সংসদের প্রথম অধিবেশন ইতিহাসের সবচেয়ে সফল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদ্য সমাপ্ত প্রথম অধিবেশন দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অধিবেশন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (৪ মে) সচিবালয়ে বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটির প্রথম সভা শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হয়েছে। গতকাল বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, প্রথম অধিবেশন আসলে ব্যর্থ হয়েছে। সংস্কারের প্রস্তাবনা বা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে তারা আবার রাজপথে যাবেন এবং বলেছেন ‘৭২-এর সংবিধান আঁকড়ে ধরার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার পথ আপনারা প্রশস্ত করছেন। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো তো সবই পুরোনো অভিযোগ। আজ নতুন তো নয়। এখন একজন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তার মতামত উনি দিতেই পারেন। আমরা তো আমাদের বক্তব্য দিয়েছি।’

 

তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের মধ্যে সবচেয়ে সফল অধিবেশন ছিল এই অধিবেশন। দীর্ঘ ১৭ বছর পরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত এই পার্লামেন্ট। এই পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন ছিল সবচাইতে লাইভলি, ভাইব্রেন্ট। এই পার্লামেন্টের কন্ট্রিবিউশন ছিল ইতিহাসের মধ্যে সবচাইতে বেশি। সবচাইতে বেশি আইন প্রণয়ন হয়েছে এই পার্লামেন্টে। সবচাইতে বেশি বিতর্ক না হলেও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বিতর্ক হয়েছে এই পার্লামেন্টে। এখানে পজিশন ছিল, অপজিশন ছিল। সবার বক্তব্য ছিল, কিন্তু ভ্রাতৃত্বপূর্ণ একটা সম্পর্ক ছিল, সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।’

‘সুতরাং সবকিছু মিলিয়ে আমরা কোনো কোনো সময় বিরোধীদল এবং সরকারি দল মিলে একসঙ্গে কমিটি করেছি, সেটা জাতি দেখেছে এবং জাতীয় ইস্যুগুলোতে আমরা একসঙ্গে কথা বলেছি ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ থাকতেই পারে বিরোধীদল এবং সরকারি দলের মধ্যে। সেই মতবিরোধগুলো তারা প্রকাশ করেছে। আমরা আমাদের মত দিয়েছি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই বিতর্কটা তো হবেই। দ্বিমত এবং ভিন্নমত প্রকাশ করার জন্যই তো এই গণতন্ত্র। সুতরাং তার বক্তব্য তিনি দিয়েছেন। আমার বক্তব্য আমি দিলাম।’




পুলিশের জ্বালানি রেশনিং তুলে নেওয়া হয়েছে : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সংসদ নেতা জানিয়েছেন, পুলিশসহ জরুরি সেবায় নিয়োজিত বাহিনীর ওপর আরোপিত জ্বালানি তেলের সীমাবদ্ধতা বা রেশনিং ইতোমধ্যে তুলে নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জনগণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে দুই দিন আগেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।

রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর এক পয়েন্ট অব অর্ডারের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

কুমিল্লার একজন কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যার ঘটনা এবং পুলিশের টহল কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে ‘তেল সংকট’ ও ‘রেশনিং’ এর বিষয়টি সংসদে উত্থাপিত হলে প্রধানমন্ত্রী ফ্লোর নেন।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্য যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, বিষয়টি আমরা এরইমধ্যে অ্যাড্রেস করেছি। পুলিশসহ ইমার্জেন্সি বাহিনী যারা আছে, পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার ব্রিগেড, তাদের ওপর থেকে যে এমবার্গো (নিষেধাজ্ঞা) ছিল, তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুই দিন আগেই এই সিদ্ধান্ত আমরা গ্রহণ করেছি এবং বিষয়টি ক্লিয়ার করে দেওয়া হয়েছে। আশা করি এই সমস্যা আর হবে না।

এর আগে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, জ্বালানি তেলের রেশনিংয়ের অজুহাতে পুলিশ রাতে টহল কমিয়ে দিয়েছে, যার ফলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।




নারীদের অংশগ্রহণে আরও শক্ত অবস্থানে যাবে পুঁজিবাজার – ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, দেশের পুঁজিবাজারে আরও বেশি ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে নারীদের। নারীদের অংশগ্রহণে পুঁজিবাজার আরও শক্ত অবস্থানে যাবে। পুঁজিবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ অধিকতর করার লক্ষ্যে আজকের যে অনুষ্ঠান এজন্য আমি বিএসইসিকে অভিনন্দন জানাই।

