৯ দিনেই রেমিট্যান্স এল ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ৩০ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে দেশে। যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৫ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

চলতি মে মাসের প্রথম ৯ দিনেই ১ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে প্রবাসী আয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১০২ কোটি ৯০ লাখ বা ১ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ ১২ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা প্রায় (ডলার প্রতি ১২২.৭৫ টাকা হিসাবে)। প্রবাসী আয়ের এ ধারা অব্যাহত থাকলে আরেকবার সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করতে পারে চলতি মে মাস।

সাধারণত ঈদ-রোজার মতো উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। গত মার্চ মাসের ২০ তারিখ দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হয়। সে মাসে প্রবাসীরা দেশে ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন বা ৩৭৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত এটিই প্রথম ও একমাত্র সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় অতিক্রমকারী মাস। চলতি মাসের ২৭ মে (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে) পবিত্র ঈদুল আযহা অনুষ্ঠিত হবে। এ মাসের প্রথম ৯ দিনে প্রবাসীরা প্রতিদিন গড়ে ১১ কোটি ৪৩ লাখ ডলার করে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন; যা গত মাসের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। এ ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে আবারও সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করবে প্রবাসী আয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত একক মাস হিসাবে ছয় বার ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রবাসী আয় এসেছে। গত বছরের মার্চ মাসে দেশে প্রথমবারের মতো বৈধ পথে ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন বা ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স দেশে আসে। পরবর্তীতে গত ডিসেম্বরে আসে ৩২২ কোটি ডলার। এরপর চলতি ২০২৬ সালের প্রথম মাস তথা জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ৩০২ কোটি, মার্চে ৩৭৫ কোটি ও এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৭০ লাখ ডলার প্রবাসী আয় আসে দেশে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ৩০ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে দেশে। যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় এসেছিল ২৫ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

রেমিট্যান্সের এ প্রবাহের উপর ভিত্তি করে দেশের রিজার্ভের ভিতও মজবুত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশের বর্তমান গ্রস রিজার্ভ (১০ মে পর্যন্ত) ৩৪ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের হিসাবপদ্ধতি (বিপিএম৬) অনুযায়ী এটি ২৯ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার।




বাজার থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

দেশে প্রবাসী আয়ের উল্লম্ফনের ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে ডলারের মূল্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার জোগান-চাহিদার ভারসাম্য ঠিক রাখতে এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ১৬ ব্যাংক থেকে ২১ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ও কাট-অফ রেট উভয়ই ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।

সবমিলিয়ে চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪১৫ কোটি মার্কিন ডলার (৪.১৫ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

জানা গেছে, ২০২২ সালে দেশের ডলার বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তখন প্রতি ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছায়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিলেও ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। একপর্যায়ে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করতে হয়। এরপরও বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত তিন অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে সাত দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়। অথচ এ সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয়েছে মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের মতো।

তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অর্থপাচার বন্ধে বর্তমান সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এতে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়– উভয়ই বেড়েছে। ফলে ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ বাড়লেও সে অনুযায়ী চাহিদা না থাকায় স্বাভাবিকভাবে ডলারের দাম কমে যাওয়ার কথা। তবে ডলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজ উদ্যোগে বাজার থেকে ডলার কিনছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বর্তমানে বাজারে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে। ডলারের দাম যেন অস্বাভাবিকভাবে কমে না যায়, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনে বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখছে। ডলারের দর কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ডলার কেনার ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে বলে জানান তিনি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৫ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

রেমিট্যান্স বৃদ্ধি ও ডলার ক্রয়ের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে। গত ২৯ জানুয়ারি শেষে মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম-৬ অনুযায়ী তা রয়েছে ২৮ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার। দেশের ইতিহাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছিল ২০২১ সালের আগস্টে। সেখান থেকে ধারাবাহিকভাবে কমে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের সময় রিজার্ভ নেমে আসে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে।




আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের এমডিকে অপসারণ করলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

 

বাধ্যতামূলক ছুটিতে থাকা আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এম‌ডি) ফরমান আর চৌধুরীকে অপসারণ করা হয়। তার অপসারণের বিষয়ে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সিদ্ধান্তে অনাপত্তি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কাছে অপসারণের অনাপত্তি দিয়ে চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তিনি বলেন, এমডিকে অপসারণে আল-আরাফাহ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তে অনাপত্তি দেওয়া হয়েছে। এখন আর তার এমডি থাকার কোনো সুযোগ নেই।

ফরমান আর চৌধুরীর বিরুদ্ধে খেলাপি ঋণের তথ্য গোপন, নিয়োগ ও পদোন্নতিসহ বিভিন্ন অনিয়মে সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ১৩ এপ্রিল ব্যাংক তাকে প্রথমে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। পরে সম্পৃক্ততা পাওয়ায় অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয় পরিচালনা পর্ষদ।

এমডিকে অপসারণের কারণ হিসেবে খেলাপি ঋণের তথ্য গোপন, নিরাপত্তা সঞ্চিতি না রেখে মুনাফা দেখানো, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়ম, সিএসআর তহবিলের অপব্যবহার, বেতনের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে ফেরত না দেওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

দীর্ঘদিন আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন আব্দুস সামাদ লাবু। গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর ব্যাংকটির পর্ষদ ভেঙ্গে পুনর্গঠন করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। লঙ্কা বাংলা ফাইন্যান্সের সাবেক এমডি খাজা শাহরিয়ারের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি পরিচালনা পর্ষদ ব্যাংক পরিচালনা করতে গিয়ে নানা অসঙ্গতি পায়।

ওই সময় ফরমান আর চৌধুরী ছাড়াও ব্যাংকটির সিএফও মোহাম্মদ নাদিম, তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান আমিনুল ইসলাম ভুঁইয়া ও ট্রেজারি বিভাগের প্রধান মো. আব্দুল মবিনকে ছুটিতে পাঠানো হয়। তবে অন্য তিনজন এখনও ছুটিতে আছেন বলে জানা গেছে।

ছাত্র-জনতার অবিস্মরণীয় অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে টানা ১৬ বছরের আওয়ামী লীগের নজিরবিহীন দুঃশাসন ও স্বেচ্ছাচারিতার অবসান ঘটে। সরকার পরিবর্তনের পর এখন পর্যন্ত ১৫টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে পুনর্গঠন করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব ব্যাংকের অনিয়ম জালিয়াতি তদন্তে বিশেষ অডিট করছে।




বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরকে বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো হলো

সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিতে নামিবিয়া যাওয়ার পথে বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমানকে। রোববার (৩১ আগস্ট) বিকেল ৫টার ফ্লাইটে তার যাত্রার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে বাধা দেয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নামিবিয়ার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ড. হাবিবুর রহমানসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট ১১ জন কর্মকর্তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বাকি ১০ জন যাত্রা করতে পারলেও কেবল তাকেই থামিয়ে দেওয়া হয়।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষ করার পর বিমানে ওঠার অপেক্ষায় ছিলেন ড. হাবিবুর রহমান। হঠাৎ তাকে ডেকে জানানো হয়, সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশ এসেছে তিনি বিদেশ ভ্রমণ করতে পারবেন না। এজন্য কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করে।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় দুর্নীতির অনুসন্ধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, ডেপুটি গভর্নর এবং সরকারি-বেসরকারি ২৬টি ব্যাংকের এমডি ও পরিচালকদের নাম দুদককে পাঠিয়েছে। ওই তালিকা ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছেও পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।

গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে আন্দোলনের মুখে ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমান ও খুরশীদ আলম, বিএফআইইউ প্রধান মো. মাসুদ বিশ্বাস এবং নীতি উপদেষ্টা আবু ফরাহ মো. নাছের পদত্যাগ করেন। তবে আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগ পাওয়া ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান ও নূরুন নাহার এখনও বহাল আছেন।

ড. হাবিবুর রহমান ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পান। এর আগে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ছিলেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে ১৯৯০ সালে গবেষণা বিভাগে সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগ দেন তিনি। পরবর্তীতে ইউএসএইড বৃত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টার্ন ও ওয়েস্টার্ন মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায়োগিক অর্থনীতিতে মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।




বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক থেকে নির্বাহী পরিচালক হলেন ৪ কর্মকর্তা

বাংলাদেশ ব্যাংকের চার পরিচালককে নির্বাহী পরিচালক (ইডি) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনার মাধ্যমে তাদের দপ্তর বণ্টন করা হবে বলে জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন- গভর্নর অফিসের পরিচালক মো. সরোয়ার হোসেন, ব্যাংক পরিদর্শন-৩ বিভাগের পরিচালক মুহম্মদ বদিউজ্জামান দিদার, চট্টগ্রাম অফিসের পরিচালক মো. সালাহ উদ্দিন এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) পরিচালক মো. মফিজুর রহমান খান চৌধুরী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পদোন্নতি নীতিমালা-২০২২ এর বিধান অনুযায়ী এ পদোন্নতি কার্যকর হবে। হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১ এর পরিচালক মো. জবদুল ইসলামের সই করা এক অভ্যন্তরীণ আদেশে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।




পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট ফি সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা নিতে পারবে ব্যাংক

বিদেশ ভ্রমণের জন্য পাসপোর্টে ডলার সংযুক্তি (এনডোর্সমেন্ট) করতে চাইলে এখন থেকে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত ফি নিতে পারবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

রোববার ((১৮ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক এই ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে। এর বাইরে পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট ফি বাবদ বাড়তি কোনো অর্থ আদায় করা যাবে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তফসিলি ব্যাংকগুলো বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রির সময় বিভিন্ন হারে পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট ফি ও চার্জ এবং অতিরিক্ত সার্ভিস ফি বা কমিশন নিচ্ছে। অতিরিক্ত ফি আদায় করায় ব্যাংক থেকে বৈদেশিক মুদ্রা কিনতে নিরুৎসাহিত হন গ্রাহকরা।

এ কারণে বৈধ চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা কিনতে উৎসাহিত করতে প্রথমবারের মতো পাসপোর্ট এনডোর্সমেন্ট ফি নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।




আমদানি মূল্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পরিশোধের নির্দেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

ত্রুটিপূর্ণ বিল দেখিয়ে বিদেশি ব্যাংককে আমদানি বিল পরিশোধ থেকে বিরত থাকছে অনেক ব্যাংক। ফলে বাণিজ্যিক সম্পর্ক খারাপ হচ্ছে। এমন অবস্থায় বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পণ্যের বিল পরিশোধ করতে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আমদানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে অসঙ্গতিপূর্ণ (ত্রুটিপূর্ণ) আমদানি বিলের বিপরীতে নির্ধারিত পণ্যের বিল পরিশোধ করতে নির্দেশনার ফলে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোকে ত্রুটিপূর্ণ আমদানি বিল গ্রহণে সংশ্লিষ্ট আমদানি পণ্যে কোনরূপ পরিবর্তন করার সুযোগ থাকবে না।

অসঙ্গিপূর্ণ আমদানি বিলগুলোকে অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রে বিল পরিশোধের জন্য যোগ্য বিবেচনায় আনতে ব্যাংকগুলোকে আন্তর্জাতিক মানদন্ড বা নিয়মাচার মানতে হবে।

রোববার (২০ এপ্রিল) সব এডি ব্যাংকগুলোকে বিল পরিশোধের অনুমতি দিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাসহ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আমদানিকারকদের মাধ্যমে প্রাপ্ত আমদানি বিলের বিপরীতে ডেলিভারি অর্ডার প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এ ধরনের ডেলিভারি অর্ডার প্রদানের সময় ব্যাংকগুলোকে এমন ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে মূল ডকুমেন্টে কোনো ধরনের ত্রুটি/বিচ্যুতির সুযোগ না হয়। এতোদিনে যেখানে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ থেকে পণ্য খালাসের পর বিল অব এন্ট্রি দাখিল সাপেক্ষে ত্রুটিপূর্ণ আমদানি বিল কিংবা আমদানিকারক কর্তৃক সরাসরি প্রাপ্ত বিলের বিপরীতে মূল্য পরিশোধ করা যেতো।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানিকারক ত্রুটিপূর্ণ আমদানি বিল গ্রহণ করলেও ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট বিলের বিপরীতে মূল্য পরিশোধ করতে পারতো না। এজন্য পণ্য খালাস না হওয়া পর্যন্ত বিদেশি সরবরাহকারীদেরকে মূল্য প্রাপ্তির জন্য অপেক্ষা করতে হতো। এটা বাণিজ্যের জন্য ক্ষতিকর ছিল। আমদানি মূল্য পরিশোধ বিধিবিধানকে আন্তর্জাতিক মানে বিধি মেনে করলে বিদ্যমান সংকট দূর হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করায় সংকট কাটবে। এতে আমদানি ব্যয় হ্রাস পাবে এবং পণ্য সরবরাহকে স্বাভাবিক রাখবে।




