টিসিবির কার্যক্রমকে প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে

বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কার্যকর সরকারি নজরদারি নিশ্চিত করতে সরকার একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, “নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা কারসাজি যাতে কার্যকর হতে না পারে, সে লক্ষ্যেই সরকার কৌশলগত মজুত (স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর সরবরাহ, শৃঙ্খলা, পর্যবেক্ষণ এবং টিসিবির সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।”

সোমবার (১১ মে) ঢাকার আগারগাঁওয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা-২০২৬ উপলক্ষ্যে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকসেল কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ভর্তুকিমূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া। এ লক্ষ্যেই টিসিবির মাধ্যমে সারা দেশে নিয়মিতভাবে ভর্তুকিমূল্যে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে এবং বিশেষ উৎসবকে কেন্দ্র করে ট্রাকসেল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গত রমজানে প্রায় ২ কোটি ২৮ লাখ উপকারভোগীর কাছে ভর্তুকিমূল্যে খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ২ কোটি ৮৮ লাখে উন্নীত করা হচ্ছে। একইভাবে গত বছরের ঈদুল আজহায় যেখানে প্রায় ১০ হাজার ৯০০ টন খাদ্যপণ্য সরবরাহ করা হয়েছিল, এবার তা বৃদ্ধি করে প্রায় ১৪ হাজার টনে উন্নীত করা হয়েছে, যা প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।

মন্ত্রী বলেন, “দেশের যে কোনো বিশেষ পরিস্থিতি, উৎসব বা বাজারে অস্বাভাবিক চাপের সময় সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী টিসিবির ট্রাকসেল কার্যক্রম চালু করবে। জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বদা প্রস্তুত।”

তিনি আরও বলেন, পূর্ববর্তী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এক কোটি উপকারভোগীর মধ্যে প্রায় ৫৯ লাখের তথ্য প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে বর্তমানে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে ৮০ লাখ প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ২০ লাখ পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

টিসিবির ডিলার নিয়োগেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “টিসিবির কার্যক্রমকে সম্পূর্ণ প্রশ্নহীন, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হচ্ছে।”

বাজারে কারসাজি প্রতিরোধে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য রাষ্ট্রীয় কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি আমদানি থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে এআই-ভিত্তিক ডিজিটাল পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হবে, যাতে সরকার বাস্তবসম্মত তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

তিনি বলেন, “নিত্যপণ্যের আমদানি মূলধননির্ভর হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই কিছু বড় ব্যবসায়ী এ খাতে সক্রিয় থাকেন। তবে সরকার এমন একটি অংশীদারিত্বভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যাতে আরও বেশি উদ্যোক্তা এই খাতে অংশ নিতে পারেন এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়।”

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “এই সরকার জনগণের পক্ষে বাজার ব্যবস্থায় কার্যকর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের লক্ষ্য—বাজার হবে স্বচ্ছ, স্থিতিশীল এবং কারসাজিমুক্ত।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ। পরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ক্রেতাদের কাছে নায্যমূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।




ট্রাকসেলে তেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ালো টিসিবি

বাজারের উত্তাপ থেকে খানিকটা স্বস্তি দিতেই ভর্তুকি মূল্যে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে পণ্য বিক্রি করে রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। তবে প্রতিষ্ঠানটি এবার ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়েছে। প্রতি লিটার তেলে ১৫ টাকা দাম বাড়িয়ে বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠান।

এর আগে বেসরকারি সরবরাহকারীরা ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়েছে, যা ভোক্তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

 

টিসিবির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে করে পণ্য বিক্রি করবে। পণ্যের তালিকায় রয়েছে, ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল। প্রতি লিটার ভোজ্যতেল ১৩০ টাকা, চিনি প্রতি কেজি ৮০ টাকা এবং মসুর ডাল প্রতি কেজি ৭০ টাকায় বিক্রির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

অথচ গত রোজার আগে টিসিবি প্রতি লিটার ভোজ্যতেল ১১৫ টাকায় বিক্রি করেছে। তবে চিনি ও মসুর ডালের দাম বাড়ায়নি প্রতিষ্ঠানটি।

 

জানা গেছে, টিসিবি প্রতিদিন ঢাকা মহানগরে ৫০টি, চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২০টি, অন্য ছয়টি বিভাগীয় শহর এবং সংশ্লিষ্ট জেলায় প্রতিটিতে ১৫টি করে এবং অবশিষ্ট ৫৬টি জেলায় ১০টি করে মোট ৭২০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করবে। আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া এই বিক্রয় কার্যক্রম চলবে ২১ মে পর্যন্ত।

টিসিবি বলছে, একেকটি ট্রাক থেকে প্রতিদিন নির্ধারিত পরিমাণে ৪০০ জন মানুষ পণ্য কিনতে পারবে। এই সময়ে মোট ২৮ লাখ ৮০ হাজার মানুষের কাছে ১৩ হাজার ৯৩৯ মেট্রিকটন পণ্য বিক্রির কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

একেকজন ক্রেতা ট্রাকসেলের মাধ্যমে একসঙ্গে ২ লিটার ভোজ্যতেল, ১ কেজি চিনি এবং ২ কেজি মসুর ডাল কিনতে পারবে।




টিসিবির জন্য উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য আলাদাভাবে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে৷ তারা টিসিবির কার্যক্রম আরও গতিশীল ও ত্বরান্বিত করতে পদক্ষেপ নেবেন।

সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের চতুর্থ কার্য-অধিবেশন শিল্প মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত আলোচনা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। আমদানি পর্যায় থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে একটি এআই-নির্ভর মডেলের আওতায় এনে সার্বক্ষণিক নজরদারির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। টিসিবির সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে একটি কার্যকর উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে, যা নীতিনির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। আজ জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকেও বিভিন্ন উন্নয়নসংক্রান্ত প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে বন্ধ চিনিকল চালু, নতুন শিল্প এলাকা গড়ে তোলা এবং ডিস্টিলারির পণ্য রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকদের নিজ নিজ এলাকার রুগ্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। এসব শিল্পের সমস্যা চিহ্নিত করে নতুন বিনিয়োগ আনা, আধুনিকায়ন এবং পুনরায় চালুর বিষয়ে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাজার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, উৎপাদক পর্যায় ও খুচরা বাজারের দামের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে, বিশেষ করে কৃষিপণ্যে। গত পাঁচ দশকে এ খাতে সমন্বিত কোনো উদ্যোগ গড়ে ওঠেনি। সরকার এখন একটি সমন্বিত বাজার ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরি করতে যাচ্ছে। সেজন্য আমদানিনির্ভর পণ্যের জন্য একটি ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’ বা কৌশলগত মজুত গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে হঠাৎ সরবরাহ সংকট বা আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলা করা সহজ হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট বা অস্থিরতা কমানো সম্ভব হবে।

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চামড়া সংরক্ষণে বিশেষ উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, যাতে কোনো চামড়া নষ্ট না হয়, সে জন্য সরকারিভাবে লবণ সরবরাহ, প্রশিক্ষণ এবং প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মসজিদ ও মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ঈদের পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চামড়া পরিবহন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বন্ধ মিল চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, বস্ত্র ও পাট খাতের ৫০টি মিল পর্যায়ক্রমে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে অনেকগুলো ইতোমধ্যে হস্তান্তর হয়েছে এবং বাকিগুলোও দ্রুত সম্পন্ন হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে এসব মিল চালু হয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এর আগে, গতকাল রোববার (৪ মে) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চার দিনব্যাপী ডেপুটি কমিশনারদের (ডিসি) সম্মেলন উদ্বোধন করেন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো ডিসি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের সম্মেলনে আলোচনার জন্য ৪৯৮টি প্রস্তাব আলোচনার জন্য বাছাই করা হয়েছে। বাৎসরিক এই সম্মেলনে মাঠ প্রশাসন পরিচালনার বিভিন্ন সমস্যা এবং সম্ভাবনা নিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারকদের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব দেন ডিসিরা। এর বিপরীতে আলোচনার প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত দেয় সরকার।




রোজায় ট্রাকসেলের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করবে টিসিবি

আসন্ন রমজান মাস উপলক্ষে সারা দেশে ট্রাক করে পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।

গত মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, বর্তমানে স্মার্ট কার্ডধারী পরিবারের জন্য ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এর পাশাপাশি রমজান মাসে বিশেষ ট্রাকসেলের মাধ্যমে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়া হবে।

টিসিবি জানায়, রোজায় নিয়মিত পণ্য হিসেবে তেল, ডাল ও চিনির পাশাপাশি ছোলা ও খেজুরও বিক্রি করা হবে। তবে ট্রাকসেলের আওতায় পণ্যের নির্ধারিত পরিমাণ ও মূল্য পরে জানানো হবে।

টিসিবি আরো জানায়, রমজান মাস শুরুর আগের দিন থেকেই ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু হতে পারে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের জন্য রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করার লক্ষ্য নিয়েছে টিসিবি।




টিসিবি’র চেয়ারম্যানের সঙ্গে রূপালী ব্যাংক এমডির সাক্ষাৎ

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রমে অন্যতম সহায়তাকারী সরকারি মালিকানাধীন রূপালী ব্যাংক পিএলসি এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম এবং টিসিবি’র চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছে।

সোমবার (৭ জুলাই) রাজধানীর টিসিবি ভবনে অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় সম্পর্ক জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে টিসিবির পক্ষ থেকে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের বিভাগীয় কার্যালয়, ঢাকা উত্তর এর মহাব্যবস্থাপক শেখ মুনজুর করিম, টিসিবি এর অর্থ ও হিসাব বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. রবিউল মোর্শেদ এবং টিসিবি ভবন কর্পোরেট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও শাখা প্রধান মো. আবুল হোসেন।




টিসিবির ভুয়া কার্ড বাতিল করে নতুন ‘স্মার্টকার্ড’ দেওয়া হবে: খাদ্য উপদেষ্টা

টিসিবির ভুয়া কার্ড বাতিল করে ভোক্তাদের স্মার্টকার্ড দেওয়ার কথা জানিয়েছেন খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। তিনি বলেন, ‘টিসিবির অনেক ভুয়া কার্ড ছিল। এসব ভুয়া কার্ড বাতিল করে নতুন ‘স্মার্টকার্ড’ দেওয়া হবে।’

শনিবার নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় নির্মাণাধীন সাইলো ও নতুন খাদ্যগুদামের নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করতে এসে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্মাণাধীন সাইলো গুদাম পরিদর্শন, কাজের অগ্রগতি যাতে তরান্বিত যাতে করা যায় সংশ্লিষ্ট যারা আছেন তাদের পরামর্শ ও উপদেশ দেয়া হয়েছে। মোটামুটিভাবে আমাদের সাইলো গুদামের নির্মাণ কাজ সমাপ্তির পথে। আমরা সহসাই এটার মধ্যে মালামাল রাখতে পারবো। সারা দেশে এবার আশাতীত বোরো ফসল উৎপাদন হয়েছে। সুতরা আমরা বিভিন্ন জায়গায় যাতে মালামাল রাখতে পারি সেজন্য সাইলোগুলো পরিদর্শন করছি।’

আলী ইমাম মজুমদার বলেন, ‘আমাদের দেশে চালের দাম সহনীয় হয়ে আসছে। তবে চালের দাম একেবারে কমে যাওয়া ঠিক না। কারণ কৃষককেও ন্যায্য দাম দিতে হবে। কৃষক ন্যায্য দাম পেলে তারা উৎপদানে উৎসাহ পাবেন।’

খাদ্য উপদেষ্টা বলেন, আমাদের দেশে গমের চাহিদা ৭০ লাখ টন। এরমধ্যে উৎপাদন হয় ১০ লাখ টন। বাকি ৬০ লাখ টন গম আমদানি করতে হয়। এরমধ্যে বেশির ভাগ আমদানিকারকই বেসরকারি।

