ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে যুক্ত হতে আগ্রহী এডিবি

উত্তরবঙ্গ থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত বাস্তবায়িত হতে যাওয়া ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে যুক্ত হতে আগ্রহী এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বাংলাদেশ সফররত সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেছে।

সোমবার (২৫ মে) প্রতিনিধিদলের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলোচনার পর এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবির প্রেসিডেন্টের দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ও এডিবির মধ্যে বিদ্যমান অংশীদারত্বকে আরও কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত কথা হয়।

আমির খসরু বলেন, এরই মধ্যে বাজেট সহায়তাসহ কয়েকটি প্রকল্পে ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি সই হয়েছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, যেখানে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের সহায়তার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, উত্তরবঙ্গ থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত একটি ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এতে একাধিক গ্রোথ সেন্টার, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও ডিজিটাল উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আগামী পাঁচ বছরে এই প্রকল্পে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার সঙ্গে বাইরের উৎস থেকেও সমপরিমাণ অর্থায়ন আসতে পারে।

এছাড়া, দেশের পুঁজিবাজারে এডিবির সহযোগিতার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জ্বালানি ও জলবায়ু সহনশীলতা খাতেও সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে বলে জানান তিনি।




বাংলাদেশকে এডিবির ২৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ, সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে নতুন উদ্যোগ

দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এ সহায়তা সরকারের চলমান সংস্কার ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এডিবির ‘সেকেন্ড স্ট্রেংথেনিং সোশ্যাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম’-এর সাবপ্রোগ্রাম-২-এর আওতায় এ অর্থায়ন দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দক্ষতা, আওতা ও কার্যকারিতা বাড়ানোর পাশাপাশি দারিদ্র্য ও ঝুঁকিপূর্ণতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, এই কর্মসূচি দেশের সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোকে আরও আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল রূপে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে নারীদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা বাড়ানো এবং অবদানভিত্তিক স্কিম চালুর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার হবে।

কর্মসূচির আওতায় নতুন অবদানভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা স্কিম চালু করা হবে, যা ভবিষ্যতে সরকারি রাজস্বের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি বিধবা ভাতা কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে অন্তত ২ লাখ ৫০ হাজার অতিরিক্ত নারীকে সহায়তার আওতায় আনা হবে।

এছাড়া জলবায়ু সহনশীল উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মসংস্থানভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক-এর পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক সেবায় প্রবেশাধিকার কমপক্ষে ১৫ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এসব উদ্যোগ ক্ষুদ্র পর্যায়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নারীর কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর ফলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।




এডিবির কাছ থেকে ৩০০ কোটি টাকা ঋণ পাচ্ছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশকে ২.৪৩ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ ২৯১ কোটি ৬০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২০ টাকা ধরে)।

সোমবার (২ ডিসেম্বর) এডিবির ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংস্থাটি জানায়, একমাত্র বাধ্যতামূলক লিড অ্যারেঞ্জার হিসেবে, এডিবি এমএসএলের জন্য অর্থায়ন প্যাকেজের ব্যবস্থা, কাঠামোগত এবং সিন্ডিকেট করেছে, যা বাংলাদেশ-ভিত্তিক শক্তি কোম্পানি জুলস পাওয়ার লিমিটেডের (জিপিএল) মালিকানাধীন। এতে এডিবি থেকে ১৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঋণ এবং এডিবির মাধ্যমে পরিচালিত লিডিং এশিয়া’স প্রাইভেট ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড ২ থেকে ৮ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঋণ রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় একটি ২০-মেগাওয়াট (মেগাওয়াট) গ্রিড-সংযুক্ত সৌর ফটোভোলটাইক পাওয়ার প্ল্যান্ট তৈরি এবং পরিচালনা করা হবে। সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বার্ষিক ৩৭.৯ গিগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে এবং বার্ষিক ১৮ হাজার ৩৪৪ টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন এড়াবে।

এডিবির বেসরকারি সেক্টর অপারেশনের মহাপরিচালক সুজান গ্যাবরি বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নে বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততাকে উৎসাহিত করতে সাহায্য করবে। এডিবি সহযোগিতা করতে পেরে আনন্দিত, যেটি বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে অগ্রগামী দক্ষতা এবং উদ্ভাবন প্রদর্শন করেছে, যাতে টেকসই সমাধান অগ্রসর হয়। নবায়নযোগ্য শক্তি বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ ক্ষমতার মাত্র ৪ দশমিক ৫ শতাংশ নিয়ে গঠিত।

জেপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুহের লতিফ খান বলেন, দেশে আমাদের দ্বিতীয় সৌর প্রকল্পের জন্য এডিবি থেকে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে পেরে আমরা রোমাঞ্চিত।




যেকোনো বিষয়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী এডিবি

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সিনিয়র এডভাইজর এডিমন গিংটিং ও বাংলাদেশে এডিবির নবনিযুক্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর হোয়ে ইউন জেয়ং পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাতে সংস্থাটি বাংলাদেশকে যেকোনো বিষয়ে সহযোগিতা করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন।

 

বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার অফিস কক্ষে এ সাক্ষাৎ করেন এডিবির প্রতিনিধি দল। এ সময় এডিবির ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর জিয়োংবো নিং ও কান্ট্রি ইকোনোমিস্ট চন্দন সাপকোতা উপস্থিত ছিলেন।

