মোটরসাইকেলে অগ্রিম আয়কর প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

আসন্ন ২০২৬-২৭ বাজেটে মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার দাবিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সামনে মানববন্ধন করেছেন মোটরসাইকেল চালকরা। তারা অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

রোববার (১৭ মে) দুপুর ১২টার দিকে মোটরসাইকেল চালকরা এনবিআর ভবনের সামনের সড়কে সারিবদ্ধভাবে মোটরসাইকেল রেখে কর্মসূচি পালন করেন।

 

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া চালকরা জানান, আগামী (২০২৬-২৭) অর্থবছরের বাজেটে মোটরসাইকেল মালিকদের ওপর নতুন করে অগ্রিম কর (এআইটি) বা বাড়তি শুল্ক আরোপের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই তারা রাস্তায় নেমেছেন।

তাদের দাবি, মোটরসাইকেল এখন আর কোনো বিলাসবহুল পণ্য নয়; বরং সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও জীবিকার অন্যতম প্রধান মাধ্যম।

 

এ কে এম ইমন নামের একজন চালক বলেন, ‘একটি মোটরসাইকেল কেনার সময়ই আমাদের মোটা অঙ্কের শুল্ক ও ভ্যাট দিতে হয়। এরপর নতুন করে আবার কর আরোপ করা হলে তা সাধারণ মানুষের ওপর মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়াবে। আমরা চাই এই সিদ্ধান্তের পরিকল্পনা থেকে সরে আসুক।’

চালকরা জানান, গত কয়েক মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। নতুন করে কর আরোপ করা হলে তা সাধারণ ব্যবহারকারীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। তাই মোটরসাইকেল করমুক্ত রাখার আহ্বান জানান তারা।




কর ব্যবস্থাকে আরও ব্যবহারবান্ধব করতে কাজ করছে সরকার : এনবিআর চেয়ারম্যান

দেশের কর ব্যবস্থাকে আরও ব্যবহারবান্ধব করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান।

রোববার (২৬ এপ্রিল) ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

ঢাকাস্থ আইসিএমএবির রুহুল কুদ্দুস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা সবসময় গঠনমূলক প্রস্তাবনা ও পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করি। কর ব্যবস্থাকে আরও সহজ করতে সরকার অতিরিক্ত পরিশোধিত কর ফেরতের প্রক্রিয়া উন্নত করছে। পাশাপাশি করদাতাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ই-ট্যাক্স রিটার্ন সিস্টেমের সঙ্গে ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংযুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

এতে স্বাগত বক্তব্য রাখনে আইসিএমএবির সেমিনার ও কনফারেন্স কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমেদ। তিনি অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়নে সমন্বিত আলোচনার ওপর গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য রাখেন। কর নীতির সংস্কার নিয়ে আলোচনা করেন এনবিআরের সাবেক সদস্য (কর) রঞ্জন কুমার ভৌমিক। প্রস্তাবিত ভ্যাট সংস্কার ও অব্যাহতি বিষয়ে আলোচনা করেন এনবিআরের প্রথম সচিব (ভ্যাট নীতি ও ভ্যাট অব্যাহতি) মশিউর রহমান। ট্যাক্স ভেরিফিকেশন সিস্টেমসহ (টিভিএস) অন্য গুরুত্বপূর্ণ কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত বিষয়গুলোর ওপর আলোচনা করেন এমএম অ্যান্ড কোং-এর সিইও মো. মহিমন।

আইসিএমএবি সভাপতি কাওসার আলম বলেন, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিনির্ভর বাজেট পেতে দেশের কর-জিডিপির অনুপাত বৃদ্ধি, করের পরিধি সম্প্রসারণ, আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।




গত ৩ বছরে প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ: বিজিএমইএ

গত তিন বছরে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। এ ছাড়া আরও বহু কারখানা আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। এমন অবস্থায় আগামী জাতীয় বাজেটে সরকারের কাছে নীতি সহায়তা চেয়েছে বিজিএমইএ।

রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে প্রাক বাজেট আলোচনা সভায় বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। এনবিআর চেয়ারম্যান ছাড়াও বিকেএমইএ, বিটিএমএ, বিজিএপিএমইএ, বিজিবিএ’র শীর্ষ নেতারা সভাউপস্থিত ছিলেন।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, তৈরি পোশাক খাত বর্তমানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বৈশ্বিক মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শুল্কের প্রভাবে রপ্তানি নিম্নমুখী। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারিতে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় মোট পোশাক রপ্তানি আয় ৩.৭৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিশেষভাবে ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে রপ্তানি নিম্নমুখী, অর্থাৎ কারখানাগুলো পরিমিত সভায় ক্ষমতায় চলতে পারছে না, ফলে ফিক্সড কস্ট আনুপাতিক হারে বেড়েছে এবং অন্যান্য ব্যয় বেড়ে গেছে।

বিজিএমইএ’র প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নগদ সহায়তার ওপর ১০ শতাংশ হারে আয়কর কর্তন অব্যাহতি, রপ্তানির বিপরীতে উৎসে কর ১.০০ থেকে হ্রাস করে ০.৬৫ শতাংশ করা ও তা ৫ বছরের জন্য নির্ধারণ করা, সোলার পিভি সিস্টেমের কাঁচামালে শুল্ক সুবিধা দেওয়া এবং ইটিপিসহ একাধিক কাঁচামালে শুল্ক সুবিধা দেওয়া ইত্যাদি।

 

বিজিএমইএ জানায়, বর্তমানে ঋণের সুদের হার ১২%-১৫% এ পৌঁছেছে। পাশাপাশি জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি ও জ্বালানি নিরাপত্তা সংকট রয়েছে। ২০১৭-২০২৩ সময়কালে গ্যাসের দাম ২৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি, গত ৫ বছরে বিদ্যুতের দাম ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে ন্যূনতম মজুরি ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ৯ শতাংশ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরের ট্যারিফ ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ধাপে ধাপে রপ্তানি প্রণোদনা গড়ে প্রায় ৬০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে।




কোম্পানির রিটার্ন দাখিলের সময় আরও ১ মাস বৃদ্ধি

আবারও কোম্পানি করদাতাদের কর জমার সময় বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সোমবার (১৩ এপ্রিল) এক আদেশে কোম্পানির ক্ষেত্রে রিটার্ন জমার সময় বাড়িয়ে ১৫ এপ্রিল থেকে বৃদ্ধি করে ১৫ মে পর্যন্ত করা হয়েছে।

এর আগে সময় বৃদ্ধি করে ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৫ মার্চ ও ১৫ মে পর্যন্ত কোম্পানি করদাতারদের রিটার্ন জমার সময় নির্ধারিত করেছিল এনবিআর। এ নিয়ে চতুর্থ দফায় কোম্পানি রিটার্নের সময় বৃদ্ধি করা হলো।

করনীতির দ্বিতীয় সচিব একরামুল হক স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩৩৪ এর দফা (খ) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, আয়কর আইন, ২০২৩ এ সংজ্ঞায়িত কোম্পানি করদাতাদের ২০২৪-২০২৫ করবর্ষের রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বৃদ্ধি করা হলো। সম্প্রতি কোম্পানির রিটার্ন জমার সময় বাড়াতে এনবিআরে চিঠি পাঠায় ব্যবসায়ীদের কয়েকটি সংগঠন।




আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ মার্চ

২০২৫-২৬ অর্থবছরের ব্যক্তি করদাতাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় শেষ হচ্ছে আগামী ৩১ মার্চ। হাতে আছে আর মাত্র সাত দিন। এর মধ্যেই করদাতাদের রিটার্ন জমা দেওয়ার সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, এবার বেশিরভাগ করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে ঘরে বসেই সহজে ই-রিটার্ন দাখিল করা সম্ভব। সাপ্তাহিক ছুটি বা সরকারি ছুটির দিনেও এনবিআরের অনলাইন রিটার্ন সিস্টেম চালু থাকছে।

সাধারণত প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় থাকে ৩০ নভেম্বর। তবে এবার তিন দফায় এক মাস করে সময় বাড়িয়ে শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ মার্চ পর্যন্ত।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখের বেশি টিআইএনধারী রয়েছেন। করযোগ্য আয় থাকলে তাদের রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এখন পর্যন্ত ৪১ লাখ করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ৫০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য নিবন্ধন নিয়েছেন।

যেভাবে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেবেন

ই-রিটার্ন জমা দিতে করদাতাদের এনবিআরের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আগে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের পর ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে সহজেই রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে।

অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় কোনও কাগজপত্র আপলোড করতে হয় না; প্রয়োজনীয় তথ্য দিলেই হয়। একই সঙ্গে অনলাইনেই কর পরিশোধ করা যায়। ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের পাশাপাশি বিকাশ, রকেট, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে কর পরিশোধের সুযোগ রয়েছে।

শেষ সময়ে তাড়াহুড়া নয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়া করে রিটার্ন জমা দিলে ভুল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে করদাতাকে জরিমানাসহ আইনি জটিলতার মুখেও পড়তে হতে পারে। তাই সময় থাকতেই রিটার্ন প্রস্তুত করে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

রিটার্ন দেওয়ার আগে করণীয়

রিটার্ন জমার আগে করদাতাদের কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে— আগে থেকেই আয়–ব্যয়ের হিসাব প্রস্তুত রাখা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে রাখা, অনলাইন সিস্টেমে লগইন করে তথ্য যাচাই করা, জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য আবার পরীক্ষা করা, প্রয়োজনে কর পরামর্শকের সহায়তা নেওয়া।

কর প্রশাসন বলছে, সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা ঝামেলা এড়াতে পারবেন এবং অনলাইন ব্যবস্থার সুবিধাও পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারবেন।




কোম্পানির রিটার্ন দাখিলের সময় আরও এক মাস বাড়লো

কোম্পানি করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের সময় আরও এক দফা বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রোববার (১৫ মার্চ) এক আদেশে কোম্পানির ক্ষেত্রে রিটার্ন জমার সময় ১৫ মার্চ থেকে বাড়িয়ে ১৫ এপ্রিল করা হয়েছে।

করনীতির দ্বিতীয় সচিব একরামুল হকের সই করা আদেশে বলা হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ৩৩৪ এর দফা (খ) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, আয়কর আইন, ২০২৩ এ সংজ্ঞায়িত কোম্পানি করদাতাদের ২০২৪-২৫ করবর্ষের রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বাড়ানো হলো।

কোম্পানি করদাতারদের রিটার্ন জমার সময় ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করেছিল এনবিআর। তবে পরে তা ১৫ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

সম্প্রতি কোম্পানির রিটার্ন জমার সময় বাড়াতে এনবিআরে চিঠি পাঠায় ব্যবসায়ীদের কয়েকটি সংগঠন। এরপর আরও এক দফায় সময় বাড়িয়ে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত করা হলো।

এর আগে ব্যক্তি-শ্রেণির করদাতার জন্য রিটার্ন দাখিলের সময় ৩১ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে এনবিআর।




মেট্রোরেলের সেবায় ভ্যাট অব্যাহতি ৩০ জুন পর্যন্ত

রাজধানীবাসীর কাছে জনপ্রিয় বাহন মেট্রোরেলের সেবার উপর মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

বুধবার  (২৪ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমীন শেখ বিষয়টি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, সরকার জনগুরুত্ব বিবেচনায় এবং পরিবেশবান্ধব ও দূরনিয়ন্ত্রিত অত্যাধুনিক গণপরিবহন মেট্রোরেলকে অধিক জনপ্রিয় করার উদ্দেশ্যে ইতোপূর্বে মেট্রোরেল সেবার ওপর আরোপিত ভ্যাট ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অব্যাহতি প্রদান করেছে। মেট্রোরেল সেবার ওপর মূল্য সংযোজন করের বিদ্যমান অব্যাহতি চালু রাখার জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে জনস্বার্থে ওই অব্যাহতির মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করে সরকার ২৩ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর দেশের প্রথম মেট্রোরেল উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত উদ্বোধন করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে মেট্রোরেল চলাচল মতিঝিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। মেট্রোরেলের যাত্রীদের কোনো ক্লাস বা শ্রেণিবিন্যাস নেই। সব যাত্রী একই ভাড়ায় নির্ধারিত গন্তব্যে আসা-যাওয়া করতে পারেন।




শেখ হাসিনার অগ্রণী ব্যাংকের দুটি লকার জব্দ করলো এনবিআর

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রণী ব্যাংকে থাকা আরও দুটি লকার জব্দ করেছে। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর দিলকুশায় অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখায় অভিযান চালিয়ে লকার দুটি জব্দ করা হয়।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, শাখাটির সাবেক স্থানীয় কার্যালয় অংশে শেখ হাসিনার নামে ৭৫১ ও ৭৫৩ নম্বর লকার রয়েছে। কর ফাঁকি ও আর্থিক অনিয়মের সন্দেহে এগুলো জব্দ করা হয়।