তিনি বলেন, ‘এবার বোরোর ভাল ফলন হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা একটা ভালো মজুদ গড়ে তুলতে পারব। বোরোর সঙ্গে অন্য ফসলের উৎপাদন ভাল হলে সরকারের যে খাদ্য বিষয়ক কর্মসূচি রয়েছে তার সুবিধাভোগীর সংখ্যাও বাড়ানো যাবে।’

এসময় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আলমগীর হোসেন, বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান, বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলামসহ খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




প্রতি লিটার ১৬২.১৯ টাকা দরে পাম অয়েল কিনবে সরকার

দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ফ্যামিলি কার্ডধারীদের মাঝে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য দুই কোটি ২০ লাখ লিটার পরিশোধিত পাম অয়েল কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র (জাতীয়) পদ্ধতিতে এই তেল কেনা হবে। প্রতি লিটারের দাম ধরা হচ্ছে ১৬২ টাকা ১৯ পয়সা। এতে দুই কোটি ২০ লাখ লিটার পাম অয়েল কিনতে মোট ব্যয় হবে ৩৫৬ কোটি ৮১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি অনুমোদন দিলে শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে এই ভোজ্যতেল কেনা হবে। কমিটির পরবর্তী বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাম অয়েল কেনার প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা টিসিবির ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনায় ভোজ্যতেল কেনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ২৮ কোটি লিটার। এরমধ্যে ১৫ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার লিটার কেনার চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। মোট চাহিদার অংশ হিসেবে আরও দুই কোটি ২০ লাখ লিটার পরিশোধিত পাম অয়েল কেনার উদ্যোগ নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতির অধীন স্থানীয় ক্রয়ের ক্ষেত্রে পণ্য সরবরাহ, কার্যসম্পাদন বা ভৌত সেবার জন্য বিজ্ঞাপন পত্রিকায় প্রকাশের তারিখ থেকে দরপত্র প্রণয়ন ও দাখিলের জন্য ন্যূনতম ২৮ দিন সময় ধার্য থাকলেও পিপিআর-২০০৮ এর বিধি ৬১ (৫) অনুযায়ী অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির গত ৪ জুন তারিখের সভায় টিসিবির জন্য স্থানীয় দরপত্র আহ্বানের ক্ষেত্রে দরপত্র প্রণয়ন ও দাখিলের সময়সীমা ২৮ দিনের পরিবর্তে ১৪ দিন করার সিদ্ধান্ত হয়।

স্থানীয়ভাবে দুই কোটি ২০ লাখ লিটার পরিশোধিত পাম অয়েল কেনার জন্য পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮ অনুসরণ করে গত ১৩ জানুয়ারি উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রের বিপরীতে আংশিক অর্থাৎ সর্বনিম্ন ৫৫ লাখ লিটারের প্রস্তাব দাখিলের সুযোগ রাখা হয়। দরপত্র দাখিলের সর্বশেষ সময় ২৬ জানুয়ারি এবং দরপত্র উন্মুক্তকরণের সময় ২৭ জানুয়ারি বেলা ১২টা পর্যন্ত ধার্য ছিল।

কিন্তু কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে দরপত্র দাখিলের সর্বশেষ সময় ২ ফেব্রুয়ারি এবং দরপত্র উন্মুক্তকরণের সময় ৩ ফেব্রুয়ারি পুনঃনির্ধারণ করে। পরবর্তীসময়ে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বৈধতার মেয়াদ ১৪ মে তারিখ পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

দরপত্র উন্মুক্তকরণ কমিটি ৩ ফেব্রুয়ারি প্রাপ্ত দরপত্র উন্মুক্ত করে একটি দরপত্র পায়। দরদাতা প্রতিষ্ঠান শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড তাদের প্রস্তাবে ২ লিটারের পেট বোতলে ১ কোটি ১০ লাখ লিটার পাম অয়েল প্রতি লিটারের দাম ১৬২.১৯ টাকা দরে সরবরাহের প্রস্তাব করে। যার দাপ্তরিক প্রাক্কলিত দর ছিল ১৭৪ টাকা ৬৩ পয়সা । অর্থাৎ প্রস্তুতি দাম প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ১২ টাকা ৪৪ পয়সা কম।

দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভা ৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। মূল্যায়ন কমিটি প্রাপ্ত একটি দরপত্র, তুলনামূলক বিবরণী এবং সংযুক্ত দাখিল করা কাগজ পর্যালোচনা করেন। পর্যালোচনা শেষে, দাখিল করা দরপত্রটি রেসপনসিভ হিসেবে বিবেচিত হয়। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি প্রাপ্ত প্রস্তাবিত দরের বিষয়ে আলোচনা করেন।

আলোচনা শেষে, পিপিআর ২০০৮ এর বিধি ৯৯ (জ) অনুযায়ী রেসপনসিভ দরদাতা শবনম ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের দরপত্রে প্রস্তাবিত ১ কোটি ১০ লিটার পাম অলিন এর সঙ্গে প্রতি লিটার ১৬২ টাকা ১৯ পয়সা দরে অবশিষ্ট ১ কোটি ১০ লাখ লিটারসহ সম্পূর্ণ পরিমাণ অর্থাৎ ২ কোটি ২০ লাখ লিটার পাম অয়েল সরবরাহ করার জন্য সম্মতি চাওয়া হলে প্রতিষ্ঠানটি অবশিষ্ট পরিমাণ পাম অয়েল সরবরাহে সম্মতি প্রকাশ করে এবং লিখিতভাবে জানায়।

দরপত্রে প্রস্তাবিত ১ কোটি ১০ লাখ লিটারের সঙ্গে অবশিষ্ট ১ কোটি ১০ লাখ লিটারসহ সর্বমোট ২ কোটি ২০ লাখ লিটার বোতলজাত পরিশোধিত পাম অয়েল ২ লিটার পেট বোতলে প্রতি লিটার অগ্রিম আয়কর, প্রযোজ্য মূসক ও টিসিবির গুদামে পরিবহন খরচসহ ১৬২ টাকা ১৯ পয়সা দরে মোট ৩৫৬ কোটি ৮১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় কেনার সুপারিশ করে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি।

সূত্র জানায়, এই পাম অয়েল মে মাসে গ্রহণ করা হবে এবং টিসিবির বিক্রয় কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে এই সময়ে মজুত বিবেচনায় ভোজ্যতেলের প্রয়োজনীয়তা থাকায় দরপত্র মূল্যায়ণ কমিটির সব সদস্য ক্রয়ের বিষয়ে একমত পোষণ করেন।




বুধবার থেকে শুরু হবে ৬৪ জেলায় টিসিবির ট্রাকসেলে পণ্য বিক্রি

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সুবিধা নিশ্চিত করতে আগামী বুধবার (৪ মার্চ) থেকে ৬৪ জেলায় ট্রাকসেলের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হবে।

রোববার (২ মার্চ) স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য বিক্রয় সংক্রান্ত এক ভার্চুয়াল সভায় জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে একথা বলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, এক কোটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে টিসিবির পণ্য পৌঁছে দিতে চাই। প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচনে জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা রাখতে হবে। চলতি মাসের ১৭ তারিখের মধ্যে সব উপকারভোগীর স্মার্ট কার্ড পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসকদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে উপদেষ্টা বলেন, ৫৭ লাখ উপকারভোগী স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে পণ্য পাবে। যাদের এখনও স্মার্ট কার্ডের কার্যক্রম শেষ হয়নি কিন্তু তালিকায় নাম আছে তারাও পণ্য পাবে। এছাড়া ৬৪ জেলায় ট্রাকসেলের মাধ্যমে সর্বসাধারণের মাঝে আগামী ৫ মার্চ থেকে পণ্য বিক্রি করা হবে।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, রমজানে কেউ যাতে মজুতদারি করতে না পারে জেলা প্রশাসকদের সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। একই সঙ্গে ভোক্তারা যেন পুরো মাসের বাজার না করে সে বিষয়ে অনুপ্রাণিত করতে হবে। একসঙ্গে পুরো মাস বা সাত দিনের পণ্য কিনলে সরবরাহ সংকটে কেউ কেউ দাম বাড়িয়ে দেয়।

তিনি বলেন, আমরা ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে চাই। কারো প্রতি জুলুম করা হবে না, তবে কেউ জুলুম করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। এসময় অন্যায় প্রতিরোধে জেলা প্রশাসকদের সর্বশক্তি প্রয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার একদম প্রাথমিক ধাপ টিসিবি’র মতো সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপকারভোগী নির্বাচন করা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা নিশ্চিত করতে পারলে মানুষের মধ্যে আপনাদের (জেলা প্রশাসক) গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। মানুষ আপনাদের ইজ্জত (সম্মান) দিবে বলে যোগ করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা।

এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আব্দুর রহিম খান, ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) চেয়ারম্যান বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদসহ বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।




দুর্নীতির কারণে টিসিবির ৩৭ লাখ কার্ড বাতিল : বাণিজ্য উপদেষ্টা

টিসিবির এক কোটি কার্ডের মধ্যে প্রচুর দুর্নীতি ছিল। ফলে টিসিবির ৩৭ লাখ কার্ড বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

তিনি বলেন, এনআইডি ব্যবহার করে দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে এই কাজটা করেছে। এজন্য এক কোটি কার্ডের মধ্যে ৩৭ লাখ কার্ড নেই। যারা ডুপ্লিকেট ছিল তাদেরকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ড. ওমর বোলাটের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, টিসিবি দিয়ে যে চাল বিক্রি করা হয়, সেটি আমরা পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার করছি। আমরা বাজারে চাল সরবরাহ বাড়িয়েছি। ৫০ লাখ পরিবারকে (খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি) কম দামে চাল দেওয়া হয়, সেটা শুরু হচ্ছে। টিসিবির স্মার্ট কার্ডধারী ৬৩ লাখ পরিবারকে এ সপ্তাহ থেকেই টিসিবি চাল দেওয়া শুরু করবে।

এক কোটি বলা হলেও ৬৩ লাখ পরিবারকে কেন স্মার্ট কার্ডের আওতায় পণ্য দেওয়া হচ্ছে- এ বিষয়ে উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, এক কোটি কার্ডের মধ্যে প্রচুর দুর্নীতি ছিল। একই পরিবারে একাধিক কার্ড ছিল। এনআইডি ব্যবহার করে দুর্বৃত্তায়নের মাধ্যমে এই কাজটা করেছে। এক কোটির মধ্যে যে ৩৭ লাখ কার্ড নেই। যারা ছিল, যারা সঠিক প্রাপক, তাদের কাছেই পণ্য পাঠানো হচ্ছে। যারা বেঠিক ছিল, ডুপ্লিকেশন ছিল তাদেরকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা আরও ৩৭ লাখ কার্ড বাড়াতে চাই। ক্রয় এবং বিপণনে স্বচ্ছতা আনার মাধ্যমে যদি এটা এক কোটি থেকেও বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়, আমরা সেটাও করব।




টিসিবির নতুন চেয়ারম্যান ফয়সাল আজাদ

সরকারি বাণিজ্য সংস্থার ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সাল আজাদ।

প্রেষণে তাকে এ নিয়োগ দিয়ে তার চাকরি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করে গত ১৮ ডিসেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

অন্যদিকে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোস্তফা ইকবালকে সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এজন্য তার চাকরি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।




ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্য পাবেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর ফ্যামিলি কার্ডধারী এক কোটি পরিবারের বাইরে আরো ১০ লাখ গার্মেন্টস শ্রমিক পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই কার্যক্রম চালাতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।

এই অনুমোদনের ফলে টিসিবির আগামী পণ্য বিক্রির কার্যক্রমে গার্মেন্টস শ্রমিকরাও যুক্ত হবেন বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

বুধবার (২৭ নভেম্বর) অর্থ উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে গার্মেন্টস শ্রমিক পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে অর্থ উপদেষ্টাকে প্রশ্ন করা হয়, ১০ লাখ গার্মেন্টস শ্রমিক পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রির একটি প্রস্তাব অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি ওঠার কথা ছিল। এর উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ওটা আমরা অনুমোদন দিয়েছি। টিসিবি ওটা করবে। টিসিবির রেগুলোর যে প্রোগ্রাম আছে ১ কোটি পরিবারের জন্য, ওরা বোধ হয় ওখান থেকে সংস্থান করতে পারবে।

