রাজস্ব কাঠামোতে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন চায় ঢাকা চেম্বার

মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) করের অবদান বৃদ্ধিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব কাঠমোর পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন প্রস্তাব করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একইসঙ্গে অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার ২৭.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ, ব্যক্তিখাতে করমুক্ত আয়ের নূন্যতম সীমা ৫ লক্ষ টাকা করা, বাণিজ্যিক আমদানিতে আগাম কর ৭.৫ শতাংশ হতে হ্রাস করে ৫ শতাংশ নির্ধারণ এবং কাস্টমস রিফান্ড ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশনের প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।

আজ (বুধবার) এনবিআরের সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্তির জন্য আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (মূসক) এবং আমদানি শুল্ক খাতে ঢাকা চেম্বারের ৫৪টি প্রস্তাবনার সারসংক্ষেপ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এফসিএমএ’র নিকট পেশ করেন ডিসিসিআইয়ের মহাসচিব (ভারপ্রাপ্ত) ড. একেএম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী।

প্রস্তাবনা উপস্থাপনের শুরুতেই ঢাকা চেম্বারের কাস্টমস ভ্যাট স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক এম বি এম লুৎফুল হাদি বলেন, করজাল সম্প্রসারণ ও রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ ও করের বোঝা হ্রাস, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগে নীতি সহায়তা প্রদানের বিষয়গুলোকে এ বছর ডিসিসিআই জোর দিয়েছে, যার মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাসের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আহরণের হার বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব আসবে বলে মনে করছে বাণিজ্য এ সংগঠনটি।

এসময় ডিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান, পরিচালক এম মোসাররফ হোসেন, ইঞ্জি মোস্তফা কামাল এবং রাশীদ মাইমুনুর ইসলাম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ডিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ড. একেএম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী করজাল সম্প্রসারণ ও রাজস্ব ঘাটতি কমাতে সরকারী সকল সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর ডেটা সমন্বয়ের মাধ্যমে সেন্ট্রাল এপিআই ইন্টিগ্রেশন ব্যবস্থার প্রবর্তন, কোম্পানির আমানতের উৎসে সুদ হার ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা, কোম্পানির নিট সম্পদের উপর আরোপিত সারচার্জ ধাপে ধাপে বিলোপকরনের উপর জোরারোপ করেন। সেই সাথে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে গতি আনায়নের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে পরোক্ষ রাজস্ব আয় বাড়াতে ভ্যাট রিফান্ডের ঊর্ধ্বসীমা বাতিল ও ভ্যাট সংগ্রহ বৃদ্ধিতে মোবাইল অ্যাপ প্রবর্তন সহ সামগ্রিক মূসক কার্যক্রমে অটোমেশনের প্রস্তাব করেন ডিসিসিআই’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

ঢাকা চেম্বারের বাজেট প্রস্তাবনার সাথে একমত পোষণ করে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, এ বছরের বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, শুল্কের হার হ্রাসের চেয়ে নন-ট্যারিফ প্রতিবন্ধকতা নিরসনের ওপর বেশি গুরুত্ব দেবে, যার মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমবে, উদ্যোক্তাদের স্বস্তি আসবে পাশাপাশি দেশের ম্যাক্রো অর্থনীতিতে প্রাণ ফিরে আসবে। তিনি আরও বলেন, সত্যিকারের কমপ্লায়েন্স করদাতাদের ওপর করের বোঝা ও হয়রানি হ্রাসের লক্ষ্যে যারা কর ফাঁকি দিচ্ছেন, তাদের চিহ্নিত করে করের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে কোনো শৈথিল্য গ্রহণ করা হবে না। এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, সরকার ভ্যাটের আওতা বাড়ানোর বিষয়ে এনবিআর বদ্ধ পরিকর।

