চট্টগ্রাম বন্দরে ৪৪২ কনটেইনার পণ্য ই-অকশনে বিক্রির উদ্যোগ

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো, বিদ্যমান কনটেইনার জট নিরসন এবং ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তাসহ জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগস্ট মাসে নিলামযোগ্য ৪৪২ কনটেইনার পণ্য ই-অকশনে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এতে বলা হয়, নিলামের স্থায়ী আদেশ নম্বর-৯১/কাস্টমস/২০২৫/১২৩ ও বিশেষ আদেশ নম্বর-৮২/২০২৫/কাস্টমস অনুযায়ী বিশেষ ই-অকশন নম্বর-১০/২০২৬-এ মোট ১০১টি লট রয়েছে। এসব লটে কনটেইনারের সংখ্যা ২৯০টি।

 

এনবিআর জানায়, এতে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ, প্লাস্টিক ওয়েস্টেজ, চেস্ট ফ্রিজার, পাইপ, বিভিন্ন ধরনের সুতা ও কাপড়, সোলার মডিউল, লবণ, কাগজ, টাইলস ও গৃহস্থালি পণ্য রয়েছে। এছাড়া ৮৬টি পুরোনো খালি কনটেইনারও নিলামে তোলা হবে। এসব পণ্যচালানের নিলামে কোনো সংরক্ষিত মূল্য রাখা হচ্ছে না।

এদিকে, এনবিআরের একই স্থায়ী আদেশের আওতায় ই-অকশন নম্বর-০৯/২০২৬-এ ১০৯টি লটে আরও ১৫২ কনটেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, ফেব্রিক্স, পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার, কেমিক্যাল, এসির যন্ত্রাংশ, টাইলস, স্টেইনলেস স্টিল কয়েল, স্ক্যানার, ব্যাডমিন্টন র‍্যাকেট, এলিভেটর ও লবণসহ অন্যান্য পণ্য।

এনবিআর জানায়, নিলাম কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় ই-অকশন পরিচালনা করা হবে।

নিলাম কার্যক্রম অধিকতর প্রতিযোগিতামূলক করতে ই-অকশন নম্বর-০৯/২০২৬-এর পণ্য ৩০ আগস্ট থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর এবং বিশেষ ই-অকশন নম্বর-১০/২০২৬-এর পণ্য ৩০ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত অফিস চলাকালে বিডাররা সরেজমিনে পরিদর্শন করতে পারবেন। এরপর অনলাইনে বিড করার সুযোগ থাকবে।

আগ্রহী ক্রেতাগণ ঘরে বসেই কাস্টমসের অফিসিয়াল ই-অকশন পোর্টালে (https://auction.bdcustoms.gov.bd) নিবন্ধন করে ই-অকশন নম্বর-০৯/২০২৬ এর দরপত্র ২৭ আগস্ট থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা পর্যন্ত এবং বিশেষ ই-অকশন নম্বর-১০/২০২৬ এর দরপত্র ২৭ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা পর্যন্ত অনলাইনে দাখিল করতে পারবেন।

এনবিআর জানায়, অনলাইন বিডিংয়ের সময় প্রস্তাবিত দরমূল্যের ন্যূনতম ১০ শতাংশ জামানতের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মূল কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। সর্বোচ্চ দরদাতাদের আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪ এর প্রযোজ্য শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে পণ্যগুলো খালাস নিতে হবে।

নিলাম কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ৩টায় ই-অকশন নম্বর-০৯/২০২৬-এর দরপত্র বাক্স খোলা হবে। এছাড়া বিশেষ ই-অকশন নম্বর-১০/২০২৬-এর দরপত্র বাক্স খোলা হবে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায়। নিলামসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে বিডারদের এনবিআরের ই-অকশন পোর্টাল পরিদর্শনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।




‘চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেই’

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দর কোনো বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের নেই।

