এসডিজি অর্জনে সব অংশীজনদের সহযোগিতা প্রয়োজন

এসডিজি অর্জনের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন অংশীদার, শিক্ষাঙ্গণ, নাগরিক সমাজ সংগঠন, বেসরকারি খাত এবং যুব-নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর মধ্যে শক্তিশালী সহযোগিতা প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ঢাকার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্যাটেজিক স্টাডিজ-বিআইআইএসএস মিলায়তনের আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং জাতিসংঘ প্রকল্প সেবা কার্যালায় (ইউএনওপিএস) যৌথভাবে ‘তরুণ নেতৃত্ব, টেকসই ভবিষ্যৎ : একসঙ্গে এসডিজি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া’ শীর্ষক একটি সেমিনার আয়োজন করে।

সে‌মিনা‌রে প্রধান অতিথি ছি‌লেন বিমসটেক মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডে। তি‌নি বলেন, আমাদের তরুণদের কণ্ঠস্বর, ধারণা এবং আকাঙ্ক্ষাগুলো আমাদের সব উন্নয়ন কৌশল এবং উদ্যোগে প্রতিফলিত হওয়া উচিত। সেটা দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন উদ্যোগ হোক, দেশগুলোর মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা হোক বা আঞ্চলিক সহযোগিতাই হোক।

তি‌নি ব‌লেন, সব তরুণ অংশগ্রহণকারীকে আমি গতানুগতিক চিন্তাভাবনাকে চ্যালেঞ্জ করা অব্যাহত রাখতে, উদ্ভাবনকে গ্রহণ করতে এবং বিভিন্ন খাত ও সীমান্তের ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলিতভাবে কাজ করার জন্য উৎসাহিত করছি।

ইন্দ্র মণি পান্ডে বিমসটেক অঞ্চল জুড়ে অভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং যুব সম্পৃক্ততার পুরুত্ব তুলে ধরেন।

সেমিনারে নীতি নির্ধারক, উন্নয়ন কর্মী, শিক্ষাবিদ, যুব নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন অংশীদাররা একত্রিত হয়ে বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে তরুণরা কীভাবে একটি রূপান্তরমূলক ভূমিকা পালন করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করেন।

সেমিনারে দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। বিআইআইএসএস-এর রিসার্চ ফেলো রাফিদ আবরার মিয়া এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ ও বাজেট ও নীতি কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম তাদের উপস্থাপনায় স্থানীয় পর্যায়ে এসডিজি অর্জনে যুব-নেতৃত্বাধীন উদ্ভাবন এবং নীতি নির্ধারণী সম্পৃক্ততার ভূমিকার ওপর আলোচনা করেন।

বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান স্বাগত বক্তব‌্য দেন। তিনি বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন যাত্রায় মূল অংশীদার হিসেবে তরুণদের ক্ষমতায়নের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি এমন একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোচনা করেন, যেখানে তরুণরা নীতি আলোচনা, উদ্ভাবন এবং কমিউনিটি উভয়ান অর্থপূর্ণ অন্যদান রাখাতে পারে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রিন্সিপাল কো-অর্ডিনেটর (এসডিজি অ্যাফেয়ার্স) অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল।

ইউএনওপিএস বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালিধরণ স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি টেকসই উন্নয়নের জন্য যুব সম্পৃক্ততা, এসডিজি স্থানীয়করণ এবং বহু-অংশীজন অংশীদারিত্বকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে ইউএনওপিএস-এর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। মুরালিধরণ তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, তরুণরা কেবল উন্নয়নের সুবিধাভোগীই নয়, বরং পরিবর্তনের সক্রিয় অংশীদার এবং চালিকাশক্তি।

তিনি ২০৩০ অ্যাজেন্ডার অভিমুখে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে যুব নেতৃত্ব, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তারা এখানে অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণে বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অধ্যাপক এস এম আব্দুল-আওয়াল এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের অব্যাহত অঙ্গীকার এবং জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় যুব দৃষ্টিভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেন।

এসডিজি স্থানীয়করণ প্রচেষ্টায় যুবকদের অংশগ্রহণ জোরদার এবং টেকসই উন্নয়নের নেতা হিসেবে তরুণদের ক্ষমতায়নকারী সহযোগিতামূলক কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।




এসডিজির সুষ্ঠু বাস্তবায়নে সমন্বয় ও পরিবীক্ষণ প্রয়োজন

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সুষ্ঠু বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং নিয়মিত বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ অত্যাবশ্যক বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান।