বুধবার (২২ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে পুঁজিবাজারে নারী ও স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী পুরস্কার ২০২৩ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আব্দুর রহমান খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএসইসি কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ আর ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কমিশনার ড. রুমানা ইসলাম।

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়নে আজ বিশ্বের রোল মডেল। প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ফলেই আজ বাংলাদেশ শীর্ষে অবস্থান করছে। ক্ষমতায়ন একটি সামাজিক বিষয়। অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নারীরা সম্পৃক্ত রয়েছেন। বাংলাদেশের শ্রম বাজারের নারীদের অংশগ্রহণ রয়েছে। এছাড়া আরএমজি সেক্টরে নারীদের বিশাল অংশগ্রহণ রয়েছে। এছাড়া দেশের প্রত্যেকটি সেক্টরে আমাদের নারীরা বিভিন্ন পদে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছেন।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে নারীদের সেভাবে অংশগ্রহণ বাড়াতে পারিনি। শতকরা ২৪ ভাগ নারীদের অংশগ্রহণ পুঁজিবাজারে৷ ২০০৭ সালে যা সাড়ে ৭ লাখ ছিল তা কমে ৪ লাখের কাছাকাছি নেমে এসেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারীদের পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণ অনেক বেশি। তাই এই বিষয়টিকে নিয়ে এনালাইসিস করার সুযোগ আছে। তাই আমি মনে করি যেহেতু নারীরা প্রতিটি খাতে নারীরা ভূমিকা রাখছে, সেহেতু পুঁজিবাজারেও নারীরা আরও ভালো ভূমিকা রাখতে পারবে। এর মাধ্যমে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়টিও অনেক বেশি শক্ত হবে।

অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান বলেন, পুঁজিবাজার দেশের অর্থনীতির জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ১৯৭২ সালে দেশের অর্থনীতিকে পুনরূদ্ধার করার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন ডিজিটাল বাংলাদেশ না হলে আমাদের ট্রানজেকশনগুলো হতো না।

 

অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তিগত দিকে অনেক মনোযোগ দিয়েছেন। অনলাইন ট্রেডিং সিস্টেম থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত উন্নয়ন আমাদের পুঁজিবাজারে হয়েছে। সিডিবিএলে নারীদের বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা অনেক কম। নারীরা ঘরের বাইরে সর্বত্র এগিয়ে। নারীরা বাস্তবিক। তারা মাল্টি টাস্কিং করতে পারেন। সংসার চালান পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়গুলোও তারা দেখভাল করে থাকেন।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আব্দুর রহমান খান বলেন, আমাদের স্টক মার্কেটে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কম হবার কারণ হচ্ছে যেসব কোম্পানি বাজারে এসেছে সেগুলো ভালো পারফর্ম করতে পারেনি। আমরা যারা সুযোগ দিয়েছি যেসব কোম্পানিকে সেগুলোকে আমরা সহনীয় হয়ে সুযোগ দিয়েছি। সেক্ষেত্রে সম্পূর্ণ রুলস মেনে সিদ্ধান্তগুলো নিতে হবে। এই কাজটি শুরু করতে হবে খুব তাড়াতাড়ি। যেগুলো কোম্পানি অনেকগুলোর শেয়ার ১০ টাকার গুলো ৫ টাকায় নেমে আছে। যেসব ভালো কোম্পানি ভালো ব্যবসা করে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিচ্ছে তাদের শেয়ারের দাম কিন্তু কমছে না। তাই আমাদের কোম্পানি অনুমোদন দেওয়ার আগে বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সচিব বলেন, বিএসইসি বিনিয়োগকারীদের কাস্টডিয়ান। আপনাকে যদি আস্থাযোগ্য কাস্টডিয়ান হতে হয় তাহলে বিনিয়োগকারীদের আপনাদের ওপর আস্থা থাকতে হবে। মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করলে লস নেই। কারণ যেসব প্রতিষ্ঠান মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করেন তারা অনেক দক্ষ।




দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কাজ করছে ইউসেপ বাংলাদেশ: স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কারিগরি শিক্ষা ও শোভন কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইউসেপ নামক ‘কর্মজীবী বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠায় পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন। তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে ইউসেপ বাংলাদেশ।

