জানুয়ারিতে বিদেশে ক্রেডিট কার্ডে ব্যয় কমেছে

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিদেশে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের ব্যয় কমেছে ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এ সময়ে বিদেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে মোট ব্যয় হয়েছে ৪৬৩ কোটি টাকা, যা আগের মাস ডিসেম্বরের তুলনায় কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ‘অ্যান ওভারভিউ অব কার্ড ইউজেজ প্যাটার্নস উইদিন অ্যান্ড আউটসাইড বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বিদেশে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের ব্যয় ছিল ৪৯১ কোটি ২০ লাখ টাকা।

দেশভিত্তিক ব্যয়ের তালিকায় জানুয়ারিতে শীর্ষে রয়েছে থাইল্যান্ড। ওই দেশে বাংলাদেশিরা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ব্যয় করেছেন ৬৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ডিসেম্বর মাসে থাইল্যান্ডে এই ব্যয় ছিল ৬৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

ব্যয়ের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে জানুয়ারিতে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ড ব্যয় হয়েছে ৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ডিসেম্বর মাসে দেশটিতে এই ব্যয় ছিল ৬৮ কোটি ২০ লাখ টাকা।

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। জানুয়ারিতে দেশটিতে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে ৩৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা ডিসেম্বরের ৪৪ কোটি ৪০ লাখ টাকার তুলনায় কম।

এদিকে, সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ড ব্যয় সামান্য বেড়ে ৩৮ কোটি ৩০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে ভারতে এই ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ডিসেম্বর মাসে ভারতে ক্রেডিট কার্ড ব্যয় ছিল ৩৫ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা জানুয়ারিতে কমে ২৮ কোটি ৫০ লাখ টাকায় নেমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ড ব্যয়ের শীর্ষ গন্তব্য ছিল ভারত। তবে ভিসা সংক্রান্ত কড়াকড়ির কারণে ভারতে যাতায়াত কমে যাওয়ায় এখন অন্যান্য দেশে ব্যয় বাড়ছে।

প্রতিবেদনে বিদেশে ডেবিট কার্ড ব্যবহারের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, জানুয়ারিতে বিদেশে ডেবিট কার্ড ব্যবহারে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাজ্য, যেখানে ব্যয় হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে ৩৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা, চীনে ৩৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং ভারতে ২৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন বাংলাদেশিরা।




ঘরে বসেই রিচার্জ করা যাবে মেট্রোরেল কার্ড

ঢাকার জনপ্রিয় গণপরিবহন মেট্রোরেলের স্থায়ী কার্ড রিচার্জ সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। এখন থেকে কার্ড রিচার্জে স্টেশনে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হবে না। ঘরে বসেই ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, নগদ, রকেটসহ সব ধরনের অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কার্ডে টাকা ভরা যাবে। আগামী ২৫ নভেম্বর থেকে এ সেবা চালু হবে।

তবে শুরুতে ডিটিসিএর ওয়েবসাইটে থাকা লিংকে গিয়ে কার্ড রিচার্জ করতে হবে। এর মধ্যে আগামী মাসে একটি অ্যাপ চালু করবে ডিটিসিএ। তখন অ্যাপের মাধ্যমে টাকা রিচার্জ করা যাবে।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) ডিটিসিএর ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এসব তথ্য জানানো হয়। ওই পোস্টে বলা হয়, আগামী ২৫ নভেম্বর থেকে র‍্যাপিড পাস অনলাইন রিচার্জ চালু হবে। ওই দিন থেকে ঘরে বসেই সহজে, নিরাপদে এবং দ্রুত র‍্যাপিড পাস বা এমআরটি পাস কার্ড রিচার্জ করা যাবে। এতে স্টেশন কাউন্টারে লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা নেই। এখন থেকে মোবাইল বা কম্পিউটারেই কয়েকটি ক্লিকের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অনলাইনে রিচার্জ করা যাবে।

ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। তাদের নিজস্ব স্থায়ী কার্ডের নাম এমআরটি পাস। অন্যদিকে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সরবরাহ করা স্থায়ী কার্ডের নাম র‍্যাপিড পাস। এটি মেট্রোরেল ছাড়াও বাস, ট্রেনসহ অন্যান্য গণপরিবহনে ব্যবহার করার কথা।

