গাজীপুরে চার কারখানায় শ্রমিকদের কর্মবিরতি, ১৩ কারখানায় ছুটি

গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীতে বিভিন্ন দাবিতে চারটি কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছেন।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) সকাল থেকে তাদেরকে এই কর্মবিরতি পালন করতে দেখা যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন কারণে জেলার ১৩টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীতে ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের পুনর্বহালের দাবিতে দুটি পোশাক কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক কর্মবিরতি পালন করছেন। মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে কোনাবাড়ীতে অবস্থিত এম. এম নীটওয়্যার লিমিটেড ও মামুন নীটওয়্যার লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলেও শ্রমিকরা কারখানার ভেতরে অবস্থান নেন।

জানা যায়, এম. এম নীটওয়্যার লিমিটেড ও মামুন নীটওয়্যার লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা গত ৩ নভেম্বর বিভিন্ন দাবি জানিয়ে কাজ বন্ধ করে আন্দোলন শুরু করেন। কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের কিছু দাবি মেনে নিলেও আরও কিছু দাবি উত্থাপন করে কাজে যোগদান থেকে বিরত থাকেন তারা। পরে কর্তৃপক্ষ কারখানার নিরাপত্তার স্বার্থে গত ৪ নভেম্বর থেকে শ্রম আইন ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা মোতাবেক কারখানার সকল কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কর্তৃপক্ষ গত ৯ নভেম্বর কারখানা পুনরায় চালু করে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে শ্রম আইনের বিধান অনুযায়ী এম. এম নীটওয়্যার লি. থেকে ৬৮ জন এবং মামুন নীটওয়্যার লি. থেকে ৪৫ জন শ্রমিককে টার্মিনেশন বা অব্যাহতি প্রদান করে। অন্য শ্রমিকরা স্বাভাবিকভাবে উৎপাদন কাজে যোগ দেন। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে তারা ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের পুনর্বহালের দাবিতে কাজ বন্ধ করে ভেতরে বসে থাকেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শ্রমিক বলেন, এর আগে মালিক বলেছিল কোনো শ্রমিক ছাঁটাই করা হবে না। কিন্তু এতগুলো শ্রমিক কেন ছাঁটাই করা হলো এর প্রতিবাদেই আমরা কাজ বন্ধ করে বসে আছি।

এ বিষয়ে এম. এম নীটওয়্যার লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, যেসব শ্রমিকদের টার্মিনেশন বা অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তাদের পাওনাদি শ্রম আইন অনুযায়ী পরিশোধ করা হয়েছে। তারপরও আজকে কিছু শ্রমিক কাজ বন্ধ করে বসে আসেন।

তিনি আরও বলেন, যে অবস্থা তাতে কারখানা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নাই।

অপরদিকে, মহানগরীর কোনাবাড়ী জরুন এলাকায় স্বাধীন গার্মেন্টসের শ্রমিকরা গত এক মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে তিন দিন ধরে বিক্ষোভ করছেন। শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে কারখানার মূল ফটকের সামনে অবস্থান করছেন।

এ ছাড়াও, কোনাবাড়ী বাইমাইল এলাকায় কাশেম ল্যাম্পস কারখানার শ্রমিকরা হাজিরা বোনাস, টিফিন বিল ও নাইট বিলসহ ১০ দফা দাবি আদায়ে গত দুই দিন ধরে বিক্ষোভ করছেন।

গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মো. সারোয়ার আলম বলেন, কোনাবাড়ীতে এম.এম নীটওয়্যার লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা ছাঁটাইকৃত শ্রমিকদের পুনর্বহালের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন। কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলছেন, যেন তারা কাজে যোগ দেয়।

তিনি আরও বলেন, আজও বিভিন্ন কারণে গাজীপুরে প্রায় ১৩টি কারখানা বন্ধ রয়েছে।




গাজীপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ, চন্দ্রা-নবীনগর সড়ক অবরোধ

হাজিরা বোনাস, টিফিন বিল ও বাৎসরিক ছুটির টাকার দাবিতে গাজীপুর মহানগরীর জিরানী এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন একটি পোশাক তৈরি কারখানার শ্রমিকরা। শনিবার (৫ অক্টোবর) সকালে শ্রমিকরা চন্দ্রা-নবীনগর সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এতে ওই সড়কের উভয় দিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ভোগে পড়েন ওই সড়কে চলাচলকারীরা।

অপরদিকে জেলার আর কোথাও শ্রমিক অসন্তোষের খবর পাওয়া যায়নি। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে সকাল থেকে সপ্তাহের প্রথম দিনে শ্রমিকেরা কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। শিল্প কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে। তবে জেলার ৮টি পোশাক কারখানা এখনো বন্ধ রয়েছে।

কারখানার শ্রমিক ও শিল্প পুলিশ জানায়, গাজীপুর মহানগরীর জিরানী এলাকার আইরিশ ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা সকালে কারখানায় কাজে এসে প্রধান ফটকে জড়ো হন। পরে শ্রমিকরা হাজিরা বোনাস, টিফিন বিল ও বাৎসরিক ছুটির টাকার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে সকাল ৯টার দিকে কারখানার পাশের চন্দ্রা-নবীনগর সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এতে ওই সড়কের উভয় দিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সড়কটি বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন ওই সড়কে চলাচলকারীরা। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

