ঢাকায় এডিবির বিজনেস অপরচুনিটিজ সেমিনার শুরু

ঢাকায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) বিজনেস অপরচুনিটিজ সেমিনার শুরু হয়েছে। সোমবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৯টায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ সম্মেলন শুরু হয়। এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হোয়ি ইউন জং সেমিনারের শুরুতেই বক্তব্য দেন।

সেমিনারে পরামর্শক, ঠিকাদার, সরবরাহকারী, সিভিল সোসাইটি সংগঠন, সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, কূটনৈতিক মিশনের কর্মী এবং বিভিন্ন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিরা অংশ নিয়েছেন।

এডিবির বাংলাদেশ রেসিডেন্ট মিশন (বিআরএম) প্রতি বছর বিজনেস অপরচুনিটিজ সেমিনার (বিওএস) আয়োজন করে। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও এই সেমিনার আয়োজিত হচ্ছে। সেমিনারে বাংলাদেশের ও বিদেশের দক্ষ সরবরাহকারী, ঠিকাদার, পরামর্শক, বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তারা এডিবি-অর্থায়িত প্রকল্প এবং এডিবির বেসরকারি খাতের কার্যক্রম নিয়ে নানা ধরনের ব্যবসায়িক সুযোগ নিয়ে আলোচনা শুরু করেন।

এডিবি জানিয়েছে, বিজনেস অপরচুনিটিজ সেমিনার (বিওএস) একটি কৌশলগত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে, যেখানে দেশে এডিবি অর্থায়িত চলমান ও আসন্ন প্রকল্পগুলোর প্রধান ব্যবসায়িক সুযোগগুলো তুলে ধরা হয়, যার মধ্যে বর্তমানে আনুমানিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এখনও চুক্তিবদ্ধ হয়নি। পাশাপাশি, বিওএস-এ সম্প্রতি বিডিং প্রক্রিয়ায় আনা পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য দেওয়া হয় এবং উচ্চমানের, প্রতিযোগিতামূলক বিড ও প্রস্তাব প্রস্তুতের জন্য বিশেষজ্ঞ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

এডিবির বেসরকারি খাত উন্নয়নের কৌশলগত দিকনির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, এবারের বিওএস-এ এডিবির বেসরকারি খাতের কার্যক্রমের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা হবে, সেইসাথে বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) অন্যান্য সম্ভাবনার দিকেও আলোচনা করা হবে। সেমিনারটি সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে গঠনমূলক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে এবং এডিবি যেসব সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে তা অন্বেষণ করার সুযোগ করে দেয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এডিবি জানিয়েছে, এবারে বিওপির মূল উদ্দেশ্যে হলো—এডিবির প্রোকিউরমেন্ট, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক খাতের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে নেটওয়ার্কিং, যৌথ আলোচনা ও পরামর্শ। এবারের বিওপিতে অংশগ্রহণকারীরা এডিবির ক্রয়নীতি ও বিধিবিধান, বিডিং প্রক্রিয়ায় সাম্প্রতিক পরিবর্তনসমূহ, এডিবি অর্থায়নে চলমান ও আসন্ন ব্যবসায়িক সুযোগসমূহ, এডিবি অর্থায়িত প্রকল্পে কাজ করার সুবিধা এবং কীভাবে এসব চুক্তির জন্য যোগ্যতা অর্জন করা যায় এবং এডিবি-র বেসরকারি খাতভিত্তিক কার্যক্রম ও সুযোগসমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাবেন।

আয়োজন সম্পর্কে এডিবি জানিয়েছে, বিওএস একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। যেখানে পরামর্শক, ঠিকাদার, উৎপাদক এবং সরবরাহকারীরা বাংলাদেশে এডিবি অর্থায়িত প্রকল্পে পণ্য ও সেবাদানের সুযোগ খুঁজে পেতে পারেন।




সবুজ ডিজিটাল ডেটা সেন্টার নির্মাণে এডিবির সঙ্গে চুক্তি সই

বাংলাদেশ প্রথম সবুজ ডেটা সেন্টার নির্মাণের জন্য এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) সঙ্গে একটি স্মারক চুক্তি (এমওইউ) সই করেছে। এই প্রকল্পটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকায় পিপিপি কর্তৃপক্ষের কনফারেন্স রুমে চুক্তি সই হয়। চুক্তিটিতে সই করেন, পিপিপি বিভাগের পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) এ কে এম আবুল কালাম আজাদ, বিটিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, পোস্ট ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবুল খায়ের মোহাম্মদ সালেহউদ্দিন এবং এডিবি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হোয়ে ইউন জিওং। এছাড়া, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পোস্ট ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. মুশফিকুর রহমান, পিপিপি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এবং দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এডিবির পরিচালক টাকিও কোনিশি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি একটি অত্যাধুনিক ডেটা সেন্টার হবে, যা চট্টগ্রাম জেলার কাছে বিটিসিএল মালিকানাধীন স্থানে নির্মিত হবে। ডেটা সেন্টারটি পাবলিক ও প্রাইভেট সেক্টরের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাণিজ্যিক সেবা প্রদান করবে এবং বিটিসিএলের অভ্যন্তরীণ ডেটা স্টোরেজ চাহিদা পূরণ করবে। আন্তর্জাতিক মানের ডিজাইন করা এই সেন্টারটি ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণে সর্বোচ্চ কার্যক্ষমতা এবং সম্প্রসারণযোগ্যতা নিশ্চিত করবে।

