১৫ লাখ টাকা জরিমানার মুখে আইসিবি

ভ্যানগার্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড পরিচালিত ভ্যানগার্ড এএমএল রূপালী ব্যাংক ব্যালেন্সড ফান্ড থেকে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করে দুটি কোম্পানিতে সাড়ে ৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রমাণ পেয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর মধ্যে বেঙ্গল পলি অ্যান্ড পেপার স্যাক লিমিটেডে দেড় কোটি টাকা এবং এএফসি হেলথ লিমিটেডে ৬ কোটি টাকা বিধি-বহির্ভূত বিনিয়োগ হয়েছে।

ওই বিনিয়োগে মিউচ্যুয়াল ফান্ডটির ট্রাস্টি হিসেবে যথাযথ দায়িত্ব পরিপালনে ব্যর্থতার দায়ে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে কমিশন।

বুধবার (৬ মে) বিএসইসি পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে মঙ্গলবার সংস্থার চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১০১২তম কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কমিশনের নির্দেশনায় বলা হয়, মিউচ্যুয়াল ফান্ডটি থেকে বিধি-বহির্ভূত বিনিয়োগ হওয়ায় ফান্ডটির ইউনিটধারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে। এক্ষেত্রে ট্রাস্টি হিসেবে আইসিবি যথাযথ তদারকি করতে ব্যর্থ হয়েছে। এমতাবস্থায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, বিনিয়োগগুলোর বিপরীতে হঠাৎ করে ৯৯ শতাংশ প্রভিশন রাখা হলেও তা নিরীক্ষা প্রতিবেদনে যথাযথভাবে তুলে ধরেনি নিরীক্ষক মালেক সিদ্দিকী ওয়ালী অ্যান্ড কোং, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস। তাই নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি পাঠানো হয়েছে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলে (এফআরসি) পাঠানো সিদ্ধান্ত হয়েছে সভায়।




বেশি দামে আলু-পেঁয়াজ-ডিম বিক্রি, ১০৪ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বাড়তি দামে আলু, পেঁয়াজ, ডিম বিক্রি করায় সারাদেশে ১০৪টি প্রতিষ্ঠানকে চার লাখ ৮০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভাগ ও জেলাপর্যায়ে ৬৩টি বাজারে অধিদপ্তরের ৫২টি টিম অভিযান পরিচালনা করে।

এরমধ্যে ঢাকা মহানগরীতে অধিদপ্তরের তিনটি টিম বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালায়। এছাড়া অন্যান্য বিভাগীয় শহরসহ দেশের ৫০টি জেলায় একযোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় খুচরা বাজারে প্রতিটি ডিমের দাম ১২ টাকা, আলুর দাম প্রতিকেজি ৩৫-৩৬ টাকা এবং পেঁয়াজের দাম ৬৪-৬৫ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। ঘোষণার পর থেকেই বাজারে এ দাম কার্যকর হওয়ার কথা। তবে তা এখনো কার্যকর দেখা যায়নি।

 




১০ ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে জরিমানা

ঘোষিত দরের চেয়ে বেশি মূল্যে ডলার বেচাকেনা করায় দেশের বেসরকারি খাতের ১০টি ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে জরিমানা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। জরিমানার মুখে পড়া ব্যাংকগুলো হলো—ব্র্যাক, ট্রাস্ট, মার্কেন্টাইল, মধুমতি, মিডল্যান্ড, প্রিমিয়ার, আল-আরাফাহ ইসলামী, সোশ্যাল ইসলামী, শাহজালাল ইসলামী ও এক্সিম ব্যাংক। এসব ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধানকে ব্যক্তিগতভাবে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

 

ব্যাংক কোম্পানি আইন-১৯৯১ এর ১০৯(৭) ধারা অনুযায়ী এ জরিমানা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও জরিমানার শিকার হওয়া ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে এসব ব্যাংকে বিশেষ পরিদর্শন চালায় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরিদর্শনে ঘোষিত দরের চেয়ে বেশি মূল্যে ডলার বেচাকেনার প্রমাণ পাওয়া যায় বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

একটি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাঠানো চিঠিতে ট্রেজারি প্রধানকে ব্যক্তিগতভাবে জরিমানা করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু চিঠিতে ট্রেজারি প্রধানের নাম উল্লেখ করা হয়নি। আমরা ধরে নিচ্ছি, ট্রেজারি প্রধানের পদটিকে জরিমানা করা হয়েছে। কারণ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে কোনো ব্যাংক কর্মকর্তা জরিমানা বা শাস্তির মুখে পড়লে তার ব্যাংকিং ক্যারিয়ার দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