এডিবির প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে তাদের চলমান ও অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা প্রকল্পগুলো সম্পর্কে পরিকল্পনা উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। উভয় পক্ষ প্রকল্প ব্যয় ও বাস্তবায়নের সময় কমিয়ে আনতে একমত হয়েছে।

 

পরিকল্পনা উপদেষ্টা প্রতিনিধিদলকে জানান, অর্থনৈতিক উন্নয়নের কৌশল পুনঃনির্ধারণ ও উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ আহরণের লক্ষ্যে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। এডিবি প্রতিনিধিরা টাস্ক ফোর্সসহ যেকোনো বিষয়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে আগ্রহী।




বাংলাদেশকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এডিবি

বাংলাদেশকে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ২৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে সংস্থাটি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ ২ হাজার ৯৩৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১১৭.৪২ টাকা ধরে)।

সোমবার (১০ জুন) অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে এডিবি ঋণ চুক্তি সই করে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ইআরডি সচিব সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিনটিং নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

এডিবি কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং বলেন, দ্বিতীয় শক্তিশালীকরণ সামাজিক স্থিতিস্থাপকতা কর্মসূচির লক্ষ্য হলো সুরক্ষার কভারেজ এবং দক্ষতা বৃদ্ধি, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি উন্নত করা এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ সুরক্ষা চাহিদার প্রতিক্রিয়া জোরদার করার ক্ষেত্রে সংস্কারমূলক কাজকে ত্বরান্বিত করা। এ কর্মসূচির প্রথম ধাপ ২০২২ সালের জুনে শেষ হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন এই প্রোগ্রামটি বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিরক্ষামূলক এবং প্রতিরোধমূলক ক্ষমতা জোরদার করার জন্য সরকারের জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলের দ্বিতীয় ধাপের কর্মপরিকল্পনাকে সমর্থন করে। প্রোগ্রামটি সামাজিক সুরক্ষা প্রোগ্রাম পরিচালনায় দক্ষতা উন্নত করতে, সবচেয়ে দুর্বলদের জন্য সুরক্ষা বাড়াতে এবং অবদানকারী সুরক্ষা প্রকল্পগুলো প্রবর্তনের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষার সুযোগ উন্নত করতে সহায়তা করবে। এটি দুর্বলতা, বর্জন এবং আরও দারিদ্রের মধ্যে পড়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে।

গোপালগঞ্জ-মাদারীপুরের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য ঋণ অনুমোদন এডিবির
সংস্থাটি জানায়, এই প্রোগ্রামটি দক্ষতা এবং কার্যকারিতা উন্নত করার জন্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য দুটি নগদভিত্তিক সুরক্ষা প্রোগ্রামকে একীভূত করবে। এই প্রোগ্রামটি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করাসহ জলবায়ু দুর্বলতার বিরুদ্ধে স্থিতিস্থাপকতা জোরদার করার জন্য সামাজিক সুরক্ষায় জলবায়ু অভিযোজিত ব্যবস্থাগুলোকে একীভূত করতে সহায়তা করবে।

এডিবির সহায়তা বিধবা ভাতা কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি করবে এবং ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য জীবিকা সহায়তা কর্মসূচির কভারেজ সম্প্রসারণের মাধ্যমে অসহায় নারী ও ট্রান্সজেন্ডারদের সুরক্ষাকে শক্তিশালী করবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক মহিলা উদ্যোক্তাদের জন্য ক্ষুদ্র উদ্যোগ পুনঃঅর্থায়ন প্রকল্পের জন্য তার তহবিল দ্বিগুণ করছে, যাতে আর্থিক পরিষেবাগুলোতে মহিলা ক্ষুদ্র ব্যবসা অপারেটরদের অংশগ্রহণ সম্প্রসারিত করা যায়।

এডিবি জানায়, কর্মসূচির আরেকটি লক্ষ্য হলো তৈরি পোশাক খাতের শাসন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা। এ ছাড়া এটি একটি ত্রিপক্ষীয় কমিটি গঠনে সমর্থন করে, যার মধ্যে রয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে কর্মীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষার ওপর কর্মী সমিতি, নিয়োগকর্তা সমিতি এবং দেশের সামাজিক বিমা প্রকল্পগুলোকে আরও বিকাশের ক্ষেত্রে একটি মূল প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা হিসেবে সহায়তা করা।




জলাবদ্ধতা নিরসনে ৭ কোটি ডলার ঋণ দেবে এডিবি

জলাবদ্ধতা নিরসনে ৭ কোটি ডলার ঋণ দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এ জন্য বাংলাদেশ সরকার ও এডিবির মধ্যে ক্লাইমেট রেজিলেন্ট ইন্টিগ্রেটেড সাউথ ওয়েস্ট প্রজেক্ট ফর ওয়াটার রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পে ঋণচুক্তি হয়েছে।

নগরীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং এডিবির পক্ষে কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং চুক্তিতে সই করেন। এসময় বাংলাদেশ সরকার ও এডিবির আবাসিক মিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার (২০ এপ্রিল) ইআরডি থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রকল্পটি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বাস্তবায়ন করবে। আলোচ্যে প্রকল্পের মাধ্যমে প্রকল্প এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন করে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, আনুষঙ্গিক উন্নয়নের মাধ্যমে আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন আনয়ন, সমন্বিত পানিসম্পদ ও অংশগ্রহণমূলক পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং উন্নত অবকাঠামো নির্মাণ ও সমন্বিত সহায়তার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন অর্জন সম্ভব হবে। এছাড়া প্রকল্প হতে প্রাপ্ত সুবিধাদির দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব বজায় রাখার জন্য পানি ব্যবস্থাপনা সংঘ গঠন করা হবে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল জানুয়ারি ২০২৪ হতে ডিসেম্বর ২০২৮ পর্যন্ত।

এ ঋণটি এডিবির নমনীয় শর্তে পাওয়া গেছে, যার সুদের হার ২ শতাংশ এবং ৫ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ২৫ বছরে পরিশোধযোগ্য। এছাড়া অন্য কোনো চার্জ নেই।

এডিবি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে সদস্যলাভের পর হতে এডিবি থেকে এর অর্থনীতির অগ্রাধিকারভুক্ত বিভিন্ন খাতগুলোতে ধারাবাহিকভাবে আর্থিক সহায়তা পেয়ে আসছে। বাংলাদেশে উন্নয়ন সহায়তার ক্ষেত্রে এডিবি সাধারণত বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহন, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, কৃষি, পানিসম্পদ ও সুশাসনকে প্রাধান্য দেয়।

 




এডিবির কাছে আরও বাজেট সহায়তা চায় বাংলাদেশ

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছে আরও বাজেট সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এডিবি ভাইস প্রেসিডেন্ট (সেক্টর ও থিমস) ফাতিমা ইয়াসমিনের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে এ বাজেট সহায়তা চান অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অর্থ বিভাগের সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী ও অর্থসচিব সাংবাদিকদের এডিবির কাছে আরও বাজেট সহায়তা চাওয়ার বিষয়টি জানান। আর এডিবি ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা এডিবির সঙ্গে সম্পর্ক ডেভেলপ করছি ৫০ বছর ধরে। এটা আরও ভালো হবে, আরও শক্তিশালী হবে। তার জন্যই আমরা সন্তুষ্ট।

তিনি বলেন, আমরা এডিবির বার্ষিক সম্মেলনে যাচ্ছি। সেখানে আরও আলোচনা হবে। কিন্তু সো ফার আমরা খুবই হ্যাপি। যেভাবে উন্নত হচ্ছে এবং আমাদের আন্ডারস্ট্যান্ডিং, তারা আমাদের প্রয়োজন বুঝতে পারছে। আমরা খুবই সন্তুষ্ট।

এসময় অর্থসচিব বলেন, এডিবি আমাদের ৫০ বছরের বন্ধু। আমরা এডিবির কাছ থেকে ফান্ড পেয়ে আসছি, ভবিষ্যতে যেন আরও পাই, সেজন্য স্যার (অর্থমন্ত্রী) রিকুয়েস্ট করেছেন। বিশেষ করে বাজেট সাপোর্ট আমাদের নতুন উইন্ডো, বাজেট সাপোর্টে এডিবি আমাদের অনেক হেল্প করেছে।

তিনি বলেন, করোনার সময় আমাদের বাজেট সাপোর্ট দেওয়ায় আমরা ইকোনমির দ্রুত রিকভারি করতে পেরেছি। এই বাজেট সাপোর্ট যাতে আরও বাড়ে সেজন্য স্যার রিকোয়েস্ট করেছেন।

আরও বাজেট সাপোর্ট চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এডিবির পক্ষ থেকে কি বলা হয়েছে– সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ফাতেমা ইয়াসমিন বলেন, আলোচনা করছি আমরা।

এরপর অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেট সাপোর্টও দেবে। দেবে তো। তারা আসছেই তো এজন্য।

আমাদের অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এডিবি প্রতিনিধি দলের কোনো অবজারভেশন আছে কি না– এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, না কোনো অবজারভেশন নেই। তারা খুব খুশি।

এদিকে চলতি বছরের জন্য ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে ৪০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় চার হাজার কোটি টাকার বেশি) বাজেট সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এডিবি। গত বছরের ১১ ডিসেম্বরে এ বিষয়ে চুক্তি সই হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে থেকেও ৯ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।

ইআরডির তথ্য মতে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি আট মাসে সুদ ও আসল বাবদ আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের প্রায় ২০৩ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে সরকার। গত অর্থবছরের একই সময়ে পরিশোধ করেছিল ১৪২ কোটি ডলার। অর্থাৎ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। এর মধ্যে সুদ পরিশোধ করা হয়েছে ৮০ কোটি ৬০ লাখ ডলার (৮০৬ মিলিয়ন)। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা দ্বিগুণ।

সাম্প্রতিক অর্থবছরগুলোয় সরকারের বাজেট সহায়তা নেওয়ার পরিমাণ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। মূলত করোনা-পরবর্তী সময়ে টিকা কেনা এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য বাজেট সহায়তার পরিমাণ বেড়েছে। এ ছাড়া ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সরকার বাজেট সহায়তা নেওয়ার কার্যক্রম জোরদার হয়েছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকার ১৭৬ কোটি ডলার, ২০২২১-২২ অর্থবছরে ২৫৯ কোটি এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ১০৯ কোটি এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১০০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা নেয় সরকার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাজেট সহায়তার পরিমাণ ছিল প্রায় ২৫ কোটি ডলার।




