৫০৭ কোটি টাকার তেল-চিনি-ডাল-গম ক্রয়ের সিদ্ধান্ত

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ৫০৬ কোটি ৯৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার তেল, ডাল, চিনি ও গম কিনছে সরকার। এর মধ্যে ১৫৩ কোটি ৯৭ লাখ ২৫ হাজার গম কেনা হচ্ছে। সয়াবিন তেল কেনা হচ্ছে ৭৭ কোটি ৯৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে। আর ১০৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার চিনি এবং ১৬৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকার মসুর ডাল কেনা হবে।

এ গম, তেল, ডাল ও চিনি কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে সভার সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব মো. মাহমুদুল হোসাইন খান।

তিনি জানান, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রতিষ্ঠান গ্রীণফ্লাওয়ার ডিএমসিসির কাছ থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে খাদ্যশস্যের নিরাপত্তা মজুত সুসংহত করতে এ গম আমদানি করা হবে। প্রতি মেট্রিক টন গমের মূল্য ধরা হয়েছে ২৭৯.৯৫ মার্কিন ডলার। ফলে এ গম আমদানিতে মোট ব্যয় হবে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ১৫৩ কোটি ৯৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা। প্রতি কেজি গমের মূল্য পড়বে ৩০ টাকা ৭৯ পয়সা।

সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মসুর ডাল কেনার দুটি প্রস্তাব এবং সয়াবিন ও চিনি কেনার দুটি পৃথক প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়। চারটি প্রস্তাই অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

এর মধ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৬ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল ৬২ কোটি ৯৪ লাখ টাকায় কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বরগুনার রয় এগ্রো ফুড প্রডাক্টস লিমিটেডর কাছ থেকে এ মসুর ডাল কেনা হবে। প্রতি কেজি মসুর ডালের দাম পড়বে ১০৪ টাকা ৯০ পয়সা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আর এক প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল ১০৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকায় কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ইজি জেনারেল ট্রেডিং থেকে ৬ হাজার টন এবং নাবিল নাবা ফুড লিমিটেড থেকে ৪ হাজার টন মসুর ডাল কেনা হবে। প্রতি কেজির দাম পড়বে ১০৪ টাকা ৪৪ পয়সা। টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী ১ কোটি পরিবারের নিকট ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে এসব মসুর ডাল কেনা হবে।

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী ১ কোটি পরিবারের নিকট ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৮ হাজার মেট্রিক টন চিনি ১০৭ কোটি ৬০ লাখ টাকায় কেনার অনুমোন দেওয়া হয়েছে। এস আলম এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের কাছ থেকে ১৩৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে এই চিনি কেনা হবে। টিসিবির জন্য এই চিনি কেনার প্রস্তাব নিয়ে আসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আর এক প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত পুনঃদরপত্র পদ্ধতিতে ৫০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল ৭৭ কোটি ৯৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ঢাকার সোনারগাঁও সিডস ক্রাশিং মিলস লিমিটেড থেকে এ সয়াবিন তেল কেনা হবে। এ সয়াবিন তেলও টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী ১ কোটি পরিবারের নিকট ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে কেনা হবে।




ক্রয় সংক্রান্ত কমিটিতে ১২ প্রস্তাব অনুমোদন

আন্ধারমানিক নদীতে সেতু নির্মাণ, টিসিবি’র এক কোটি ফ্যামিলি কার্ডধারীদের মাঝে স্বল্পদামে বিক্রির জন্য অভ্যন্তরীণ দরপত্রের মাধ্যমে ১ কোটি ৩০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল ক্রয়ের প্রস্তাবসহ ১২ ক্রয়প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে মোট ব্যয় হবে ২০৪২ কোটি ১৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

বুধবার (৪ অক্টোবর) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে এক ভার্চুয়াল সভায় প্রস্তাবগুলোতে অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান।

