কাঁচা মরিচের দাম বেশি রাখায় ৯৫ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

কাঁচা মরিচের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বুধবার সারা দেশের ৪০টি বাজারে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে কাঁচা মরিচ ছাড়াও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামের বিষয়েও তদারকি করা হয়। এসময় পণ্যের মূল্য কারচুপি, মূল্য তালিকা ও ভাউচার না থাকায় ৯৫ ব্যবসায়ীকে তিন লাখ ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে সংস্থাটি।

বুধবার (৫ জুলাই) ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকা মহানগরসহ দেশের সব বিভাগ ও জেলাপর্যায়ে একযোগে কাঁচা মরিচ ও চিনির মূল্য এবং মজুতসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য তদারকির লক্ষ্যে অভিযান পরিচালিত হয়। এরমধ্যে ঢাকায় অভিযান পরিচালনা করে তিনটি টিম। এছাড়া অন্যান্য বিভাগীয় শহরসহ মোট ৩৭টি জেলায় একযোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

ঢাকা মহানগরীর কারওয়ান বাজার, কাঁঠালবাগান কাঁচাবাজার, তেজকুনিপাড়া কাঁচাবাজার, যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজার, দয়াগঞ্জ কাঁচাবাজার, ধলপুর কাঁচাবাজার, ডেমরা কাঁচাবাজার, শনির আখড়া কাঁচাবাজার ও মতিঝিল এজিবি কলোনি কাঁচাবাজার এলাকায় মরিচের বিক্রয়মূল্য ও ক্রয়মূল্য যাচাই করা হয়।

কাঁচা মরিচের মূল্যের পাশাপাশি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে সারাদেশে একযোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়, যা তিনদিন ধরে অব্যাহতভাবে চলছে।

এদিকে আমদানি শুরুর খবরে সোমবার কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি নেমেছিল ২০০ টাকার ঘরে। এরপর মঙ্গলবার দাম কিছুটা বেড়ে ৩০০-৩৫০ টাকায় ওঠে। একদিনের ব্যবধানে এবার ৫০০ টাকা ছাড়িয়েছে কাঁচা মরিচের কেজি। সবশেষ বুধবার (৫ জুলাই) রাজধানীর বাজারগুলোতে দেখা যায় প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩২০-৫০০ টাকা কেজি দরে।




একদিন পরই ফের বাড়লো কাঁচা মরিচের দাম

আমদানি শুরুর খবরে সোমবার কাঁচা মরিচের দাম নেমেছিল ২০০ টাকার ঘরে। আজ (মঙ্গলবার) আবারও দাম বেড়েছে। রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকা কেজি দরে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃষ্টির কারণে দেশি মরিচের সরবরাহ কম থাকায় আমদানি দিয়ে দামে লাগাম টানা যাচ্ছে না। সরবরাহ কম হওয়াতে একদিনের ব্যবধানে পণ্যটির দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকা বেড়ে গেছে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা এক পোয়া (২৫০ গ্রাম) কাঁচা মরিচ বিক্রি করছেন ৮০ থেকে ৯০ টাকা। আর এক কেজি কিনলে দাম রাখা হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। আবার কোথাও এক পোয়া মরিচের দাম ১০০ টাকাও বিক্রি হতে দেখা গেছে।

কারওয়ান বাজারের পাইকারি কাঁচা মরিচ ব্যবসায়ী আবদুল বাসেদ মোল্লা  জানান, সরবরাহ কম হওয়ার কারণে পাইকারিতেও কাঁচা মরিচের দাম আবারও বাড়লো। এখন প্রতি পাল্লা (৫ কেজি) বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকায়। অর্থাৎ কেজি পড়ছে ২৪০ টাকা। আর ভারত থেকে আমদানি হওয়া কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৩০০ টাকা পাল্লা। গতকাল (সোমবার) মরিচের দাম ৮০০ টাকা পাল্লায় নেমেছিল।

বাসেদ মোল্লা আরও বলেন, ভারতের মরিচ সামান্য পরিমাণে আমদানি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে দেশি মরিচের সরবরাহ অনেক কম। এ কারণে হুট করে আবারও দাম বেড়ে গেল।

এনামুল হক নামের আরেক বিক্রেতা বলেন, কাঁচামালের দাম সরবরাহের উপর ওঠানামা করে। ঈদের পর পর এক পাল্লা মরিচ ৩ হাজার টাকায় উঠেছিল। এখন অর্ধেকে নেমেছে।

রামপুরা কাঁচাবাজারের সবজি ব্যবসায়ী আমিরুল বলেন, কাঁচামালের দাম এমনই হয়। যখন বাড়ে, হুট করে বাড়ে। আবার যখন কমে আসে, তখন অন্য সব পণ্যের চেয়ে দ্রুত পড়ে যায়। কিন্তু এখন মরিচের চাহিদা অনেক। সেই তুলনায় সরবরাহ কম।

দেশে কয়েক সপ্তাহ ধরে কাঁচা মরিচের দামে অস্থিরতা চলছে। ঈদের আগে হঠাৎ কাঁচা মরিচের অস্বাভাবিক দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। তখন দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর ঈদের ছুটিতে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় আবারো বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছিল। পরে গত রোববার থেকে আবারও মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। তাতে দাম কিছুটা কমলেও একদিন বাদে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

এদিকে মরিচের দাম বেশি হওয়াকে কৃত্রিম সংকট বলে দাবি করেছেন অনেকে। ফলে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সোমবার সারাদেশে বাজারগুলোতে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এসব অভিযানে সারাদেশে ৫৩টি বাজারে ১৪৮টি প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।




ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে এল ৬ ট্রাক কাঁচা মরিচ

দেশের বাঁজারে কাঁচা মরিচের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির মধ্যে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে দেশে প্রবেশ করেছে ৬ ট্রাক কাঁচা মরিচ।

