ক্যাব ও বিএসটিআইয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) বিএসটিআইয়ের কাউন্সিল সভা শেষে আয়োজিত এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ক্যাবের সভাপতি এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান এবং বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক এস. এম. ফেরদৌস আলম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সই করেন।

অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া এবং বিএসটিআইয়ের কাউন্সিলর সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে মানসম্মত ও নিরাপদ পণ্য নিশ্চিতকরণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে বাজার মনিটরিং ও তদারকি কার্যক্রমে সহযোগিতা, নকল ও ভেজালবিরোধী উদ্যোগ জোরদার, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ এবং তথ্যভিত্তিক উদ্যোগ যৌথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা ও ন্যায্য বাজার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।




বোতলজাত পানির মূল্যবৃদ্ধি বাতিলের দাবি ক্যাবের

বোতলজাত সব ধরনের পানির হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি অন্যায়, অযৌক্তিক ও ভোক্তা স্বার্থবিরোধী বলে মন্তব্য করেছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনটি অবিলম্বে পানির অযৌক্তিক দাম বাতিলসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন থেকে সংগঠনটি এসব দাবি জানায়।

ক্যাবের দাবিগুলো হলো— অবিলম্বে সব ধরনের বোতলজাত পানির অযৌক্তিক, অন্যায় ও অন্যায্য মূল্যবৃদ্ধি বাতিল করতে হবে; ভোক্তাদের সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে; বোতলজাত পানির মূল্য স্বাভাবিক করতে প্রতিযোগিতা কমিশন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে হবে; যেসব ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান জোটবদ্ধভাবে হঠাৎ বোতলজাত পানির দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়িয়ে ভোক্তা সাধারণকে কষ্টে ফেলেছে তাদের আইনানুগ বিচার ও শাস্তি দিতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। দেশে চলছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, মানুষ এমনিতেই নানাভাবে বিপদগ্রস্ত। এমন সময়ে হঠাৎ বাজারে বোতলজাত পানির দাম বেড়ে গেছে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই। নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে বোতলজাত পানির দাম। বেশ কয়েকটি কোম্পানি প্রতি বোতল পানির দাম বাড়িয়েছে। আধা লিটার পানির বোতল এখন বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। হঠাৎ কেন পানির দাম এত বাড়ানো হয়েছে, এর কোনো সদুত্তর মিলছে না। বাজারে যেসব বোতলজাত পানি বিক্রি হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে পরিচিত ব্র্যান্ডের ৫০০ মি.লি. পানির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য এখন ২০ টাকা। কয়েকদিন আগে এসব ব্র্যান্ডের ৫০০ মি.লি. পানির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ছিল ১৫ টাকা। এছাড়া প্রতি ৫০০ মি. লি. বোতলজাত খাবার পানির পাইকারি মূল্য ১১-১২ টাকা। অর্থাৎ ৫০০ মি. লি. পরিমাণের প্রতি বোতল পানি খুচরা পর্যায়ে ৮/৯ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি।

তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সূত্রে জানতে পেরেছি, পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে বোতলজাত পানির অস্বাভাবিক দাম বাড়ার ঘটনাটি তাদের নজরে এসেছে। তারা এ বিষয়ে তদন্ত করছে এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকেও জানিয়েছে। জানা আছে, দেশে পানির বাজার এখন হাজার কোটি টাকার। প্রতি বছর ৩৫ থেকে ৪০ কোটি লিটার বোতলজাত পানি বিক্রি হয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে বোতলজাত পানির চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী বড় বড় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানেরই এখন পানির ব্যবসা রয়েছে।

তারা বলেন, আমরা জানি জনগণকে সুরক্ষা দিতে ‘প্রতিযোগিতা আইন ২০১২’ প্রণীত হয়েছে। এই আইনের লক্ষ্য হিসেবে বলা হয়েছে, ‘যেহেতু দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে ব্যবসা-বাণিজ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ উৎসাহিত করিবার, নিশ্চিত ও বজায় রাখিবার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রমূলক যোগসাজশ মনোপলি ও অলিগোপলি অবস্থা, জোটবদ্ধতা অথবা কর্তৃত্বময় অবস্থানের অপব্যবহার সংক্রান্ত প্রতিযোগিতা বিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ বা নির্মূলের লক্ষ্যে আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; বিধায় প্রতিযোগিতা আইন ২০১২ প্রণীত হয়েছে।’ কিন্তু আমরা সাধারণ ভোক্তারা এই আইনের সুফল পাচ্ছি না। সব ধরনের বোতলজাত পানির হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধিও এরই ধারাবাহিকতা।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বোতলজাত সব ধরনের পানির হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি, যা অন্যায়, অযৌক্তিক ও ভোক্তা স্বার্থবিরোধী তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং অবিলম্বে দাম কমানোর দাবি জানাচ্ছে।

