ওয়ান ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি ওয়ান ব্যাংক পিএলসি গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য লভ্যাংশ সংক্রান্ত তথ্য ঘোষণা করেছে। আলোচিত বছরের জন্য ব্যাংকটি শেয়ারহোল্ডারদেরকে কোন লভ্যাংশ দেবে না।

রোববার (২৫ মে) অনুষ্ঠিত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী সমন্বিতভাবে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় (Consolidated EPS) হয়েছে ১ টাকা ২৪ পয়সা। আগের অর্থবছরের শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ১ টাকা ০৯ পয়সা।

গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ২২ টাকা ৪৩ পয়সা।

আগামী ১৪ আগস্ট ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৪ জুন।




স্ত্রীসহ দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ওয়ান ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যানের

ওয়ান ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান সাঈদ হোসেন চৌধুরী ও তার স্ত্রী ফারজানা চৌধুরীকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতের বিচারক মুজাহিদুর রহমান এ আদেশ দেন।

১২ কোটি ৩৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা খেলাপি ঋণ আদায়ে সাউথইস্ট ব্যাংকের করা এক মামলায় আদালত এ আদেশ দেন। ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর ব্যাংকটির আগ্রাবাদ শাখা এ মামলা করেন।

আদালতে ব্যাংক আবেদনে উল্লেখ করে, বিবাদীরা ২০২৩ সালের ১৬ আগস্ট লিখিত বর্ণনায় খেলাপি ঋণের দায় থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এই ঋণ বিবাদীরা উপভোগ করেছিলেন ২০০৯ সালে। বেশ কয়েক দফা পরিশোধের মেয়াদ নবায়ন করার পর ২০১৯ সালে বিবাদীর আবেদনক্রমে ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়। গৃহীত ঋণের বিপরীতে কোনো স্থাবর সম্পত্তি ব্যাংকের নিকট দায়বদ্ধ নেই। ব্যক্তিগত জিম্মায় এই ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল। বিবাদী সাঈদ হোসেন চৌধুরী ওয়ান ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ও তার স্ত্রী ফারজানা ৮৪ কোটি ৯০ লাখ টাকার সমপরিমাণ ওয়ান ব্যাংকের শেয়ার ধারণ করছেন। তাতে প্রতীয়মান হয় তারা ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে যথেষ্ট সামর্থ্যবান। কিন্তু তারা আইন আদালতের পদ্ধতিগত অপব্যবহারের সুযোগ নিয়ে খেলাপি ঋণ পরিশোধ করছেন না। সার্বিক বিবেচনায় প্রতীয়মান হয় তারা ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপি। কোনো ঋণ খেলাপি ব্যক্তি ব্যাংকিং কোম্পানি আইনের বিধান মোতাবেক কোনো ব্যাংকের ডিরেক্টর পদে থাকতে পারেন না। তাই সাঈদ হোসেনকে ওয়ান ব্যাংকের পরিচালক পদ অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রেজাউল করিম বলেন, বুধবার আদালত সর্বশেষ আদেশে সাঈদ হোসেন ও তার স্ত্রী ফারজানাকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে আদেশের কপি পুলিশের বিশেষ শাখার বিশেষ সুপারকে (ইমিগ্রেশন) পাঠাতে বলেছেন।




ওয়ান ব্যাংকের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওয়ান ব্যাংক পিএলসি পরিচালনা পর্ষদের সভার তারিখ ঘোষণা করেছে। আগামী ২৫ জুলাই, বেলা ৩টায় এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র অনুসারে, সভায় ৩০ জুন, ২০২৪ তারিখে সমাপ্ত ব্যাংকটির দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল’২৪-জুন’২৪) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে। পর্ষদ এ প্রতিবেদন অনুমোদন করলে ব্যাংকটি তা প্রকাশ করবে।




ওয়ান ব্যাংকের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওয়ান ব্যাংক পিএলসি প্রান্তিক সংক্রান্ত পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করেছে। আগামী ১৩ মে বিকাল ০৩ টায় কোম্পানিটির পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, আলোচিত সভায় ৩১ মার্চ, ২০২৪ তারিখে সমাপ্ত প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে। পর্ষদ এ প্রতিবেদন অনুমোদন করলে তা প্রকাশ করবে কোম্পানিটি।




শেয়ারহোল্ডারদের বোনাস লভ্যাংশ দিলো ওয়ান ব্যাংক

পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ওয়ান ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের ঘোষিত বোনাস লভ্যাংশ শেয়ার শেয়ারহোল্ডারদের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (২১ আগস্ট) ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই-সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ওয়ান ব্যাংক ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ২১ আগস্ট সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের বিও হিসাবে লভ্যাংশ পাঠিয়েছে।

উল্লেখ্য, আলোচ্য বছরে ওয়ান ব্যাংক ৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। এর পুরোটাই বোনাস লভ্যাংশ।




বোনাস  লভ্যাংশ  দিয়ে  জরিমানা গুনছে ৪ ব্যাংক

শেয়ারহোল্ডারদের নগদ লভ্যাংশ না দিয়ে শুধুমাত্র বোনাস  লভ্যাংশ দিয়ে জরিমানা গুণতে হচ্ছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের চার ব্যাংককে। ব্যাংকগুলো হচ্ছে- এবি ব্যাংক লিমিটেড, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড, ওয়ান ব্যাংক এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড।

আইনে বলা হয়েছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে কমপক্ষে বোনাস লভ্যাংশের সমপরিমাণ নগদ লভ্যাংশ দিতে হবে। যদি বোনাসের পরিমাণ নগদের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে পুরো বোনাস শেয়ারের উপর ১০ শতাংশ হারে কর আরোপ করা হবে। এ হিসাবে ব্যাংকগুলোকে অতিরিক্ত আয়করের শাস্তির কবলে পড়তে হবে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই আইনটি বাজেটে প্রণয়ন করা হয়।

