন, প্রাথমিকভাবে গুলশানে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম গ্রহণের ফলাফলের ভিত্তিতে পুরো ঢাকা শহরের পরিবহন ব্যবস্থার মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।

 

আজ (সোমবার) রাজধানীর গুলশানে নগর ভবনে ডিএনসিসির প্রশাসকের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ডিএনসিসির প্রশাসক মাহমুদুল হাসান বলেন, ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন (টিএফএল) তাদের শহরে আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করেছে যেটি বিশ্বে অত্যন্ত বিখ্যাত। লন্ডন শহরের পরিবহন ব্যবস্থার (টিএফএল) জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করে ঢাকা শহরে আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

 

তিনি আরও বলেন, লন্ডন শহরে বিদ্যমান বাস ফ্রাঞ্চাইজি মডেল ও ট্রাফিক সিগন্যাল সিস্টেমের অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে। প্রাথমিকভাবে গুলশানে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম গ্রহণের ফলাফলের ভিত্তিতে পুরো ঢাকা শহরের পরিবহন ব্যবস্থার মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।

প্রশাসক আরও বলেন, পুরো ঢাকা শহরের পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ডিএনসিসি অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথেও সমন্বিতভাবে কার্যক্রম গ্রহণ করবে। লন্ডনের পরিবহন ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা ও কারিগরি পরামর্শের ভিত্তিতে ঢাকা শহরের যানজট নিরসনসহ আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে অত্যন্ত সুসম্পর্ক বিদ্যমান। আমি বিশ্বাস করি ডিএনসিসির সাথে এই কার্যক্রমের ফলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।

 

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন— ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর খায়রুল আলম, ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগে. জেনা. মো. মঈন উদ্দিন, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খন্দকার মাহাবুব আলম।

 




এডিসের লার্ভা পাওয়ায় দেড় লাখ টাকা জরিমানা

মশক নিধন অভিযানে ৩টি ভবনে এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ৩ মামলায় মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মুখপাত্র মকবুল হোসাইন বলেন, আজকের অভিযানে ডিএনসিসির অঞ্চল-১ এর আওতাধীন উত্তরা ৭ ও ৯ নং সেক্টর এলাকায় মশক নিধন অভিযান পরিচালনাকালে দুটি বাড়িতে এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ২টি মামলায় মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বাসা বাড়ি, বাণিজ্যিক ভবন ও নির্মাণাধীন ভবনে, ফাঁকা প্লটে মশক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিএনসিসির অঞ্চল ১ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফা জহুরা এই অভিযান পরিচালনা করেন।

অন্যদিকে অঞ্চল-৩ এর আওতাধীন তেজগাঁও ও বনানী এলাকায় আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুলকার নায়ন এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাখী আহমেদ মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে কয়েকটি বাড়িতে অল্প পরিমাণে এডিসের লার্ভা পাওয়ায় সতর্ক করা হয়।

এছাড়া অঞ্চল-১০ এর আওতাধীন বাড্ডা এলাকায় আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউল বাসেত মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করেন। একটি বাড়িতে এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সব মিলিয়ে মশক নিধন অভিযানে আজ ৩টি ভবনে এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ৩ মামলায় মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের(ডিএনসিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত।




ঢাকা উত্তরে মশা মারতে ১১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি কিনতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এ খাতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ব্যয় করা হয়েছে ৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ডেঙ্গু মোকাবিলা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও প্রচারে আরও ৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ জুলাই) দুপুরে গুলশানে নগর ভবনে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানিয়েছেন ডিএনসিসির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, একটি টেকসই ও নিরাপদ শহর বিনির্মাণে আমরা কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি। মশক নিয়ন্ত্রণ, জলাবদ্ধতা নিরসন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। মশা নিধনে নিয়মিত লার্ভিসাইডিং ও এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি অন্যান্য যেসব পদক্ষেপ নিয়েছি, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান, বিএনসিসি ও বাংলাদেশ স্কাউটের সদস্যদের যুক্ত করে প্রচারাভিযান, ডিএনসিসির আওতাধীন এলাকার মসজিদ ও মাদ্রাসার ১ হাজার ইমাম ও খতিবের সঙ্গে এবং স্কুল ও কলেজের প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় সভা, ছাদ বাগানে এডিসের লার্ভা শনাক্তে ড্রোনের ব্যবহার।