আজ (বুধবার) সংসদে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সরকারি দলের সদস্য মো. শাহাদাত হোসেনের টেবিলে উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী বলেন, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথোরিটি (পিপিপিএ) অথবা সরকার কর্তৃক জারিকৃত অথবা অনুমোদনকৃত ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনার লক্ষ্যে অপারেটর নিয়োগ করা হয়। এক্ষেত্রে দেশি এবং বিদেশি উভয় ধরনের অপারেটর বিবেচনা যোগ্য।

তিনি বলেন, বর্তমানে বন্দরের আধুনিকায়ন এবং দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যের অব্যাহত অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি অপারেটর দ্বারা বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল পরিচালনা করা হচ্ছে। যেমন বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) বিদেশি অপারেটর দ্বারা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন।

 

এ ছাড়া, কর্ণফুলি নদীর ডান তীরে লালদিয়া চর নামক স্থানে লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য পিপিপি পদ্ধতিতে ডেনমার্কে মার্কস গ্রুপের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস বিভি-এর সহিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আরও উল্লেখ্য যে, চট্টগ্রাম বন্দর একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২ অনুযায়ী একজন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বোর্ড এবং সংস্থার কর্মকর্তা/কর্মচারী দ্বারা পরিচালিত। উপরন্তু সরকার কর্তৃক সময় সময় যেসব নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তা সরকারি নির্দেশনামতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রতিপালন করে থাকে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।




প্রতিদিন চট্টগ্রাম বন্দরে দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয় : শ্রম উপদেষ্টা

চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয় বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক বছরের অর্জন ও সাফল্য নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা জানান।

তিনি বলেন, আমি আশ্চর্য হই যখন আপনারা (সাংবাদিক) এগুলো পত্রিকায় দেন অথচ একবারও জিজ্ঞাসা করেন না যে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ‌প্রতিদিন কত অবৈধ টাকা ওঠে। আমি একটা রাফ ফিগার দিতে পারি। মিনিমাম কত টাকা ওঠে।

উপদেষ্টা বলেন, প্রত্যেকটি জায়গায় চাঁদাবাজি। দিনের পর দিন ভেতরে ট্রাক দাঁড়ানো, এটা দাঁড়ানোর জায়গা না। কেউ না কেউ এখান থেকে চাঁদা নিচ্ছে। ওখান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, বাইরে গেছে, সেখান থেকে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। আপনারা নিজেরাই বলেন। যিনি চট্টগ্রামের মেয়র হন উনি চট্টগ্রামের মেয়র কম, বন্দরের রক্ষক বেশি। চট্টগ্রাম বন্দরটা হচ্ছে সোনার ডিম পাড়া মুরগির মতো। তাড়াতাড়ি এটা জবাই করে তাড়াতাড়ি বের করে খেয়ে ফেলো।

সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, প্রথমে বলা হলো অমুক চলে গেলে তো ভাই বন্দর (চট্টগ্রাম বন্দর) ডাউন হয়ে যাবে। আমি নিজেই ভয় পেয়ে গেলাম কী করবো? মিটিং করলাম, বললাম- পাঁচ শতাংশ কম হোক, সেটাতেও রাজি। যেখানে দিনের পর দিন লাগতো এখন সেখানে একদিন থেকে দেড় দিন, তারও কম সময় লাগছে। ইফিসিয়েন্সি বাড়ছে। আপনারা ব্যবসায়ীদের জিজ্ঞাসা করেন না কেন?

চট্টগ্রাম বন্দরে অবৈধভাবে কত টাকা আসে, সেটা বলতে চেয়েছিলেন, সেটা একটু বলুন। এমন মন্তব্যের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, আনুমানিক দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা প্রত্যেকটা দিন ওঠে। আপনি বন্দরে গিয়ে জিজ্ঞাসা করেন তারা হয়তো আরও বেশি বলবে।




