ফকিরাপুলে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের দগ্ধ ৩

রাজধানীর ফকিরাপুলে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে নারীসহ একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২০ এপ্রিল) বেলা পৌনে ১২টার দিকে গরম পানির গলির একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

পরে তাদের দগ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসা হয়।

দগ্ধরা হলেন- কুলসুম আক্তার (২৫), রিয়াজ হোসেন (২১), কামরুন্নেসা রোজিনা (৪৫)। তাদের সবার বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রায়পুরা উপজেলায়। বর্তমানে ফকিরাপুল এলাকায় ভাড়া থাকতেন।

আহতদের হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী ইব্রাহিম খলিল বলেন, আজ দুপুরের দিকে রান্না করার সময় বিস্ফোরণে আহত হন তারা। পরে আমরা প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসি। বর্তমানে জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা চলছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, আজ দুপুরের দিকে ফকিরাপুল থেকে দগ্ধ অবস্থায় নারীসহ তিনজনকে বার্ন ইউনিটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তাদের চিকিৎসা চলছে। দগ্ধের পরিমাণ পরে জানাবে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরত চিকিৎসক। আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানিয়েছি।




রাজধানীতে রাস্তা খুঁড়তে গিয়ে ওয়াসার ৫ শ্রমিক দগ্ধ

রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট নামপাড়ায় রাস্তা খুঁড়তে গিয়ে গ্যাস লিকেজ থেকে আগুনে ওয়াসার ৫ শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। আহতদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। দগ্ধ শ্রমিকদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধরা হলেন সিয়াম (২০), মেহেদী (২৩), জুয়েল (২১), মুমিন (২২) ও দেলোয়ার (২৪)। ঘটনার ভয়াবহতা উপলব্ধি না করে গ্যাস লাইটার জ্বালানোর ফলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দগ্ধ ৫ শ্রমিককে হাসপাতালে নেওয়া সুপারভাইজার আনিসুর রহমান বলেন, ‘ঠিকাদারের মাধ্যমে ওয়াসার কাজ করেন তারা। সকালে ক্যান্টনমেন্ট নামাপাড়া এলাকায় রাস্তা খুঁড়ে ওয়াসার কাজ করছিলেন। সে সময় সেখানে তিতাসের গ্যাস লাইন থেকে গ্যাস বের হতে থাকে। তখন এই পাঁচজনের মধ্যে একজন গ্যাস লাইটার দিয়ে সেখানে আগুন ধরাতেই একটি বিস্ফোরণ হয়। এতে তাদের সবার শরীরই কম-বেশি ঝলসে যায়। এরপর উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক তাদেরকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়।

বার্ন ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. বাচ্চু মিয়া জানান, দগ্ধ হওয়া পাঁচজনকে ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় অবহিত করা হয়েছে।




গ্যাস লিকেজ নাকি সেফটিক ট্যাংক থেকে বিস্ফোরণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে

রাজধানীর সিদ্দিকবাজারে সাততলা ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনায় সেখানে সেফটিক ট্যাংক কিংবা গ্যাস লিকেজ ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সেসব বিষয় তদন্ত করছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক।

বুধবার (৮ মার্চ) ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, এরই মধ্যে আমরা বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। ঢাকা শহরের সুয়ারেজ ও গ্যাস লাইন এবং অনেক পুরাতন বিল্ডিং রয়েছে; এগুলোর কী অবস্থা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। পুলিশের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে সিটি করপোরেশনকে অনুরোধ জানানো হবে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিসের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে দ্রুত একটি ওয়ার্কশপ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তারা স্যুয়ারেজ লাইন কিংবা গ্যাসের লাইন কোথায় বিপজ্জনক অবস্থায় আছে সেসব স্থান পরিদর্শন করবে। যাতে করে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

মঙ্গলবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে সিদ্দিকবাজারের নর্থ সাউথ রোডের সাততলা ভবনটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত ১৮ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ জনের মরদেহ স্বজনদের হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে তাৎক্ষণিক ৫০ হাজার টাকা ও গুরুতর আহতদের ২৫ হাজার টাকা এবং বাকিদের চিকিৎসার জন্য প্রাথমিকভাবে ১৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।