তিনি উল্লেখ করেন, ভ্যাটের থ্রেসহোল্ড গতবছর ৩ কোটি টাকা থেকে ৫০ লাখে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং বর্তমানে ভ্যাট নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা মাত্র ৮ লাখেরও কম, আমাদের অর্থনীতির সক্ষমতা বিচারে এ সংখ্যা কোটির বেশি হওয়া উচিত। এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, কর্পোরেট করের হার ৫০ শতাংশ হতে ক্রমান্বয়ে কমিয়ে বর্তমানে ২৭.৫ শতাংশ নামিয়ে আনা হয়েছে, এটিকে আরও হ্রাসের আসলেই তেমন সুযোগ নেই, তবে ইফেকটিভ করের হার যেন না বাড়ে তার ওপর বেশি মনোযোগী হওয়া জরুরি। আগামী বছর থেকে কর্পোরেট করের রিটার্ন অনলাইনে প্রদান প্রক্রিয়া চালু হবে পাশাপাশি কর ফেরত (রিফান্ড) প্রদানের ব্যবস্থা অনালইনে নিশ্চিতের কার্যক্রমও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।




চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪.৫ শতাংশ : আইএমএফ

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) কমার আভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৫ শতাংশ হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকে এমন প্রাক্কলন করেছে আইএমএফ। সংস্থাটি প্রতিবছর এপ্রিলে একটি এবং অক্টোবরে আরেকটি ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রকাশ করে।

 

চলতি অর্থবছরের জন্য জিডিপির প্রবৃদ্ধি নিয়ে আইএমএফের আগের পূর্বাভাস ছিল ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে মূল্যস্ফীতি আগেও ৯ দশমিক ৭ শতাংশ হবে বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি।

সর্বশেষ আউটলুকে বলা হয়েছে, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে বিশ্বের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে স্থির থাকবে। আর ২০২৫ সালের পর বৈশ্বিক সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়াবে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে। তথ্য উল্লেখ ছাড়া ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকে অবশ্য বাংলাদেশ নিয়ে আলাদা কোনো পর্যালোচনা বা বিশ্লেষণ নেই।




দ্বিতীয় কোয়ার্টারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৭৮ শতাংশ

পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে দ্বিতীয় কোয়ার্টারে মোট দেশজ উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) হয়েছে ৩.৭৮ শতাংশ। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের দ্বিতীয় কোয়ার্টারের (অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৩) ত্রৈমাসিক প্রবৃদ্ধির হিসেবে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এ তথ্য প্রকাশ করে।

বিবিএস জানায়, বর্তমানে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের দ্বিতীয় কোয়ার্টারের ত্রৈমাসিক জিডিপির হিসাব প্রাক্কলন করা হয়েছে। প্রাক্কলিত হিসাব অনুযায়ী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের দ্বিতীয় কোয়াটারের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৩.৭৮ শতাংশ। যা ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় কোয়ার্টারে প্রবৃদ্ধি ছিল ৭.০৮ শতাংশ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরের দ্বিতীয় কোয়ার্টারে প্রবৃদ্ধি ছিল ৯.৩০ শতাংশ।

সংস্থাটি জানায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের দ্বিতীয় কোয়ার্টারের কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪.৬৫ শতাংশ। যা ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় কোয়ার্টারের ছিল ৪.২২ শতাংশ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরের দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ছিল ২.২০ শতাংশ।

শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩.২৪ শতাংশ। যা ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় কোয়ার্টারের ছিল ১০ শতাংশ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরের দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ছিল ১৪.৫০ শতাংশ।

এছাড়া, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের দ্বিতীয় কোয়ার্টারের সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩.০৬ শতাংশ। যা ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় কোয়ার্টারের ছিল ৬.৬২ শতাংশ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরের দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ছিল ৭.২৫ শতাংশ।

বিবিএস জানায়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো নিয়মিতভাবে জিডিপি প্রাক্কলন করে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবং পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শ মতে বিবিএস ত্রৈমাসিক জিডিপি প্রাক্কলনের কার্যক্রম গ্রহণ করে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বিবিএসও উৎপাদন পদ্ধতিতে কোয়ার্টারলি জিডিপি প্রাক্কলন করছে। তবে, বার্ষিক জিডিপি উৎপাদন ও ব্যয় পদ্ধতিতে প্রাক্কলন ও প্রকাশ করা হয়।




১২ বছরে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ বেড়েছে আড়াই গুণ: বিশ্বব্যাংক

