বিএডিসির জন্য এক লাখ ৪০ হাজার টন সার কিনছে সরকার

কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) জন্য এক লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি, টিএসপি, পটাশ সার কিনবে সরকার।

মঙ্গলবার (২৩ জানুয়ারি) সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা আলাদা প্রস্তাবে ভিন্ন ভিন্ন চারটি লটে সারগুলো কিনবে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় MA’ADEN, সৌদিআরব থেকে ১ম লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানি করার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ক্রয় কমিটি। এই লটে ডিএপি সার কিনতে ২৫৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের এই প্রস্তাবে জানানো হয়, বিএডিসি কর্তৃক সৌদিআরব হতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে ডিএপি সার আমদানি করা হয়। ইতোপূর্বে সম্পাদিত চুক্তির কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় বিদ্যমান চুক্তির শর্তসমূহ অভিন্ন রেখে গত বছরের ১৩ আগস্টে পুনরায় চুক্তি নবায়ন করা হয়। সার আমদানি চুক্তিতে উল্লিখিত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসারে MA’ADEN, সৌদিআরব থেকে ১ম লটে ৪০ হাজার (+১০%) মে. টন ডিএপি সার বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যে সর্বমোট ২ কোটি ৩৫ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৫৯ কোটি ১৬ লাখ টাকায় আমদানির প্রস্তাব প্রত্যাশামূলক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় মরক্কোর ওসিপি, এসএ থেকে ৩য় লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানি করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিএডিসি কর্তৃক মরক্কো হতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে টিএসপি সার আমদানি করা হয়। ইতোপূর্বে সম্পাদিত চুক্তির কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় বিদ্যমান চুক্তির শর্তসমূহ অভিন্ন রেখে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পুনরায় চুক্তি নবায়ন করা হয়। সার আমদানি চুক্তিতে উল্লিখিত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসারে ওসিপি, এসএ মরক্কো থেকে ৩য় লটে ৩০ হাজার (+১০%) মে. টন টিএসপি সার বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যে সর্বমোট ১ কোটি ১৫ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকায় আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় মরক্কোর ওসিপি, এসএ থেকে ৩য় লটে ৪০ হাজার মে.টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তবা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিএডিসি কর্তৃক মরক্কো থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে ডিএপি সার আমদানি করা হয়। ইতোপূর্বে সম্পাদিত চুক্তির কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় বিদ্যমান চুক্তির শর্তসমূহ অভিন্ন রেখে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পুনরায় চুক্তি নবায়ন করা হয়। সার আমদানি চুক্তিতে উল্লিখিত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসারে ওসিপি, এসএ মরক্কো থেকে ৩য় লটে ৪০ হাজার (+১০%) মে. টন ডিএপি সার বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যে সর্বমোট ২ কোটি ১৯ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৪০ কোটি ৯০ লাখ টাকায় আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ক্রয় কমিটি।

এছাড়া, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় রাশিয়ার জেএসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন “Prodintorg” থেকে ৪র্থ লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন মিউরেট-অব-পটাশ (এমওপি) সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিএডিসি কর্তৃক রাশিয়া হতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে এমওপি সার আমদানি করা হয়। ইতোপূর্বে সম্পাদিত চুক্তির কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় বিদ্যমান চুক্তির শর্তসমূহ অভিন্ন রেখে গত বছরের ১ জুন পুনরায় চুক্তি নবায়ন করা হয়। সার আমদানি চুক্তিতে উল্লিখিত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসারে জেএফইসি “Prodintorg” রাশিয়া হতে ৪র্থ লটে ৩০ হাজার (+১০%) মে. টন এমওপি সার বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যে সর্বমোট ৯০ লাখ ৬৩ হাজার মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯৯ কোটি ৬৯ লাখ ৩০ হাজার টাকায় আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ক্রয় কমিটি।




আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস

আজ ১৬ অক্টোবর সোমবার বিশ্ব খাদ্য দিবস। কৃষি মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার উদ্যোগে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচিতে পালিত হবে দিবসটি। এবারের প্রতিপাদ্য ‘পানি জীবন, পানিই খাদ্য। কেউ থাকবে না পিছিয়ে’।

দিবসটি উপলক্ষে আজ সকাল ১০টায় বিশ্ব খাদ্য দিবসের মূল অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার প্রধান অতিথি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শম রেজাউল করিম বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন।

