কৃষিখাতে বাণিজ্য আরও সুদৃঢ় করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

কৃষিখাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আরও সুদৃঢ় করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদের সঙ্গে এক সাক্ষাতে এ আগ্রহের কথা জানান তিনি।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের কৃষি, প্রাণিসম্পদ, পারস্পরিক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বিষয়ে আলোকপাত হয়। এসময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শুরুতে কৃষিমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের দীর্ঘ সময়ের বন্ধু ও উন্নয়ন অংশীদার। উভয় দেশের মধ্যে খুবই চমৎকার সম্পর্ক বিদ্যমান। বাংলাদেশের কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে আরও বেগবান করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি প্রযুক্তিসহ সহযোগিতার মনোভাবকে বাংলাদেশ স্বাগত জানায়।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত নবনিযুক্ত মন্ত্রীকে অভিবাদন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, তার দেশ কৃষিখাতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আরও সুদৃঢ় করতে আগ্রহী। মন্ত্রীও এ বিষয় নিয়ে কাজ করার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন।




কৃষিখাতে ব্যবহারে ৫০ হাজার টন ডিএপি-ফসফরিক কিনবে সরকার

কৃষিখাতে ব্যবহারের জন্য ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার এবং সার কারখানার জন্য ১০ হাজার টন ফসফরিক এসিড কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

৩০৭ কোটি ৫৬ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে এই ডিএপি সার ও ফসফরিক এসিড কেনার অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটি।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিএডিসি থেকে সৌদি আরব থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে ডিএপি সার আমদানি করা হয়। ইতোপূর্বে সম্পাদিত চুক্তির কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় বিদ্যমান চুক্তির শর্তগুলো অভিন্ন রেখে চুক্তি নবায়ন করা হয়। সার আমদানি চুক্তিতে উল্লিখিত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসারে সারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানিতে ব্যয় হবে ২ কোটি ৪৫ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ২৯৯ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। প্রতি টন ডিএপি সারের দাম ধরা হয়েছে ৬১৪.৫০ ডলার।

সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের টিএসপিসিএল-এর জন্য ১০ হাজার মেট্রিক টন ফসফরিক এসিড আমদানির প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই প্রস্তাবটিও অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। টিএসপি সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল ফসফরিক এসিড ও রক ফসেফট বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১০ হাজার টন ফসফরিক এসিড আমদানির জন্য আন্তর্জাতিক উম্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে মাত্র ১টি দরপত্র জমা পড়ে।

দরপ্রস্তাবটি কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসির সুপারিশে রেসপনসিভ একমাত্র দরদাতা প্রতিষ্ঠান গুয়ানজি পেঙ্গুই ইকো-টেকনেলজি কো. লি. এই এসিড সরবরাহ করবে। এতে ব্যয় হবে ৭৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। প্রতি টন ফসফরিক এসিডের দাম ৬৩০ ডলার।




শিল্পোদ্যোক্তাদের কৃষিখাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

দেশের শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের কৃষিখাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুস শহীদ।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার-২০২১ প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আম, আলু, আনারস, কলা, তরমুজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে আপনারা এগিয়ে আসুন। শাকসবজি, পেঁয়াজ, আম, টমেটো প্রভৃতি সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নির্মাণে আরও বেশি বিনিয়োগ করুন।

তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে দেশে কৃষি উৎপাদনে বিস্ময়কর ও অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। খাদ্যশস্য, সবজি ও ফল উৎপাদনে যেমন বৈচিত্র্য এসেছে, তেমনি উৎপাদনও বেড়েছে কয়েকগুণ। গত দেড় দশকে ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে নয়গুণ, আলু দ্বিগুণ, ডাল চারগুণ, তেলবীজ আড়াইগুণ ও সবজি আটগুণ। বাংলাদেশ ২০টিরও বেশি কৃষিপণ্য উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে রয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষি উৎপাদনে এরকম ঈর্ষণীয় সাফল্য থাকা সত্ত্বেও আমরা কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও রপ্তানিতে অনেকটা পিছিয়ে। প্রক্রিয়াজাতকরণের কম সুযোগ ও সংরক্ষণাগারের অভাবে আমাদের উৎপাদিত শাকসবজি ও ফলমূলের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন, ভোক্তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হন। অন্যদিকে বছরে আমাদের কৃষিপণ্য রপ্তানি হয় মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের মতো। অথচ এখানে সম্ভাবনা অনেক বেশি। কৃষিপণ্য রপ্তানি করে প্রতি বছর কয়েক বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব।

চাল উৎপাদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরেই বিশ্বে চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ তৃতীয়। চীন ও ভারতের পরই চাল উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি বছর চালের উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাকিয়া সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম।

অনুষ্ঠানে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য প্রাণ-আরএফএলের দুটি প্রতিষ্ঠানসহ ২০ শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার দেওয়া হয়।