দেশের ঋণ নিয়ে এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হলেও সামগ্রিক ঋণ-জিডিপির অনুপাত এখনও ৪০ শতাংশের নিচে
দেশের ঋণ নিয়ে এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হলেও সামগ্রিক ঋণ-জিডিপির অনুপাত এখনও ৪০ শতাংশের নিচে
১২ বছরে বাংলাদেশের ঋণ আড়াই গুণের বেশি বেড়েছে। আর গত বছরে বেড়েছে ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। বিশ্বব্যাংকের ওয়ার্ল্ড ডেট রিপোর্ট বা বৈশ্বিক ঋণ প্রতিবেদন ২০২৩-এর তথ্যানুসারে, ২০২২ সাল শেষে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৭ দশমিক শূন্য ১২ বিলিয়ন বা ৯ হাজার ৭১২ কোটি ডলার; ২০২১ সালে যা ছিল ৯১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন বা ৯ হাজার ১৪৭ কোটি ডলারের বেশি। সেই হিসাবে এক বছরে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ বেড়েছে সাড়ে ৬ শতাংশের বেশি।

২০২১ সালে বিশ্বের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর সম্মিলিত বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ছিল ৯ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন বা ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি ডলার। ২০২২ সালে ঋণের পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৯ ট্রিলিয়ন বা ৯ লাখ কোটি ডলারে। অর্থাৎ এ সময়ে সম্মিলিতভাবে এসব দেশের বিদেশি ঋণ কমেছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।

২০১৫ সালের পর ২০২২ সালে এই প্রথম নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে নিট ঋণ প্রবাহ কমেছে। ২০২২ সালে এসব দেশ ঋণ পেয়েছে ১৮৫ বিলিয়ন বা ১৮ হাজার ৫০০ কোটি ডলার; ২০২১ সালে যা ছিল ৫৫৬ বিলিয়ন বা ৫৫ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ এই এক বছরে নিট ঋণ প্রবাহ কমেছে ৬৬ দশমিক ৭২ শতাংশ। গত বছর স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি উভয় প্রকৃতির ঋণই কমেছে।

বিশ্বব্যাংকের বৈশ্বিক ঋণ প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, ২০১০ সালে বাংলাদেশের মোট বিদেশি ঋণ ছিল ২৬ দশমিক ৫২ বিলিয়ন (২ হাজার ৬৫২ কোটি) ডলার; ২০১৮ সালে যা ৫৭ দশমিক ১২ বিলিয়ন (৫ হাজার ৭১২ কোটি) ডলার ও ২০২২ সালে তা ৯৭ বিলিয়ন (৯ হাজার ৭০০ কোটি) ডলার ছাড়িয়ে যায়।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০১০ সালের পর ১২ বছরে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ বেড়েছে আড়াই গুণের বেশি। ২০২২ সালে ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক বিনিয়োগের গতি প্রকৃতি বদলে যাওয়ার পরেও বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ বেড়েছে।

উল্লেখ্য, দেশের ঋণ নিয়ে এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হলেও সামগ্রিক ঋণ-জিডিপির অনুপাত এখনও ৪০ শতাংশের নিচে।




এসএমই বাঁচলে দেশ বাঁচবে: ডিসিসিআই সভাপতি

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাত বাঁচলে দেশ বাঁচবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ব্যারিস্টার সমীর সাত্তার।

শনিবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা চেম্বার আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা এসএমইতে চাহিদার তুলনায় কম অর্থ দিচ্ছে অনেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। সামগ্রিকভাবে এ শিল্পে মোট জিডিপিতে ভালো অবস্থান রয়েছে। এসএমই খাত বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আর দেশ বাঁচলে আমরা (উদ্যাক্তা ও ব্যবসায়ী) বাঁচবো।

ব্যারিস্টার সমীর সাত্তার বলেন, অনেক ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এসএমই উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন করে থাকে। তবে চাহিদার তুলনায় খাতটি অনেক কম অর্থের জোগান পায়। সম্ভাবনা থাকার পরও বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য এসএমই খাতের উদ্যোক্তারা পর্যাপ্ত অর্থ পাচ্ছে না।

