কমলো জ্বালানি তেলের দাম

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস/বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দেশে ভোক্তাপর্যায়ে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণের লক্ষ্যে জুন মাসের জন্য নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ দফায় ডিজেলের দাম ২ টাকা কমে ১০২ টাকা, অকটেনের দাম ৩ টাকা কমে ১২২ টাকা ও পেট্রোলের দাম ৩ টাকা কমে ১১৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শনিবার (৩১ মে) নতুন এ মূল্যের গ্যাজেট প্রকাশ করে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। যা আগামীকাল (১ জুন) থেকে কার্যকর হবে।

এর আগে মে মাসে জ্বালানি তেলের দাম লিটারে এক টাকা করে (পেট্রল, অকটেন, ডিজেল ও কেরোসিনের) কমানো হয়। তার আগে মার্চ ও এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়। আর ফেব্রুয়ারিতে পেট্রল, অকটেন, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে বেড়েছিল ১ টাকা।

২০২৪ সালের মার্চ থেকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ শুরু করে সরকার। সে হিসেবে প্রতি মাসে নতুন দাম ঘোষণা করা হয়।




পেট্রোল পাম্পে ২৫ মে কর্মবিরতির ডাক

জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন ৭ শতাংশ করাসহ ১০ দফা দাবি আদায়ে আগামী ২৫ মে সারাদেশে ৮ ঘণ্টা কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরি মালিক ঐক্য পরিষদ।

রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি তুলে ধরেন ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল।

 

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “সবশেষ ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পেট্রোল-অকটেনে ডিপো মূল্যের ৫ শতাংশ ও ডিজেলে ৩ শতাংশ কমিশন ঠিক করা হয়েছে। এতদিন ডিলারশিপ লাইসেন্স, বিস্ফোরক লাইসেন্স ও ট্রেড লাইসেন্স দিয়েই ব্যবসা চলছিল।

“এখন পরিবেশ, ফায়ার, কলকারখানা, বিএসটিআই বিআরসি লাইসেন্স নেওয়ার নিয়ম করা হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছি।”

কর্মসূচি ঘোষণা করে কাবুল বলেন, “আমরা জ্বালানি তেলের ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার মনস্থির করেছি। তবে শেষ চেষ্টা হিসেবে ১০ মে সমগ্র দেশের তেল ব্যবসায়ী এবং অ্যাসোসিয়েশন নেতারা বৈঠকের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারকে আগামী ১২ দিন অর্থাৎ ২৪ মে এর মধ্যে দাবি পূরণের অনুরোধ করছি।

“অন্যথায় ২৫ মে থেকে প্রতীকী কর্মসূচি হিসেবে ভোর ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সমগ্র দেশের সব পেট্রোল পাম্প ও ট্যাঙ্কলরি কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছি। এই সময় জ্বালানি তেলের উত্তোলন, পরিবহন এবং বিপণন বন্ধ থাকবে। তবে হজ ফ্লাইট এবংআন্তর্জাতিক ফ্লাইট সচল রখার জন্য বিমানের তেল পরিবহন চালু থাকবে।”

১০ দফা দাবিগুলোর অন্যতম হচ্ছে-

>>জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন ন্যূনতম ৭ শতাংশ করতে হবে।

>> সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের জমির ইজারা মাশুল আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে হবে।

>> আগের মতো বিএসটিআইকে শুধু ডিসপেন্সিং ইউনিট স্টাম্পিং এবং পরিমাপ যাচাইয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

আন্ডার গ্রাউন্ড ট্যাংক ক্যালিব্রেশন, ডিপ রড পরীক্ষা ফি ও নিবন্ধন প্রথা বাতিল করতে হবে।

>>পেট্রোল পাম্প কোনো শিল্প নয়, কমিশন এজেন্টভিত্তিক ব্যবসা; এ কারণে পরিবেশ, বিআরসি কলকারখানা এবং ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স নেওয়ার বিধান বাতিল করতে হবে।

>> বিপণন কোম্পানি থেকে ডিলারশিপ ছাড়া সরাসরি তেল বিক্রি বন্ধ করতে হবে।

>>ট্যাংক লরি চালক সংকট লাঘবে চালকদের লাইসেন্স নবায়ন এবং নতুন লাইসেন্স সহজতর করতে হবে।

>> গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষার নামে রাস্তায় যেখানে সেখানে ট্যাংক লরি থামানো যাবে না। তেলের ডিপো গেইটে ট্যাংকলরির কাগজপত্র পরীক্ষার সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। এবং সকল ট্যাংক লরির জন্য আন্তজেলা রুট পারমিট ইস্যু করতে হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাজমুল হক, যুগ্ম-আহ্বায়ক মিজানুর রহমান রতন, জুবায়ের আহাম্মেদ চৌধুরীসহ কয়েকজন।

 

 




জ্বালানি তেল পরিবহনে ডিসি-এসপিদের সহায়তা চাইলো বিপিসি

অবরোধের মধ্যে জ্বালানি তেল পরিবহনে জেলা প্রশাসক ও এসপিদের সহায়তা চাইলো বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। টানা অবরোধে যাতে তেল পরিবহনে কোনও সংকট না ঘটে সে জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিপিসি বলছে, রাস্তায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। এতে তেল পরিবহনকারী ট্যাংক লরিগুলো আতঙ্কে থাকে। এ ধরনের কোনও পরিবহনে অগ্নিসংযোগ করা হলে তা আশপাশে প্রাণহানির ঘটনা ঘটাতে পারে।

বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো ২৮ অক্টোবরের পর থেকে টানা কর্মসূচি পালন করছে। যুগপৎ আন্দোলনে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো আজ একদিনের বিরতি দিয়ে আগামীকাল ও ৯ নভেম্বর ফের দুই দিনের অবরোধ দিয়েছে। সোমবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে গণতন্ত্র মঞ্চ বলেছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত টানা কর্মসূচি দেওয়া হবে।

এই পরিস্থিতিতে রাস্তায় সহিংসতা আরও বাড়বে কিনা সেই শঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে তেল পরিবহনে যাতে কোনও সংকট না হয় সে জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা চাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলো বলে বিপিসির একজন কর্মকর্তা জানান। তিনি বলেন, আমরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের চিঠি দিয়ে বলেছি নিজ নিজ এলাকায় তেল পরিবহনের ট্যাংক লরি গেলে যেন সেগুলোকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়। কোনও ক্ষেত্রে ট্যাংক লরির মালিকরা কোনও বিশেষ নিরাপত্তা চাইলেও তা যেন দেওয়া হয় সে বিষয়েও অনুরোধ করা হয়েছে।

তিনি জানান, গত ৩ নভেম্বর বিপিসি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের এ বিষয়ে চিঠি দেয়।

বিপিসি বলছে, নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল থেকে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের জন্য তেল নেওয়ার ক্ষেত্রে বিজিবির সহায়তা নেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক কোনও উড়োজাহাজে তেলের সংকট যাতে না হয়, বিপিসি সেই ব্যবস্থা আগেই করেছে।

চট্টগ্রাম, ঢাকার নারায়ণগঞ্জ এবং খুলনার দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়িতে তেল পরিবহন করার জন্য জাহাজ ব্যবহার করা হয়। এসব জায়গা থেকে স্বল্প দূরত্বে জ্বালানি নেওয়ার জন্য ট্যাংক লরি ব্যবহার করা হয়। তবে অধিক দূরত্বে তেল পরিবহনের জন্য ট্রেনের ওয়াগন ব্যবহার করা হয়।

জানতে চাইলে পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির একাংশের সভাপতি মিজানুর রহমান রতন বলেন, আমরা নিরাপত্তার কথা সবার আগে চিন্তা করছি। গাড়ির নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে বিপিসি কাজ করছে। আমরা শুধু পরিবহনের নিরাপত্তাই নয়, গাড়ি ছাড়া যাতে অন্য কোনও কিছুতে, যেমন- বোতল, ক্যান বা ড্রামেও যাতে তেল না দেওয়া হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকা হচ্ছে।

পুলিশও এ ব্যাপারে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে পেট্রোল পাম্প মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসময় ডিএমপি কমিশনার বলেন, জ্বালাও-পোড়াও যেভাবে হচ্ছে তার অন্যতম উপাদান হচ্ছে এই পেট্রোল। আপনারা ব্যবসায়ী এবং সাধারণ নাগরিক। সচেতন নাগরিক হিসেবে আপনাদের দায়িত্ব এসব প্রতিরোধ করা। এ ধরনের কোনও দুর্ঘটনা যেন না ঘটে।




