মোখায় ক্ষ‌তিগ্রস্থ‌দের আড়াই লাখ ডলার সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

ঘূর্ণিঝড় মোখায় ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি ত্রাণ সহায়তা হিসেবে আড়াই লাখ ডলার দেবে মা‌র্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (১৭ মে) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এ তথ্য জানিয়েছে।

দূতাবাস জানায়, মোখায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এ অর্থ ব্যয় করা হবে।

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশের জনগণ ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

উল্লেখ্য, রোববার (১৪ মে) বিকেল ৩টার দিকে কক্সবাজার ও মিয়ানমার উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় মোখা। মোখার তাণ্ডবে টেকনাফ ও সেন্ট মার্টিনে ১০ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সেন্টমার্টিনেই ১২০০ ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে।




ঘূর্ণিঝড় মোখার আশঙ্কা কেটে যাওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে কার্যক্রম শুরু

ঘূর্ণিঝড় মোখার কারণে সাময়িক বন্ধ থাকা চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য উঠানামা শুরু হয়েছে। জেটিতে ফিরেছে জাহাজগুলো। ঘূর্ণিঝড় মোখার আশঙ্কা কেটে গেলে রোববার রাতেই কার্যক্রম চালু হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক জানান, রোববার ৮ নম্বর মহা বিপৎসংকেত তুলে নেওয়ার পর রাত ৮টার দিকে কার্যত বন্দরের অপারেশন শুরু হয়েছে। তখন জেটিতে জাহাজ না থাকলেও ইয়ার্ড থেকে পণ্য ও কনটেইনার ডেলিভারি হয়েছে। রোববার রাতের জোয়ারে জেটিতে জাহাজ ভিড়েছে। সোমবার সকাল থেকে পুরোদমে শুরু হয়েছে কাজ। জাহাজ থেকে পণ্য ও কনটেইনার খালাস ও বোঝাই করা হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর ঘূর্ণিঝড় মোখা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ৮ নম্বর মহা বিপদসংকেত ঘোষণার পর চট্টগ্রাম বন্দর নিজস্ব সর্বোচ্চ অ্যালার্ট ৮ জারি করে। একই সঙ্গে বন্দরের সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।




সন্ধ্যার পর রাজধানীতে বৃষ্টি শুরু হবে

ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে ঢাকাসহ ৪ বিভাগে ভারী বর্ষণের আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরইমধ্যে ঢাকায় বাতাস শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত রাজধানীর কোথাও কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি।

রোববার (১৪ মে) দুপুরে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসা  এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে ঢাকায় দমকা হাওয়াসহ ঝড় বৃষ্টির আভাস রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের মূলভাগ এরইমধ্যে উপকূলে উঠেছে। এর প্রভাবেই রাজধানীতে বাতাস শুরু হয়েছে।

কাজী জেবুন্নেসা আরও জানান, ঢাকায় ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। তবে মোখার মূলভাগ উপকূল অতিক্রম করার পরই বৃষ্টি শুরু হবে। সন্ধ্যা ৬টার পর রাজধানীতে বৃষ্টি শুরু হবে। তবে টানা বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সারা রাতই বৃষ্টি হবে, তবে তা থেমে থেমে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‌‘মোখা’ আজ সন্ধ্যা নাগাদ বাংলাদেশ অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি অতিক্রম করার পর সোমবার ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখার তাণ্ডবে সেন্টমার্টিনে গাছচাপা পড়ে নারীসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মোখার আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে এই প্রবাল দ্বীপ। ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব এখনো চলছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা।




বিকেল নাগাদ উপকূল অতিক্রমের সম্ভাবনা ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’র

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ কক্সবাজার ও মিয়ানমার উপকূল অতিক্রম করছে। রোববার (১৪ মে) বিকেল নাগাদ এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে কক্সবাজার ও উত্তর-মিয়ানমার উপকূল অতিক্রম করতে পারে। বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১৯ নম্বর বিশেষ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বুলেটিনে বলা হয়, উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোখা উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আজ (রোববার) সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ২৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে অবস্থান করছিল।

এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে রোববার বিকেল নাগাদ মিয়ানমারের সিটুয়েরের কাছ দিয়ে কক্সবাজার-উত্তর মিয়ানমার উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে একটানা বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৯৫ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়া আকারে ২১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে।

কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহা বিপৎসংকেত, চট্টগ্রাম ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৮ নম্বর মহা বিপৎসংকেত এবং মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ নম্বর মহা বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে।

উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৮ নম্বর মহা বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে। উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ১০ নম্বর মহা বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে।

উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৮ নম্বর মহা বিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে।

কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা জেলার নদী বন্দরসমূহকে ৪ নম্বর নৌ মহা বিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮-১২ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস এবং ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-৭ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশাল বিভাগে ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতিভারী (৮৯ মিলিমিটার বা তার বেশি) বৃষ্টিপাত হতে পারে। অতিভারি বর্ষণের ফলে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে বলেও অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়।




ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতি সরাসরি মনিটরিং করছেন প্রধানমন্ত্রী : কাদের

ঘূর্ণিঝড় মোখার সার্বিক বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি মনিটরিং করছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

রোববার (১৪ মে) সকালে আওয়ামী লীগের সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমন্ডলীর বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।

বৈঠকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, এসএম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সুজিত রায় নন্দী উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাশ, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাপা, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, উপ প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল শামীম, উপ দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. সায়েম খান, কার্যনির্বাহী সদস্য শাহাবুদ্দিন ফরাজী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




কক্সবাজারে ৬২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩২ হাজার মানুষ

ঘূর্ণিঝড় মোখা মোকাবিলার পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে খোলা আশ্রয় কেন্দ্রে শনিবার (১৩ মে) দুপুর ২টা পর্যন্ত কক্সবাজার জেলার ৬২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩২ হাজার ২২৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। শনিবার বিকেলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ৮৩৫টি গরু ও মহিষ, ১ হাজার ৩৯৫টি ছাগল ও ভেড়া এবং ১ হাজার ২৯৫টি অন্যান্য গবাদিপশু আনা হয়েছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম গ্রহণের লক্ষ্যে সিপিপি বাস্তবায়ন বোর্ডের এক জরুরি সভা দুপুরে সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে ব্রিফিংয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের অভ্যন্তরীণ গতিবেগ, উপকূলের দিকে এগিয়ে আসার গতিবেগ এবং উপকূল থেকে দূরত্ব বিবেচনা করে আজ এ সভা থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, কক্সবাজার জেলার জন্য ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করা হবে। চট্টগ্রাম ও পায়রা সমুদ্র বন্দরের জন্য ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত এবং মোংলা বন্দরের জন্য চার নম্বর বিপদ সংকেত জারি করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোখা যেভাবে অগ্রসর হচ্ছে আশঙ্কা করছি, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায় আঘাত হানবে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, ভোলা ও বরগুনাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।