স্থায়ী কার্ডের লেনদেন নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্র নিকাশ ঘর (ক্লিয়ারিং হাউজ) ডিটিসিএর অধীন। ঘরে বসে র‍্যাপিড ও এমআরটি পাস রিচার্জ করার কাজে সহায়তা করছে ডেটাসফট নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

ডিটিসিএ সূত্র জানায়, বর্তমানে মেট্রোরেলে দুই ধরনের স্থায়ী কার্ড ব্যবহৃত হচ্ছে—র‍্যাপিড ও এমআরটি পাস। নতুন ব্যবস্থায় দুই ধরনের কার্ডই অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ইচ্ছামতো রিচার্জ করা যাবে। তবে টাকা রিচার্জের পর গ্রাহককে তার স্থায়ী কার্ডটি একবার অন্তত স্টেশনে থাকা বিশেষ যন্ত্রে স্পর্শ করিয়ে হালনাগাদ করে নিতে হবে, যা অ্যাড ভ্যালু মেশিন (এভিএম) নামে পরিচিত।

এর মধ্যে ঘরে বসে মেট্রোরেলের স্থায়ী কার্ড রিচার্জ করার কয়েকটি ধাপ রয়েছে। ডিটিসিএর তৈরি করা এ ব্যবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, প্রথমে ডিটিসএর ওয়েবসাইট বা মুঠোফোন অ্যাপে নিবন্ধন করে লগইন করতে হবে। রিচার্জ অপশনে ক্লিক করে র‍্যাপিড পাস নাকি এমআরটি পাস রিচার্জ করা হবে, তা নির্বাচন করতে হবে। এরপর ব্যাংকের কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পেমেন্ট মাধ্যম নির্বাচন করে টাকা ভরতে হবে। টাকা পরিশোধ সফল হলে স্টেশনে থাকা যন্ত্রে কার্ডটি স্পর্শ করে রিচার্জ সম্পন্ন করতে হবে।

ডিটিসিএ সূত্র জানিয়েছে, গত সোমবার মেট্রোরেলের স্টেশনগুলোতে এভিএম যন্ত্র বসানোর প্রস্তুতি শুরু হয়। প্রতিটি স্টেশনের দুটি প্রশস্ত স্থানে এ যন্ত্র বসানো হবে। ২১ ও ২২ নভেম্বর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ১৬টি স্টেশনে ৩২টি এভিএম যন্ত্র বসানো হবে।

ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, বর্তমানে মেট্রোরেলের ৫৫ শতাংশ যাত্রী র‍্যাপিড বা এমআরটি কার্ডে যাতায়াত করেন। বাকি ৪৫ শতাংশ যাত্রী ব্যবহার করেন একক যাত্রার কার্ড।




ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন কমেছে

দেশের অভ্যন্তরে এবং বিদেশে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার কমে গেছে। গত জানুয়ারি মাসের তুলনায় পরের মাস ফেব্রুয়ারিতে দেশের অভ্যন্তরে ক্রেডিট কার্ডে খরচ কমেছে পাঁচ শতাংশ। একইভাবে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি ক্রেডিট কার্ডে খরচ কমেছে প্রায় ১৬ শতাংশ। তবে খরচ বেড়েছে বাংলাদেশে আসা বিদেশিদের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় মাস ফেব্রুয়ারিতে দেশের অভ্যন্তরে ক্রেডিট কার্ডে খরচ হয়েছে ২৯৭ কোটি টাকা। জানুয়ারিতে খরচের পরিমাণ ছিল ৩১৩ কোটি টাকা। সেই হিসাবে জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে দেশের অভ্যন্তরে ক্রেডিট কার্ডে খরচ ১৬ কোটি টাকা কমে গেছে। আর শতকরা হিসাবে প্রায় ৫ শতাংশের বেশি।

আলোচিত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে বিদেশে খরচ করা হয়েছে ৩৮৪ কোটি টাকা। যা তার আগের মাস জানুয়ারিতে এর পরিমাণ ছিল ৪৪৬ কোটি টাকা। সে হিসাবে জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে বিদেশে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ডে খরচ কমেছে ৬২ কোটি টাকা। যা শতকরা হিসাবে প্রায় ১৬ শতাংশের বেশি।

