নির্বাচনের পর পুঁজিবাজারে গভর্নেন্স ফেরাতে আ‌রও কঠোর হবে বিএসইসি

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেছেন, পুঁজিবাজারে গভর্নেন্সের বিষয়ে চল‌তি মাস থেকেই কঠোর হওয়া শুরু করেছি। নির্বাচনের পর থেকে আরও কঠোর হব।

মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) ঢাকা ক্লাবে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড (সিএমএসএফ) এবং ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড ২০২৩ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, বিনা কারণে সরকারের যে বদনামগুলো হয় তা থেকে আমরা বেরিয়ে আসছি। গুটিকয়েক লোকের জন্য ক্যাপিটাল মার্কেট বা মানি মার্কেটের দুর্নাম হবে, সেই দিন শেষ।

শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, সিএমএসএফ করার সময় চিন্তা করলাম, নতুন একটা প্রোডাক্ট নিয়ে এসেছি। আর আজ সেটা প্রমাণিত হয়েছে। যাদের এটার নেতৃত্বে দেওয়া হয়েছিল, তারা আজ এটা প্রমাণ করেছেন। আসলে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা সবার থাকে না।

তিনি বলেন, ডিআরইউ, ইআরএফ এবং সিএমজেএফের সঙ্গে আমরা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছি। এখানে যেসব সাংবাদিক কাজ করেন তাদের সঙ্গে আমাদের প্রতিনিয়তই কথা হয়। যেসব সাংবাদিক ফোন দেন, আমরা সবার ফোন ধরি। আজ যে রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হলো, এবার তিনটা হয়েছে। আগামীতে প্রত্যেক ক্যাটাগরিতে তিনটা করে মোট ৯টা অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার জন্য আমি আয়োজকদের অনুরোধ জানিয়েছি।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা আরও ভালো রিপোর্ট চাই। আমরা গুজব চাই না। আপনাদের মধ্যে এরপরও কয়েকজন ঢুকে যায়। তারা গুজব ছড়ায়। আপনাদের মধ্যে যদি কেউ চলে আসে, যারা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে মার্কেট, দেশ ও বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি করে, তাদের আপনারাই থামাবেন। আপনারা অ্যাসোসিয়েশনই তাদের থামাবেন। যারা এবার পুরস্কার পেয়েছেন তাদের জন্য শুভ কামনা রইল। আর বাকি যারা রয়েছেন তারা আগামীতে চেষ্টা করবেন, যেন আরও ভালো রিপোর্টিং করতে পারেন। আপনারা যে কষ্ট করে এত তথ্য বের করে নিয়ে আসেন তা আমাদের খুব কাজে লাগে।

তিনি বলেন, আমরা এই মাস থেকে গভর্নেন্সে কঠোর হওয়া শুরু করেছি। নির্বাচনের পর তা আরও জোরদার করা হবে। বিনা কারণে সরকারের যে বদনামগুলো হয় তা থেকে আমরা বেরিয়ে আসছি। গুটিকয়েক লোকের জন্য ক্যাপিটাল মার্কেট বা মানি মার্কেটের দুর্নাম হবে, সেই দিন শেষ।

শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, আজ যারা পুরস্কার পেলেন তাদের প্রতি আবারও শুভেচ্ছা রইল। আর যারা জুরি বোর্ডে কাজ করেছেন, কষ্ট করেছেন তাদের প্রতিও অন্তরের অন্তস্তল থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

সভাপতির বক্তব্যে সিএমএসএফ চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান বলেন, আমরা সিএমএসএফ এবং সিএমজেএফের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফল আজকের এই অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান। আজকের দিনটি উদযাপনের দিন। যারা তিনটি পুরস্কার পেলেন, তারা তাদের নিজস্ব প্রচেষ্টা ও নিজস্ব যোগ্যতায় পেয়েছেন। জুরি বোর্ড অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে রিপোর্টগুলো যাচাই-বাছাই করেছে। আগামীতে ৯টি পুরস্কার দেওয়ার জন্য সিএমএসএফের বোর্ড অব গভর্নেন্সও চিন্তা করেছিল। তবে এবার ৩টি দিয়েই আমরা শুরু করেছি। আগামীতে ৯টি পুরস্কার দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সিএমএসএফ সম্প্রতি ইউরোপে একটি ট্রেড ও ইনভেস্টমেন্ট সেমিনারে গিয়েছিলাম। সেখানে জার্মান ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের উদ্যোক্তারা আমাদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সম্প্রতি বেলজিয়াম থেকে একজন উদ্যোক্তা সিএমএসএফ পরিদর্শনে এসেছিলেন। আমরা আশা করছি আগামীতে আরও অনেক উদ্যোক্তা আসবেন।

এবার ইলেকট্রনিক মিডিয়া ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক গোলাম ময়নুল আহসান। অনলাইন মিডিয়া ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন অনলাইন নিউজ পোর্টাল অর্থসংবাদ ডটকমের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক এসএম জাকির হোসেন। প্রিন্ট মিডিয়া ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন দৈনিক প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি ফখরুল ইসলাম হারুন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বিএসইসি কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ, স্বাগত বক্তব্য দেন সিএমএসএফের বোর্ড অব গভর্নেন্সের সদস্য ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, কী নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন সিএমজেএফ সভাপতি জিয়াউর রহমান। এছাড়া সিএমজেএফের সাধারণ সম্পাদক আবু আলীসহ পুঁজিবাজারের বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।




