বিডা ও জাইকার উদ্যোগে ‘বাংলাবিজ ২.০’ চালু

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) যৌথ উদ্যোগে বাংলাবিজ প্ল্যাটফর্মের নতুন সংস্করণ বাংলাবিজ ২.০ উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি একক, পূর্ণাঙ্গ ও ডিজিটাল বিনিয়োগ সেবা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার পথে বাংলাদেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

এদিন ঢাকার আগারগাঁওয়ে বিডা কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাবিজের দ্বিতীয় সংস্করণ বাংলা বিজ- ফেইজ ২ উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা এবং উন্নয়ন সহযোগীরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় নতুন সংস্করণের মূল কার্যকারিতা ও বিনিয়োগ সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া সরাসরি উপস্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান তোমোহিদে ইচিগুচি বলেন, বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছ দ্রুত ও পূর্বানুমেয় সরকারি সেবার জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বাংলাবিজ সেই দাবির একটি বাস্তব ও কার্যকর সমাধান। অনলাইন সিস্টেমে ব্যবসা নিবন্ধন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া একীভূত করার মাধ্যমে বাংলাবিজ বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে বিশ্বমানের একটি ইকোসিস্টেমে রূপান্তর করবে।

তিনি আরও বলেন, জাইকা বিনিয়োগবান্ধব, স্বচ্ছ ও পূর্বানুমেয় ব্যবসা পরিবেশ গড়ে তুলতে বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

সভাপতির বক্তব্যে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন নির্দিষ্ট সময়সীমা, স্বচ্ছ কার্যপ্রবাহ এবং কাজ সম্পন্ন করার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম। তাই বাংলাবিজ একটি মাল্টি-এজেন্সি সার্ভিস পোর্টাল হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ব্যবসা পরিচালনার জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।

তিনি আরও বলেন, গত সপ্তাহে প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিডার গভর্নিং বোর্ডের বৈঠকে বাংলাবিজকে বিনিয়োগসংক্রান্ত সব সরকারি সেবার একক প্রবেশদ্বার হিসেবে নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং শিগগির এটি গেজেট আকারে প্রকাশ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এসময়ে তিনি জানান, এই প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশকে ডিজিটাল বিনিয়োগ সেবায় বৈশ্বিক মানদণ্ডের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাবে।

প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকসুদ জাহেদী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, সরকারি সেবা ডিজিটাল করতে হলে তা ব্যবহারকারীকেন্দ্রিক ও শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ডিজিটাল হতে হবে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ও জটিল প্রক্রিয়া সহজ করা এবং যেখানে সম্ভব সেগুলো বাদ দেওয়াও জরুরি।

বিডা জানায়, বাংলাবিজ ২.০–তে যুক্ত হওয়া নতুন সুবিধাসমূহের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী করা হয়েছে। নতুন ‘বিজনেস স্টার্টার প্যাকেজ’-এর আওতায় ব্যবসা শুরু করতে প্রয়োজনীয় পাঁচটি প্রধান অনুমোদন, যেমন; নেম ক্লিয়ারেন্স, অস্থায়ী ব্যাংক হিসাব খোলা, কোম্পানি নিবন্ধন, ই-টিআইএন এবং ট্রেড লাইসেন্স একটি মাত্র আবেদনের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাবে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা মাত্র তিন কার্যদিবসের মধ্যেই ব্যবসা নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শেষ করতে পারবেন।

এছাড়াও পরিবেশ ছাড়পত্র, ভ্যাট নিবন্ধন, কারখানা ও অগ্নিনিরাপত্তা–সংক্রান্ত লাইসেন্স, আমদানি ও রপ্তানি নিবন্ধন সনদ (আইআরসি ও ইআরসি)সহ ২০টিরও বেশি বহুল ব্যবহৃত ব্যবসায়িক অনুমোদন বাংলাবিজ প্ল্যাটফর্মে সরাসরি যুক্ত করা হয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা এক জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় সব অনুমোদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে পারেন।

বাংলাবিজের নতুন ‘নো ইওর অ্যাপ্রুভালস’ ফিচারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা সংশ্লিষ্ট খাত অনুযায়ী অনুমোদন ক্ষেত্রে কোন ধরনের ডকুমেন্টস সাবমিট করা বাধ্যতামূলক, তা আগেই শনাক্ত করতে পারবেন। প্রয়োজনে তারা সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে রিলেশনশিপ ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা নিতে পারবেন।