গত ১০ সেপ্টেম্বর এনবিআরের গোয়েন্দারা সেনা কল্যাণ ভবনে অবস্থিত পূবালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখায় শেখ হাসিনার একটি লকার (নম্বর ১২৮) জব্দ করে। একই শাখায় তার দুটি ব্যাংক হিসাবও পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি হিসাবে প্রায় ১২ লাখ টাকা স্থায়ী আমানত (এফডিআর) এবং অন্যটিতে ৪৪ লাখ টাকা জমা ছিল। সংশ্লিষ্ট হিসাবে সব ধরনের লেনদেন আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এনবিআরের সিআইসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘বৃহত্তর তদন্তের স্বার্থে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর লকার ও ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার তার ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি ও দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় অগ্রণী ও পূবালী ব্যাংকে থাকা শেখ হাসিনার তিনটি লকার ও দুটি ব্যাংক হিসাব ইতোমধ্যেই জব্দ করা হলো।




এনবিআরের আরও ৫ কর কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

এবার প্রায় একই কারণ দেখিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর বিভাগের তিন অতিরিক্ত কমিশনারসহ পাঁচ কর কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

 

সোমবার (১৮ আগস্ট) অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে ইস্যু করা পৃথক প্রজ্ঞাপন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে দুপুরে পৃথক আদেশে এনবিআরের কাস্টমস বিভাগের দুই অতিরিক্ত কমিশনারসহ চার কাস্টমস কমিশনারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

আদেশে এনবিআর সংস্কার আন্দোলনের কর্মসূচি পালন ও দেশের রাজস্ব কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

 

যাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে তারা হলেন- সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের পরিচালক চাঁদ সুলতানা চৌধুরানী, আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের অতিরিক্ত কমিশনার সেহেলা সিদ্দিকা, কর অঞ্চল-০৭ এর অতিরিক্ত কর কমিশরার ‍সুলতানা হাবীব, ফরিদপুর কর অঞ্চলের যুগ্ম কর কমিশনার মো. মেসবাহ উদ্দিন খান এবং দিনাজপুরের কর অঞ্চলের যুগ্ম কর কমিশনার মো. মামুন মিয়া।

আদেশে বলা হয়েছে, সরকার গত ১২ মে ২০২৫ তারিখ রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারির পর এর বিরোধিতা করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট এবং আয়কর বিভাগের কর্মচারীদের কর্মসূচি চলাকালীন দায়িত্বরত কর্মচারীদের দাপ্তরিক কাজ সম্পাদনে বাধা প্রদান এবং কাজ ত্যাগ করে রাজস্ব ভবনে আসতে বাধ্য করতে সংগঠকের ভূমিকা পালনের মাধ্যমে দেশের রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে; সেহেতু, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ধারা-৩৯(১) অনুযায়ী তাদেরকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগপূর্বক চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালীন বিধি মোতাবেক তারা খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

দুপুরে কাস্টমস বিভাগের যাদের বরখাস্ত করা হয় তারা হলেন- সিলেট কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুন্ডু, মোংলা কাস্টমস হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার আবুল আ’লা মোহাম্মদ আমীমুল ইহসান খান, চট্টগ্রাম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমির যুগ্ম কমিশনার মো. সানোয়ারুল কবির এবং খুলনা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের উপ কমিশনার মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম।

এর আগে বদলির আদেশ অবজ্ঞাপূর্বক প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলার মাধ্যমে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে এনবিআর সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত এনবিআরের আয়কর ও কাস্টমস বিভাগের ২০ এর অধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।




অনলাইনে রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক করলো সরকার

আয়কর রিটার্ন জমা অনলাইনে বাধ্যতামূলক করলো সরকার। রোববার (৩ আগস্ট) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান সই করা বিশেষ আদেশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তবে প্রবাসী বাংলাদেশি, ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ ব্যক্তি, সনদপত্র দাখিল সাপেক্ষে শারীরিকভাবে অক্ষম বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি ও মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি এই নিয়মের বাইরে থাকবেন। এই চার শ্রেণির করদাতা চাইলে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।

আদেশে আরও বলা হয়েছে, ই-রিটার্ন সিস্টেমে কারিগরি সমস্যার কারণে যদি কোনো সাধারণ করদাতা রিটার্ন জমা দিতে না পারেন, তাহলে তাকে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের কাছে লিখিতভাবে যুক্তিসঙ্গত কারণ জানিয়ে আবেদন করতে হবে। অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদন সাপেক্ষে তারা কাগজে (পেপার রিটার্ন) রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।

আয়কর আইন ২০২৪ এর ধারা ৩২৮ এর উপ ধারা (চ) প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এ আদেশ দ্বারা ৪ আগস্ট থেকে কিছু ক্ষেত্র ব্যতীত সব স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার অনলাইনে (www.ctaxnbf.gov.bd) আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হলো।

গত বছর ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের সব সরকারি কর্মকর্তা, সব তফসিলি ব্যাংক ও কিছু বড় কোম্পানির কর্মকর্তাদের অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এ বছরের মাঝামাঝি সবার জন্য অনলাইন রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানিয়েছিল এনবিআর।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ এক অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, বর্তমানে ১ কোটি ৪৫ লাখ টিআইএনধারীর মধ্যে মাত্র ৪৫ লাখ রিটার্ন জমা দিয়েছেন।




যাত্রীসেবায় মান উন্নয়নের নির্দেশ

বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং রাজস্ব আদায়ে গতি আনতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বেনাপোল কাস্টমস হাউস পরিদর্শনে এমন নির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি কার্গো ইয়ার্ড, কার্গো ভেহিকল স্ক্যানিং এবং আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের কার্যক্রম সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

মতবিনিময় সভার শুরুতে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সভায় তিনি নিলামযোগ্য ও ধ্বংসযোগ্য পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তির দিকেও বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বেনাপোল বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর এবং এটি ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ব্যবসায়ীদের যাতে কোনো বিড়ম্বনায় পড়তে না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি ব্যবসায়ী, আমদানি-রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, বন্দর কর্তৃপক্ষ, ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং কাস্টমস কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়ের ওপর জোর দেন।

পরিদর্শনের শেষ পর্যায়ে তিনি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে কাস্টমস এবং রাজস্ব বোর্ডের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন।

চলতি মাসে ৭ ও ১০ জুলাই ঢাকা ও পানগাঁও কাস্টমস হাউস পরিদর্শন করেন এনবিআর চেয়ারম্যান।




এনবিআর চেয়ারম্যানকে নিয়ে কটূক্তি অভিযোগে নিরাপত্তা প্রহরী বরখাস্ত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানকে নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে কটূক্তি করার অভিযোগে কর অঞ্চল-১০ এর নিরাপত্তা প্রহরী মো. সেলিম মিয়া কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) কর অঞ্চল-১০ এর কমিশনার মো. শাহ আলীর সই করা প্রজ্ঞাপন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মো. সেলিম মিয়া, নিরাপত্তা প্রহরী, সার্কেল-২০০, কর অঞ্চল-১০, ঢাকা নিজ নামে নিবন্ধনকৃত মোবাইল নম্বরের বিপরীতে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সম্মানিত সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সম্মানিত চেয়ারম্যান মহোদয় সম্পর্কে শিষ্টাচার বহির্ভূত মন্তব্য/আচরণ করেছেন। যেহেতু মো. সেলিম মিয়া মোবাইল নম্বরটি তার নিজ নামে নিবন্ধকৃত মর্মে স্বীকার করেছেন, সেহেতু তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী তদন্তপূর্বক বিভাগীয় কার্যধারা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, যেহেতু, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ১২(১) অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ তাকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা প্রয়োজন ও সমীচীন মনে করে। সেহেতু, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ১২(১) অনুযায়ী জনাব মো. সেলিম মিয়াকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন।

এর আগে, মঙ্গলবার এনবিআরের শীর্ষ ১৪ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এনবিআর চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. আবদুর রহমান খানের সই করা প্রজ্ঞাপন সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমানকে অপসারণের দাবির মধ্যে জারি করা সবশেষ দুটি বদলি আদেশকে ‘প্রতিহিংসা ও নিপীড়নমূলক’ দাবি করে তা ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এবার সেই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় মোট ১৪ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। এদের মধ্যে দুপুরে আটজন, রাতে আরও ছয়জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।




আগামী দুই শনিবার এনবিআরের সব অফিস খোলা

আগামী দুই শনিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীনস্থ কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়করসহ রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যান্য সব দফতর খোলা থাকবে।

বুধবার (১৮ জুন) এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (বোর্ড প্রশাসন-১) উম্মে আয়মান কাশেমীর সই করা এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নোটিশে জানানো হয়, ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট কার্যক্রম চলমান থাকায় আগামী ২১ ও ২৮ জুন, পরপর দুই শনিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং এর অধীনস্থ কাস্টমস ও ভ্যাট এবং আয়করসহ রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যান্য সব দপ্তর খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই আদেশ এরইমধ্যে সব দফতরে পাঠানো হয়েছে৷




কর ফাঁকিবাজদের ধরতে কর্মকর্তাদের টার্গেট দেওয়া হবে : এনবিআর চেয়ারম্যান

কর ফাঁকিবাজদের আইনের আওতায় আনতে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

তিনি বলেন, যারা আয়কর রিটার্ন জমা দেন না কিংবা নানাভাবে কর ফাঁকি দেন বা করা অব্যাহতি নেন, তাদের কাছ থেকে কর আদায়ের জন্য এখন কর কর্মকর্তাদের লক্ষ্যমাত্রা (টার্গেট) দেওয়া হবে।

রোববার (৪ মে) সকালে রাজধানীর বনানীতে একটি হোটেলে আসন্ন বাজেটে রাজস্ব খাত ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেনতিনি।

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফরেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি বা এফআইসিসিআই, সনদপ্রাপ্ত হিসাববিদদের সংগঠন দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) ও জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট প্রতিষ্ঠান স্নেহাশীষ মাহমুদ অ্যান্ড কোম্পানির অংশীদার স্নেহাশীষ বড়ুয়া।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কমিশনারেটে নির্দেশনা দেওয়া হবে, টার্গেট দেওয়া হবে, এবছর ও পরবর্তী বছরের জন্য। এতে তারা নন-ফাইলার্সদের (যারা রিটার্ন জমা দেন না) থেকে কী পরিমাণ কর সংগ্রহ করতে পারলো, রিবেটার্সদের (ছাড় পাওয়া) থেকে কত কর সংগ্রহ করতে পারলো তা বোঝা যাবে।

তিনি বলেন, এনবিআরের ৯২ শতাংশ রাজস্ব টিডিএসসহ বিভিন্ন মাধ্যম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসে। কর কর্মকর্তারা মাত্র ৮ শতাংশ রাজস্ব সরাসরি সংগ্রহ করেন। এই ব্যবস্থায় এখন থেকে কর কর্মকর্তাদের দক্ষতারও প্রমাণ পাওয়া যাবে।

শুরু থেকে বিপুল পরিমাণে করছাড় দেওয়া হচ্ছে। যে পরিমাণ রাজস্ব সংগ্রহ করা হয়, সমপরিমাণ অর্থ করছাড়ের কারণে হারাতে হচ্ছে। কিন্তু সরকারের অভ্যন্তরীণ ও বহিঃস্থ ঋণের বড় চাপ/বোঝা (বার্ডেন) আছে। এ অবস্থায় এভাবে কর অব্যাহতি দিয়ে টিকে থাকা সম্ভব নয়, যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই যথাযথ নিয়ম মেনে এসব ছাড় দেওয়া হয়নি। নতুন করছাড় নীতিতে এই সক্ষমতা সংসদের হাতে থাকবে।

স্বাগত বক্তব্যে ফরেন চেম্বারের সভাপতি জাবেদ আখতার বলেন, ব্যবসার জন্য কঠিন পরিবেশ তৈরি করে রাখা হয়েছে। প্রত্যক্ষ কর সংগ্রহ কীভাবে বাড়ানো যায়, সেদিকে নজর দেওয়া দরকার। একক ভ্যাট কাঠামো প্রয়োজন। কাস্টমসের দায়িত্ব কর সংগ্রহ করা নয়, তাদের কাজ ব্যবসায় সহায়তা করা। ব্যবসা বাড়লে রাজস্ব আদায় এমনিতেই বাড়বে।