তিনি আরও বলেন, জনগণকে সচেতন করতে ডিএনসিসির ১০টি অঞ্চলে ১০ জন ডেডিকেটেড পিআর নিযুক্ত করা হয়েছে। মশক নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজাতি ও মশার আচরণ নির্ণয় করে সঠিক ও কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে গবেষণার জন্য চুক্তি করা হয়েছে। এ বছরের বাজেটেও মশা নিধনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

ডিএনসিসির মেয়র বলেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে ৫২ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। চলতি বছর তথা ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে ৮৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রেখেছি। অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে বরাদ্দের হার ৬১ শতাংশ বেশি। এছাড়া, গত অর্থবছরে মশক নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রপাতি কিনতে ১৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। চলতি অর্থবছরে যন্ত্রপাতি কিনতে ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আগের চেয়ে ১০০ শতাংশ বেশি।




ডেঙ্গু রোধে চলছে ডিএনসিসির তৃতীয় দিনের চিরুনি অভিযান

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশা নির্মূলে মাসব্যাপী বিশেষ অভিযান চলছে।

সোমবার (১০ জুলাই) ডিএনসিসির আওতাধীন কারওয়ান বাজার এলাকায় তৃতীয় দিনের মত ডেঙ্গু বিরোধী মশক নিধন ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের তৃতীয় দিনে ডিএনসিসির দশটি অঞ্চলের, সবগুলোতে অভিযান পরিচালনা করেছে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটেরা।

ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মকবুল হোসাইন বলেছেন, গেল দুদিনের অভিযানে এডিসের লার্ভা পাওয়ায় তেত্রিশটি (৩৩) মামলায় মোট ২১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়াও চারটি নিয়মিত মামলাও করা হয়।

তৃতীয় দিনের কারওয়ান বাজার এলাকায় মশক নিধন ঝটিকা অভিযানে ডিএনসিসির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এদিন কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের ডেঙ্গু বিরোধী ঝটিকা অভিযান পরিদর্শন করেন তিনি।

এ সময় ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম শফিকুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহম্মদ আমিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর এসএম শরিফ-উল ইসলাম, সচিব মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কর্মসূচিতে অংশ নেন।




নিরাপদ খাবার বিক্রি করবে ডিএনসিসির ১০০ গাড়ি

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঢাকা উত্তরে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডকে স্ট্রিট ফুড বিক্রি করতে জায়গা দেওয়া হবে। প্রতি সপ্তাহে শুক্র ও শনিবার এ আয়োজন থাকবে। সন্ধ্যার পর বসবে গানের আসর। স্ট্রিট ফুড বিক্রি করতে ১০০টি গাড়ি নামাবে উত্তর সিটি করপোরেশন। এর মাধ্যমে নিরাপদ খাবার বিক্রি নিশ্চিত করা হবে।

শনিবার (৬ মে) রাতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড আয়োজিত মুজিব’স বাংলাদেশ ফুড ফেস্টিভ্যালে ‘টেস্ট অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান ডিএনসিসির মেয়র। রাজধানীর বনানীর মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক পার্কে ৪ থেকে ৬ মে এ ফুড ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করে ট্যুরিজম বোর্ড। শনিবার ছিল ফেস্টিভ্যালের শেষ দিন।

বর্তমান সময়ে ট্যুরিজমের বিকল্প নেই, জানিয়ে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের কী নেই? আমাদের বৈচিত্র্যময় খাবার আছে, অনেক ঐতিহাসিক স্থপনা আছে, বিশ্বের সর্ববৃহৎ সি বিচ আছে। এসব বিশ্বের মানুষের কাছে পজিটিভলি তুলে ধরতে হবে। তাহলে এর মধ্য দিয়ে আমাদের আয় হবে। বিশ্বে আমাদের পরিচিতি বাড়বে।