ভারত থেকে এলো আমদানির সাড়ে ১১ হাজার টন চাল

ভারত থেকে সাড়ে ১১ হাজার টন সিদ্ধ চালবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। সোমবার (২৪ মার্চ) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা, উন্মুক্ত দরপত্র চুক্তির আওতায় (প্যাকেজ-২) ভারত থেকে সাড়ে ১১ হাজার টন সিদ্ধ চাল নিয়ে এমবি ডিডিএস মারিনা জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। উন্মুক্ত দরপত্র চুক্তির আওতায় ভারত থেকে ০৯টি প্যাকেজে মোট ৪ লাখ ৫০ হাজার টন চাল আমদানির চুক্তি হয়েছে।

এর মধ্যে ২ লাখ ৮৫ হাজার ৭৬৯ মেট্রিক টন চাল ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে বলেও জানিয়েচ্ছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জাহাজে রাকগা চালের নমুনা পরীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং চাল খালাসের কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।




বন্দরের নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিদর্শনে আসছেন আইএসপিএস প্রতিনিধি দল

চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ চলাচল ও সার্বিক নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিদর্শনে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের চার সদস্যের ইন্টারন্যাশনাল শিপ অ্যান্ড পোর্ট ফ্যাসেলিটি সিকিউরিটির (আইএসপিএস) একটি প্রতিনিধি দল।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক জানান, আগামী ২১ থেকে ২৩ জানুয়ারি তিনদিন তারা চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম ও স্থাপনা পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। প্রতিনিধি দল জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার বিষয়টি মূল্যায়ন করবে এবং কয়েকটি বেসরকারি কন্টেইনার ইয়ার্ড পরিদর্শন করবে।

চট্টগ্রাম বন্দর সচিব জানান, আইএসপিএস প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন নিয়মিত বাণিজ্যিক সুযোগ সুবিধা ও বন্দর উন্নয়নের অংশিদারিত্বের অংশ। তারা আমাদের দেশ থেকে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্য নিয়ে থাকে। সেজন্য তাদের প্রেসক্রিপসনের কমপ্লায়েন্সগুলো বাস্তবায়ন হয়েছে কি না তা দেখে থাকেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, সফরে আসা আইএসপিএস প্রতিনিধি দলে ইউএস কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা লেফটেনেন্ট কমান্ডার খেইম ভি নাইজির নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধি দলের নাম পাওয়া গেছে। অন্য সদস্যরা হলেন-মার্টিন এস ডুনুহুই, ইরভিং এ চিনট্রন এবং মিজ ক্রামির।

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে টু-ইন-টাওয়ারে ওয়ান-ইলেভেনের সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিশ্বের যেসব দেশ থেকে জাহাজে পণ্য আমদানি রপ্তানি করে, সে সব দেশের বন্দর ও জাহাজের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে আইএসপিএস কোড চালু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ডের মেরিটাইম রুলস অনুসরণ করে আইএসপিএস প্রতিনিধি দল ইতোপূর্বে আরো সাতবার চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেছে। সর্বশেষ ২০২২ সালের আগস্ট মাসে তারা চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেছিল।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) নীতিমালা অনুসরণ করে। আইএমও বিশ্বের বন্দর সমুহের জাহাজ চলাচল ও নিরাপত্তা রক্ষায় আইএসপিএস কোড বাস্তবায়নে সহায়তা দেয়। সেহেতু চট্টগ্রাম বন্দর এই আইএসপিএস কোড অনুসরণ করে তাদের নির্দেশিত কমপ্লায়েন্স বাস্তবায়ন করছে শুরু থেকেই।

যুক্তরাষ্ট্র যে সব দেশ থেকে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্য আমাদনি করে সে সব দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে চীন এবং তাইওয়ানের পর বাংলাদেশের অবস্থান। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্ব প্রণিধানযোগ্য। পানি পথে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় চট্টগ্রাম বন্দর এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।