আলোচিত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে বসবাসকারী বা ভ্রমণে আসা বিদেশিদের ক্রেডিট কার্ডে খরচ বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে বাংলাদেশে অবস্থানকারী বিদেশিরা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে খরচ করেছিলেন ২৫৩ কোটি টাকা। পরের মাস ফেব্রুয়ারিতে তাদের খরচের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬৮ কোটি টাকায়। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে বিদেশিদের বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে খরচ বেড়েছে ১৫ কোটি টাকা।

দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারেও পরিবর্তন এসেছে। দেশের বাইরে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। একইভাবে বাংলাদেশে অবস্থানকারী বিদেশিদের মধ্যে ক্রেডিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ করছেন যুক্তরাষ্ট্রের কার্ডধারী নাগরিকরা। চলতি বছরের দ্বিতীয় মাস ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডে বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ ৫২ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। অর্থাৎ দেশে ও বিদেশে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কার্ডধারীদের।
জাগোনিউজের খবর পেতে ফলো করুন

এর আগে বাংলাদেশিরা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ করতেন ভারতে। গত ফেব্রুয়ারিতে ভারতে বাংলাদেশি ক্রেডিট কার্ডে খরচ হয়েছে ২৯ কোটি টাকা। আর জানুয়ারিতে ছিল প্রায় ৩৩ কোটি টাকা। আলোচিত ফেব্রুয়ারিতে দেশের বাইরে বাংলাদেশি ক্রেডিট কার্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবহার ছিল থাইল্যান্ডে। ফেব্রুয়ারিতে দেশটিতে খরচ হয়েছে ৪৭ কোটি টাকা। সেখানে জানুয়ারিতে খরচের পরিমাণ ছিল ৬৪ কোটি টাকা। ফেব্রুয়াতিতে সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে খরচ করা হয়েছে ৩৯ কোটি টাকা। জানুয়ারিতে দেশটিতে খরচ হয়েছিল ৩৮ কোটি টাকা।




ক্রেডিট কার্ডে দেশ-বিদেশে লেনদেন কমেছে

গত বছরের নভেম্বর মাসে দেশে ও বিদেশে ক্রেডিট কার্ডে বাংলাদেশিদের লেনদেন কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, নভেম্বরে দেশের বাইরে ক্রেডিট কার্ডে খরচ হয়েছে ৪৩১ কোটি টাকা, যা অক্টোবরে ছিল ৪৯৯ কোটি টাকা।

 

আর দেশের অভ্যন্তরে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা, অক্টোবরে যার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। ফলে এক মাসের ব্যবধানে দেশের মধ্যে লেনদেন কমেছে ৭৩ কোটি এবং দেশের বাইরে ৬৮কোটি টাকা।

প্রতিবেশী ভারত থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই), অস্ট্রেলিয়া ও আয়ারল্যান্ডে খরচ কমে যাওয়ায় সার্বিকভাবে মে মাসে বিদেশে বাংলাদেশি ক্রেডিট কার্ডে খরচ কমেছে।

 

নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন কমলেও ব্যয়ের শীর্ষ তালিকায় রয়েছে দেশটি।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বর মাসে বাংলাদেশি ক্রেডিট কার্ডধারীরা খরচ করেন ৬৮ কোটি টাকা। এর আগের মাস অক্টোবরে দেশটিতে খরচ হয়েছিল ৮৪ কোটি টাকা। এক মাসের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ডে খরচ কমেছে ১৬ কোটি টাকা।

দেশের ক্রেডিট কার্ড ইস্যুকারী ৪৪টি ব্যাংক ও ১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক পরিসংখ্যান বিভাগ। মাস ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রতিবেদনটিতে দেশের ভেতর এবং বাইরের বাংলাদেশি নাগরিকদের এবং দেশের ভেতরে বিদেশি নাগরিকদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের তথ্য তুলে ধরে থাকে।

