জেনেক্স ইনফোসিসের প্রথম প্রান্তিকে মুনাফা বেড়েছে ১৭.৩৯ শতাংশ

পুঁজিবাজারে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি জেনেক্স ইনফোসিস পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর, ২০২৫) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য প্রান্তিকে আগের হিসাব বছরের একই সময়ের তুলনায় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) বেড়েছে ১৭.৩৯ শতাংশ।

বুধবার (১৭ নভেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে সোমবার (১৫ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়।

তথ্য মতে, চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ০.৮১ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ০.৬৯ টাকা। সেই হিসেবে কোম্পানিটি শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) বেড়েছে ০.১২ টাকা বা ১৭.৩৯ শতাংশ।

আলোচ্য সময়ে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো (এনওসিএফপিএস) দাঁড়িয়েছে ১.৬৭ টাকা। আগের হিসাববছরের একই সময়ে কোম্পানিটির এনওসিএফপিএস ছিল ০.৯১ টাকা।

২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৩.১৪ টাকায়।




লভ্যাংশ পাঠিয়েছে জেনেক্স ইনফোসিস

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেড গত ৩০ জুন,২০২৩ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের ঘোষিত লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের কাছে পাঠিয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, কোম্পানিটির সমাপ্ত সময়ের জন্য ঘোষিত নগদ লভ্যাংশ বিইএফটিএন সিস্টেমস এবং বোনাস লভ্যাংশ সিডিবিএলের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের কাছে পাঠিয়েছে।

সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটি ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল। এর মধ্যে ৬ শতাংশ নগদ এবং ৪ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ।




রেড সি গেটওয়েকে আইটি অবকাঠামো দেবে জেনেক্স ইনফোসিস

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত তথ্য প্রযুক্তি খাতের কোম্পানি জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেড সৌদি আরবভিত্তিক কোম্পানি রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল বাংলাদেশ লিমিটেড (আরএসজিটি) এর সাথে একটি সেবা প্রদান চুক্তি করেছে।

আজ সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সভায় আলোচিত চুক্তিটি অনুমোদন করা হয়েছে।

কোম্পানি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

সূত্র অনুসারে, জেনেক্স ইনফোসিস চট্টগ্রামে অবস্থিত পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনাল পরিচালনার জন্য রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল বাংলাদেশ লিমিটেডকে আইটি অবকাঠামো তৈরি করে দেবে। এ কাজের মাধ্যমে আগামী এক বছরে জেনেক্স ইনফোসিসের রাজস্ব আসবে ২৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

উল্লেখ, রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল বাংলাদেশ লিমিটেড চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। কোম্পানিটি আগামী ২২ বছর এই টার্মিনাল পরিচালনা করবে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে এ বিষয়ে কোম্পানিটির একটি চুক্তিও হয়েছে।

জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেড আইপিওর মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করে ২০১৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১২০ কোটি টাকা। শেয়ার সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি। সর্বশেষ বছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৩ টাকা ৩২ পয়সা।




ইএফডি যন্ত্র ব্যবহার ও পরিচালনায় এনবিআরের নীতিমালা

রাজস্ব ভ্যাট আহরণে স্বচ্ছতা এবং গতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ইএফডিএমএস) চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট আহরণে এনবিআরের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ডিভাইস বসাবে জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেড।

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ভ্যাট সংগ্রহে গত বছরের নভেম্বরে জেনেক্সের সঙ্গে চুক্তি করে এনবিআর। তবে চলতি বছরের আগস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে ইএফডি কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২৮ আগস্ট) জেনেক্সের জন্য পরিপালন নীতিমালা জারি করেছে এনবিআর।

নীতিমালায় বলা হয়, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর ধারা ১৩৪ এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬ এর বিধি ৪২ এর উদ্দেশ্যপূরণকল্পে এবং বিধি ১১৮ক এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জেনেক্স ইনফোসিসকে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) এবং সেলস ডাটা কন্ট্রোলার (এসডিসি) স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিধান পরিপালনের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আইনের ধারা ১৩৪ অনুযায়ী ইএফডি/এসডিসি স্থাপন, মনিটরিং ও আনুষঙ্গিক কার্যাবলি সম্পাদনের নিমিত্ত দরপত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেডকে সংশ্লিষ্ট দরপত্রে উল্লিখিত সব শর্ত যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে। ভ্যাট যন্ত্র স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহার সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য প্রতিষ্ঠানটি মূসক দপ্তরসমূহ এবং মূসক নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান নিম্নবর্ণিত কার্যাবলী সম্পাদন করিবে।