আইএসপিএস প্রতিনিধি দল তাদের সফর শেষে প্রতিবারই চট্টগ্রাম বন্দরের কিছু উন্নয়নমুলক পরামর্শ দিয়ে থাকে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এসব পরামর্শ গুরুত্ব সহকারে নিয়ে বাস্তবায়ন করে। ফলে আইএসপিএস প্রতিনিধি দল তাদের কোড বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং তা ধরে রাখার বিষয়ে বিভিন্ন সময় পরিদর্শন এবং অগ্রগতি রিপোর্ট প্রদান করে। যে সব বন্দরে আইএসপিএস কোড অনুসরণ পুরোপুরি হয় না, সে সব বন্দরকে একটি সময় দিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোডের শর্ত পূরণের সময় দেওয়া হয়। যে সব বন্দর এতে ব্যর্থ হয় সেগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। কালো তালিকাভুক্ত বন্দর দিয়ে আমেরিকায় কোন পণ্য পরিবহন করা যায় না।

২০০৪ সাল থেকে আমেরিকান কোস্টগার্ডের আইএসপিএস প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন শুরু করে।

ইতোপূর্বে তারা চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বাধুনিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে সব শর্ত পূরণের তাগাদা দিয়েছিল, তা পূরণ করে আসছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

২০২২ সালের আগস্ট মাসে আইএসপিএস প্রতিনিধি দলে সর্বশেষ সফরে এসেছিলেন। তারা কয়েকটি আইসিডিসহ চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো পরিদর্শন করে সন্তোষজনক রিপোর্ট প্রদান করেছিলেন। প্রায় আড়াই বছর পর আবারো আইএসপিএস কোডের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা তিনদিন এখানে অবস্থান করে চট্টগ্রাম বন্দর ইয়ার্ড, জেটি, সিএফএস (কন্টেনার ফ্রেইট স্টেশন), বন্দর গেট, সিসিটিভি ক্যামেরা, বন্দরের সিকিউরিটি বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা এবং পোর্ট ফ্যাসিলিটিজর আওতাধীন কয়েকটি আইসিডি পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

বিশেষ করে বন্দরে হ্যান্ডলিং করা পণ্য স্ক্যানিং, সিসিটিভি ক্যামেরা, লোকবল, পণ্য তল্লাশির ধরনসহ নিরাপত্তা সংক্রান্ত সার্বিক বিষয়গুলো তারা দেখে থাকেন।




দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তান থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে কনটেইনারবাহী জাহাজ

দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তান থেকে সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে কনটেইনারবাহী জাহাজ ‘এমভি ইউয়ান জিয়াং ফা ঝং’। এবার জাহাজটিতে চিনি, আখের গুড়, ডলোমাইট, সোডা অ্যাশ, থ্রি-পিস, খেজুর ছাড়াও নানান ধরনের পণ্য এসেছে।

এসব পণ্যের ৮৬ শতাংশই পাকিস্তান থেকে এসেছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিশোধিত চিনি ও খনিজ পদার্থ ডলোমাইট।

 

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে কনটেইনারবাহী জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। গত ১১ ডিসেম্বর পাকিস্তানের করাচি বন্দর থেকে ৮১১ টিইইউস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একক) কনটেইনার নিয়ে জাহাজটি রওনা দেয়।