যে ধারার অধীনে ১০ ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে জরিমানা করা হয়েছে, সেটিতে বলা হয়, ‘যদি কোনো ব্যক্তি এই আইনের অন্য কোনো বিধান লঙ্ঘন করেন, প্রদত্ত কোনো আদেশ বা নির্দেশ বা আরোপিত কোনো শর্ত বা প্রণীত কোনো বিধি লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে তাহার উপর উক্ত লঙ্ঘনের জন্য অন্যূন ২০ হাজার টাকা এবং অনধিক ২ লাখ টাকা জরিমানা আরোপিত হইবে। যদি অনুরূপ লঙ্ঘন অব্যাহত থাকে, তাহা হইলে অনুরূপ লঙ্ঘনের প্রথম দিনের পর প্রতিদিনের জন্য অতিরিক্ত অন্যূন ১ হাজার টাকা জরিমানা যুক্ত হবে।’




বেশি দামে আলু-পেঁয়াজ-ডিম বিক্রির অভিযোগে ৭৯ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

বাজার স্থিতিশীল রাখতে আলু, দেশি পেঁয়াজ ও ডিমের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল সরকার। গত ১৩ সেপ্টেম্বর প্রতি কেজি আলুর সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৬৪ থেকে ৬৫ টাকা এবং প্রতি পিস ফার্মের ডিমের দাম ১২ টাকা নির্ধারণ করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে এরপর দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বাজারে এখনো এ তিনটি নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের সরকার নির্ধারিত দাম কার্যকর হয়নি।

সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বাড়তি দামে আলু, পেঁয়াজ, ডিম বিক্রি করায় সারাদেশে ৭৯টি প্রতিষ্ঠানকে তিনি লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

রোববার (১ অক্টোবর) ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ৫৫টি বাজারে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ৪৫টি টিম অভিযান পরিচালনা করে।

এরমধ্যে ঢাকা মহানগরীতে অধিদপ্তরের তিনটি টিম বিভিন্ন বাজারে অভিযান পরিচালনা করে। এছাড়াও অন্য বিভাগীয় শহরগুলোসহ দেশের ৪৯টি জেলায় একযোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

এসব অভিযানে ৭৯টি প্রতিষ্ঠানকে তিন লাখ ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন পর্যন্ত একদিনও সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে আলু, পেঁয়াজ ও ডিম বিক্রি হয়নি। উল্টো এসময়ে দাম আরও বেড়েছে। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজার মনিটরিং করছে। খুচরা ব্যবসায়ীদের জরিমানা করা হচ্ছে। অথচ পাইকারিতেই দাম কমেনি। বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করলে খুচরা ব্যবসায়ীদের লোকসানে পড়তে হবে। তাই তারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন।




বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণ, ৯৮৭ যাত্রীকে জরিমানা

বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণের অভিযোগে ৯৮৭ যাত্রীর কাছ থেকে ভাড়া ও জরিমানাসহ দুই লাখ ৫২ হাজার ৮৯৫ আদায় করা হয়েছে।

শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল ৭টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত প্রায় ১৮ ঘণ্টা পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ১৫টি আন্তঃনগর ট্রেনে ছয়টি বিশেষ টিম এ অভিযান পরিচালনা করেন। ঈশ্বরদী জংশন থেকে খুলনা, রাজশাহী থেকে পার্বতীপুর, ঈশ্বরদী থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম পর্যন্ত রেলরুটে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরদী-রহনপুরগামী কমিউটার এক্সপ্রেস, রাজশাহী-চিলাহাটিগামী তিতুমীর এক্সপ্রেস, দিনাজপুর-ঢাকাগামী দ্রুতযান এক্সপ্রেস, ঢাকা-চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস (আপ ও ডাউন), রাজশাহীগামী টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস (আপ-ডাউন), ঢাকা-লালমনিহাটগামী লালমনি এক্সপ্রেস, ঢাকা-খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস, খুলনা-ঢাকাগামী চিত্রা এক্সপ্রেস, খুলনা-রাজশাহীগামী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস (আপ ও ডাউন), রাজশাহী-খুলনাগামী সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসের বিনা টিকেটের যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়াসহ আদায় করা হয় ২ লাখ ৫২ হাজার ৮৯৫ টাকা।

আরও পড়ুন: বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণ, ১২৩০ যাত্রীকে জরিমানা

এতে ভাড়া বাবদ ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩৯০ টাকা ও জরিমানা বাবদ ৮৪ হাজার ৫০৫ টাকা। এ অভিযানের সময় অবৈধভাবে ট্রেনে উঠার অভিযোগে ১২জন হকারকে জরিমানা করা হয়।

বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণ, ৯৮৭ যাত্রীকে জরিমানা

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) নাসির উদ্দিন, সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (উত্তর) কে. এম. নুরুল আলম, সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (দক্ষিণ) ফারহান মাহমুদ, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর শামীম আহমেদ, অংশুমান রায় চৌধুরী, ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) আব্দুল হালিম বিশ্বাস মিঠু, মার্টিন জয় মণ্ডল, গৌরচন্দ্র সিংহসহ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।




বিনাটিকিটে ভ্রমণে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ১২৩০ যাত্রীর সাড়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

বিনাটিকিটে ট্রেনে ভ্রমণের দায়ে ১০টি আন্তঃনগর ট্রেনের ১ হাজার ২৩০ যাত্রীর কাছ থেকে ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৭৪০ টাকা ভাড়াসহ জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পাকশি বিভাগীয় রেলওয়ের আওতাধীন ১২টি রেল স্টেশনে অভিযান চালিয়ে এসব টাকা আদায় করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার সকালে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশি বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) নাসির উদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন।

অভিযানকালে ভাড়াবাবদ ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭০ টাকা এবং জরিমানা বাবদ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৪০ টাকা আদায় করা হয়েছে। অন্যান্য যাত্রীবাহী ট্রেনে অভিযান অব্যাহত আছে।

যেসব ট্রেনে জরিমানা আদায় করা হয়েছে, সেগুলো হলো ঈশ্বরদী থেকে রহনপুরগামী কমিউটার ট্রেন, তীতুমীর এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস, নীলসাগর এক্সপ্রেস, লালমনি এক্সপ্রেস, সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস, কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস, চিত্রা এক্সপ্রেস এবং সুন্দরবন এক্সপ্রেস।

যেসব রেল স্টেশনে অভিযান চালানো হয় সেগুলো হলো- ঈশ্বরদী, আবদুলপুর জংশন, নাটোর, সান্তাহার, জয়পুরহাট, বিরামপুর, ফুলবাড়ি, রাজশাহী, ঈশ্বরদী বাইপাস, চাটমোহর, বড়ালব্রিজ, উল্লাপাড়া এবং বঙ্গবন্ধু সেতু (পশ্চিম)।

পাকশি বিভাগীয় রেলওয়ের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ, সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা কে এম নুরুল আলম ও ফারহান মাহমুদ, রেলওয়ের ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) আব্দুল হালিম বিশ্বাস মিঠু, এস এম আবু সুফিয়ান, মার্টিন জয় মন্ডল, বরকতউল্লাহ আল আমিনসহ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অভিযানে অংশ নেন।

এ ব্যাপারে ডিসিও নাসির উদ্দিন বলেন, বৃহস্পতিবার আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে অনেক ভিড় দেখা গেছে। আমরা সাধারণত বিনাটিকিটের যাত্রীদের পরবর্তী স্টেশনে নামিয়ে দিয়ে থাকি। কিন্তু, ট্রেনে ভ্রমণ নিরাপদ হওয়ায় জরিমানা দিয়ে হলেও গন্তব্যে যেতে চায় লোকজন।




এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ১৩ স্থাপনাকে জরিমানা

এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ঢাদসিক) পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১৩ স্থাপনাকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার (২৩ জুলাই) করপোরেশনের ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, সবুজবাগ,নবীপুর লেন, মালিটোলা, পূর্ব জুরাইন, উত্তর মান্ডা ও কোনাপাড়া এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এক নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. মনজুরুল হক ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকায় ৪০টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করেন। আদালত এ সময় কোনো স্থাপনায় মশার লার্ভা পাননি।

দুই নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর-আল-নাসিফ ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজবাগ এলাকায় ৪১টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করেন। আদালত এ সময় ১টি স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় ১ মামলায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

এ ছাড়া দুই নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহরিয়ার হক ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে ৬২টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করেন। আদালত এ সময় কোনো স্থাপনায় মশার লার্ভা পায়নি।

তিন নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তায়েব-উর-রহমান হাজারীবাগের নবীপুর লেনে ৬৪টি বাসাবাড়ি ও নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করেন। আদালত এ সময় ৫টি স্থাপনা ও বাসাবাড়িতে মশার লার্ভা পাওয়ায় ৫ মামলায় ৬৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

চার নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ রানা ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের মালিটোলা এলাকায় ৪২টি স্থাপনা ও বাসাবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন এবং ২টি স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় ২ মামলায় ৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

পাঁচ নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সফি উল্লাহ ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব জুরাইন এলাকায় ৩৫টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় অভিযান পরিচালনা করেন এবং ২টি স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় ২ মামলায় ৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