তিনি বলেন, এসএমই খাত দেশের শিল্পে কর্মসংস্থান এবং মূল্য সংযোজনে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে। এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করছে। এসএমই দেশের জিডিপিতে ২৮ শতাংশ অবদান রাখে। খাতটি বেসরকারি খাতে ৯০ শতাংশ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে। এটি দেশের দারিদ্র্য কমিয়ে জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, অন্যান্য দেশের জিডিপিতে এসএমই খাত আমাদের চেয়ে অনেক বেশি অবদান রাখে। ইন্দোনেশিয়ায় মোট জিডিপির ৬১ শতাংশ, চীনে ৬০ শতাংশ, জাপানে ৫৫ শতাংশ, জার্মানিতে ৫৮ শতাংশ এবং ভিয়েতনামে ৪৫ শতাংশ এসএমই খাতের অবদান। আমাদের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য জিডিপিতে এসএমইর অবদান বাড়াতে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এসময় কূটনৈতিক ও খাত সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা বক্তব্য রাখেন।




জিডিপিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এলিভিটেড এক্সপ্রেসওয়ে

ঢাকা এলিভিটেড এক্সপ্রেসওয়ে বা উড়াল সড়ক বাংলাদেশে বিনিয়োগ সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিতের পাশাপাশি জিডিপিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে ডিসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার এমন মন্তব্য করে সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সব মহলকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

ঢাকা চেম্বার সভাপতি বলেন, ঢাকা শহর প্রতিনিয়ত নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে, তার মধ্যে যানজট সমস্যাটি অন্যতম। এটি আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বর্তমান সরকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৃহৎ প্রকল্পসমূহ যেমন পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর, কর্ণফুলী নদীর নিচ দিয়ে বঙ্গবন্ধু টানেল, পদ্মা সেতুসহ বেশকিছু ফাস্ট ট্র্যাক বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ ও দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

তিনি বলেন, উড়াল সড়কটির প্রথম অংশের কাজের উদ্বোধন আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও বেগবান করবে, ঢাকার পরিবহন সংযোগকে গতিশীল করার সাথে সাথে যানজট নিরসন, যানজট দ্বারা সৃষ্ট অন্যান্য চ্যালেজ্ঞ দূরীকরণ এবং অন্তর্ভূক্তিমূলক উন্নয়নে নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটাবে। অবকাঠমোখাতের বহুল প্রত্যাশিত এ বৃহৎ প্রকল্পটি স্থানীয় সাপ্লাই চেইন নেটওয়ার্ক ও ব্যবসায়ী কার্যক্রমে অসামান্য অবদান রাখবে।

সামীর সাত্তার বলেন, যাত্রী, সাধারণ জনগণ, বিনিয়োগকারী এবং ঢাকার উদ্যোক্তাগণ এই প্রকল্প থেকে আগামী দিনগুলোতে বেশ উপকৃত হবেন কারণ এটি স্থানীয় অন্তঃসংযোগ জোরদার করার পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন যান চলাচল নিশ্চিত করবে এবং নগরবাসীর ওপর ট্রাফিক জ্যামের নেতিবাচক প্রভাব অনেকটাই কমিয়ে আনবে।

বর্তমান সরকারের ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পসমূহের আওতাধীন যোগাযোগ অবকাঠামোর এ বিশাল প্রকল্পটি ঢাকা শহরের যানজট নিরসনের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন যান চলাচলে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, যা রাজধানীতে বসবাসকারী সাধারণ জনগণসহ উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের সার্বিক কার্যক্রমে বহুমাত্রিক পরিবর্তন আনবে। যানজটের কারণে পূর্বে যে শ্রমঘণ্টা নষ্ট হতো তা অনেকাংশে কমে আসবে বলে তিনি ধারণা করেন।

ডিসিসিআই সভাপতি উল্লেখ করেন, রাজধানীর পরিবহন যোগাযোগ ব্যবস্থায় ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারায় ঢাকা এলিভিটেড এক্সপ্রেসওয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নিয়ে আসবে। এটি আমাদের স্থানীয় ও রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন নির্ভর অর্থনৈতিক বিকাশের লক্ষ্য অর্জনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করবে। বহুল প্রত্যাশিত এ উড়াল সড়কটি রপ্তানিকারকদের গাজীপুর এবং সাভার থেকে উৎপাদিত পণ্য স্বল্প খরচে ও দ্রুততম সময়ে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে পৌঁছাতে সাহায্য করবে, যা আমাদের স্থানীয় বাণিজ্যের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশসমূহের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে।