কবে নাগাদ গার্মেন্টস শ্রমিকদের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু হবে? সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, টিসিবি যখনি বিক্রি কার্যক্রম শুরু করবে, এটা করব। টিসিবির পরবর্তী বিক্রি কার্যক্রমের মধ্যে গার্মেন্টস শ্রমিকরা সংযুক্ত থাকবেন। এটা ঢাকার আশপাশের বিশেষ এলাকার জন্য।

এদিকে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নিম্নআয়ের মানুষকে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য ক্রয়ের সুযোগ দিতে টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী এক কোটি পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল, মসুর ডাল ও চিনি বিক্রি করছেন সরকার। সেই সঙ্গে খাদ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে ৫ কেজি চাল বিক্রির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এতে নিম্নআয়ের জনগণ সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য ক্রয় করতে সক্ষম হচ্ছে।

সূত্রটি জানিয়েছে, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবের ডিও’র ভিত্তিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী টঙ্গী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, আশুলিয়া, সাভারসহ ঢাকার কাছাকাছি শিল্পগুলোর গার্মেন্টস শ্রমিকদের মধ্যে টিসিবির নির্ধারিত পণ্য ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এজন্য টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী এক কোটি উপকারভোগী পরিবারের অতিরিক্ত হিসেবে আরও ১০ লাখ গার্মেন্টস শ্রমিক পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির মাধ্যমে পণ্য বিক্রির বিষয়টি নীতিগত অনুমোদনের জন্য অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি আলোচনার মাধ্যমে এটির অনুমোদন দিয়েছে।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ১০ লাখ গার্মেন্টস শ্রমিকদের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে চিনি, ভোজ্যতেল ও মসুর ডাল বিক্রি বাবদ মাসিক সম্ভাব্য ব্যয় হবে ৩১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। আর প্রতি মাসে খাদ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার টন চালের প্রয়োজন হবে।




৪০ টাকায় আলু বিক্রি করবে টিসিবি

বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে ৪০ টাকা কেজি ধরে আলু বিক্রি করবে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। একজন সর্বোচ্চ তিন কেজি আলু কিনতে পারবে। বুধবার (২০ নভেম্বর) এ কার্যক্রম শুরু হবে বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) টিসিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সার্বিক নির্দেশনায় নিম্ন আয়ের এক কোটি উপকারভোগী কার্ডধারী পরিবারের মাঝে ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্যাদি (ভোজ্য তেল ও ডাল) সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এই কার্যক্রমের পাশাপাশি সাধারণ ভোক্তার কাছে ঢাকা মহানগরীতে ৫০টি ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২০টি ট্রাকের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে টিসিবি পণ্যাদি তেল, ডাল ও খাদ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরবরাহকৃত চাল বিক্রি করা হচ্ছে।

এ কার্যক্রমের সঙ্গে বুধবার থেকে ঢাকা মহানগরীতে ভোক্তাদের জন্য জনপ্রতি ৩ কেজি করে আলু বিক্রি করা হবে। প্রতি কেজি আলুর দাম পড়বে ৪০ টাকা।

এছাড়া প্রতি লিটার ভোজ্য তেল ১০০ টাকা, প্রতি কেজি মসুর ডাল ৬০ টাকা ও প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকায় কেনা যাবে। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ২ লিটার তেল, ২ কেজি মসুর ডাল ও ৫ কেজি চাল কিনতে পারবেন।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় টিসিবি ভবন কারওয়ান বাজার থেকে আলু বিক্রয় কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।




এখন থেকে ফ্যামিলি কার্ড ছাড়াও মিলবে টিসিবির পণ্য

এখন থেকে কার্ডধারীদের পাশাপাশি কার্ড ছাড়াও টিসিবির নির্ধারিত পয়েন্টে ট্রাকসেল থেকে পণ্য কিনতে পারবেন ভোক্তারা।

বুধবার টিসিবির তথ্য কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সার্বিক নির্দেশনায় নিন্ম আয়ের এক কোটি উপকারভোগী কার্ডধারী পরিবারের মধ্যে সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির পণ্যাদি বিক্রয় কার্যক্রমের পাশাপাশি সাধারণ ভোক্তার কাছে ঢাকা মহানগরীতে ৫০টি ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২০টি ট্রাকের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হবে।

এই কার্যক্রম ২৪ অক্টোবর হতে ৩১ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। তবে মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে না আসলে পরবর্তীতে কার্যক্রম বাড়ানো হতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় দক্ষিণ বেগুনবাড়ি (দীপিকার মোড়), তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।




ঘুষ ও দুর্নীতি : পল্লী বিদ্যুতের ৫ কর্মকর্তাকে দুদকে তলব

শত কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও ঘুষ দাবিসহ বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজারসহ ৫ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অনুসন্ধানে ১৭ অক্টোবর পাঠানো নোটিশে তাদের আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে।

তলবকৃতদের মধ্যে বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আসাদুজ্জামান ভূইয়াকে ২৭ অক্টোবর এবং মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (কারিগরি) সামিউল কবীর ও বিপাশা ইসলাম এবং মুন্সিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ই অ্যান্ডসি) রাজন কুমার দাসকে ২৮ অক্টোবর দুদকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা যায়, পল্লী বিদ্যুতের একজন ঠিকাদারের কাজ শেষে ঘুষ না দেওয়ায় বিল থেকে জরিমানা হিসেবে টাকা কেটে রাখাসহ একাধিক দুর্নীতির বিষয় নিয়ে অভিযোগ জমা পড়ে। যা পল্লী বিদ্যুৎ থেকেও প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলে। এরপর যা দুদকে পাঠানো হলে যাচাই বাছাই শেষে তা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

এছাড়া অপর আর একটি অভিযোগে দেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে পল্লী বিদ্যুতের সমন্বয়কদের মাধ্যমে ২২৫ কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৪৫ হাজার কর্মকর্তা কর্মচারীর থেকে এই অর্থ সংগ্রহ হয়েছে। ওই টাকা ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করা হয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে। এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।

অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের সহকারী পরিচালক সহিদুর রহমানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়েছে। দলের অন্য দুই সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক পাপন কুমার সাহা ও উপসহকারী পরিচালক মো. শাহজালাল।




মধ্যবিত্তের জন্য হচ্ছে টিসিবির স্থায়ী দোকান

আগামী অর্থবছর থেকে স্থায়ী দোকানের মাধ্যমে টিসিবির পণ্য সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। পাশাপাশি সেসব স্থায়ী দোকানে নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্তদেরও ন্যায্যমূল্যে টিসিবির পণ্য সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

রোববার (২ জুন) চলতি বছরের জুন মাসের টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা জানান।

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা আর অস্থায়ীভাবে টিসিবির পণ্য দিতে চাই না। আগামী অর্থবছর থেকে স্থায়ী দোকানের মাধ্যমে এই পণ্যগুলো দিতে চাই। সুবিধাভোগীরা যেন সময়মতো পণ্যগুলো নিতে পারে। এই প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। ডিলারদের অনুরোধ করবো, আপনারাও এই ব্যবস্থা করুন।

তিনি আরো বলেন, আগামী অর্থবছরে আমরা টিসিবির একটি বাফার স্টক তৈরি করার চেষ্টা করব। যাতে বিভিন্ন সময়ে বাজারে পণ্যের ঘাটতি দেখা দিলেও আমরা যেন দামটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি। সেই বাফার স্টক থেকে পণ্য সরবরাহ করতে পারি। এজন্য আমরা রাশিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছি। আরো কয়েকটি দেশের সঙ্গে চুক্তি করার চেষ্টা করছি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের যদি দোকান স্থায়ী হয়ে যায়, তাহলে প্রায় ১০ হাজারের মতো নেটওয়ার্ক তৈরি হবে। এখন আমরা শুধু নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের ন্যায্যমূল্যে পণ্য দিচ্ছি। মধ্যবিত্তদেরও যেন আমরা ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ করতে পারি, সেই পরিকল্পনা আছে।

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, প্রতি মাসেই আমাদের চেষ্টা থাকে যত তাড়াতাড়ি টিসিবির পণ্যটি সুবিধাভোগীর হাতে তুলে দিতে পারি। জুন মাসে প্রথম কর্ম দিবসেই টিসিবি এই কার্যক্রমটি শুরু করতে পেরেছে। এজন্য টিসিবির চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাই। এক কোটি পরিবারকে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দেওয়ার এই কর্মযজ্ঞটা অনেক বড়।

তিনি আরো বলেন, সামনে কোরবানির ঈদ। ঈদের আগেই সারা দেশে প্রতিটি সুবিধাভোগীর হাতে টিসিবির এই প্যাকেজটি আমরা তুলে দিতে চাই।

তিনি আরো বলেন, এক কোটি পরিবার যখন এই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো পায়, তখন চিনি, চাল, ডাল ও তেলের বাজারের চাহিদাও কিছুটা পূরণ হয়। এর মাধ্যমে আমরা যেমন এক কোটি পরিবারকে ভর্তুকি মূল্যে চারটি পণ্য দিচ্ছি, তেমনি বাজারে দ্রব্যমূল্যের চাপও নিয়ন্ত্রণ করছি। এই একটি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দুইটি উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে। এতে শুধু সুবিধাভোগী পরিবারই সুবিধা পাচ্ছে না, বাজারের চাপও কমছে।

এই মৌসুমে খুব ভালো ধানের ফলন হয়েছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, আমাদের খাদ্য বিভাগ ধান ও চাল সংগ্রহ করছে। আশা করি, আমরা চালের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারব।

প্রসঙ্গত, জুন মাসে টিসিবির মাধ্যমে সারা দেশে এক কোটি সুবিধাভোগী পরিবারকে ৩০ টাকা দরে পাঁচ কেজি চাল, ১০০ টাকা দরে দুই লিটার সয়াবিন তেল, ৬০ টাকা দরে দুই কেজি মশুর ডাল ও ঢাকায় ৭০ টাকা দরে এক কেজি চিনি দেওয়া হবে। প্রতি প্যাকেজের মূল্য ৫৪০ টাকা।




রপ্তানি নীতিমালার খসড়া অনুমোদন

রপ্তানি নীতিমালা ২০২৪-২০২৭ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। একই সঙ্গে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কর্তৃক রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী আমদানি বা স্থানীয়ভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ক্রয়ের সময়সীমা ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানো অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।

বুধবার (১৫ মে) অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত অর্থমন্ত্রী ভার্চুয়ালি এ বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকে শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব মো. মাহমুদুল হোসাইন খান জানান, টিসিবির মাধ্যমে জরুরি প্রয়োজনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী আমদানি বা স্থানীয়ভাবে ক্রয়ের ক্ষেত্রে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ এর ৬৮(১) ধরার আওতায় এবং একই আইনের ৩২ ধারায় উল্লেখ করা ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণে পণ্যসামগ্রী সংগ্রহের মেয়াদ চলতি বছরের ২৬ মে শেষ হয়ে যাবে। এ জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এ মেয়াদ ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।

রপ্তানি নীতি ২০২৪-২৭ এর বিষয়ে সচিব জানান, রপ্তানি নীতি ২০২৪-২৭ অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এটা পরে মন্ত্রিসভার বৈঠকে যাবে অনুমোদনের জন্য।

এ রপ্তানি নীতির প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তিনি জানান, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জগুলো, কোভিড-১৯, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা দেওয়া, রপ্তানি খাতে নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো, পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক কৌশল নেওয়া।

মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, রপ্তানিকারকদের উৎসাহিত করার জন্য আর্থিক প্রণোদনার বিকল্প পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ২০২৪-২০২৭ মেয়াদে ১১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রপ্তানি প্রক্রিয়ায় অনুসরণ করা বিভিন্ন ধাপ এখানে (রপ্তানি নীতি) অন্তুর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া খাতের সম্ভাবনাময় নতুন কিছু পণ্য ও সেবা যেমন- সবজি, হস্ত ও কারু পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ উন্নয়নমূলক খাতে স্পিনিং, ফেব্রিক্স, ম্যানুফ্যাকচারিং, ডাইং, প্রিন্টিং অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ওষুধশিল্প ও মেডিকেল ইকুইপমেন্ট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বর্ষ পণ্য হস্তশিল্পকে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সচিব বলেন, রপ্তানি নিষিদ্ধ পণ্য তালিকা এবং শর্তসাপেক্ষে রপ্তানি পণ্য তালিকা হালনাগাদ ও এইচএস কোডের হেডিংসহ উল্লেখ করা হয়েছে। রপ্তানি সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন কমিটি ও রপ্তানি সংক্রান্ত কারিগরি কমিটির গঠন ও কার্যপরিধি সন্নিবেশিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, রপ্তানি খাতের চাহিদা এবং বিশ্ববাণিজ্য পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সামঞ্জস্য নীতি প্রণয়নের লক্ষ্যে প্রতি তিন বছর অন্তর রপ্তানি নীতি প্রণয়ন করা হয়। বিদ্যমান রপ্তানি নীতি ২০২১-২০২৪ এর মেয়াদ আগামী ৩০ জুন শেষ হবে। এ ধারাবাহিকতায় রপ্তানি নীতি ২০২৪-২০২৭ এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।




ন্যায্যমূল্যে মানুষের কাছে পণ্য পৌঁছাতে কাজ করছে টিসিবি

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেছেন, শুধু ভর্তুকি দিয়ে নয়, প্রতিটি পণ্য যেন ন্যায্যমূল্যে মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে সেজন্য টিসিবি কাজ করছে।

মঙ্গলবার (৭ মে) রাজধানীর বারিধারা এলাকায় টিসিবি পণ্য বিক্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনে কূটনীতিকরা থাকেন। আমাদের দেশের সম্মান কিন্তু নির্ভর করে এই ডিপ্লোমেটদের কীভাবে রাখছি তার ওপর। বড় বড় দূতাবাস এখানে। পুলিশ বক্সের পয়েন্টের পাশে রিকশা ঘোরানোর জন্য ডিপ্লোমেটদের ১০-১৫ মিনিট যানজটে থাকতে হয়। চাইলে এই চলাচলটা খুব সহজ করে দেওয়া যায়। আমি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এটা দেখতে বলব।

তিনি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যেন মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে এটাই ছিল টিসিবির উদ্দেশ্য। আমি নিজেও ছোটবেলায় রেশন কার্ড নিয়ে ন্যায্যমূল্যের দোকানে যেতাম, বিভিন্ন জিনিস আমরা সেখান থেকে এনেছি। কারণ যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে নিজস্ব উৎপাদিত অনেক পণ্য ছিল না। টিসিবির মাধ্যমে এটা আসত।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সরকার ক্ষমতায় ছিল। বিশেষ করে সামরিক সরকার ক্ষমতায় থেকে টিসিবিকে একেবারে ভঙ্গুর অবস্থায় নিয়ে গিয়েছিল। সেই টিসিবিকে আবার ঘুরে দাঁড় করাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু ভর্তুকি দিয়ে নয়, প্রতিটি জিনিস যেন ন্যায্যমূল্যে মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারি সেজন্য টিসিবি কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সবাই যখন নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত ছিল, তখন ডলার সংকটের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাড়ে ১৩ লাখ টন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করে দিয়েছিলেন। কারণ তিনি জানতেন ভোটের পরেই রমজান আসছে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি আমাকে বলেছিলেন, তোমার চিন্তা করার দরকার নেই। যথেষ্ট খাদ্যপণ্য আছে। কিন্তু এটার ব্যবস্থাপনা যেন সুষ্ঠু হয় সেদিকে খেয়াল রাখবে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ঠিক রাখতে পারলে কেউ কারসাজি করতে পারবে না বলে আমি বিশ্বাস করি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এক কোটি পরিবার প্রায় ৪-৫ কোটি লোক, এই তালিকাটা একটু সংশোধন করা দরকার। কারণ প্রত্যেক জায়গায় কিছু লোক মারা গেছেন, কিছু লোক স্থান পরিবর্তন করে অন্য জায়গায় চলে গেছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বলব আপনারা তালিকা সংশোধন করে যারা পাওয়ারযোগ্য তাদেরকে রাখবেন।

আগামীতে টিসিবির পণ্যের সংখ্যা বাড়ানোর চিন্তা রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রমজানের সময় ভারতে যখন পেঁয়াজ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা ছিল তখন ট্রেনে পেঁয়াজ এনে ঈদের আগে দিতে সক্ষম হয়েছি। এজন্য অনেক কাজ করতে হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষ যেন ন্যায্যমূল্যে পণ্য পায়।

এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।




অনেক ঝুঁকি নিয়ে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে : বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেছেন, পেঁয়াজ আনা-নেওয়ার বিষয়ে আমাদের ঝুঁকি নিতে হয়েছে। পেঁয়াজ আনা, দরদাম ঠিক করা প্রত্যেকটা জিনিসই কিন্তু আমরা নিজেরা বসে করেছি। পেঁয়াজের দাম যদি হঠাৎ করে কমে যেত, সেটার কিন্তু একটা সম্ভাবনা ছিল। তারপরও আমরা ঝুঁকিটা নিয়েছি। এই ঝুঁকি সাধারণ মানুষের জন্য সুফল বয়ে আনবে।

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে টিসিবি ভবনের সামনে ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, এই একই পেঁয়াজ ভারত সরকার আবুধাবিতে ১২০০ ডলারে বিক্রি করছে। আমরা সেখানে ৮০০ ডলারে নিয়ে এসেছি। আমরা অনেক নেগোশিয়েট করেছি। কারণ তারা যে দাম ধরিয়ে দিয়েছিল সেই দামে আমরা ভর্তুকি দিয়ে বাজারে পেঁয়াজ ছাড়তে পারব না। আমাদের সিনিয়র বাণিজ্য সচিব অনেক পরিশ্রম করেছেন। সঙ্গে ছিলেন টিসিবির টিম।

 

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি পেঁয়াজের মান নিয়ে সন্তুষ্ট। অন্তত এই পেঁয়াজ ১৫ দিন সংরক্ষণ করে বাজারে বিক্রি করা যায়। আমরা এই পেঁয়াজের দাম ৪০ টাকা নির্ধারণ করেছি। এখন আমাদের একটা অভিজ্ঞতা হলো। বাকি পেঁয়াজগুলো আনতে আমাদের কোনো সমস্যা হবে না। এর মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি কত সময়ে আমরা পেঁয়াজগুলো ভারত থেকে আনতে পারব।

তিনি বলেন, এখন ১৬৫০ টন পেঁয়াজ এসেছে। বাকি পেঁয়াজগুলো ধীরে ধীরে চলে আসবে। আমরা চাই না আমাদের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হোক। ভারতের বাইরে আমাদের পেঁয়াজের জায়গা হচ্ছে মিশর ও তুর্কি। সেখান থেকে জাহাজে পেঁয়াজে আনতে হয় এবং এটা আনতে অনেক সময় লাগে। ভারতে নির্বাচন চলছে। তাদের ওখানে কৃষক আন্দোলন চলছে। এরপরও কিন্তু তারা তাদের কমিটমেন্ট রেখেছে। বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র হিসেবে তারা তাদের কথা রেখেছে। তাদের ট্রেন আমাদের সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত এসে পেঁয়াজ দিয়ে গেছে।

এসময় আরও বক্তব্য দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, ভোক্তা অধিদপ্তর মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান, ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামীম হাসান প্রমুখ।




টিসিবি কার্ডধারীদের তালিকা হালনাগাদ হচ্ছে: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেছেন, দেশব্যাপী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে টিসিবি কার্ডধারীদের তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। আর যাতে মানুষকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনতে না হয়, সে জন্য আগামীতে টিসিবি ডিলারশিপ স্থায়ী করা হবে। কার্ডধারীরা সুবিধাজনক সময়ে এসে পণ্য নিতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার পলিটেকনিক মাঠে ‘দেশব্যাপী এক কোটি ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের মাঝে টিসিবি পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম-মার্চ’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের দিন, যে ভাষণে বঙ্গবন্ধু জাতিকে স্বাধীনতা সংগ্রামের দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। জাতির পিতার ভাষণটি আজ বিশ্বের ঐতিহাসিক দলিল।’

চিনির প্রসঙ্গে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে আহসানুল ইসলাম বলেন, ‘টিসিবির চিনি আগের দামে বিক্রি হবে, দাম বাড়ানো হবে না। চিনির পর্যাপ্ত মজুদ আছে। বাজারে চিনির কোনও সংকট হবে না।’

এ সময় ছিলেন ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) চেয়ারম্যান বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসান, টিসিবির অতিরিক্ত পরিচালক আবুল হাসনাত চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টরা ব্যক্তিরা।




ঘোষণার পরদিনই চিনির বাড়তি দাম বাতিল করলো টিসিবি

প্রতিকেজি চিনির দাম একলাফে ৩০ টাকা বাড়িয়ে ১০০ টাকা নির্ধারণ করে বুধবার (৬ মার্চ) বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ করেছিল ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।

ঘোষণার একদিন পরই বৃহস্পতিবার (৭ মার্চ) এ দাম বাতিল করে আগের দাম পুনর্বহালের কথা জানালো সংস্থাটি।

এর আগে ফ্যামিলি কার্ডধারীদের কাছে ৭০ টাকা কেজি দরে চিনি বিক্রি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আর গত রমজানে প্রতিকেজি চিনির দাম ছিল আরও ১০ টাকা কম, প্রতিকেজি ৬০ টাকা।

এ বিষয়ে টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির বলেন, চিনির নতুন নির্ধারিত দাম বাতিল করে আগের দাম পুনর্বহাল রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এখন প্রতিকেজি চিনি ৭০ টাকা কেজি দরে কিনতে পারবেন ক্রেতারা।

এদিকে চিনির দাম বাড়িয়ে মার্চ মাসের মাসিক কর্মসূচি এবং পবিত্র রমজানের বিক্রি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ থেকে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি শুরু করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ দফায় একজন ফ্যামিলি কার্ডধারী ভোক্তা সর্বোচ্চ দুই লিটার সয়াবিন তেল, দুই কেজি মসুর ডাল এক কেজি চিনি ও এক কেজি খেজুর কিনতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম রাখা হবে ১০০ টাকা, প্রতিকেজি চিনি ১০০ টাকা ও মসুর ডাল ৬০ টাকা, খেজুর ১৫০ টাকা ও চাল ৩০ টাকায় বিক্রি করবে টিসিবি।

টিসিবি বলছে, সিটি করপোরেশন, জেলা-উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় নির্ধারিত তারিখ ও সময় অনুযায়ী পরিবেশকেরা এ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এসময়ে নিজ নিজ এলাকার পরিবেশকদের দোকান বা নির্ধারিত জায়গা থেকে পণ্য নিতে পারবেন পরিবার কার্ডধারীরা।

জানা গেছে, রমজান উপলক্ষে দ্বিতীয় পর্বের বিক্রয় কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম (টিটু)। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের তিব্বত মোড়ের পূর্ব কলোনী বাজার সংলগ্ন পলিটেকনিক মাঠে এ উদ্বোধন অনুষ্ঠান হবে।




টিসিবির জন্য ২৪৬ কোটি টাকার তেল-ডাল কিনছে সরকার

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ- টিসিবির মাধ্যমে বিক্রির লক্ষ্যে ২৪৬ কোটি ৫ লাখ টাকার ভোজ্যতেল এবং মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ১০৪ কোটি টাকার মসুর ডাল এবং ১৪২ কোটি ৫ লাখ টাকার ভোজ্যতেল কেনা হবে।

এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা হয়। সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে সভার সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান।