স্কুল ব্যাংকিংয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে নতুন নির্দেশনা

স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে নতুন নির্দেশনা জা‌রি ক‌রে‌ছে কেন্দ্রীয় ব‌্যাংক।

এখন থে‌কে জেলা, উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রতিটি ব্যাংকের শাখা কমপক্ষে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সরাসরি ব্যাংক শাখা থেকে বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা নিতে পারবে।

রোববার (১৬ মার্চ) বাংলা‌দেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এই বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে।

২০১৩ সালের ২৮ অক্টোবর এবং ২০১৫ সালের ৪ নভেম্বরের সার্কুলারগুলোকে অবলম্বন করে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জেলা, উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ে কমপক্ষে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করে ব্যাংক শাখাগুলোকে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। ব্যাংকগুলোকে হিসাব খোলা, আর্থিক শিক্ষা প্রদান এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

এছাড়া, প্রতিটি ব্যাংক শাখাকে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট অফিসকে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে। প্রতিবেদনে ব্যাংক শাখা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা, শিক্ষার্থীদের হিসাবের পরিমাণ, লেনদেনের তথ্য এবং আর্থিক শিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১০ সালে স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে, যার উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং তাদের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি করা।

২০১১ সাল থেকে শিক্ষার্থীরা ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ শুরু করলেও, স্কুল ব্যাংকিং কার্যক্রমে বর্তমানে ৫৯টি ব্যাংক অংশ নিচ্ছে। ১১ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা এই অ্যাকাউন্টগুলো খুলতে পারবে। এতে রয়েছে নানা সুবিধা। যেমন- ফি ও চার্জে ছাড়, বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং স্বল্প খরচে ডেবিট কার্ড পাওয়ার সুযোগ।




সাড়ে ১০ ঘণ্টার অভিযানে যা মিলল এস কে সুরের লকারে 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক আলোচিত ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরীর (এস কে সুর) লকার রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। কী আছে গোপন এই লকারে। এ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দিনভর নানা নাটকীয়তা। অভিযান শেষে বেরিয়ে এসেছে রহস্য। তিনটি লকারে মিলল সোনার চামচ, বোতাম, স্বর্ণালংকার, বান্ডিল বান্ডিল মার্কিন ডলার ও ইউরো।

টানা সাড়ে ১০ ঘণ্টার অভিযান শেষে দুদকের পরিচালক কাজী সায়েমুজ্জমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এস কে সুরের তিনটি লকারে অভিযান চালিয়ে এক কেজি স্বর্ণ, এক লাখ ৬৯ হাজার মার্কিন ডলার, ৫৫ হাজার ইউরো এবং ৭০ লাখ টাকার এফডিআর পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সবমিলিয়ে যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

রোববার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে এসকে সুরের লকার খুলতে দুদকের সাত সদস্যের একটি টিম আসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। দুদকের পরিচালক কাজী সায়েমুজ্জমানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

এ সময় উপস্থিতি ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা সালেহা নুর। টানা সাড়ে ১০ ঘণ্টা তল্লাশি শেষে অভিযান সমাপ্ত করা হয় রাত ৯টা ২০ মিনিটে।

লকা‌রে যে সব স্বর্ণালংকার পাওয়া গে‌ছে- ২৩টি সোনার চেইন যার ওজন ১৭৬.৩ গ্রাম, দুইটি টিকলি ২০০৭ গ্রাম, কানের দুল ১২টা ৮৯২ গ্রাম, লকেট ৩টা এক দশ‌মিক ৩ গ্রাম, ছয়টি চুড়ি ১০৭ গ্রাম, দু‌টি সিতাহার ১২০.৯ গ্রাম, তিন‌টি আংটি ১৮.৩ গ্রাম, সোনার কয়েন তিনটি ওজন ২৩৯ গ্রাম, সোনার চামচ একটি ওজন ৬ গ্রাম, ১০০ নোলক ৮ গ্রাম, ব্রেসলেট ১৬ গ্রাম গলার হার তিনটি যার ওজন ৫৭.৩ গ্রাম, মুকুট একটি ওজন ১৫৪ গ্রাম। আরেক লকা‌রে চূড় ২টি ৩২.৯ গ্রাম, চুরি-২টি ২১ গ্রাম, সিতাহার একটি পিস ১১ গ্রাম, মুকুট ২পিস ২১.৭ গ্রাম, লকেট ২পিস ২৬৮ গ্রাম, টিকলি একটি ৬৯ গ্রাম, গলার চেইন ৩টি ওজন ৩৯.৩ গ্রাম, গলার হার ২টি ৩২.৫ গ্রাম, কানের দুল ৮টি ৫৮.৮ গ্রাম ও শার্টের বোতাম (স্বর্ণ) ৪টি ৬২ গ্রাম।

অভিযান প্রসঙ্গে দুদকের পরিচালক কাজী সায়েমুজ্জামান বলেন, দুদকের অনুমোদন ক্রমে এসকে সুরের জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদের তথ্য থাকায় তার সম্পদের হিসাব দেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি হিসাব জমা দেননি। এজন্য আমরা তার সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য তার বাসায় অভিযান চালাই। অভিযানে তথ্য পাওয়া যায় তার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লকারে মালামাল রয়েছে। তার ভিত্তিতে আদালতের অনুমোদন ক্রমে রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের লকারে তল্লাশি করা হয়। সারাদিন তল্লাশি শেষে এক কেজি ৫ গ্রাম স্বর্ণ, ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩০০ ডলার, ৫৫ হাজার ইউরো ও ৭০ লাখ টাকার এফডিআর পেয়েছি। যেসব এফডিআর পাওয়া গেছে তা তার নামে নয়। যেসব অ্যাকাউন্টে আছে তা আমরা যাচাই করবো।

তিনি আরও বলেন, আমরা যা পেয়েছি তার ২২ পাতার একটি জব্দ তালিকা তৈরি করেছি। সোমবার আদলতে উপস্থাপন করবো। যে সম্পদ পাওয়া গেছে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জিম্মায় রাখা হয়েছে। আদালত পরবর্তীতে যে ধরনের নির্দেশ দিবেন সেভাবে কাজ করবো। এছাড়া পরবর্তীতে বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখা হবে এসব বৈধ আয়ের অন্তর্ভুক্ত কিনা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. আমজাদ হোসাইন খান বলেন, আজকে আদলতের নির্দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্রিয়া মেনে লকারে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক। যেসব সম্পদ পাওয়া গেছে তা বাংলাদেশ ব্যাংকের জিম্মায় রয়েছে। আদলতের নির্দেশনা মেনে সরকারের কোষাগারে অস্থায়ীভাবে এসব সম্পদ জমা দেওয়া হবে। অথবা আদালত যে নির্দেশনা দিবে তা পালন করা হবে।

এর গত ১৯ জানুয়ারি অভিযান চালিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডিতে এস কে সুরের বাসা থেকে ১৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা জব্দের সময় তার নামে বাংলাদেশ ব্যাংকে ভল্ট থাকার তথ্য পায় দুদক। পরে সংস্থাটি জানতে পারে, সেটি ভল্ট নয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল্যবান সামগ্রী রাখার লকার (সেফ ডিপোজিট)।

এরপর দুদক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে দেওয়া চিঠিতে লকারের সামগ্রী স্থানান্তর ও হস্তান্তর না করতে বলে। ২১ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরাপত্তা শাখা থেকে দুদককে ফিরতি চিঠি দিয়ে লকারের সামগ্রী স্থানান্তর স্থগিত করার তথ্য জানায়। চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের লকারে বিধি অনুযায়ী ব্যাংকে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত মূল্যবান সামগ্রী তাদের নিজ নামে প্যাকেট অথবা কৌটায় নিজ দায়িত্বে সিলগালাযুক্ত অবস্থায় জমার তারিখ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত রাখা হয়।




ব্যাংকারদের বিদেশ ভ্রমণে আর বাধা নেই

ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিদেশযাত্রায় সব ধরনের বাধা উঠিয়ে নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংকারদের বিদেশে ভ্রমণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকেরও কোনো অনুমতির প্রয়োজন হবে না। ব্যাংকের ভ্রমণ নীতিমালা অনুযায়ী কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ, সভা, সেমিনার, কর্মশালা ও শিক্ষাসফরে যেতে পারবেন।

রোববার (১৯ জানুয়ারি) এক সার্কুলার জা‌রি ক‌রে এই নির্দেশনা দি‌য়ে‌ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নির্দেশনায় বলা হয়, এখন থেকে ব্যাংকারদের বিদেশে ভ্রমণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকেরও কোনো অনুমতির প্রয়োজন হবে না। ব্যাংকের ভ্রমণ নীতিমালা অনুযায়ী কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ, সভা, সেমিনার, কর্মশালা ও শিক্ষাসফরে যেতে পারবেন।




সেবার অর্থ বিদেশে পাঠানো সহজ করলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক

বাংলাদেশ থেকে সেবার বিপরীতে অর্থ বিদেশে পাঠানো সহজ করলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে সেবার অর্থ বিদেশে পাঠাতে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদন লাগবে না। ব্যাংকগুলোকে তাদের নিজস্ব নিয়মিত বৈদেশিক ব্যয় বাবদ অর্থ বিদেশে পাঠাতে পারবে।

রোববার (১২ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।

সার্কুলার অনুযায়ী, সেবা খাতের ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে রয়টার্স মনিটর, ব্লুমবার্গ ফি, ব্যাংকার্স আলমনার্ক, ডিউ ডিলিজেন্স রেপোজিটরি ব্যয়, ক্রেডিট রেটিং সার্ভিস ফি, মূল্য যাচাই ফি, প্রভৃতি। এছাড়া ব্যাংকগুলোকে বিদেশ ভ্রমণকারীদের লাউঞ্জ সুবিধার সঙ্গে সম্পর্কিত খরচ পরিশোধের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে বছরে একজন কার্ড হোল্ডার ৫০০ মার্কিন ডলারের বেশি খরচ করতে পারবে না।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান যেমন ব্রোকারেজ ফার্ম, মার্চেন্টব্যাংক, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ইত্যাদি, আর্থিক ইনফরমেশন এবং কমিউনিকেশন সংক্রান্ত সেবার জন্য বিদেশে ফি প্রেরণের জন্য অনুমতির প্রয়োজন হবেনা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব ব্যয় পরিশোধ করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতির প্রয়োজন নিতে হতো। এই সার্কুলারের ফলে বিদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ হলো।




ডলারের দাম বাজারমুখী করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ডলারের দাম বাজারমুখী করার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে এখন থেকে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের অনুমোদিত ব্যাংক শাখাগুলো (এডি ব্রাঞ্চ) তাদের গ্রাহক ও ডিলাররা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে দাম নির্ধারণ করতে পারবে।

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ৫ জানুয়ারি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের অনুমোদিত শাখাগুলো থেকে প্রতিদিন দুইবার বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচার তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংককে পাঠাবে।

এক লাখ ডলারের বেশি কেনাবেচার তথ্য সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে। এ ছাড়া বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচার তথ্য বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে বলা হয়েছে নির্দেশনায়। বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত ছকে এসব তথ্য জানাতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, ১২ জানুয়ারি থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার কেনাবেচার তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিদিনের একটি ভিত্তিমূল্য বা রেফারেন্স প্রাইস প্রকাশ করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই ভিত্তিমূল্য প্রকাশ করা হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে হস্তক্ষেপ বিষয়ক একটি নীতিমালাও প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছে। ডলারসহ অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রার দাম বাজারভিত্তিক রাখতে এই নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে বাজারভিত্তিক দামের সুবিধা নিয়ে কেউ বৈদেশিক মুদ্রা বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলতে না পারে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) চলতি বছরের মধ্যে ডলারের দাম বাজারভিত্তিক করার পরামর্শ দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২৫ সালের মধ্যে ডলারের দাম পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। তারই অংশ হিসেবে ডলারের দাম এখনকার তুলনায় আরও কিছুটা বাজারমুখী করতে নতুন সার্কুলার জারি করেছে।




ক্রেডিট কার্ডে ভারতের পরিবর্তে থাইল্যান্ড খরচ করছেন বাংলাদেশিরা

দেশের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশিরা ক্রেডিট কার্ডে বিভিন্ন সেবা ও পণ্য কিনে চলতি বছরের অক্টোবর মাসে ৪৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা খরচ করেছেন। অন্যদিকে বিদেশিরা বাংলাদেশে ১২৯ কোটি টাকার লেনদেন করেছেন ক্রেডিট কার্ডে।

ক্রেডিট কার্ডে দেশে-বিদেশে লেনদেন সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, বাংলাদেশিরা বিদেশে গিয়ে ক্রেডিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ করেন কয়েকটি দেশে। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, থাইল্যান্ড, আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুর। বিদেশে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ডে খরচের সিংহভাগই হয় এ ছয় দেশে।