সামনের দিনগুলোতে এটি দেশের অবকাঠামোগত এবং অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর অবদান রাখবে বলেও ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ব্যারিস্টার সামীর সাত্তার আশা প্রকাশ করেন।




মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন

২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন হয়েছে মন্ত্রিসভায়।

বৃহস্পতিবার (১ জুন) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। এখন প্রস্তাবিত বাজেটে সই করবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট সংসদে পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

অর্থমন্ত্রী যে বাজেট বক্তব্য দেবেন তার শিরোনাম দেওয়া হয়েছে- ‘উন্নয়নের অভিযাত্রায় দেড় দশক পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের অভিমুখে।’

আগামী এক বছর দেশ পরিচালনার সার্বিক আয়-ব্যয়ের হিসাব রয়েছে এই বাজেটে। এটি আওয়ামী লীগ সরকারের ২৩তম ও বাংলাদেশের ৫২তম বাজেট। প্রস্তাবিত বাজেট ২৬ জুন অনুমোদন হবে আর ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছর শুরু হবে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। বিশাল এ বাজেটের ঘাটতি ২ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা। আর অনুদান ছাড়া ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা; যা মোট জিডিপির ৫ দশমিক ২ শতাংশ।

প্রস্তাবিত এ বাজেটে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ঠিক করেছে সাড়ে ৭ শতাংশ।




বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫.২ শতাংশ : বিশ্বব্যাংক

চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৫.২ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তবে ২০২৪ সালে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বেড়ে হবে ৬.২ শতাংশ। সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.৫০ শতাংশ হওয়ার কথা রয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিশ্বব্যাংকের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদায়েল সেক। এ সময় অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনসহ সংস্থাটির ঢাকা অফিসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর জানান, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিতে পড়েছে। তবে গত কয়েক বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির চাপ, রাজস্ব ঘাটতি এই চ্যালেঞ্জের অন্যতম কারণ।

তিনি বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা বিশ্বের দেশগুলোকে প্রভাবিত করেছে। বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে সংস্কারে সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে। বাংলাদেশে পণ্যের উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতির চাপে অবদান রেখেছে। ব্যালেন্স অব পেমেন্ট ঘাটতি চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে ৭.২ বিলিয়নে পৌঁছেছে। যা ২০২২ সালে ছিল ৫.৩ বিলিয়ন। যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ তৈরি করেছে।

বিশ্বব্যাংক জানায়, অভ্যন্তরীণ থেকে উচ্চতর অর্থায়নের ফলে আর্থিক ঘাটতি ২০২৩ সালে বিস্তৃত হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশকে নিয়ে মূল্যায়ন করেছে। সেখানে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ বাংলাদেশকে ঋণ সংকটের কম ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানায়। বিশেষ করে রপ্তানি বহুমুখীকরণের জন্য বাণিজ্য প্রতিযোগিতার উন্নতি বাংলাদেশের অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে বলেও উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ বার্নার্ড হ্যাভেন বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের প্রায় ৮৩ শতাংশ যোগান হচ্ছে। ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জনে এ দেশের রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি প্রতিযোগিতার উন্নতি করতে হবে।

 

 




জিডিপিতে ৩.৬ শতাংশ অবদান রাখে এভিয়েশন খাত

বাংলাদেশেএভিয়েশন খাত জিডিপিতে ৩.৬ শতাংশ অবদান রাখে বলে জানিয়েছেন সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান।

রোববার (১৯ মার্চ) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ মনিটর ও টেকনোনেক্সটের আয়োজনে অনুষ্ঠিত জব অ্যান্ড ক্যারিয়ার ফেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।

 

এম মফিদুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার ৫২ বছর পূর্তিতে প্রথমবারের মতো এমন একটি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ইতোমধ্যে এভিয়েশন খাত অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বর্তমানে আমাদের চারটি এয়ারলাইন্স আছে। ৩০টি আন্তর্জাতিক রুটে বিমান চলাচল করে। ৫৩টি দেশের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। বেড়েছে যাত্রীর সংখ্যা। বর্তমানে এভিয়েশনে যাত্রীর সংখ্যা ৮০ লাখ। আশা করা হচ্ছে, ২০৩৫ সাল নাগাদ সেটি দ্বিগুণ হয়ে ১ কোটি ৬০ লাখে পৌঁছাবে।