অবন্টিত লভ্যাংশ পুরোপুরি হস্তান্তর করেনি বিডি থাই

ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে অবন্টিত লভ্যাংশ পুরোপুরি হস্তান্তর করেনি পুঁজিবাজারে প্রকৌশল খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বাংলাদেশ থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেড (বিডি থাই)। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনা থাকলেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ তা পরিপালন করেনি। একইসঙ্গে কোম্পানিটি শ্রম আইন পরিপালন করছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কোম্পানির ২০২২-২৩ অর্থবছরের আর্থিক হিসাব নিরীক্ষায় এসব তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষক।

বিডি থাই অ্যালুমিনিয়ামে ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকার অবন্টিত লভ্যাংশ রয়েছে বলে জানিয়েছে নিরীক্ষক। যার একটি অংশে পৃথক ব্যাংক হিসাবে রাখা হয়েছে। যা বিগত তিন বছরের বেশি সময় ধরে অপ্রদানকৃত অবস্থায় রয়েছে। এরপর কোম্পানিটি বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে অবন্টিত লভ্যাংশ হস্তান্তর করেনি। তবে এই কোম্পানি কর্তৃপক্ষ অবন্টিত লভ্যাংশের কিছু অংশ সিএমএসএফে হস্তান্তর করেছে বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষক।

এদিকে, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম কর্তৃপক্ষ শ্রম আইনের ধারা ২৩৫, ২৪২ ও ২৪৮ পরিপালন করছে না বলে জানিয়েছে নিরীক্ষক। কোম্পানিতে ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকার ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড (ডব্লিউপিপিএফ) রয়েছে। যা শ্রমিকদেরকে হস্তান্তর করা হয়নি।

উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় বাংলাদেশ থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেড। কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ১২৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণির উদ্যোক্তা বা পরিচালক ব্যতিত বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে ৬৯.৬৮ শতাংশ।




লভ্যাংশ ফেরত না দিলে কঠোর অবস্থানে যাব: বিএসইসি চেয়ারম্যান

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেছেন, বিনিয়োগকারীদের পাওনা লভ্যাংশের এক টাকাও ছাড় দেওয়া হবে না। সুদে আসলে সব আদায় করা হবে। কোনো অজুহাত শোনা হবে না। লভ্যাংশ ফেরত না দিলে অভিযুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাব।

রোববার (১৬ এপ্রিল) শেয়ারবাজারে বর্ষবরণের আমেজে নবতর উদ্ভাবন সিএমএসএফের তহবিল ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

সভাটির আয়োজন করে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড (সিএমএসএফ)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব এবং জাতীয় রাজস্ব বার্ডোর সাবেক চেয়ারম্যান ও সিএমএসএফের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান।

শিবলী রুবাইয়াত বলেন, বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করে লভ্যাংশ পাওয়ার জন্য। বছর শেষে সেই লভ্যাংশ তাদের কাছে যাচ্ছে না। তারা পাচ্ছেও না। বিভিন্নভাবে রয়ে যাচ্ছে অন্য কোথাও। দেখা যাচ্ছে, বিনিয়োগকারীর লভ্যাংশ না দিয়ে অন্য কোথায় বিনিয়োগ বা ব্যবহার হচ্ছে। মেরে খাচ্ছে। দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের খাতে ব্যয় করছে। কিন্তু কথা হলে এটা অন্যের আমানত। এটা বেমালুম ভুলে যায়। এ ধরনের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, যারা বিনিয়োগের লভ্যাংশ পাচ্ছে না বা লভ্যাংশ দেওয়ার বিনিয়োগকারী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, তাদের সেই মুনাফা অলসভাবে পড়ে আছে। যা ব্যবহার হচ্ছে না। এমন অর্থ পরিমাণ ২১ হাজার কোটি টাকা মতো আমাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে। সেই অর্থ বা লভ্যাংশ সঠিক ব্যবহারের জন্য আমরা সিএমএসএফ গঠন করি। এরপর দেখি, তারা অটোভাবেই বিনিয়োগকারীদের খুঁজে পাচ্ছে। তাদের পাওনা আমানত ফেরতও দিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু এরপরও এই পর্যন্ত ১ হাজার কোটি টাকার মতো লভ্যাংশ আদায় হয়েছে। আরও লভ্যাংশ আসার পথে রয়েছে।

 