ভ্যাট যন্ত্র স্থাপনযোগ্য প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রস্তুত অংশে বলা হয়েছে- সংশ্লিষ্ট ভ্যাট অফিস জরিপ করে ইএফডি স্থাপনযোগ্য প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রস্তুত, হালনাগাদ করে বিভাগীয় কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রেরণ করবে। বিভাগীয় কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট ভ্যাট অফিস তালিকা প্রাপ্তির ৭ কার্যদিবসের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটে প্রেরণ করবে। আর কমিশনার, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তালিকা প্রাপ্তির ৭ কার্যদিবসের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে তা জেনেক্সকে পাঠাবে।

প্রশিক্ষণের বিষয়ে বলা হয়েছে- জেনেলস কমিশনারেট থেকে প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটের সহযোগিতায় ভ্যাট যন্ত্র স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি নির্বাচিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ও সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। ভ্যাট যন্ত্র স্থাপন করে এর তথ্য সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটে পাঠাবে জেনেক্স। আর কমিশনার প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে পূর্ববর্তী মাসের তথ্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে পাঠাবে।

মনিটরিং ও প্রচার অংশে বলা হয়েছে- জেনেক্স ভ্যাট যন্ত্রের যথাযথভাবে কর চালানপত্র ইস্যুর বিষয়টি মনিটরিংয়ের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটের কর্মকর্তারা স্থাপিত ইএফডির মাধ্যমে বিক্রয়ের ক্ষেত্রে দৈনিক বিক্রয় তথ্য, মূসক ও সম্পূরক শুল্ক (যদি থাকে) এর পরিমাণ, ইনভয়েসের সংখ্যা ইত্যাদি ড্যাশবোর্ডে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ এবং সেই অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পূর্ব অনুমোদিত ভিডিও ক্লিপ, ডকুমেন্ট বা বিজ্ঞাপন কনটেন্ট দ্বারা প্রয়োজনে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য জেনেক্স প্রচার প্রচারণা করতে পারবে।

সার্ভিস সেন্টার স্থাপন ও মেশিন মেরামত অংশে বলা হয়- দরপত্র অনুযায়ী জেনেক্স প্রয়োজনীয় সংখ্যক সার্ভিস সেন্টার স্থাপন করবে, যন্ত্র সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার উদ্ভব হলে বা যন্ত্রের কোনো যন্ত্রাংশের মেরামত/পরিবর্তন করার প্রয়োজন হলে জেনেক্স তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এছাড়া কোনো ইএফডি যন্ত্র অচল/অকেজো হলে জেনেক্স তা তাৎক্ষণিক (অবহিত হওয়ার সর্বোচ্চ এক দিন) প্রতিস্থাপন করবে ও এই সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট মূসক কর্মকর্তাকে অবহিত করবে। এ লক্ষ্যে জেনেক্সকে পর্যাপ্ত সংখ্যক যন্ত্র মজুত রাখতে হবে। ইএফডি মেশিন অচল/অকেজো থাকা অবস্থায় প্রতিষ্ঠান ম্যানুয়ালি ফরম মূসক ৬.৩ চালান ইস্যু করবে। ইএফডি মেশিন চালু হওয়ার পর উক্ত ইস্যুকৃত চালান ওই মেশিনে এন্ট্রি দিতে হবে।

দরপত্রের শর্তানুযায়ী জেনেক্স জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জারি করা দাখিলপত্র এসডিসি ব্যবহারের মাধ্যমে পেশ করার জন্য ওই সিস্টেমটি ব্যবহার উপযোগী করবে এবং মূসক আইন/বিধি সংক্রান্ত পরিবর্তনের আলোকে তা হালনাগাদ করতে পারবে।

এতে আরও বলা হয়, মূসকযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে মেশিন স্থাপন, মেরামত, কারিগরি বা অন্য যেকোনো সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জেনেক্স কে সহযোগিতা করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান ইএফডি মেশিনে চালান ইস্যু না করলে বা আইন পরিপালন না করলে জেনেক্স তার নিযুক্ত প্রতিনিধি উপযুক্ত প্রমাণসহ অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কমিশনারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবে। ওই তথ্যের আলোকে কমিশনার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।




ব্যবসা বাড়াতে আয়ারল্যান্ডের কোম্পানির সঙ্গে জেনেক্সের চুক্তি

পুঁজিবাজারে তথ্য প্রযুক্তি খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোম্পানিটি আয়ারল্যান্ডভিত্তিক আইটি প্রতিষ্ঠান হোয়ালকো টেকনোলজি লিমিটেডের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে কাজ করবে। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৭ এপ্রিল) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, রাজধানীর নিকুঞ্জে অবস্থিত জেনেক্স ইনফোসিসের কার্যালয়ে এই চুক্তি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় জেনেক্স কোম্পানিটিকে কনটেন্ট ও ডাটা সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা দেবে। এ থেকে জেনেক্স বছরে ৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেড। ‘এ’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১১৫ কোটি ৮১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। সে হিসাবে কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১১ কোটি ৫৮ লাখ ১৭ হাজার ৩২৮টি। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে ৩০.৩৮ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ২৫.৩৯ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৪৪.২৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।