এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্তির দুই প্রতিষ্ঠানের আবেদন বাতিল

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ওটিসি মার্কেট থেকে এসএমই মার্কেটে স্থানান্তরের জন্য দুই কোম্পানির আবেদন বাতিল করেছে। কোম্পানি দুটি হলো— আল-আমিন কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং রাঙ্গামাটি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে কোম্পানিগুলোকে পৃথক পৃথক চিঠি পাঠিয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জটি।

চিঠিতে ডিএসই বলেছে, গত 8 অক্টোবর উভয় কোম্পানির কারখানা প্রাঙ্গণ এবং প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করেছে ডিএসই এবং সিকিউরিটিজ আইন অনুসারে কোম্পানি দুটির প্রাসঙ্গিক কাগজপত্র, নথিপত্র এবং তথ্য পরীক্ষা করেছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ডিএসই দেখতে পেয়েছে যে আল-আমিন কেমিক্যাল এবং রাঙ্গামাটি ফুড শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পূর্ব সম্মতি ছাড়াই যথাক্রমে ২৫ কোটি টাকা এবং ৪০ কোটি টাকা মূলধন বৃদ্ধি করেছে।

ডিএসইর চিঠিতে বলা হয়েছে, রাঙ্গামাটি ফুড সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ১৮ ধারা লঙ্ঘন করে মূলধন বৃদ্ধি করেছে এবং মূলধন বৃদ্ধির বিষয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য বা নথি জমা দিয়েছে।

আর আল আমিন কেমিক্যালের বিষয়ে ডিএসইর চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির কোনো পরিবেশগত সনদ বা আমদানি নিবন্ধন সনদ নেই। এর ব্যবসায়িক কৌশলগত পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান কর্মক্ষম অবস্থা প্রতিফলিত করে না।

এমতাবস্থায়, ডিএসইর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কোম্পানি দুটির শেয়ার ওটিসি মার্কেট থেকে এসএমই মার্কেটে স্থানান্তর করার অবস্থানে নেই বলে কোম্পানি দুটিকে দেওয়া চিঠিতে ডিএসই জানিয়ে দিয়েছে।

এর আগে ২০২২ সালের মে মাসে বিএসইসি মোনার্ক মার্ট লিমিটেড এবং মোনার্ক এক্সপ্রেস লিমিটেডকে আল-আমিন কেমিক্যালের ২.৪০ শতাংশ এবং ৪.৮০শতাংশ শেয়ার কেনার অনুমতি দেয়।

মোনার্ক মার্ট লিমিটেড এবং মোনার্ক এক্সপ্রেস লিমিটেড ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান এবং অন্যদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান।




এসএমই বাঁচলে দেশ বাঁচবে: ডিসিসিআই সভাপতি

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাত বাঁচলে দেশ বাঁচবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ব্যারিস্টার সমীর সাত্তার।

শনিবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা চেম্বার আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা এসএমইতে চাহিদার তুলনায় কম অর্থ দিচ্ছে অনেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। সামগ্রিকভাবে এ শিল্পে মোট জিডিপিতে ভালো অবস্থান রয়েছে। এসএমই খাত বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আর দেশ বাঁচলে আমরা (উদ্যাক্তা ও ব্যবসায়ী) বাঁচবো।

ব্যারিস্টার সমীর সাত্তার বলেন, অনেক ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এসএমই উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন করে থাকে। তবে চাহিদার তুলনায় খাতটি অনেক কম অর্থের জোগান পায়। সম্ভাবনা থাকার পরও বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য এসএমই খাতের উদ্যোক্তারা পর্যাপ্ত অর্থ পাচ্ছে না।

তিনি বলেন, এসএমই খাত দেশের শিল্পে কর্মসংস্থান এবং মূল্য সংযোজনে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে। এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করছে। এসএমই দেশের জিডিপিতে ২৮ শতাংশ অবদান রাখে। খাতটি বেসরকারি খাতে ৯০ শতাংশ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে। এটি দেশের দারিদ্র্য কমিয়ে জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, অন্যান্য দেশের জিডিপিতে এসএমই খাত আমাদের চেয়ে অনেক বেশি অবদান রাখে। ইন্দোনেশিয়ায় মোট জিডিপির ৬১ শতাংশ, চীনে ৬০ শতাংশ, জাপানে ৫৫ শতাংশ, জার্মানিতে ৫৮ শতাংশ এবং ভিয়েতনামে ৪৫ শতাংশ এসএমই খাতের অবদান। আমাদের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য জিডিপিতে এসএমইর অবদান বাড়াতে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এসময় কূটনৈতিক ও খাত সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা বক্তব্য রাখেন।