তিনি জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ৪০ লাখ লিটার রাইস ব্রান অয়েল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই তেল কিনতে খরচ হবে ৬৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। প্রতি লিটারের দাম পড়বে ১৫৮ টাকা ৫০ পয়াসা। আগের মূল্য ছিলো ১৫৬ টাকা ২৫ পয়সা। মজুমদার প্রডাক্টস লিমিটেড এবং মজুমদার রাইস ব্রান অয়েল লিমিটেড থেকে এই তেল কেনা হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রস্তাবর পরিপ্রেক্ষিতে ৫০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার প্রস্তাব অনুমোনদ দেওয়া হয়েছে। বসুন্ধরা মাল্টি ফুড প্রডাক্টস লিমিটেড থেকে এই তেল কিনতে মোট খরচ হবে ৭৮ কোট ৬১ লাখ টাকা। প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম পড়বে ১৫৭ টাকা ২২ পয়সা। আগের মূল্য ছিল ১৫৪ টাকা ২৯ পয়সা।

তেল কেনার এই দুই প্রস্তাবের পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে টিসিবির জন্য ১২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। নাবিব নাবাব ফুডস লিমিটেড থেকে এই ডাল কিনতে মোট খরচ হবে ১০৪ কোটি টাকা। প্রতি কেজির দাম পড়বে ১০৪ টাকা। আগের দাম ছিল ১১২ টাকা।

এদিকে, জননিরাপত্তা বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) আভিযানিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ৪টি পারসোনাল আর্মস ক্যারিয়ার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই আর্মস ক্যারিয়ার কিনতে খরচ হবে ২৩ কোটি ৯১ লাখ ৮২ হাজার ৪০০ টাকা।




ডিসেম্বর মাসের টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু আজ

প্রতি মাসের বিক্রয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ডিসেম্বর মাসের জন্য ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আজ থেকে বিক্রি শুরু হচ্ছে। একইসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারীদের মধ্যে স্মার্ট কার্ড বিতরণ শুরু হচ্ছে।

বুধবার (৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৫ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনারের কার্যালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

উল্লেখ্য, সারা দেশে এক কোটি নিম্ন আয়ের মানুষ টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী। গত ৯ নভেম্বর টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারীদের মধ্যে স্মার্ট কার্ড বিতরণ শুরু হয়। আজ থেকে বিতরণ করা হবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায়। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য জায়গায় টিসিবির স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হবে।

এদিকে, ডিসেম্বর মাসে টিসিবির কার্ডধারী একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুই লিটার সয়াবিন তেল অথবা কুঁড়ার (রাইস ব্র্যান) তেল, পাঁচ কেজি চাল, দুই কেজি মসুর ডাল, দুই কেজি পেঁয়াজ ও এক কেজি চিনি কিনতে পারবেন। প্রতি লিটার সয়াবিন বা কুঁড়ার তেলের দাম রাখা হবে ১০০ টাকা। প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা, মসুর ডাল ৬০ টাকা এবং প্রাপ্যতা সাপেক্ষে প্রতি কেজি আমদানি করা পেঁয়াজ ৫০ টাকা ও চিনি ৭০ টাকা দামে বিক্রি করবে টিসিবি।

কার্ডধারীরা নিজ নিজ এলাকার পরিবেশকদের দোকান বা নির্ধারিত জায়গা থেকে পণ্য নিতে পারবেন।




টিসিবির পণ্য ঢাকার যে ৩০টি স্থানে পাওয়া যাচ্ছে

টিসিবি কার্ডের আওতাভুক্ত নয় এমন স্বল্প আয়ের পরিবারের মানুষদের জন্য ভর্তুকি মূল্যে আলু, পেঁয়াজ, ডাল ও সয়াবিন তেল বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার।

মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে টিসিবির প্রধান কার্যালয়ের সামনে ট্রাকসেল কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রতিটি ট্রাক থেকে প্রতিদিন ৩০০ মানুষ পণ্য পাবেন। সে হিসাবে ঢাকায় প্রতিদিন ৯ হাজার ক্রেতা ভর্তুকি মূল্যে চারটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন।

আজ যেসব স্থানে টিসিবির ট্রাক থাকবে, সেগুলো হলো– খিলগাঁও রেলগেট, মুগদা মেডিকেল কলেজসংলগ্ন এলাকা, মালিবাগ রেলগেট, শনির আখড়া বাসস্ট্যান্ড, আজমপুর কাঁচাবাজার (উত্তরা), মতিঝিল বক চত্বর, ফকিরাপুল বাজার, আবদুল্লাহপুর মোড়, বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ (ধানমন্ডি), আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ, ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকা, সচিবালয়ের ৩ নম্বর গেটের সামনে, সূত্রাপুর থানার পাশে, কারওয়ান বাজার টিসিবি ভবনের সামনে, মহাখালী কাঁচাবাজার, কচুক্ষেত বাজার (ক্যান্টনমেন্ট), গাবতলী বাসস্ট্যান্ড, কুড়িল বিশ্বরোড, মিরপুর–১ নম্বর শাহ আলী মাজার, মিরপুর–১০ নম্বর গোল চত্বর, মিরপুর ইসিবি চত্বর, কলেজগেট (হৃদ্‌রোগ হাসপাতাল), মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড, ধানমন্ডি জিগাতলা, ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হল, রামপুরা বাজার, শাহজাদপুর বাজার, মিরপুর কালশীর মোড়, বেগুনবাড়ি (দীপিকার মোড়) ও শাহিনবাগ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ–সংলগ্ন এলাকা।

জানা গেছে, প্রতিদিন একই স্থানে টিসিবির ট্রাক নাও থাকতে পারে। প্রয়োজন অনুসারে ট্রাকে পণ্য বিক্রয়ের স্থান পরিবর্তন করা হতে পারে।

সোমবার (১৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে রাজধানী ঢাকাতে ‘ট্রাকসেল’ শুরু হবে। ২৫ থেকে ৩০টি স্থানে এই ট্রাকসেল হবে। সেখান থেকে যে কেউ দুই কেজি ডাল, আলু, পেঁয়াজ, সয়াবিন তেল নিতে পারবেন।

তিনি বলেন, এই মুহূর্তে চিনি দেওয়া যাচ্ছে না। চিনি পাওয়া গেলে দেওয়া হবে। এখন প্রতি কেজি ডাল ৬০ টাকা, সয়াবিন তেল ১০০ টাকা লিটার, পেঁয়াজ ৫০ টাকা, আলু ৩০ টাকা কেজি দরে দেওয়া হবে।




ঢাকায় ৩০ স্পটে ট্রাকে টিসিবির পণ্য বিক্রি চলছে

সারাদেশে টিসিবির কার্ডধারী এক কোটি পরিবারের মাঝে চলমান পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ ভোক্তার কাছে ট্রাক সেলের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

রাজধানীর ৩০টি পয়েন্টে ট্রাক সেলের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। অর্থাৎ যারা আসবেন, তারা পণ্য পাবেন।

 

রাজধানীতে পণ্য বিক্রির স্পটগুলো হলো: খিলগাঁও রেলগেট, মুগদা মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন, মালিবাগ রেলগেট, শনির আখড়া বাসস্ট্যান্ড, আজমপুর কাঁচা বাজার (উত্তরা), মতিঝিল বক চত্বর, ফকিরাপুল বাজার, আব্দুল্লাহপুর মোড়, বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ (ধানমন্ডি), আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ, ভিক্টোরিয়া পার্ক, সচিবালয়ের ৩ নম্বর গেটের সামনে, সূত্রাপুর থানার পাশে, কারওয়ান বাজার টিসিবি ভবনের সামনে, মহাখালী কাঁচা বাজার, কচুক্ষেত বাজার (ক্যান্টনমেন্ট), গাবতলী বাসস্ট্যান্ড, কুড়িল বিশ্ব রোড, মিরপুর ১ নম্বর শাহ আলী মাজার, মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর, মিরপুর ইসিবি চত্বর, কলেজগেট (হৃদরোগ হাসপাতাল), মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড, ধানমণ্ডি, জিগাতলা, ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হল, রামপুরা বাজার, শাহজাদপুর বাজার, মিরপুর কালশীর মোড়, বেগুনবাড়ী (দিপীকার মোড়), শাহিনবাগ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ।

 

এর আগে সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেশের সার্বিক বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ। এ সময় পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেন।

একজন ক্রেতা দুই কেজি মসুরের ডাল, দুই কেজি সয়াবিন তেল, দুই কেজি আলু ও দুই কেজি পেঁয়াজ কিনতে পারবেন। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০ টাকা, আলু ৩০ টাকা ও মসুর ডাল ৭০ টাকায়, প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।




ক্রয় সংক্রান্ত কমিটিতে ১২ প্রস্তাব অনুমোদন

আন্ধারমানিক নদীতে সেতু নির্মাণ, টিসিবি’র এক কোটি ফ্যামিলি কার্ডধারীদের মাঝে স্বল্পদামে বিক্রির জন্য অভ্যন্তরীণ দরপত্রের মাধ্যমে ১ কোটি ৩০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল ক্রয়ের প্রস্তাবসহ ১২ ক্রয়প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে মোট ব্যয় হবে ২০৪২ কোটি ১৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

বুধবার (৪ অক্টোবর) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে এক ভার্চুয়াল সভায় প্রস্তাবগুলোতে অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান।

তিনি বলেন, আজকে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৩৩তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্রয় কমিটির অনুমোদনের জন্য ১২টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৩টি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ২টি, শিল্প মন্ত্রণালয়ের ২টি, স্থানীয় সরকার বিভাগের ২টি, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ১টি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ১টি এবং টেবিলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রস্তাবনা ছিল। এতে মোট ব্যয় হবে ২০৪২ কোটি ১৬ লাখ ৪০ হাজার ৯৯১ টাকা।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, ২০২৪ শিক্ষাবর্ষের ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক ৮ম শ্রেণি, দাখিল ৮ম শ্রেণি ও কারিগরি ৮ম শ্রেণির বিনামূল্যেও পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের ক্রয়প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। সকল শিক্ষার্থীর কাছে তাদের কাঙ্ক্ষিত পাঠ্যপুস্তক যথাসময়ে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ২০২৪ শিক্ষাবর্ষের ইবতেদায়ি (২য় ও ৩য় শ্রেণি), মাধ্যমিক (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন) ৮ম শ্রেণি, দাখিল ৮ম শ্রেণি ও কারিগরি (ট্রেড বই) ৮ম শ্রেণির ৫ কোটি ৩৪ লাখ ৮৪ হাজার ২৭১টি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের জন্য আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হলে ১০৪৭টি দরপত্র জমা পড়ে। তার মধ্যে ৯৭২টি দরপত্র রেসপনসিভ হয়। টিইসি কর্তৃক ৮৪টি লটে প্রথম সর্বনিম্ন দরদাতা এবং ২৮টি লটে ২য় সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এই বই সংগ্রহ করা হবে। এতে মোট ব্যয় হবে ১৯৮ কোটি ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ টাকা। প্রতি পাঠ্যপুস্তকের দাম পড়বে ৩৭.০৮ টাকা।

সভায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৫০ লাখ (+৫%) লিটার সয়াবিন তেল ক্রয়ের একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। দরপত্রে অংশ নিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপার অয়েল রিফাইনারি লিমিটেড এই সয়াবিন তেল সরবরাহ করবে। ২ লিটার পেটজাত বোতলে প্রতি লিটার ১৫৮.৫৫ টাকা হিসেবে ৫০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল ক্রয়ে ব্যয় হবে ৭৯ কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত পুনঃদরপত্র পদ্ধতিতে ৮০ লাখ (+৫%) লিটার সয়াবিন তেল ক্রয়ের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী ১ কোটি পরিবারের কাছে ভর্তুকি দামে সয়াবিন তেল বিক্রির লক্ষে ৮০ লাখ লিটার সয়াবিন ক্রয়ের জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে ৩টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। দরপ্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেঘনা এডিবল অয়েলস রিফাইনারি লিমিটেড ২ লিটার পেটজাত বোতলে এই সয়াবিন তেল সরবরাহ করবে। প্রতি লিটার ১৬১.৯৪ টাকা হিসেবে ৮০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল ক্রয়ে ব্যয় হবে ১২৯ কোটি ৫৫ লাখ ২০ হাজার টাকা।

রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় মরক্কোর থেকে ৭ম লটে ৪০ হাজার মে.টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যে প্রতি মে. টন ডিএপি সার ৫৬৮.৫০ মার্কিন ডলার হিসেবে মোট ব্যয় হবে ২ কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৫১ কোটি ২৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় মরক্কোর থেকে ৮ম লটে ৪০ হাজার মে.টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যে প্রতি মে. টন ডিএপি সার ৫৬৮.৫০ মার্কিন ডলার হিসেবে মোট ব্যয় হবে ২ কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৫১ কোটি ২৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

অতিরিক্ত সচিব জানান, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় মরক্কো থেকে ৯ম লটে ৩০ হাজার মে.টন টিএসপি সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি মে. টন টিএসপি সার ৩৯৩ মার্কিন ডলার হিসেবে ৩০ হাজার মে.টন টিএসপি সার আমদানিতে ব্যয় হবে ১ কোটি ১৭ লাখ ৯০ হাজার মা. ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

সভায় ‘বিসিক কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক, মুন্সিগঞ্জ (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্পের ভূমি উন্নয়ন (অতিরিক্ত) মাটি ভরাটের পূর্ত কাজ ক্রয়প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে (১) এনডিই; (২) এনএনবিএল এবং (৩) এসি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে ব্যয় হবে ১০২ কোটি ৪০ লাখ ১৬ হাজার ৮৫৭ টাকা।

অতিরিক্ত সচিব জানান, চট্টগ্রামের ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লি. এর জন্য ৩০ হাজার মেট্রিক টন (+১০%) ফসফরিক এসিড আমদানির একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স সান ইন্টারন্যাশনাল এফজেডই, ইউএই (স্থানীয় এজেন্ট: মেসার্স এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনপুট, ঢাকা) এই ফসফরিক এসিড সরবরাহ করবে। এতে ব্যয় হবে ১৯৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রতি মে.টন ফসফরিক এসিডের দাম ৫৯৮ মার্কিন ডলার।

তিনি বলেন, ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডোর অ্যান্ড রিজিওনাল অ্যানহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউকেয়ার) ফেস-১ প্রকল্পের প্যাকেজ-৬ এর পূর্ত কাজ ক্রয়প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। প্রকল্পের পূর্ত কাজ ক্রয়ের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ৪টি প্রতিষ্ঠান দরপ্রস্তাব দাখিল করে। ৪টি দরপ্রস্তাবই কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান ডিয়েনকো লিমিটেড, ঢাকা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে ব্যয় হবে ১০১ কোটি ৩৬ লাখ ৮৪ হাজার ৭৪২ টাকা।

সভায় ‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ (২য় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলায় ৮৯১ মিটার সেতু নির্মাণের পূর্ত কাজ ক্রয়প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। প্রকল্পের পূর্ত কাজ ক্রয়ের জন্য এক ধাপ দুই খাম দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ৫টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করে। তার মধ্যে ৪টি প্রস্তাব কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সকল প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে ব্যয় হবে ১১০ কোটি টাকা।

অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান বলেন, শেরপুর (কানাসাখোলা)-ভীমগঞ্জ-নারায়ণখোলা-রামভদ্রপুর-পরানগঞ্জ-ময়মনসিংহ (রহমতপুর) সড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্পের প্যাকেজ নং পিডব্লিউ-০৪ এর পূর্ত কাজের ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে (১) ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড; (২) হাসান টেকনো বিল্ডার্স লিমিটেড এবং (৩) মাসুদ হাই-টেক ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে ব্যয় হবে ৩৫৮ কোটি টাকা।

এ ছাড়াও, সভার টেবিলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, পায়রা সমুদ্র বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আন্ধারমানিক নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হবে ৯৪৩ কোটি ৬৩ লাখ ৭৫ হাজার ৩৪৯ টাকা।




এলপিজির দাম বেড়েছে ৭৯ টাকা

ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭৯ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা আগে ছিল ১ হাজার ২৮৪ টাকা।

সোমবার (২ অক্টোবর) টিসিবি ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন এ দর ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। নতুন মূল্য আজ সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হবে।

ঘোষণায় বলা হয়েছে, বেসরকারি এলপিজির রিটেইলার পয়েন্টে ভোক্তা পর্যায়ে মূসকসহ মূল্য প্রতি কেজি ১১৩ টাকা ৬১ পয়সা সমন্বয় করা হয়েছে। এছাড়া রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে তরল অবস্থায় সরবরাহ করা বেসরকারি এলপিজির ভোক্তা পর্যায়ে মূসকসহ মূল্য প্রতি কেজি ১০৯ টাকা ৭৯ পয়সা সমন্বয় করা হয়েছে।

এ ছাড়া, ভোক্তা পর্যায়ে অটোগ্যাসের দাম মূসকসহ প্রতি লিটারের মূল্য ৬২ টাকা ৫৪ পয়সা সমন্বয় করা হয়েছে।

এর আগে, সেপ্টেম্বর মাসে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ১৪০ টাকা থেকে ১৪৪ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ২৮৪ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি।




কারণ ছাড়াই বেড়েছে আলু-পেঁয়াজ-ডিমের দাম : বানিজ্যমন্ত্রী

দেশে অনেক কিছুর দামই বাড়ছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কোনো কারণ ছাড়াই আলু-পেঁয়াজ ও ডিমের দাম বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বানিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি বন্ধ না করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ন্যায্য দামে মানুষের কাছে পণ্য সরবরাহ করতে হবে৷ এক্ষেত্রে যারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷’

বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর খামারবাড়ির ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্র মাঠে সেপ্টেম্বর মাসের এক কোটি ফ্যামিলি কার্ডধারীদের টিসিবির পণ্য সাশ্রয় মূল্যে বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন৷

টিপু মুনশি বলেন, ‘আবশ্যিক কারণে বিভিন্নভাবে দেশে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে৷ বিশেষ করে আমদানি নির্ভর তেল ও ডালের দাম বেড়েছে৷ এগুলো দেশে যথেষ্ট পরিমাণ উৎপাদন না হওয়ায় বাইরের দেশ থেকে আমদানি করতে হয়৷ প্রায় ৯০ ভাগ খাবার তেল ও প্রায় ৯৯ ভাগ চিনি আমদানি করতে হয়৷ এছাড়া ডালও আমদানি করতে হয়৷ বিশ্ব বাজারে এগুলোর দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে দেশে দাম বেড়েছে৷’

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মানুষের কষ্ট অনুভব করে এক কোটি মানুষকে সাশ্রয়ী মূল্যে খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন৷ এতে সাধারণ মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও লাগব হবে। আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি, প্রতিনিয়ত তা করব৷’

তিনি বলেন, ‘এ মাসে এক কোটি পরিবারের মাঝে সাশ্রয়ী মূল্যে চাল-ডাল, তেল-চিনিসহ অনান্য সামগ্রী বিতরণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে৷ প্রতি মাসেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করে টিসিবি৷ যারা এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য তাদের হাতেই পণ্য দিতে হবে৷ সামনে যেহেতু ডিজিটাল কার্ড সরবরাহ করা হবে তাই এ বিষয় নিয়ে আর দুশ্চিন্তা থাকবে না৷’




টিসিবির জন্য ১২১ কোটি ৬৫ লাখ টাকার ডাল-তেল কিনবে সরকার

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য ৪০ লাখ লিটার রাইস ব্র্যান তেল ও ৬ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রতি কেজি মশুর ডাল ৯৫ টাকা ৯ পয়সা এবং প্রতি লিটার রাইস ব্র্যান তেল ১৬১ টাকা ৫০ পয়সা করে কেনা হবে। এতে মোট খরচ হবে ১২১ কোটি ৬৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা৷

এই মশুর ডাল ও রাইস ব্র্যান তেল কিনতে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বুধবার (৩০ আগস্ট) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান সাংবাদিকদের জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কর্তৃক ২০২৩-২৪ অর্থবছরে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৪০ লাখ লিটার রাইস ব্র্যান তেল মজুমদার ব্র্যান অয়েল মিলস লিমিটেডের কাছ থেকে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ টাকায় ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, এতে প্রতি লিটার রাইস ব্র্যান তেলের দাম পড়বে ১৬১ টাকা ৫০ পয়সা। আগের দাম ছিল ১৬৯ টাকা ২৫ পয়সা। এ হিসাবে আগের তুলনায় এবার টিসিবির জন্য কিছুটা কম দামে রাইস ব্র্যান তেল কেনা হচ্ছে।

সাঈদ মাহবুব খান জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আর এক প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে টিসিবির জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৬ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল নাবিল নাবা ফুডস লিমিটেডের কাছ থেকে ৫৭ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকায় কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, এবার প্রতি কেজি মশুর ডালের দাম পড়বে ৯৫ টাকা ৯ পয়সা। আগের দাম ছিল ৯৪ টাকা ৪৪ পয়সা। এ হিসাবে এবার কিছুটা বেশি দামে মশুর ডাল কেনা হচ্ছে।




৮০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কিনছে সরকার টিসিবির জন্য

স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য প্রতি লিটার ১৫৯ টাকা ৯৫ পয়সা দরে ৮০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সুপার ওয়েল রিফাইনারি লিমিটেড থেকে এ সয়াবিন তেল কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে সরকারের মোট ব্যয় হবে ১২৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

এর আগেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে টিসিবির জন্য ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৮০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল বসুন্ধরা মাল্টি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের কাছ থেকে ১২৭ কোটি ৪ লাখ টাকায় কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে প্রতি লিটারের দাম ধরা হয়েছিল ১৫৮ টাকা ৮০ পয়সা।

বুধবার (১৬ আগস্ট) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা শেষে সাংবাদিকদের সভার সিদ্ধান্ত জানান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আমিন উল আহসান।

এ সময় তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ কর্তৃক ২০২৩-২৪ অর্থবছরে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৮০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল ১২৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সুপার ওয়েল রিফাইনারি লিমিটেডের কাছ থেকে এ তেল কেনা হবে।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে এসব তেল কেনা হচ্ছে। ফলে দাম কম-বেশি হতেই পারে।




চিনি থাকছেনা টিসিবির পণ্যে

ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু করছে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। রবিবার (১৩ আগস্ট) থেকে মাসিক কর্মসূচির অংশ হিসেবেই ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন ক্রেতারা। তবে এবারই প্রথম টিসিবির পণ্যে থাকছে না চিনি।

শনিবার (১২ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে টিসিবি।

টিসিবি জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সার্বিক নির্দেশনায় নিম্নআয়ের ১ কোটি উপকারভোগী কার্ডধারী পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্য (ভোজ্যতেল ও ডাল) সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রয় কার্যক্রম চলমান। জুলাই থেকে ১ কোটি উপকারভোগী কার্ডধারী পরিবারের মধ্যে টিসিবির পণ্যের সঙ্গে খাদ্য অধিদফতরের ওএমএসের (ওপেন মার্কেট সেল) চাল ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। শোকাবহ আগস্ট-২৩ মাসের বিক্রয় কার্যক্রম রবিবার থেকে ঢাকা মহানগরীসহ সারা দেশে শুরু হচ্ছে।

অন্যদিকে, গত মাস থেকে টিসিবির পণ্যের সঙ্গে ওএমএসের চাল পাচ্ছেন কার্ডধারীরা। তবে আগস্টের বিক্রি কার্যক্রমে থাকছে না চিনি। প্রতি কেজি ৩০ টাকা দরে টিসিবির পণ্যের সঙ্গে প্রতি মাসে কার্ডধারী পরিবার পাঁচ কেজি করে চাল পাবেন। কার্ডধারীরা নিজ নিজ এলাকার পরিবেশকদের দোকান বা নির্ধারিত জায়গা থেকে চালসহ অন্যান্য পণ্য নিতে পারবেন।

এছাড়াও চালের সঙ্গে একজন ক্রেতা ১০০ টাকা লিটার দরে দুই লিটার সয়াবিন তেল, ৬০ টাকা দরে দুই কেজি মসুর ডাল কিনতে পারবেন।