মূল প্রবন্ধে কর ও ভ্যাট বাড়ানোর জন্য সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাকে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি তুলে ধরে স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, করের টাকা কোথায় ব্যবহার হচ্ছে, সে বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা থাকা দরকার।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নামানোর লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছে। কিন্তু তিনি মনে করেন না, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নামবে। তবে ডিসেম্বর নাগাদ মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের নিচে নামলেও সেটাকে বড় সফলতা হিসেবে মানবেন তিনি। সংকোচনমূলক মুদ্রানীতিতে হয়তো সাময়িকভাবে ব্যবসা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে এটা খুব দরকার ছিল।

আইসিএবির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের (সিইও) মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী, বাংলাদেশে মারুবেনি করপোরেশনের কান্ট্রি হেড মানাবু সুগাওয়ারা, জাপান-বাংলাদেশ চেম্বারের যুগ্ম মহাসচিব ইউজি আন্দো, এনবিআরের সাবেক সদস্য আবদুল মান্নান শিকদার ও বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আফজাল হোসেন।




মূলধনী মুনাফার ওপর করহার কমিয়েছে এনবিআর

পুঁজিবাজারে কোম্পানীর শেয়ার বিক্রি হতে অর্জিত মূলধনী মুনাফার ওপর করের হার কমিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। আজ (০৪ নভেম্বর) এক প্রজ্ঞাপন জারীর মাধ্যমে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত শেয়ার লেনদেন হতে ৫০ লক্ষ্ টাকার অধিক অর্জিত মূলধনি মুনাফার ওপর করের হার ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) হতে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, বিদ্যমান আইনে শেয়ার ক্রয়ের ৫ বছরের মধ্যে উক্ত শেয়ার ১ জুলাই ২০২৪ হতে ৩০ জুন ২০২৫ সময়কালে বিক্রয় করে মূলধনি আয় অর্জন করলে তার ওপর সাধারন হারে কর আরোপ করা হয়। বর্তমানে আইন অনুসারে ৫০ লক্ষ টাকার অধিক মূলধনি আয়ের ওপর সর্বোচ্চ করের হার হলো ৩০ শতাংশ। তবে সম্পদশালী করদাতাগণকে প্রদেয় করের ওপর বিদ্যমান আইনে সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ হারে সারচার্জ প্রদান করতে হয়। এতে শেয়ার বাজার হতে অর্জিত মূলধনি মুনাফার ওপর বিদ্যমান আইন অনুসারে আয়কর ও সারসার্জ বাবদ মোট ৪০দশমিক ৫০ শতাংশ হারে কর প্রদেয় হয়।জ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপন নং ৩৮৩/আইন/আয়কর-৫২/২০২৪ তারিখ ০৪/১১/২০২৪ অনুসারে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত শেয়ার অর্জন পরবর্তি লেনদেনের সময়কাল নির্বেশেষে অর্থাৎ শেয়ার ক্রয়ের ৫ বছরের মধ্যে অথবা ৫ বছরের পরে সকল ক্ষেত্রে শেয়ার বিক্রি হতে অর্জিত মূলধনি আয়ের ওপর করের হার ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে ১ জুলাই ২০২৪ হতে ৩০ জন ২০২৫ সময়কালে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সকল শেয়ার লেনদেন হতে ৫০ লক্ষ টাকার অধিক অর্জিত মূলধনি আয়ের পরিমান নির্বিশেষে ১৫ শতাংশ কর এবং করদাতার নীট সম্পদের পরিমান ৪ কোটি টাকার অধিক, ১০ কোটি টাকার অধিক, ২০ কোটি টাকার অধিক এবং ৫০ কোটি টাকার বেশী হলে প্রদেয় করের ওপর যথাক্রমে ১০ শতাংশ, ২০ শতাংশ, ৩০ শতাংশ এবং ৩৫ শতাংশ হারে সারসার্জ প্রদান করতে হবে।

নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী একজন করদাতার ৫০ কোটি টাকার অধিক নীট সম্পদ থাকলে, শেয়ার বাজার হতে অর্জিত ৫০ লক্ষ টাকার অতিরিক্ত আয়ের ওপর তাঁকে ১৫ শতাংশ হারে কর এবং প্রদেয় কর ১৫ শতাংশ এর ওপর ৩৫ শতাংশ অর্থাৎ ৫.২৫ শতাংশ সারচার্জসহ কর প্রদান করতে হবে। তবে করদাতার নীট সম্পদের পরিমান ৫০ কোটি টাকার কম হলে সারচার্জের হার ৩৫ শতাংশ এর পরিবর্তে কম হারে (১০ শতাংশ /২০ শতাংশ /৩০ শতাংশ) হতে পারে। সেক্ষেত্রে আয়কর ও সারসার্জের মোট হার নীট সম্পদের ভিত্তিতে ২০.২৫ শতাংশ হতে আরোও কম হবে।

স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাসহ অন্যান্য সকল করদাতার ০১ জুলাই, ২০২৪ হতে ৩০ জুন, ২০২৫ সময়কালে (করবর্ষ-২০২৫-২০২৬), স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সিকিউরিটিজ লেনদেন হতে ৫০ লক্ষ্ টাকার অধিক অর্জিত মূলধনি মুনাফার ওপর প্রদেয় আয়কর ও সারচার্জ বাবদ সর্বোচ্চ করের হার ৪০.৫০ শতাংশ হতে কমিয়ে ২০.২৫ শতাংশ করায় দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীগণ বাংলাদেশের পুজিবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন মর্মে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মনে করে।




কর কমিশনার পদে ১৫ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর বিভাগের ১৫ অতিরিক্ত কর কমিশনারকে পদোন্নতি দিয়ে কর কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব নুসরাত জাহান নিসু সই করা আদেশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে চিঠি ইস্যু করে পদায়নের জন্য এনবিআরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

যাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে তারা হলেন- অতিরিক্ত কর কমিশনার মোহাম্মদ মাহমুদুজ্জামান, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, অঞ্জন কুমার সাহা, গনেশ চন্দ্র মন্ডল, আয়েশা সিদ্দিকা শেলী, বিপ্লব কান্তি দাস, মুন্সী হারুনুর রশিদ, শেখ মো. মনিরুজ্জামান, মুহাম্মদ আমিনুর রহমান, সাধন কুমারা রায়, মো. আবু সাঈদ সোহেল, লুৎফুন্নাহার বেগম, মো. শব্বির আহমেদ, রুখসানা হক ও শাওন চৌধুরী।

অন্যদিকে, এনবিআরের অপর আদেশে চার উপ কর কমিশনারকে এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।




কাস্টমসের সার্টিফিকেট অব মেরিট পেলেন যারা

কর্মক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ১৭ জন কর্মকর্তা ও তিন অংশীজনকে সার্টিফিকেট অব মেরিট সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উপলক্ষ্যে আগারগাঁওয়ের রাজস্ব ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদের সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম ও অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার। সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

সম্মাননা পাওয়া এনবিআরের ১৭ কর্মকর্তারা হলেন— চট্টগ্রাম কাস্টমস বন্ডের কমিশনার এ. কে. এম মাহবুবুর রহমান, অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ আসাদ-উজ-জামান, যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাজিউর রহমান মিয়া, যুগ্ম পরিচালক এদিপ বিল্লাহ, ডেপুটি কমিশনার নিতীশ বিশ্বাস, সৈয়দ মোকাদ্দেস হোসেন, সাইদ আহমেদ রুবেল, অথেলো চৌধুরী, মিজ ফেরদৌসী মাহবুব, মিজ নাজমা জ্যাবিন, ডেপুটি কমিশনার মো. বায়জিদ হোসেন, সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. জাহিদুর রহমান, রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মিন্টু রহমান, মো. ইরফান আলী, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. শামছুদ্দোহা ভূঁইয়া, মিজ নীলা ঘোষ ও মো. আবদুল্লাহ আরমান।

এছাড়া, প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ব ব্যাংকের বাংলাদেশ অফিস, কৃষি মন্ত্রণালয় ও ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারকে (এনটিএমসি) সার্টিফিকেট অব মেরিট সম্মাননা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশসহ ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অরগানাইজেশনের (ডব্লিউসিও) সদস্যভুক্ত ১৮৫টি দেশে একযোগে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস উদযাপন করা হয়। ২০০৯ সাল থেকে ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অরগানাইজেশন ২৬ জানুয়ারিকে কাস্টমস দিবস হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকে বাংলাদেশ দিবসটি উদযাপন করছে।

এবারের কাস্টমস দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ হয়েছে ‘মিলে নবীন- পুরানো অংশীজন, কাস্টমস করবে লক্ষ্য অর্জন’।




ব্যবসায়ীদের ওপর আস্থা রাখলে রাজস্বখাত এগিয়ে যাবে

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ব্যবসায়ীদের ওপর আস্থা রাখলে রাজস্বখাত এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ প্রাণ-আরএফএলের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘ব্যবসা পরিমণ্ডলের যারা আছেন তারা ভ্যাট আদায়ে এনবিআরের চ্যালেঞ্জটা বুঝতে পেরেছেন। আমি মনে করি ভ্যাট বাড়বে। ভ্যাট বাড়ার মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন হবে।’

ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ- ২০২৩ উপলক্ষে রোববার (১০ ডিসেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভবনে আয়োজিত সেমিনার ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

 

এনবিআরকে ধন্যবাদ জানিয়ে আহসান খান চৌধুরী বলেন, ‘কঠিন হলেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষের একটা কথা ভালো লেগেছে। তিনি বলেছেন- রপ্তানিতে আমরা যোগ্য বাজার খুঁজে নেবো। বাংলাদেশ যেভাবে পণ্য উৎপাদন করছে, আমরা এগিয়ে যাবো। দেশ এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এনবিআরের চিন্তাভাবনায় ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের অর্থনীতি বড় হবে, একই সঙ্গে আমাদের ভ্যাট আদায়ও বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা যখন আমাদের ব্যবসায়ীদের সুযোগ দিয়েছেন, অনেক খাতের ক্ষেত্রে সুযোগ দিয়েছেন। এগুলোতে আমরা বেনিফিসিয়ারি হয়েছি। সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পণ্য পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি। আজ আপনারা অ্যাপ্লায়েন্সে (যন্ত্রপাতিতে) যে ছাড় দিয়েছেন, এই ছাড়ের জন্য বাংলাদেশে অ্যাপ্লায়েন্স শিল্প গড়ে উঠেছে।’

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সিইও বলেন, ‘এনবিআর দেশকে যতটা ভালোবাসে, ব্যবসায়ীরাও দেশকে ততটা ভালোবাসেন। আমাদের আন্তরিক প্রয়াসে দেশ এগিয়ে যাবে। আপনারা যদি আমাদের ওপর আস্থা রাখেন তাহলে রাজস্বখাত এগিয়ে যাবে। জিডিপি রেশিও নিয়ে আমাদের যে বদনাম আছে, মধ্যম ও উচ্চ আয়ের দেশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জিডিপি রেশিও বৃদ্ধি পাবে।’

এনবিআর কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা আরও ভালো কাজ করেন। আমাদের আরও প্রণোদনা দেন। আমাদের প্রণোদনা দেবেন, আমরা এই প্রণোদনা অপচয় করবো না। আমরা তা পুনরায় বিনিয়োগ করে দেশের কর্মসংস্থান বাড়াতে কাজ করবো। ব্যবসায়ীরা এনবিআরের সব প্রয়াসকে সাধুবাদ জানাবে।’

অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম ছাড়াও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ, এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সেরা ভ্যাট দাতা ১৪৭টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার ও সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়। ২০২১-২২ অর্থবছরে জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদন, ব্যবসা ও সেবা খাতে সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজন কর (মূসক) পরিশোধকারী ৯ প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এছাড়া জেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ভ্যাট পরিশোধকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১৩৮টি প্রতিষ্ঠানকেও নির্বাচিত করা হয়েছে।




জমি-ফ্ল্যাট বিক্রিতে কর আরও কমেছে

জমি বা ফ্ল্যাটসহ ব্যক্তিগত স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরে জমি নিবন্ধন উৎস কর আরও কিছুটা কমিয়ে পুনর্নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গত ৩০ নভেম্বর এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন ইস্যু করে কর কমানো হয়।

সোমবার (৪ নভেম্বর) ‍এনবিআরের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আয়কর আইন- ২০২৩– এর ৩৪৩ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জমি রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধনে মৌজা অনুযায়ী বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকার জমি নিবন্ধন কর পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন আদেশ অনুযায়ী– ঢাকা জেলার গুলশান, বনানী, মতিঝিল ও তেজগাঁও থানার অন্তর্গত সব মৌজার জমিকে ক, খ, গ ও ঘ শ্রেণির আওতাভুক্ত মৌজার জমি নিবন্ধনে উৎস কর দলিল মূল্যের ৮ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি ৬-১৫ লাখ টাকার মধ্যে যেটি সর্বোচ্চ সেটা হবে। এই চার শ্রেণির বাইরের জমি থাকবে ‘ঙ’ শ্রেণিতে। ওই শ্রেণির জমি নিবন্ধনে উৎস কর ৬ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি ৫ লাখ টাকার মধ্যে যেটি সর্বোচ্চ সেটা হবে।