শিল্প পুলিশ জানায়, গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া, ইটাহাটা, কোনাবাড়ি ও কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকার শিল্প কারখানার শ্রমিকরা দল বেধে সকালে কারখানার কাজে যোগ দিয়েছেন। এ সময় বিভিন্ন কারখানার সামনে নিরপত্তা ব্যবস্থা নিতে দেখা গেছে। দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত জেলার আর কোথাও শ্রমিক অসন্তোষের খবর পাওয়া যায়নি। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কেও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

মহানগরীর ইটাহাটা দিগন্ত সোয়েটার কারখানার শ্রমিক সেলিনা আক্তার বলেন, তাদের কারখানায় এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি। তবে আশপাশের কারখানায় যখন ঝামেলা হয়েছিল তখন তাদের কারখানাও ছুটি ঘোষণা করা হয়। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পরিদর্শক আবু তালেব জানান, জিরানী এলাকার একটি কারখানা ছাড়া জেলায় আর কোথাও শ্রমিক অসন্তোষের খবর পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন কারণে জেলার ৮টি কারখানা আজও বন্ধ আছে। শিল্প কারখানার সার্বিক নিরাপত্তায় কাজ করছে শিল্প পুলিশ। সেনাবাহিনী ও বিজিবির টহল অব্যাহত আছে।




ঢাকার বাইরেও বসছে তিতাসের প্রিপেইড মিটার

ঢাকার বাইরের গ্রাহকদেরও প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনছে তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানি। প্রথম পর্যায়ে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে বসানো হবে ১১ লাখ প্রিপেইড মিটার। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় তিন হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে তিতাস কোম্পানি এই মিটার বসানোর কাজ শুরু করবে শিগগিরই। এরপর অন্যান্য জেলায়ও প্রিপেইড মিটার বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। তিতাসের সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

তিতাস সূত্র বলছে, প্রিপেইড মিটারের সুবিধা হলো, গ্রাহকরা বিল দিয়ে পরে গ্যাস ব্যবহার করে। এতে বিল বকেয়া থাকার সুযোগ নেই। এছাড়া প্রিপেইড মিটার বসানোর জন্য তিতাসের ওপরের সরকারের নির্দেশনা রয়েছে।

জানা গেছে, প্রথমে সীমিত পরিসরে রাজধানীতে প্রিপেইড মিটার বসানোর কাজ করে তিতাস। তবে গ্রাহকের চাহিদা থাকলেও পর্যাপ্ত মিটার দিতে পারছিল না কোম্পানিটি। বরং কোনও কোনও এলাকা থেকে ১০ বছরের পুরনো মিটার খুলে আনছে সংস্থাটি। এতে ওই সব এলাকায় আবারও আগের মতো মাস শেষে বিল নিচ্ছে তিতাস।

এ অবস্থায় ঢাকার বাইরের গ্রাহকদেরও প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে তিতাস কোম্পানি। সম্প্রতি বিদ্যুৎ জ্বালানি খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে তিতাসের উন্নয়ন কার্যক্রমের বিষয়ে একটি বৈঠক হয়েছে। সেখানে ঢাকার বাইরের গ্রাহকদেরও প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানানো হয়।

জ্বালানি বিভাগের একজন কর্মকর্তা না প্রকাশ না করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানির ২৭ লাখ ৮৩ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এরমধ্যে ২৭ লাখ ৬৪ হাজার গ্রাহক বাসাবাড়ির।’ জাপানের উন্নয়ন সংস্থা জাইকার অর্থায়নে ভিন্ন একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৭ সালে ঢাকার কিছু এলাকায় প্রিপেইড মিটার বসায় তিতাস বলে জানান তিনি।

তিতাস বলছে, এ ছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ঢাকা (দক্ষিণ) এবং নারায়ণগঞ্জের জন্য আরও সাড়ে ছয় লাখ মিটার বসানো হবে। এই প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে এডিবির সঙ্গে তিতাস আলোচনা করছে। প্রকল্পটি জ্বালানি বিভাগের যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে।

এছাড়া আরও তিন লাখ ২০ হাজার গ্রাহকের আঙিনায় প্রিপেইড মিটার বসানোর জন্য জাইকার অর্থায়নে একটি প্রকল্পের কাজ চলমান আছে।

এই তিনটি প্রকল্প শেষ হলে আর কতজন প্রিপেইড মিটারের আওতার বাইরে থাকবে, তা যাচাই করে আরেকটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, যেন সব গ্রাহক এর আওতায় আসে।

তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুনুর রশিদ মোল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা প্রিপেইড মিটারের বিষয়টি গ্রাহককে উন্মুক্ত করে দিয়েছিলাম। গ্রাহক চাইলে নিজেই প্রিপেইড মিটার কিনে এনে আমাদের লোকদের দিয়ে বসাতে পারতেন। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় কেউ মিটার কিনতে চায় না। এ কারণে আমরা বিনা পয়সায় গ্রাহককে মিটার সংযোজন করে দিচ্ছি।’ পর্যায়ক্রমে তিতাসের সব গ্রাহক প্রিপেইড মিটারের আওতায় আসবে বলে জানান তিনি।




ভূমিকম্পে কাঁপলো ঢাকা

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা। রোববার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে এ কম্পন অনুভূত হয়। সার্চ ইঞ্জিন গুগলের তথ্য বলছে, রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল চার দশমিক ২।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে। এ কম্পনের ফলে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ইউরো-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজকি সেন্টার জানিয়েছে, কম্পনটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৫ কিলোমিটার গভীরে।

এর আগে গত ১৪ আগস্ট রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে রাজধানীসহ সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫.৫।