এই সংস্করণে আরও যুক্ত হয়েছে বাংলাবিজ আইডি, যা একটি ইউনিক ব্যবসায়িক পরিচিতি নম্বর হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে ব্যবসার প্রোফাইল ব্যবস্থাপনা, তথ্য শেয়ারিং এবং বিভিন্ন সংস্থায় দাখিল করা আবেদনের অগ্রগতি সহজে ট্র্যাক করা যাবে। ভবিষ্যতে এটি জাতীয় পর্যায়ে ইউনিক বিজনেস আইডি চালুর ভিত্তি তৈরি করবে। পাশাপাশি সিঙ্গেল সাইন-অন সুবিধার ফলে একটি মাত্র লগইন ব্যবহার করে বাংলাবিজ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার ওএসএস সিস্টেমে নির্বিঘ্নে প্রবেশ করা সম্ভব হবে।




শাহজালাল বিমানবন্দরের উন্নয়নে ৫৬০০ কোটি টাকা দেবে জাইকা

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের (তৃতীয় কিস্তি) জন্য ৭৬ হাজার ৬৩৫ মিলিয়ন জাপানি ইয়েনের সমপরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ঋণচুক্তি করেছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।

রোববার (২৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অফিসে এ চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন জাইকা বাংলাদেশের সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ হিরোশি ইয়োশিদা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনোরি।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে এ ঋণচুক্তি করা হয়। প্রকল্পের আওতায় নতুন প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল বিল্ডিং (টার্মিনাল ৩), নতুন কার্গো কমপ্লেক্স ও বহুস্তরবিশিষ্ট গাড়ি পার্কিং নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া, এ ঋণের অধীনে অন্যান্য ট্রান্সপোর্ট মোডের সঙ্গে যোগাযোগ, পয়ঃনিষ্কাশন ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার মতো আনুষঙ্গিক খাতে অর্থায়ন করা হবে।

বাংলাদেশে বেসামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে আসছে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প। এর মধ্যে দিয়ে দেশের বিমান ও কার্গো চলাচলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ হবে। এর ফলে বিমানবন্দরে প্রবেশ ও যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত হবে। পাশাপাশি, প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ব্যবহার করা আরও বেশি আরামদায়ক হবে এবং বিমানবন্দরের সামগ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব হবে।

এ ঋণচুক্তিতে সিভিল ওয়ার্কসের জন্য বাৎসরিক ১.৩০ শতাংশ সুদহার ও পরামর্শ সেবার জন্য ০.২০ শতাংশ সুদহারের মতো সহজ শর্ত সংযুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এই ঋণ পরিশোধের সময়কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ বছর। ঋণের গ্রেস পিরিয়ড নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ বছর।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জাইকা বাংলাদেশের সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ হিরোশি ইয়োশিদা বলেন, ‘বাংলাদেশের বিমান খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হচ্ছে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প। এটি কেবল ক্রমবর্ধমান চাহিদাই পূরণ করবে না, বরং বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আঞ্চলিক কানেক্টিভিটির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলবে। এই উদ্যোগ আমাদের দুই দেশের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে।’

দ্বিপাক্ষিক পর্যায়ে জাপান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী দেশ। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত জাপান সরকার বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন সেক্টরে উল্লেখযোগ্য সহায়তা করেছে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামাঞ্জস্য বজায় রেখে জাপান সরকার কর্তৃক অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ, পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন, পল্লী উন্নয়ন, পরিবেশ উন্নয়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে প্রকল্প বাস্তবায়নে ঋণ ও অনুদান সহায়তা হিসেবে এখন পর্যন্ত ৩১.৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।




জলবায়ু প্রভাব মোকাবিলায় ৮ বিলিয়ন ডলার পাচ্ছে বাংলাদেশ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা বড় তহবিল পাচ্ছে বাংলাদেশ। সবার অর্থায়নে গড়ে উঠবে ‘বাংলাদেশ জলবায়ু ও উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম’ (বিসিডিপি) নামের এই তহবিলের আকার হবে প্রায় ৮০০ কোটি (আট বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। যার অর্থ খরচ হবে সহযোগিতামূলক পদ্ধতিতে।

দেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল- আইএমএফ এর উদ্যোগে গঠিত তহবিল জোগানে অংশ নিচ্ছে বিশ্বব্যাংক, এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি), বহুপক্ষীয় বিনিয়োগ নিশ্চয়তা এজেন্সি (এমআইজিএ), এশিয়ান অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি), এজেন্সি ফ্র্যান্সাইস দ্য ডেভেলপমেন্ট (এএফডি), ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক (ইআইবি), গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ), কোরিয়া সরকার এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)।

আইএমএফ এর পক্ষ থেকে গত রবিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ এখন একটি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। তাই বিসিডিপি বাস্তবায়নে আইএমএফের সহযোগিতা ও পরামর্শ থাকবে সব সময়। আর অর্থ ব্যয় হবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায়, অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যেসব জনগোষ্ঠীর জীবনমান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে তাদের জন্য।

৮ বিলিয়ন ডলারের জলবায়ু তহবিলে সর্বোচ্চ বরাদ্ধ দিবে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক- এডিবি। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বর্তমানে ৪০ কোটি মার্কিন ডলার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ২০২৩ সালের জন্য এডিবির বরাদ্দ হওয়া ১৯০ কোটি ডলারের যার ৫৩ শতাংশই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ব্যয় করার কথা জানিয়েছে আইএমএফ। এছাড়া ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এডিবি ৫৫০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যার অর্ধেক অর্থাৎ ৫০ শতাংশই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

এর বাইরে ৮০০ কোটি ডলারের মধ্যে আইএমএফের অংশ হচ্ছে ১৪০ কোটি ডলার। গত জানুয়ারিতে আইএমএফ যে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, তার মধ্যেই এটি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের ১০০ কোটি, এশিয়ান অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক- এআইআইবির ৪০ কোটি এবং দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের অনুদান থাকছে ৪ কোটি ডলার। অন্য সংস্থাগুলোরও কমবেশি অর্থায়ন থাকবে এই তহবিলে।

বিবৃতিতে আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, ‘জলবায়ু সহনশীলতা, অভিযোজন, প্রস্তুতি ও সংরক্ষণকে আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিচ্ছে। আমরা জলবায়ু কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বৈশ্বিক সম্মিলিত উদ্যোগের প্রচারে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার প্রশংসা করি।’

এ নিয়ে কথা বলেছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গাও। তিনি বলেন, জলবায়ু ঝুঁকি বৃদ্ধির ঘটনা বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকাকে প্রভাবিত করছে। তবে দুর্যোগ প্রস্তুতি ও অভিযোজনের ক্ষেত্রে দেশটি ভালো করছে। আজকের (রবিবার) ঘোষণার মধ্য দিয়ে জলবায়ু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি আবারও প্রকাশিত হলো। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য পারস্পরিক জ্ঞান ভাগ করে নেওয়া ও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে অর্থায়নের জন্য আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

এডিবি প্রেসিডেন্ট মাসাতসুগু আসাকাওয়া বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় যথাযথ পদক্ষেপ ও শক্তিশালী অংশীদারত্ব প্রয়োজন। যথাযথ নেতৃত্ব ও প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে জলবায়ু কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অন্য সব উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে মিলে এডিবিও বাংলাদেশকে সহায়তা করবে।




মূল্যস্ফীতি স্থিতাবস্থায় আছে, বাড়েনি: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, মূল্যস্ফীতি স্থিতাবস্থায় আছে, বাড়েনি। শুধু টাকার অঙ্কে বিচার করলে হবে না, সামাজিক সুরক্ষা বিবেচনা করতে হবে।

তিনি বলেছেন, দেশে মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার সামাজিক সুরক্ষার আওতায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। টিসিবি’র মাধ্যমে ১ কোটি দরিদ্র পরিবারের মাঝে সাশ্রয়ী দামে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাইকার নির্বাহী সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জুনিচি ইয়ামাদাসহ ৬ সদস্যের প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করতে আসে। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। এ সময় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শরিফা খান উপস্থিত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের বাইরে না। সঙ্কট বিশ্বব্যাপী। সেই বিবেচনায় দেশ ভালো আছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি বিবেচনায় রাখতে হবে সব সময়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর যে প্রভাব পড়েছিল, তা নিয়ে প্রথমদিকে আমরা কিছুটা ভয়ে ছিলাম। বর্তমানে সে ভয় অনেকটা কেটে গেছে। অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ অনেক ভালো আছে।