জলবায়ু খাতে এডিবির রেকর্ড প্রতিশ্রুতি ১০ বিলিয়ন ডলার

২০২৩ সালে বাংলাদেশসহ সদস্যভুক্ত দেশগুলোর জন্য রেকর্ড পরিমাণে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এ বছর প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংস্থাটি। জলবায়ু খাতে এত পরিমাণে অর্থ আর কখনো অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দেয়নি এডিবি। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোকে (ডিএমসিএস) সাহায্য করার জন্যই এই অর্থায়ন। ২০২২ সালের তুলনায় এই অর্থায়ন প্রায় ৪৬ শতাংশ বেশি।

বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) এডিবির প্রধান কার্যালয় ম্যানিলা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

পৃথিবীকে উষ্ণতা থেকে কিছুটা হলেই পরিত্রাণ দিতেই এডিবির এই উদ্যোগ। যে কারণে ৯.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেকর্ড প্রতিশ্রুতি। এর মধ্যে সংস্থাটির নিজস্ব রিসোর্স ৫.৫ বিলিয়ন। আর বাকি ৪.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করে অর্থায়ন করেছে সংস্থাটি।

গত চার বছরে (২০১৯-২০২৩) জলবায়ু খাতে এডিবি অর্থায়ন করেছে ১০ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অথচ এই সময়ে প্রতিশ্রুতি ছিল ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রতিশ্রুতির থেকেও বেশি অর্থায়ন করেছে সংস্থাটি। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জলবায়ু খাতে অর্থায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট মাসাতসুগু আসাকাওয়া বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন কারণে জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ২০২৩ সাল ছিল সবচেয়ে উষ্ণতম বছর। আমাদের অঞ্চলে চরম উষ্ণতা দেখা দিয়েছে, মারাত্মক জলবায়ুর প্রভাবে জনজীবনও অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এই সংকট জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে এবং আর্থিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রয়োজন জীবাশ্মমুক্ত জ্বালানি। জলবায়ু পরিবর্তনের ধারা বন্ধ করেই আমাদের অগ্রগতি করতে হবে এবং কার্বন নিঃসরণ রেট শূন্যতে নামাতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে গভীরভাবে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের অবশ্যই একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

এডিবি জানায়, বিশ্বব্যাপী কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমনের অর্ধেকের বেশি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেই উৎপত্তি হয়। ২০৫০ সালের মধ্যে এই অঞ্চলে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামাতে প্রতি বছর আনুমানিক ৩.১ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে হবে।




প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টরের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

বুধবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এডিমন গিন্টিং সাক্ষাৎকালে পঞ্চমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় শেখ হাসিনার হাতে এডিবির প্রেসিডেন্টের অভিনন্দনপত্র তুলে দেন।




রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বিশ্ব ব্যাংক ও এডিবির ঋণে টিআইবি’র উদ্বেগ

বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের কাছ থেকে চাওয়া এক বিলিয়ন ডলারের বিপরীতে ৫৩৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ এবং ৪৬৫ মিলিয়ন অনুদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাংলাদেশের বাধ্য হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সোমবার (৪ ডিসেম্বর) সংস্থাটির দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব উদ্বেগের জানিয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকটের মতো বৈশ্বিক মানবিক সংকট মোকাবিলার জন্য ঋণ নয়, সহায়তা অনুদান হিসেবে প্রদানের জন্য বিশ্বব্যাংক এবং এডিবির সঙ্গে আলোচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

টিআইবি মনে করে, রোহিঙ্গা সংকটের মতো এমন একটি মানবিক সংকট মোকাবিলার সব ভার শুধুমাত্র বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া পুরোপুরি অন্যায্য এবং তা মোটেই কার্যকর ও টেকসই সমাধান নয়। এই সংকট সমাধানের জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত পদক্ষেপ এবং বৈশ্বিক সংহতি। মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় প্রদান ও বছরের পর বছর ভরণপোষণের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নিজেদের সামর্থ্যরে সর্বোচ্চ-ই করেছে বাংলাদেশ। এই বাড়তি অর্থনৈতিক বোঝা সম্মিলিতভাবেই বহন করার দায়িত্ব আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের। নির্যাতনের দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে বলে, এই অর্থনৈতিক বোঝার পুরোটাই অনন্তকাল ধরে বাংলাদেশের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষত, যখন বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে সেই মুহূর্তে এই ঋণ চাওয়ার সিদ্ধান্ত দ্বিগুণ উদ্বেগজনক।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক ও এডিবি থেকে ঋণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং রোহিঙ্গা সংকটসংশ্লিষ্ট সব খরচের সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত বণ্টন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংলাপের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই। ঋণ নয় অনুদান হিসেবে সহায়তা প্রদানের জন্য বিশ্বব্যাংক এবং এডিবির প্রতি আহ্বান আমরা আহ্বান জানাই। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের সহায়তার হাত বাড়িয়ে বিশ্ব ব্যাংক ও এডিবি প্রমাণ করার একটি সুযোগও পাচ্ছে- তাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র নির্বিচার ঋণ ব্যবসাতে সীমাবদ্ধ নয়।’