দাবি আদায়ে জ্বালানি তেল পরিবহন বন্ধের আল্টিমেটাম মালিক সমিতির

কমিশন বাড়ানোসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর থেকে জ্বালানি তেল পরিবহন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি।

রবিবার (২৭ আগস্ট) ধানমন্ডির সীমান্ত স্কয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সমিতির নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল, তিনি বাংলাদেশ ট্যাংক-লরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনেরও সভাপতি। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন পাম্প মালিক সমিতির রাজশাহী বিভাগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল, খুলনা বিভাগের সভাপতি আবদুল গাফফার বিশ্বাস,রাজশাহী বিভাগের সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুল আউয়াল জ্যোতি, কুমিল্লা জেলার সভাপতি মো কামাল চৌধুরী প্রমুখ।

সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম যখন ধাপে ধাপে বাড়ানো হলো, তখন আমাদের কমিশন কমিয়ে দেওয়া হলো। তেলের দাম বাড়ানো হলে আমাদের কমিশনও বাড়াতে হবে। বাস্তবতা হলো, আমাদের বিনিয়োগ খরচ বেড়েছে, সুতরাং আমাদের কমিশনও বাড়াতে হবে। আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে আমাদের দাবি মেনে কমিশন বাড়াতে হবে। পাশাপাশি গেজেট প্রকাশ করতে হবে। তা না হলে ৩ সেপ্টেম্বর থেকে আমরা অনির্দিষ্টকালের জন্য জ্বালানি তেল উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো হচ্ছে, জ্বালানি তেল বিক্রয় কমিশন ৭ দশমিক ৫০ ভাগ নির্ধারণ করা, পেট্রোল পাম্পের ব্যবসায়ীরা যে কমিশন এজেন্ট তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা এবং ট্যাংক-লরি ভাড়ার ওপর ভ্যাট সংযুক্ত নয়, এ বিষয়ে সু-স্পষ্ট গেজেট প্রকাশ করা।

পাশাপাশি ২৫ বছরের ঊর্ধ্বে ট্যাংক-লরির ইকনোমিক লাইফের জন্য পৃথকভাবে সুস্পষ্ট গেজেট প্রকাশ করতে হবে।




১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল কিনবে সরকার

সিঙ্গাপুর থেকে ১২ হাজার ২৭৬ কোটি টাকায় ১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল কিনবে সরকার। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) এর আওতায় জ্বালানি তেল কিনতে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন দিয়েছে।

বুধবার (১২ জুলাই) অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সচিব সাঈদ মাহবুব খান বিস্তারিত জানান।

তিনি জানান, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) কর্তৃক ২০২৩ সালের জুলাই টু ডিসেম্বর সময়ে আন্তর্জাতিক কোটেশন প্রক্রিয়ায় (১) ইউনিপেক সিঙ্গাপুর পিটিই লি. (প্যাকেজ-এ ও ই) এবং (২) ভিটওল এশিয়া পিটিই লি. (প্যাকেজ বি, সি ও ডি) থেকে সর্বমোট ১৫ লাখ ৮৫ হাজার টন জ্বালানি তেল ১২ হাজার ২৭৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।




মূলধন ৫ হাজার কোটিতে উন্নীত করবে ব্র্যাক ব্যাংক

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড তাদের অনুমোদিত মূলধন ৩ হাজার কোটি টাকা বাড়াবে। ফলে ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ৫ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হবে।

ব্যাংকটির সর্বশেষ বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) শেয়ারহোল্ডারদের সর্বসম্মতিক্রমে এই প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জুন) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসইর তথ্য মতে, ২০০৭ সালে তালিকাভুক্ত ব্যাংকটির পূর্ব ষোষিত এজিএমে ২০২২ সালের জন্য পর্ষদ ঘোষিত ১৫ শতাংশ (৭ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ ও ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ বোনাস শেয়ার) ও অনুমোদিত মূলধন অনুমোদন করা হয়।

এর আগের পরিচালনা পর্ষদ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ সমাপ্ত বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য এ লভ্যাংশ ঘোষণা করে। এর ফলে ব্যাংকটির শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ হিসেবে ১১২ কোটি ২৪ লাখ ৩৮ হাজার ৯৯৬ টাকা দেবে। পাশাপাশি ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ করে বোনাস শেয়ারও দেওয়া হবে।