আগে বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ প্রতি মাসে ভারতে ভ্রমণ ও চিকিৎসার জন্য যেতেন এবং দেশটিতে ক্রেডিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ করতেন। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিদেশে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে আমূল পরিবর্তন এসেছে। গত সেপ্টেম্বরে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশিরা ক্রেডিট কার্ডে খরচ করেছিলেন ৪২ কোটি টাকা। অক্টোবরে এ খরচ একলাফে বেড়ে দাঁড়ায় ৫৭ কোটি টাকায়। ফলে বিদেশে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে দেশটি। সেপ্টেম্বরেও দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ভারত। অক্টোবরে ক্রেডিট কার্ডে ভারতে বাংলাদেশিদের ব্যয় তৃতীয় স্থানে চলে গেছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগস্টের পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশিদের জন্য ভ্রমণ-চিকিৎসাসহ অন্যান্য ভিসায় কড়াকড়ির আরোপ করেছে ভারত। যার কারণে দেশটিতে বাংলাদেশিদের ভ্রমণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে। ফলে দেশটিতে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারও কমে গেছে। এখন চিকিৎসা ও ভ্রমণের জন্য ভারতের পরিবর্তে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরকে বেছে নিচ্ছেন বাংলাদেশিরা। এতে করে এসব দেশে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারও বেড়েছে।

ছাত্র-জনতার অবিস্মরণীয় অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের টানা ১৬ বছরের নজিরবিহীন দুঃশাসন ও স্বেচ্ছাচারিতার অবসান ঘটে। সরকার পরিবর্তনের পর থেকে বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটক ভিসা বন্ধ রেখেছে ভারত সরকার। ভিসা কবে চালু হবে এ বিষয়ে কোনো আশ্বাস পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা জানান, এখন যাদের জরুরি প্রয়োজন, শুধু তাদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে। কারণ, লোকবল কম। কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে এটি (ট্যুরিস্ট ভিসা) শুরু করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছরই সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যটক ভারতের কলকাতা, দিল্লি, দার্জিলিং, সিকিম, মেঘালয়, কাশ্মিরসহ বিভিন্ন প্রদেশে যেতেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগ দেশের ক্রেডিট কার্ড ইস্যুকারী ৪৪টি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে দেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের এবং দেশের ভেতরে বিদেশি নাগরিকদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের তথ্য তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরে দেশে-বিদেশে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। দেশের অভ্যন্তরে এক মাসের ব্যবধানে ক্রেডিট কার্ডে খরচ বেড়েছে ১৯৭ কোটি টাকা বা প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ। আর বিদেশে খরচ বেড়েছে ৭৮ কোটি টাকা বা সাড়ে ১৮ শতাংশের বেশি।

গত অক্টোবরে দেশের অভ্যন্তরে ক্রেডিট কার্ডে খরচ করা হয়েছে ২ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। গত সেপ্টেম্বরে যার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা। আর অক্টোবরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্রেডিট কার্ডে বাংলাদেশিরা খরচ করেছেন ৪৯৯ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে যার পরিমাণ ছিল ৪২১ কোটি টাকা। বিদেশে বাংলাদেশি ক্রেডিট কার্ডের সর্বোচ্চ ব্যবহার এখন যুক্তরাষ্ট্রে। অক্টোবরে দেশটিতে খরচ হয়েছে ৮৪ কোটি টাকা, সেপ্টেম্বরে যার পরিমাণ ছিল ৭৭ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি ক্রেডিট কার্ডে খরচ বেড়েছে ৭ কোটি টাকা বা সোয়া ৮ শতাংশের বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিদেশে বাংলাদেশিরা ক্রেডিট কার্ডে যত অর্থ খরচ করেন, তার ২৮ শতাংশের বেশি বা প্রায় এক–তৃতীয়াংশ খরচ হয় যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ডে। অক্টোবরে বিদেশে খরচ হওয়া ৪৯৯ কোটি টাকার মধ্যে ১৪১ কোটি টাকায় খরচ হয়েছে এই দুই দেশে। ক্রেডিট কার্ডে খরচের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে ছিল ভারত। দেশটিতে অক্টোবরে বাংলাদেশিরা খরচ করেছেন ৫৪ কোটি টাকা, যা আগের মাসের চেয়ে চার কোটি টাকা বেশি।

বিদেশে ক্রেডিট কার্ডে খরচের দিক থেকে থাইল্যান্ডের পর বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে সিঙ্গাপুরে। দেশটিতে অক্টোবরে বাংলাদেশিরা খরচ করেছেন ৪৩ কোটি টাকা, সেপ্টেম্বরে যার পরিমাণ ছিল ৩০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে দেশটিতে ক্রেডিট কার্ডে খরচ ১৩ কোটি টাকা বেড়েছে।

এদিকে দেশে-বিদেশে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশিদের ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার বেড়েছে। গত অক্টোবরে বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশিরা ক্রেডিট কার্ডে ১২৯ কোটি টাকা খরচ করেছেন। সেপ্টেম্বরে যার পরিমাণ ছিল ১১১ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে বিদেশিদের খরচ বেড়েছে ১৮ কোটি টাকা বা সোয়া ১৬ শতাংশ। এ দেশে বিদেশিরা ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি করেন নগদ অর্থ উত্তোলনে। অক্টোবরে ১২৯ কোটি টাকা খরচের মধ্যে ৪৭ কোটি টাকায় বিদেশিরা নগদে উত্তোলন করেছেন।




বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ঋণ পরিশোধে সময় বাড়লো

দেশে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ পরিশোধ ও সমন্বয়ে বাড়তি সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী বন্যার কারণে প্লাবিত কয়েকটি জেলার কৃষি এবং সিএমএসএমই খাতের ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের নির্ধারিত সময়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ ও সমন্বয়ে অতিরিক্ত সময় পাচ্ছেন।

রোববার (১৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

বিজ্ঞাপন

নতুন নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা নির্ধারিত সময়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ ও সমন্বয়ে তিন মাস অতিরিক্ত সময় পাচ্ছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের ঋণ পরিশোধ ও সমন্বয় সহজীকরণের লক্ষ্যে চলতি বছরের আগস্ট থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে প্রদেয় ঋণের কিস্তিসমূহ সংশ্লিষ্ট ঋণের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এছাড়াও গত আগস্ট থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে সমন্বয়যোগ্য ঋণের সমন্বয়ের মেয়াদ তিন মাস বৃদ্ধি করা যাবে।

তবে গ্রাহকরা প্রকৃতই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কি না তা ফাইন্যান্স কোম্পানিসমূহ নিজ উদ্যোগের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। কোনো গ্রাহক নতুন সুবিধা নিতে সম্মত না হলে পূর্ব নির্ধারিত পরিশোধসূচি অনুযায়ী ঋণের কিস্তি পরিশোধ কিংবা ঋণ সমন্বয় করতে পারবেন। বিলম্বে পরিশোধিত অর্থের ওপর নিয়মিত সুদ ব্যতীত অন্য কোনো প্রকার দণ্ড সুদ বা অতিরিক্ত সুদ বা বিলম্ব ফি আদায় করা যাবে না।




জুলাই বিপ্লবে হতাহতদের ৫ কো‌টি টাকা দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলনে অর্থাৎ জুলাই বিপ্লবে আহত ও নিহতদের পরিবারকে সাহায্যে গঠিত ফাউন্ডেশনের হিসাবে পাঁচ কোটি টাকা দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বৃহস্প‌তিবার (২৯ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জা‌নিয়েছে।

কোটা সংস্কার ও সরকার পতনের আন্দোলনে দেশে সহস্রাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় চার শতাধিক মানুষ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। তিনি বলেন, আন্দোলনকে ঘিরে যারা নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারের দায়দায়িত্ব সরকার নেবে এবং যারা আহত হয়েছেন তাদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হবে।

 

নূরজাহান বেগম বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে এখন পর্যন্ত এক হাজারের ওপরে নিহত হয়েছেন এবং ৪০০ জনের ওপরে ছাত্র-জনতা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। অনেকের এক চোখ অন্ধ হয়ে গেছে, অনেকে দুই চোখেই দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। আমেরিকার সেবা নামক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। যাদের চোখ অন্ধ হয়ে গেছে বা চোখে সমস্যা দেখা দিয়েছে, আমরা সেবা ফাউন্ডেশনকে তাদের তালিকা পাঠিয়েছি।




 বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হতে পারেন আহসান এইচ মনসুর

অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী গভর্নর হতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। তবে তাঁকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন পরিবর্তন করতে হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়রের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ জন্য আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আহসান এইচ মনসুর বর্তমানে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক। আগে তিনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দেশের আর্থিক খাতের একজন বিশ্লেষক হিসেবে সুপরিচিত।

তবে আহসার এইচ মনসুরকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ সংশোধন করতে হবে সরকারকে। বর্তমান আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৬৭ বছর বয়সী কোনো ব্যক্তিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ করা যায়। কিন্তু আহসান এইচ মনসুরের বয়স এখন ৭২ বছর ৮ মাস। সে কারণে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

আর্থিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গভর্নর নিয়োগে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রধান উপদেষ্টার বিবেচনার জন্য পাঠানো হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদন পাওয়া গেলে তা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে তাঁর বিবেচনার জন্য। রাষ্ট্রপতি এই প্রস্তাব অনুমোদন করলে অধ্যাদেশ আকারে তা জারি করা হবে।

আজ মঙ্গলবারই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে বলে কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে।
এর আগেও গভর্নর নিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ সংশোধন করা হয়েছিল। সাবেক গভর্নর ফজলে কবিরকে আবার নিয়োগ দিতে সংশোধন করা হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, যা ছিল দেশের ইতিহাসে প্রথম ঘটনা। আইন সংশোধনের পর গভর্নর হিসেবে ২০২০ সালের জুলাই মাসে তাঁকে দুই বছরের জন্য পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।

রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমান পদত্যাগ করলে পরদিনই সাবেক অর্থ সচিব ফজলে কবিরকে চার বছরের জন্য গভর্নর নিয়োগ দিয়েছিল সরকার। তিনি দায়িত্ব নেন ২০ মার্চ। সে হিসেবে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের ১৯ মার্চ।

কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩৪ দিন আগে ওই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি গভর্নর হিসেবে ফজলে কবিরের মেয়াদ ৩ মাস ১৩ দিনের জন্য বাড়িয়ে দেয় সরকার। তখন বলা হয়, আইন অনুযায়ী ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তিনি গভর্নর থাকবেন। ফজলে কবিরের ৬৫ বছর পূর্ণ হয় ২০২০ সালের ৩ জুলাই। কিন্তু তাঁকে পুনরায় নিয়োগ দিতে আইন সংশোধন করে গভর্নর নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়স ৬৭ করা হয়।




পদত্যাগ করে‌ছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার পদত্যাগ ক‌রে‌ছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সং‌শ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত ক‌রে‌ছেন।

ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেলে গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন।

ছাত্র-জনতার অবিস্মরণীয় অভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে গেছেন শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে টানা ১৬ বছর আওয়ামী লীগের নজিরবিহীন দুঃশাসন ও স্বেচ্ছাচারিতার অবসান ঘটে। এদিকে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর খোঁজ মিলছে না গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে আসছেন না। অনেকে বলছেন, দেশ থেকে পালাতে তিনি অনেক মহলে দেনদরবার করে যাচ্ছেন।

এদিকে গত বুধবার (৭ আগস্ট) নজিরবিহীন বিক্ষোভ হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। ওইদিন বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ ব্যাংকের চার ডেপুটি গভর্নর। তারা হলেন– কাজী সাইদুর রহমান, খুরশীদ আলম, হাবিবুর রহমান এবং নুরুন নাহার। এর মধ্যে কাজী সাইদুর রহমান ক্ষুব্ধ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সাদা কাগজে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেন।

 

অন্যরা পদত্যাগ করবেন জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ত্যাগ করেন। আর বিএফআইইউ প্রধান মাসুদ বিশ্বাস এবং নীতি উপদেষ্টা আবু ফরাহ মো. নাসেরকে বাংলাদেশ ব্যাংকে ঢুকতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিক্ষোভকারী কর্মকর্তারা।

পরিবর্তনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এমন ঘটনা এই প্রথম ঘটল বলে জানান জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।

কর্মকর্তারা ব‌লেন, ব্যাংক খাতের ভঙ্গুরতার কারণে দেশে অর্থনীতির আজকের এই খারাপ অবস্থা তৈরি হয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষ কষ্টে আছে। এখন শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্র সংস্কারের দাবির সঙ্গে তারা সহমত পোষণ করে অবিলম্বে তাদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান। গভর্নরসহ বিভিন্ন অনিয়মে দায়ী এসব কর্মকর্তা যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ছাড়া যেসব নির্বাহী পরিচালক অনিয়মে সহায়তা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রাথমিকভাবে তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিতে হবে।