৫০ লাখ লিটার রাইস ব্র্যান তেল কিনবে টিসিবি

দু’টি কোম্পানির কাছ থেকে আলাদা লটে রাইস ব্রান তেল কিনবে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এই দুই কোম্পানির কাছ থেকে মোট ৫০ লাখ লিটার রাইস ব্রান তেল কিনবে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২২ জুন) অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সভা শেষে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের (সমন্বয় ও সংস্কার শাখা) সচিব মো. মাহমুদুল হোসাইন খান সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন টিসিবির স্থানীয়ভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে যশোরের মজুমদার বার্ন অয়েল মিলস লিমিটেডের কাছ থেকে ২৫ লাখ লিটার এবং ঢাকার মজুমদার প্রোডাক্টস লিমিটেডের কাছ থেকে ২৫ লাখ লিটার অর্থাৎ সর্বমোট ৫০ লাখ লিটার রাইস ব্রান তেল ৮০ কোটি টাকায় সরাসরি ক্রয় (ডিপিএম) পদ্ধতিতে ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।




টিসিবি’র জন্য সাড়ে ১২ হাজার টন চিনি কিনবে সরকার

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য সাড়ে ১২ হাজার টন চিনি কিনবে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

মঙ্গলবার (১৭ মে) দুপুর ২টার দিকে ক্রয় কমিটির বৈঠকটি শুরু হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান বিস্তারিত তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেন।

অতিরিক্ত সচিব জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কর্তৃক আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১২ হাজার ৫০০ (+৫%) মেট্রিক টন চিনি Accentuate Technology Inc., USA (Local Agent: OMC Ltd., Dhaka-এর কাছ থেকে কেনা হবে। এই সাড়ে ১২ হাজার টন চিনি ৬৬ কোটি ২৭ লাখ ৩১ হাজার ২৫০ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।




এক মাসের ব্যবধানে দ্বিগুণ পেঁয়াজের দাম

ঈদের আগে বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে। এখন সে পেঁয়াজ ৭০ টাকায় ঠেকেছে। বলতে গেলে এ দাম প্রায় দ্বিগুণ।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যও বলছে একই কথা। সংস্থাটির তথ্যমতে, বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭০ টাকায়। এক মাস আগে বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩০-৪০ টাকায়। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে প্রায় ৯৩ শতাংশ।

অন্যদিকে সংস্থাটি বলছে, গত বছর একই সময়ে বাজারে পেঁয়াজের দাম ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে এ বৃদ্ধি ৫৯ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন মৌসুমে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে গত মার্চের মাঝামাঝি থেকে বন্ধ পেঁয়াজ আমদানি। এরপর কিছুদিন দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলেও শেষ এক মাস পেঁয়াজের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে।

এ অবস্থায় আবারও পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। রোববার (১৪মে) দুপুরে সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি বিষয়ে করণীয় নির্ধারণসংক্রান্ত সভায় কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তার এ আভাস দেন।

তিনি বলেন, উৎপাদন ও মজুত বিবেচনায় দেশে এ মুহূর্তে পেঁয়াজের দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। অথচ বাজারে দাম কিছুটা বেশি। কৃষি মন্ত্রণালয় বাজার পর্যবেক্ষণ করছে। দাম বাড়তে থাকলে শিগগির পেঁয়াজ আমদানির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ২ লাখ ৪১ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করা হয়েছে। পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ৩৪ লাখ টনের বেশি। বর্তমানে মজুত আছে ১৮ লাখ ৩০ হাজার টন। কিন্তু উপযুক্ত সংরক্ষণের অভাবে বা প্রতিকূল পরিবেশের কারণে ৩০-৩৫ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়।

অন্যদিকে দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২৬ থেকে ২৮ লাখ টন। সে হিসেবে পেঁয়াজ সংকট হওয়ার কথা নয়। কারণ মৌসুম শুরুর আগে চলতি অর্থবছরে পেঁয়াজ আমদানি উন্মুক্ত ছিল। দেশে এ পর্যন্ত কয়েক লাখ টন পেঁয়াজ এসেছে।

তথ্য বলছে, দেশে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৮ লাখ ৬৩ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে করা হয় ১০ লাখ ৭ হাজার টন। ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৫ লাখ ৫৩ হাজার টন ও ৬ লাখ ৬৫ হাজার টনে। সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের পেঁয়াজ আমদানি উন্মুক্ত থাকা প্রথম নয় মাসে আমদানি প্রায় চার লাখ টন ছেড়ে যাওয়ার কথা।




বাড়তি দামে টিসিবির চিনি বিক্রি শুরু আগামীকাল

চলতি মে মাসের জন্য ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের মাঝে ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম শুরু হচ্ছে রোববার (১৪ মে)। এ দফায় প্রতি কেজি চিনির দাম ১০ টাকা বাড়িয়ে ৭০ টাকা নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি, যা আগে ছিল ৬০ টাকা।

শনিবার (১৩ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরুর কথা জানিয়েছে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।

এতে বলা হয়, নিম্ন আয়ের এক কোটি উপকারভোগী কার্ডধারী পরিবারের মাঝে ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্যাদি (তেল, চিনি ও ডাল) সাশ্রয়ীমূল্যে বিক্রয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সে লক্ষ্যে মে মাসের বিক্রয় কার্যক্রম আগামী ১৪ মে হতে ঢাকা মহানগরীসহ সারাদেশে শুরু হচ্ছে।
এ বিক্রয় কার্যক্রম ডিলারদের দোকান/নির্ধারিত স্থায়ী স্থাপনা হতে সিটি করপোরেশন, জেলা-উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় ও তাদের নির্ধারিত তারিখ ও সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালনা করা হবে। কার্ডধারী ভোক্তা সাধারণ নির্ধারিত ডিলারদের নিকট হতে পণ্য ক্রয় করতে পারবেন।

এ দফায় একজন ভোক্তা প্রতি কেজি ৭০ টাকা দরে এক কেজি চিনি, ৭০ টাকা দরে দুই কেজি মসুর ডাল এবং ১১০ টাকা দরে দুই লিটার সয়াবিন তেল কিনতে পারবেন।
এদিকে রোববার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি রাজধানীর মেরুল বাড্ডা এলাকায় এ বিক্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন বলে টিসিবি সূত্রে জানা গেছে।




পেঁয়াজ  কেজিতে ৩০ টাকা  আলুর দাম ১০ টাকা বেড়েছে  

চিনির পর এবার অস্থির পেঁয়াজ ও আলুর বাজার। পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের অজুহাতে ঈদের পর থেকে প্রতি কেজিতে ৩০ টাকা বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। চিনি ও পেঁয়াজের দেখাদেখি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে প্রতি কেজি আলুর দামও বাড়িয়েছেন অন্তত ১০ টাকা।

বুধবার (৩ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচা, রামপুরা এবং বাড্ডা এলাকার বাজার ও সুপারশপ ঘুরে দেখা গেছে, এসব এলাকায় প্রকার ভেদে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে। যা ঈদের আগেও বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজিতে। সেই হিসেবে ঈদের পর পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা।

এদিকে সাদা আলু বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে। লাল আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে। অথচ ঈদের আগে প্রতি কেজি সাদা আলু বিক্রি হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে আলুর দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা।

সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য মতে, আজ রাজধানীতে আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজিতে। এই আলু এক সপ্তাহ আগেও বিক্রি হয়েছে ২৮ থেকে ৩০ টাকায়। আর এক মাস আগে ছিল ২২ থেকে ২৫ টাকা কেজি। আর এক বছর আগে ছিল ১৬ থেকে ২০ টাকা কেজি। সেই হিসেবে এক বছরের আগের সঙ্গে তুলনায় করলে সাদা আলু কেজিতে বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা।

পেঁয়াজের বাজার সম্পর্কে বলা হয়েছে, আজ রাজধানীতে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজিতে। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি। এক মাস আগে ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি। আর এক বছর আগে ছিল ২৮ থেকে ৩০ টাকা কেজি।

আজ আমদানি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি। এক মাস আগে ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি। আর এক বছর আগে ছিল ২৫ থেকে ৩৫ টাকা কেজি।

মধ্য বাড্ডায় ভ্যানে করে পেঁয়াজ ও আলু বিক্রি করছেন বরিশালের লালু মিয়া। জানতে চাইলে তিনি বলেন, পেঁয়াজের কেজি ৫০ টাকা ও আলুর কেজি ৩৫ টাকা। দুদিন আগেও আলু বিক্রি করেছি ২৮ থেকে ৩০ টাকায়। আজকে বিক্রি করছি ৩৫ টাকায়। শুনতেছি, আরও নাকি দাম বাড়বে।

মধ্য বাড্ডার ভাই ভাই জেনারেল স্টোরের মালিক আব্দুল বারেক বলেন, পেঁয়াজ বিক্রি করছি ৫৫ টাকা কেজিতে। পেঁয়াজের দাম বাড়তি।

কী কারণে বাড়তি? এর জবাবে তিনি বলেন, আমদানি বন্ধ এ কারণে বাজারে পেঁয়াজের অভাব। তাই বেশি দামে বিক্রি করছে আড়তদাররা। আমরা আড়ত থেকে বেশি দামে কিনেছি, এখন বেশি দামে বিক্রি করছি।

মেরুল বাড্ডায় স্বপ্ন সুপারশপে গিয়ে দেখা গেছে, পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। আর আলু বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা কেজিতে।

সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারে আসা ক্রেতা  বলেন, বাজারে এখন ডাকাতি চলছে। দুদিন আগেও ৪৫ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ কিনেছি, আজকে ৬০ টাকা ছাড়া দিচ্ছে না। বলছে ৫ কেজি নিলে ৫৫ টাকা করে রাখবে। এটা কী মানা যায়? আমরা কোন দেশে বসবাস করি! ব্যবসায়ীদের এই ডাকাতি কী দেখার কেউ নেই?

বাজারটিতে আলু কিনতে আসা আয়েশা আক্তার ঢাকা পোস্টকে বলেন, ২০ টাকার আলুর দাম ৪০ টাকা। বাড়িতে আলু বিক্রি করেছি ১০ টাকা কেজিতে। এখন ৪০ টাকায় কিনে খাচ্ছি, এটা কী মানা যায়! ব্যবসায়ীরা আমাদের টাকা হরিলুট করে নিচ্ছে। আমরা চেয়ে চেয়ে দেখছি কিন্তু কিছু করতে পারছি না।

বাজারের আল-আমিন জেনারেল স্টোরের মালিক বলেন, ঈদের পর ৩৫ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ কিনে বিক্রি করেছি ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। আজকে কেনাই পড়েছে ৪৮ টাকা কেজি। খরচসহ ৫২-৫৩ টাকা পরবে। বিক্রি করছি ৬০ টাকায়।

একই বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী নিয়াম উল্লাহ বলেন, সাদা আলু ৪০ টাকা ও লাল আলু ৫০ টাকা। তবে যদি ৫ কেজি নেন কিছু কম রাখা যাবে। আলুর দাম বাড়লে কেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাজারে আলু নেই।

রামপুরা বাজারে ক্রেতা ছাইদুর রহমান বলেন, এখন আলুর দাম বাড়াচ্ছে ব্যবসায়ীরা। কারণ এখন আর কৃষকদের কাছে আলু নেই। যা ছিল সব বিক্রি করে দিয়েছে। সব আলু ব্যবসায়ীদের হাতে। তাই এখন দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে ফতুর করছে।

পেঁয়াজের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে কেন জানতে চাইলে শ্যামবাজারের ব্যবসায়ী হাজী মাজেদ বলেন, এ বছর পেঁয়াজ উৎপাদন কম হয়েছে। উৎপাদনের পর থেকে এই পর্যন্ত অনেক পেঁয়াজ পচে নষ্ট হয়েছে। এছাড়া ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। এসব কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।

তিনি বলেন, দুই তিনদিন আগেও পেঁয়াজ পাইকারি বিক্রি করেছি ২৮ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে। আজকে বিক্রি করেছি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। হঠাৎ করেই পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। মন্ত্রণালয়ের লোকজনের সঙ্গে কথা হয়েছে, আগামী সপ্তাহ থেকে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়ে দেবে। তারপর থেকে পেঁয়াজের দাম কমে যাবে।

