চারদিন পর বাড়লো ডলারের দাম

টানা চারদিন কমার পর দেশের আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ফের ডলারের দাম বেড়েছে। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) একদিনে ডলারের দাম বেড়েছে ১ টাকা ৪০ পয়সা। ফলে প্রতি ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি মুদ্রার গড় দাম বেড়ে ১২১ টাকা ১১ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের সর্বোচ্চ দাম ১২১ টাকা ৫০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন দাম ১২০ টাকা ৮০ পয়সা। প্রতি ডলারের গড় দাম ১২১ টাকা ১১ পয়সা।

গতকাল সোমবার পর্যন্ত আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে এ দাম ছিল যথাক্রমে ১২০ টাকা ১০ পয়সা ও ১১৯ টাকা ৫০ পয়সা। অর্থাৎ একদিনে ডলারের গড় দাম ১ টাকা ৪০ পয়সা বেড়েছে।

ডলারের এ দাম বাড়ার বিষয়ে খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েকদিনে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয়ের প্রবাহ বাড়ার কারণে ডলারের দাম কম ছিল। একই সঙ্গে আমদানি হ্রাস ও এলসি (ঋণপত্র) খোলার গতি কমায় ডলারের চাহিদাও কমে গিয়েছিল।

এছাড়া গত রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমবারের মতো নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে। এতে বাজারে সংকেত গেছে যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের দরপতন ঠেকাতে সক্রিয় হয়েছে, যা দাম বাড়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডলারের দাম দীর্ঘদিন ধরে চড়া থাকায় দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হয়েছে, যা জনগণের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল লক্ষ্যগুলোর একটি হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। তবে ডলারের দাম একবার কমে গেলে তা ধরে রাখা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

বর্তমানে প্রবাসী আয়ের গতি ইতিবাচক, রপ্তানি আয়ও কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। তাছাড়া আমদানি ও এলসি খোলার হার কমে গেছে। ডলার বিক্রির আগ্রহ বাড়ছে ব্যাংকগুলোর মধ্যে। সরবরাহ বেশি হলেও চাহিদা তুলনামূলক কম।

এ প্রেক্ষাপটে আগামী দিনগুলোতে ডলারের দাম কোন দিকে যায়, তা নির্ভর করবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিনির্ধারণ ও বাজার পরিস্থিতির ওপর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বাজারে যেন অস্থিরতা বা নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে লক্ষ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা হয়েছে। বর্তমানে যেসব ব্যাংক আমদানি দায় পরিশোধ করছে, তারা নিজেরাই এ পেমেন্ট দিচ্ছে। এ থেকে বোঝা যায়, তাদের কাছে অতিরিক্ত ডলারের জোগান রয়েছে।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক ভবিষ্যতেও প্রয়োজনে বাজার থেকে ডলার কিনতে পারে।




ঋণ পরিশোধে ৮ বছর সময় পাবেন আমদানিকারকরা

ডলারের দাম বাড়ার কারণে যেসব আমদানিনির্ভর শিল্প খাত ক্ষতির মুখে পড়েছে, সেই ব্যবসায়ীরা ঋণ পরিশোধে আট বছর পর্যন্ত সময় পাবেন। এসব ঋণ আলাদাভাবে হিসাব করে এক বছরের বিরতিসহ প্রতি মাসে বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরিশোধ করা যাবে। যেসব আমদানিকারক বিলম্বে ঋণ পরিশোধের শর্তে আমদানি করেছিলেন এবং ক্ষতির শিকার হয়েছেন, শুধু তারাই এই সুযোগ পাবেন।