একলাফে ডলারের দাম ৭ টাকা বাড়ালো বাংলাদেশ ব্যাংক

ডলারের অফিসিয়াল দাম ১১০ থেকে ১১৭ টাকায় উন্নীত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বুধবার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ দাম ঘোষণা করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে পণ্যের দাম বেড়ে যাবে, চাপে পড়বে সাধারণ মানুষ।

বুধবার (৮ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এখন থেকে ক্রলিং পেগ নামের নতুন পদ্ধতিতে ডলার কেনাবেচা হবে। এ পদ্ধতিতে ডলারের রেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৭ টাকা। কিন্তু গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডলারের দাম ছিল ১১০ টাকা, যা ছিল অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার বাংলাদেশ (এবিবি) এবং বাফেদা নির্ধারিত।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় আমদানি খরচ বেড়ে যাবে, দাম বাড়বে পণ্যের। চাপ বাড়বে সাধারণ মানুষের ওপর। মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাবে। নেতিবাচক প্রভাব পড়বে আমদানিতে।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের দেশ আমদানিনির্ভর। দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের অর্থনীতি চাপে আছে। এখন হঠাৎ করেই ডলারের দাম খুব বেশি হলে এর নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হবে। বিশেষ করে আমদানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। পণ্যের আমদানি খরচ বেড়ে যাবে। এতে পণ্যের দামও বাড়াতে বাধ্য হবেন আমদানিকারকরা।

তিনি বলেন, হঠাৎ করেই ডলারের বেশি দাম বাড়ার এমন সিদ্ধান্তে চাপে পড়বেন সাধারণ মানুষ। মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাবে, মানুষ কষ্ট পাবেন। তবুও আমাদের অর্থনীতি একটা জায়গায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে ধীরে ধীরে দাম বাড়লে হয়তো কষ্ট কিছুটা কম হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত হবে সবদিক বিবেচনায় নেওয়া।

এ নিয়ে সাবেক তত্ত্বাবধারক সরকারের উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ডলারের রেট ১১৭ টাকা নির্ধারণ ক্রলিং পেগের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা গেলে ভালো। তবে এতে মূল্যস্ফীতি বাড়ার সম্ভাবনা অবশ্যই রয়েছে।




মার্চে রেমিট্যান্স এলো ১৯৯ কোটি ৬৮ লাখ মার্কিন ডলার

প্রতিবছর ঈদের আগে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় বেড়ে যায়। কিন্তু এবার উল্টো চিত্র। কমে গেছে রেমিট্যান্স প্রবাহ।

সোমবার (১ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানা গেছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সদ্য সমাপ্ত মার্চ মাসে বৈধ বা ব্যাংকিং চ্যানেলে ১৯৯ কোটি ৬৮ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দেশীয় মুদ্রায় (প্র‌তি ডলার ১১০ টাকা ধ‌রে) যার পরিমাণ ২১ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চে আসা প্রবাসী আয় তার আগের মাস ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ কোটি ৭৭ লাখ ডলার বা ৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ কম। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রবাসী আয় ছিল ২১৬ কোটি ৪৫ লাখ ডলার। এছাড়া মার্চে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স কমেছে ২ কোটি ৫৬ লাখ ডলার বা ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। গত বছরের মার্চে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২ কোটি ২৪ লাখ মার্কিন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মার্চ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৯ কোটি ৬৮ লাখ মার্কিন ডলার (১৯ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন)। তার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২৬ কোটি ১৭ লাখ ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৬৯ কোটি ১৭ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৮১ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।

চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২১০ কোটি মার্কিন ডলার, আর ফেব্রুয়ারিতে আসে ২১৬ কো‌টি ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার।

গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১৬১ কোটি ৭ লাখ মার্কিন ডলার। আগের ২০২১-২০২২ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার। যা সর্বোচ্চ পরিমাণ রেমিট্যান্স।রে




আদায় করা অতিরিক্ত সুপারভিশন চার্জ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ

অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি (সিএমএসএমই) শিল্প খাত ও ভোক্তা ঋণের প্রশাসনিক ব্যয় শিল্প ও অন্যান্য ঋণের চেয়ে বেশি হওয়ায় এসব ঋণে অতিরিক্ত ১ শতাংশ সুপারভিশন চার্জ আরোপ করার বিধান রয়েছে। কিন্তু কিছু ব্যাংক ভোক্তাদের থেকে এর চেয়ে বেশি চার্জ আদায় করছে। এমন পরিস্থিতিতে আদায় করা অতিরিক্ত সুপারভিশন চার্জ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সোমবার (১৮ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে জারি করা একটি সার্কুলার জারি করে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, সিএমএসএমই ও ভোক্তা খাতের ঋণ প্রদানে ব্যাংকগুলোকে আগ্রহী করতে সিএমএসএমই এবং ভোক্তা ঋণের আওতাধীন ব্যক্তিগত ও গাড়ি ক্রয় ঋণে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ সুপারভিশন চার্জ প্রদানের বিধান রয়েছে। এই সুপারভিশন চার্জ বছরে একবার আদায় বা আরোপ করা যাবে। পাশাপাশি বার্ষিক ভিত্তিতে আরোপিত এ সুপারভিশন চার্জের ওপর চক্রবৃদ্ধি হারে কোনো চার্জ বা সুদ আরোপ করা যাবে না। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ব্যাংক ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বনপূর্বক সুপারভিশন চার্জ হিসাবায়ন করার কারণে ক্ষেত্রমতে গ্রাহক থেকে অধিক পরিমাণ সুপারভিশন চার্জ আদায় করছে বলে মনে করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এমন পরিস্থিতিতে কোনো ঋণ গ্রহীতার কাছ থেকে অতিরিক্ত সুপারভিশন চার্জ আদায় করা হয়ে থাকলে তা ফেরত দেওয়া বা সমন্বয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, মেয়াদি ঋণের সুপারভিশন চার্জ আরোপের ক্ষেত্রে মূল ঋণের গড় স্থিতিকে ভিত্তি হিসেবে গণ্য করত সুপারভিশন চার্জ হিসাবায়ন করতে হবে। চলমান ঋণের ক্ষেত্রে মূল ঋণের দৈনিক গড় স্থিতিকে ভিত্তি হিসেবে গণ্য করে সুপারভিশন চার্জ হিসাবায়ন করতে হবে। সুপারভিশন চার্জের ওপর কোনো ধরনের জরিমানা অথবা সুদ আরোপ করা যাবে না।

ঋণ গ্রহীতাদের জন্য সুপারভিশন চার্জ পরিশোধের পদ্ধতি সহজ করার লক্ষ্যে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঋণের পরিশোধ সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মাসিক বা ত্রৈমাসিক বা ষান্মাসিক ভিত্তিতে এ চার্জ আদায়যোগ্য হবে। চলমান ঋণের ক্ষেত্রে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সুদ আদায়ের সময় প্রাপ্য সুপারভিশন চার্জ আদায় করা যাবে। তলবি ঋণের ক্ষেত্রে মেয়াদান্তে পরিশোধের সময় এককালীন আদায় করা যাবে অথবা উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে মেয়াদের মধ্যে একাধিক কিস্তিতে আদায়যোগ্য হবে।

মাসিক বা ত্রৈমাসিক অথবা ষান্মাসিক ভিত্তিতে সুপারভিশন চার্জ আদায় করা হলে, বছরান্তে প্রাপ্ত গড় স্থিতির হিসাবের ভিত্তিতে সুপারভিশন চার্জ সমন্বয় করতে হবে। শরীয়াহ ভিত্তিক পরিচালিত ব্যাংকগুলো তাদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উল্লিখিত নির্দেশনা অনুসরণকরত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।




রমজানে হাটবাজার শপিংমলে জালনোট প্রতিরোধে ভিডিও চিত্র প্রদর্শনের নির্দেশ

রমজান মাসে নোট জালকারী চক্রের অপতৎপরতা প্রতিরোধ করতে বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নির্দেশনার মধ্যে রাজধানীতে ৫৮টি স্থানে জালনোট প্রতিরোধে ব্যাংক নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্বলিত ভিডিও ব্যাংকের সামনে প্রদর্শন করার কথা বলা হয়েছে।

সোমবার (১৮ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংক নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্বলিত ভিডিও চিত্র রমজান মাসে ঢাকা শহর এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখাগুলোর নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বগুড়া জেলাসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহরের গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থল, হাটবাজার শপিংমল, বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশনসহ রাস্তার মোড়ে সন্ধ্যার পর কমপক্ষে ১ ঘণ্টা করে প্রচার করতে হবে। দেশের ব্যাংকগুলোর শাখায় গ্রাহকদের জন্য স্থাপিত টিভি মনিটরগুলোতে ভিডিও চিত্রটি পুরো ব্যাংকিং সময়ে প্রদর্শন করতে হবে।

ব্যাংকের শাখাগুলোতে উচ্চ মূল্যমানের নোট গ্রহণ ও প্রদানকালে এবং এটিএম মেশিনে টাকা ফিডিংয়ের পূর্বে আবশ্যিকভাবে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন দ্বারা নোট পরীক্ষা করতে হবে। রমজান মাস শেষ হওয়ার পর ১০ কর্মদিবসের মধ্যে আলোচিত নির্দেশনা পরিপালনের স্বপক্ষে একটি সচিত্র প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে জমা দিতে হবে।




যেকোন সু‌দে আমানত নিতে পারবে ব্যাংক

আমানত সংগ্রহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সর্বনিম্ন সুদহারের যে নির্দেশনা ছিল তা তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ব্যাংকগুলো নিজেদের ইচ্ছামতো সুদহার নির্ধারণ করতে পারবে এবং সে অনুযায়ী আমানত জমা নিতে পারবে।

মঙ্গলবার (১২ ডি‌সেম্বর) এক সার্কুলারের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে ওই সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ৮ আগস্ট জারি করা সার্কুলারের মাধ্যমে আমানত সংগ্রহে সুদহারের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। তখন মেয়াদি আমানতের সুদহার মূল্যস্ফীতির নিচে না রাখতে বলা হয়েছিল। ওই সময়ে ঋণ বিতরণের সর্বোচ্চ সুদহার ছিল ৯ শতাংশ। কিন্তু এখন আর ঋণের ক্ষেত্রে ওই সীমা নেই। এ বছ‌রের জুলাই থেকে ঋণের বাজারভিত্তিক সুদহার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। তাই আমানতের ক্ষেত্রেও সুদহারের সর্বনিম্ন সীমার দরকার নেই। এ কারণে ২০২১ সা‌লের ৮ আগস্ট-এর ওই নির্দেশনা রহিত করা হলো।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি টানা বাড়ছিল। এখনো তুলনামূলক বেশি আছে মূল্যস্ফীতি। বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতি গত ৫-৬ মাসে ১২ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। সবশেষ নভেম্বর মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ। সংকট সামাল দিতে ব্যাংক ঋণের সুদহার বাড়া‌নোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এখনো তার কোনো প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

যে পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে এখন ঋণের সুদহার নির্ধারিত হচ্ছে, তা ‘এসএমএআরটি’ বা ‘স্মার্ট’‘এসএমএআরটি’ বা ‘স্মার্ট’ তথা– সিক্স মান্থ মুভিং এভারেজ রেট অব ট্রেজারি বিল হিসেবে পরিচিত। প্রতি মাসের শুরুতে এই হার জানিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের জুলাইয়ে ১৮২ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের ৬ মাসের গড় সুদহার (স্মার্ট রেট) ছিল ৭ দশমিক ১০ শতাংশ, আগস্টে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বরে বেড়ে হয় ৭ দশমিক ২০ শতাংশ। এছাড়া অক্টোবরে ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং সবশেষ নভেম্বরে স্মার্ট রেট বেড়ে দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৭২ শতাংশে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, অক্টোবর মাসের ‘স্মার্ট’ হারের সঙ্গে এখন সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে মার্জিন বা সুদ যোগ করে ডিসেম্বর মাসে ঋণ দিতে পারবে ব্যাংকগুলো। অন্যদিকে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে মার্জিন যোগ করতে পারে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। অবশ্য একবার সুদহার কার্যকর করা হলে পরবর্তী ছয় মাসে তা আর পরিবর্তন করা যায় না।




১০ শতাংশ ছাড়াল কৃষি ও রপ্তানি ঋণের সুদহার

অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে ঋণের সুদহার বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সে অনুযায়ী ‘এসএমএআরটি’ বা ‘স্মার্ট’ রেট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রি-শিপমেন্ট রপ্তানি এবং কৃষি ও পল্লি ঋণের সুদহার নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্মার্ট-এর সঙ্গে সর্বোচ্চ আড়াই শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ মার্জিন নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে বড় অঙ্কের ঋণে সর্বোচ্চ সুদহার হবে ১১ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং প্রি-শিপমেন্ট রপ্তানি ও কৃষি ঋণের সুদহার হবে ১০ দশমিক ১৮ শতাংশ।