সাত নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাওসীফ রহমান ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর মান্ডা এলাকায় ৪৫টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় অভিযান পরিচালনা করেন এবং ১টি স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় ১ মামলায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

নয় নম্বর অঞ্চলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের কোনাপাড়া এলাকায় ৪৫টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় অভিযান পরিচালনা করেন এবং ২টি স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় ২ মামলায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

আজকের অভিযানে সর্বমোট ৩৮৪ বাসাবাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করা হয়েছে। এ সময় ১৩টি বাসাবাড়ি ও নির্মাণাধীন ভবনে মশার লার্ভা পাওয়ায় ১৩ মামলায় সর্বমোট ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।




ঢাকা দক্ষিণে জরিমানার কবলে ২৩ স্থাপনা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ঢাদসিক) পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানকালে এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় ২৩টি স্থাপনাকে জরিমানা করা হয়েছে। দক্ষিণ সিটির আট ভ্রাম্যমাণ আদালত ২৩ মামলায় ২ লাখ ১৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছেন।

সোমবার (১০ জুলাই) ধানমন্ডি ৩০, গোপীবাগ, ঝিগাতলা, বংশাল, মানিকনগর, স্বামীবাগ, মান্ডা, নতুন পাড়া, ডেমরা, রসুলপুর, কুতুবখালী, দনিয়া ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মঞ্জুরুল হক এক নম্বর অঞ্চলে ধানমন্ডি ৩০ এলাকায় ৩০টি বাসা ও স্থাপনা পরিদর্শন করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত এ সময় তিনটি স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পায়। বাংলাদেশ আই হাসপাতালের ধানমন্ডি ব্র্যাঞ্চকে ৩০ হাজার, কনকর্ড রিয়েল এস্টেটের নির্মাণাধীন ভবনে দায়িত্বরত প্রকৌশলীকে ৫০ হাজার টাকা এবং আরেকটি ভবনের দায়িত্বরত তত্ত্বাবধায়ককে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আরোপ ও তা আদায় করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এম আর সেলিম শাহনেওয়াজ দুই নম্বর অঞ্চলে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গোপীবাগ এলাকায় ৫৫টি বাসা ও স্থাপনা পরিদর্শন করেন। এ সময় দুটি স্থাপনায় লার্ভা পাওয়ায় ২ মামলায় ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

ডিএসসিসির প্রধান সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকন্দ মোহাম্মদ ফয়সাল উদ্দিন তিন নম্বর অঞ্চলে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ঝিগাতলা এলাকায় ২৬টি বাসা ও স্থাপনা পরিদর্শন করেন। এ সময় দুটি স্থাপনায় লার্ভা পাওয়ায় ২ মামলায় ১১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ রানার আদালত চার নম্বর অঞ্চলে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের বংশাল এলাকার ২০টি বাসা ও স্থাপনায় অভিযান চালান। দুটি স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় ২ মামলায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সফি উল্লাহ পাঁচ নম্বর অঞ্চলে ৭ ও ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের মানিকনগর ও স্বামীবাগ এলাকায় ২৬টি বাসা ও স্থাপনায় অভিযান চালান। ২টি স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় ২ মামলায় ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলাম সাত নম্বর অঞ্চলে ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের মান্ডা এলাকায় ৯৫টি বাসা ও স্থাপনায় অভিযান পরিচালনা করেন। পাঁচটি স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় ৫ মামলায় ১৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম নয় নম্বর অঞ্চলে ৬৪ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন পাড়া ও ডেমরায় ৫২টি বাসা ও স্থাপনায় অভিযান পরিচালনা করেন। তিনটি স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় ৩ মামলায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহাঙ্গীর আলম ১০ নম্বর অঞ্চলে ৬১ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর, কুতুবখালী, দনিয়া ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় ২৩টি বাসা ও স্থাপনায় অভিযান চালান। চারটি স্থাপনায় মশার লার্ভা পাওয়ায় ৪ মামলায় ১৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

আজকের অভিযানে মোট ৩২৭টি বাসা ও স্থাপনা পরিদর্শন করা হয়েছে। এ সময় ২৩টি বাসা ও নির্মাণাধীন ভবনে মশার লার্ভা পাওয়ায় ২৩ মামলায় সর্বমোট ২ লাখ ১৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

এদিকে, আজ থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকার স্কুল-কলেজসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনায় এডিস মশার লার্ভা নিধনে বিশেষ চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সচেতনতা সৃষ্টিতে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি দক্ষিণ সিটির ৩০টি ওয়ার্ডে তিন দিনব্যাপী বিশেষ চিরুনি অভিযানও চলছে।