জাইকার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, জাইকার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তাদের অর্থায়নে বাংলাদেশে যেসব উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছিল, তার অগ্রগতি দেখার জন্যই এই টিমটি বাংলাদেশ সফরে এসেছে। ইতোমধ্যে তারা কয়েকটি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। মাতারবাড়ি প্রকল্পের কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। বাকি ৫ শতাংশের কাজও দ্রুত শেষ হবে।

জাইকা নতুন কোনো প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছে কি না। এ প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, জাইকা আমাদের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী। তারা বাংলাদেশে সহায়তা বাড়াতে আগ্রহী। আমরা নতুন কোনো প্রস্তাব দিলে তা তারা বিবেচনা করবে।

বাজেট সহায়তা প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, হ্যাঁ, তারা আমাদের বাজেট সহায়তা দিচ্ছে।

আইএমএফের কাছ নেওয়া ঋণ পরিশোধের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইএমএফ যে লোন দিয়েছে, তা শোধ করা কোনো ব্যাপারই না। তখন বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় লোনটা নিয়েছিলাম। আমাদের দুই মাসের রেমিট্যান্সের সমান তাদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ। কাজেই এটা পরিশোধ করা কোন ব্যাপার না।

মূল্যস্ফীতি এবং কাঁচা মরিচের আকাশছোঁয়া দাম প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, আমরা যখন ক্ষমতায় আসি, তখন দেশে মূল্যস্ফীতি ছিল ১২.৩ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি এখন কি তার চেয়ে বেশি? আর মানুষ কি না খেয়ে মারা গেছে? কাঁচামরিচ একটি পচনশীল পণ্য, তার ওপর বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে এর ক্ষতি হয়েছে। বাজার চড়া হওয়ার ভয়ে কাঁচা মরিচ অনেকেই বেশি দামে কিনে রাখছে। কাঁচা মরিচ আমদানি হচ্ছে ধীরে ধীরে, দাম কমে আসবে।




প্রকল্পের ধীরগতিতে সন্তুষ্ট নয় জাইকা : পরিকল্পনামন্ত্রী

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, জাইকা দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। কিন্তু তারা আমাদের দেশের প্রকল্পের ধীরগতিতে সন্তুষ্ট নয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বড় অবকাঠামোতে তাদের আগ্রহ বেশি।

আজ (বৃহস্পতিবার) জাইকার নির্বাহী সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়ামাদা জুনিচি ও তার দল পরিকল্পনামন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রকল্প প্রক্রিয়ায় যে সময় লাগে তাতে তাদের মাঝেমধ্যে অসুবিধা হয়। একই ধরনের কাজ তাদের দেশে দ্রুত হয়ে যায়। তাদের মতো আমরা করতে পারি না। আমরা তাদের বুঝিয়েছি, আমাদের নিয়ম-কানুন আছে, এগুলো মানতে হয়, সংসদে জবাব দিতে হয়। আমরা এর মধ্যেও চেষ্টা করবো প্রকল্পের কাজ দ্রুত করতে।

তিনি বলেন, তারা চলমান প্রকল্প ঘুরে দেখে এসেছে। বিশেষ করে আড়াইহাজার প্রকল্প। এটির কাজ দেখে তারা সন্তুষ্ট। আরও বেশি করে প্রকল্প প্রস্তাব নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে জাইকা। তাদের সম্পদ আছে, ইচ্ছাও আছে। তারা বাংলাদেশকে সহায়তা করতে চায়।

হলি আর্টিসানের স্মৃতি স্মরণে তারা এসেছেন জানিয়ে এম এ মান্নান বলেন, হলি আর্টিসানে তাদের নিহত নাগরিকদের স্মরণ করতেই তারা এখানে এসেছে। আমিও তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি। এটি নিয়ে আমরা মর্মাহত। এমন কলঙ্কজনক ঘটনা যাতে না ঘটে আমরা সতর্ক থাকব।

জাইকা কোন ধরনের প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহী এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমি তাদের বলেছি প্রথমত অবকাঠামো, দ্বিতীয়ত মানব সম্পদ উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ। এছাড়া, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্য খাতেও তাদের বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাইকার নির্বাহী সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়ামাদা জুনিচি বলেন, বাংলাদেশ সব সময় জাইকার কাছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। আমি কয়েকটি প্রকল্পে পরিদর্শন করেছি, তা দেখে আমি নিজে সন্তুষ্ট। বিশেষ করে ঢাকায় এমআরটি প্রকল্প, আড়াইহাজারে এসইজেড প্রকল্প, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প পরিদর্শন করেছি। অবকাঠামো উন্নয়ন এ দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জাইকা বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়নে আরও সহায়তা করতে চায়।