সোমবার (২৭ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সুদহার নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্মার্ট-এর সঙ্গে সাড়ে ৩ শতাংশের জায়গায় সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ মার্জিন যোগ করতে হবে। এছাড়া প্রি-শিপমেন্ট রপ্তানি ঋণের সুদহার নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্মার্ট-এর সঙ্গে সর্বোচ্চ আড়াই শতাংশের স্থলে সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ মার্জিন যোগ করে সুদহার নির্ধারণ করতে হবে। একইসঙ্গে কৃষি ও পল্লী ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মার্জিন হবে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

যে পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে এখন ঋণের সুদহার নির্ধারিত হচ্ছে, তা হলো ‘এসএমএআরটি’ বা ‘স্মার্ট’, যা সিক্স মান্থ মুভিং এভারেজ রেট অব ট্রেজারি বিল হিসেবে পরিচিত। প্রতি মাসের শুরুতে এ হার জানিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

চলতি বছরের অক্টোবরে ১৮২ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের ৬ মাসের গড় সুদহার (স্মার্ট রেট) ছিল ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, ‘স্মার্ট’ হারের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে মার্জিন বা সুদ যোগ করে নভেম্বর মাসে ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক। সেই হিসাবে, চলতি নভেম্বর মাস থেকে বড় অঙ্কের ঋণে সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ১৮ শতাংশ সুদ নিতে পারবে ব্যাংক। এছাড়া প্রি-শিপমেন্ট রপ্তানি ও কৃষি ঋণের সুদহার হবে ১০ দশমিক ১৮ শতাংশ। তবে নভেম্বরে ঠিক করা ঋণের এই সুদহার পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে পরিবর্তন করা যাবে না।

এর আগে মনিটারি পলিসি কমিটির (এমপিসি) প্রথম সভায় চার ধরনের সুদহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সভায় অভ্যন্তরীণ এবং বৈশ্বিকসহ সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি, বিনিময় হার, তারল্য ও সুদহার পরিস্থিতি এবং নীতি সুদহারের গতিবিধি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ এবং ব্যাংকিং খাতে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণের সমস্যা মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে সবাই একমত হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, এর মাধ্যমে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি চলতি বছরের ডিসেম্বর শেষে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে ৮ শতাংশে এবং আগামী জুন শেষে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা যাবে। এদিকে, বিনিময় হার ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সুদহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে, গত অক্টোবর মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ, যা গত ১১ বছর ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

সহজ করে বলা যায়, গত অক্টোবর মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ হওয়া মানে ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে একজন মানুষের যদি চাল, ডাল, চিনি, তেল, মাছ-মাংসসহ যাবতীয় খাদ্যপণ্য কিনতে ১০০ টাকা খরচ হয়; তাহলে এ বছরের অক্টোবরে একই খাবার কিনতে তার খরচ হয়েছে ১১২ টাকা ৫৬ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে খাবার কেনায় প্রতি ১০০ টাকায় খরচ বেড়েছে ১২ টাকা ৫৬ পয়সা।




জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ঋণ পুনঃতফসিলের সময় বাড়ল

জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ঋণ বা বিনিয়োগ পুনঃতফসিলে আবারও সময় বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ শিল্পের ঋণ পুনঃতফসিলের সময় আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আগের সার্কুলার অনুযায়ী ঋণ পুনঃতফসিলের সময় ছিল আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। নতুন করে সময় বাড়ানোর ফলে জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ব্যবসায়ীরা ঋণ পুনঃতফসিলে আরও এক মাস সময় পেল।

সোমবার (২৭ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট পাঠিয়েছে।

চলতি বছরের গত জুন ও সেপ্টেম্বরে জারি করা সার্কুলারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন জারি করা সার্কুলারে বলা হয়েছে, ঋণ বা বিনিয়োগ হিসাব পুনঃতফসিলিকরণের লক্ষ্যে ডাউন পেমেন্ট বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থ নগদে জমা করে গ্রাহক কর্তৃক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিকট আবেদন দাখিলের সময়সীমা আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত বিভিন্ন কারণে এ খাতের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রাহক অদ্যাবধি সার্কুলারে বর্ণিত সুবিধা গ্রহণের লক্ষ্যে ডাউন পেমেন্ট প্রদান ও অন্যান্য শর্তাদি পূরণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বরাবর আবেদন দাখিল করতে পারেনি। এমতাবস্থায়, গ্রাহক কর্তৃক ডাউন পেমেন্ট বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থ নগদে জমা দিয়ে ব্যাংকের নিকট আবেদন দাখিলের সময়সীমা আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলো।

আগে জারি করা সার্কুলার এবং সার্কুলার লেটারে বর্ণিত অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।




আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সব ব্যাংকে সতর্কতা জারি

জনগণের গচ্ছিত অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের তফসিলভুক্ত সব ব্যাংকে নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে।

এই নির্দেশনা দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নির্দেশনায় বলা হয়, ব্যাংক স্থাপনা ও জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যাংকসমূহ কর্তৃক কতিপয় নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে, ব্যাংক স্থাপনার (শাখা, উপশাখা, নিজস্ব/ভাড়াকৃত ভবন ইত্যাদি) প্রবেশ পথে, অভ্যন্তরে, বাহিরে চতুর্দিকে স্থাপিত/স্থাপিতব্য সিসিটিভি/আইপি ক্যামেরা/স্পাই ক্যামেরা সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এতে বলা হয়, ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ যাতে প্রয়োজনে নিকটস্থ থানা/পুলিশ পেতে পারে সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ব্যাংক।

এছাড়া ২০১৫ সালের ৫ জুলাই জারিকৃত বিআরপিডি সার্কুলার নং-০৭ এর অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে। ওই সার্কুলারে ব্যাংক স্থাপনার অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সুত্রোক্ত সার্কুলারের মাধ্যমে ব্যাংক শাখার প্রবেশ পথে, শাখার অভ্যন্তরে, শাখার বাহিরে চতুর্দিকে এবং সব ধরনের আইটি রুমে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিসিটিভি/আইপি ক্যামেরা/স্পাই ক্যামেরা স্থাপন ও ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ ন্যূনতম এক বছর সংরক্ষণ করাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও জানিয়েছে সব ব্যাংকের মুরব্বি হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি।




সাত দিনে রিজার্ভ কমল ১১৮ কোটি ডলার

প্রায় দেড় বছর ধরে ডলার সংকটে ভুগছে বাংলাদেশ। দিনে দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। সংকট মোকাবিলায় বাজারে প্রতিদিনই ডলার বিক্রি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে কমছে।

এ মাসের শুরুতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২ হাজার ৬৬ কোটি মার্কিন ডলার। ব্যাংকগুলো বেশি দামে রেমিট্যান্স কেনায় মাসের প্রথম সপ্তাহে আকুর পেমেন্ট দেওয়ার পরও রিজার্ভ বেড়ে ২ হাজার ৭৮ কোটি ডলারে উঠেছিল। কিন্তু ডলার বিক্রি অব্যাহত থাকায় রিজার্ভ আবারও কমতে শুরু করেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১১৮ কোটি ডলার কমে রিজার্ভ এখন দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯৬০ কোটি ৩৭ লাখ ডলারে।

বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে রিজার্ভের এ চিত্র পাওয়া গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রস রিজার্ভ কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৫২৬ কোটি (২৫ দশমিক ২৬ বিলিয়ন) ডলার। তবে আইএমএফের শর্ত ও আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী বিপিএম-৬ ম্যাথডের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবের সঙ্গে ৫.৬৬ বিলিয়ন ডলারের পার্থক্য রয়েছে। অর্থাৎ বিপিএম-৬ ম্যানুয়াল অনুযায়ী গ্রস রিজার্ভ এক হাজার ৯৬০ কোটি ৩৭ লাখ ডলার বা ১৯ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের শুরুতে গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৯ দশমকি ৭৩ বিলিয়ন ডলার আর বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ২৩ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার। মাত্র ৫ মাসে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ কমে গেছে।

বিশ্বজুড়ে প্রচলিত ও বহুল ব্যবহৃত আইএমএফের ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম-৬) অনুযায়ী, রিজার্ভ গণনায় বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন তহবিলের পাশাপাশি বিমানকে দেওয়া ঋণ গ্যারান্টি, পায়রাবন্দর কর্তৃপক্ষকে দেওয়া ঋণ, ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকে আমানত এবং নির্দিষ্ট গ্রেডের নিচে থাকা সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ রিজার্ভের অন্তর্ভুক্ত নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক আগে এগুলোকেও রিজার্ভ হিসেবে দেখিয়ে আসছিল। এসব হিসাব বাদ দেওয়ার কারণে রিজার্ভ থেকে ৫ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার কমে যায়।

তবে বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের আরেকটি হিসাব রয়েছে, যা শুধু আইএমএফকে দেওয়া হয়। প্রকাশ করা হয় না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সেই হিসাবে দেশের প্রকৃত রিজার্ভ এখন ১৬ বিলিয়ন ডলারের নেমে যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এখন যে পরিমাণ প্রকৃত রিজার্ভ আছে, তা দিয়ে শুধু তিন মাসের আমদানি খরচ মেটানো যাবে। সাধারণত একটি দেশের ন্যূনতম ৩ মাসের আমদানি খরচের সমান রিজার্ভ থাকতে হয়। সেই মানদণ্ডে বাংলাদেশ এখন শেষ প্রান্তে রয়েছে। একটি দেশের অর্থনীতির অন্যতম সূচক হলো বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সংকটের কারণে রিজার্ভ থেকে বাজারে প্রচুর ডলার বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া এ মাসে আকুর বিলও পরিশোধ হয়েছে। রপ্তানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহ কম এসব কারণেই মূলত রিজার্ভ কমছে।

কীভাবে তৈরি হয় রিজার্ভ

রেমিট্যান্স, রপ্তানি আয়, বিদেশি বিনিয়োগ, বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ঋণ থেকে যে ডলার পাওয়া যায় তা দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তৈরি হয়। আবার আমদানি ব্যয়, ঋণের সুদ বা কিস্তি পরিশোধ, বিদেশি কর্মীদের বেতন-ভাতা, পর্যটক বা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাসহ বিভিন্ন খাতে যে ব্যয় হয়, তার মাধ্যমে বিদেশি মুদ্রা চলে যায়। এভাবে আয় ও ব্যয়ের পর যে ডলার থেকে যায় সেটাই রিজার্ভে যোগ হয়। আর বেশি খরচ হলে রিজার্ভ কমে যায়।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্যের দাম বেশি থাকায় আমদানি ব্যয় কমেনি। এছাড়া করোনার পর বৈশ্বিক বাণিজ্য আগের অবস্থায় ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। পরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর গত বছরের মার্চ থেকে দেশে ডলার-সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে; যা এখনো অব্যাহত আছে। এ সংকট দিন দিন বাড়ছে। বাজারে ‘স্থিতিশীলতা’ আনতে রিজার্ভ থেকে নিয়মিত ডলার বিক্রি করে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ৫২০ কোটি (৫ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করেছে। ফলে ধারাবাহিকভাবে কমছে অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এ সূচকটি ধারাবাহিকতা কমছে।

দেশের বিভিন্ন খাতে শর্ত পূরণের লক্ষ্য নির্দিষ্ট করে দিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বাংলাদেশকে ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ প্রস্তাব অনুমোদন করে চলতি বছরের জানুয়ারির শেষের দিকে। এই ঋণের প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬২ লাখ ৭০ হাজার ডলার গত ফেব্রুয়ারিতে পায় বাংলাদেশ। এই শর্তের মধ্যে অন্যতম ছিল জুনে প্রকৃত রিজার্ভ ২ হাজার ৪৪৬ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বরে তা ২ হাজার ৫৩০ ডলার এবং ডিসেম্বরে ২ হাজার ৬৮০ ডলারে রাখার কথা ছিল। কিন্তু পরে এসব শর্ত শিথিল করেছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর থেকে রিজার্ভ কমে এ পর্যায়ে নেমেছে। এর আগে ধারাবাহিকভাবে যা বাড়ছিল। ১০ বছর আগে ২০১৩ সালের জুন শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল মাত্র ১৫ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার। পাঁচ বছর আগে ছিল ৩৩ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার। সেখান থেকে বেড়ে ২০২০ সালের ১ সেপ্টেম্বর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৯ বিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছায়। ওই বছরের ৮ অক্টোবর ৪০ বিলিয়ন ডলারের নতুন মাইলফলক অতিক্রম করে। এরপর তা বেড়ে ক‌রোনা মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ রেকর্ড গড়ে ২০২১ সালের ২৪ আগস্ট। ওইদিন রিজার্ভ ৪৮ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন ডলার বা চার হাজার ৮০৪ কোটি ডলারে উঠে। এরপর ডলার সংকটে গত বছর থেকে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে কমছে।