এই জাহাজটিই সংযুক্ত আরব আমিরাত হয়ে প্রথমে পাকিস্তান এবং পরে ৩৭০টিইইউস কনটেইনার নিয়ে গত ১১ নভেম্বর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। সেসময় জাহাজটির বিভিন্ন কনটেইনারে সোডা অ্যাশ, ডলোমাইট চুনাপাথর, ম্যাগনেশিয়াম ভাঙা কাচ, কাঁচামাল কাপড়, রং, গাড়ির যন্ত্রাংশ, পেঁয়াজ, আলু, খেজুর, জিপসাম, পুরোনো লোহার টুকরা, মার্বেল ব্লক, কপার ওয়্যার, রেজিন এবং মাদক হুইস্কি, ভদকা ও ওয়াইন ছিল। ১২ নভেম্বর জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দর ত্যাগ করে। ওইসময় তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বেশ শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। ফের সেই একই জাহাজ করাচি থেকে চট্টগ্রামে এসেছে দ্বিগুণেরও বেশি পণ্য নিয়ে। যদিও এর আগে পাকিস্তান থেকে চট্টগ্রামে পণ্য আনা-নেওয়া হতো তৃতীয় কোনো বন্দরের মাধ্যমে।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাহাজটি কনটেইনার খালাস ও খালি কনটেইনার লোড করার জন্য বন্দরের এনসিটি জেটিতে দুদিন অবস্থান করবে। কাজ শেষে যাওয়ার পথে চট্টগ্রাম থেকে ইন্দোনেশিয়ার বন্দরের জন্য ৪০০ টিইইউ’স (২০ ফুট দীর্ঘ হিসাবে) এবং মালয়েশিয়ার বন্দরের জন্য ৬০০ টিইইউ’স খালি কনটেইনার নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

জাহাজটিতে এবার আরব আমিরাত ও পাকিস্তান থেকে আনা হয়েছে ৮১১ একক কনটেইনার পণ্য। যা জাহাজটির প্রথম ট্রিপের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। এর মধ্যে ৬৭৮ একক কনটেইনার পণ্যই এসেছে পাকিস্তান থেকে। দেশটি থেকে এবার সবচেয়ে বেশি এসেছে পরিশোধিত চিনি ও খনিজ পদার্থ ডলোমাইট।

 

পাকিস্তান থেকে এবার ২৮৫ কনটেইনারে ১ লাখ ৪৮ হাজার ২০০ ব্যাগ চিনি আনা হয়েছে। যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৭ হাজার টন।

কাঁচশিল্পে ব্যবহারের জন্য চিনির পর পাকিস্তান থেকে সবচেয়ে বেশি আনা হয়েছে ডলোমাইট। এবার ১৭১ কনটেইনারে ডলোমাইট আমদানি হয়েছে। এই কাঁচামাল এনেছে নাসির ফ্লোট গ্লাস ও আকিজ গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ। পাকিস্তান থেকে আমদানি হওয়া আরেকটি পণ্য হলো সোডা অ্যাশ। এই পণ্য আমদানি হয়েছে ১৩৮ কনটেইনারে। শিল্পে ব্যবহারের এই কাঁচামাল এনেছে নাসির ফ্লোট গ্লাসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

এছাড়া শতভাগ রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাগুলো এনেছে কাপড়ের রোল। মোট ৪৬টি কনটেইনারে রয়েছে কাপড়ের রোল। আলু আমদানি হয়েছে ১৮ একক কনটেইনারে। এছাড়া জয়পুরহাটের পিঅ্যান্ডপি ট্রেডিং ২০ কনটেইনারে আখের গুড় এনেছে। এসব পণ্যের পাশাপাশি পুরোনো লোহার টুকরা, রেজিন, থ্রি-পিস ইত্যাদি পণ্য আমদানি হয়েছে।

 

পাকিস্তান ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আনা হয়েছে খাদ্যপণ্য, খেজুর, লুব অয়েল, যন্ত্রাংশ ইত্যাদি। পাকিস্তানের পাশাপাশি আমিরাত থেকেও ১০ কনটেইনার চিনি আমদানি হয়েছে।

‘এমভি ইউয়ান জিয়াং ফা ঝং’ জাহাজটির স্থানীয় প্রতিনিধি কর্ণফুলী লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রিজেনসি লাইনস লিমিটেড এই সংস্থার বাংলাদেশে স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে যুক্ত হয়েছে। দুবাই ভিত্তিক কনটেইনার জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা ফিডার লাইনস ডিএমসিসি দুবাই-করাচি-চট্টগ্রাম-মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়া-ভারত-দুবাই রুটে ‘এমভি ইউয়ান জিয়াং ফা ঝং’ জাহাজটি চালু করেছে।