মানববন্ধনে ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূইয়া, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাপরিচালক ও ক্যাব ঢাকা জেলা কমিটির সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম শামস এ খান, বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।




রোগীদের জিম্মি করে দাবি আদায় অমানবিক : ক্যাব

সেন্ট্রাল হসপিটালে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় দুই নারী চিকিৎসককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশে চিকিৎসকদের সব ধরনের প্রাইভেট চেম্বার-অপারেশন বন্ধ রাখায় ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সেইসঙ্গে রোগীদের জিম্মি করে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে খেলা বন্ধের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) এক বিবৃতিতে এ এসব কথা বলেন ক্যাব নেতারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, দুজন চিকিৎসককে গ্রেপ্তারের কারণে অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনেকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওজিএসবি) ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) এ ধরনের অমানবিক ও অন্যায় সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।

এতে বলা হয়, চিকিৎসক হোক আর যেই হোক সবাইকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আইনিভাবে মোকাবিলা করা উচিত। কিন্তু আদালতের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে হীন ষড়যন্ত্রে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া জনগণের চিকিৎসা সেবার মতো মৌলিক অধিকার খর্ব করার শামিল। যা জনগণের মৌলিক অধিকার খর্ব করার হীন প্রয়াস শুধু নয়, এটা চরম বর্বরতার শামিল এবং আদিম যুগের ‘জোর যার মল্লুক তার’ স্লোগানে প্রত্যাবর্তনের আহ্বান। এটা অনেকটা লাশের রাজনীতির মতো।

চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বার-অপারেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা বাতিল করে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আদালতের কাছে প্রতিকার চাওয়ার পরামর্শ দিয়ে অবৈধ ধর্মঘট প্রত্যাহারের দাবি জানান ক্যাব নেতারা।

তারা সাধারণ জনগণকে জিম্মি করে প্রাইভেট চেম্বার ও অপারেশন বন্ধের ঘোষণায় হতাশা প্রকাশ করেন এবং রোগীদের জিম্মি করে এ ধরনের নৈরাজ্যের পরিস্থিতি পরিহার করার আহ্বান জানান। গুটি কয়েক অসাধু লোকের কারণে প্রাইভেট চেম্বার ও অপারেশন বন্ধের একযোগে অঘোষিত ধর্মঘট চিকিৎসকদের মহান পেশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং চিকিৎসকরা আইনের ঊর্ধ্বে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে মতপ্রকাশ করে এ ধরনের আত্মঘাতী কর্মসূচি থেকে সরে আসার আহ্বান জানায় ক্যাব।

ক্যাব নেতারা আরও বলেন, চিকিৎসা পেশা একটি মহান সেবাধর্মী পেশা হলেও বর্তমানে সনদবিহীন, ভুয়া, অসাধু চিকিৎসক ও ক্লিনিক মালিকরা এ মহান পেশাকে কাজে লাগিয়ে দিনে দিনে কোটিপতি হওয়ার বাসনায় লিপ্ত। সে কারণে রোগীর সেবা, মানবতার সেবার চেয়ে অর্থই তাদের কাছে মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও সুযোগ-সুবিধা থাকলেও রোগীরা সেখানে ন্যূনতম চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক ও চেম্বারে যেতে পরামর্শ প্রদান করা হয়। আর যেকোনো মানুষ রোগাক্রান্ত হলেই আগে পরামর্শ দেওয়া হয় প্যাথলজিক্যাল টেস্ট ও অপারেশন। কারণ এতে চিকিৎকদের লাভ বেশি। যার কারণে প্যাথলজিক্যাল ল্যাবগুলো ব্যাঙের ছাতার মতো শহর, গ্রাম সর্বত্র ছাড়িয়ে পড়েছে। আর ক্লিনিকগুলো নামমাত্র সেবা দিয়ে গলাকাটা বিল আদায় করছে। বিএমএ-সহ সরকার ও বিরোধী দল সমর্থিত চিকিৎসকদের পেশাজীবী সংগঠনগুলোর দৌরাত্ম্য, একচেটিয়া প্রভাবের কারণে এখানে রোগীদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো প্রকার নজরদারি করার সাহস পর্যন্ত নেই। ফলে মানুষ অসহায় হয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে চিকিৎসার জন্য ভিড় জমান।

তারা স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেক্টরে এ ধরনের নৈরাজ্যের পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বেসরকারি ক্লিনিক, প্যাথলজিক্যাল ল্যাবসহ স্বাস্থ্য বিভাগের সব প্রতিষ্ঠানে কঠোর নজরদারির দাবি জানান। স্বাস্থ্য সেক্টরে কমিশন প্রথা, উপহার প্রথা বাতিলসহ ভোক্তা স্বার্থরক্ষায় কঠোর আইনি প্রতিকার এবং সিবিএ সংগঠনের মতো বিএমএর অযাচিত হস্তক্ষেপ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন– ক্যাব কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের সভাপতি জেসসিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, ক্যাব দক্ষিণ জেলা সভাপতি আবদুল মান্নান প্রমুখ।