দুপুরে বন্যা ও পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে কারিগরি সেশন অনুষ্ঠিত হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিগত ১৫ বছরে খাদ্য উৎপাদনে বিস্ময়কর সাফল্য অর্জিত হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে বিগত ১৫ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার দেশের কৃষির উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে নানাবিধ যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। কৃষি গবেষণা-সম্প্রসারণে কার্যকর সংযোগ স্থাপন, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ কৃষকের নিকট সহজলভ্য করা এবং কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো, ফসলের নতুন নতুন জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। ফলে কৃষি ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়। আধুনিক, লাভজনক ও যান্ত্রিক কৃষি ব্যবস্থার প্রবর্তন হয়। উচ্চফলনশীল ও প্রতিকূলতা সহিষ্ণু নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন ও প্রবর্তনের ফলে খাদ্যশস্য, সবজি ও ফল উৎপাদনে বৈচিত্র্য এসেছে এবং ফসল উৎপাদনে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে।

খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পর উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। ২০০৮-০৯ সালে যেখানে মোট খাদ্যশস্য উৎপাদন ছিল ৩ কোটি ২৮ লক্ষ ৯৬ হাজার মেট্রিক টন, সেখানে ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা বেড়ে ৪ কোটি ৭৭ লক্ষ ৬৮ হাজার মেট্রিক টন হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ফসলের উৎপাদনেও ধারাবাহিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

বিগত ১৫ বছরে ভুট্টা উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে প্রায় ৯ গুণ, আলু ২ গুণ, ডাল ৪ গুণ, তেলবীজ ২.৫ গুণ ও সবজি ৮ গুণ। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের কৃষির সাফল্য বিশ্বে সমাদৃত হয়েছে। বাংলাদেশের ২২টি কৃষিপণ্য উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে ধান উৎপাদনে ৩য়, সবজি ও পেঁয়াজ উৎপাদনে ৩য়, পাট উৎপাদনে ২য়, চা উৎপাদনে ৪র্থ এবং আলু ও আম উৎপাদনে ৭ম।

২০০৮-০৯ সালে চালের উৎপাদন ছিল ৩ কোটি ১৩ লাখ টন যা ২০২২-২৩ সালে ৪ কোটি টনেরও বেশিতে উন্নীত হয়েছে। ২০০৮-০৯ সালে গমের উৎপাদন ছিল ৮ লাখ ৪৯ হাজার টন, ২০২২-২৩ সালে ১১ লাখ ৭০ হাজার টন, ভুট্টা ছিল ৭ লাখ টন যা এখন ৬৪ লাখ টন, আলু ৫ লাখ টন থেকে বেড়ে হয়েছে ১ কোটি ৪ লাখ টন, সবজি ৩০ লাখ টন থেকে বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ২০ লাখ টন।

বিগত ১৫ বছরে বৈরি পরিবেশ সহনশীল জাতসহ মোট ৬৯৯টি উন্নত বা উচ্চ ফলনশীল জাতের ফসল উদ্ভাবন ও ৭৮টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর মধ্যে ধানের জাত ৮০টি।

বর্তমান কৃষকবান্ধব সরকার কয়েক দফায় সারের মূল্য কমিয়ে ও সমন্বয় করে টিএসপি ৮০ টাকা থেকে ২৭ টাকা, ডিএপি ৯০ টাকা থেকে ২১ টাকা এবং এমওপি ৭০ টাকা থেকে ২০ টাকা করেছে। এছাড়াও ভর্তুকি মূল্যে প্রতি কেজি ইউরিয়া ২৭ টাকা দরে কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে।

২০০৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত সার, বিদ্যুৎ ইত্যাদি খাতে মোট ১ লক্ষ ২৮ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করা হয়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় ছিল মাত্র ৫ হাজার ১৭৮ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ভর্তুকি বাবদ ২৫ হাজার ৯৯৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী খামার যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে কৃষি ব্যবস্থার আধুনিকায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কৃষকদের কৃষিযন্ত্রের ক্রয়মূল্যের ওপর হাওর ও উপকূলীয় এলাকায় ৭০ ভাগ ও অন্যান্য এলাকায় ৫০ ভাগ উন্নয়ন সহায়তার মাধ্যমে কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০১০ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত কম্বাইন হারভেস্টর, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, রিপার, সিডার ও পাওয়ার থ্রেসারসহ প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজারটি কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে। এর ফলে কৃষি শ্রমিকের অপ্রতুলতা মোকাবিলা করা সম্ভব হচ্ছে এবং উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পেয়েছে।