চাকরিপ্রার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রতি ১ হাজার জন যাত্রীর জন্য গড়ে ৪-৫ জন বিমানকর্মী প্রয়োজন হয়। আকাশপথে যারা চলাচল করে তাদের ৬০ শতাংশ হচ্ছে ট্যুরিস্ট। ৩৫ শতাংশ যাতায়াত করে ব্যবসায়িক কাজে। অর্থাৎ যে পরিমাণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়েছে, সেটি পরিচালনা করার জন্য প্রচুর জনবল দরকার। সে লক্ষ্যে এভিয়েশন ইউনিভার্সিটি করা হয়েছে,কলেজ পর্যায়ে পাঠদান করা হচ্ছে। ট্যুরিজম ও এভিয়েশন একে অপরের সঙ্গে জড়িত। আমরা আশা করি, এভিয়েশন খাত ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফখরুল ইসলাম ও দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম।

কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, যারা এভিয়েশন, আতিথেয়তা ও ভ্রমণ শিল্পে ক্যারিয়ার করতে আগ্রহী, তাদের জন্যই এই মেলা। দেশের ক্রমবর্ধমান ভ্রমণ শিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বিপুল সংখ্যক দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন। এ মেলাটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে দেশের তরুণ প্রজন্মকে এই সেক্টরে আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে।

১৯-২০ মার্চ দুই দিনব্যাপী আয়োজিত জব অ্যান্ড ক্যারিয়ার মেলায় ভ্রমণ ও পর্যটন শিল্পে যোগ দিতে আগ্রহীরা চাকরিদাতাদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ ও সিভি জমা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এবারের মেলায় এয়ারলাইন, হোটেল ও ট্রাভেল এজেন্সিসহ ৪৬টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।

মেলায় বিভিন্ন বিষয়ের ওপর তিনটি ক্যারিয়ার গাইডেন্স সেমিনার হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে।




সংকট উত্তরণে সহজ শর্তে অর্থায়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বের সংকটময় পরিস্থিতিতে অনেক উন্নয়ন অংশীদার সুদের হার বাড়িয়ে দিচ্ছে, ব্যবসায়িক অংশীদাররা অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করছে, যা আমাদের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সংকট উত্তরনে সহজ শর্তে অর্থায়ন ও এর সুদহার কমাতে উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে বাংলাদেশ ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এই কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য একে একে আমরা অর্জন করছি; দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মাতৃ মৃত্যু-শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস, স্বাক্ষরতার হার ও গড় আয়ু বৃদ্ধি, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, লিঙ্গ সমতা অর্জনে বাংলাদেশ অসামান্য অর্জন করেছে। এত অল্প সময়ে, মাত্র ১৪ বছরের মধ্যে আমরা এই অগ্রগতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে জিডিপির আকারে বাংলাদেশ ৩৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। ধারাবাহিকভাবে এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সাল জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি অর্জনের সময়, আমরা তার মধ্যে ২৮তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারব বলে আশা রাখি। ২০৩৬ সালে ২৪তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে এটাও আমাদের আশা।

বিশ্ব সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্ব একাধিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। আমরা এই ভূ-রাজনৈতিক সংকটের শিকার হলেও এর জন্য বাংলাদেশ—আমরা কিন্তু মোটেই দায়ী নই। বরং আমাদের কষ্টার্জিত অর্জনগুলো নস্যাৎ করছে এবং আমাদের একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা সত্যি এই সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধানও দেখতে পাচ্ছি না। এটা শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে না। সারা বিশ্বব্যাপী এই সমস্যাটা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো আরও কষ্ট পাচ্ছে। বেশির ভাগ দেশে খাদ্য ঘাটতি, জ্বালানি ও আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে। যার ফলে মুদ্রার অবমূল্যায়ন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অবক্ষয় এবং মূদ্রাস্ফীতি আরও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটা সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এডিবি আমাদের উন্নয়ন সহযোগী। গত ৫০ বছরে আমাদের উন্নয়নে এডিবির বিশেষ সহযোগিতা রয়েছে। এডিবির এই উদার সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতার পাশাপাশি সংকটকালীন সময়ে সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।