চট্টগ্রামে রেস্টুরেন্ট-হোটেলে অভিযান, জরিমানা ৮০ হাজার

চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও হোটেলে অভিযান চালিয়ে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, বাসি খাবার সংরক্ষণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির অভিযোগে এ জরিমানা করা হয়।

আজ (মঙ্গলবার) জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় ও জেলা কার্যালয় নগরের আগ্রাবাদ ও মোহরা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে আগ্রাবাদ এলাকার লেমন গ্রাস রেস্টুরেন্টকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের দায়ে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই এলাকায় কাচ্চি ডাইনকে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে মোহরা এলাকায় মোহরা হোটেলকে বাসি বার্গার ও মোগলাই ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করে বিক্রি, মেয়াদোত্তীর্ণ দই বিক্রি এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য পরিবেশনের দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া সিজ্জল নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে মেয়াদোত্তীর্ণ মিষ্টান্ন সামগ্রীর গায়ে থাকা মেয়াদের স্টিকার তুলে বিক্রির দায়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ। এ সময় সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান, মাহমুদা আক্তার ও রানা দেবনাথ উপস্থিত ছিলেন। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানায়, জনস্বার্থে এ ধরনের বাজার তদারকি ও অভিযান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।




চট্টগ্রামে গ্রাফিতি আঁকতে গিয়ে বাধার মুখে এনসিপির নেতাকর্মীরা, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি

চট্টগ্রাম নগরের টাইগারপাস এলাকায় গ্রাফিতি আঁকতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে।

 

সোমবার (১৮ মে) দুপুর ১টার দিকে টাইগারপাস মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনজনকে পুলিশ হেফাজতে নিলেও কিছুক্ষণ পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এর আগে, একই এলাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি অপসারণের অভিযোগ ঘিরে রোববার রাত থেকে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ ঘটনায় এনসিপি ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সোমবার সকাল থেকেই টাইগারপাস, লালখান বাজারসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে কয়েকজন এনসিপিকর্মী টাইগারপাস মোড় এলাকায় নতুন করে গ্রাফিতি আঁকতে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ তিনজনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কায় তিনজনকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, জননিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

ঘটনাস্থলে উপস্থিত এনসিপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, এখন আবার নতুন করে স্বৈরাচারী আচরণের পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। আমরা এটা কোনোভাবেই মেনে নেবো না।

তাদের দাবি, গ্রাফিতিগুলো কেবল দেয়ালচিত্র নয়; বরং আন্দোলনের স্মৃতি, তরুণদের প্রতিবাদ এবং আত্মত্যাগের প্রতীক। তাই এসব গ্রাফিতি আঁকতে বাধা দেওয়া বা অপসারণের চেষ্টা সাধারণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করছে।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জিইসি মোড় থেকে দেওয়ানহাট ফ্লাইওভার পর্যন্ত সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও মিটিং নিষিদ্ধ করা হয়।




জনতা ব্যাংকের ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ৫ কর্মকর্তার কারাদণ্ড

চট্টগ্রামে জনতা ব্যাংকের শেখ মুজিব রোড করপোরেট শাখার ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা আত্মসাতের মামলায় ব্যাংকের সাবেক পাঁচ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ধারায় আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ৪৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার (১০ মে) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। এসময় পাঁচ আসামিই আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— জনতা ব্যাংক শেখ মুজিব রোড করপোরেট শাখার সাবেক কর্মকর্তা মো. আবু তৈয়ব, বাবুল চন্দ্র মজুমদার, রনেন্দ্র বিকাশ সাহা, মোসলেম উদ্দিন এবং জনতা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সাবেক এসপিও (আইডি রিকন) মো. সাঈদ হোসেন।

এ মামলায় একই শাখার সাবেক কর্মকর্তা নুরুল হুদাকে খালাস দিয়েছেন আদালত। এছাড়া আরেক আসামি আবু বকর সিদ্দিকীর রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।

দুদক চট্টগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. এনামুল ইসলাম জানান, ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত পাঁচ আসামিকে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় পাঁচ বছর, ৪২০ ধারায় দুই বছর এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। সব সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।

তিনি আরও জানান, আদালত প্রত্যেক আসামিকে ৪৬ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০০০ সালের ২৯ মার্চ পর্যন্ত সময়ে জনতা ব্যাংক শেখ মুজিব রোড করপোরেট শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা ও গ্রাহক যোগসাজশে ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাব থেকে অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তর করেন। পরে সেই অর্থ বিভিন্ন চলতি ও এসটিডি হিসাবের মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়।

এ ঘটনায় বিশেষ পরিদর্শন দলের তদন্তে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা আত্মসাতের তথ্য উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে ২০০০ সালের ৬ এপ্রিল জনতা ব্যাংকের তৎকালীন ওই শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. আবুল কাসেম মিয়া নগরের ডবলমুরিং থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ১৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। পরে ২০১৩ সালের ৬ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।