আরও ৯ দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি

ভারত ছাড়া আরও নয় দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। গত ২৪ ঘণ্টায় এসব দেশ থেকে ২১ হাজার ৫৮০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয় কৃষি মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, ভারত ছাড়া আরও নয় দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে চীন থেকে ২ হাজার ৪০০ টন, মিশর থেকে ৩ হাজার ৯১০ টন, পাকিস্তান থেকে ১১ হাজার ৮২০ টন, কাতার থেকে এক হাজার ১০০ টন, তুরস্ক থেকে ২ হাজার ১১০ টন, মিয়ানমার থেকে ২০০ টন, থাইল্যান্ড থেকে ৩৩ টন, নেদারল্যান্ডস থেকে ৪ টন ও ইউএই থেকে ৩ টনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এখন পর্যন্ত মোট ১৩ লাখ ৭৩ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতির বিপরীতে দেশে ৩ লাখ ৭৯ হাজার টন পেঁয়াজ এসেছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

দেশের বাজারে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে কয়েক মাস আগে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি অনুমতি দেয় সরকার। সম্প্রতি পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর অতিরিক্ত ৪০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করেছে ভারত। এতে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। এতে ফের অস্থির পেঁয়াজের বাজার।

দেশের বাজারে এখন প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৭০-১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।




চলতি বছর আম রফতানি বেড়েছে ৫৫ শতাংশ, বড় গ্রাহক যুক্তরাজ্য

এ বছর এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭০০ টন আম রফতানি হয়েছে; যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১ হাজার টন (৫৫ শতাংশ) বেশি। ২০২২ সালে মোট ১ হাজার ৭৫৭ টন আম রফতানি হয়েছিল। শুক্রবার (৪ আগস্ট) কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ বছর সবচেয়ে বেশি আম রফতানি হয়েছে যুক্তরাজ্যে, ১ হাজার ২৫৬ টন। এছাড়াও ইতালিতে ২৯৬ টন, সৌদি আরবে ২৬০ টন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৩৭ টন, কাতারে ১১১ টন, সিঙ্গাপুরে ৫৫ টন, সুইজারল্যান্ডে ১৪ টন, জার্মানিতে ৭০ টন, ফ্রান্সে ৮৫ টন, সুইডেনে ৬৫ টন, কুয়েতে ২১৮ টন ও কানাডায় ৪০ টনসহ বিশ্বের ৩৪টি দেশে আম রফতানি হয়েছে। গত বছর ২৮টি দেশে আম রফতানি হয়েছিল।

দেশে বছরে প্রায় ২৫ লাখ টন আম উৎপাদন হয়। কিন্তু উৎপাদনের তুলনায় রফতানির পরিমাণ অনেক কম। ২০১৭-১৮ সালে মাত্র ২৩২ টন, ২০১৮-১৯ সালে ৩১০ টন, ২০১৯-২০ সালে ২৮৩ টন, ২০২০-২১ সালে ১৬৩২ টন, ২০২১-২২ সালে ১৭৫৭ টন আম রফতানি হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, বিশ্ববাজারে দেশের আমের বিপুল চাহিদা থাকলেও উত্তম কৃষিচর্চাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে আম উৎপাদন ও প্যাকেজিং না হওয়ায় রফতানির পরিমাণ কম।

রফতানি বাড়াতে কৃষি মন্ত্রণালয় রফতানিযোগ্য আমের উৎপাদন বৃদ্ধি শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের উত্তম কৃষিচর্চা মেনে আম উৎপাদনসহ বিভিন্ন সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। এর ফলে প্রকল্পের প্রথম বছরেই গত বছরের তুলনায় ১ হাজার টন আম বেশি রফতানি হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক মো. আরিফুর রহমান জানান, চলতি বছর আরও ১৫-২০ দিন আম রফতানি হবে।




ক্ষুদ্র কৃষকদের সুবিধায় ৩৫ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প চালু

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থার রূপান্তরে ১০ লাখের বেশি ক্ষুদ্র কৃষকের সুবিধায় ৩৫ মিলিয়ন ইউএস ডলারের একটি প্রকল্প চালু করেছে কৃষি মন্ত্রণালয় ও আইফিডিসি।

বৃহস্প‌তিবার (২২ জুন) ঢাকার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে ‘ফিড দ্য ফিউচার বাংলাদেশ ক্লাইমেট স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার অ্যাক্টিভিটি (সিএসএ)’ শীর্ষক পাঁচ বছর (২০২৩-২০২৮) মেয়াদি প্রকল্পটির উদ্বোধন করা হয়।

৩৫ মিলিয়ন ইউএস ডলারের (প্রায় ৩৮৯ কোটি টাকা) ব্যতিক্রমী এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা- ইউএসএআইডি। আর প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করছে কৃষি মন্ত্রণালয় ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফার্টিলাইজার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (আইএফডিসি)।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ওয়াহিদা আক্তার এবং আইফিডিসির প্রেসিডেন্ট ও সিইও হেংক ফান রেইন। ইউএসএআইডির ইকোনমিক গ্রোথ অফিসের পরিচালক মুহাম্মদ খান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সিএসএ অ্যাক্টিভিটি চিফ অব পার্টি ইশরাত জাহান।