কর্ণফুলী লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক আনিস উদ দৌলা বলেন, জাহাজটিতে প্রথমবারের তুলনায় এবার দ্বিগুণ কনটেইনার এসেছে। সরাসরি জাহাজটি আসায় সময় কয়েকদিন কম লাগছে। এতে ব্যবসায়ীদের খরচ সাশ্রয় হচ্ছে।

 

শিপিং এজেন্ট, বন্দর ব্যবহারকারী ও আমদানিকারকদের মতে, দুবাই-করাচি-চট্টগ্রাম রুটে সরাসরি কনটেইনার জাহাজ চালু হওয়ায় মেরিটাইমে গুরুত্বপূর্ণ দুই বিবেচ্য বিষয় ‘ভাড়া’ ও ‘সময়’ সাশ্রয় হচ্ছে। পাকিস্তান থেকে এত দিন শ্রীলঙ্কা বা সিঙ্গাপুর হয়ে চট্টগ্রামে পণ্য আমদানি হতো। তাতে এসব কনটেইনার একবার এসব বন্দরে নামানো হতো। আবার চট্টগ্রামমুখী জাহাজে তুলে দেওয়া হতো। এতে সময় লাগতো বেশি। এখন সরাসরি জাহাজসেবা চালুর কারণে ১০ দিনে পণ্য হাতে পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।




পাকিস্তান থেকে ২৫ হাজার টন চিনি কিনেছে বাংলাদেশ

পাকিস্তানের কাছ থেকে ২৫ হাজার টন চিনি কিনেছে বাংলাদেশ। উচ্চ মানসম্পন্ন এই চিনি আগামী মাসেই বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছাবে।

কয়েক দশক পর দক্ষিণ এশিয়ার পরমাণু শক্তিধর এই দেশটির কাছ থেকে এতো বিপুল পরিমাণে চিনি কিনল ঢাকা। এর আগে ভারতের কাছ থেকে চিনি কিনতো বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের কাছ থেকে ২৫ হাজার টন উচ্চমানের চিনি কিনেছে বাংলাদেশ, যা আগামী মাসে করাচি বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। কর্মকর্তাদের মতে, বহু দশক পর ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ বাংলাদেশে এত বিপুল পরিমাণে নিজেদের উৎপাচিত পণ্য পাঠাচ্ছে পাকিস্তানি চিনি শিল্প।

গত সোমবার (২ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম প্রতি টনে ৫৩০ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল বলছে, এর আগে ভারত থেকে চিনি আমদানি করে আসছিল বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের অনুমোদনের পর এই বছর কমবেশি ৬ লাখ টন চিনি রপ্তানির চুক্তি করেছে পাকিস্তানের চিনি শিল্প।

এর মধ্যে ৭০ হাজার টন চিনি পাকিস্তান থেকে পাঠানো হবে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে। থাইল্যান্ড পাকিস্তানের চিনি শিল্প থেকে ৫০ হাজার টন চিনি কিনেছে। পাকিস্তানের চিনি ব্যবসায়ীদের কর্মকর্তা মজিদ মালিকের মতে, উপসাগরীয় রাষ্ট্র, আরব দেশ এবং আফ্রিকান দেশগুলোও পাকিস্তান থেকে চিনি কেনার চুক্তি করেছে।

চিনি রপ্তানি থেকে পাকিস্তান ৪০০-৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করবে। মূলত পাকিস্তানের চিনি শিল্প দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির জন্য একটি প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনকারী শিল্প হয়ে উঠেছে।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম বলছে, দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের যৌথ প্রচেষ্টায় দেশের চিনি শিল্পও সফলভাবে বিপুল পরিমাণ চিনি রপ্তানি করে চলেছে। এর আগে এসব চিনি আফগানিস্তানের মধ্য দিয়ে উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, কাজাখস্তান এবং আজারবাইজানে পাচার হয়ে যেত।

