ইতালি থেকে দেশের পথে প্রধান উপদেষ্টা

কাতার সফর ও ভ্যাটিকান সিটিতে পোপ ফ্রান্সিসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষে দেশের পথে রওয়ানা হয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

স্থানীয় সময় রোববার (২৭ এপ্রিল) ইতালির রোম বিমানবন্দর থেকে একটি ফ্লাইটে দেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান।

এর আগে শনিবার (২৬ এপ্রিল) ভ্যাটিকান সিটির সেন্ট পিটার স্কয়ারে পোপ ফ্রান্সিসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা।

কাতারের দোহায় আর্থানা সম্মেলনে যোগ দিতে গত ২১ এপ্রিল ঢাকা ছাড়েন তিনি। সেখানে চার দিনের সফর শেষে পোপ ফ্রান্সিসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে ইতালি যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস।




দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ৭২৫ সৈনিক নেবে কাতার

বাংলাদেশ থেকে কাতার ৭২৫ সৈনিক নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। আগামী দুই মাসের মধ্যে এ সৈনিকদের কাতারে পাঠানো যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) কুয়েতের দোহায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার মিলিটারি সেক্রেটারির বরাত দিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

শফিকুল আলম বলেন, এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো খবর। কুয়েতে চাকরিকালে একজন সৈনিক প্রতি মাসে আড়াই লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা বেতন পান।

তিনি বলেন, উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় থেকে বাংলাদেশের সৈনিকরা কুয়েতে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতি তিন বছর পরপর নতুন সৈনিকরা কুয়েতে দায়িত্ব পালন করতে যোগদান করেন।

 

বাংলাদেশ সরকার আরও বেশি সংখ্যক সৈনিক পাঠানোর ব্যাপারে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।




পৃথিবীর জন্য আশার বাতিঘর হতে চায় বাংলাদেশ : ড. ইউনূস

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্ববাসীর উদ্দেশে বলেছেন, বাংলাদেশ এখন এমন এক অবস্থায় দাঁড়িয়ে, যেখানে একটি নতুন সামাজিক চুক্তি করার সুযোগ এসেছে। এটি এমন এক চুক্তি যেখানে রাষ্ট্র ও জনগণ, বিশেষ করে যুবসমাজ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা, ঐতিহ্য, ন্যায়বিচার, মর্যাদা এবং সুযোগের ভিত্তিতে একটি ভবিষ্যৎ একত্রে গড়ে তুলবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা পৃথিবীর জন্য আশার এক বাতিঘর হিসেবে দাঁড়াতে চাই এবং আমাদের বন্ধু ও অংশীদারদের আহ্বান জানাই অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক চুক্তি পুনর্লিখনের জন্য, পাশাপাশি সামাজিক ব্যবসা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং মাইক্রোফাইন্যান্সের ভূমিকা অন্বেষণ করতে, যা প্রান্তিক জনগণের জন্য টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টিতে সহায়ক।’

মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) কাতারের দোহায় ‘আর্থনা শীর্ষ সম্মেলন ২০২৫’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

ড. ইউনূস বলেন, এটি এমন এক সামাজিক চুক্তি যেখানে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও প্রান্তিক জনগণের ক্ষমতায়ন মৌলিক বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে।

প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে একটি সহনশীল, সমৃদ্ধ এবং টেকসই ভবিষ্যতের স্বপ্নের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তবে এখন এমন নানা হুমকি রয়েছে যা আমাদের উন্নয়নকে বিপথে ঠেলে দিতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন এক সময় পার করছি যেখানে বহুপাক্ষিকতা হুমকির মুখে, জলবায়ু পরিবর্তন দ্রুততর হচ্ছে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে এবং মানবিক সংকট গভীরতর হচ্ছে। নতুন নতুন নীতিমালা, প্রযুক্তি এবং শাসন পদ্ধতি আমাদের পৃথিবীকে দ্রুত রূপান্তরিত করছে, যা অতীতের অনেক অনুমানকে অচল করে দিচ্ছে।’

এমন প্রেক্ষাপটে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে ড. ইউনূস বলেন, ‘এখন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতার পুনরুজ্জীবনের প্রয়োজন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।’

তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা সাহসী হই। একটি এমন পৃথিবী গড়ি, যেখানে কেউ এতটা দরিদ্র না হয় যে সে স্বপ্ন দেখতে না পারে, এবং কোনো স্বপ্ন এত বড় না হয় যে তা অর্জন করা যায় না।’