অনুষ্ঠা‌নে জানা‌নো হয়, এমন সময়ে এই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে যখন জলবায়ু পরিবর্তনসহ অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে বাংলাদেশের কৃষি খাত। করোনাভাইরাস মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে আগের তুলনায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। সুনির্দিষ্ট করে বললে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার ক্ষুদ্র কৃষকরা অধিক মাত্রায় ঝুঁকি মোকাবিলা করছেন।

অনুষ্ঠা‌নে বক্তারা ব‌লেন, সিএসএ কৃষক, খামার ও সরকারি অংশীদারদের সহযোগিতা করতে চাইছে। যেন ক্লাইমেট-স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তিগুলোর ব্যবহার, অনুশীলন, আরও সহনশীল এবং অন্তর্ভূক্তিমূলক খাদ্য ও কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র কৃষকদের উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানো যায়।

অনুষ্ঠা‌নে আরও জানা‌নো হয়, এ প্রকল্প শেষে সর্বমোট ৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ইউএস ডলারের লাভ হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। যা মোট বিনিয়োগ ৩৫ মিলিয়ন ইউএস ডলারের ৯৩ গুণ। এতে উপকৃত হবেন নয় লাখ কৃষক।

সিএসএ অ্যাক্টিভিটির হিসাবে, এ প্রকল্পের মাধ্যমে ৬ লাখ ১ লাখ ৫৫০ মেট্রিক টন সার ও ৪২৪ মিলিয়ন ইউএস ডলারের সারের ভর্তুকি সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান হারে ৯ দশমিক ৫৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন হবে।




৪ লাখ ৭৩ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি

এখন পর্যন্ত দেশে ৪ লাখ ৭৩ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে আমদানি করা ৮ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ দেশে এসেছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় গত সোমবার থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া শুরু করে। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৪ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। সবশেষ বুধবার (৭ জুন) আরও ৪০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়।

প্রথম দিন সোমবার ২ লাখ ৮০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দেয় কৃষি মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত রোববার কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক ঘোষণা দেন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি বা আইপি দেবে কৃষি মন্ত্রণালয়। পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সীমিত আয়ের এবং শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট লাঘবসহ সব ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য, পেঁয়াজ উৎপাদন করে কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষায় বিগত ১৫ মার্চ থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি বন্ধ রাখা হয়েছিল।

এদিকে ভারত থেকে আমদানি করা হবে এমন ঘোষণার পর কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। দুই দিনে পণ্যটির দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এরই মধ্যে দেশের বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজও পৌঁছে গেছে। প্রায় এক মাস সীমান্তে এসে অপেক্ষমাণ থাকার কারণে ভারতীয় পেঁয়াজ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে বাজারে দেশি পেঁয়াজের চাহিদা একটু বেশি।




হাওরে ৭০ শতাংশ বোরো ধান কাটা হয়েছে: কৃষি মন্ত্রণালয়

এখন পর্যন্ত হাওরে ৭০ শতাংশ বোরো ধান কাটা হয়ে গেছে। এর মধ্যে সিলেটে ৫৫, মৌলভীবাজারে ৭০, হবিগঞ্জে ৬৭, সুনামগঞ্জে ৭৩, কিশোরগঞ্জে ৫৮, নেত্রকোনায় ৭৭ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬৭ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে।

সোমবার (২৪ এপ্রিল) কৃষি মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, হাওরভুক্ত ৭টি জেলার হাওরে এ বছর বোরো আবাদ হয়েছে ৪ লাখ ৫২ হাজার হেক্টর জমিতে। আর হাওর ও হাওরের বাইরে উঁচু জমি মিলে মোট বোরো আবাদ হয়েছে ৯ লাখ ৫৩ হাজার হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৪০ লাখ টন চাল।

সম্প্রতি ঈদের আগে সুনামগঞ্জের হাওরে বোরো ধান কর্তন উৎসবে কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ও সময়মতো ধান ঘরে তুলতে পারলে এ বছর বোরোতে রেকর্ড উৎপাদন হবে।

শুধু সুনামগঞ্জেই এক হাজার কম্বাইন হারভেস্টারে ধান কাটা চলছে জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এবার ধান কাটায় কোন সমস্যা হবে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে এ বছর সারা দেশে ৫০ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২ কোটি ১৫ লাখ মেট্রিক টন চাল। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে বোরো ধান আবাদ হয়েছিল ৪৮ লাখ ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে, উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ২ কোটি ২ লাখ টন চাল।