রোববার (০২ জুন) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি-২ সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সাপোর্ট টু সাসটেইনেবল গ্রাজুয়েশন প্রকল্প আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী।

অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য আমাদের স্মার্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে সব গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিকল্পনার সঙ্গে এর সমন্বয় সাধন নিশ্চিত করতে হবে।

ইআরডি সচিব জানান, সুনীল অর্থনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য এই অপরিসীম সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন তিনি।

পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগীরা বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা দিতে যথেষ্ট আগ্রহী উল্লেখ করে তিনি বৈদেশিক উন্নয়ন তহবিলগুলোর যথার্থ ও বিচক্ষণ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বরোপ করেন।

কর্মশালার স্বাগত বক্তব্য দেন ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ও ডেভেলপমেন্ট ইফেকটিভনেস অনুবিভাগের অনুবিভাগ প্রধান এ এইচ এম জাহাঙ্গীর। কর্মশালায় ‘এলডিসি উত্তরণের প্রেক্ষাপটে এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে অংশীদারত্ব দৃঢ়করণ’ বিষয়ে একটি উপস্থাপনা করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম।

এছাড়া, ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন অ্যান্ড এসডিজিস অ্যাচিভমেন্ট নেক্সাস’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা করেন বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. রেজাউল বাসার সিদ্দিকী।

তাছাড়া ‘ওভারঅফ প্রোগ্রেস অব এসডিজি ১৭’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা করেন ইআরডির উপসচিব আবুল কালাম আজাদ।

কর্মশালায় টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বিশেষ করে এসডিজি-১৭ ব্যস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে তাদের মতামত তুলে ধরেন।




এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর তাগিদ

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে নেওয়া উদ্যোগগুলো কার্যকর করতে বেসরকারি খাতকে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করার কোনো বিকল্প নেই। এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা বাড়াতে এফবিসিসিআইকে পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আখতার হোসেন।

সোমবার (২৭ মে) এফবিসিসিআইয়ের মতিঝিল কার্যালয়ে আয়োজিত বাংলাদেশ প্রাইভেট সেক্টর ওয়ার্কিং কমিটির (বিপিএসডব্লিউসি) ফাইভ থিমেটিক গ্রুপের দ্বিতীয় সভায় এ পরামর্শ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে অন্যতম অংশীজন হলো বেসরকারি খাত। কাজেই বেসরকারি খাতের অভিভাবক হিসেবে এখানে এফবিসিসিআইয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসডিজি বাস্তবায়নে এফবিসিসিআই কীভাবে আরও কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে সে বিষয়ে কৌশলপত্র তৈরি করা যেতে পারে। এফবিসিসিআইয়ের সকল সদস্যকে এসডিজির লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং তা অর্জনে উদ্যোগী করতে হবে। এক্ষেত্রে এফবিসিসিআই প্রয়োজন মনে করলে একাডেমিয়া ও এক্সপার্টদের সহযোগিতা নিতে পারে।

এসডিজি বাস্তবায়নে সরকারের নানা উদ্যোগ ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মো. আখতার হোসেন। এ অগ্রযাত্রায় এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্বে বেসরকারি খাতের পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সভায় অংশ নিয়ে এসডিজির এজেন্ডা বাস্তবায়নে সরকার, বেসরকারি খাত ও জাতিসংঘের এজেন্সিগুলো কীভাবে আরও কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে সে বিষয়ে আলোকপাত করেন বিপিএসডব্লিউসির সদস্যরা। এসময় টেকসই উন্নয়নে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রভাব ও গুরুত্ব অনুযায়ী থিমেটিক এসডিজি এজেন্ডাগুলোর ওপর মতামত জানান তারা।

ওয়ার্কিং গ্রুপ-৪ এর কনভেনর এ কে এম শামসুদ্দোহার সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘের বিভিন্ন এজেন্সি এসডিজি ফোকাল পয়েন্ট এবং প্রতিনিধি, এফবিসিসিআইয়ের সেইফটি কাউন্সিলের উপদেষ্টা এবং বিপিএসডব্লিউসির সদস্য সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবু নাঈম মো. শহীদুল্লাহ, এফবিসিসিআইয়ের বাণিজ্য ও ট্যারিফ নীতি বিষয়ক উপদেষ্টা মনজুর আহমেদ, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (বিইএফ) মহাসচিব ফারুক আহমেদ প্রমুখ।