চলতি বছর পাকিস্তানের ৮০ টিরও বেশি চিনিকল গত সোমবার থেকে চিনি উৎপাদন শুরু করেছে।




চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তানের দুই কনটেইনার পেঁয়াজ

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আজ বুধবার পাকিস্তান থেকে দুই কনটেইনার পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এই দুই কনটেইনারে ৫৮ হাজার কেজি পেঁয়াজ রয়েছে। ভারত রপ্তানি বন্ধের ঘোষণার ছয় দিনের মাথায় এই পেঁয়াজ আমদানি হলো। যদিও এই পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল এক মাস আগে।

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পাকিস্তান থেকে প্রথম পেঁয়াজ আমদানি হয় গত ১৩ সেপ্টেম্বর। বাংলাদেশে পেঁয়াজ আমদানির অন্যতম বড় উৎস ভারত পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য টনপ্রতি ৮০০ ডলারে উন্নীত করার পরই বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি বাড়তে থাকে। আজকের চালানসহ ২৮টি চালানে পাকিস্তান থেকে মোট আমদানি হয় ১ হাজার ৪৮০ টন পেঁয়াজ।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সংঘ নিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, পেঁয়াজের চালানটি পরীক্ষা করে উদ্ভিদ সংঘ নিরোধ কেন্দ্র থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এখন কাস্টমস থেকে ছাড়পত্রসহ আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষ করে আমদানিকারক চালানটি খালাস করতে পারবেন।

পাকিস্তান ছাড়া পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে চীন থেকেও। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত চীন থেকে আমদানি হয়েছে ১ হাজার ৮৯১ টন পেঁয়াজ। সব মিলিয়ে বিকল্প দেশ থেকে এ পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ৩ হাজার ৩৭১ টন।

৭ ডিসেম্বর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয়। এরপরই রাতারাতি দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। তবে প্রশাসনের অভিযান ও দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় বাজারে দাম কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের।




ঘূর্ণিঝড় মোখার আশঙ্কা কেটে যাওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে কার্যক্রম শুরু

ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে সাময়িক বন্ধ থাকা চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য উঠানামা শুরু হয়েছে। জেটিতে ফিরেছে জাহাজগুলো। ঘূর্ণিঝড় মোখার আশঙ্কা কেটে গেলে রোববার রাতেই কার্যক্রম চালু হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক জানান, রোববার ৮ নম্বর মহা বিপৎসংকেত তুলে নেওয়ার পর রাত ৮টার দিকে কার্যত বন্দরের অপারেশন শুরু হয়েছে। তখন জেটিতে জাহাজ না থাকলেও ইয়ার্ড থেকে পণ্য ও কনটেইনার ডেলিভারি হয়েছে। রোববার রাতের জোয়ারে জেটিতে জাহাজ ভিড়েছে। সোমবার সকাল থেকে পুরোদমে শুরু হয়েছে কাজ। জাহাজ থেকে পণ্য ও কনটেইনার খালাস ও বোঝাই করা হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর ঘূর্ণিঝড় মোখা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ৮ নম্বর মহা বিপদসংকেত ঘোষণার পর চট্টগ্রাম বন্দর নিজস্ব সর্বোচ্চ অ্যালার্ট ৮ জারি করে। একই সঙ্গে বন্দরের সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।




চট্টগ্রাম বন্দরে জাপানের দুই যুদ্ধজাহাজ

শুভেচ্ছা সফরে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে জাপান মেরিটাইম সেলফ ডিফেন্স ফোর্সের (জেএমএসডিএফ) দুটি যুদ্ধজাহাজ ‘উরাগা’ ও ‘আওয়াজি’। রোববার (৯ এপ্রিল) নৌ-বাহিনীর সুসজ্জিত বাদক দল ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী বাদ্যযন্ত্র পরিবেশনের মাধ্যমে জাহাজ দুটিকে স্বাগত জানায়।