তিনি বলেন, আজকে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৩৩তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্রয় কমিটির অনুমোদনের জন্য ১২টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৩টি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ২টি, শিল্প মন্ত্রণালয়ের ২টি, স্থানীয় সরকার বিভাগের ২টি, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ১টি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ১টি এবং টেবিলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রস্তাবনা ছিল। এতে মোট ব্যয় হবে ২০৪২ কোটি ১৬ লাখ ৪০ হাজার ৯৯১ টাকা।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, ২০২৪ শিক্ষাবর্ষের ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক ৮ম শ্রেণি, দাখিল ৮ম শ্রেণি ও কারিগরি ৮ম শ্রেণির বিনামূল্যেও পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের ক্রয়প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। সকল শিক্ষার্থীর কাছে তাদের কাঙ্ক্ষিত পাঠ্যপুস্তক যথাসময়ে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য ২০২৪ শিক্ষাবর্ষের ইবতেদায়ি (২য় ও ৩য় শ্রেণি), মাধ্যমিক (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন) ৮ম শ্রেণি, দাখিল ৮ম শ্রেণি ও কারিগরি (ট্রেড বই) ৮ম শ্রেণির ৫ কোটি ৩৪ লাখ ৮৪ হাজার ২৭১টি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের জন্য আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হলে ১০৪৭টি দরপত্র জমা পড়ে। তার মধ্যে ৯৭২টি দরপত্র রেসপনসিভ হয়। টিইসি কর্তৃক ৮৪টি লটে প্রথম সর্বনিম্ন দরদাতা এবং ২৮টি লটে ২য় সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এই বই সংগ্রহ করা হবে। এতে মোট ব্যয় হবে ১৯৮ কোটি ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ টাকা। প্রতি পাঠ্যপুস্তকের দাম পড়বে ৩৭.০৮ টাকা।

সভায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ৫০ লাখ (+৫%) লিটার সয়াবিন তেল ক্রয়ের একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। দরপত্রে অংশ নিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপার অয়েল রিফাইনারি লিমিটেড এই সয়াবিন তেল সরবরাহ করবে। ২ লিটার পেটজাত বোতলে প্রতি লিটার ১৫৮.৫৫ টাকা হিসেবে ৫০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল ক্রয়ে ব্যয় হবে ৭৯ কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত পুনঃদরপত্র পদ্ধতিতে ৮০ লাখ (+৫%) লিটার সয়াবিন তেল ক্রয়ের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী ১ কোটি পরিবারের কাছে ভর্তুকি দামে সয়াবিন তেল বিক্রির লক্ষে ৮০ লাখ লিটার সয়াবিন ক্রয়ের জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে ৩টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। দরপ্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেঘনা এডিবল অয়েলস রিফাইনারি লিমিটেড ২ লিটার পেটজাত বোতলে এই সয়াবিন তেল সরবরাহ করবে। প্রতি লিটার ১৬১.৯৪ টাকা হিসেবে ৮০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল ক্রয়ে ব্যয় হবে ১২৯ কোটি ৫৫ লাখ ২০ হাজার টাকা।

রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় মরক্কোর থেকে ৭ম লটে ৪০ হাজার মে.টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যে প্রতি মে. টন ডিএপি সার ৫৬৮.৫০ মার্কিন ডলার হিসেবে মোট ব্যয় হবে ২ কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৫১ কোটি ২৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় মরক্কোর থেকে ৮ম লটে ৪০ হাজার মে.টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যে প্রতি মে. টন ডিএপি সার ৫৬৮.৫০ মার্কিন ডলার হিসেবে মোট ব্যয় হবে ২ কোটি ২৭ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৫১ কোটি ২৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

অতিরিক্ত সচিব জানান, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় মরক্কো থেকে ৯ম লটে ৩০ হাজার মে.টন টিএসপি সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি মে. টন টিএসপি সার ৩৯৩ মার্কিন ডলার হিসেবে ৩০ হাজার মে.টন টিএসপি সার আমদানিতে ব্যয় হবে ১ কোটি ১৭ লাখ ৯০ হাজার মা. ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

সভায় ‘বিসিক কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক, মুন্সিগঞ্জ (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্পের ভূমি উন্নয়ন (অতিরিক্ত) মাটি ভরাটের পূর্ত কাজ ক্রয়প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে (১) এনডিই; (২) এনএনবিএল এবং (৩) এসি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে ব্যয় হবে ১০২ কোটি ৪০ লাখ ১৬ হাজার ৮৫৭ টাকা।

অতিরিক্ত সচিব জানান, চট্টগ্রামের ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লি. এর জন্য ৩০ হাজার মেট্রিক টন (+১০%) ফসফরিক এসিড আমদানির একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স সান ইন্টারন্যাশনাল এফজেডই, ইউএই (স্থানীয় এজেন্ট: মেসার্স এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনপুট, ঢাকা) এই ফসফরিক এসিড সরবরাহ করবে। এতে ব্যয় হবে ১৯৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রতি মে.টন ফসফরিক এসিডের দাম ৫৯৮ মার্কিন ডলার।