প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, মে মাসে বাংলাদেশি ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে ভারতে ও আরব আমিরাতে। ভারতে অক্টোবরের চেয়ে নভেম্বরে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার কমেছে ৬ কোটি টাকা। অক্টোবরে ভারতে বাংলাদেশিরা ক্রেডিট কার্ডে খরচ করেছিলেন ৫৪ কোটি টাকা, যা নভেম্বর মাসে কমে ৪৭ কোটি টাকায় নেমে আসে।

একই সময়ে আরব আমিরাতে বাংলাদেশি ক্রেডিট কার্ডে খরচ কমেছে ৪ কোটি টাকা। অক্টোবরে আমিরাতে যেখানে বাংলাদেশিরা ক্রেডিট কার্ডে খরচ করেছিলেন ২০ কোটি টাকা, সেখানে নভেম্বর মাসে তা কমে হয় ১৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় অক্টোবরের তুলনায় নভেম্বর মাসে ২ কোটি টাকা এবং আয়ারল্যান্ডে এক কোটি টাকা কম খরচ করেন এ দেশের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীরা।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতের ভিসা অনেকে পাচ্ছেন না। আবার অনেকে এই অস্থিরতার মধ্যে যেতে চাচ্ছে না। এজন্য ভারতে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ডে ব্যবহার কমেছে। এছাড়া অন্যান্য কিছু দেশে অক্টোবরের তুলনায় নভেম্বরে বাংলাদেশিরা কম ভ্রমণ করেছেন। এ কারণে সেসব দেশে ক্রেডিট কার্ডে খরচ কমেছে।

বিদেশের পাশাপাশি দেশেও ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার কমেছে। অক্টোবরে দেশের অভ্যন্তরে ক্রেডিট কার্ডে এ দেশের নাগরিকরা খরচ করেন ২ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা, যা নভেম্বর মাসে কমে হয় ২ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক মাসে দেশের ভেতরে ক্রেডিট কার্ডে খরচ কমেছে ৭৩ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরে মোটাদাগে ১১টি খাতে ক্রেডিট কার্ড বেশি ব্যবহৃত হয়। এসব খাতের মধ্যে রয়েছে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, খুচরা কেনাকাটা, বিভিন্ন পরিষেবার বিল প্রদান, নগদ উত্তোলন, ওষুধ ও ফার্মেসি, পোশাক কেনাকাটা, অর্থ স্থানান্তর, পরিবহণ খাতে ব্যয়, বিভিন্ন ব্যবসায়িক ও পেশাদারি সেবা এবং সরকারি সেবার বিল প্রদানে। এসব খাতের মধ্যে শুধু নগদ উত্তোলনা ছাড়া নভেম্বর মাসে অন্য সব খাতে কম খরচ করেছেন ক্রেডিট কার্ডধারীরা।

নভেম্বরে দেশের মধ্যে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে খরচ হয়েছে ১ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। এর আগের মাস অক্টোবরে এখাতে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে খরচ হয়েছিল ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এছাড়া অন্যান্য খাতগুলোর মধ্যে নভেম্বরে খুচরা কেনাকাটায় ৪০৬ কোটি টাকা, বিভিন্ন পরিষেবার বিল প্রদানে ২৪৬ কোটি টাকা, নগদ উত্তোলন ১৯৬ কোটি টাকা, ওষুধ ও ফার্মেসিতে ১৬৪ কোটি টাকা, পোশাক কেনাকাটায় ১৪৮ কোটি টাকা, অর্থ স্থানান্তরে ৭৬ কোটি টাকা, পরিবহণ খাতে ব্যয় ৯৯ কোটি টাকা, বিভিন্ন ব্যবসায়িক ও পেশাদারি সেবা ৭৯ কোটি টাকা এবং সরকারি সেবার বিল প্রদানে ৪৩ কোটি টাকা ক্রেডিট কার্ডে খরচ হয়েছে।

স্থানীয় কার্ডধারীদের পাশাপাশি বাংলাদেশে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকেরাও নভেম্বর মাসে ক্রেডিট কার্ডে কম খরচ করেছেন। এ দেশে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকরা অক্টোবরে খরচ করেন ১২৯ কোটি টাকা। নভেম্বর মাসে তারা খরচ করেছেন ২০২ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে বিদেশি নাগরিকেরা এ দেশে ক্রেডিট কার্ডে ৭৩ কোটি টাকা বা ৩৬ দশমিক ১৩ শতাংশ খরচ বেশি খরচ করেছেন।