ঢাকার ধানমন্ডি, ওয়ারী, তেজগাঁও, শিল্পাঞ্চল থানা, শাহবাগ, রমনা, পল্টন, বংশাল, নিউমার্কেট ও কলাবাগান থানার অন্তর্গত সব মৌজার জমিকে ক, খ, গ ও ঘ শ্রেণির আওতাভুক্ত জমি নিবন্ধনে উৎস কর দলিল মূল্যের ৮ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি ৪, ১০ ও ১৫ লাখ টাকার মধ্যে যেটি সর্বোচ্চ সেটা হবে। এই চার শ্রেণির বাইরের জমি থাকবে ‘ঙ’ শ্রেণিতে। ওই শ্রেণির জমি নিবন্ধনে উৎস কর ৬ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি ৩ লাখ টাকার মধ্যে যেটি সর্বোচ্চ সেটা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনের তিন নম্বর সারণীতে ঢাকা জেলার কাফরুল, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা মডেল থানা, ক্যান্টনমেন্ট থানা, চকবাজার থানা, লালবাগ থানা, খিলগাঁও, শ্যামপুর ও গেন্ডারিয়া থানার অন্তর্গত সব জমিকে ক, খ, গ ও ঘ শ্রেণির আওতাভুক্ত জমি নিবন্ধনে উৎস কর দলিল মূল্যের ৮ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি ২ থেকে ৫ লাখ টাকার মধ্যে যেটি সর্বোচ্চ সেটা হবে। এই চার শ্রেণির বাইরের জমি থাকবে ‘ঙ’ শ্রেণিতে। ওই শ্রেণির জমি নিবন্ধনে উৎস কর ৬ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি ১.৫ লাখ টাকার মধ্যে যেটি সর্বোচ্চ সেটা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকা জেলার খিলক্ষেত, বিমানবন্দর, উত্তরা পশ্চিম, মুগদা, রূপনগর, ভাষানটেক, বাড্ডা থানা, পল্লবী থানা, ভাটারা, শাহজাহানপুর, মিরপুর মডেল, দারুস সালাম থানা, দক্ষিণখান, উত্তরখান, তুরাগ, শাহ আলী, সবুজবাগ, কদমতলী, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ, ডেমরা ও আদাবর থানা, গাজীপুর, জয়দেবপুর, নারায়ণগঞ্জ ও রূপগঞ্জ থানার অন্তর্গত সব মৌজার জমিকে ক, খ, গ ও ঘ শ্রেণির আওতাভুক্ত জমি নিবন্ধনে উৎস কর দলিল মূল্যের ৮ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি ১.৫ থেকে ৪ লাখ টাকার মধ্যে যেটি সর্বোচ্চ সেটা হবে। এই চার শ্রেণির বাইরের জমি থাকবে ‘ঙ’ শ্রেণিতে। ওই শ্রেণির জমি নিবন্ধনে উৎস কর ৬ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি ১ লাখ টাকার মধ্যে যেটি সর্বোচ্চ সেটা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলার খুলশী, পাঁচলাইশ, পাহাড়তলী, হালিশহর ও কোতোয়ালী থানা, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও, ফতুল্লা, সিদ্দিরগঞ্জ, বন্দর থানা ও গাজীপুরে টঙ্গীসহ কয়েকটি এলাকার সব মৌজার জমিকে ক, খ, গ, ঘ ও ঙ শ্রেণির আওতাভুক্ত জমি নিবন্ধনে উৎস কর দলিল মূল্যের ৬ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি ৫০ হাজার, ১ লাখ ও ৩ লাখ টাকার মধ্যে যেটি সর্বোচ্চ সেটা হবে।

এ চার শ্রেণির বাইরে দোহার, নবাবগঞ্জ, কেরাণীগঞ্জ, সাভার ও ধামরাই উপজেলা, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী, চকবাজার, বান্দগাঁও, ডবলমুরিং, পতেঙ্গা, পাঁচলাইশ, বাকলিয়া, বায়েজিদ ও সদরঘাট থানার অন্তর্গত সব মৌজা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজারে সব মৌজার জমি নিবন্ধনে উৎস কর ৬ শতাংশ বা কাঠাপ্রতি ২০ ও ৮০ হাজার এবং ২ লাখ টাকার মধ্যে যেটি সর্বোচ্চ সেটা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত ১১ অক্টোবর উৎসে কর বিধিমালায় জমি নিবন্ধনের সর্বোচ্চ করহার ২০ লাখ থেকে কমিয়ে ১৫ লাখ টাকা বা দলিল মূল্যের ৮ ও ৬ শতাংশের ওপর দুইটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছিল।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে জমি ও ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ব্যয় চূড়ান্ত করে দেয় সরকার। জমি বিক্রির সময় চুক্তিমূল্যের ৮ শতাংশ কর অথবা এলাকাভেদে কাঠাপ্রতি ন্যূনতম কর নির্ধারণ করা হয়। অন্যদিকে ফ্ল্যাট নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটারে ৮০০ টাকা বা চুক্তিমূল্যের ৮ শতাংশ— যেটি বেশি, সেটি কর হিসেবে দিতে হবে। এর পাশাপাশি জমি বা সম্পত্তির বিক্রিতে পাওয়া লাভের টাকায় বাড়তি করের বিধান রাখা হয়েছিল নতুন আয়কর আইনে।




চার মাসে রাজস্ব আয় বেড়েছে ১৪ শতাংশ

চলতি ২০২৩-২৪ করবর্ষের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়কর, স্থানীয় পর্যায়ের মূল্য সংযোজন কর (মূসক) এবং আমদানি-রফতানি শুল্ক মিলে মোট রাজস্ব আয় করেছে ১ লাখ ৩ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা, যা বিগত করবর্ষের একই সময়ের তুলনায় ১৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি। গত করবর্ষের প্রথম সাত মাসে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ছিল ৯০ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা।

এনবিআর সূত্র জানায়,খাতভিত্তিক রাজস্ব আয়ের হিসাব হলো— চার মাসে আমদানি ও রফতানি শুল্ক খাত থেকে আয় হয়েছে ৩২ হাজার ৬৬৮ কোটি, স্থানীয় পর্যায়ে মূসক থেকে ৪০ হাজার ৪৮ কোটি ৬২ লাখ এবং আয়কর ও ভ্রমণ কর খাতে ৩১ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা।

তবে এ সময়ে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আয় কিছুটা পিছিয়ে আছে। চার মাসে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২৩ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা।

এনবিআরের তথ্যমতে, গত ২০২২-২৩ করবর্ষের প্রথম চার মাসে আমদানি-রফতানি শুল্ক থেকে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ছিল ২৯ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা। চলতি করবর্ষের একই সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৬৬১ কোটি। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ৯ দশমিক ১২ শতাংশ।

আলোচ্য সময়ে আয়কর আহরণ বেড়েছে ১৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। গত করবর্ষের চার মাসের ২৬ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকার আয়কর রাজস্ব আয় এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা। শুল্ক ও আয়করের মতো ভ্যাট রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রেও ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে ১৭ দশমিক ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত করবর্ষের চার মাসে ভ্যাট রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার ৪৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, চলতি করবর্ষে এনবিআরের রাজস্ব আয়ের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।




পশুখাদ্যে ব্যবহৃত ‘সয়াবিন মিল’ আমদানিতে কর মওকুফ

পোলট্রি, মৎস্য ও ডেইরি ফিড তৈরির অত্যাবশকীয় পণ্য সয়াবিন মিলের ওপর আরোপিত শুল্ক-কর মওকুফ করেছে সরকার। এর ফলে কাঁচামাল হিসাবে ‘সয়াবিল মিল’ আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক-কর দিতে হবে না। তবে শুধুমাত্র ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর দিতে হবে। এর ফলে বাজারে বিদ্যমান পশুখাদ্যের দাম কিছুটা হলেও কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (২ অক্টোবর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সই করা প্রজ্ঞাপন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে কাস্টমস অ্যাক্ট ১৯৬৯ ও মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২ এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে ২০২০ সনের ৩ জুন তারিখে জারিকৃত প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে এস. আর. ও. নম্বর ১২৮-আইন/২০২০/৭৯/কাস্টমস এর সংশোধন করে শুল্ক-কর অব্যাহতির তালিকায় সায়বিন মিল সংযুক্ত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সয়াবিন মিল হচ্ছে পোল্ট্রি ও গো-খাদ্যের ব্যবহৃত কাঁচামাল, যা সয়াবিন উৎপাদনের পর অবশিষ্টাংশ। পশুখাদ্যে ২৮-৩০ শতাংশ ওই পণ্য ব্যবহার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাগ্রো ফিড ইনগ্রিডিয়েন্টস ইম্পোটার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স এসোসিয়েশনের (বাফিটা) ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আস্থা ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গিয়াস উদ্দিন খাঁন বলেন, করোনা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পোলট্রি, মৎস্য ও ডেইরি শিল্পের খাদ্য তৈরির কাঁচামালসমূহের দাম দেশিও এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক দেশ আবার উৎপাদনও বন্ধ করে দিয়েছিল। খাদ্য উপকরণের উর্ধগতির কারণে অনেক ফিড মিল ও ছোট ছোট খামার বন্ধ হয়ে গেছে। পোল্ট্রি শিল্পে পোল্ট্রি, মৎস ও পশুখাদ্য উৎপাদনে (সয়াবিন মিল )একটি অত্যাবশকীয় উপাদান। পণ্যটির বাজার মূল্য বেশি হওয়ায় এবং অনেক পরিমাণ ব্যবহারের কারণে বাংলাদেশ সরকার পণ্যটি দীর্ঘদিন রেয়াতী সুবিধা দিয়ে আসছিল। শুধু নামের তারতম্য থাকার কারণে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। ফলে গত ৪ মাস যারা সয়াবিন মিল আমদানি করেছেন তাদের অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পোলট্রি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সেক্টর সংশ্লিষ্ট সকলেই উপকৃত হবেন। এর ফলে সয়াবিন মিলের দাম কমবে এবং সেই সাথে ফিডের দাম কমবে বলে আশা করছি।




এস কে সুরের ব্যাংক হিসাব তলব

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী (এস কে সুর) চৌধুরীর সব ধরনের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার স্ত্রী সুপর্ণা রায় চৌধুরী ও মেয়ে নন্দীতা সুর চৌধুরীর হিসাবের তথ্যও চাওয়া হয়েছে। অনিয়ম-দুর্নীতির ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ তদন্তের প্রয়োজনে এসব হিসাবের তথ্য চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) তাদের সব ধরনের হিসাবের তথ্য চেয়ে ব্যাংকগুলোতে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)। আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব ধরনের তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী (এস কে সুর) ও তার স্ত্রী সুপর্ণা চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে, এস কে সুর চৌধুরী ও তার স্ত্রী সুপর্ণা রায় চৌধুরী এবং মেয়ে নন্দীতা সুর চৌধুরীর নামে কোন শাখায় কোন ধরনের ব্যাংক হিসাব, ঋণ হিসাব, এফডিআর বা সঞ্চয়পত্র থাকলে তা জানাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে হিসাব খোলার ফরম, দাখিলের রেকর্ডপত্র, কেওয়াইসি, নমিনী, টিপি, সিগনেচার কার্ড এবং হিসাব বিবরণীসহ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র পাঠাতে বলা হয়েছে।

ব্যাংকগুলোকে দেওয়া দুদকের চিঠিতে এস কে সুর চৌধুরীর পিতা হরিপদ সুর চৌধুরী ও মাতার নাম দেওয়া আছে নিরুপমা সুর চৌধুরী। বর্তমান ঠিকানা দেওয়া আছে দুটি। একটি ২/৬০২, ইস্টার্ণ উলানিয়া, ২ সেগুনবাগিচা, ঢাকা এবং অপরটি ৩০/২ পশ্চিম রামপুরা, ঢাকা ১২১৯। স্থায়ী ঠিকানা- গ্রাম ও পোস্ট- দয়ারামপুর উপজেলা- লালপুর, জেলা- নাটোর। এ ছাড়া, চিঠিতে সুর চৌধুরীর জাতীয় প‌রিচয়প‌ত্র ও কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) উল্লেখ করা হ‌য়ে‌ছে। তার স্ত্রী ও মেয়েরও একই ঠিকানা দেওয়া আছে।