শিবলী রুবাইয়াত আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের না দেওয়া লভ্যাংশ আদায়ে কোম্পানিগুলোতে দফায় দফায় তাগিদ দিচ্ছি। অপরদিকে তারাও দফায় দফায় সময় নিচ্ছে। কিন্তু লভ্যাংশ দেওয়ার নাম নেয় না। এরপর আমরা অনেক ভালো ব্যবহার করছি। ধৈর্য ধরে আছি। সময়ও দিচ্ছি। প্রতিষ্ঠানের নাম খারাপ হবে ভেবেই সময় পাচ্ছে। এরপর আপনারা লভ্যাংশের অর্থ ফেরত দিচ্ছেন না। কিন্তু এখন আমাদের কঠোর হবার সময় হয়েছে। আপনারা সতর্ক হোন। সামনে দিনে এই সুযোগ আর পাবেন না। আমাদের বিএসইসির বোর্ড সভায় সামনে এ বিযয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শেখ কবির হোসেন বলেন, লভ্যাংশ বাবদ বিমায় ৭০ কোটি টাকা রয়েছে, শোনা যাচ্ছে। কিন্তু কোথায়, কিভাবে সেটা আমার জানা নেই। তবে আমরা চেষ্টা করছি, অবন্টিত লভ্যাংশ যথাস্থানে ফিরিয়ে দিতে। এই ব্যাপারে আমি সিএমএসএফকে সব ধরনের সহায়তা করবো। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে আমাদের অনেক বীমা কোম্পানি দেউলিয়া হওয়ার পথে। সেসব কোম্পানিগুলোকে বাঁচানোর রাস্তা বের করার আহ্বান রাখেন।

সিএমএসএফের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, বর্তমান শেয়ারবাজার ভাইব্রেন্ট। সামনে আরও ভাইব্রেন্ট হবে। সেই লক্ষে আমরা কাজ করছি। আমরা বিনিয়োগকারীদের দাবি আদায়ে কাজ করছি। বিনিয়োগকারীদের দাবি নিষ্পতি হচ্ছে। এটা চলমান থাকবে। অবন্টিত লভ্যাংশ আদায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চেষ্টা করছি অলস পড়ে থাকা লভ্যাংশ খুঁজে বের করতে। এই ব্যাপারে পরিকল্পনা করেছি। এরই লক্ষে ব্যাংক-বীমার বিভিন্ন স্টেক হোল্ডারদের সাথে আলোচনা হচ্ছে।

এদিকে, সিএমএসএফ ইতোমধ্যে ৫৩৭ বিনিয়োগকারীর নগদ ১ কোটি ৯৮ লাখ ৮৯ হাজার ৮৮২ টাকা এবং ২০৩ জন বিনিয়োগকারীর ২ লাখ ৪ হাজার ২০৪টি শেয়ারের দাবি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে ৬৪ জন বিনিয়োগকারী ৫ লাখ ৩৩ হাজার ২৩২ টাকা এবং ৪৮ জন বিনিয়োগকারীর ৬২ হাজার ৫৫৬টি শেয়ারের দাবি নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

অনুষ্ঠান উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ, ড. মো. মিজানুর রহমান, ডিএসইর নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু, সিএসইর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম প্রমুখ।




বিনিয়োগকারীদের স্বল্প সুদে ঋণ দেবে সিএমএসএফ

পুঁজিবাজারে তারল্য সংকট দূর করতে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন তহবিল (সিএমএসএফ) থেকে বিনিয়োগকারীদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সিএমএসএফ থেকে বড় ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংককে প্রাথমিকভাবে ৩০০ কোটি টাকার ঋণ দেবে সংস্থাটি।

বিএসইসির সর্বশেষ কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হবে। এই সিদ্ধান্ত পুঁজিবাজারের জন্য সুখবর বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, পুঁজিবাজারে বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের কিছুটা আস্থার সংকট রয়েছে। আস্থার ও তারল্য সংকট কাটাতে সিএমএসএফের অলস অর্থকে কাজে লাগানো হচ্ছে। এখান থেকে বড় ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংককে ঋণ দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সিএমএসএফের তহবিলে বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের ৭০০ কোটি টাকা জমা রয়েছে। সেখান থেকে সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) মাধ্যমে বাজারে কিছুটা বিনিয়োগ হয়েছে। বাকি প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যাংকে এফডিআর করা আছে।

পুঁজিবাজারে তারল্য দূর করতে বাকি ৩০০ কোটি টাকা স্বল্প সুদে ঋণ হিসেবে দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে যেসব ব্রোকারেজ হাউজ বা মার্চেন্ট ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে, তারাই কেবল ঋণ পাবে। এই ঋণে ৬ মাস থেকে এক বছর গ্রেস পিরিয়ড (এই সময়ে ঋণ পরিশোধ করতে হবে না) ধরা হতে পারে। ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ২০ কোটি টাকার মতো পাবে।

হাউজগুলোকে নিজস্ব তহবিল থেকে আরো ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। তবে ঋণ পাওয়ার জন্য যেসব ব্রোকারেজ হাউজের মালিকপক্ষের তালিকাভুক্ত কোম্পানি রয়েছে, ওইসব কোম্পানি থেকে গ্যারান্টি দিতে হবে। এছাড়াও ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের জন্য মূল প্রতিষ্ঠান থেকে গ্যারান্টি দিতে হবে। অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠান ঋণ নেবে, তাদের ঋণের টাকা অবশ্যই ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে হবে। অর্থাৎ শক্তিশালী মৌলভিত্তির বাইরে দুর্বল কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা যাবে না।