বাস্তুহীন রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক অনুদান হ্রাসের প্রবণতায় টিআইবি বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। এর মাধ্যমেই প্রমাণ হয়- আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যে কাপুরুষের মতো তাদের দায় এড়িয়ে যাচ্ছে এবং এই বোঝা বহনের দায়িত্ব শুধু বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অনুদান কমে যাওয়ার কারণে মাথাপিছু খাদ্য সহযোগিতায় বরাদ্দ প্রতিমাসে ১২ ডলার থেকে ৮ ডলারে নেমে এসেছে।

ড. জামান বলেন, ‘বৈশ্বিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে মিয়ানমারের বহুমাত্রিক অংশীদারত্ব, স্বার্থসংশ্লিষ্ট দেশসমূহের দায়িত্ব হলো রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনের টেকসই সমাধান এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য মায়ানমারকে জবাবদিহিতার মুখোমুখি করার মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতি সহায়তার হাত বাড়ানো।’

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থীরা যাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়, তা নিশ্চিত করা জাতিসংঘের নৈতিক দায়িত্ব। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগণের ওপর চলমান নিপীড়নসহ এই সংকটের মূল কারণসমূহ মোকাবিলায় জাতিসংঘকেও কাজ করতে হবে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যথেষ্ট ভোগান্তির শিকার হয়েছে এবং মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ জীবনের অধিকার তাদের আছে। রোহিঙ্গা নিপীড়ন-গণহত্যা থেকে সৃষ্ট অর্থনৈতিক, সামাজিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ বইতে গিয়ে বাংলাদেশ অনেক বেশি চাপে রয়েছে। এখন সেই চাপ মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশকে ঋণ নিতে বাধ্য করার মতো নিন্দনীয় ও ঘৃণ্য কাজ আর কী হতে পারে!’




ঋণ-অনুদান মিলে বাংলাদেশকে ১৩৫৩ কোটি টাকা দিচ্ছে এডিবি

পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষকের আয় বাড়াতে ঋণ ও অনুদান মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা অনুদান দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। ‘ক্লাইমেট অ্যান্ড ডিজাস্টার রেজিলেন্ট স্মল স্কেল ওয়াটার রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় এই অনুদান ও ঋণ দিচ্ছে সংস্থাটি। এই প্রকল্পের আওতায় মোট ১০ দশমিক ৬ কোটি ডলার ঋণ ও ১ দশমিক ৭৮ কোটি মার্কিন ডলার অনুদান দেওয়া হবে।

রোববার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ সরকার ও এডিবি’র মধ্যে ঋণ ও অনুদান চুক্তি সই হয়েছে। সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শরিফা খান ও বাংলাদেশে নিযুক্ত এডিবি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিনটিং চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় বাংলাদেশ সরকার, নেদারল্যান্ডস সরকার ও এডিবির আবাসিক মিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটির মাধ্যমে অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নের লক্ষ্যে পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি আট বিভাগের ৪২টি জেলার ৩৪১টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। কৃষকের আয় বৃদ্ধি, ১৫০টি নতুন উপ-প্রকল্পে জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল পানি ব্যবস্থাপনা অবকাঠামোর উন্নয়ন, ২৩০টি বিদ্যমান উপ-প্রকল্পে অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।

প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল জুলাই ২০২৩ হতে জুন ২০২৯ পর্যন্ত। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এডিবি সহজ শর্তে ঋণ দেবে। ঋণের সুদের হার শতাংশ। পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২৫ বছরে এ ঋণটি পরিশোধযোগ্য।

এডিবি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে সদস্যলাভের পর হতে এডিবি থেকে এর অর্থনীতির অগ্রাধিকারভুক্ত বিভিন্ন খাতসমূহে ধারাবাহিকভাবে আর্থিক সহায়তা পেয়ে আসছে। এডিবি এ যাবত বাংলাদেশ সরকারকে ২৯,৮৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ সহায়তা ও ৫৭১.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অনুদান সহায়তা দিয়েছে।

বাংলাদেশে উন্নয়ন সহায়তার ক্ষেত্রে এডিবি সাধারণত বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহন, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, কৃষি, পানিসম্পদ ও সুশাসন-কে প্রাধান্য দেয়। বর্তমানে এডিবি ৫৩টি চলমান প্রকল্পে প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করছে। এছাড়া, ২০২৬ সাল পর্যন্ত এডিবির পাইপলাইনে প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ৪৮টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।




সদস্য দেশগুলোর জন্য ১০০ বিলিয়ন ডলার ঘোষণা এডিবির

সদস্য দেশগুলোর জন্য ১০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটির এই অর্থ এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।

সোমবার (২ অক্টোবর) সংস্থাটির ম্যানিলা থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংস্থাটি জানায়, এডিবি মূলধন ব্যবস্থাপনা সংস্কার অনুমোদন করেছে। এই অঞ্চলের ওভারল্যাপিং, যুগপৎ সংকট মোকাবিলায় পরবর্তী দশকে ১০০ বিলিয়ন ব্যয় করা হবে। জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় বিলিয়ন থেকে ট্রিলিয়ন ডলারে স্থানান্তর করার জন্য প্রাইভেট এবং অভ্যন্তরীণ পুঁজি সংগ্রহের মাধ্যমে তহবিলের সম্প্রসারণকে আরও সুবিধা দেওয়া হবে।