আইন অনুসারে, এবি ব্যাংকে ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, ওয়ান ব্যাংকের প্রায় ৫ কোটি এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ১০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা জরিমানা গুণতে হবে।

লভ্যাংশ মুনাফা হিসেবে বোনাস শেয়ার দেওয়া নিয়ে চার ব্যাংকের কর্তৃপক্ষ বলছেন, ব্যাংকগুলোর পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধির জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুনাফার টাকা ব্যাংকের মূলধনকে আরও শক্তিশালী করবে।

এবি ব্যাংক

জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সমাপ্ত ২০২২ সালে এবি ব্যাংকের মুনাফা হয়েছে ৭১ কোটি ৫৪ লাখ ৫৮ হাজার ৪৭৯ টাকা। সেখান থেকে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকটির পর্ষদ নগদ লভ্যাংশ না দিয়ে শুধুমাত্র বোনাস শেয়ার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ কারণে ১৭ কোটি ২২ লাখ টাকার বোনাস শেয়ারের উপর ১০ শতাংশ হারে ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা জরিমানা গুণতে হবে।

পাশাপাশি নিয়ম অনুসারে মুনাফার ৩০ শতাংশের কম লভ্যাংশ ঘোষণা দিয়েছে ব্যাংকটি। কম লভ্যাংশ ঘোষণা করায় ৫৪ কোটি ২৪ লাখ টাকার উপর ১০ শতাংশ হারে আরও ৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে। সবমিলিয়ে দুই কারণে ব্যাংকটিকে শাস্তিস্বরুপ ৭ কোটি ১৪ লাখ টাকা জরিমানা গুণতে হবে।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক

বিদায়ী বছরের ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৬৫ পয়সা করে। তাতে কর-পরবর্তী মুনাফার পরিমাণ দাঁড়ায় ২৩৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। সেখান থেকে ব্যাংকটি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য শুধুমাত্র ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

১০ শতাংশ হারে ব্যাংকটির মুনাফার টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এই টাকা পরিশোধিত মূলধন বাড়াতে ব্যবহার হবে। এছাড়াও মুনাফার ১৪৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা নিয়ম অনুসারে রিজার্ভ ফান্ডে রাখা হবে।

এবি ব্যাংকের মতো এই ব্যাংকটি নগদ শেয়ার না দিয়ে শুধু বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আইন লঙ্ঘন করেছে। আয়করের আওতায় শাস্তি হিসেবে ৮৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকার উপরে ১০ শতাংশ হারে ৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা জরিমানা গুণতে হবে।

ওয়ান ব্যাংক

শেয়ার প্রতি ৭৩ পয়সা করে বেড়ে ২০২২ সালে ওয়ান ব্যাংকের মোট মুনাফা হয়েছে ১৫৫ কোটি ৯৩ লাখ ৮০ হাজার ৫৪১ টাকা। এই মুনাফা থেকে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংকটি। অর্থাৎ ৪৯ কোটি ৩ লাখ ৭১ হাজার ২৩৯ টাকার শেয়ার লভ্যাংশ দেবে। মুনাফার টাকায় ব্যাংকটির মূলধন বাড়াবে।

নগদ শেয়ার লভ্যাংশ না দিয়ে শুধুমাত্র বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দেওয়ায় বোনাস শেয়ারের ৪৯ কোটি ৩ লাখ ৭১ হাজার ২৩৯ টাকার মুনাফার উপর ১০ শতাংশ হারে অর্থাৎ প্রায় ৫ কোটি টাকা জরিমানা পরিশোধ করতে হবে কোম্পানিকে।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক

অপরদিকে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ২০২২ সালে মোট মুনাফা হয়েছে ২৯৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। সেখান থেকে শেয়ারহোল্ডারদের নগদ লভ্যাংশ না দিয়ে কেবল ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার লভ্যাংশ দিয়েছে। তাতে কোম্পানির বোনাস শেয়ারের টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ১০৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এই টাকার উপরে ১০ শতাংশ হারে জরিমানা করা হয়েছে। তাতে জরিমানার অর্থ আছে ১০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এই জরিমানা দিতে হবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে। এছাড়া ব্যাংকটির ১৮৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা রিজার্ভ ফান্ডসহ রিটেইন আর্নিংস রাখা হবে।

আয়কর অধ্যাদেশ নতুন ধারা ১৬ এফ সংযোজন

অর্থ আইন, ২০১৯ এর মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশে নতুন ধারা ১৬ সংযোজন করা হয়েছে। এ ধারা অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে নিবন্ধিত কোম্পানিকে স্টক ডিভিডেন্ডের কমপক্ষে সমপরিমাণ ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদান করতে হবে। যদি স্টক ডিভিডেন্ড প্রদানের পরিমাণ ক্যাশ ডিভিডেন্ডের চেয়ে বেশি হয় তাহলে যে পরিমাণ স্টক ডিভিডেন্ড প্রদান করা হবে বা হয়েছে তার পুরোটার উপরে ১০ শতাংশ হারে কর আরোপ করা হবে। কোম্পানিকে সংশ্লিষ্ট কর বছরের আয়কর রিটার্ন দাখিলের পূর্বে পরিশোধ করতে হবে। এ কর কোম্পানি অন্য কোনো কর দায়িতার সঙ্গে সমন্বয় করা যাবে না।

সুতরাং পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে কমপক্ষে বোনাস লভ্যাংশের সমপরিমাণ নগদ লভ্যাংশ দিতে হবে। যদি বোনাসের পরিমাণ নগদের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে পুরো বোনাস শেয়ারের উপর ১০ শতাংশ হারে কর আরোপ করা হবে।