৪ সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।

বুধবার (২০ আগস্ট) আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক স্বাক্ষরিত সর্বশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতির বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সঞ্চালনশীল মেঘমালার প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্র বন্দরসমূহের ওপর দিয়ে দমকা/ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

 




স্যানিটেশন-সুপেয় পানির জন্য ৩৪০০ কোটি দেবে বিশ্বব্যাংক

চট্টগ্রামে উন্নত স্যানিটেশন ও সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থার জন্য ৩ হাজার ৪০০ কোটি দেবে বিশ্বব্যাংক। চট্টগ্রাম ওয়াটার সাপ্লাই ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টে ২৮ কোটি ডলার দেবে সংস্থাটি। প্রতি ডলার সমান ১২১ দশমিক ৪৩ টাকা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

শনিবার (১০ মে) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে ঋণচুক্তি সই হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ইআরডি সচিব মো. শাহ্রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী ও বিশ্বব্যাংকের পক্ষে ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রধান গেইল এইচ মার্টিন চুক্তিতে সই করেন।

প্রকল্পটি ৩১ ডিসেম্বর ২০৩০ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রাম মহানগরীতে নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং জলবায়ু সহনশীল পানি সরবরাহ বৃদ্ধি এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতি এবং চট্টগ্রাম ওয়াসার পরিচালন দক্ষতা উন্নয়ন এবং আর্থিক ক্ষমতা টেকসইকরণ করা হবে।

ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ৬ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ১২ বছর। এ ঋণের উত্তোলিত অর্থের ওপর কোনো সার্ভিস চার্জ বা সুদ দিতে হবে না। তবে বিশ্বব্যাংকের স্কেল আপ উইন্ড থেকে ১৪ কোটি ডলারে ফ্রন্ট ইন্ড ফি বাবদ শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ দিতে হবে। এ ঋণ পরিশোধের মেয়াদকাল ৫ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩৫ বছর।

বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের বৃহত্তম বহুপাক্ষিক উন্নয়ন অংশীদার। স্বাধীনতার পর থেকে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের জন্য ৪৩ দশমিক ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যা বাংলাদেশ এবং বিশ্বব্যাংকের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা দৃঢ় করেছে। বর্তমানে বিশ্বব্যাংক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ্বালানি খাতের উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে ৪৭টি চলমান প্রকল্পের জন্য ১৩ দশমিক ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করছে।




সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

দেশের চারটি সমুদ্র বন্দরে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত সামুদ্রিক সতর্কবার্তায় এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি বর্তমানে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উড়িষ্যা উপকূলে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্য বিরাজ করছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরের ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

ফলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।




সমুদ্র বন্দর থেকে নামানো হলো সতর্ক সংকেত

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে সতর্ক সংকেত নামিয়ে ফেলতে বলেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১-৩ ডিগ্রি এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত বুধবার (৯ আগস্ট) সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর এবং চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।

সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

তাপমাত্রায় বিষয়ে বলা হয়েছে, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১-৩ ডিগ্রি সে. বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়ার অবস্থায় বলা হয়েছে, এই সময়ের শেষের দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে।

বুধবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে কুতুবদিয়ায়, বান্দরবানে হয়েছে ১০২ মিলিমিটার। আর ঢাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ৭ মিলিমিটার।




শাহ আমানতে দুই কোটি টাকার সোনা উদ্ধার

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ২৪ পিস সোনার বার ও অলংকারসহ এক যাত্রী গ্রেফতার হয়েছেন। তার নাম মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ। তিনি চট্টগ্রামের হাটহাজারির বাসিন্দা।

বুধবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে শারজাহ থেকে এয়ার এরাবিয়ার একটি ফ্লাইটে তিনি চট্টগ্রাম আসেন।

উদ্ধার করা এসব সোনার বারের ওজন প্রায় তিন কেজি বলে জানিয়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। এছাড়া এসব সোনার বর্তমান বাজারমূল্য দুই কোটি টাকার বেশি।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শারজাহ থেকে এয়ার এরাবিয়ার জি-৯৫২২ ফ্লাইটটি সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা ছিল। কিন্তু ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৩৪ মিনিট আগে ৭টা ৬ মিনিটে শাহ আমানতে অবতরণ করে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই ফ্লাইটের যাত্রী আতিক উল্লাহকে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন লাউঞ্জে আটক করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই)। এসময় তার কোমরের বেল্ট থেকে ২৪ পিস সোনার বার উদ্ধার করা হয়।

কাস্টমস শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পরিচালক বশির আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, আতিক উল্লাহর দেহ তল্লাশি করে কোমর থেকে ২৪ পিস সোনার বার উদ্ধার করা হয়। আর তার ট্রাভেল ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা হয় ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার।

আতিক উল্লাহর বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংসহ বিশেষ ক্ষমতা আইনে পতেঙ্গা থানায় মামলা করা হয়েছে।