বেড়েছে স্মারক স্বর্ণ মুদ্রার দাম

স্মারক স্বর্ণ মুদ্রার দাম বাড়িয়ে পুনঃনির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার কারণে প্রতিটি স্মারক স্বর্ণ মুদ্রায় ৩ হাজার টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী প্রতিটি স্মারক স্বর্ণ মুদ্রার দাম ৯০ হাজার টাকা। আজ এসব স্বর্ণ মুদ্রার দাম ছিল ৮৭ হাজার টাকা। নতুন দাম আগামী ৫ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশনস অ্যান্ড পাবলিকেশন্স থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

তথ্যমতে, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক মুদ্রিত ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০০০’, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষ ১৯২০-২০২০’ এবং ‘স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ১৯৭১-২০২১’ শীর্ষক স্মারক স্বর্ণ মুদ্রার দাম পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।

২২ ক্যারেট স্বর্ণ দিয়ে তৈরি করা ১০ গ্রাম ওজনের ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০০০’, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষ ১৯২০-২০২০’ এবং ‘স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ১৯৭১-২০২১’ শীর্ষক স্মারক স্বর্ণ মুদ্রা (বাক্সসহ) প্রতিটির বিক্রয়মূল্য ৯০ হাজার টাকায় পুনঃনির্ধারণ করা হলো। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের মূল্য বাড়ানোর কারণে স্বর্ণ মুদ্রার দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। যা ৫ নভেম্বর হতে কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা কিনতে গুনতে হচ্ছে এক লাখ ২ হাজার ৮৭৬ টাকা।




২৭ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৬৫ কোটি ডলার

ডলার কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো নতুন করে আড়াই শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া শুরু করায় ব্যাংকিং চ্যানেলে বেশি করে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। চলতি মাসের ২৭ তারিখ পর্যন্ত ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স এসেছে ১৬৫ কোটি ডলার, যা আগের মাসের ৩০ দিনের চেয়েও বেশি।

রোববার (২৯ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এ মাসের প্রথম ২৭ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৬৪ কোটি ৯৩ লাখ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১১ কোটি ৯০ লাখ ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৪ কোটি ৯৬ লাখ ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১৪৭ কোটি ৫৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫০ লাখ মার্কিন ডলার।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট কাটা‌তে কিছুটা বেশি দামে ডলার কিনতে হচ্ছে ব্যাংকগু‌লোকে। প্রবাসী আয়ে সরকারের আড়াই শতাংশ প্রণোদনা আগে থেকেই ছিল, তার সঙ্গে আরও আড়াই শতাংশ যোগ করেছে ব্যাংকগুলো। ফলে এখন ৫ শতাংশ বেশি দামে ডলার পাঠাতে পারছেন প্রবাসীরা। অর্থাৎ আন্তব্যাংক লেনদেনের ক্ষেত্রে ডলারের যে দাম ঠিক করা হয় তার চেয়ে ৫ শতাংশ বেশি দাম পাচ্ছেন প্রবাসীরা। এই মুহূর্তে তারা প্রতি ডলারে ১১৬ টাকা পাচ্ছেন। এতে করে তারা বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহী হচ্ছেন।

রেমিট্যান্সে প্রণোদনা দেওয়া ভালো পদক্ষেপ হলেও এতে দীর্ঘ মেয়াদি সুফল আসবে না বলে জানিয়েছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সানেমে’র নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান। তিনি বলেন, সবমিলিয়ে ৫ শতাংশ প্রণোদনা পাবে প্রবাসীরা। এটা তাদের জন্য কিছুটা ভালো হলো। এ ধরনের পদক্ষেপ সাময়িক সময়ের জন্য রেমিট্যান্স বাড়াবে, তবে দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমাধান হবে না।

তিনি বলেন, রেমিট্যান্স বাড়াতে হলে হুন্ডি বন্ধ করতে হবে। আর হুন্ডি বন্ধ করতে হলে অর্থপাচার বন্ধ করতে হবে। এখন প্রচুর অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে, এটা যেকোনো উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ব্যাংকগুলো যত বেশি প্রণোদনা দেবে হুন্ডির লোকজন তার চেয়ে বেশি প্রণোদনা দেবে। তাই হুন্ডি যতক্ষণ পর্যন্ত রমরমা থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত বৈধ পথে আশানুরূপ রেমিট্যান্স আসবে না।

এদিকে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ ধারাবাহিকভাবে কমে গিয়েছিল। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৭ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার ডলার, আগস্টে এসেছে ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার আর সেপ্টেম্বরে এসেছে মাত্র ১৩৪ কোটি ডলার যা ৪১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।




সূচকের উন্নয়নে পরিকল্পনা চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক

নানা অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণ আদায় করতে পারছে না ব্যাংকবহির্ভূত অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এতে এ খাতের খেলাপি ঋণ দ্রুত বাড়ছে। এর প্রভাবে মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে অনেক প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতি কমানোসহ সার্বিক সূচকের উন্নয়নে কর্মপরিকল্পনা চেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গতকাল রোববার প্রাথমিকভাবে সাতটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এমডি ছাড়াও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক, পরিচালক ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পর্যায়ক্রমে অন্য সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক হবে। জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমনভাবে পরিকল্পনা দিতে বলা হয়েছে, যাতে আগামী ডিসেম্বরের প্রতিবেদন থেকে পরিস্থিতির উন্নতির প্রতিফলন থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা। মোট ঋণের যা ২৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। তিন মাস আগে এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ছিল ১৭ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা। ওই সময় পর্যন্ত বিতরণ করা ঋণের যা ২৫ শতাংশ। বর্তমানে ৩৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছয়টির খেলাপি ঋণ রয়েছে ৮০ শতাংশের ওপরে। ১৫টি প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ৩২ শতাংশের বেশি। বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠান আমানতকারীর অর্থ ফেরত দিতে পারছে না। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যাংকেরও খেলাপি ঋণ দ্রুত বাড়ছে। নানা ছাড়ের পরও ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেড়ে গত জুন শেষে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৩৯ কোটি টাকায় ঠেকেছে। মোট বিতরণ করা ঋণের যা ১০ দশমিক ১১ শতাংশ। গত মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা।




৪১ মাসের সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স সেপ্টেম্বরে

ডলারের বিনিময় হার নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জোরালো তৎপরতার মধ্যেই দুঃসংবাদ হয়ে এল রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। সেপ্টেম্বরে মাত্র ১৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে, যা গত ৪১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০২০ সালের এপ্রিলে কভিডসৃষ্ট দুর্যোগের মধ্যে ১০৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে গতকাল রেমিট্যান্সের এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

গত আড়াই বছরে ২৩ লাখ ৭০ হাজার ৬৫৮ বাংলাদেশী শ্রমিক অভিবাসী হয়েছেন। এত বিপুলসংখ্যক শ্রমিক বিদেশের শ্রমবাজারে যুক্ত হওয়ায় দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার কথা। কিন্তু চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাস থেকেই রেমিট্যান্সে নিম্নমুখী প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৪৯১ কোটি ৬২ লাখ ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে ৫৬৭ কোটি ২৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছিল। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমেছে।

রেমিট্যান্স প্রবাহে এ ধারাবাহিক বিপর্যয় এমন সময়ে হচ্ছে, যখন দেশে ডলারের তীব্র সংকট চলছে। আমদানি ১৫ শতাংশের বেশি কমিয়ে আনা সত্ত্বেও বেশির ভাগ ব্যাংক যথাসময়ে ঋণপত্রের (এলসি) দায় পরিশোধ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। জ্বালানি তেল, সারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির জন্য রিজার্ভ থেকে ডলার সহায়তা দিতে হচ্ছে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও উল্লেখযোগ্য হারে ক্ষয় হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক বলেন, ‘রেমিট্যান্স পতনের বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরে আছে। কেন এত পরিমাণ রেমিট্যান্স কমছে, সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করে বলা যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক সবসময়ই বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করছে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ার শুরুটা গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে। ওই সময় আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলারের সর্বোচ্চ বিনিময় হার বেঁধে দেয়া হয়। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোয় বিশেষ পরিদর্শন চালায় বাংলাদেশ ব্যাংক। বেশি দামে ডলার বেচাকেনায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে দেশী-বিদেশী ছয়টি ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানকে অপসারণও করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসব তৎপরতার মুখেই গত বছরের সেপ্টেম্বরে এক ধাক্কায় রেমিট্যান্স ৫০ কোটি ডলার কমে যায়। ২০২২ সালের আগস্টে ২০৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স দেশে এলেও সেপ্টেম্বরে তা ১৫৩ কোটি ডলারে নেমে আসে। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখনই ডলারের বিনিময় হার নিয়ে কঠোর হয়েছে, তখনই বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহে বিপর্যয় দেখা গেছে।

বর্তমানেও বেশি দামে ডলার বেচাকেনা ঠেকাতে দেশের ব্যাংকগুলোয় বিশেষ পরিদর্শন চালাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই মধ্যে ১০টি ব্যাংকের ট্রেজারি প্রধানদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চলমান বিশেষ অভিযানের মধ্যেই রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।

দেশের একাধিক ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী বণিক বার্তাকে বলেছেন, ডলারের বাজার স্থিতিশীল করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভুল নীতিতে চলছে। বাস্তবতা না বুঝেই বিভিন্ন ধরনের সিদ্ধান্ত ব্যাংকগুলোর ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। ব্যাংক নির্বাহীরা নির্ভয়ে কোনো পরামর্শও দিতে পারছে না। এ কারণে রেমিট্যান্সের বাজার এতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দেশের প্রথম প্রজন্মের একটি বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘দেশে হুন্ডির বাজার এখন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী। হুন্ডির বাজার নিয়ন্ত্রণকারীরাও অনেক প্রভাবশালী। কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো প্রভাবশালী হুন্ডি কারবারিদের বিরুদ্ধে কিছুই করছে না। তারা ভাসমান বিদেশী মুদ্রা বিক্রেতা ও কিছু মানি এক্সচেঞ্জে অভিযান চালিয়ে হুন্ডির বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এ ধরনের লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে হুন্ডির বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না।’

ব্যাংক খাতে গতকাল প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ১১০ টাকা ৫০ পয়সা। যদিও খুচরা বাজারে (কার্ব মার্কেট) প্রতি ডলার ১১৭-১১৮ টাকায় লেনদেন হয়েছে। ব্যাংকের তুলনায় খুচরা বাজারে বেশি দাম পাওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশীরা হুন্ডির মাধ্যমে বেশি রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

হুন্ডির বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহের বিপর্যয় থামানো যাবে না বলে জানান মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের বিনিময় মূল্য নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। আবার ধীরে ধীরে ডলারের বিনিময় হারও বাড়ানো হচ্ছে। ব্যাংকে ডলারের দাম বাড়লে কার্ব মার্কেটেও বেড়ে যাচ্ছে। এভাবে ডলারের বাজার স্থিতিশীল করা সম্ভব হবে না। বৈধ পথে রেমিট্যান্স বাড়াতে হলে প্রভাবশালী হুন্ডি কারবারিদের চিহ্নিত করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হলে তবেই হুন্ডির বাজার নিয়ন্ত্রণে আসবে।’

আমদানি দায় মেটানোর পাশাপাশি বিদেশী ঋণ পরিশোধের চাপে রয়েছে বাংলাদেশ। ডলারের সংকট তীব্র হয়ে ওঠায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও প্রতিনিয়ত ক্ষয় হচ্ছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী (বিপিএম৬) দেশের রিজার্ভের পরিমাণ ছিল মাত্র ২ হাজার ১১৫ কোটি বা ২১ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২১ সালের আগস্টে রিজার্ভের পরিমাণ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছিল। সে হিসাবে গত দুই বছরের ব্যবধানে রিজার্ভের পরিমাণ অর্ধেকেরও অনেক নিচে নেমে এসেছে।

দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই আসত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের মাধ্যমে। সেপ্টেম্বরে ব্যাংকটির মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে মাত্র ৩৪ কোটি ডলার। যদিও দুই বছর আগে ব্যাংকটির মাধ্যমে মাসে ৬০ কোটি ডলারও রেমিট্যান্স এসেছিল।

জানতে চাইলে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সারা বিশ্বেই এখন হুন্ডির বাজার বেশ শক্তিশালী। এ কারণে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাচ্ছে। জাতীয়ভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ার প্রভাব ইসলামী ব্যাংকের ওপরও পড়েছে। আমরা রেমিট্যান্স বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রবাসীরা রেকর্ড ২ হাজার ৪৭৭ কোটি বা ২৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন। এরপর ২০২১-২২ অর্থবছরে রেমিট্যান্স কমে ২ হাজার ১৩০ কোটি ডলারে নেমে আসে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়। গত অর্থবছরে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১৬১ কোটি ডলার। গত দুই অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহে স্থবিরতা চললেও এ সময় বিদেশগামী অভিবাসীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য বলছে, শুধু চলতি ২০২৩ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) ৬ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৬ জন বাংলাদেশী অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে বিদেশ গেছেন। ২০২২ সালে বিদেশগামী শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ১১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৭৩ জন। এর আগে ২০২১ সালেও ৬ লাখ ১৭ হাজার ২০৯ বাংলাদেশী শ্রমিক অভিবাসী হয়েছেন। সব মিলিয়ে গত আড়াই বছরে বিদেশের শ্রমবাজারে নতুন করে ২৩ লাখ ৭০ হাজার ৬৫৮ জন বাংলাদেশী যুক্ত হয়েছেন। এত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী বিদেশ গেলেও রেমিট্যান্স প্রবাহে সেটির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।