ইউসেপ’র সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বুধবার (২২ মে) রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কনভেনশন হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুদের উন্নয়ন, সুরক্ষা ও বিকাশের পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন। যুবসমাজকে কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ করে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগাতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও সমান সুযোগ দিতে হবে।

উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তরুণ প্রজন্ম নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। তিনি বলেন, দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্য নিয়ে ইউসেপ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। অস্বচ্ছল পরিবারের সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা আজ কর্মসংস্থানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন- এটাই ইউসেপের সফলতা।

এসময় স্পিকার ইউসেপের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্প্রসারণে সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং ইউসেপের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।

ইউসেপ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মো আলাউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্যসচিব আব্দুল করিম। ইউসেপ বোর্ড অব গভর্নরসের সাবেক চেয়ারম্যান পারভীন মাহমুদ, ইউসেপ অ্যাসোসিয়েশনের সম্মানিত সদস্য জেবা রশীদ চৌধুরী, এফবিসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলমসহ সম্মানিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশে কানাডার হাইকমিশনার লিলি নিকলস এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে ইউসেপ বাংলাদেশের বোর্ড অব গভর্নরসের ডিরেক্টর, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন স্তরের সদস্য, ছাত্র-ছাত্রী, দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, আমন্ত্রিত অতিথি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




‘টেকসই পন্থায় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপায় রয়েছে’

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, অন্তর্ভূক্তিমূলক উন্নয়নের কারণে বৈশ্বিক মন্দার ভেতরেও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন হচ্ছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালের মধ্যেই বাংলাদেশের এলডিসি লিস্ট থেকে উত্তরণ হবে।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা ডিক্লারেশন’-এ টেকসই পন্থায় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার উপায় রয়েছে।

সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব প্ল্যানার্স আয়োজিত ‘৩য় ইন্ট্যারন্যাশনাল কনফারেন্স অন আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) এর প্রেসিডেন্ট মো. ফজলে রেজা সুমনের সভাপতিত্বে ‘ঢাকা ডিক্লারেশন’ এর ওপর মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ মেহেদী আহসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে জাইকা বাংলাদেশের চিফ রিপ্রেজেনটেটিভ ইচিগুচি তমহিদি, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশ প্রতিনিধি এম্বাসেডর চার্লস হোয়াইটলি এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র জায়েদা খাতুন বক্তব্য রাখেন।

স্পিকার বলেন, জাতীয় ও বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে টেকসই উন্নয়নের জন্য স্থানিক পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি জেলা ও উপজেলার স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়নের পর্যায়গুলোতে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব প্ল্যানার্সকে সম্পৃক্ত করার ব্যাপারে নিজের মতামত প্রদান করেন।

তিনি আরও বলেন, পরিকল্পনাবিদদের সমাজের প্রতিটি শ্রেণির মানুষের চাহিদার কথা মাথায় রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

এসময় স্পিকার ‘ঢাকা ডিক্লারেশন’ অফিসিয়াল ঘোষণা দেন এবং এ অনুষ্ঠানের জন্য আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব প্ল্যানার্স এর অর্থায়নে ঢাকা ব্যাংকের একটি ক্রেডিট কার্ড উদ্বোধন এবং ‘স্পেশিয়াল প্ল্যানিং ফ্রেমওয়ার্ক’ নামক একটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন।




শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডিতে কারুশিল্প পরিষদ পরিদর্শন করেছেন স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ আবহমানকাল থেকেই হস্ত ও কারুশিল্পে সমৃদ্ধ। তিনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় হস্তশিল্পের সংরক্ষণ, উন্নয়ন, ও প্রচারে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে হবে।

শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্পিকার শনিবার শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডিতে অবস্থিত জাতীয় কারুশিল্প পরিষদের দপ্তর ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, সারা বিশ্বে হস্ত ও কারুশিল্পের চাহিদা রয়েছে। তাই হস্ত ও কারুশিল্পীদের স্বীয় পেশায় সংযুক্ত রাখতে প্রশিক্ষণ প্রদানসহ তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার জনগণের মধ্যে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক এবং হস্ত ও কারুশিল্পে সাদৃশ্য রয়েছে উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, হস্ত ও কারুশিল্পে উভয় দেশের মধ্যে বর্তমানে বিদ্যমান সম্প্রীতি ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে জোর দিতে হবে।