এর আগের বছরও শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ (সাড়ে ৭ শতাংশ নগদ আর সাড়ে ৭ শতাংশ বোনাস শেয়ার) লভ্যাংশ দিয়েছিল ব্যাংকটি। তার আগের বছর ২০২০ সালে শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ, আর ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দিয়েছিল।

জানানো হয়, ২০২২ সালে সামষ্টিকভাবে ব্র্যাক ব্যাংকের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ৩২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে ৬১২ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা ২০২১ সালে ছিল ৪৬৫ কোটি টাকা। ব্র্যাক ব্যাংক এককভাবে ২০২২ সালে ৫৭৬ কোটি টাকা কর-পরবর্তী নিট মুনাফা অর্জন করেছে, যা ২০২১ সালের ৫৫৫ কোটি টাকার তুলনায় ৩.৯০ শতাংশ বেশি।




‘জ্বালানি তেলে সরকার কোনও ভর্তুকি দেয় না’

সরকার বর্তমানে জ্বালানি তেলে সরাসরি কোনও ভর্তুকি দেয় না বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। বুধবার (৩১ মে) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।

নসরুল হামিদ বলেন, ২০২১-২২ অর্থবছরে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করে। এরপরেও ওই অর্থবছরে বিপিসি প্রায় দুই হাজার ৭০৫ কোটি টাকার লোকসান দিয়েছে। এখানে বিপিসি সরকার থেকে কোনও ভর্তুকি না নিয়েও আগের মুনাফা থেকে এ লোকসান বহন করছে।

তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলমান থাকায় ২০২২-২৩ অর্থবছরেও বিপিসির লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। এ অর্থবছরেও বিপিসি সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি নেয়নি। আগের মুনাফা থেকে লোকসান বহন করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি চালু হওয়ার পর থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত সব ধরনের ট্যাক্স দিয়ে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে তিন হাজার ৫১৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের প্রশ্নের উত্তরে নসরুল হামিদ জানান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড গত ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪৭ কোটি ৮৯ লাখ ৯ হাজার টাকা মুনাফা করেছে। যা ২০২০-২১ অর্থবছরের তুলনায় ১৪ কোটি ৯৩ লাখ ৩১ হাজার টাকা বেশি। ওই অর্থবছরে সরকারের মুনাফা অর্জন করেছিল ৩২ কোটি ৯৫ লাখ ৭৮ হাজার টাকা।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, গ্যাস খাতের উন্নয়নে গত ১৪ বছরে বিদেশি কোম্পানিগুলো ৩ হাজার ৪৮৩ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ বাংলাদেশে করেছে।

সাতটি বিদেশি কোম্পানি দেশে বিনিয়োগ করেছে বলে জানান জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। এর মধ্যে আমেরিকার তেল- গ্যাস কোম্পানি শেভরন সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করেছে বলে জানান তিনি। কোম্পানিটি ২ হাজার ৯৪১ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে উল্লেখ করেন নসরুল হামিদ। যুক্তরাজ্যভিত্তিক কোম্পানি তাল্লো ২৩৬ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন ডলার, একই দেশের কেয়ার্ন এনার্জির বিনিয়োগ ২৪২ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার। চতুর্থ সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করেছে ভারতীয় ওএনজিসি কোম্পানি ৪৫ দশমিক ৯৪ মিলিয়ন ডলার।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কনোকোফিলিপস ৬ দশমিক ২২ মিলিয়ন, অস্ট্রেলিয়ার সান্তোস ৫ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ডলার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পোসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন বাংলাদেশে ৫ দশমিক ৩৩ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

নসরুল হামিদ বলেন, দেশের গ্যাস চাহিদা মেটানোর জন্য এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ এর আলোকে কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি স্থাপন করা হয়। এক্ষেত্রে সরকার/পেট্রোবাংলার কোনও অর্থ ব্যয় হয়নি। তবে এলএনজি ব্যবহারের জন্য পেট্রোবাংলার নির্ধারিত ফ্রি দিয়েছে। ১৫ বছর পর এলএনজি টার্মিনাল দুটির মালিকানা সরকার/পেট্রোবাংলার কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য শাহে আলমের প্রশ্নের উত্তরে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ১ হাজার ১৬৯ দশমিক ৭৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। যার মধ্যে সৌর বিদ্যুৎ থেকে অফ গ্রিডে ৩৫৭ দশমিক ৯ মেগাওয়াট এবং অন-গ্রিডে ৫৭৮ দশমিক ৬৬ মেগাওয়াটসহ মোট ৯৩৫ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।