প্রধান উপদেষ্টা যোগ করেন, ‘ভবিষ্যৎ এমন কিছু নয় যা আমরা উত্তরাধিকার হিসেবে পাই। এটি এমন কিছু যা আমরা তৈরি করি। এবং আমাদের প্রত্যেকেরই এতে একটি করে ভূমিকা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, সামনে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে তা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।

ড. ইউনূস বলেন, ‘কিন্তু আমাদের উদ্ভাবন, সহমর্মিতা এবং সম্মিলিত কর্মকাণ্ডের সক্ষমতাও ব্যাপক।’

তিনি বলেন, কাতার যেভাবে আর্থনা শীর্ষ সম্মেলনের উদ্যোগ নিয়েছে, তা দেখাচ্ছে কীভাবে একটি দেশ উদ্ভাবন, ঐতিহ্য ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে জলবায়ু সংকট, সামাজিক বৈষম্য এবং কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ মোকাবিলা করতে পারে।

প্রধান উপদেষ্টা তার মূল বক্তব্যে সামাজিক ব্যবসা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং মাইক্রোফাইন্যান্সের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি কাতার ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন শেখ মোজা বিনতে নাসের এবং ভাইস চেয়ারপারসন ও সিইও শেখ হিন্দ বিনতে হামাদ আল থানিকে সময়োপযোগী ও চমৎকার এই শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান।

দোহায় আজ শুরু হওয়া দুদিনব্যাপী আর্থনা শীর্ষ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘আমাদের উত্তরাধিকার গড়ে তোলা: স্থায়িত্ব, উদ্ভাবন ও ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান’।

এই শীর্ষ সম্মেলন এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে, যেখানে ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ও উদ্ভাবনী পন্থাগুলি আধুনিক টেকসই উন্নয়নে কীভাবে অবদান রাখতে পারে, তা অনুসন্ধান করা হয়—যা একটি আরও সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়তা করবে।

বাসস




কাতারের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধান উপদেষ্টা

চার দিনের সরকারি সফরে কাতারের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেখানে তিনি ‘আর্থনা সামিট ২০২৫’-এ অংশগ্রহণ করবেন।

সোমবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

অধ্যাপক ইউনূস কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির আমন্ত্রণে এ সফরে যাচ্ছেন বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে। সামিটে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি কাতারের আমিরের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

‘আমাদের উত্তরাধিকার গড়ে তোলা : স্থায়িত্ব, উদ্ভাবন ও ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান’ প্রতিপাদ্যে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠেয় ‘আর্থনা সামিট’-এ কাতারের উষ্ণ ও শুষ্ক আবহাওয়ায় টেকসই উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে দেশটির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও অনন্য প্রতিবেশগত বৈচিত্র্যকে কাজে লাগানোর প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হবে।

এই সামিট একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে যেখানে প্রথাগত জ্ঞান ও আধুনিক উদ্ভাবনের সমন্বয়ের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নের নতুন দিক উন্মোচন করা এবং এক সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ গঠনের উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।

২২ ও ২৩ এপ্রিল সামিটে উপস্থাপনা, ইন্টারঅ্যাকটিভ প্যানেল আলোচনা, কর্মশালা ও গোলটেবিল বৈঠকের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।




২ লাখ ৪০ হাজার টন সার কিনবে সরকার

মরক্কো, সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২ লাখ মেট্রিক টন সার ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে ৪০ হাজার টন সার কেনা হবে। যেখানে মোট ব্যয় হবে এক হাজার ১৮৩ কোটি ৬২ লাখ ৪০ হাজার ৬৫০ টাকা।

বুধবার (৬ ডিসেম্বর) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার কমিটির বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃক রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় মরক্কোর ওসিপি এস এ থেকে ৩টি লটে ৪০ হাজার করে এক লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার কেনার পৃথক তিনটি প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যেখানে ব্যয় হবে ৭৫১ কোটি ৮৪ লাখ ২০ হাজার টাকা।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) কর্তৃক রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের কাছ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ১০৮ কোটি ৯৫ লাখ ৪১ হাজার ৫০ টাকায় আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে কাতারের মুনতাজাত থেকে সপ্তম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক প্রিল্ড ইউরিয়া সার ১০৮ কোটি ৯৫ লাখ ৪১ হাজার ৫০ টাকায় আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ১০৮ কোটি ৯৫ লাখ ৪১ হাজার ৫০ টাকায় আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে বিসিআইসি কর্তৃক কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশ এর কাছ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার ১০৪ কোটি ৯১ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকায় ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বিসিআইসি কর্তৃক চট্টগ্রামের টিএসপিসিএল-এর জন্য ১০ হাজার মেট্রিক টন ফসফরিক এসিড মেসার্স সান ইন্টারন্যাশনাল এফজেডই, ইউএই স্থানীয় এজেন্ট মেসার্স এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনপুট থেকে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ২০ হাজার টাকায় কেনার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।




জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস কাতারের

ক্রমবর্ধমান জ্বালানির চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে কাতার।

রোববার (৫ মার্চ) কাতারের ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে (কিউএনসিসি) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এক বৈঠকে এ আশ্বাস দেন দেশটির আমির শেখ তামিম বিন হামাদ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল সানির উদ্ধৃত করে বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কাতারের আমির বলেছেন, আমি আপনাকে সাহায্য করতে চাই। কাতার সবসময় বাংলাদেশকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে।

মোমেন বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কাতারের কাছ থেকে আরও বেশি জ্বালানি, বিশেষ করে বার্ষিক আরও এক মিলিয়ন মেট্রিক টন (এমটিএ) তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) চেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বলেছেন, আমরা কাতারের সাহায্য চাই। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশ জ্বালানি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। আমি চুক্তি নবায়ন করতে চাই। আমি আরও এলএনজি চাই। জবাবে কাতারের আমির জানতে চান বাংলাদেশ কতটা জ্বালানি চায়। তাকে বলা হয়, বাংলাদেশ আরেকটি এমটিএ অর্থাৎ ১৬-১৭ কনটেইনার জ্বালানি চায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে আমির বলেন, আপনার কাতার ছাড়ার আগে তার জ্বালানি মন্ত্রী এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে আলোচনা করবেন।
বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ৪০টি কন্টেইনার জ্বালানি আমদানি করছে, যার পরিমান ১.৮-২.৫ এমটিএ।




কাতারের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ

স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বিষয়ে পঞ্চম জাতিসংঘ সম্মেলনে যোগ দিতে কাতারের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার (৪ মার্চ) বেলা সোয়া ১১ টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩২৫ ভিভিআইপি ফ্লাইট দোহার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ে।

স্থানীয় সময় বিকেলে দোহার হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দরে কাতার সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি এবং দোহায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলাম শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাবেন।

বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী সফরকালীন আবাসস্থলে যাবেন। পরে বিকেলে আবাসস্থল থেকে তিনি কাতার ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে যাবেন।

সফরের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেস, জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট সাবা কোরোসি এবং ইউএনডিপির প্রশাসক অসিম স্টেইনার বৈঠক করবেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন ৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে বিশেষ আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন।

এ অধিবেশনে জাতিসংঘের মহাসচিব, সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও এলডিসি গ্রুপের বর্তমান চেয়ার মালাউইর রাষ্ট্রপতিও বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে থাকা তিন এশীয় দেশ-বাংলাদেশ, নেপাল ও লাওস পিডিআর কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানেও বক্তব্য দেবেন শেখ হাসিনা।

এছাড়া এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

তৃতীয় দিন ৬ মার্চ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিজনেস সামিট, আঞ্চলিক দূত সম্মেলনে অংশ নেবেন।

এদিন শেখ হাসিনা মালয় এর রাষ্ট্রপতি লাজারাস মাকারথির সঙ্গে বৈঠক করবেন।

চতুর্থ দিন ৭ মার্চ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গোলটেবিল বৈঠক, স্মার্ট বাংলাদেশ সম্পর্কিত অনুষ্ঠান, কাতার প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের আয়োজিত কমিউনিটি ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী।

কাতার সফর শেষে ৮ মার্চ স্থানীয় সময় সকালে দোহা থেকে রওনা হয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে আছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।




শনিবার কাতার সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে নিয়ে আয়োজিত পঞ্চম জাতিসংঘ সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে (এলডিসি-৫) যোগ দিতে শনিবার (৪ মার্চ) কাতারে যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর সফর বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেহেলী সাবরিন বলেন, আগামী ৫ থেকে ৯ মার্চ কাতারের দোহায় স্বল্পোন্নত দেশ সংক্রান্ত পঞ্চম জাতিসংঘ সম্মেলনের (এলডিসি ৫) দ্বিতীয় পর্ব হবে। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ বিন খলিফা আল থানি ও জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আমন্ত্রণে ওই সম্মেলনে যোগ দিতে শনিবার দোহার উদ্দেশে রওনা দেবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল।

তিনি জানান, কাতার সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটির আমিরের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে জ্বালানি খাতে সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরবে ঢাকা।