জাইকার সুদের হার বাড়ানো প্রসঙ্গে এ কর্মকর্তা বলেন, জাইকার সুদের হার বাড়ানো হয়েছে জাপান সরকারের সিদ্ধান্তে। আমার মতে, সুদের হার বাড়ানো হয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারের বিবেচনায়। শুধু বাংলাদেশ নয়, সব দেশের জন্যই সুদের হার বাড়িয়েছে জাইকা। আর সুদের হারটি ঠিক করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনায়।




প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন আজ বিকেলে

জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার (১৫ মে) বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সংবাদ সম্মেলন শুরু হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এম এম ইমরুল কায়েস এ তথ‌্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ত্রিদেশীয় সফরের অংশ হিসেবে গত ২৫ এপ্রিল টোকিও’র উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। টোকিওতে অবস্থানকালে শেখ হাসিনা এবং তার জাপানি সমকক্ষ কৃষি, মেট্রো-রেল, শিল্প-উন্নয়ন, জাহাজ-রিসাইক্লিং, কাস্টমস বিষয়, মেধা সম্পদ, প্রতিরক্ষা, আইসিটি এবং সাইবার নিরাপত্তা ইত্যাদি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে ঢাকা ও টোকিওর মধ্যে স্বাক্ষরিত আটটি চুক্তিনামা বিনিময় প্রত্যক্ষ করেন, যার বেশিরভাগই সমঝোতা স্মারক।

শেখ হাসিনা জাপানের সম্রাট নারুহিতোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং তার জাপানি সমকক্ষ ফুমিও কিশিদার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।

প্রধানমন্ত্রী গত ২৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য চার জাপানি নাগরিকের কাছে ‘ফ্রেন্ডস অফ লিবারেশন ওয়ার অনার’ হস্তান্তরের পাশাপাশি একটি বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলন এবং একটি কমিউনিটি সংবর্ধনায়ও যোগ দেন।

তিনি একইসঙ্গে, জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োশিমাসা হায়াশির পাশাপাশি জাইকা, জেইটিআরও, জেইবিআইসি, জেবিপিএফএল ও জেবিসিসিসিইসি-এর নেতাদের সঙ্গে কয়েকটি অতিরিক্ত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন।

সফরের দ্বিতীয় ধাপে ওয়াশিংটন ডিসিতে, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-বিশ্বব্যাংক অংশীদারিত্বের ৫০ বছর উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পাশাপাশি তিনি মার্কিন ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে একটি গোলটেবিল বৈঠক এবং বিশ্বব্যাংকের নতুন প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিভারের সঙ্গে কয়েকটি বৈঠকে অংশ নেন। এছাড়া, তিনি একটি নাগরিক সংবর্ধনায়ও অংশ নেন।

লন্ডনে তার সফরের তৃতীয় ধাপে, প্রধানমন্ত্রী ওয়াশিংটন ডিসি থেকে যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য কমনওয়েলথ রাজ্যের রাজা ও রানি হিসেবে চার্লস তৃতীয় এবং তার পত্নী ক্যামিলার রাজ্যাভিষেক অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।

লন্ডনে শেখ হাসিনা রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস ক্লিভারলি এবং তার স্ত্রী সুসানা স্পার্কস ও লন্ডনের ক্লারিজ হোটেলে তার অবস্থানস্থলে সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

তিনি সেখানে ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগেল ওয়াংচুক এবং রানি জেসুন পেমার সঙ্গে বৈঠক করেন। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং কমনওয়েলথ মহাসচিব ব্যারনেস প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ডও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। শেখ হাসিনা গত ৯ মে দেশে ফিরেছেন।




বন্দর-মহাসড়ক-রেলপথ নির্মাণে স্বল্প সুদে ঋণ দিচ্ছে জাইকা

ন্দর, মহাসড়ক ও রেলপথ নির্মাণে তিন প্রকল্পের আওতায় ১ দশমিক ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে জাপান। এরইমধে বাংলাদেশ ও জাপান সরকারের মধ্যে ঋণ চুক্তি সই হয়েছে। এ ঋণের সুদহারও কম। বুধবার (২৯ মার্চ) শেরে বাংলা নগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ সরকার ও জাপানের মধ্যে ঋণচুক্তি সই হয়।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব (ইআরডি) শরিফা খান। জাপানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন দেশটির রাষ্ট্রদূত ইওয়ামা কিমিনরি ও বাংলাদেশে জাইকার প্রধান প্রতিনিধি তোমোহিদি ইচিগুচি। ১০ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। ঋণে সার্ভিস চার্জ মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।

মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়নে জাইকার ঋণ
২০২৬ সালের মধ্যে ‘মাতারবাড়ি পোর্ট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’-এর প্রথম পর্যায়ের নির্মাণ সম্পন্ন করতে কাজ করছে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। সরকারের ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পের আওতায় মাতারবাড়ি পোর্ট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের কাজ এগিয়ে চলছে।

এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য প্রয়োজনীয় ২৮৮ দমমিক ২৩ একর জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে। মাতারবাড়ি পোর্ট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টটি এ বছরের ১০ মার্চ একনেকে অনুমোদিত হয়েছে।

প্রকল্পটির অনুমোদিত প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে জাইকার ঋণ (প্রকল্প সাহায্য) ১২ হাজার ৮৯২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, সরকারি অর্থায়ন দুই হাজার ৬৭১ কোটি ১৫ লাখ এবং নিজস্ব অর্থ দুই হাজার ২১৩ কোটি ২৫ লাখ। এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদকাল জানুয়ারি ২০২০ থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। অনুমোদিত প্রকল্পে দুটি কম্পোনেন্ট রয়েছে।

বহুমুখী টার্মিনাল, কনটেইনার টার্মিনাল ও অন্যান্য কার্যক্রম চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও পোর্টের সঙ্গে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সড়ক সংযোগকারী ২৬ দশমিক ১ কিলোমিটার (চারলেন) মূল সড়ক, ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার বাঁধ-কাম-সড়ক ও ১৭টি সেতু নির্মাণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। এরইমধেই ঋণ চুক্তি সই হয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রামে মহাসড়কে ৪৪ কোটি ডলার ঋণ
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যানজটমুক্ত ও বাধাহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সড়কের পাঁচটি স্থানে বাইপাস সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। এ প্রকল্পে ৪৪ দশমিক ৩৬ কোটি ডলার ঋণ দেবে জাপান।

প্রকল্পের আওতায় পটিয়া, চন্দনাইশের দোহাজারী, সাতকানিয়ার কেরানীহাট, লোহাগাড়ার আমিরাবাদ ও চকরিয়া। এরমধ্যে কেরানীহাট এলাকায় বাইপাসের পরিবর্তে ফ্লাইওভার নির্মাণ করার সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০২৫ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। এরইমধ্যে প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের সমীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে বিস্তারিত জরিপের (ডিটেইল সার্ভে) কাজ চলছে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ নিরবচ্ছিন্ন করতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে সেতু প্রতিস্থাপন, ইন্টারসেকশন, বাজার, লেভেল ক্রসিং, রিজিড পেভমেন্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।

এরইমধ্যে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম সড়কের চকরিয়া মাতামুহুরী নদীর চিরিঙ্গা সেতু, চন্দনাইশ গাছবাড়িয়া বরগুনী খাল সেতু, পটিয়া ইন্দ্রপুল সেতু, দোহাজারী শঙ্খ নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। চারটি সেতু নির্মাণে খরচ হবে সাতশ কোটি টাকা।

জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (জাইকা) ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ক্রস বর্ডার নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (সিবিআরএনআইপি) প্যাকেজ সি-এর আওতায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চারটি পয়েন্টে সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলছে।

জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী রুটে রেলপথ নির্মাণ
প্রথমে চীন এ রেলপথে বিনিয়োগ করার চুক্তি করেছিল। তবে চীন সরে গেছে। এখন বিনিয়োগ করবে জাপান। প্রাথমিকভাবে ৩ দশমিক ২৫ কোটি ডলার ঋণ দেবে জাপান। প্রকল্পের আওতায় জয়দেপুর থেকে যমুনার বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত ৮৫ দশমিক ৫২ কিলোমিটার এবং ঈশ্বরদী থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত ৭৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার- এ দুই ভাগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে চায় জাইকা।

এলেঙ্গায় নতুন স্টেশন নির্মাণ করা হবে। দুই অংশে সাতটি স্টেশন পুনর্নির্মাণ এবং ১৪টি স্টেশন সংস্কার করা হবে। ৬৬টি বড় ও ১৩৮টি ছোট সেতু নির্মাণ করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও নাটোরের ১০৬ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে।