ব্যাংকে বাড়ছে নারী কর্মীর সংখ্যা

সামাজিক স্বীকৃতি, নিরাপদ কর্ম-পরিবেশ, চাকরির নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও ভালো বেতন কাঠামোর কারণে ব্যাংকিং পেশায় বাড়ছে নারী কর্মীর সংখ্যা। শুধু চাকরিই করছেন তা নয়, ব্যাংকের চেয়ারম্যান, পরিচালক ও এমডিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল পদে বসে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন তারা। এক সময় মোট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নারীর সংখ্যা ছিল ১০ শতাংশের নিচে। এখন তা ১৬ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের জুন শেষে দেশের ৬১টি ব্যাংকে জনবল রয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫০৬ জন। এর মধ্যে নারী কর্মীর সংখ্যা ৩২ হাজার ৫৬৭ জন। ২০২২ সালের একই সময় নারী কর্মীর সংখ্যা ছিল ৩১ হাজার ৫৪৮। ২০২১ সালের জুনে ছিল ২৯ হাজার ৭৭১ জন।

বর্তমানে ব্যাংকে নারী কর্মকর্তার হার ১৬ দশমিক ৩২ শতাংশ, ২০২২ সালের জুনে ছিল ১৬ দশমিক ২৮ শতাংশ, ২০২১ সালে ছিল ১৫ দশমিক ৮০ শতাংশ। ব্যাংকে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা হিসাবেও নারীদের দেখা যাচ্ছে।

বর্তমানে বেসরকারি ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হুমায়রা আজম। তিনি বর্তমানে একমাত্র নারী এমডি। মিডল্যান্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন নিলুফার জাফরুল্লাহ।

 

ব্যাংকিং পেশায় নারীদের আগ্রহ বাড়ার কারণ জানতে চাইলে বেসরকারি এবি ব্যাংকে কর্মরত সিনিয়র রিলেশনশিপ ম্যানেজার (এসএভিপি) দিলরুবা স্মৃতি ঢাকা পোস্টকে বলেন, ব্যাংকের চাকরিতে শুধু নারীরা নয়, সবাই আগ্রহী। কারণ বেসরকারি খাতে যেসব চাকরির সুযোগ রয়েছে তার মধ্যে ব্যাংকের চাকরিতে নিরাপত্তা একটু বেশি, এটাই ধরে নেওয়া যায়। সামাজিক অবস্থানে গ্রহণযোগ্যতাও বেশি। দেশে যেসব চাকরিকে মর্যাদাপূর্ণ হিসাবে বিবেচনা করা হয় তার মধ্যে ব্যাংকিং জব অন্যতম। ব্যাংকে নারীদের কাজ করার পরিবেশ যেমন ভালো তেমনই ব্যক্তিগত নিরাপত্তাও রয়েছে। যা একজন নারীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া ব্যাংকে ক্যারিয়ার গড়ার অনেক সুযোগ রয়েছে। যদি ইচ্ছা থাকে তাহলে যেকোনো বিষয় পড়ালেখা করেও ব্যাংকে ক্যারিয়ার গঠন করা সম্ভব।

তিনি বলেন, সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য, নিরাপদ কর্ম-পরিবেশ, চাকরির নিরাপত্তা ও ভালো বেতন কাঠামোর কারণে নারীরা ব্যাংকিং পেশায় বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এ কারণেই ব্যাংকিং পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে।

 

নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে নারীরা এখন শিক্ষা, ব্যবসা, চাকরিসহ বিভিন্ন কর্ম ক্ষেত্রে সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংকের চাকরিতে নারী কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। একটি সময় এসব ক্ষেত্রে নারীর অংশ ছিল খুব কম। যে কারণে এখন ব্যাংকের ৫০ বছরের বেশি বয়সী কর্মীর মধ্যে নারী ১০ শতাংশের নিচে রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত জুন শেষে ব্যাংকগুলোতে ৩০ বছরের কম বয়সী যেসব কর্মী রয়েছেন তাদের মধ্যে ২১ দশমিক ৩৩ শতাংশ নারী। ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সী কর্মীদের মধ্যে নারীর হার ১৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। আর ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এ হার ৯ দশমিক ২২ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকে যারা ক্যারিয়ার শুরু করছেন, তাদের মধ্যে ১৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ নারী। ব্যবস্থাপনার মধ্যম স্তরে নারীদের অংশগ্রহণ ১৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আর ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের মধ্যে নারী রয়েছেন ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ।

বেসরকারি খাতে যেসব চাকরির সুযোগ রয়েছে তার মধ্যে ব্যাংকের চাকরিতে নিরাপত্তা একটু বেশি, এটাই ধরে নেওয়া যায়। সামাজিক অবস্থানে গ্রহণযোগ্যতাও বেশি। দেশে যেসব চাকরিকে মর্যাদাপূর্ণ হিসাবে বিবেচনা করা হয় তার মধ্যে ব্যাংকিং জব অন্যতম। ব্যাংকে নারীদের কাজ করার পরিবেশ যেমন ভালো তেমনই ব্যক্তিগত নিরাপত্তাও রয়েছে। যা একজন নারীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এবি ব্যাংকে কর্মরত সিনিয়র রিলেশনশিপ ম্যানেজার দিলরুবা স্মৃতি
ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী (সিইও) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ছে, ব্যাংক খাত বড় হচ্ছে ফলে এ খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে।

তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে নারীরা এগিয়ে আসছেন। তাদের দক্ষতা বেড়েছে। প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা অর্জন করছেন। ব্যাংকগুলোও তাদের জন্য কর্ম-পরিবেশ তৈরি করেছে। আগামীতে নারীর অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।

সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, নারীরা কাজের প্রতি মনোযোগী হয়ে থাকেন, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন, তাদের মধ্যে এগিয়ে যাওয়ার আগ্রহ বেশি। ফলে এখন নীতি নির্ধারণী থেকে শুরু করে ব্যাংকের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ভবিষ্যতে এ খাতে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।

নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত ও ব্যাংক পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে পরিচালনা পর্ষদ। সেখানে নারীর উপস্থিতি ১৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকের পর্ষদে নারীদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। বেসরকারি ব্যাংকে পরিচালক পর্ষদে নারীদের উপস্থিতি ১৪ দশমিক ৭০ শতাংশ হলেও রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে তা ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং বিদেশি ব্যাংকে এ হার ১৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

সরকার গত বছরের ডিসেম্বরে রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও পরিচালক নিয়োগ সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা জারি করে। সেখানে বলা হয়, সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালকদের এক-তৃতীয়াংশই থাকবেন নারী। এছাড়া, সরকারের শেয়ার রয়েছে, এমন বেসরকারি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও এ নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।

নারীরা কাজের প্রতি মনোযোগী হয়ে থাকেন, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন, তাদের মধ্যে এগিয়ে যাওয়ার আগ্রহ বেশি। ফলে এখন নীতি নির্ধারণী থেকে শুরু করে ব্যাংকের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ভবিষ্যতে এ খাতে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।

দেশে কার্যরত ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে নারী কর্মীদের হয়রানি বন্ধে সব ব্যাংক সুনির্দিষ্ট নীতিমালা করেছে। লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করেছে ৬০টি ব্যাংক। সব ব্যাংকের মাতৃত্বকালীন ছুটি কার্যকর রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পর নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ব্যাংকে নিজস্ব পরিবহন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ৩৬টি ব্যাংকে নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য শিশু দিবা-যত্ন স্থাপন করেছে।

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি বাস্তবায়নের ১৭টি অভীষ্টের পঞ্চম হচ্ছে লৈঙ্গিক সমতা। এ সমতা সূচকে ওয়ার্ল্ড ইকোনিক ফোরামের ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে বিশ্বের ১৪৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৫৯তম।

রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ক্ষেত্রে নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে লৈঙ্গিক সমতা জরুরি বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।




আমদানির এলসি খুলতে পণ্যের আরও তথ্য দিতে নির্দেশনা

আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর কাছে পণ্যের আরও তথ্য দিতে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আমদানি পণ্যের লেটার অব ক্রেডিট-এলসি খোলার সময়ই এসব তথ্য দিতে হবে। আর এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্য সম্পর্কে এমনভাবে তথ্য দিতে হবে যার মাধ্যমে পণ্যের গুণগত মান পৃথক করা যায় এবং ইউনিট প্রতি মূল্য ও পরিমাণ যাচাই করা সম্ভব হয়।

সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জারি করা সার্কুলারটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেনে নিয়োজিত সকল অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও প্রিন্সিপাল অফিসে পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলার অনুযায়ী, এলসি খোলার সময় পণ্যের সম্পূর্ণ বিবরণ, মান, ব্র্যান্ড, উৎপাদনের তারিখ, প্যাকেজিং সংক্রান্ত তথ্য ও গ্রেডসহ বেশ কিছু তথ্য দিতে বলা হয়েছে আমদানিকারক বা তার দেশীয় এজেন্টকে।

সার্কুলারে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজার দরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সঠিকভাবে আমদানি করা পণ্যের দাম যাচাইয়ের সুবিধার্থে রপ্তানিকারক থেকে প্রেরিত পিআইতে (প্রোফরমা ইনভয়েস) অথবা তাদের এ দেশিয় এজেন্ট থেকে সরবরাহ করা ইন্ডেন্টে আমদানি পণ্য সম্পর্কিত তথ্য দিতে হবে ব্যাংকের কাছে।

একটি পিআইয়ের মাধ্যমে একাধিক পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আলাদাভাবে প্রতিটি পণ্যের বিবরণ, মান, ব্র্যান্ড, উৎপাদনের তারিখ, প্যাকেজিং সংক্রান্ত তথ্য ও গ্রেড (যদি থাকে) যা দ্বারা পণ্যের গুণগত মান পৃথক করা যায় এবং ইউনিট প্রতি মূল্য ও পরিমাণ উল্লেখ থাকতে হবে।

একই পিআইয়ের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে সাধারণভাবে সকল পণ্যকে একটি নির্দিষ্ট ইউনিট যথা কেজি, লিটার অথবা পিস ইত্যাদিতে পরিমাপ না করে তাদের প্রকৃতি অনুযায়ী পৃথক পৃথকভাবে দেখাতে হবে। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের অনুমোদিত ইনকোটার্মস এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিবহন ভাড়ার তথ্যও সংযুক্ত করতে হবে। আমদানিকৃত পণ্য সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিতকরণের জন্য এইচএসকোডের ৬ ডিজিটের পরের ২ ডিজিট (মোট ৮ ডিজিট পূর্ণরূপে) উল্লেখ করতে হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

উল্লেখ্য, গত অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত আরও একটি সার্কুলার দিয়েছিল। তাতে বলা হয়েছে, আমদানি পণ্যর মূল্য যাচাইয়ের দায়িত্ব থাকবে বাণিজ্যিক ব্যাংকের। আমদানিতে এলসি (ঋণপত্র) খোলার আগে পণ্যর দাম যাচাইয়ের পাশাপাশি সরবরাহকারীর ক্রেডিট রিপোর্ট দেখতে ব্যাংকগুলোর প্রতি তখন নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।




সেপ্টেম্বরে দৈনিক গড় রেমিট্যান্স ৪ কোটি ডলারে নামলো

চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৫ দিনে প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ৭৩ কোটি ৯৯ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। অর্থাৎ দৈনিক গড়ে রেমিট্যান্স এসেছে ৪ কোটি ৯৩ লাখ ৩২ হাজার মার্কিন ডলার। এ ধারা অব্যাহত থাকলে মাস শেষে রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৪৮ কোটি ডলার, যা আগের মাসের চেয়ে অন্তত ১১ কোটি ডলার কম। রবিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত তিন মাসের (১৫ জুন-১৫ সেপ্টেম্বর) ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রতিদিন রেমিট্যান্স এসেছে গড়ে ৫ কোটি ২৭ লাখ ডলার করে। অর্থাৎ প্রবাসীরা চলতি মাসের প্রথম ৭ দিনে ৩৬ কোটি ৮৮ লাখ মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। আর জুলাইয়ের প্রথম তিন সপ্তাহে দৈনিক রেমিট্যান্স এসেছে গড়ে পৌনে ৭ কোটি ডলার করে। তার আগের মাস জুনে প্রবাসীরা প্রতিদিন পাঠিয়েছিলেন গড়ে ৭ কোটি ৩৩ লাখ ডলার করে। ওই মাসে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২১৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অবশ্য আগস্ট মাসে প্রবাসীরা দেশে ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