পরে চট্টগ্রাম নৌ-অঞ্চলের চিফ স্টাফ অফিসার ক্যাপ্টেন ফয়েজ জাহাজ দুটির অধিনায়কদের স্বাগত জানান। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপান দূতাবাসের প্রতিনিধিসহ নৌ-বাহিনীর স্থানীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নৌ-বাহিনী জানায়, বাংলাদেশে অবস্থানকালে সফরকারী জাহাজ দুটির অধিনায়ক ও বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূতসহ একটি প্রতিনিধিদল কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল এবং কমান্ডার বিএন ফ্লিটের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া জাহাজ দুটির কর্মকর্তা ও নাবিকরা চট্টগ্রামে অবস্থিত বাংলাদেশ নেভাল অ্যাকাডেমি, স্কুল অব মেরিটাইম ওয়ারফেয়ার অ্যান্ড ট্যাকটিক্স (এসএমডব্লিউটি) এবং নৌ-বাহিনী মেরিটাইম মিউজিয়ামসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শন করবেন।

পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও নাবিকরা জাহাজ দুটি পরিদর্শন করবেন। ১৪১ মিটার এবং ৬৭ মিটার দৈর্ঘ্যের জাহাজ দুটির অধিনায়ক কমান্ডার মাতসুনাগা আকিহিতু এবং কমান্ডার তাগুছি তাকুমার নেতৃত্বে কর্মকর্তাসহ মোট ১৮৮ জন সদস্য এ শুভেচ্ছা সফরে অংশগ্রহণ করছেন।

এর আগে বাংলাদেশের জলসীমায় এসে পৌঁছালে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ ‘প্রত্যাশা’ সফরকারী জাহাজ দুটিকে স্বাগত জানায়। জাহাজ দুটির শুভেচ্ছা সফর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

তিন দিনের শুভেচ্ছা সফর শেষে জাহাজ দুটি আগামী ১১ এপ্রিল বাংলাদেশ ত্যাগ করার কথা রয়েছে।




চট্টগ্রাম-এন্টওয়ার্প বন্দরে সরাসরি জাহাজ চলাচলে আগ্রহী বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম বন্দর ও বেলজিয়ামের এন্টওয়ার্প বন্দরের মধ্যে সরাসরি জাহাজ চলাচলে আগ্রহ দেখিয়েছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম ও এন্টওয়ার্প বন্দরের মধ্যে সরাসরি জাহাজ চলাচল শুরু হলে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোর মধ্যে দ্রুত এবং কম খরচে কন্টেইনার/কার্গো পরিবহন সহজ হবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক পরিবহনের ক্ষেত্রে সময় ও খরচ কমে যাবে।

বুধবার (২৯ মার্চ) সচিবালয়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত বেলজিয়ামের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত দিদিয়ের ভেন্ডারহেসেল্ট। সাক্ষাতের সময় এ আগ্রহ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। সাক্ষাৎকালে তারা পারস্পারিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট দ্বিপাক্ষিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রতিমন্ত্রী পায়রা বন্দরের ড্রেজিংসহ চট্টগ্রাম, মোংলা, মাতারবাড়ী বন্দর, চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনালের উন্নয়নে লজিস্টিক্স সাপোর্ট ও ট্রেনিংয়ের বিষয়ে সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া বাংলাদেশের মেরিটাইম সেক্টরে সহযোগিতা এবং সিফেয়ারারদের বেলজিয়াম জাহাজে চাকরি ও ট্রেনিংয়ের বিষয়েও সহায়তা চান।

রাষ্ট্রদূত এসব খাতে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। রাষ্ট্রদূত একটি আঞ্চলিক বাণিজ্য মিশনের দলনেতা হিসেবে সাক্ষাৎ করেন।

রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বেলজিয়াম দূতাবাসের ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কমিশনার বেবিতি ডেসফোসেজ, ব্যবসায়ী ব্রাম ভেন্ডিপিত ও অলিভিয়ার ভিজভার্মান উপস্থিত ছিলেন।

এসময় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) সঞ্জয় কুমার বণিক ও যুগ্ম-সচিব (পরিকল্পনা) শেখ মো. শরিফ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।