গ্রামীণ ব্যাংকের নতুন এমডি সরদার আকতার হামিদ

গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সরদার আকতার হামিদ। তিনি বিভিন্ন ব্যাংকের এমএসএমই, রিটেইল, কৃষি এবং চ্যানেল ব্যাংকিং পরিচালনায় বহুমুখী অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিংয়ে স্নাতকোত্তর করার পর সরদার আকতার হামিদ ১৯৯৫ সালে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানিতে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০০৫ সালে তিনি ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডে যোগ দেন।

সরদার আকতার হামিদ ২০১৫ সালে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে ব্যাংক এশিয়ায় যোগ দেন। ব্যাংক এশিয়ায় যোগদানের আগে তিনি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডে রিটেইল ব্যাংকিং প্রধান হিসেবে কাজ করেন। ব্যাংক এশিয়ায় তিনি অন্যান্য ক্ষেত্রসহ দেশের অন্যতম সর্ববৃহৎ এজেন্ট নেটওয়ার্ক পরিচালনা এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বিস্তারে কাজ করছেন।

সরদার আকতার হামিদ পোস্ট অফিসের সঙ্গে কৌশলগত কার্যক্রম স্থাপনের মাধ্যমে ব্যাংকের ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে মাইক্রো মার্চেন্ট ধারণার বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।




২০২৯ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতি পেলো গ্রামীণ ব্যাংক

প্রায় চার বছর পর আয়করমুক্ত সুবিধা ফিরে পেয়েছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক। একই সুবিধা ২০২৯ পর্যন্ত পেলো আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশন।

১৯৮৩ সালে সামরিক অধ্যাদেশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সব সময়ই কর অব্যাহতি সুবিধা পেয়ে আসছিল গ্রামীণ ব্যাংক। সুযোগটি প্রতিষ্ঠানটি পেয়েছে গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশের ৩৩ ধারার আওতায়। ২০১৩ সালে অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করা হলেও ওই ধারা অব্যাহত রয়েছে।

২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এই সুবিধা বন্ধ করে দেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। গত বৃহস্পতিবার গ্রামীণ ব্যাংককে কর অব্যাহতি সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এটি ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। প্রতিষ্ঠানটিকে প্রতি বছর দিতে হবে আয়কর রিটার্ন। প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

গেজেট আকারে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৩ সালের আয়কর আইনের ৭৬-এর উপধারা (৫) এবং (৬)-এর বিধানাবলি পরিপালন সাপেক্ষে গ্রামীণ ব্যাংকের অর্জিত সব আয়কে আয়কর থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। এই প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে কার্যকর হবে।

অন্যদিকে, ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত দানকৃত আয় থেকে কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে অলাভজনক ধর্মীয় দাতব্য সংস্থা আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনকে।

বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আলাদা গেজেট প্রকাশ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। সেখানে বলা হয়েছে, কর দিবসের মধ্যে রিটার্ন দাখিলসহ যাবতীয় নিয়ম পরিপালন করে তবেই এ সুবিধা পাওয়া যাবে।

প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে থেকে দীর্ঘ ২৮ বছর গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি এখন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান।

Jagonews24 Google News Channelজাগোনিউজের খবর পেতে ফলো করুন আমাদের গুগল নিউজ চ্যানেল।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক বন্যার সময় আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের ত্রাণ তৎপরতা বেশ আলোচিত হয়। এটির প্রতিষ্ঠাতা ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহ। ২০১৭ সালে সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। আহমাদুল্লাহ সংস্থাটির চেয়ারম্যান। আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশভিত্তিক একটি অলাভজনক ধর্মীয় দাতব্য সংস্থা, যারা শিক্ষা ও মানবকল্যাণসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে।




পুঁজিবাজারে ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ডের লেনদেন শুরু

প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড।

মিউচ্যুয়াল ফান্ডটির লেনদেন মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) শুরু হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (সিএসই) এর আয়োজিত রিং দ্যা বেল অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্যে দিয়ে ফান্ডটির লেনদেন শুরু হয়েছে। এর ফলে পুঁজিবাজারে ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড ১৫৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে।

এদিন ডিএসই আয়োজিত ডেবিউ ট্রেডিং এবং রিং দ্য বেল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসি কমিশনার অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু।

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ক্যাপিটেক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান হাসান রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান, ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এটিএম তারিকুজ্জামান এবং ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশর (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল হোসেনসহ প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের গত ১৪ আগস্ট পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) তার ৮৮০তম কমিশন সভায় ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ডের প্রসপেক্টাস অনুমোদন করে। ফান্ডটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে আছে ক্যাপিটেক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। আর এর ট্রাস্টি ও কাস্টোডিয়ানের দায়িত্ব পালন করছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ সংস্থা আইসিবি।