চলতি (সেপ্টেম্বর) মাসে রেমিট্যান্সের প্রবাহ আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, হুন্ডিতে রেমিট্যান্স বেশি আসায় ওইসব ডলার চলে গেছে কার্ব মার্কেট বা খোলা বাজারে। এতে কার্ব মার্কেটে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। একইসঙ্গে চাহিদা ও দাম বেড়েছে।

উল্লেখ্য, কার্ব মার্কেটে প্রতি ডলারের দাম এখন ১২০ টাকা। যদিও ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রতি ডলারের বিপরীতে প্রবাসীরা প্রণোদনাসহ সর্বোচ্চ ১১২ টাকা ২৪ পয়সা পাচ্ছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মাসের প্রথম ১৫ দিনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৬৫ কোটি ৭ লাখ ১০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে এক কোটি ৯৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। এছাড়া বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৯ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৭ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার এবং আগস্টে রেমিট্যান্স এসেছে ১৫৯ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। এক মাসের ব্যবধানে রেমিট্যান্স কমেছে ৩৭ কোটি ৩৭ লাখ মার্কিন ডলার।

বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১৬১ কোটি ৭ লাখ মার্কিন ডলার। আগের ২০২১-২০২২ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ হয়েছিল, যার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার।

এদিকে গত ৫ সেপ্টেম্বর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২ হাজার ৩১৮ কোটি ডলার। এরপর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) জুলাই ও আগস্ট মাসের আমদানি বিল ১৩১ কোটি ডলার পরিশোধ করে বাংলাদেশ। ফলে আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ নেমে দাঁড়ায় ২ হাজার ১৭১ কোটি ডলারে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী, বর্তমানে রিজার্ভ ২ হাজার ৭৬৩ কোটি ডলার।




রপ্তানি সহায়ক তহবিলের অর্থ পরিশোধে নতুন নিয়ম

রপ্তানি সহায়ক প্রাক অর্থায়ন তহবিলের (ইএফপিএফ) আওতায় নেওয়া অর্থ মেয়াদ শেষে সুদসহ এককালীন পরিশোধের নিয়ম রয়েছে। এটি শিথিল করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে ইএফপিএফ অর্থ ব্যাংক চাইলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আংশিক কিংবা পরো টাকা পরিশোধ করতে পারবে।

বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশে কার্যরত সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছে।

ইএফপিএফ এর আওতায় নেওয়া অর্থ সমন্বয় প্রসঙ্গে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি জারি করা সার্কুলারের বিষয়ে বলা হয়, ওই সার্কুলারে গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের মেয়াদ যাই হোক না কেন বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বোচ্চ ১৮০ দিন ( ৬ মাস) মেয়াদে অংশগ্রহণকারী ব্যাংককে প্রাক-অর্থায়ন সুবিধা প্রদান করবে। যা মেয়াদ শেষে সুদসহ এককালীন পরিশোধ করতে হবে বলে বলা হয়। এছাড়া প্রাক-অর্থায়ন বাবদ ব্যাংকের ঋণ বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত অংশগ্রহণকারী ব্যাংকের চলতি হিসাবে প্রদানের তারিখ হতে প্রাক অর্থায়নের জন্য প্রদত্ত মেয়াদ শেষে সুদসহ এককালীন কেটে রাখা হবে বলেও বলা হয়।

নতুন নির্দেশনায় ইএফপিএফ আওতায় প্রাক অর্থায়ন বাবদ ব্যাংক অর্থের বিপরীতে সুদ ব্যয় কমাতে ব্যাংক নেওয়া অর্থ মেয়াদ শেষের আগে সম্পূর্ণ বা আংশিক পরিশোধ বা সমন্বয় করতে পারবে। আংশিক সমন্বয়ের ক্ষেত্রে অবশিষ্ট অপরিশোধিত অংশ নির্ধারিত মেয়াদ শেষে এককালীন সুদ বা মুনাফাসহ পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া আগে জারি করা অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।




পদত্যাগ করা এমডিদের সঙ্গে আলোচনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

সম্প্রতি পদত্যাগ করা কয়েকটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের (এসবিএসি) হাবিবুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা হয়।

একইদিন আলোচনার জন্য ডাকা হয় পদ্মা ব্যাংকের এমডি তারেক রিয়াজ খানকেও। তাদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার ও ডেপুটি গভর্নর আবু ফরাহ মো. নাছের।

এছাড়া ব্যাংক এশিয়ার এমডি পদ থেকে পদত্যাগ করা আরিফ বিল্লাহ আদিল চৌধুরীর বিষয়ে জানতে আজ মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) ডাকা হয়েছে ব্যাংক এশিয়ার চেয়ারম্যান রোমো রউফ চৌধুরীকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কক্ষে আলোচনার জন্য তাকে ডাকা হয়েছে।

এর আগে, গত সপ্তাহে নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ান পদ্মা ব্যাংকের এমডি তারেক রিয়াজ খান। গত ২৬ জুলাই পদত্যাগ করেন ব্যাংক এশিয়ার এমডি আরিফ বিল্লাহ আদিল চৌধুরী। এছাড়া গত বৃহস্পতিবার এসবিএসি ব্যাংকের এমডি হাবিবুর রহমান পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন ব্যাংকটির কর্তৃপক্ষের কাছে।

দেশের ব্যাংক ব্যবস্থাপনার এমডিরা যাতে পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পরিচালনা করতে পারেন, সেটা নিশ্চিতের চেষ্টা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই চেষ্টার অংশ হিসেবে ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করা এমডি মেহমুদ হোসেনকে কাজে ফিরিয়ে আনা হয়। একই ইস্যুতে এবারও আলোচনা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।




আবারও টেকসই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পেলো বাংলাদেশ ফাইন্যান্স

মূল ব্যাংকিং কার্যক্রমের সক্ষমতা ও টেকসই অর্থায়নের মানদণ্ডে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আবারও টেকসই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স লিমিটেড। এ নিয়ে টানা দু’বার এই কৃতিত্ব অর্জন করলো প্রতিষ্ঠানটি। স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের কাছ থেকে ক্রেস্ট ও সম্মাননা গ্রহণ করেন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কায়সার হামিদ।

মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স সেন্টারে আয়োজিত সাসটেইন্যাবিলিটি রেটিংপ্রাপ্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে এ পুরস্কার দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। এই তালিকায় সরকারী-বেসরকারি খাতের সেরা চার এনবিএফআই ও ৭ ব্যাংককে টেকসই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে; সর্বনিম্ন খেলাপি ঋণ, ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মধ্যে টেকসই অর্থায়ন, সবুজ পুনঃঅর্থায়ন, সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম, ব্যাংকিং সেবার পরিধি ও মূল ব্যাংকিং কার্যক্রমের টেকসই সক্ষমতা রেটিংয়ের ক্ষেত্রে মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সবুজ ব্যাংকিংয়ের চর্চাকেও এ মানদণ্ডে অন্যতম নির্ধারক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। টেকসই রেটিংয়ে তালিকায় আসার অন্যতম কারণ, টেকসই অর্থায়ন সূচক।

টেকসই আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের মোট বিনিয়োগের ২৯ শতাংশ হচ্ছে সিএমএসএমই খাতে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্স শুধু বড় বড় শহরগুলোতে নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এই ঋণ বিভিন্ন মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। যেখানে শাখা নেই, সেখানেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোলাবরেসন চুক্তির মাধ্যমে এই ঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

দেশের প্রান্তিক কৃষি উদ্যোক্তাদের ফাইনান্সিয়াল ইনক্লুশন আওতায় নিয়ে আসতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ব্রাঞ্চ ব্যাংকিংয়ের সীমাবদ্ধতাকে পেছনে ফেলে ডিজিটাল ফাইন্যান্সিং’র মাধ্যমে ব্রাঞ্চ নেটওয়ার্কের বাইরে যেয়েও প্রায় ৪০ টি জেলায় ফাইন্যান্সিং কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

অনুষ্ঠানের আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার, নির্বাহী পরিচালক মো. খুরশীদ আলমসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।




ব্যাংকগুলোকে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার নতুন নিয়ম মানার নির্দেশ

বিধিমালা সংশোধন করে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার নতুন নিয়ম করেছে সরকার। নতুন এ নিয়ম মেনে চলতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সোমবার (২৮ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দিয়ে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় জানানো হয়, বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২’এ যে সংশোধন আনা হয়েছে; ব্যাংকগুলোকে এটি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

পতাকাদণ্ডের কোথায় পতাকা রেখে পতাকা অর্ধনমিত করতে হবে, বিধিমালায় বিষয়টি আগে নির্ধারিত ছিল না। তাই পতাকা বিধিমালায় সংশোধন এনে গত ৯ আগস্ট প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। নতুন নিয়মে পতাকা অর্ধনমিত রাখার ক্ষেত্রে পতাকাদণ্ডের ওপর থেকে চার ভাগের একভাগ দৈর্ঘ্যের সমান নিচে পতাকা বাঁধতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয় সংগীত, পতাকা এবং প্রতীক অধ্যাদেশ, ১৯৭২ এর আর্টিকেল-৫ এ দেওয়া ক্ষমতাবলে সরকার পতাকা বিধিমালা সংশোধন করেছে।

সংশোধিত বিধিমালায় বলা হয়েছে, পতাকা অর্ধনমিত রাখার ক্ষেত্রে পতাকা প্রথমে পতাকাদণ্ডের সর্বোচ্চ চূড়া পর্যন্ত উত্তোলন করতে হবে। এরপর পতাকা দণ্ডের এক-চতুর্থাংশের দৈর্ঘ্যের সমান নিচে নামিয়ে পতাকাটি স্থাপন করতে হবে। পতাকা নামানোর সময় ফের পতাকাদণ্ডের সর্বোচ্চ চূড়া পর্যন্ত তুলে এরপর নামাতে হবে।

২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসসহ জাতীয়ভাবে শোক পালনের দিনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।




শ্রীলঙ্কার ঋণের ৫০ মিলিয়ন ডলার ফেরত পেল বাংলাদেশ

সংকটাপন্ন শ্রীলঙ্কাকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ২০০ মিলিয়ন (২০ কোটি) ডলার ঋণের মধ্যে ৫০ মিলিয়ন (৫ কোটি) ডলার ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। গত বৃহস্পতিবার এই ঋণের প্রথম কিস্তি পরিশোধ করেছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি। ওইদিন এই ডলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে যোগ হয়।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘শ্রীলঙ্কাকে দেওয়া ২০ কোটি ডলার ঋণের মধ্যে ৫ কোটি ডলারের একটি কিস্তি আমরা পেয়েছি। চলতি মাসের শেষের দিকে আরও একটি কিস্তি দেওয়ার কথা রয়েছে। আমরা আশা করছি এ বছরের মধ্যে ঋণের পুরো অর্থ তারা পরিশোধ করবে।’

তিন মাসের মধ্যে ফেরত দেওয়ার শর্তে কারেন্সি সোয়াপ পদ্ধতির আওতায় শ্রীলংকাকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ২০ কোটি ডলার ঋণ দেয় বাংলাদেশ। এক বছর মেয়াদি ঋণের মেয়াদ শেষ হয় গত বছরের সেপ্টেম্বরে। এরপর তিন মাস করে দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। পরে আরও ৬ মাস বাড়িয়ে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয় দেশটিকে।

ঋণের বিপরীতে লন্ডন আন্তঃব্যাংক অফার রেট বা লাইবর যোগ করে দেড় শতাংশ সুদ পাওয়ার কথা বাংলাদেশের। দেশটি সে সুদ নিয়মিত পরিশোধ করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।




১৮ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১১ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা

চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগস্ট মাস শেষে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৭৯ কোটি ডলার বা সাড়ে ১৯ হাজার কোটি টাকা। এই অঙ্ক আগের মাস ও আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে কম হবে।

চলতি আগস্টের প্রথম ১৮ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ বা ব্যাংকিং চ্যানেলে ১০৪ কোটি ৫ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় (প্রতি ডলার ১০৯ টাকা ধরে) ১১ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা।

চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগস্ট মাস শেষে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৭৯ কোটি ডলার বা সাড়ে ১৯ হাজার কোটি টাকা। এই অঙ্ক আগের মাস ও আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে কম হবে। চলতি বছরের জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এসেছে ১৯৭ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। আর আগের বছরের আগস্টে প্রবাসী আয় এসেছিল ২০৩ কোটি ডলার।

রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। রেমিট্যান্স বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠাতে বিভিন্নভাবে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এরপরও আশানুরূপ বাড়ছে না প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি মাসের ১৮ দিনে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে এসেছে, এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ১ কোটি ৯৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৮৯ কোটি ৯০ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৬ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার।

সদ্য বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১৬১ কোটি ৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ ডলার।