মেয়র বলেন, আমরা চাই, উৎসবমুখর পরিবেশ। কিন্তু, সে জায়গা আমাদের নেই। সব মাঠ, খাল দখল করে ফেলেছে দখলবাজরা। আমরা ক্রমান্বয়ে সেসব বেদখল হওয়া মাঠ ও খাল উদ্ধার করছি। দেশের বিভিন্ন জেলার ঐতিহ্যময় বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে রাজধানীবাসীর পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্যই আমাদের এ আয়োজন।

দেশের সব ঐতিহ্যবাহী ও বিখ্যাত খাবারের আয়োজন নিয়ে শিগগিরই আরেকটি মেলার আয়োজন করা হবে বলে মেয়র জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এর পরের বার ৬৪ জেলার ৬৪টি জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যময় খাবারের স্টল থাকবে মেলায়। এই মাঠে সেটা করা সম্ভব হবে না। ফুড ফেস্টিভ্যালের জন্য ডিএনসিসির পক্ষ থেকে অন্তত এ মাঠের চেয়ে তিন গুণ বড় জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হবে।

ফুড ফেস্টিভ্যালের সমাপনী দিনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেনসহ বিশিষ্টজনরা।

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক ছাদের নিচে দেশের অধিকাংশ ঐতিহ্যবাহী ও বিখ্যাত খাবারের মেলা বসেছে। মেলায় আছে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার মন্ডা, বিখ্যাত রাজা চা, কুমিল্লার মাতৃভাণ্ডারের রসমালাই, হাজির বিরিয়ানি, বিউটি লাচ্ছি, কুষ্টিয়ার কুলফি, চট্টগ্রামের মেজবানি। এর পাশাপাশি আছে পাঁচ তারকা হোটেলের খাবার নিয়ে হোটেল সোনারগাঁ, হোটেল ওয়েস্টিন ও হোটেল শেরাটনের স্টল। মেলায় অংশ নিয়েছে দেশের বিখ্যাত ৪০টি রেস্টুরেন্ট ও ফুড কোর্ট।




ই-ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুর বিষয়ে ডিএনসিসির কমিটি

জালিয়াতির মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের অগোচরে কিভাবে সিস্টেম হতে ই-ট্রেড লাইসেন্স অনুমোদন ও ইস্যু করা হয়েছে তা অনুসন্ধান করতে কমিটি গঠন করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)।

শুক্রবার (৩১ মার্চ) ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে ডিএনসিসির সচিব মোহাম্মাদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক এ বিষয়ক একটি কমিটি গঠন করে অফিস আদেশ জারি করেছেন।

মোহাম্মাদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানিয়েছেন, ডিএনসিসি এলাকায় জালিয়াতির মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের অগোচরে কিভাবে সিস্টেম হতে ই-ট্রেড লাইসেন্স অনুমোদন ও ইস্যু করা হয়েছে, তা অনুসন্ধান করে মতামতসহ প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাকে এ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। এছাড়া কমিটির বাকি দুই সদস্যরা হলেন, ডিএনসিসির আইসিটি সেলের সিস্টেম অ্যানালিস্ট এবং ডিএনসিসি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব হাসান।




মূল্যতালিকা দেখে পণ্য কিনতে বাজারে ডিজিটাল ডিসপ্লে লাগাল ডিএনসিসি

নির্ধারিত দামের চেয়ে রমজানে উচ্চমূল্যে পণ্য কিনে ক্রেতারা যেন প্রতারিত না হন সে কারণে বাজারে ডিজিটাল ডিসপ্লে স্থাপন করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। বাজারে স্থাপন করা এসব ডিজিটাল ডিসপ্লেতে পণ্যের মূল্য তালিকা যুক্ত থাকবে, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কেউ বেশি দাম রাখলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে ডিএনসিসি।