জাতীয় কারুশিল্প পরিষদের দপ্তর ও বাটিক, রাশ ও রিড, হ্যান্ডলুম এবং ববিন লেস প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনকালে প্রশিক্ষণার্থীরা স্পিকারকে বাটিক কাপড়সহ বিভিন্ন পণ্য তৈরির প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন। স্পিকার প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এবং তাদের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।

পরিদর্শনকালে শ্রীলঙ্কায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারেক মো. আরিফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরীসহ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদের কর্মকর্তারা, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।




৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট পাস

বর্তমান সরকারের চলমান উন্নয়ন বজায় রাখা ও উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে।

সোমবার (২৬ জুন) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল চলতি অর্থবছরের বাজেট পাসের জন্য প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

জাতীয় সংসদে গত ১ জুন ‘উন্নয়নের অভিযাত্রার দেড় দশক পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা’ প্রতিপাদ্য সংবলিত এ বাজেট তিনি প্রস্তাব করেন।

বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় মন্ত্রীরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের যৌক্তিকতা তুলে ধরে সংসদে মোট ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি উত্থাপন করেন। এই মঞ্জুরি দাবিগুলো সংসদে কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়। এসব মঞ্জুরি দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে বিরোধীদল ও স্বতন্ত্ররা মিলে ১০ জন সংসদ সদস্য মোট ৫০২টি ছাঁটাই প্রস্তাব তোলেন। এর মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়, এ দুটি মঞ্জুরির দাবিতে আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনা করেন। পরে কণ্ঠভোটে ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়ে যায়।

ছাঁটাই প্রস্তাবে আলোচনা করেন, জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম, কাজী ফিরোজ রশীদ, রুস্তম আলী ফরাজী, রওশন আরা মান্নান, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, পীর ফজলুর রহমান, গণফোরামের মোক্কাবির খান ও স্বতন্ত্র সদস্য রেজাউল করিম বাবলু।

এরপর সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২৩ পাসের মাধ্যমে ২০২৩- ২৪ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন করেন। এর আগে গতকাল ২৫ জুন সংসদে অর্থবিল ২০২৩ পাসের মাধ্যমে বাজেটের আর্থিক ও কর প্রস্তাব সংক্রান্ত বিধি-বিধান অনুমোদন করা হয়।

এদিকে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের বাজেটে পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ২৮১ কোটি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ লাখ ৭৭ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা। নতুন অর্থবছরের জিডিপি হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭.৫ শতাংশ। মোট জিডিপির পরিমাণ ধরা হয়েছে ৫০ লাখ ৬ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা।

এবারের বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ৫ দশমিক ২ শতাংশ। ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা সংগ্রহের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

রাজস্ব হিসেবে ৫ লাখ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সংগ্রহ করবে ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে আরও ৭০ হাজার কোটি টাকা।

২০২২-২৩ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা, যা আগামী অর্থবছরের চেয়ে ৬৭ হাজার কোটি টাকা কম। প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যয়ের খাতগুলোর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার ২৮১ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ২ লাখ ৭৭ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা।

নতুন অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার যেভাবেই হোক আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির লাগাম ৬ শতাংশের মধ্যে টেনে রাখতে চায়। নতুন অর্থবছরের জিডিপি হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭.৫ শতাংশ। মোট জিডিপির পরিমাণ ধরা হয়েছে ৫০ লাখ ৬ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৮ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা বেশি বৈদেশিক ঋণ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নেওয়া হবে। ঋণগ্রস্ত বেশি হওয়ায় অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধের জন্য বেশি টাকা গুনতে হবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে। বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা, যোগাযোগ অবকাঠামো, ভৌত অবকাঠামো, আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, কৃষি, মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।




প্রতিকেজি সিদ্ধ চালের দাম ৪৪ টাকা : খাদ্যমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, চলতি মৌসুমে ( ২০২৩ ) ধান, সিদ্ধ চাল ও গম সংগ্রহের জন্য সরকার মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। এগুলো হলো, ধান প্রতি কেজি ৩০ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৪ টাকা ও গম প্রতি কেজি ৩৫ টাকা।

সোমবার (২৬ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য আদিবা আনজুম মিতার প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী। সংসদ অধিবেশনে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুীর সভাপতিত্ব করেন।

নোয়াখালীর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের অপর এক প্রশ্নের জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) ও গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় দেশের অধিক বজ্রপাত প্রবণ ১৫টি জেলায় ৩৩৫টি বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৫ জেলায় বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৬ হাজার ৭৯৩টি বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপনের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করে অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে এগুলো স্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।