এস আলম গ্রুপের ৩১ একর সম্পদ নিলামে তুলেছে ইসলামী ব্যাংক 

এবার এস আলম গ্রুপের বেনামি প্রতিষ্ঠানের ১৭৮৩ কোটি টাকা ঋণ আদায়ে ৩১ একর সম্পদ নিলামে তুলেছে ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। খেলাপি প্রতিষ্ঠানটির নাম কর্ণফুলী ফুডস (প্রা.) লিমিটেড।

চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা বিসিক শিল্প এলাকার প্লট-সি ২৬/২৭ সরকারি শিল্প প্লটের ঠিকানায় ওই ঋণ দেয় ইসলামী ব্যাংক পিএলসি।

সোমবার (১২ মে) স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ নিলাম ডাকে ব্যাংকটির জুবিলী রোড শাখা।

চট্টগ্রামের স্থানীয় এক পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি জুবিলী রোড শাখার বিনিয়োগ গ্রাহক কর্ণফুলী ফুডস (প্রা.) লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পটিয়ার কেলিশহর ইউনিয়নের কেলিশহর কাশেম চৌধুরী বাড়ির নুরুল ইসলাম চৌধুরী ও নুর নাহার দম্পতির ছেলে মো. রহিম উদ্দিন চৌধুরী এবং চেয়ারম্যান নগরীর বাকলিয়া থানাধীন পশ্চিম বাকলিয়া খালপাড় মক্কা আবাসিক এলাকার ইসলামীয়া ম্যানসনের মুনীর আহমেদ ও হালিমা বেগম দম্পতির ছেলে নজরুল ইসলামের কাছ থেকে গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত লভ্যাংশসহ ব্যাংকের খেলাপি বিনিয়োগ বাবদ ১ হাজার ৭৮৩ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ২৩১ টাকা এবং আদায়কাল পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য খরচ আদায়ের নিমিত্তে অর্থঋণ আদালত আইন ২০০৩ এর ১২ (৩) ধারা মোতাবেক বন্ধকী সম্পত্তি নিলামে বিক্রির জন্য আগ্রহী ক্রেতাদের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করা যাচ্ছে। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ৪৩টি আলাদা তপসিলে ৩০ একর ৬০ শতক জমিসহ কারখানা রয়েছে। এ জমির মধ্যে নালা, পুকুর, খাস প্রকৃতির জমিও রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাংকটির জুবিলী রোড শাখার কর্মকর্তারা খেলাপি ঋণটি এস আলমের গ্রুপের বলে জানিয়েছে। ওই ঋণ অনুমোদনের সময় ফাইলে স্বাক্ষর দিতে অনীহা প্রকাশের কারণে দুই কর্মকর্তাকে বদলি ও চাকুরিচ্যুত হতে হয়েছে বলেও জানান তারা।

এর আগে, ৮২ কোটি টাকা আদায়ে আদায়ে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন এস আলম স্টিলস, এস আলম ব্যাগ ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড, ২৭ এপ্রিল ২১৮০ কোটি টাকা আদায়ে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন স্টিল মিল, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ভোজ্যতেল কারখানাসহ ১১৪৯ শতাংশ জমি এবং এর আগে ২০ এপ্রিল ৯৯৪৮ কোটি টাকা পাওনা আদায়ে এস আলম গ্রুপের চিনিকলসহ প্রায় ১১ একর সম্পত্তিসহ আরও বেশ কয়েকটি নিলাম ডাকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি।




এস আলমের ৯৯৪৮ কোটি টাকা আদায়ে নিলাম হচ্ছে ১১ একর জমি-কারখানা

এস আলম গ্রুপের ৯৯৪৮ কোটি টাকা পাওনা আদায়ে চিনিকলসহ প্রায় ১১ একর সম্পত্তির নিলাম ডেকেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। রোববার (২০ এপ্রিল) পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ নিলাম ডাকে ব্যাংকটির খাতুনগঞ্জ কর্পোরেট শাখা।

চট্টগ্রামের স্থানীয় এক পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি খাতুনগঞ্জ কর্পোরেট শাখার বিনিয়োগ গ্রাহক এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল্লাহ হাছান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল আলমের কাছ থেকে ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত লভ্যাংশসহ ব্যাংকের খেলাপি বিনিয়োগ বাবদ পাওনা ৯ হাজার ৯৪৮ কোটি ৪২ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং আদায়কাল পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য খরচ আদায়ের নিমিত্তে অর্থঋণ আদালত আইন ২০০৩এর ১২ (৩) ধারা মোতাবেক বন্ধকী সম্পত্তি নিলামে বিক্রয়ের জন্য আগ্রহী ক্রেতাদের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করা হয়।