তিনি বলেন, ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডোর অ্যান্ড রিজিওনাল অ্যানহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউকেয়ার) ফেস-১ প্রকল্পের প্যাকেজ-৬ এর পূর্ত কাজ ক্রয়প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। প্রকল্পের পূর্ত কাজ ক্রয়ের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ৪টি প্রতিষ্ঠান দরপ্রস্তাব দাখিল করে। ৪টি দরপ্রস্তাবই কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান ডিয়েনকো লিমিটেড, ঢাকা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে ব্যয় হবে ১০১ কোটি ৩৬ লাখ ৮৪ হাজার ৭৪২ টাকা।

সভায় ‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ (২য় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলায় ৮৯১ মিটার সেতু নির্মাণের পূর্ত কাজ ক্রয়প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। প্রকল্পের পূর্ত কাজ ক্রয়ের জন্য এক ধাপ দুই খাম দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ৫টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করে। তার মধ্যে ৪টি প্রস্তাব কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সকল প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে ব্যয় হবে ১১০ কোটি টাকা।

অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান বলেন, শেরপুর (কানাসাখোলা)-ভীমগঞ্জ-নারায়ণখোলা-রামভদ্রপুর-পরানগঞ্জ-ময়মনসিংহ (রহমতপুর) সড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্পের প্যাকেজ নং পিডব্লিউ-০৪ এর পূর্ত কাজের ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে (১) ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড; (২) হাসান টেকনো বিল্ডার্স লিমিটেড এবং (৩) মাসুদ হাই-টেক ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে ব্যয় হবে ৩৫৮ কোটি টাকা।

এ ছাড়াও, সভার টেবিলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, পায়রা সমুদ্র বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আন্ধারমানিক নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হবে ৯৪৩ কোটি ৬৩ লাখ ৭৫ হাজার ৩৪৯ টাকা।




ক্রয় কমিটিতে ৬ হাজার ৭০ কোটি টাকার চার প্রস্তাব অনুমোদন

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় চারটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৬ হাজার ৭০ কোটি টাকা। সেই সঙ্গে অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে তিনটি প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সচিব সাঈদ মাহবুব খান গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানান।

সাঈদ মাহবুব খান বলেন, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য ৩টি এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য ৪টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে। ক্রয় কমিটির প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ২টি, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১টি এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রস্তাবনা ছিল। এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৬ হাজার ৬৯ কোটি ৭১ লাখ ৮ হাজার ৫৬৪ টাকা। সম্পূর্ণ অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে ব্যয় করা হবে।

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় অনুমোদিত প্রস্তাবগুলো হলো

প্রস্তাবনা : ১

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক ‘৫টি র‌্যাব কমপ্লেক্স ও ১টি র‌্যাব ফোর্সেস ট্রেনিং স্কুল কমপ্লেক্স নির্মাণ’ প্রকল্পের বাকি কাজের জন্য মাজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লি. এর কাছ থেকে ৪০ কোটি ৬৯ লাখ ৩৮ হাজার ৫১৮ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবনা : ২

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত চুক্তি মূল্যের মধ্যে ‘পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের ক্যাপিটাল ও মেইন্টেনেন্স ড্রেজিং’ স্কিমের ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মূল চুক্তিমূল্য ৫ হাজার ৬২৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

প্রস্তাবনা : ৩

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক ‘আরিচা (বরঙ্গাইল)-ঘিওর-দৌলতপুর-নাগরপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ প্রকল্পের প্যাকেজ নং WP-01 এর পূর্ত কাজ ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লি. এর কাছ থেকে ২৯০ কোটি টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবনা : ৪

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক ‘কিশোরগঞ্জ সড়ক বিভাগাধীন গৌরিপুর-আনন্দগঞ্জ-মধুপুর-দেওয়ানগঞ্জ বাজার-হোসেনপুর জেলা মহাসড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ’ প্রকল্পের প্যাকেজ নং WP-01 এর পূর্ত কাজ তাহের ব্রাদার্স লি. এর কাছ থেকে ১৩৬ কোটি ৮৩ লাখ ৭০ হাজার ৪৬ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।