এস কে সুর চৌধুরী ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে অবসরে যাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি অবসরে রয়েছেন।

ডেপুটি গভর্নর থাকাকালে আলোচিত পি কে হালদারের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সুর চৌধুরী সহযোগী করে ও সুবিধা নিয়েছেন। এ ছাড়া, তিনি অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে ও সরকারের রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে আলাদা অনুসন্ধান ও তদন্ত করছেন দুদকের উপ-পরিচালক নাজমুল হুসাইনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল।

এর আগে, বিভিন্ন সময় অনিয়মের অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য সুর চৌধুরী ও তার স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তলব করেছিল দুদক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কর ফাঁকির দায়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধেরও (ফ্রিজ) নির্দেশনা দেয় এনবিআর।




ইএফডি যন্ত্র ব্যবহার ও পরিচালনায় এনবিআরের নীতিমালা

রাজস্ব ভ্যাট আহরণে স্বচ্ছতা এবং গতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ইএফডিএমএস) চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট আহরণে এনবিআরের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ ডিভাইস বসাবে জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেড।

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ভ্যাট সংগ্রহে গত বছরের নভেম্বরে জেনেক্সের সঙ্গে চুক্তি করে এনবিআর। তবে চলতি বছরের আগস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে ইএফডি কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২৮ আগস্ট) জেনেক্সের জন্য পরিপালন নীতিমালা জারি করেছে এনবিআর।

নীতিমালায় বলা হয়, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর ধারা ১৩৪ এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬ এর বিধি ৪২ এর উদ্দেশ্যপূরণকল্পে এবং বিধি ১১৮ক এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জেনেক্স ইনফোসিসকে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) এবং সেলস ডাটা কন্ট্রোলার (এসডিসি) স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিধান পরিপালনের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আইনের ধারা ১৩৪ অনুযায়ী ইএফডি/এসডিসি স্থাপন, মনিটরিং ও আনুষঙ্গিক কার্যাবলি সম্পাদনের নিমিত্ত দরপত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান জেনেক্স ইনফোসিস লিমিটেডকে সংশ্লিষ্ট দরপত্রে উল্লিখিত সব শর্ত যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে। ভ্যাট যন্ত্র স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহার সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য প্রতিষ্ঠানটি মূসক দপ্তরসমূহ এবং মূসক নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান নিম্নবর্ণিত কার্যাবলী সম্পাদন করিবে।

ভ্যাট যন্ত্র স্থাপনযোগ্য প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রস্তুত অংশে বলা হয়েছে- সংশ্লিষ্ট ভ্যাট অফিস জরিপ করে ইএফডি স্থাপনযোগ্য প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রস্তুত, হালনাগাদ করে বিভাগীয় কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রেরণ করবে। বিভাগীয় কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট ভ্যাট অফিস তালিকা প্রাপ্তির ৭ কার্যদিবসের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটে প্রেরণ করবে। আর কমিশনার, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তালিকা প্রাপ্তির ৭ কার্যদিবসের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে তা জেনেক্সকে পাঠাবে।

প্রশিক্ষণের বিষয়ে বলা হয়েছে- জেনেলস কমিশনারেট থেকে প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটের সহযোগিতায় ভ্যাট যন্ত্র স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি নির্বাচিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ও সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। ভ্যাট যন্ত্র স্থাপন করে এর তথ্য সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটে পাঠাবে জেনেক্স। আর কমিশনার প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে পূর্ববর্তী মাসের তথ্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে পাঠাবে।

মনিটরিং ও প্রচার অংশে বলা হয়েছে- জেনেক্স ভ্যাট যন্ত্রের যথাযথভাবে কর চালানপত্র ইস্যুর বিষয়টি মনিটরিংয়ের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটের কর্মকর্তারা স্থাপিত ইএফডির মাধ্যমে বিক্রয়ের ক্ষেত্রে দৈনিক বিক্রয় তথ্য, মূসক ও সম্পূরক শুল্ক (যদি থাকে) এর পরিমাণ, ইনভয়েসের সংখ্যা ইত্যাদি ড্যাশবোর্ডে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ এবং সেই অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পূর্ব অনুমোদিত ভিডিও ক্লিপ, ডকুমেন্ট বা বিজ্ঞাপন কনটেন্ট দ্বারা প্রয়োজনে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য জেনেক্স প্রচার প্রচারণা করতে পারবে।

সার্ভিস সেন্টার স্থাপন ও মেশিন মেরামত অংশে বলা হয়- দরপত্র অনুযায়ী জেনেক্স প্রয়োজনীয় সংখ্যক সার্ভিস সেন্টার স্থাপন করবে, যন্ত্র সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যার উদ্ভব হলে বা যন্ত্রের কোনো যন্ত্রাংশের মেরামত/পরিবর্তন করার প্রয়োজন হলে জেনেক্স তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এছাড়া কোনো ইএফডি যন্ত্র অচল/অকেজো হলে জেনেক্স তা তাৎক্ষণিক (অবহিত হওয়ার সর্বোচ্চ এক দিন) প্রতিস্থাপন করবে ও এই সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট মূসক কর্মকর্তাকে অবহিত করবে। এ লক্ষ্যে জেনেক্সকে পর্যাপ্ত সংখ্যক যন্ত্র মজুত রাখতে হবে। ইএফডি মেশিন অচল/অকেজো থাকা অবস্থায় প্রতিষ্ঠান ম্যানুয়ালি ফরম মূসক ৬.৩ চালান ইস্যু করবে। ইএফডি মেশিন চালু হওয়ার পর উক্ত ইস্যুকৃত চালান ওই মেশিনে এন্ট্রি দিতে হবে।

দরপত্রের শর্তানুযায়ী জেনেক্স জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জারি করা দাখিলপত্র এসডিসি ব্যবহারের মাধ্যমে পেশ করার জন্য ওই সিস্টেমটি ব্যবহার উপযোগী করবে এবং মূসক আইন/বিধি সংক্রান্ত পরিবর্তনের আলোকে তা হালনাগাদ করতে পারবে।

এতে আরও বলা হয়, মূসকযোগ্য প্রতিষ্ঠানকে মেশিন স্থাপন, মেরামত, কারিগরি বা অন্য যেকোনো সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জেনেক্স কে সহযোগিতা করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান ইএফডি মেশিনে চালান ইস্যু না করলে বা আইন পরিপালন না করলে জেনেক্স তার নিযুক্ত প্রতিনিধি উপযুক্ত প্রমাণসহ অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কমিশনারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবে। ওই তথ্যের আলোকে কমিশনার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।




ড. ইউনূস’’র ১২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার দানকর পরিশোধ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পাওনা ১২ কোটি ৪৬ লাখ ৭২ হাজার টাকার দানকর অবশেষে পরিশোধ করেছেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) সাউথ ইস্ট ব্যাংকের প্রধান শাখার মাধ্যমে এনবিআর কর অঞ্চল-১৪ এর উপ-কমিশনার বরাবর ওই টাকা জমা দেওয়া হয়েছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইনজীবী রুহুল আমিন সরকারের সই করা এক চিঠির সূত্র ধরে এ তথ্য জানা গেছে। চিঠিতে ব্যাংকের পে-অর্ডার সংযুক্ত করে বকেয়া দানকর পরিশোধের কথা উল্লেখ করে প্রাপ্তিস্বীকারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বকেয়া দানকর পরিশোধের জন্য যে নোটিশ দিয়েছিলেন পরবর্তীতে উক্ত বকেয়া দানকর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে করদাতা মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করেন। মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ উক্ত দানকর মামলাটি হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখেন যা করদাতা সংবাদমাধ্যমে অবহিত হন। গত ১৮ জুন হাইকোর্ট বিভাগের রায় অনুযায়ী বকেয়া দানকর ১২ কোটি ৪৬ লাখ ৭২ হাজার ৬০৮ টাকা প্রদানের নোটিশ ইস্যু করা হয়। এমতাবস্থায় আজ (২৫ জুলাই) সাউথ ইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের প্রিন্সিপাল শাখার পে-অর্ডারের (নং- পিও ৩৬২০১৭০) মাধ্যমে পরিশোধ করা হলো।

গত ২৩ জুলাই এনবিআরের আরোপিত দানকর বৈধ ঘোষণা করা রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে (লিভ টু আপিল) নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আবেদন খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। ফলে এনবিআরের আরোপিত দানকর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে আপিল বিভাগ ওই আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। ড. ইউনূসের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী সরদার জিন্নাত আলী।

গত ২১ জুন হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করা হয়।

ওই মামলা থেকে জানা যায়, ১৯৯০ সালের দানকর আইন অনুযায়ী ২০১১-১২ করবর্ষে মোট ৬১ কোটি ৫৭ লাখ ৬৯ হাজার টাকা দানের বিপরীতে ১২ কোটি ৪৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা কর দাবি করে নোটিশ পাঠায় এনবিআর।

২০১২-১৩ করবর্ষে আট কোটি ১৫ লাখ টাকা দানের বিপরীতে এক কোটি ৬০ লাখ ২১ হাজার টাকা দানকর দাবি করা হয়। ২০১৩-১৪ করবর্ষে সাত কোটি ৬৫ হাজার টাকা দানের বিপরীতে এক কোটি ৫০ লাখ ২১ হাজার টাকা কর দাবি করে নোটিশ দেয় এনবিআর।

দানের বিপরীতে কর দাবি করে এনবিআরের এসব নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আপিল ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন ড. ইউনূস। তার দাবি, আইন অনুযায়ী দানের বিপরীতে এনবিআর এ কর দাবি করতে পারে না।

২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর তার আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। ২০১৫ সালে তিনি হাইকোর্টে তিনটি আয়কর রেফারেন্স মামলা করেন।

মামলাগুলোর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে দানকর দাবির নোটিশের কার্যকারিতা স্থগিত করে ২০১৫ সালে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে মৃত্যু ও পরিবারের সদস্যদের কল্যাণ চিন্তা করে নিজের নামে প্রতিষ্ঠিত তিনটি ট্রাস্টে যে টাকা দান করেছেন, সেই দানের বিপরীতে এনবিআরের আরোপ করা দানকর বৈধ ঘোষণা করে চলতি বছরের ৩১ মে রায় দেন হাইকোর্ট।

৩১ মে রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস তিন প্রতিষ্ঠানে ৭৭ কোটি টাকা দান করেছিলেন। তিনি বলছেন, এর বিপরীতে কর দিতে হবে না। আমরা বলেছি দিতে হবে, এ কারণে এনবিআর তাকে নোটিশ দিয়েছিল।

পরে তিনি হাইকোর্টে তিনটি রেফারেন্স মামলা করেন। হাইকোর্ট রেফারেন্সগুলো সঠিক বলেন এবং আবেদনগুলো খারিজ করে দেন। এনবিআর ১৫ কোটি টাকার বেশি দাবি করে। যার মধ্যে তিন কোটি টাকার মতো পরিশোধ করা হয়।




বিদায়ী অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি ৪৪ হাজার কোটি টাকা

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সদ্য সমাপ্ত ২০২২-২৩ অর্থবছরে সংস্থাটির রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ২৭২ কোটি টাকা। এটি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৪৪ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা কম। গত অর্থবছরে কর আদায় বেড়েছে ৮ শতাংশ।

এর ফলে টানা ১১ বছরের মতো রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হলো এনবিআর।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, আমদানি-রপ্তানি খাত থেকে ১ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৯১ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা। এ খাতে ঘাটতি ১৯ হাজার ২৮২ কোটি টাকা।

মূল্য সংযোজন খাত (মূসক) বা (ভ্যাট) থেকে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। এ খাতে ঘাটতি ১৬ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা।

আর আয়কর খাত থেকে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। ঘাটতি ৯ হাজার ১৭৮ কোটি টাকা।

আমদানি রপ্তানিতে ২.৫৬ শতাংশ, মূসকে ১১.২৭ শতাংশ আর আয়কর খাতে ৯.৬২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

গত ২০২১-২২ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতির পরিমান ছিল ২৮ হাজার কোটি টাকা। ওই বছর ৩ লাখ ৮৫২ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। সেই হিসাবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ঘাটতি হল বাড়তি ১৬ হাজার কোটি টাকা।

এ বিষয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ও আইএমএফের সাবেক অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর জাগো নিউজকে বলেন, ঘাটতি বিষয়ে আমরা যা ধারণা করেছিলাম, তার তুলনায় ঘাটতি আছে। ৩ লাখ ৩০ থেকে ৩ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হবে বলে ধারণা করেছি। সেটাও হয়নি।

রাজস্ব আদায় বাড়াতে এনবিআরের সংস্কার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।