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে রবিবার বেলা ১১টার দিকে প্রথম প্রথম পণ্য বোঝাই ট্রাক-লরি বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

ছুটি শেষে সকল আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিন দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২১টি পাথর বোঝাই ট্রাক ও ৬টি কাঁচা মরিচের ভারতীয় ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

ভোমরা স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্টস্ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ খান বলেন, ঈদুল আজহার কারণে গত মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত পাঁচদিন ছুটি ছিল ভোমরা স্থল বন্দরে। রবিবার থেকে আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।




আমদানি শুরু হলে কমবে কাঁচা মরিচের দাম

কোরবানির ঈদের দুই সপ্তাহ আগেও রাজধানীতে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে। ঈদের কয়েকদিন আগে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়। এরপর থেকে দাম কমেনি। এখন ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, ঊর্ধ্বমুখী বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ২৫ জুন থেকে মরিচ আমদানির অনুমতি দিয়েছে। তবু কমছে না মরিচের দাম। এর মধ্যে দুই দিন আমদানির পর ঈদের কারণে আপাতত বন্ধ রয়েছে কাঁচা মরিচ আমদানি। পুনরায় আমদানি শুরু হলে কাঁচা মরিচের দাম কমতে শুরু করবে বলে প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীর রামপুরা, খিলগাঁও, দক্ষিণ বনশ্রী, মালিবাগ ও কারওয়ান বাজারে রোববার (২ জুলাই) ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে কাঁচা মরিচ। তবে কোথাও ৫০০ টাকার নিচে কাঁচা মরিচ কেনা যাচ্ছে না। পাইকারি বাজারে কাঁচা মরিচের দাম বাড়লেও খুচরা বাজারের সঙ্গে দামে দ্বিগুণ ব্যবধান। লাগামহীন এমন দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।

বিক্রেতারা বলছেন, ঈদে পরিবহন সংকট ও বৃষ্টির কারণে কাঁচা মরিচের সরবরাহ কম থাকায় দাম অতিরিক্ত বেড়েছে। তবে বৃষ্টির প্রকোপ কমলে কাঁচা মরিচের দাম ভোক্তার নাগালে আসবে বলে জানান বিক্রেতারা। এদিকে ভোক্তারা বলছেন, হঠাৎ কাঁচা মরিচের এমন অস্বাভাবিক দাম বাড়াতে নাজেহাল অবস্থায় পড়তে হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে খরার পর হঠাৎ অতিবৃষ্টির কারণে বেশিরভাগ মরিচ গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সে কারণে অধিকাংশ গাছে ফলন কমে গেছে। এর পর সম্প্রতি টানা বৃষ্টির কারণে মরিচ সংগ্রহের কাজ স্বাভাবিকভাবে হচ্ছে না। ফলে মরিচ উৎপাদনের এলাকা হিসেবে পরিচিত জেলা ও উপজেলাগুলোতেও কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে।

বাজার করতে আসা আমেনা বেগম নামে একজন গৃহীণি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই ঊর্ধ্বমুখী কাঁচা মরিচের দাম। অন্যান্য সবজি না হলেও চলে; তবে মরিচ ছাড়া তরকারি তো রান্না হয় না। তাই বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে মরিচ কিনতে হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দাম নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজারে মরিচ কিনতে এসে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। বেশি কেনাও সম্ভব না, আবার পরিমাণে অল্পও বিক্রি করতে চাইছেন না দোকানদাররা। ১০ টাকার কাঁচা মরিচ চাইলে দোকানদাররা বিরক্তি প্রকাশ করছেন।

কারওয়ান বাজার কাঁচামাল আড়ৎ ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মো. মোক্তার হোসেন বলেন, দুই-এক দিনের মধ্যে পুনরায় কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হতে পারে। আশা করা যায়, এরপর থেকে কাঁচা মরিচের দাম কমতে শুরু করবে। ঈদে পরিবহন সংকট ও বৃষ্টির কারণে কাঁচা মরিচের সরবরাহ কম থাকায় দাম অতিরিক্ত বেড়েছে।

সবজির দাম বাড়তি: ঈদের পর প্রায় সকল সবজিই দাম কেজি প্রতি বেড়েছে ৫ থেকে সর্বোচ্চ ২০ টাকা পর্যন্ত। প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, যা ঈদের ছুটির আগে ছিল ৬০ টাকা। এছাড়া প্রতিকেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, যা ঈদের ছুটির আগে ছিল ৪০ টাকা। প্রতি কেজি ঢ্যাঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, যা ঈদের আগে ছিল ৪০ টাকা। প্রতি কেজি কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, যা ঈদের ছিল ৪০ টাকা। ৫০ টাকার বেগুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। প্রতি কেজি পোটল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, যা ঈদের আগে ছিল ৪০ টাকা। প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়, যা ঈদের ছুটির আগে ছিল ১২০ টাকা। প্রতি কেজি ঝিঙা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, যা ঈদের আগে ছিল ৬০ টাকা। প্রতি কেজি চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, যা ছিল ৫০ টাকা। প্রতি কেজি গাজর বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, যা ঈদের ছুটির আগে ছিল ১০০ টাকা।

মাছ ও মাংসের দাম বাড়তি: ঈদ পর মাছ বাজারেও রয়েছে অস্বস্তি। প্রতি কেজি রুই বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, তবে তাজা রুই কিনতে আরও ৫০ টাকা বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। বাগদা চিংড়ি ৭০০ ও গলদা ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এর বাইরে আইড়, চিতল, বেলে মাছ আকারভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়। এছাড়া, প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। আর খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১১০০ টাকা কেজি। লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকায়। আর ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।