প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, তিনটি রেজিস্টার্ড মর্টগেজ চুক্তি অনুসারে ১০ দশমিক ৯৩ একর জায়গা এবং এসব জায়গার উপর কারখানা, মেশিনারিজ, অফিস বিল্ডিংসহ আনুষাঙ্গিক স্থাপনা নিলামে তোলা হয়। এরমধ্যে ২০১৪ সালের ১৩ ও ১৬ মার্চের ৩৭৪৬ নং, ২০১৩ সালের ২৮ ও ২৯ মের ৮০৫৭ নং এবং ২০১৩ সালের ১৪ ও ১৫ জুলাইয়ের ৩৩২৭ নং রেজিস্টার্ড মর্টগেজ চুক্তিবদ্ধ সম্পদ রয়েছে।




এস আলমের সম্পত্তি বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে রিটের আদেশ রোববার

এস আলম গ্রুপ এবং প্রতিষ্ঠানটির সব সম্পত্তি স্থানান্তর বা বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে রিটের আদেশের জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।

 

বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লা ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আদেশের জন্য এদিন ধার্য করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মো. রোকনুজ্জামান।

 

বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এস আলম গ্রুপ এবং প্রতিষ্ঠানটির সব সম্পত্তি স্থানান্তর বা বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে রিট দায়ের করা হয়। পাশাপাশি এস আলম গ্রুপ এবং প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সব স্থাবর সম্পত্তির তালিকা দাখিল করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে। আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. রুকুনুজ্জামান এ রিট দায়ের করেন।

এর আগে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এস আলম গ্রুপ, এর শেয়ারহোল্ডার পরিচালক ও অন্যান্য ব্যবসা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গ্রহণ করা মোট ঋণের পরিমাণ, বর্তমান অবস্থা ও দায়সহ কয়েকটি বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে ও ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়ে ১১ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর আইনি নোটিশ পাঠান রিট আবেদনকারী আইনজীবী।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থসচিব, আইনসচিব, দুদক চেয়ারম্যান, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাবর ওই নোটিশ পাঠানো হয়।

পরে আইনজীবী মো. রুকুনুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে এস আলম গ্রুপের এ পর্যন্ত নেওয়া ঋণের পরিমাণ, সেগুলোর বর্তমান অবস্থা ও দায়, বিদেশে পাচার করা অর্থ ও সব স্থাবর সম্পত্তির তালিকা, সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে। আদালতের অনুমতি ছাড়া কোম্পানির পরিচালকসহ পরিবারের সদস্যদের দেশত্যাগেও নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।




এস আলম গ্রুপের সম্পদ না কেনার আহ্বান গভর্নরের

নানা অনিয়ম করে ব্যাংক লুটপাটের সঙ্গে জড়িত আলোচিত চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের কোনো সম্পদ না কেনার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, আমরা এ সম্পদকে আমানতকারিদের সুরক্ষায় ব্যবহার করতে চাই। এ বিষয়ে শিগগির আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার (২৮ আগস্ট) কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে এস আলম গ্রুপের সম্পদের পাওয়ার অব অ্যাটর্নি অন্য যাদের দেওয়া আছে তারা জমি বিক্রি করছেন। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, আমরা দেশবাসীর কাছে আহ্বান জানাবো আপনারা কেউ তাদের যেসব সম্পদ রয়েছে সেগুলো কিনবেন না। আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব সম্পদ বিক্রি করে আমানতকারীদের সুরক্ষায় ব্যয় করতে চাই। এ নিয়ে আমরা সরকারকে জানাবো।




এস আলম গ্রুপের ২৫ সদস্যের শেয়ার বিক্রি-হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা

এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন ছয় ব্যাংকে থাকা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ও তার পরিবারের ২৫ সদস্যের শেয়ার বিক্রি ও হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে বিএসইসি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিএসইসি’র নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে বিএসইসি সাইফুল আলমের পরিবারের সদস্যদের শেয়ার বিক্রি ও হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এস আলম গ্রুপের অধীনে থাকা ছয় ব্যাংক হলো—ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক।

বিএসইসি’র নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন ছয় ব্যাংকে গ্রুপ চেয়ারম্যান সাইফুল আলম ও তার পরিবারের ২৫ সদস্যের শেয়ার বিক্রি ও হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো। এস আলম গ্রুপের আওতাধীন ৫৬টি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে।

বর্তমানে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম। ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে আছেন তার ছেলে আহসানুল আলম। এসব ব্যাংকের কিছু ঋণ বিতরণে বড় অনিয়ম থাকার কথা এর আগে জানিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সেগুলো এখন তদন্ত করা হচ্ছে। এ কারণে ব্যাংকগুলোতে সংশ্লিষ্টদের শেয়ার বিক্রি ও হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।