ঈদের ছুটিতে কাস্টমস সেবা চলবে

পবিত্র ঈদুল আযহার ছুটিতে আগামী ২৭ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত কাস্টম হাউস বা স্টেশনগুলোর আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সীমিত আকারে চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে শুধু ঈদের দিনে শুল্ক স্টেশনগুলো বন্ধ থাকবে।

এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব (কাস্টমস: নীতি) মো. পারভেজ রেজা সই করা চিঠির সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য নিরবচ্ছিন্ন রাখতে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ২৭ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত (ঈদের দিন ব্যতীত) সাপ্তাহিক ছুটি ও ঈদের ছুটির দিনগুলোতে আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত কার্যক্রম সীমিত আকারে চলমান রাখার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, বেনাপোল, আইসিডি, কমলাপুর, মোংলা, পানগাঁও কাস্টম হাউসের কমিশনারদের কাছে এই বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে। ঢাকা (উত্তর), ঢাকা (পশ্চিম), ঢাকা (পূর্ব), ঢাকা (দক্ষিণ), চট্টগ্রাম, রাজশাহী, যশোর, খুলনা, সিলেট, রংপুর, কুমিল্লা কাস্টমসের এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কমিশনারকেও এমন নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে সংশ্লিষ্ট সকল বাণিজ্যিক ব্যাংককে বিষয়টি অবহিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ করা হয়েছে।




কাস্টমস আইনের পরিবর্তন চায় বিজিএপিএমইএ

কাস্টমস আইনের সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধানের পরিবর্তন চেয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস্ এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ)। বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানিকরা পণ্যের হারমোনাইজড কমডিটি ডেসক্রিপশন অ্যান্ড কোডিং সিস্টেমস এইচএসকোডের বর্ণনায় ভূলজনিত কারণে দণ্ড আরোপ ও আপিল দায়ের সংক্রান্তে এ কাস্টমস আইনের পরিবর্বতন চাওয়া হয়।

সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে পাঠানো এক চিঠিতে সংগঠনটির মোস্তফা সেলিম জানান, অনিচ্ছাকৃত বা সামান্য ভুলের কারণে আমদানিকরাককে পুরো চালানের ওপর জরিমানা দিতে হয়। এর ফলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বন্ডেড প্রতিষ্ঠান বন্ড লাইসেন্স এবং আমদানি প্রাপ্যতায় বর্ণিত কাঁচামাল বিনা শুল্কে আমদানি করে ইউপি গ্রহণপূর্বক তা ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি করে। আমদানিকৃত কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়েছে কি না তা কাস্টমস্ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিশ্চিৎ করা হয়। আমদানি করা কাঁচামালের বর্ণনায় ও এইচএসকোডে কোনো ভুল হলেও সেটি প্রকৃত প্রস্তাবে যে পণ্য উৎপাদনের জন্য আমদানি করা হয় সেটির উৎপাদনেই ব্যবহার করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, কাস্টমস্ কর্তৃপক্ষ বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের আমদানিকৃত কাঁচামালের ক্ষেত্রেও পণ্যের বর্ণনায় ও এইচএসকোডের গরমিলের কারণে দি কাস্টমস্ এ্যাক্ট ১৯৬৯ এর ধারা ১৫৬ (১) এর ১৪ নম্বর ক্রমিকের ২ নম্বর কলামের (দি কাস্টমস্ অ্যাক্টের ধারা ৩২) অধীনে আমদানিকরা কাঁচামালের মূল্যের সর্বনিম্ন দ্বিগুণ ও সর্বোচ্চ চারগুণ দণ্ড আরোপ করে থাকে। এমনকি কোনো চালানে ৫ প্রকার কাঁচামালের আমদানি করা হলে তার মধ্যে যে কোনো একটির ক্ষেত্রে বর্ণনায় এইচএসকোডের গরমিল হলে সম্পূর্ণ চালানের মূল্যের ওপর জরিমানার পরিমাণ ধার্য্য করা হয়।

এতে বলা হয়, কাস্টমস আইনের বর্ণিত ধারা অনুযায়ী দণ্ডারোপ বিশেষ করে ছোটখাটো বা অনিচ্ছাকৃত ভুলের ক্ষেত্রে উক্ত দণ্ড বাণিজ্য সহায়ক না হতে পারে এরূপ বিবেচনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ২০২০ সালে একটি পত্রের মাধ্যমে ব্যাখ্যা প্রদান করে যে, ভুলটি অবৈধ অভিপ্রায় না অসাবধানতাবশত: সেটি বিচারিক প্রজ্ঞায় বিবেচনা করবেন ন্যায় নির্ণয়কারী কর্মকর্তা। ফলে দেখা যাচ্ছে উক্তরূপ দণ্ড আরোপ সম্পূর্ণভাবে ন্যায় নির্ণয়কারীর ওপর বর্তিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পূর্বে দত্ত আরোপের সুনির্দিষ্টতা ছিল এবং ন্যায় নির্ণায়কের বিবেচনার ওপর সিদ্ধান্ত ছিল না। এ কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হয়রানি হওয়ার সুযোগ কম ছিল। দি কাস্টমস্ অ্যাক্টের আওতায় আরোপিত কোনো দণ্ড/শুদ্ধ সম্পর্কিত কোনো আদেশ বা রায়ের বিরুদ্ধে ১৯৩ বা ১৯৬ (এ) ধারা মোতাবেক আরোপিত জরিমানা বা দণ্ডের একটি নির্দিষ্ট অংশ জমা দান করে আপিল দায়ের করতে হয়। জরিমানা বা দণ্ডেরর পরিমাণ আপিল আদালত নির্ধারণ করে থাকে। এ ক্ষেত্রেও বিষয়টি আপিল আদালতের বিচারকের বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল। দণ্ড বা জরিমানার অর্থ জমাদানপূর্বক আপিল দায়ের ন্যায়নীতির পরিপন্থি যা বাংলাদেশ সংবিধানও সমর্থন করে না।

আপিল দায়ের হওয়ার অর্থই হলো বিষয়টি বিচারধীন। চূড়ান্ত বিচারে দণ্ড বা জরিমানা বহাল না হওয়া পর্যন্ত দোষী হিসেবে গণ্য করে দণ্ড বা জরিমানার অর্থ জমা দান করে আপিল দায়ের করার বিধান বাতিল করা ন্যায় বিচারের জন্য একান্তভাবে আবশ্যক।

এ অবস্থায় ন্যায় বিচারের স্বার্থে দি কাস্টমস্ অ্যাক্ট ১৯৬৯ এর ১৫৬ (১) উপানুচ্ছেদ এবং ১৯৬ (এ) উপানুচ্ছেদে ওপরের বর্ণনার আলোকে সংশোধন বা পরিবর্তন আনয়নের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয় চিঠিতে।




উত্তরা ইপিজেডে পূর্ণাঙ্গ কাস্টমস ইউনিট চায় বেপজা

নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে পূর্ণাঙ্গ কাস্টমস ইউনিট স্থাপনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)। সম্প্রতি বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) আলী রেজা মজিদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এনবিআরের কাছে এ সহায়তা চেয়েছে বেপজা।

পিছিয়ে পড়া উত্তরাঞ্চলে শিল্পায়নের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নীলফামারীতে ২০০১ সালে উত্তরা ইপিজেড স্থাপিত হয়। ২১২ একর জমির উপর গড়ে ওঠা উত্তরা ইপিজেডে বাংলাদেশ, হংকং, চীনসহ ২৪ টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেখানে প্রায় ৩০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে।প্রতিষ্ঠানগুলোতে ২১৬ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ রয়েছে।

সরকারের ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিনিয়োগকারীদের দ্রুততম সময়ে সেবা দেওয়া এবং আমদানি-রপ্তানি সহজীকরণের মাধ্যমে দেশে-বিদেশি বিনিয়োগের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ও চলমান প্রবাহ অব্যাহত রাখতে এনবিআরের কাছে পূর্ণাঙ্গ কাস্টমস ইউনিট স্থাপন সুবিধা চেয়েছে বেপজা।

চিঠিতে বলা হয়, বিনিয়োগকারীদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহজ করতে কোম্পানিগুলোর আমদানি ও রপ্তানি সংশ্লিষ্ট সাব-কন্ট্রাক্ট, শিপ ব্যাক, ব্রিং ব্যাক, রিপেয়ারিং, মেশিন ঋণ, পুরাতন মেশিন বিক্রয়, নিলাম, বন্ড টু বন্ড ট্রান্সফার ইত্যাদি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য উত্তরা ইপিজেডে একটি পূর্ণাঙ্গ কাস্টমস ইউনিট স্থাপন প্রয়োজন। পাশাপাশি কাস্টমস ইউনিটে উপ-কমিশনার বা সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে পূর্ণ ক্ষমতা দিয়ে ইপিজেড থেকেই বিনিয়োগকারীদের কাস্টমস সংক্রান্ত যাবতীয় সেবা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

বেপজা বলছে, আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে লিড টাইম সীমাবদ্ধতাসহ বর্তমান বিশ্ববাণিজ্যে বিরাজমান নানান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং যথাসময়ে রপ্তানির মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতা ধরে রেখে প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্যে টিকে থাকতে ইপিজেডে পূর্ণাঙ্গ কাস্টমস ইউনিট প্রয়োজন।

 




কোম্পানির রিটার্ন দাখিলের সময় ১৫ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি

কোম্পানি শ্রেণির করদাতার ২০২২-২০২৩ কর বছরের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

মূলত কোম্পানি শ্রেণির আয়কর দাখিলের সময় শেষ হয়েছে গত জানুয়ারিতে। তবে অনেক কোম্পানিই এরইমধ্যে আবেদন করে সময় নিয়েছে। অনেকে আবার রিটার্ন দাখিল করেনি। তাছাড়া ব্যবসায়ীদের দাবিও ছিল সময় বৃদ্ধি করার। যে কারণে সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দ্বিতীয় সচিব মো. মহিদুল ইসলাম চৌধুরী সই করা আদেশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। মঙ্গলবার (১৬ মে) এনবিআরের জনসংযোগ দপ্তর সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

আদেশে বলা হয়েছে, কোম্পানি শ্রেণির করদাতার ২০২২-২০২৩ কর বছরের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আয়কর অধ্যাদেশে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, কোম্পানি শ্রেণির করদাতারা তাদের আয় বছর শেষের পরে সাত মাস সময় পান আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য। দেশের অধিকাংশ কোম্পানির আয় বছর অর্থবছরের (জুলাই থেকে জুন) সঙ্গে মিলিয়ে। আর ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো পঞ্জিকা বছরের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) সঙ্গে মিলিয়ে আয় বছর ঠিক করে।

দু’একটি বহুজাতিক কোম্পানি রয়েছে যাদের আয় বছর এপ্রিল থেকে মার্চ মাস। তবে ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করে। যে কারণে এনবিআর দেশীয় অন্য কোম্পানির আয় বছর অর্থাৎ জুলাই থেকে জুন সময়কে কোম্পানির আয় বছর বিবেচনা করে রিটার্ন দাখিলের সময় নির্ধারণ করে।




জটিলতা নিরসনে এনবিআরকে চিঠি দিল সিএনজি ব্যবসায়ীরা

লাভের চেয়ে টার্নওভার ট্যাক্সের হার বেশি হওয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে অভিযোগ করেছে কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

বিক্রয় কমিশন ও গ্যাস বিক্রির কিউবিক মিটার পরিমাপ করে এ খাতে টার্নওভার ট্যাক্স নির্ধারণ করার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এ দাবি জানায় তারা।

চিঠিতে সংগঠনটির মহাসচিব ফারহান নুর বলেন, সিএনজি ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসার জন্য ফিড গ্যাস কেনেন এবং সেটা কমপ্রেসড করে আবার সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করে থাকেন। ফলে ক্রয় ও বিক্রয়ের মধ্যে যে মুনাফা সেটাই এ খাতের ব্যবসায়ীদের কমিশন। বর্তমানে তারা সরকার নির্ধারিত ৩৫ টাকায় কিউবিক মিটারে গ্যাস কেনেন। পরে ওই গ্যাস কমপ্রেসড করে ৪৩ টাকা করে গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে থাকেন। এতে ব্যাবসায়ীরা প্রতি কিউবিক মিটারে গ্যাস বিক্রি করে ৮ টাকা কমিশন পান। এ কমিশন থেকে ব্যবসায়ীরা তাদের যাবতীয় ব্যয় যেমন কর্মকতা ও কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ বা গ্যাস বিল, বিভিন্ন লাইসেন্স ফি, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ মিটিয়ে থাকেন।