বিদেশে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন কমেছে

দেশের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশিরা ক্রেডিট কার্ডে বিভিন্ন সেবা ও পণ্য কিনে গত মে মাসে ৪৫৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা খরচ করেছেন। আর বিদেশিরা বাংলাদেশে এসে ক্রেডিট কার্ডে ১৭০ কোটি টাকা খরচ করেছেন। গত এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে ক্রেডিট কার্ডে ব্যবহার কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ বা ৫০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এপ্রিলে খরচ হয়েছিল ৫০৭ কোটি টাকা।

ক্রেডিট কার্ডে দেশে-বিদেশে লেনদেন সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, বাংলাদেশিরা বিদেশে গিয়ে ক্রেডিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ করেন কয়েকটি দেশে। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুর। বিদেশে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ডে খরচের ৬৫ শতাংশই এ ছয় দেশে হয়ে থাকে।

বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ প্রতি মাসে ভারতে ভ্রমণ ও চিকিৎসার জন্য যান। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশিদের ভ্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এ কারণে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ড সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হচ্ছে ভারতে।

গত মে মাসে প্রতিবেশী দেশটিতে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশিরা ৭৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা খরচ করেছেন, যা মোট খরচের ১৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ভারতে খরচের এ অঙ্ক এপ্রিলে ছিল ৯৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

একইভাবে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র গিয়ে বাংলাদেশিরা খরচ করেছেন ৭৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা বা ১৬ দশমিক ৬২ শতাংশ। এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডে বাংলাদেশিদের খরচ ছিল ৬৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অর্থাৎ এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের খরচ বেড়েছে নয় কোটি ৪০ লাখ টাকা।

থাইল্যান্ড গিয়ে বাংলাদেশিরা ক্রেডিট কার্ডে খরচ করেছেন ৩৮ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং আরব আমিরাত গিয়ে খরচ করেছে ৩৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এছাড়া, যুক্তরাজ্যে ৩৫ কোটি ১০ লাখ, সিঙ্গাপুরে ৩৩ কোটি ৩০ লাখ এবং কানাডায় ২৭ কোটি ২০ লাখ টাকা কার্ডে খরচ করেছেন বাংলাদেশিরা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, একজন বাংলাদেশি নাগরিক বিদেশে গিয়ে প্রতি বছর ১২ হাজার ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে পারেন। এ অর্থ কার্ডের মাধ্যমে খরচ করতে পারেন, আবার বিদেশে যাওয়ার সময় নগদ ডলারও সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারেন। তবে, কার্ডের মাধ্যমে ডলার পেমেন্ট করতে গেলে একবারে সর্বোচ্চ ৩০০ ডলার পর্যন্ত খরচ করার সুযোগ রয়েছে।

কার্ব মার্কেট বা খোলা বাজারে নগদ ডলারের দাম বেশি থাকায় কার্ডের মাধ্যমে ডলার পেমেন্টে গ্রাহকেরা আগ্রহী হচ্ছেন উল্লেখ করে এ কর্মকর্তা বলেন, এখন দেশের কার্ব মার্কেট থেকে নগদ ডলার কিনতে গেলে ১২১ থেকে ১২২ টাকার মতো খরচ করতে হয়। সেখানে অধিকাংশ ব্যাংকেই ১১৮-১১৯ টাকায় ইলেকট্রনিক ডলার কিনে কার্ডের মাধ্যমে খরচ করা যায়। এসব কারণে কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্টে সবাই আগ্রহী হচ্ছেন।




বাংলাদেশিরা ক্রেডিট কার্ডে বেশি খরচ করছে ভারতসহ ৩ দেশে

দেশের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশিরা ক্রেডিট কার্ডে বিভিন্ন পণ্য ও সেবা কিনতে সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ করে কয়েকটি দেশে। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ভারত

যুক্তরাষ্ট্র ও আরব আমিরাত। বিদেশে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ডের মোট খরচের ৪২ দশমিক ৮৩ শতাংশই এ তিনটি দেশে হয়ে থাকে।

 

বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ প্রতি মাসে ভারতে ভ্রমণ ও চিকিৎসার জন্য যান। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে বাংলাদেশিদের ভ্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এ কারণে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ড সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হচ্ছে ভারতে। গত নভেম্বরে প্রতিবেশী দেশটিতে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশিরা ১১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা খরচ করেছেন, যা নভেম্বরে ছিল ৮৭ কোটি টাকা। একইভাবে বাংলাদেশিরা ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ডে খরচ করেছেন ৭৩ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা নভেম্বরে ছিল ৭৩ কোটি ১০ লাখ টাকা। আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আরব আমিরাতে বাংলাদেশিরা ডিসেম্বরে ক্রেডিট কার্ডে খরচ করেছেন ৫৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা নভেম্বরে ছিল ৪১ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারসংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগ ক্রেডিট কার্ড ইস্যুকারী দেশের ৪৩টি ব্যাংক ও ১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। মাসভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করে থাকে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিবেদনটিতে দেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশে বাংলাদেশি নাগরিকদের এবং দেশের ভেতরে বিদেশি নাগরিকদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের তথ্য তুলে ধরা হয়।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশিরা বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে যে অর্থ খরচ করেন, তার তিন গুণের বেশি অর্থ বাংলাদেশিরা খরচ করেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। গত ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ঘুরতে আসা বা বসবাসরত বিদেশিরা ক্রেডিট কার্ডে ১৮৪ কোটি টাকা খরচ করেছেন। একই সময়ে বাংলাদেশিরা বিদেশে গিয়ে ক্রেডিট কার্ডে ৫৭৯ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করেছেন।

 

গত ডিসেম্বরে দেশ-বিদেশে ক্রেডিট কার্ডে খরচের পরিমাণ আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে। তবে কমেছে দেশে বিদেশিদের ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার। যেমন ডিসেম্বরে বিদেশিরা বাংলাদেশে এসে ক্রেডিট কার্ডে খরচ করেন ১৮৪ কোটি টাকা, যা নভেম্বরে ছিল ১৯৪ কোটি টাকায়। অন্যেদেক বাংলাদেশিরা বিদেশে গিয়ে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বাড়িয়েছে। ডিসেম্বরে বিদেশে গিয়ে বাংলাদেশিরা ক্রেডিট কার্ডে খরচ করেছেন ৫৭৯ কোটি টাকা, যা নভেম্বরে ছিল ৪৮৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক মাসে বিদেশে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের খরচ ৯২ কোটি টাকা বা ১৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেড়েছে।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, একজন বাংলাদেশি নাগরিক বিদেশে গিয়ে প্রতি বছর ১২ হাজার ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে পারেন। এ অর্থ কার্ডের মাধ্যমে খরচ করতে পারেন, আবার বিদেশে যাওয়ার সময় নগদ ডলারও সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারেন। তবে কার্ডের মাধ্যমে ডলার পেমেন্ট করতে গেলে একবারে সর্বোচ্চ ৩০০ ডলার পর্যন্ত খরচ করার সুযোগ রয়েছে।

 

কার্ব মার্কেট বা খোলা বাজারে নগদ ডলারের দাম বেশি থাকায় কার্ডের মাধ্যমে ডলার পেমেন্টে গ্রাহকেরা আগ্রহী হচ্ছেন উল্লেখ করে এ কর্মকর্তা বলেন, এখন দেশের কার্ব মার্কেট থেকে নগদ ডলার কিনতে গেলে ১২২ থেকে ১২৪ টাকার মতো খরচ করতে হয়। সেখানে অধিকাংশ ব্যাংকেই ১১৪-১১৫ টাকায় ইলেকট্রনিক ডলার কিনে কার্ডের মাধ্যমে খরচ করা যায়। এসব কারণে কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্টে সবাই আগ্রহী হচ্ছে।

 

দেশে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার

বিদেশের পাশাপাশি দেশেও ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার গত ডিসেম্বরে বেড়েছে। গত ডিসেম্বরে দেশে ক্রেডিট কার্ডে খরচ হয়েছে ২ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। নভেম্বরে খরচ হয়েছিল ২ হাজার ৫৪০ কোটি টাকা সেই হিসেবে এক মাসে দেশের অভ্যন্তরে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে খরচ ১৩৪ কোটি টাকা বেড়েছে।