নাটোরে ভূমি মালিকদের এরইমধ্যে ৭ ধারায় নোটিশ দেওয়া হয়েছে। গত আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি ৬ দশমিক ৬ ভাগ। প্রায় ৩৯৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। যার পুরোটাই সরকার দিয়েছে।




একনেকে ৪৬০১ কোটি টাকার ৯ প্রকল্প অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের নয়টি উন্নয়ন প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। এরমধ্যে নতুন প্রকল্প চারটি। বাকি পাঁচটি প্রকল্পই সংশোধিত। এই ৯ প্রকল্পে নতুন করে ১ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা ব্যয় অনুমোদন করা হয়েছে। ফলে ৯ প্রকল্পে মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ৪ হাজার ৬০১ কোটি টাকা। এরমধ্যে ছয়টি প্রকল্পে ৩ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকা ঋণ ও অনুদান হিসেবে দিচ্ছে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি), জাইকা, ইএনডিপি, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও বিশ্বব্যাংক।

মঙ্গলবার (২১ মার্চ) চলতি অর্থবছরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) দশম সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভা শেষে বিস্তারিত তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

 

প্রকল্পগুলোর মধ্যে জননিরাপত্তা বিভাগের একটি, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একটি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি, স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের একটি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একটি এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রকল্প রয়েছে একটি।

জননিরাপত্তা বিভাগের ‘সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে ২২৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এটি মূল ব্যয়ের চেয়ে ২৮৮ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি। প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়াবে ৩০৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। প্রকল্পটিতে ৩৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দিচ্ছে জাপান।

 

 

জননিরাপত্তা বিভাগের প্রকল্প সংশোধনী থেকে জানা গেছে, সন্ত্রাসবাদ মোকবিলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে ২০১৯ সালে একটি প্রকল্প নেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ। প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল পুলিশের জন্য ৩৫টি বিশেষ যানবাহন কেনা। এজন্য ব্যয় ধরা হয় ৭৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। বাস্তবায়ন মেয়াদ ধরা হয় ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। দুই বছর মেয়াদি প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় পরবর্তী সময়ে আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়। তাতেও শেষ না হওয়া বাস্তবায়ন মেয়াদ আরও এক বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের ‘প্রিপেইড গ্যাস মিটার স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়। প্রকল্পে ব্যয় বাড়বে ১৭৪ কোটি টাকা। প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ৯২৮ কোটি টাকা। জাইকার ৮০৭ কোটি টাকা ঋণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (টিজিটিডিসিএল)।

 

এছাড়া দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছে। এতে ব্যয় ৩৭ কোটি ৪৭ টাকা বেড়ে মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১১১ কোটি টাকা।

 

 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পে ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ঢাকা কারিগরি শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পে মূল অনুমোদিত ব্যয় ধরা হয় ৮৬ কোটি টাকা। প্রকল্পটির প্রথম ও দ্বিতীয় সংশোধনীতে ৯৮ কোটি টাকা ব্যয় অনুমোদন করা হয়। এখন তৃতীয় সংশোধন প্রস্তাবে দুই কোটি টাকা কমিয়ে ৯৬ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়। প্রকল্পটিতে ৬৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা দিচ্ছে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি)।

 

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্প আজ একনেক সভায় অনুমোদন করা হয়েছে। প্রকল্পটির মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ১৮৬৮ কোটি টাকা। এখন সংশোধনী প্রস্তাবে ৫৮৮ কোটি টাকা বাড়িয়ে ২৪৫৭ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। প্রকল্পটিতে ২ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।

নতুন চারটি প্রকল্প

দেশে ২৫০টি সেতুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। ‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণের সমীক্ষা, দ্বিতীয় পর্যায়’ শীর্ষক প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮০ কোটি টাকা।

সংসদ সচিবালয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ১১২টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ করবে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের গণপূর্ত অধিদপ্তর। এতে ব্যয় হবে ৯৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘প্রজেক্ট ফর দি ইম্প্রুভমেন্ট অব ইক্যুইপমেন্ট ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৮ কোটি টাকা। এরমধ্যে ৭৪ কোটি টাকা দেবে জাইকা। আর বাকি ২৪ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে খরচ করা হবে।

বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পে তৃতীয় ধাপে ৪২৬ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে সরকার দেবে ১৫৭ কোটি টাকা। বাকি ২৬৮ কোটি টাকা ইইউ এবং ইউএনডিপি দেবে ঋণ হিসেবে।