এডিবি জানায়, এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দারিদ্র মানুষগুলো নানা সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে যা তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষার ফলাফল এবং জীবিকাকে বিপন্ন করে। আনুমানিক ১৫৫ মিলিয়ন মানুষ, বা এই অঞ্চলের জনসংখ্যার ৩ দশমিক ৯ শতাংশ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছে। বিশেষ করে নারীদের জীবনযাত্রার ব্যয়-সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে, যা খাদ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য এবং পরিষেবাগুলো থেকে বঞ্চিত।

এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন এই অঞ্চলে নানা সংকট তৈরি করছে। পরবর্তী দশকে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নানা প্রকল্পে ব্যয় করার ফলে এডিবি সদস্যভুক্ত দেশগুলো আরও উপকৃত হবে বলে জানায় এডিবি।

এডিবি ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বাংলাদেশসহ বর্তমানে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সদস্য দেশ ৬৮টি।




পূর্বাভাসের চেয়ে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বেশি হয়েছে: এডিবি

পূর্বাভাসের চেয়ে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। ২০২২-২৩ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ শতাংশ। যেখানে সংস্থাটির পূর্বাভাসে ছিল ৫.৩ শতাংশ।

বুধবার (১৯ জুলাই) এডিবি তাদের আউটলুকে এ তথ্য জানায়।

এডিবি জানায়, আমদানি ও রপ্তানির প্রেক্ষাপটে ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল তার তুলনায় প্রবৃদ্ধি বেশি হয়েছে। গত এপ্রিলে এডিবির পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ। কিন্তু সংস্থাটির আউটলুকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানিতে বলিষ্ঠ অবস্থার আভাস রয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, গত অর্থবছরে বাংলাদেশে আমদানি প্রত্যাশার চেয়ে কম হয়েছে এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া নিয়ে যে আশঙ্কা করা হয়েছিল তা ততটা কমেনি। সরকারিনীতি সহায়ক হওয়ায় সব ধরনের পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রবৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও দাবদাহের কারণে ফসলের যে ক্ষতি হয়েছিল তা আংশিক ভর্তুকি, প্রণোদনা ও অন্যান্য উদ্যোগের মাধ্যমে পূরণ করা হয়েছে। সংরক্ষণ প্রক্রিয়া, সহায়তামূলক কার্যক্রম এবং স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবাখাতে উন্নয়নের ফলে সার্বিকভাবে সেবাখাত এগিয়ে গেছে। জনসাধারণের পণ্যক্রয় প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। পাশাপাশি সরকারি বিনিয়োগও বেড়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, গত এপ্রিলে এডিবি ২০২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির ৬ দশমিক ৫ শতাংশের যে প্রাক্কলন দিয়েছিল তা এখনো অপরিবর্তিত আছে।




বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সিলেটের রেলপথ সংস্কারে ১৮৪ কোটি দেবে এডিবি

২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের সিলেট-ছাতকবাজার সেকশন (মিটারগেজ) পুনর্বাসনে ১৮৪ কোটি টাকা ঋণ দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

আজ মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে হবে এই বৈঠক। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য

২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের সিলেট-ছাতক বাজার সেকশন পুনর্বাসনের মাধ্যমে উক্ত সেকশনে রেলযোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ক্ষতিগ্রস্ত রেলওয়ে এমব্যাংকমেন্ট, রেলপথ এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো পুনর্বাসন।

এছাড়া ভবিষ্যতে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর জন্য সহজে পানি নির্গমনের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ ও রেলওয়ে এমব্যাংকমেন্টের উচ্চতা বৃদ্ধি করা। রেলযোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর কমিউটার ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোসহ মালবাহী ট্রেন চালুকরণের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং রেলপথ পুনর্বাসনের মাধ্যমে ট্রেনের গতিবৃদ্ধি ও ভ্রমণ সময় হ্রাস করা।

প্রকল্প এলাকা

সিলেট জেলার সিলেট সদর, সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলা। ২০২৩ সালের এপ্রিল হতে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে রেলওয়ে।

পরিকল্পনা কমিশন জানায়, প্রকল্পের মোট ব্যয় ২৪১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। বাকি অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে মেটানো হবে।

প্রধান কার্যক্রম

৩৪ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত রেলওয়ে এমব্যাংকমেন্ট ও রেলওয়ে ট্র্যাক পুনর্বাসন, বন্যার পানি সহজে নির্গমনের জন্য বিদ্যমান ৯টি ব্রিজ কালভার্টের অতিরিক্ত ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ। তিনটি জরাজীর্ণ স্টেশন বিল্ডিং ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং তিনটি স্টেশন নন-ইন্টারলক কালার লাইট সিগনালিং স্থাপন ও টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থার সংস্কার।

 

পরিকল্পনা কমিশনের মতামত

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেট-ছাতক সেকশনে রেলযোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং এর মাধ্যমে উক্ত অঞ্চলের জনগণ সহজে, কম খরচে ও স্বল্প সময়ে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের সুযোগ পাবে। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির পাশাপাশি পণ্য ও যাত্রী পরিবহন কার্যক্রম ত্বরান্বিত হবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া দারিদ্র্য বিমোচনে প্রকল্পটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে।




মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮. ৭ শতাংশ হবে: এডিবি

২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ, একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ হবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) এডিবির ঢাকা অফিসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য উপস্থাপন করেন সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ সন চ্যাং হং।

এডিবির প্রকাশিত ‘এশিয়ান ডেভলপমেন্ট আউটলুক-২০২৩’ এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বৈশ্বিক সংকটেও ৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কিন্ত আশাব্যঞ্জক। কেননা রপ্তানি গ্রোথ দিন দিন কমে যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে, রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটও প্রভাব ফেলেছে। প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির হার ধীরগতির অন্যতম কারণ ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ। এর ফলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ চাহিদার মধ্যে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মূল্যস্ফীতির চাপ গত বছর ছিল মাত্র ৬ দশমিক ২ শতাংশ, সেখান থেকে ২০২৩ সালে বেড়ে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ হবে। দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতেও।

এডিমন গিনটিং বলেন, ‘সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক প্রতিকূলতার প্রভাবেও তুলনামূলকভাবে ভালো করছে। পাশাপাশি সব খাতেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে। এই কঠিন সময়েও উচ্চতর প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সাহায্য করবে৷। এই সংস্কারগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহকে শক্তিশালী করা, আর্থিক খাতকে গভীর করা, এবং বেসরকারি ক্ষেত্রে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রতিযোগিতা বাড়ানো জরুরি৷’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের জলবায়ু এজেন্ডার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে দেশীয় নবায়নযোগ্য শক্তি সরবরাহের দ্রুত সম্প্রসারণ করতে হবে। এই জন্য একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’

এডিবির প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, বেসরকারি বিনিয়োগ কম হবে কারণ জ্বালানি ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে নানা কারণে উৎপাদন খরচও বেশি। রাজস্ব সংগ্রহে ঘাটতি, কঠোর ব্যবস্থা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়া এবং পাবলিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিও ধীর হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এডিবি ঢাকা অফিসের বহিঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান গোবিন্দ বারিও উপস্থিত ছিলেন।




বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়নে এডিবির ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি 

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এশিয়ার প্রথম ক্রস-বর্ডার উইন্ড পাওয়ার (বায়ু বিদ্যুৎ) প্রকল্পের জন্য ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এটি হবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বৃহত্তম প্ল্যান্ট। মূলত এটি একটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি।

বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) এডিবির প্রধান কার্যালয় ম্যানিলা থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, এডিবি তার ট্রেড অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স প্রোগ্রামের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি উন্নয়নশীল সদস্য দেশের সরকারি সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে তাদের নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে এক করতে সাহায্য করার জন্য একটি ধারাবাহিক আলোচনা শুরু করেছে যা কাগজবিহীন বাণিজ্যকে এগিয়ে নেবে।

ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, ডিজিটাল স্ট্যান্ডার্ড ইনিশিয়েটিভ এবং জাতিসংঘের কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ল- এর ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায় এডিবি। এডিবির মডেল আইনের সঙ্গে জাতীয় প্রবিধান গ্রহণ এবং একীভূতকরণের পক্ষে সমর্থন করছে। ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারেবল রেকর্ডস জাতীয় আইনের জন্য একটি আইনি কাঠামো তৈরি করে। এতে ইলেকট্রনিক হস্তান্তরযোগ্য রেকর্ডের ব্যবহার এবং স্বীকৃতি উভয় দেশের সীমানায় ব্যবহার করা যায়।

সংস্থাটির প্রাইভেট সেক্টর অপারেশনস ডিপার্টমেন্টের মহাপরিচালক সুজান গ্যাবরি বলেন, বিশ্ব বাণিজ্যকে ডিজিটালাইজ করার জন্য এবং প্রবৃদ্ধি ও চাকরির ক্ষেত্রে অর্থনীতির জন্য ইলেকট্রনিক ট্রেড ডকুমেন্টগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া আইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্যের ডিজিটালাইজেশন এডিবির জন্য একটি প্রধান অগ্রাধিকার। আমরা আমাদের উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আরও টেকসই, সবুজ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাণিজ্য এবং সরবরাহ চেইন তৈরি করতে কঠোর পরিশ্রম করছি।

এ বছর সেন্ট্রাল এশিয়া রিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন, ইন্টিগ্রেটেড ট্রেড এজেন্ডা ২০৩০-এর অধীনে ডিজিটাল বাণিজ্য ত্বরান্বিত করার অংশ হিসেবে চীন জর্জিয়াকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে।




জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সংস্কার চায় এডিবি

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এবিআর) সংস্কার চায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। নানা ধরনের পাঁচ প্রকল্পে ২৩ কোটি ডলার দিতে চায় সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (৩০ মার্চ) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিনটিংয়ের সঙ্গে এক সাক্ষাৎ শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এ কথা জানান।

পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, এডিবি বাজেট সহায়তা দেয়। এডিবি চায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার হোক। এটা আমাদেরও প্রত্যাশা, কারণ এনবিআর সংস্কার না হলে আমাদের লক্ষ্য পূরণ কীভাবে হবে!

