গ্যাস সংকট, অতিরিক্ত জমা ও পুলিশের হয়রানি কমানোর দাবিতে চট্টগ্রামে সিএনজি শ্রমিকদের বিক্ষোভ

তীব্র গ্যাস সংকট, সিএনজি মালিকদের অতিরিক্ত দৈনিক জমা কমানো এবং ট্রাফিক পুলিশের হয়রানি বন্ধের দাবিতে চট্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন সিএনজি অটোরিকশা ও অটোটেম্পু শ্রমিকরা।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নগরের চান্দগাঁও থানা এলাকার বহদ্দারহাট পুলিশ বক্সের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন (সিএনজি অটোরিকশা ও অটোটেম্পু শাখা) চট্টগ্রামের উদ্যোগে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে সংগঠনটির সভাপতি বশির আহমেদের উপস্থিতিতে প্রায় ১৫০ থেকে ১৬০ জন শ্রমিক অংশ নেন।

বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে বহদ্দারহাট পুলিশ বক্সের সামনে থেকে একটি মিছিল বের হয়ে চকবাজার থানা এলাকার বাদুরতলা সিএনজি স্ট্যান্ডে গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। শ্রমিকদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সিএনজি মালিকদের দৈনিক জমা ৯০০ টাকার বেশি না নেওয়া, ট্রাফিক পুলিশের মামলার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বা দ্বিগুণ জরিমানা বন্ধ করা, পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত নো-পার্কিং-প্রতিবন্ধকতা মামলা ও অপ্রয়োজনে গাড়ি টোয়িং করা বন্ধ করা, ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃক দেওয়া মামলার বিচার আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা, ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত শিথিল করে ফিল্ড টেস্টের মাধ্যমে লাইসেন্স প্রদান এবং ডোপ টেস্টের নামে অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধ করা।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, বর্তমানে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস সংগ্রহ করতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে গাড়ি প্রতি গ্যাস নিতে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় অপচয় হয়। এর ফলে চালকদের দৈনিক আয় মারাত্মকভাবে কমে গেলেও মালিকদের নির্ধারিত জমা পরিশোধের চাপ ঠিকই থেকে যাচ্ছে।

শ্রমিক নেতারা বলেন, মালিকদের নির্ধারিত জমা পরিশোধ করার পর দিনশেষে অনেক চালক ও শ্রমিক পর্যাপ্ত আয় ছাড়াই শূন্যহাতে বাড়ি ফিরছেন। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সিএনজি মালিকদের দৈনিক জমা সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী অনতিবিলম্বে ৯০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার জোর দাবি জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, এটি তাদের বেঁচে থাকার লড়াই। অবিলম্বে উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে।

এদিকে, বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে বহদ্দারহাট ও আশপাশের এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।




দু’একদিনের মধ্যে গ্যাসের সংকট কমবে, আশা প্রতিমন্ত্রীর

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু আশা প্রকাশ করে বলেছেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের গ্যাস-সংকট আগামী দু’একদিনের মধ্যে কমে যাবে।

রোববার (২১ জানুয়ারি) সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মহেশখালীর এলএনজি এফএসআরইউয়ের কারিগরি ত্রুটির কারণে সরবরাহ না থাকায় শুক্রবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল থেকে চট্টগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট শুরু হয়। তবে ওইদিন রাত থেকে পাইপলাইনে সরবরাহ শুরু হওয়ার পর থেকে গ্রাহকরা গ্যাস পেতে থাকেন। শনিবার (২০ জানুয়ারি) সকাল
অন্যদিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে শনিবার ৭০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শীতের সময় গ্যাসের সংকট এমনিতেও থাকে। দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ গ্রাহক এলপিজি ব্যবহার করেন। বাসা-বাড়িতে চুলায় গ্যাসের সংযোগ খুব অল্প। চুলায় গ্যাস ব্যবহার করে ঢাকা এবং এর আশেপাশের কিছু অংশ, ময়মনসিংহ এবং চট্টগ্রামের কিছু অংশের মানুষ। বিস্তীর্ণ এলাকায় আমরা প্রায় সাড়ে সাত লাখ গ্যাসের অবৈধ লাইন উচ্ছেদ করেছি। তারপরও আবার নতুন করে অবৈধ লাইন চালু হচ্ছে। এ কারণে একটা বিরাট এলাকায় গ্যাস প্রাপ্তিতে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

সব গ্রাহকদের মিটারের মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, এরই মধ্যে সাড়ে চার লাখ গ্যাস মিটার লাগানো হয়ে গেছে। আমাদের টার্গেট হচ্ছে আগামী তিন বছরের মাথায় সব জায়গায় গ্যাসের মিটার চালু করা। আমরা বহুদিন ধরে চেষ্টা করছিলাম গ্যাস মিটার স্থাপন করতে। কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থের জন্য সেটি করতে দেরি হয়েছে। সে সমস্যার সমাধান হয়েছে। আমাদেরকে বিশ্বব্যাংক, এডিবি এবং জাপানের একটি প্রতিষ্ঠান ফাইন্যান্স করছে। এরই মধ্যে জালালাবাদে ৫০ হাজার মিটার, কর্ণফুলীতে আড়াই লাখ মিটার এবং ঢাকায় সাড়ে ৪ লাখ মিটার লাগানোর কাজ চলছে। আমরা চাইছি এলপিজির পরিধিটা আরও বাড়াতে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এলপিজি এখন বাসা-বাড়ি এবং গাড়িতেও ব্যবহার হচ্ছে। অনেকে এর দাম কম-বেশি নিয়ে কথা বলেন। আমরা একটা মানদণ্ড ধরে দাম নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছি। বিশ্ববাজারে এলপিজির দামের ওপর ভিত্তি করে দেশীয় বাজারে দাম নির্ধারণ করা হয়। এখন বিশ্ববাজারে দাম কিছুটা কম বলেই বাজারে কিছুটা কম দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে। আমি সবাইকে আবারও অনুরোধ করব, আপনারা ধৈর্য ধরুন। আমরা শিগগিরই বাসা বাড়িতে মিটার লাগিয়ে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সংযোগের চেষ্টা করছি।

কতদিনে এ সংকট সমাধান হবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করছি আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এ সংকটের সমাধান হবে। এটা আমাদের অনেক আগের একটা পরিকল্পনা। আমাদের প্রায় ২০ লাখ মিটার বসাতে হবে। প্রায় ৫ থেকে ৭ বছর আগে জাইকা আমাদের এ প্রকল্পে ফান্ড দিয়েছিল। এখন নতুন করে অর্থের সম্ভাবনা পাওয়ায় আমরা আবার কাজ শুরু করেছি।

শীতকালেও লোডশেডিং কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে গ্যাসের ডিমান্ড প্রায় ৩৮০০ এমএমসিএফডি। আমরা এখন সরবরাহ করতে পারি ৩২০০ এমএমসিএফডি গ্যাস। এখানে আমাদের শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ-এর ক্ষেত্রে একটা গ্যাপ থেকে যাচ্ছে। বেশ কিছুদিন গ্যাস না থাকায় পাওয়ার প্লান্ট কিছুটা বন্ধ রাখতে হয়েছে। এ কারণে আমাদের কিছুটা সমস্যা হয়েছে। আশা করছি আজ-কালের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।