বুধবার (২৩ মার্চ) মহাখালী কাঁচাবাজার পরিদর্শন এবং মূল্য তালিকা প্রদর্শনের ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডের উদ্বোধন করেন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম।

এর আগে মেয়র আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য জনসাধারণের অবগতির জন্য ডিএনসিসির সাতটি মার্কেটে মূল্য তালিকাসহ প্রতিটি ১০x৬ ফুট সাইজের ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড স্থাপন করে দেওয়া হবে। এছাড়াও প্রতিটি দোকানে প্রকাশ্যে মূল্য তালিকা টানিয়ে রাখাতে হবে। নির্ধারিত মূল্যের বেশি মূল্যে পণ্য বিক্রি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, রমজান মাসে অত্যাবশ্যকীয় পণ্যসামগ্রীর মূল্য স্থিতিশীল রাখা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বভাবিক রাখতে কঠোর মনিটরিং করবে ডিএনসিসি। আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে একটি বাজার মনিটরিং কমিটি করা হয়েছে। পুরো রমজান মাসজুড়ে এই কমিটি বাজারগুলো মনিটরিং করবে। রমজানে জনগণের যেন কোনো ভোগান্তি না হয় সেটি নিশ্চিত করবে সংস্থাটি।

মহাখালী কাঁচাবাজারে ডিজিটাল ডিসপ্লে স্থাপন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও বাজার কমিটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করতে আগ্রহী ফিনল্যান্ড

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রিতভা কাউক্কু রুনদি। বৈঠকে ডিএনসিসির টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছেন ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত।

মঙ্গলবার (২১ মার্চ ) গুলশানের নগর ভবনে মেয়র আতিকুল ইসলামের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতকে ডিএনসিসির অনলাইনে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়, ট্রেড লাইসেন্স প্রদান ও সবার ঢাকা অ্যাপে সেবাদানসহ অন্যান্য সেবা সম্পর্কে অবগত করেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের মাধ্যমে অনলাইনে বিভিন্ন সেবা দিচ্ছি। এ মুহূর্তে আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছি। ফিনল্যান্ড প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে ফিনল্যান্ড আমাদেরকে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করতে পারে। ফলে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

ফিনল্যান্ডের উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ঢাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা নেই। ঢাকা শহরে ফিনল্যান্ডের মতো আন্ডারগ্রাউন্ড সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঠিক সমাধান করা যেতে পারে।

ডিএনসিসিতে এসটিএস নির্মাণে ফিনল্যান্ডের প্রতি কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতার আহ্বান করেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। পাশাপাশি সুখী দেশের তালিকায় ফিনল্যান্ড আবারও শীর্ষে অবস্থান করায় রাষ্ট্রদূতকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তিনি।

ঢাকা শহরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রযুক্তির বিভিন্ন খাতে ফিনল্যান্ডের কাজ করার সুযোগ রয়েছে। স্মার্ট সিটি গড়তে আধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহে ফিনল্যান্ড বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে পারে। টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ফিনল্যান্ড প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেবে। নোকিয়াসহ অন্যান্য কোম্পানিও বাংলাদেশে কার্যক্রম প্রসারিত করতে আগ্রহী।

নগর ভবনে বৈঠকের শুরুতে ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান ডিএনসিসি মেয়র। বৈঠক শেষে তারা একে অপরকে সম্মাননা স্মারক ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন।

এসময় ডিএনসিসি সচিব মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর এস এম শরিফ-উল ইসলাম, নয়াদিল্লির ফিনল্যান্ড দূতাবাসের ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কনসুলার কিমো সিরা, সেকেন্ড সেক্রেটারি রাউলি কোস্টামো, ইকোনমি অ্যান্ড কমার্শিয়াল বিষয়ক উপদেষ্টা রায় চক্রবর্তী ও অনারারি কনস্যুলেট জেনারেল অব ফিনল্যান্ড ঢাকার সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার কর্নেল (অব.) জাওয়াদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।