তিনি বলেন, নানা ধরনের পাঁচ প্রকল্পে ২৩ কোটি ডলার (প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা) দিতে চায় এডিবি। এডিবি টাকা নিয়ে প্রস্তুত, আমরা প্রস্তুত হলেই এটা ছাড় হয়ে যাবে। বন্যায় দেশে সড়ক, খাবার পানি ও রেলপথের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এসব কাজে এডিবি আমাদের সহায়তা দেবে।

এ সময় এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিনটিং বলেন, আমরা সরকারকে বলেছি রাজস্ব বোর্ডকে সংস্কারের জন্য। আমরা সব সময় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশের পাশে থাকি। বন্যায় দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে, এসব অবকাঠামো সংস্কারে আমরা সহায়তা দেবো।




২৩ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন এডিবির

গতবছর বন্যায় দেশের ৯ জেলা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এসব জেলায় পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনে জরুরি সহায়তা হিসেবে ২৩ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

সংস্থাটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ঋণ অনুমোদন উপলক্ষে এক বিবৃতিতে এডিবির প্রিন্সিপাল পোর্টফোলিও ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট টিকা লিমবো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর প্রস্তুতি হিসেবে অভিযোজন পরিকল্পনাসহ অনেক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সরকারের এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নে এডিবির এ ঋণ বেশ সহায়ক হবে।

সূত্র জানায়, গত বছর দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় অনেক বৃষ্টিপাত হয়। এতে বন্যা দেখা দেয়। এই বন্যার কারণে অপেক্ষাকৃত নিচু হাওর অঞ্চলের ৭২ লাখ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এডিবির ঋণের অর্থে ক্ষতিগ্রস্থ জেলাগুলোর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, পুনর্গঠন ও প্রতিকূলতা প্রতিরোধের বিভিন্ন কর্মসূচিতে কাজে লাগানো হবে। এই কর্মসূচির আওতায় কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, শেরপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কাজে ব্যয় করা হবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তাদের এ ঋণে এসব জেলায় ৭৫৭ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক এবং ৩৪ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ করা হবে। প্রয়োজনীয় সেতু এবং কালভার্টও নির্মাণ করা হবে প্রকল্পের আওতায়। আগামীতে বন্যা মোকাবিলায় যা সহায়ক হবে। প্রকল্পের কার্যক্রমে সমাজের প্রবীণ, নারী ও শিশু এবং প্রতিবন্ধীদের নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনার কথা রয়েছে।

এছাড়া, আগমীতে বন্যার ক্ষতি থেকে ফসল রক্ষায় ৮০ কিলোমিটার নদীতীর উন্নয়ন এবং প্রায় চার কিলোমিটার বন্যা প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ করা হবে। বর্ষায় পানিতে নিমজ্জিত থাকা ১৪ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং সেচকাজের জন্য চারটি স্লুইস গেট সংস্কার করা হবে। নদীতীর রক্ষা এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে এক লাখ গাছ লাগানো হবে।




সংকট উত্তরণে সহজ শর্তে অর্থায়নের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বের সংকটময় পরিস্থিতিতে অনেক উন্নয়ন অংশীদার সুদের হার বাড়িয়ে দিচ্ছে, ব্যবসায়িক অংশীদাররা অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ আরোপ করছে, যা আমাদের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সংকট উত্তরনে সহজ শর্তে অর্থায়ন ও এর সুদহার কমাতে উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে বাংলাদেশ ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এই কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য একে একে আমরা অর্জন করছি; দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মাতৃ মৃত্যু-শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস, স্বাক্ষরতার হার ও গড় আয়ু বৃদ্ধি, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, লিঙ্গ সমতা অর্জনে বাংলাদেশ অসামান্য অর্জন করেছে। এত অল্প সময়ে, মাত্র ১৪ বছরের মধ্যে আমরা এই অগ্রগতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে জিডিপির আকারে বাংলাদেশ ৩৫তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। ধারাবাহিকভাবে এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সাল জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি অর্জনের সময়, আমরা তার মধ্যে ২৮তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারব বলে আশা রাখি। ২০৩৬ সালে ২৪তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে এটাও আমাদের আশা।

বিশ্ব সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্ব একাধিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। আমরা এই ভূ-রাজনৈতিক সংকটের শিকার হলেও এর জন্য বাংলাদেশ—আমরা কিন্তু মোটেই দায়ী নই। বরং আমাদের কষ্টার্জিত অর্জনগুলো নস্যাৎ করছে এবং আমাদের একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা সত্যি এই সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধানও দেখতে পাচ্ছি না। এটা শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে না। সারা বিশ্বব্যাপী এই সমস্যাটা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো আরও কষ্ট পাচ্ছে। বেশির ভাগ দেশে খাদ্য ঘাটতি, জ্বালানি ও আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে। যার ফলে মুদ্রার অবমূল্যায়ন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অবক্ষয় এবং মূদ্রাস্ফীতি আরও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটা সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এডিবি আমাদের উন্নয়ন সহযোগী। গত ৫০ বছরে আমাদের উন্নয়নে এডিবির বিশেষ সহযোগিতা রয়েছে। এডিবির এই উদার সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতার পাশাপাশি সংকটকালীন সময়ে সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।