চার বছরের মধ্যে ব্যাংক কার্ডে সর্বোচ্চ লেনদেন

একটা সময় মানুষ ব্যাংক কার্ড নিতে আগ্রহ দেখাতেন না। তবে এখন ধীরে ধীরে পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়ায় অনেকেই কার্ড ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন। তাই দিন দিন কার্ডের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি লেনদেনও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত জানুয়ারিতে কার্ডের মাধ্যমে ৩৯ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ব্যাংক কার্ডে ১৪ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়। ২০২০ সালের একই সময় হয় ১৭ হাজার ২১ কোটি টাকা। আর ২০২১ সালে ২০ হাজার ৭৭৬ কোটি, ২০২২ সালে ২৭ হাজার ৩৪১ কোটি এবং সর্বশেষ ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ৩৯ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়। অর্থাৎ গত চার বছরে ব্যাংক কার্ডে লেনদেন বেড়েছে ১৭০ শতাংশ। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ব্যাংক কার্ডের লেনদেনের মধ্যে দেশীয় মুদ্রায় ৩৯ হাজার ১৩৭ কোটি এবং বৈদেশিক মুদ্রায় ৬২০ কোটি টাকা লেনদেন হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি শেষে দেশে ডেবিট কার্ডের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে তিন কোটি দুই লাখ ৪৪ হাজার ৯৬। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ব্যাংক খাতে ডেবিট কার্ডের সংখ্যা ছিল এক কোটি ৫২ লাখ ৪৪ হাজার ৩২৮। সেই হিসেবে পাঁচ বছর কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে এক কোটি ৪৯ লাখ ৯৯ হাজার ৭৬৮। একইভাবে জানুয়ারি শেষে ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২১ লাখ ৩৬ হাজার ১৭৩। ২০১৯ সালের জানুয়ারি শেষে ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা ছিল ১৩ লাখ ১৩ হাজার ১৩৩। ফলে পাঁচ বছর ক্রেডিট কার্ড বেড়েছে আট লাখ ২৩ হাজার ৪০।

সর্বশেষ গত জানুয়ারিতে মাসে ডেবিট কার্ডে লেনদেন হয়েছে ৩৬ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। এর আগে কখনো ডেবিট কার্ডে এক মাসে এত লেনদেন হয়নি। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে ৩৬ হাজার ৭১০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে জানুয়ারিতে লেনদেন হয় দুই হাজার ৫০৬ কোটি টাকা। যদিও গত জুলাই ক্রেডিট কার্ডে দুই হাজার ৫৭৮ কোটি টাকার সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছিল। এটিএম, সিআরএম, পয়েন্ট অব সেলস ও ই-কমার্স কেনাকাটায় এসব লেনদেন হয়েছে।

কার্ড দিয়ে এটিএম থেকে গত জানুয়ারিতে ২৯ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়। একইভাবে পিওএসের মাধ্যমে জানুয়ারি দুই হাজার ৬২১ কোটি টাকার লেনদেন হয়। পিওএস সাধারণত কেনাকাটা, উড়োজাহাজের টিকিট কেনা এবং হোটেলের ভাড়া দেয়ার সময় ব্যবহার করা হয়।

ব্যাংকাররা বলছেন, কভিড-১৯ লকডাউনের দুই বছর পর জীবন স্বাভাবিক হওয়ার সময় থেকে লেনদেন বেড়েছে। যদিও বেশিরভাগ মানুষ এখনও নগদ অর্থ ব্যবহার করেন। তবে প্রতিদিনের লেনদেনে নগদ অর্থের ব্যবহার কমছে।

তারা বলেন, কিছু প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক কেলেঙ্কারির কারণে ই-কমার্স লেনদেন অনেক কমে গেছে। না হলে কার্ড লেনদেন বেড়ে যেত।

ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যাংকিংয়ে উৎসাহিত করেছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ও বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলো এখন প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যাংকিং দেবা দিচ্ছে। মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম, অনলাইন সিআইবি রিপোর্ট, ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, প্রিপেইড কার্ড ও বিভিন্ন প্রযুক্তির এটিএম এসব সেবার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।