প্রাথমিকভাবে ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ডের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০০ কোটি টাকা। ফান্ডটির উদ্যোক্তা এতে ১০০ কোটি টাকা জোগান দিয়েছেন। বাকি ১০০ কোটি টাকা আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করার কথা। কিন্তু আইপিওতে নির্ধারিত ইউনিট বিক্রি না হওয়ায় ফান্ডটির আকার দাঁড়িয়েছে ১৫৬ কোটি টাকা।

ফান্ডটি ডিএসইতে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন শুরু করবে। ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ডের ট্রেডিং কোড হবে ‘CAPITECGBF’। ডিএসইতে ফান্ডটির ট্রেডিং কোড হবে ১২২০৫।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) ফান্ডটির বরাদ্দপ্রাপ্ত ইউনিট বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে জমা হয়েছে। তার আগে গত সোমবার (৯ অক্টোবর) যোগ্য বিনিয়োগকারী ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইউনিট বরাদ্দ করা হয়েছে। ইলেক্ট্রনিক সাবস্ক্রিপশন সিস্টেমের (ইএসএস) মাধ্যমে যোগ্যতাসম্পন্ন ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইউনিট বরাদ্দ করা হয়।

আইপিওতে বিনিয়োগকারীদের জন্য ফান্ডটির ১০০ কোটি টাকার ইউনিট সংক্ষিত ছিল। এর বিপরীতে ৫৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার ইউনিট কেনার জন্য আবেদন জমা পড়ে। সংক্ষিত ইউনিট সংখ্যার চেয়ে কম আবেদন জমা পড়ায় প্রত্যেক আবেদনকারী শতভাগ ইউনিট বরাদ্দ পেয়েছেন।




পুঁজিবাজারে ২০০ কোটির ফান্ড আনবে ক্যাপিটেক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট

দেশের পুঁজিবাজারে ২০০ কোটি টাকার মিউচুয়াল ফান্ড আনবে দেশের সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটেক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। ফান্ডটির নাম- ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড। ফান্ডটির বৈশিষ্ট্য হলো- মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড (Close-end Mutual Fund)।

রোববার (১৪ মে) গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ফান্ডের উদ্যোক্তা গ্রামীণ ব্যাংক এবং ফান্ডের ট্রাস্টি ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) মধ্যে এ বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া ফান্ডের স্পন্সর গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে ক্যাপিটেক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডেরও একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

চুক্তি সম্পাদন ও চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ক্যাপিটেক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান হাসান রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান ও চিফ অপারেটিং অফিসার সুমিত পাল, গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একেএম সাইফুল মজিদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোসলেহ উদ্দীন, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (মানব সম্পদ ও সেবা ব্যবস্থাপনা) ছাইদুজ্জামান ভূঞা, মহাব্যবস্থাপক (হিসাব ও অর্থ) প্রদীপ কুমার সাহা, আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু তাহের মোহাম্মদ আহমেদুর রহমান এবং উপমহাব্যবস্থাপক শরিকুল আনামসহ উপস্থিত ছিলেন তিনটি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফান্ডটির উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংক আর ফান্ডের ট্রাস্টির দায়িত্ব পালন করবে আইসিবি। ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড হবে ক্যাপিটেক অ্যাসেট পরিচালিত চতুর্থ মিউচুয়াল ফান্ড। প্রতিষ্ঠানটি সফলভাবে তিনটি বে-মেয়াদি (Open-end) মিউচুয়াল ফান্ড পরিচালনা করছে। আর এটি তালিকাভুক্ত হলে আকারের দিক থেকে ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড হবে দ্বিতীয় বৃহত্তম মিউচুয়াল ফান্ড।

জানা গেছে, বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে ক্যাপিটেক গ্রামীণ ব্যাংক গ্রোথ ফান্ড হবে একটি বর্ধিষ্ণু ফান্ড (Growth Fund)। এই ফান্ডের প্রধান উদ্দেশ্য হলো ক্যাপিটাল গেইন ও নগদ লভ্যাংশের সমন্বিত আয়ের উপর ভিত্তি করে ঝুঁকি সামঞ্জস্যপূর্ণ আয় করা এবং পুঁজিবাজার ও মুদ্রাবাজারে অনুমোদিত উপকরণগুলোতে বিনিয়োগ করে ফান্ডের ইউনিটহোল্ডারদের ভালো লভ্যাংশ প্রদান করা।