তিনি বলেন, কমিশন বা মার্জিনের ওপর টার্নওভার ট্যাক্স আরোপ করা যুক্তিযুক্ত হলেও আয়কর অফিস থেকে সম্পূর্ণ বিক্রয়মূল্যের ওপর টার্নওভার ট্যাক্স আরোপ করা হচ্ছে। সময়ে সময়ে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে সিএনজি ব্যবসায়ীদের টার্নওভারের পরিমাণই শুধু বাড়ে, কিন্তু তাদের মুনাফা একই থাকে। যার ফলে ব্যবসায়ীদের মুনাফার চেয়ে টার্নওভার ট্যাক্স বেশি দিতে হচ্ছে যা সম্পূর্ণভাবে অযৌক্তিক মনে করছেন তারা। বিক্রয়মূল্যের পুরো অর্থ ব্যবসায়ীদের অর্জন নয়, এখানে এ খাতের ব্যবসায়ীরা শুধু একটা মার্জিন পেয়ে থাকেন।

ফারহান নুর বলেন, ব্যবসায়ীরা মনে করেন সরকার নির্ধারিত ফিড গ্যাসের মূল্য ৩৫ টাকা বাদ দিয়ে টার্নওভার ট্যাক্স নির্ধারণ করা যুক্তিযুক্ত। তাদের দাবি, প্রতি কিউবিক মিটার ৮ টাকা হারে পরিশোধিত বিল অনুযায়ী মোট বিক্রি হওয়া কিউবিক মিটার গ্যাস পরিমাপ করে টার্নওভার ট্যাক্স নির্ধারণ করা জরুরি।

সংগঠনটির মহাসচিব বলেন, টার্নওভারের ওপর যখন ট্যাক্স ধরা হয়, তখন সব টাকার মালিক তো আমরা না। আমরা শুধুমাত্র মার্জিনটার মালিক। মার্জিন থেকে আমাদের কমপ্রেসিংয়ের খরচ, কর্মচারীদের বেতন, অন্যান্য খরচ ও লভ্যাংশ- সবই এখানে থাকে। মার্জিনের ওপরে যে খরচগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে টার্নওভার ট্যাক্স নির্ধারণের দাবি জানিয়েছি আমরা।




চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের অনুমতি পেল ভারত

চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে পণ্য পরিবহনের বাণিজ্যিক অনুমতি পেয়েছে ভারত। এর ফলে ভারত এখন থেকে এই বন্দর দুটি ব্যবহার করে নিজের দেশে পণ্য পরিবহন করতে পারবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে।

২০১৮ সালে ভারতে এসিএমপি চুক্তি স্বাক্ষর করে ঢাকা ও দিল্লি; যার আওতায় ভারতকে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার করে নিজের দেশে পণ্য পরিবহনের অনুমতি দেয় বাংলাদেশ। ২০১৯ সালে একটি আদর্শ কার্যপ্রণালী তৈরি হলে পরের বছর পরীক্ষামূলকভাবে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আখাউড়া হয়ে একটি ভারতীয় পণ্যের চালান আগরতলা যায়। গত বছর মোংলা বন্দর দিয়ে আরও দুটি রুটে পরীক্ষামূলক ট্রানজিট দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পরিবহন করলে সময় ও খরচ দুটোই কমবে ভারতের। এনবিআরের নির্দেশে বলা হয়েছে, এই পণ্য পরিবহন করার জন্য চট্টগ্রাম-আখাউড়া-আগরতলা, মোংলা-আখাউড়া-আগরতলা, তামাবিল-ডাউকি, শেওলা-সুতারকান্দি এবং বিবিরবাজার-শ্রীমন্তপুর রুটে ১৬টি ট্রানজিট রুট খোলা হয়েছে। ট্রান্সশিপমেন্টের জন্য অপারেটরকে বাংলাদেশ কাস্টমস থেকে পাঁচ বছরের জন্য লাইসেন্স নিতে হবে।

সেইসঙ্গে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের আইনে নিষিদ্ধ কোনো পণ্য পরিবহন করা যাবে না। বাংলাদেশের বন্দরে সাতদিনের বেশি ট্রান্সশিপমেন্ট পণ্য রাখা যাবে না। বন্দরে পণ্য পৌঁছানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা বাংলাদেশ কাস্টমসকে জানাতে হবে। বিল অব এন্ট্রি, কমার্শিয়াল ইনভয়েস এবং প্যাকিং লিস্টসহ সম্পূর্ণ নথি জমা দিতে হবে কাস্টমসের কাছে। ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে কাস্টমস ডিউটি পরিশোধ করতে হবে, চার্জ, ফি এবং চার্জের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে।

সমস্ত চালান পণ্য ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সিল করতে হবে। প্রতিটি চালান ডকুমেন্ট প্রসেসিংয়ের জন্য ৩০ টাকা, ট্রান্সশিপমেন্টের ক্ষেত্রে প্রতিটন পণ্যের জন্য ২০ টাকা, টনপ্রতি সিকিউরিটি চার্জ ১০০ টাকা, প্রতি কন্টেইনার এসকর্ট চার্জ ৮৫ টাকা, টন প্রতি অন্যান্য প্রশাসনিক চার্জ ১০০ টাকা এবং প্রতি কন্টেইনার স্ক্যানিং চার্জ বাবদ ২৫৪ টাকা পরিশোধ করতে হবে।




উপ-কর কমিশনার মেহেদীর অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে দুদক

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর অঞ্চল-১ এর উপ-কর কমিশনার মেহেদী হাসান খন্দকারের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানে প্রায় ২৫ লাখ টাকার সম্পদের হিসাবে গড়মিল পাওয়া গেছে। এরপর তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ পাঠিয়েছে দুদক।

সোমবার (১৭ এপ্রিল) দুদকের জনসংযোগ দপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

দুদক থেকে পাঠানো নোটিশে বলা হয়, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে দুদকের স্থির বিশ্বাস জন্মেছে যে, আপনার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত স্বনামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ/সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। আপনি আপনার নিজ ও আপনার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তির নামে-বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী কমিশনে দাখিল করবেন।

এ আদেশ পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ছকে সম্পদ বিবরণী দাখিলে ব্যর্থ হলে কিংবা মিথ্যা সম্পদ বিবরণী দাখিল করলে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬ এর উপধারা (২) অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দুদকের নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে কর কর্মকর্তা মেহেদী হাসান খন্দকার ঢাকা পোস্টকে বলেন, দুদকের নোটিশ পেয়েছি। এ বিষয়ে পরে কথা বলবো।




জাহিনটেক্সের ২ ধরনের আর্থিক প্রতিবেদন: ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ

পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি জাহিনটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও স্টক এক্সচেঞ্জে দুই ধরনের আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কোম্পানির দুই ধরনের আর্থিক প্রতিবেদনের বিভিন্ন তথ্যে ব্যাপক গড়মিল পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে মোট বিক্রয়, কস্ট অব গুড সোল্ড, নিট আয়সহ অনান্য উপাদান গড়মিলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর বছরে আয়কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে এবং প্রকৃত তথ্য গোপন করা হয়েছে। তাই, কোম্পানির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) অনুরোধ জানিয়েছে এনবিআর।

সম্প্রতি এ বিষয়ে বিএসইসি’র চেয়ারম্যান বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

বিএসইসিকে দেওয়া চিঠিতে এনবিআর উল্লেখ করেছে, উল্লিখিত করদাতা কোম্পানি ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই-সিএসই) নিবন্ধিত। কোম্পানিটির বিষয়ে এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল গোয়েন্দা অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য এবং করদাতা কোম্পানির আয়কর নথির প্রাথমিক পর্যালোচনা করেছে। সেই পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, আয়কর বিভাগ ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ২০১৪-২০১৫ ও ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের জন্য দাখিল করা একই নিরীক্ষা প্রতিবেদনে হিসাবের বিভিন্ন তথ্যে ব্যাপক গড়মিল রয়েছে। এতে একই সময়ের জন্য দাখিলকৃত প্রতিবেদনে দুই কর্তৃপক্ষের জন্য দুই ধরনের আয় প্রদর্শন করেছে। এছাড়া, মোট বিক্রয়, কস্ট অব গুড সোল্ড, নিট আয়সহ অনান্য উপাদানে গড়মিলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর বছরের আয়কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ অবস্থায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে নিবন্ধিত কোম্পানি জাহিনটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (টিআইএন নম্বর- ৪৯৭০৭১১৯৩৫৪৯) ২০১৪-২০১৫ এবং ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের দাখিলকৃত নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আয়ের প্রকৃত তথ্য গোপনের বিষয়টি অবগতি ও যথাযথ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানির সচিব লিয়াকত আলী বখতিয়ার বলেন, আমরা সব জায়গায় একই আর্থিক প্রতিবেদন দিয়ে থাকি। কিন্তু, দুই ধরনের তথ্য দেওয়ার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। এ বিষয়ে এখনো আমাদেরকে সংশ্লিষ্ট জায়গা থেকে কিছু জানানো হয়নি। তাই, এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।

 

এ বিষয়ে বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. রেজাউল করিম বলেন, প্রথমে নিরীক্ষকের কাছ থেকে নিশ্চিত করতে হবে, কোন প্রতিবেদনটি সঠিক। সেক্ষেত্রে যদি দুটো প্রতিবেদনই তৈরি করে থাকে, সেক্ষেত্রে নিরীক্ষকও শস্তির আওতায় আসবে। যদি একটি নিরীক্ষক তৈরি করে আর অপরটি কোম্পানি জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করে, তাহলে শুধু কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকবে। এজন্য প্রথমে সঠিক আর্থিক প্রতিবেদন নিশ্চিত করে পরবর্তীতে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, পুঁজিবাজারে জাহিনটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ তালিকাভুক্ত হয় ২০১১ সালে। ‘বি’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৮১ কোটি ৮২ লাখ ৯০ হাজার টাকা। সে হিসেবে কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৮ কোটি ১৮ লাখ ২৮ হাজার ৫৪৯টি। ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, কোম্পানিটির উদ্যোক্তা পরিচালকের হাতে ৩৬.৯৪ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ২১.৭৮ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৪১.২৮ শতাংশ শেয়ার আছে।

২০১৯ থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত টানা তিন বছর সমাপ্ত হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ দেয়নি জাহিন স্পিনিংয়ের পরিচালনা পর্ষদ। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের জানুয়ারিতে জাহিনটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ও সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। কোম্পানিটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে পরিচালনা পর্ষদে তিনজন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

জাহিনটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালনা পর্ষদে নিয়োগ পাওয়া স্বতন্ত্র পরিচালকরা হলেন—মেজর আব্দুল কুদ্দুস মজুমদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সেরিনা বানু এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. নাজমুল হাসান। সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরের কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৩.১১ টাকা। রোববার (১৬ এপ্রিল) ডিএসইতে জাহিনটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার সর্বশেষ ৯ টাকায় লেনদেন হয়েছে।




আয়করে ই-পেমেন্ট বাধ্যতামূলক

আয়কর সংক্রান্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে ই-পেমেন্ট বাধ্যতামূলক করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ায় এখন থেকে আয়কর সংক্রান্ত সব লেনদেন অনলাইনের মাধ্যমে পরিশোধে বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

গত ২৬ মার্চ জারি করা প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়েছে, উৎসে কর, অগ্রিম করসহ সব ধরনের করের ক্ষেত্র অনলাইনে পরিশোধ বাধ্য করা হয়েছে।

আয়কর সংক্রান্ত এ প্রজ্ঞাপনে কোনো ধরনের আপত্তি থাকলে তা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আমলে আনা হবে বলে এনবিআর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। আইএমএফের পরামর্শে রাজস্ব ব্যবস্থা অটোমেশনে যেতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর।

রাজস্ব বোর্ডের করনীতির সদস্য ড. সামস উদ্দিন আহমেদ সই করা নতুন প্রজ্ঞাপন অনুসারে, এখন থেকে আয়কর রিটার্নের সঙ্গে জমা দেওয়া কর অনলাইনে পরিশোধ করতে হবে। ই-পেমেন্ট পদ্ধতিতে আয়করের অর্থ পরিশোধের জন্য ব্যাংকে অনুরোধ বার্তা পাঠানোর পর সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে তা জমা (ট্রেজারি ডিপোজিট) হবে। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা এনবিআরে রক্ষিত সমন্বিত আয়কর প্রশাসন পদ্ধতির (আইভিএএস) তথ্যভান্ডারে আসবে।

এতে আরও বলা হয়, আইভিএএস থেকে চালান নম্বরসহ তা করদাতা, সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল অফিস, সরকারের মহা হিসাব নিরীক্ষকের কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত নোটিফিকেশন যাবে। এই ইলেকট্রনিক নোটিফিকেশনে উল্লেখিত চালান নম্বর, তারিখ, রাজস্ব দপ্তরে অফিসের কোড এবং জমা করা অর্থের পরিমাণ সিএজি অফিস থেকে যাচাই করে তা সঠিক পাওয়া গেলে কর অঞ্চলে ট্রেজারি চালানের বিকল্প হিসেবে তা গ্রহণ করবে।




জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সংস্কার চায় এডিবি

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এবিআর) সংস্কার চায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। নানা ধরনের পাঁচ প্রকল্পে ২৩ কোটি ডলার দিতে চায় সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিনটিংয়ের সঙ্গে এক সাক্ষাৎ শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এ কথা জানান।

পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, এডিবি বাজেট সহায়তা দেয়। এডিবি চায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার হোক। এটা আমাদেরও প্রত্যাশা, কারণ এনবিআর সংস্কার না হলে আমাদের লক্ষ্য পূরণ কীভাবে হবে!