বুধবার (২৭ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রজ্ঞাপনে ব্যাংকগুলোকে এ নির্দেশনা দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, করোনার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দাসহ নানা কারণে বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্যমান উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় স্থানীয় উৎপাদনমুখী শিল্পগুলো কাঁচামাল আমদানিকালে বিনিময় হারজনিত ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাসসহ ফোর্সড ঋণ সৃষ্টি হচ্ছে এবং চলতি মূলধনের ঘাটতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আমদানিনির্ভর শিল্পসহ স্টিল খাত, সিমেন্ট খাত ও স্থানীয় যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পণ্যের বিক্রয়মূল্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত, সেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখার মাধ্যমে দেশের আর্থিক প্রবৃদ্ধি ও রপ্তানির গতিধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে নতুন নির্দেশনা দেওয়া যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ নির্দেশনার ফলে খাদ্যপণ্য আমদানিকারকদের অনেকে এই সুবিধা পাবেন। কারণ, তেল, চিনিসহ নানা পণ্যের দাম সরকার কর্তৃক নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল আমদানির জন্য ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত খোলা ঋণপত্রের ক্ষেত্রে বিনিময় হারজনিত ক্ষতির মোট পরিমাণ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নির্ধারণ করবে। অপ্রত্যাশিত বিনিময় হারজনিত ক্ষতির মোট পরিমাণ নির্ণয়ের পদ্ধতিও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ক্ষতির সমপরিমাণ অর্থ গ্রাহকের ঋণ-ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে চলতি মূলধন ঋণসীমার বাইরে আলাদা একটি মেয়াদি ঋণ হিসাবে স্থানান্তর করা যাবে, যা সর্বোচ্চ এক বছরের বিরতিসহ সর্বোচ্চ আট বছর মেয়াদে সমকিস্তিতে (মাসিক বা ত্রৈমাসিক) পরিশোধযোগ্য হবে।

এতে আরও বলা হয়, এই সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে একক গ্রাহক ঋণসীমা কোনোভাবেই অতিক্রম করা যাবে না। কোনো খেলাপি গ্রাহক প্রতিষ্ঠান এই সুবিধা পাবে না। এ সুবিধা নিতে চাইলে গ্রাহকদের আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে নিজ নিজ ব্যাংকে আবেদন করতে হবে। এ ছাড়া গ্রাহক বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারের কারণে প্রকৃত অর্থে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কী না, তা ব্যাংক কর্তৃক নিশ্চিত হতে হবে এবং এ–সংক্রান্ত নথিপত্র বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন বিভাগের যাচাইয়ের জন্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।

সম্প্রতি ইস্পাত খাতের তিনটি সংগঠন বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ), বাংলাদেশ রি-রোলিং মিলস অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ স্টিল মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, ইস্পাতশিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশের ৯০ শতাংশই আমদানিনির্ভর। গত আড়াই বছরে মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য বেড়ে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা হয়েছে। ফলে ইস্পাতশিল্পের চলতি মূলধন ৪০ শতাংশ কমে গেছে। মূলধনের ঘাটতির কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকের দায় পরিশোধ করতে পারছে না এবং খেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। এ অবস্থায় ব্যাংকগুলো চলতি মূলধনসীমাও কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে সংকটের মুখোমুখি হয়েছে এ খাত।

সমিতিগুলো জানায়, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে বিশেষ সুবিধা প্রয়োজন। তাদের দাবি, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে এ খাতে বাড়তি ঋণের যে দায় তৈরি হয়েছে, তা নিয়মিত ব্যাংকঋণের বাইরে রেখে ১৬ বছরে কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়া। যেখানে ঋণ পরিশোধের রেয়াতি সময় বা গ্রেস পিরিয়ড থাকবে দুই বছর। এরই মধ্যে পুনঃতফসিল হওয়া ও বিলম্বিত ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রেও একই সুবিধা চেয়েছেন ইস্পাত খাতের ব্যবসায়ীরা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ইস্পাতশিল্পের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা বর্তমানে মূলধনের ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ পান। চলতি মূলধনের ঘাটতি দূর করতে এই সীমা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো উচিত।




খোলা বাজারে ডলারের সর্বোচ্চ দর ১১৭ টাকা নির্ধারণ

ডলারের দাম যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে ঠিক সেই মুহূর্তে দাম নির্ধারণের জন্য মানি এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর সংগঠন মানি এক্সচেঞ্জ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশকে দায়িত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে এখন থেকে মানি এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো ১১৫ টাকা ৫০ পয়সা দ‌রে ডলার কিনে সর্বোচ্চ ১১৭ টাকায় বিক্রি করতে পারবে। এর চেয়ে বেশি দামে ডলার লেনদেন করলে মানি চেঞ্জারের বিরুদ্ধে শা‌স্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) মানি এক্সচেঞ্জ অ্যাসোসিয়েশনকে খোলা বাজারের ডলারের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. শেখ হেলাল শিকদার।