সূত্র জানায়, প্রতি বছর দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ৩৫-৩৬ লাখ মেট্রিক টন। সেখানে গত বছর উৎপাদন হয়েছে ৩২ লাখ মেট্রিক টন। গত একবছরে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন বেড়েছে প্রায় আট লাখ মেট্রিক টন।

অপরদিকে দেশে বার্ষিক আলুর চাহিদা ৮৫ থেকে সর্বোচ্চ ৯০ লাখ টন। গত বছর (২০২১-২২ মৌসুম) উৎপাদন হয়েছিল এক কোটি ১০ লাখ টন আলু। পূরণ হয়েছে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রাও। এবছরও আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু তারপরও আলু নিয়ে কারসাজি করছেন ব্যবসায়ীরা।




 ১৩৮ কোটি টাকায় ২৫ হাজার টন চিনি কিনছে সরকার

মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ১৩৮ কোটি টাকা দিয়ে ২৫ হাজার মেট্রিকটন চিনি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য এ চিনি কেনা হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে এ চিনি কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে মোট খরচ হবে ১৩৭ কোটি ৯৫ লাখ ৬৮ হাজার ১২৫ টাকা।

বুধবার (১২ এপ্রিল) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কর্তৃক আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চিনি মালয়েশিয়ার ব্রিজো মেরিন এসডিএন বিএইচডি (স্থানীয় এজেন্ট. জেআই ট্রেডার্স, ঢাকা) এর কাছ থেকে ৬৮ কোটি ৬৭ লাখ ৪৩ হাজার ১২৫ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি কেজি চিনির মূল্য পড়বে ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা। আগে যা ছিলো ৮৮ টাকা ৮৪ পয়সা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আর এক প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিকভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চিনি মালয়েশিয়ার ব্রিজো মেরিন এসডিএন বিএইচডি (স্থানীয় এজেন্ট. জেআই ট্রেডার্স, ঢাকা) এর কাছ থেকে ৬৯ কোটি ২৮ লাখ ২৫ হাজার টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি কেজি চিনির মূল্য পড়বে ৮৮ টাকা ৭৪ পয়সা। যা আগে ছিলো ৮৮ টাকা ৮৪ পয়সা।

এর আগে গত (৯ মার্চ) ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর জন্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সরারসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ২৫ হাজার মেট্রিকটন চিনি ক্রয়ের অনুমোদন দিয়েছিল। এতে মোট খরচ ধরা হয়েছিল ২০১ কোটি ২৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

ক্রয় প্রস্তাবে বলা হয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অধীন ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কর্তৃক স্থানীয়ভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (DPM) ১২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চিনি গ্লোবাল করপোরেশন ঢাকা এর কাছ থেকে ১৩২ কোটি ৫০ লাখ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কর্তৃক আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) গোল্ডেন উইংস জেনারেল ট্রেডিং (স্থানীয় এজেন্ট. শানজাইব লিমিটেড, ঢাকা) এর কাছ থেকে ৬৮ কোটি ৭৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অতিরিক্ত সচিব জানান, আজ অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৯ম এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ১৪তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য ২টি এবং ক্রয়-কমিটির অনুমোদনের জন্য ১৬টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।

ক্রয়ের প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের ৪টি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৩টি, শিল্প মন্ত্রণালয়ের ৩টি, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ২টি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ২টি, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ১টি এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রস্তাবনা ছিল।




স্মার্ট কার্ডে রূপান্তর হচ্ছে টিসিবির কার্ড

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, নিম্ন আয়ের মানুষকে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের লক্ষ্যে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দেওয়া এককোটি ফ্যামিলি কার্ডকে স্মার্ট কার্ডে রূপান্তরের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সোমবার (৩ এপ্রিল) রাজধানীর উত্তরায় টিসিবি আয়োজিত দেশব্যাপী এককোটি ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারের মধ্যে রমজান মাস উপলক্ষ্যে দ্বিতীয় পর্বের টিসিবি পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম এবং উত্তরা এলাকায় টিসিবি পণ্যের অস্থায়ী সংরক্ষণাগারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, নারায়ণগঞ্জ এবং বরিশালে টিসিটির কার্ড স্মার্ট কার্ডে রূপান্তরের পাইলটিং কাজ সম্পন্ন হয়েছে। হাতে লেখা সব কার্ড কিউআর কোড সম্বলিত স্মার্ট কার্ডে রূপান্তর করা হবে। যার কাজ চলমান রয়েছে। এসব কার্ড স্মার্ট কার্ডে পরিবর্তন করলে অসঙ্গতিগুলো দূর করা সহজ হবে।

টিপু মুনশি বলেন, আমরা সবাই জানি করোনা মহাসংকটের পরপরই ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবে সারাবিশ্বে দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। তা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গরিব মানুষদের মধ্যে কমমূল্যে পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশ্বের উন্নতসহ অনেক দেশ খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে। নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্যের বেশি ক্রেতাদের দেওয়া হচ্ছে না। বিশ্ববাজার বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকারী নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় টিসিবির মাধ্যমে দেশের এককোটি পরিবারের মধ্যে স্বল্পমূল্যে পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতি মাসে একবার দিলেও পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষ্যে দ্বিতীয়বার দেওয়া হচ্ছে এবং আগামী ১৫ তারিখের মধ্যে বিতরণ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, যারা দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন শেখ হাসিনা তাদের দুঃখ কষ্ট অনুভব করেন। সেজন্যই তিনি এককোটি ফ্যামিলি কার্ডধারী অর্থাৎ প্রতি পরিবারে গড়ে পাঁচজন সদস্য হলে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ এই সুবিধার আওতায় নিয়ে এসেছেন।

তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ মানুষকে সাশ্রয়ী দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তা এককোটি করার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা তা বাস্তবায়ন করছি।

পণ্য মজুতের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, আমাদের যথেষ্ট পরিমাণে পণ্য মজুত আছে। বিগত কয়েক বছরের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাবে এ বছর আমরা সরবরাহ ও বিতরণে শক্ত অবস্থানে আছি। কোনো একটি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেলে সবাই প্রশ্ন তোলেন। অথচ মূল্য যখন কমে তখন কেউ আর কিছু বলেন না। সমালোচনার পাশাপাশি ভালো কাজের প্রশংসা করাও উচিত। এতে দায়িত্ব পালনে উৎসাহ পাওয়া যায়।

পণ্যের মজুত পর্যাপ্ত এরপরেও বাজারে দাম কমছে না কেন জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বাজারে সব পণ্যের মূল্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করে না। এ বিষয়ে একটা মিস কনসেপশন আছে যে মূল্যবৃদ্ধি মানেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যুক্ত। ব্রয়লার মুরগি, মাংস এবং মাছসহ কিছু পণ্য অন্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নয়। তারপরও আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি যাতে দ্রব্যমূল্য মানুষের হাতের নাগালে রাখা সম্ভব হয়।

টিসিবির সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে পণ্য সংরক্ষণের জন্য সংরক্ষাণাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্য পূরণের অংশ হিসেবে উত্তরা এলাকায় আজকে এই সংরক্ষণাগারের উদ্বোধন করা হলো। এর মাধ্যমে এই অঞ্চলে পণ্য মজুত করে কার্ডধারীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।




বিশ্ববাজারের তুলনায় আমরা ভালো আছি: বাণিজ্যমন্ত্রী

বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জিনিসপত্রের দামে প্রভাব পড়া প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী বলেছেন, ‘বিশ্ববাজারের তুলনায় আমরা ভালো আছি।’ সোমবার (৩ এপ্রিল) রাজধানীর উত্তরায় পবিত্র রমজান মাসের দ্বিতীয় পর্বে টিসিবির পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম ও অস্থায়ী আপদকালীন পণ্য মজুদগার উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

পণ্যের সমস্যা নেই, তাহলে বাজারে দাম কমছে না কেন, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মন্ত্রণালয়ের অধীনে সবকিছু নয়। আপনারা যেমন ভাবছেন মুরগীর দাম, এটা কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কন্ট্রোল করে না। সবার ধারণা হয়েছে যাই বাড়বে সব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।’

তিনি আরও বলেন, ‘ব্রয়লারের দাম বেড়েছে সেটা মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। আমরা চেষ্টা করি ভোক্তাদের যেন কষ্ট না হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে যেসব পণ্য সেগুলোর দাম আমরা ঠিক করে দেই। আমরা প্রত্যক্ষভাবে সেই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করি। এখন যদি বলেন, ধান উৎপাদনের সমস্যার উত্তর দিতে হবে সেটি তো আমি দিতে পারবো না। চালের দাম বাড়লেও বলা হয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কি করে।’

রমজানে পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে পেরেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এর আগের চারটি রমজান আর এবারের রমজান তুলনা করলে দেখবেন আগের চেয়ে ভালো। সংকট গভীর উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমরা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছি।’

এসময় তিনি সাংবাদিকদের পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম যে ২৫ টকা হয়েছে সেটা তো বলেন না, সেটার অ্যাপ্রিসিয়েশনটা চাই। ইংল্যান্ডের দোকানে তিনটির বেশি টমেটো কিনতে পারেন না। জার্মানির স্টোরগুলোতে তেলের তাক খালি পড়ে আছে। সারা বিশ্বের বাজারে একই অবস্থা। সেই বিবেচনায় আমরা ভালোই আছি।’

টিপু মুনশী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে টিসিবির মাধ্যমে প্রতি মাসে আমরা ১ কোটি পরিবারকে সাশ্রয়ী মূল্যে ডাল, তেল, চিনি এবং রমজান উপলক্ষে ছোলা ও ঢাকা শহরে খেঁজুর দিয়েছি। প্রতি মাসে একবার দেই। কিন্তু রমজান মাসের কথা চিন্তা করে আমরা দুই বার একই ধরনের পণ্য দিচ্ছি।’

তিনি বলেন ‘আমরা প্রথমে চিন্তা করছিলাম ৫০ লাখ মানুষকে দেওয়া যায় কি না, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ১ কোটি পরিবারকে দিতে। প্রতিটি পরিবারে যদি ৫ জন ধরি তাহলে ১ কোটি পরিবারের ৫ কোটি মানুষ এই সুবিধা পাচ্ছে। আমাদের দেশের দরিদ্রসীমায় আছে ৩ কোটি থেকে সাড়ে তিন কোটি। আমরা কিন্তু তার চেয়েও বেশি সংখ্যক মানুষকে এই সুবিধা দিয়েছি।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকায় ১৩ লাখ পরিবারকে আমরা সহায়তা দিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী এটা চালিয়ে যেতে বলেছেন। করোনা মহামারি গেছে, মহামারি-অতিমারি, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ সবকিছুর প্রভাব মানুষের ওপর পড়েছে। আমরা শুরু করেছি, আশা করি সুন্দরভাবে শেষ করতে পারবো এই কার্যক্রম।’

এক কোটির বাইরেও বেশি সংখ্যক মানুষকে সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এক কোটিকে আমরা ধরেছি। কোথাও কোথাও দেখা যায় কিছু বাদ পড়ে গেছে সেক্ষেত্রে আমরা ১-২ হাজার বাড়াই।’




টিসিবির জন্য  ২৫ হাজার টন চিনির ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) জন্য কেনা হবে ২৫ হাজার মেট্রিক টন চিনি। আলাদা দুটি কোম্পানির কাছ থেকে এই চিনি ক্রয়ের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এ সংক্রান্ত দুটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। সভায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সভাপতিত্ব করেন।

সভা শেষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, স্থায়ীভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ১২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চিনি গ্লোবাল করপোরেশন ঢাকার কাছ থেকে কেনা হবে। কোম্পানিটির কাছ থেকে চিনি কিনতে সরকারের ব্যয় করতে হবে ১৩২ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

এছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) সাড়ে ১২ হাজার মেট্রিক টন চিনি গ্লোল্ডেন উইংস জেনারেল ট্রেডিং এফজেডই, ইউএই (লোকাল এজেন্ট : শানজাইব লিমিটেড) এর কাছ থেকে ক্রয় করা হবে। এই লটে চিনি কিনতে ব্যয় হবে ৬৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।