তিনি বলেন, নানা ধরনের পাঁচ প্রকল্পে ২৩ কোটি ডলার (প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা) দিতে চায় এডিবি। এডিবি টাকা নিয়ে প্রস্তুত, আমরা প্রস্তুত হলেই এটা ছাড় হয়ে যাবে। বন্যায় দেশে সড়ক, খাবার পানি ও রেলপথের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এসব কাজে এডিবি আমাদের সহায়তা দেবে।

এ সময় এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিনটিং বলেন, আমরা সরকারকে বলেছি রাজস্ব বোর্ডকে সংস্কারের জন্য। আমরা সব সময় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশের পাশে থাকি। বন্যায় দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে, এসব অবকাঠামো সংস্কারে আমরা সহায়তা দেবো।




আমদানি পর্যায়ে আগাম কর প্রত্যাহারের দাবি এফবিসিসিআই’র

আমদানি পর্যায়ে শিল্পখাতের প্রদেয় আয়কর এবং আগাম কর প্রত্যাহার চেয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই)।

মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) সকালে আগারগাঁওয়ের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মূল্য সংযোজন কর বা মূসক বিষয়ক প্রাক বাজেট সভায় এই প্রস্তাব দিয়েছে এফবিসিসিআই।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, ইনপুট ভ্যাট হিসেবে প্রদত্ত ১৫ শতাংশ, ৩ শতাংশ, ৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ মূসক সরবরাহের ক্ষেত্রে সমন্বয় যোগ্য গণ্য করার প্রস্তাব দেয় এফবিসিসিআই।

যেসব খাতে মূসক ও সম্পূরক শুল্ক অব্যাহতির প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি সেগুলো হলো-

নিম্ন আয় এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ব্যবহার্য্য পণ্য, সাধারণ পণ্য পরিবহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবা, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শিল্পের কাঁচামাল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রি-সাইক্লিং, টেন্ডার বহির্ভূত সরাসরি পণ্য মেরামত বা সার্ভিসিং খাত।

এছাড়া নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত টার্নওভার করা একক বা সম্পর্কিত এন্টারপ্রাইজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃহৎ করদাতা ইউনিটে (এলটিইউ) তালিকাভুক্ত করা এবং বৃহৎ করদাতা অঞ্চলে এলটিইউ স্থাপন করার প্রস্তাব দিয়েছে এফবিসিসিআই।

অন্যদিকে আউটপুট ভ্যাট থেকে ইনপুট ভ্যাট সমন্বয় করার সুবিধাসহ পণ্য ও পরিসেবার লেনদেনের ওপর মূসক ১৫ শতাংশ করা, রিয়েল স্টেট, লোহা ও ইস্পাত ইত্যাদি খাতের জন্য নির্দিষ্ট ট্যারিফ ভিত্তিক মূসক বহাল রাখার প্রস্তাব করে সংগঠনটি।

অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে- ইনপুট ভ্যাট সমন্বয় করা না হলে সব প্রক্রিয়াজাত পণ্যে এবং সেবার লেনদেন মূল্যের ওপর নির্ধারিত হারে মূল্য সংযোজনের ওপর ১৫ শতাংশ মূসক বহাল করা, ইনপুট ভ্যাট সমন্বয় না করা হলে পাইকারি এবং খুচরা বিক্রয় পর্যায়ে লেনদেনের মূল্যের ওপর মূসক শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হারে বহাল করা।

আগাম কর প্রত্যাহার প্রসঙ্গে এফবিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, আগাম কর সমন্বয়ের অপারগতা এবং উৎসে কাটা মূসক রিফান্ড নিতে না পারার কারণে উৎপাদন পরবর্তী সমন্বয় চেইন ভেঙে পড়েছে ও মূলধন দায় বেড়ে যাচ্ছে। ব্যবসা পরিচালনার নির্বাহী খরচ, সময় হার এবং হয়রানি বেড়ে শিল্পায়ন প্রক্রিয়া অহেতুক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছে।




রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি কমেছে

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধির গতি খানিকটা কমে গেছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে অর্থাৎ প্রথম আট মাসে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩৯ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করেছে এনবিআর। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৯২ শতাংশ। এর আগে জুলাই-জানুয়ারি সময়ে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয় ৯ দশমিক ৯১ শতাংশ।

একক মাসের হিসাবেও কমে এসেছে প্রবৃদ্ধির গতি। ফেব্রুয়ারি মাসে ২৩ হাজার ৭২৯ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করেছে এনবিআর। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে মাত্র ১ দশমিক ৭২ শতাংশ। আগের মাস জানুয়ারিতে এ হার ছিল ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ। রাজস্ব আদায়সংক্রান্ত এনবিআরের সময়িক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে দেশের অর্থনীতিতেও কিছুটা শ্লথগতি আছে। এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাঁচাতে বিলাসী পণ্য আমদানি নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য পণ্য আমদানিতেও পর্যাপ্ত ডলার না পাওয়ায় সার্বিকভাবে আমদানি কমেছে। এগুলোর প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আদায়েও।

ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রথম আট মাসে এনবিআরের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ১৯ হাজার ১৫ কোটি টাকা। ওই আট মাসে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২২ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে এনবিআরের। চলতি অর্থবছরে মোট ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সংস্থাটির।

আট মাসে আমদানি-রপ্তানি পর্যায়ে রাজস্ব এসেছে ৫৯ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৫৬ হাজার ৭২৬ কোটি টাকা। সে হিসাবে এ খাতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

এদিকে স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) খাত থেকে আট মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৭৬ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ খাতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৫ শতাংশের কিছু বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাত থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৬৬ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া আয়কর ও ভ্রমণ কর খাত থেকে আট মাসে রাজস্ব এসেছে ৬০ হাজার ৪৩৭ কোটি টাকা। এ খাতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ।




আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছে ১৩.৭৩ শতাংশ কোম্পানি

বিগত ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ১৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ কোম্পানি আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছে। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রিটার্ন দাখিলের জন্য আরও সময় চেয়ে এনবিআরে আবেদন করেছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ তথ্য জানিয়েছে। এনবিআরের তথ্য মতে, দেশে এক লাখ ৬৭ হাজার ১৩৫ জন করপোরেট টিআইএনধারীর মধ্যে ২২ হাজার ৯৪৮ জন রিটার্ন জমা দিয়েছেন। আর তাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) করপোরেট আয়কর বাবদ পেয়েছে দুই হাজার ৩৭৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসের কার্যালয়ের তথ্য মতে, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট দুই লাখ ৮০ হাজার পাবলিক অ্যান্ড প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি নিবন্ধন পেয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান করদাতা শনাক্তকরণ (টিআইএন) নম্বর ছাড়াই দেশে ব্যবসা করছে।

এনবিআরের কর মনিটরিং অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন বিভাগের এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, গত ১৫ জানুয়ারির মধ্যে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারেনি। এ বছর এনবিআর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ায়নি, তবে করদাতাদের কাছ থেকে সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন পাওয়া যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, করপোরেট ট্যাক্স রিটার্ন পরিশোধের নিয়ম নিয়ে কর কর্মকর্তাদের আরও উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। মোট প্রত্যক্ষ করের প্রায় ১৭ শতাংশ আসে করপোরেট করদাতাদের কাছ থেকে। করপোরেট ট্যাক্স রিটার্ন কমপ্লায়েন্স দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে উদ্বেগজনক।

করপোরেট কোম্পানিগুলো কেন সময়মতো রিটার্ন দাখিল করতে ব্যর্থ হয়েছে, তা নিয়ে এনবিআরের গবেষণা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

মুহাম্মদ আবদুল মজিদ জাগো নিউজকে বলেন, রাজস্ব বোর্ডকে এগুলো মেনে চলার জন্য বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করতে হবে। রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া অটোমেশন এবং নিবন্ধিত কোম্পানিগুলোর ফলোআপের পাশাপাশি করপোরেট ট্যাক্স কমপ্লায়েন্সের উচ্চ ব্যয় কমানো জরুরি।

কোম্পানি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করপোরেট করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে ডিজিটাল ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা দরকার। বর্তমানে করপোরেট করদাতাদের এক বছরের মধ্যে ২৬ ধরনের নথি জমা দিতে হয়। যা অনেক জটিল এবং সময় সাপেক্ষ।

বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ২০ শতাংশ, তালিকা বহির্ভূত কোম্পানি ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, তালিকাভুক্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, তালিকা বহির্ভূত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৪০ শতাংশ, মার্চেন্ট ব্যাংক ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, সিগারেট কোম্পানি ৪৫ শতাংশ, মোবাইল অপারেটর কোম্পানির যথাক্রমে ৪০ শতাংশ ও ৪৫ শতাংশ করপোরেট কর বিদ্যমান আছে।

রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রায় ২৭ হাজার ২৮৬টি, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রায় ২৭ হাজার ৬৮০টি, ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রায় ২৫ হাজার ২৫০টি, ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রায় ২৯ হাজার ৭৮৫টি এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রায় ৩০ হাজার ১০০টি কোম্পানি আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছে।




পেশাজীবীদের করের আওতায় আনার কাজ চলছে: এনবিআর চেয়ারম্যান

সরকার বিভিন্নভাবে করজাল বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে তালিকা করে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবীসহ সমাজের বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণির নাগরিকদেরও করজালের মধ্যে আনতে কার্যক্রম শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত এনবিআর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রাক্-বাজেট আলোচনায় এসব কথা বলেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এখনো অনেকে আছেন, যাঁরা কর প্রদানের যোগ্য, কিন্তু প্রভাবশালী। তাঁদের কর প্রদানের কথা বলতে গেলেই বিরক্তি প্রকাশ করেন। তবে এনবিআর ধারাবাহিকভাবে করজাল বাড়ানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

প্রাক্–বাজেট আলোচনায় বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) প্রস্তাবে বলা হয়, দেশের ৫ শতাংশ মানুষ ২৫ শতাংশ আয় করেন। সংখ্যার হিসাবে তাঁদের সংখ্যা আনুমানিক ৫০ লাখ। এই শ্রেণির মধ্যে ব্যবসায়ী ছাড়াও চিকিৎসক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী রয়েছেন। এনবিআরের করজাল বাড়ানোর অগ্রাধিকার তালিকায় তাঁদের রাখা উচিত।

এ প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, ‘সমাজের বিভিন্ন পেশাজীবীদের মধ্যে যাঁদের কর প্রদানের যোগ্য বলে মনে করা হয়, তাঁরা করজালের আওতায় আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। আমরা চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, অর্থনীতিবিদ, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্য, জেলা চেম্বারের সদস্য, বড় বড় বিপণিবিতানের দোকানমালিকদের তালিকা সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করে দেখছি।

তাঁদের সবাইকে কীভাবে করজালের মধ্যে নিয়ে আসা যায় সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।’
এ ছাড়া রাজধানীসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরের বাড়ির মালিক যাঁরা রয়েছেন, তাঁদেরও একটা তালিকা করার কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বাড়ির মালিকদের মধ্যে স্থানভেদে নির্দিষ্ট আকারের (করযোগ্য বলে অনুমিত) বাড়ি যাঁদের রয়েছে, তাঁদের করজালের মধ্য নিয়ে আসা হবে।

আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, করজাল বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রথমে কিছু শর্ত আরোপ করা যেতে পারে। যেমন কেউ নির্দিষ্ট পরিমাণ (করযোগ্য বলে অনুমিত) সম্পদ বা সেবা নিতে গেলে প্রথমেই তাঁকে কর প্রদানের প্রমাণ দেখাতে হবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে করজাল বাড়ানো হবে। তবে এ জন্য দীর্ঘ সময় নেওয়া যাবে না। দ্রুততম সময়েই এসব কাজ করতে হবে।