গত বৃহস্পতিবার ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকারস বাংলাদেশ (এবিবি) ডলার সংক্রান্ত নির্দেশনা ঠিকমতো বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে অনুরোধ করে। এরপর আজ মানি এক্সচেঞ্জ অ্যাসোসিয়েশনকে খোলা বাজারের ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক শেষে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান এবং ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আর এফ হোসাইন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, বৈদেশিক মুদ্রা সংকটে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আমরা। এই সমস্যা সমাধানে আমাদের সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে। আমাদের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো ব্যাংক চাইলে ১১৬ টাকা পর্যন্ত রেমিটেন্স কিনতে পারবে। কিন্তু ১১১ টাকার বেশি দামে বিক্রি করতে পারবে না। তারপরেও যারা নির্দেশনা ভঙ্গ করছেন তাদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। আমরা একত্রে বাজারটাকে স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে আসব।

আমদানিকারকেরা নির্ধারিত দামে ডলার পাচ্ছে কি না— এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যদি কোনো আমদানিকারকের এ রকম অভিযোগ থাকে তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে এসে জানাতে হবে। তা ছাড়া সকল বিষয়ে লাইন বাইলাইন লিখিতভাবে নির্দেশনা দেওয়া যায় না বলেও মনে করেন এই ব্যাংকার।

সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের ব্যাংকগুলো এখনো ঘোষণার চেয়ে বেশি দামে প্রবাসী আয় কেনা অব্যাহত রেখেছে। গত সোমবারও ১২৪ টাকা দরে প্রবাসী আয় কিনেছে কিছু বেসরকারি ব্যাংক। যাদের আমদানি ও বিদেশি ঋণের দায় মেটানোর চাহিদা ছিল, তারাই এভাবে ডলার কিনেছে। যদিও আমদানি দায় মেটাতে ডলারের আনুষ্ঠানিক দাম এখনো ১১১ টাকা।

ব্যাংকগুলোর ঘোষণা অনুযায়ী, প্রবাসী আয় কেনার ক্ষেত্রে ডলারের দাম ১১০ টাকা ৫০ পয়সা। এর সঙ্গে রয়েছে সরকারের আড়াই শতাংশ প্রণোদনা। পাশাপাশি কোনো কোনো ব্যাংক আরও আড়াই শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে। ফলে ডলারের সর্বোচ্চ দাম দাঁড়ায় ১১৬ টাকা। রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী ও অগ্রণী ব্যাংক অতিরিক্ত আড়াই শতাংশ প্রণোদনা দিয়ে প্রবাসী আয় কিনছে। আবার বেসরকারি খাতের কিছু ব্যাংক এই প্রণোদনার পাশাপাশি আরও বেশি দামে প্রবাসী আয় কিনছে।

প্রসঙ্গত, নানা উদ্যোগ নেওয়ার পরও ডলার সংকট কমছে না, বরং বাড়ছে। ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবি ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকের সংগঠন বাফেদা গত ১ সেপ্টেম্বর প্রতি ডলারে ৫০ পয়সা বাড়িয়ে রপ্তানি ও রেমিট্যান্সে ১১০ টাকা ৫০ পয়সায় নির্ধারণ করে। এর সঙ্গে রেমিট্যান্সে ব্যাংকগুলো নিজেদের মতো করে প্রণোদনা দিতে পারবে বলে জানানো হয়। তবে বেশিরভাগ ব্যাংক এ দরে ডলার পাচ্ছে না। এখন ১২২ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত দরে ডলার কিনছে অনেক ব্যাংক।

করোনার পর অর্থনীতিতে বাড়তি চাহিদা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং অর্থপাচার ব্যাপক বেড়ে যাওয়ায় হুন্ডিতে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। এতে করে ডলারের দর হু হু করে বেড়ে গত বছরের মাঝামাঝি ১১৪ টাকায় ওঠে। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যস্ততায় গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ডলারের দর ঠিক করে আসছে ব্যাংকগুলো। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শুরুতে ডলারের দর রেমিট্যান্সে ১০৮ এবং রপ্তানিতে ৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পর্যায়ক্রমে উভয় ক্ষেত্রে ডলার কেনার দর অভিন্ন করা হয়।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ডলারের দর ঠিক করার পাশাপাশি রিজার্ভ থেকে প্রচুর ডলার বিক্রি করে আসছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি অর্থবছর এরই মধ্যে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলারের মতো বিক্রি করা হয়েছে। ফলে ধারাবাহিকভাবে কমছে অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এ সূচকটি।




রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ে ডলারের দাম বাড়ল

আরেক দফা বাড়ল ডলারের দাম। এবার প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে ডলারের দাম ৫০ পয়সা বাড়িয়ে ১০৯ টাকা এবং রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে ডলারের দাম ১ টাকা বাড়িয়ে ১০৮ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার (৩১ জুলাই) বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) ও অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আমদানি নিষ্পত্তিতে ডলারের দাম ৫০ পয়সা বাড়িয়ে ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতি ডলারে ১ টাকা করে লাভ করতে পারলেও ডলারের দাম ১০৯ টাকা ৫০ পয়সার বেশি দরে বিক্রি করতে পারবে না ব্যাংকগুলো।

এর আগে বাফেদা ও এবিবি গত জুনের শেষ দিন আন্তঃব্যাংক ডলারের দাম বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০৯ টাকা নির্ধারণ করেছিল।

রেমিট্যান্সে ডলারের দাম বাড়ানোর ফলে এখন থেকে প্রবাসীরা লাভবান হবেন। এখন থেকে প্রতি ডলারের দাম ১০৯ টাকার সঙ্গে রেমিট্যান্সের বিপরীতে প্রণোদনা ২.৫০ টাকা যোগ করে মোট ১১১ টাকা ৫০ পয়সা পাবেন প্রবাসীরা। বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহী করতে সরকার ২.৫০ শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে।




আবারও বাড়লো রেমিট্যান্স-রপ্তানি আয়ে  ডলারের দাম

রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ে আবারও ডলারের দাম বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রতি ডলারে দাম পাবেন ১০৮ টাকা ৫০ পয়সা। আর রপ্তানিকারকরা রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে প্রতি ডলারের দাম পাবেন ১০৭ টাকা। এতদিন প্রবাসী আয়ে ডলারের দাম ছিল ১০৮ টাকা এবং রপ্তানি আয়ে ছিল ১০৬ টাকা। নতুন এ সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার (১ জুন) থেকে কার্যকর করা হবে।

বুধবার (৩১ মে) ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে জড়িত ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) নেতারা এক সভায় ডলারের দাম আরেক দফা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাফেদা ও এবিবির নেতারা।

গত বছরের মার্চ থেকে দেশে ডলার-সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। মূলত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এ অবস্থা তৈরি হয়। সংকট মোকাবিলায় শুরুতে ডলারের দাম নিয়ন্ত্রণ করতো বাংলাদেশ ব্যাংক।

তবে এতে সংকট কমার পরিবর্তে আরও বেড়ে যায়। গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ায়। দায়িত্ব দেওয়া হয় এবিবি ও বাফেদার ওপর। এরপর থেকে এ দুই সংগঠন মিলে রপ্তানি ও প্রবাসী আয় এবং আমদানি দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে ডলারের দাম নির্ধারণ করছে।




রপ্তানি আয়ে ডলারের দাম বাড়লো

রপ্তানি আয়ে ডলারের দাম এক টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে রপ্তানিকারকরা প্রতি ডলারের বিপরীতে ১০৫ টাকা পাবেন। এতদিন রপ্তানিকারকরা পেতো ১০৪ টাকা। পুন:নির্ধারণ করা ডলারের নতুন দাম ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) যৌথ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাফেদার চেয়ারম্যান এবং সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও মো. আফজাল করিম, এবিবির চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সেলিম আর এফ হোসেনসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা।

সোনালী ব্যাংকের এমডি মো. আফজাল করিম বলেন, যৌথ সভায় রপ্তানি আয়ে ডলারের দাম ১ টাকা বাড়িয়ে পুন:নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন থেকে রপ্তানি আয়ের বিপরীতে প্রতি ডলারে ১০৫ টাকা দেওয়া হবে আর রেমিট্যান্সে আগের মতো ১০৭ টাকা পাবেন।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশে ডলার-সংকট শুরু হয়। সংকট মোকাবিলায় শুরুতে ডলারের দাম বেঁধে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু তাতে ডলারের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে গত বছর সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব দেয় এবিবি ও বাফেদার ওপর। এরপর থেকে আলোচ্য সংগঠন দুটি যৌথভাবে ডলারের দাম নির্ধারণ করে।