এডিবির সহায়তা প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকবে লেনদেন সেবা, যার মধ্যে রয়েছে সম্ভাব্যতা মূল্যায়ন, প্রকল্প কাঠামো নির্ধারণ এবং আইটি সেক্টরে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি। এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াবে।




তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এডিবির ১১০০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এবং তথ্য প্রযুক্তি (আইটি) প্রোগ্রামের উন্নতির জন্য ১০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১১০ টাকা ধরে)।

শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) এডিবির প্রধান কার্যালয় থেকে এ ঋণ অনুমোদন করেছে সংস্থাটি।

ঋণ অনুমোদন প্রসঙ্গে এডিবির সোশ্যাল সেক্টর ইকোনমিস্ট রিওতারো হায়াশি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব প্রযুক্তি গ্রহণকে ত্বরান্বিত করতে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকল্প বাস্তবায়নের জন্য উচ্চশিক্ষায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামকে উন্নীত করা সময়ের প্রয়োজন। এই প্রকল্পটি আরও দক্ষ এবং প্রযুক্তি-সচেতন স্নাতক এবং উদ্যোক্তাদের বিকাশে সহায়তা করবে। যারা দেশের আইটি শিল্পকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারে।

এডিবি জানায়, প্রকল্পটি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, সফটওয়্যার প্রকৌশল এবং তথ্যপ্রযুক্তি ডিগ্রি প্রোগ্রামগুলোকে আপগ্রেড করবে। এডিবির এই অর্থে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রামগুলোকে আপগ্রেড করা হবে। প্রোগ্রামগুলোর মাধ্যমে শেখার কৌশল গ্রহণের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স এবং ইন্টারনেট অফ থিংসের মতো সর্বশেষ প্রযুক্তিগুলোকে একীভূত করবে।

এডিবি আরও জানায়, তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ ও পরীক্ষাগার স্থাপন, সহযোগিতা; স্টার্ট-আপ স্পেস এবং সহায়ক সুবিধাদি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে। এই সুবিধাগুলো জলবায়ু, দুর্যোগ-স্থিতিস্থাপক নকশা, শক্তি এবং জল-সংরক্ষণ বৈশিষ্ট্যগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করবে। এছাড়া, নারীবান্ধব সুযোগ-সুবিধা এবং পরিষেবাগুলো অন্তর্ভুক্ত করবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নতুন শিক্ষামূলক পদ্ধতি এবং উদীয়মান ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে শিক্ষকদের সক্ষমতা তৈরি করবে।

তিনটি এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষকরা যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে আসার জন্য শিল্প অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে। বিশেষ করে মহিলাদের জন্য বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ সুযোগ, কর্মজীবন কাউন্সেলিং এবং শিল্প প্লেসমেন্ট স্নাতক ছাত্রদের জন্য প্রদান করা হবে।




রামপুরা এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে ২৮শ কোটি টাকা দিচ্ছে এডিবি

রামপুরা-আমুলিয়া-ডেমরা সাড়ে ১৩ কিলোমিটার চার লেন সড়ক নির্মাণে ২৬.১ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ হাজার ৭৯২ কোটি ৭০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১০৭ টাকা ধরে)। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে যানজট দূর করার পাশাপাশি রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরের মধ্যে টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন হবে বলে জানায় সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) এডিবির ঢাকা অফিস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

সংস্থাটি জানায়, এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক, ব্যাংক অব চায়না, ডিবিএস ব্যাংক লিমিটেড এবং বাংলাদেশে অবস্থিত একটি নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড থেকে ১৯৩ মিলিয়ন ডলারের সর্বোচ্চ ঋণের মাধ্যমে প্রকল্পটি অর্থায়ন করা হচ্ছে। এডিবি প্রকল্পের কাঠামো, সমঝোতা, দরপত্র সম্পাদনে সহায়তা করেছে এবং বাণিজ্যিক ও আর্থিক সুবিধায় সহায়তা প্রদান করেছে বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

এডিবি অফিস অব মার্কেটস ডেভেলপমেন্ট এবং পিপিপির প্রধান ক্লিও কাওয়াওয়াকি জানান, আমরা এই এক্সপ্রেসওয়ের নকশা, নির্মাণ, অর্থায়ন, পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বেসরকারি খাতের অংশীদারদের প্রস্তুত, বাজারজাতকরণ এবং আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশের সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করেছি। এটি ঢাকা ও চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর সিলেটসহ বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব জেলাগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করবে। রামপুরা-আমুলিয়া-ডেমরা পিপিপি প্রকল্পটি মার্কিন ডলার এবং টাকার বিনিময় হারের সঙ্গে আংশিক রাজস্ব যুক্ত করে একটি প্রাপ্যতা অর্থ প্রদানের ব্যবস্থার অধীনে বিতরণ করা হয়েছিল। ঢাকা বাইপাস রোড পিপিপির প্রথম সড়ক লেনদেনের একটি ন্যূনতম রাজস্ব গ্যারান্টি হিসেবে ৩৭০ মিলিয়ন দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, এডিবি তাই অবকাঠামো খাতে ভবিষ্যতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশে উভয় ধরনের পেমেন্ট মেকানিজমের পথ তৈরি করতে সাহায্য করেছে। চুক্তিটি বিনিয়োগের জন্য একটি সম্পদ শ্রেণি হিসেবে সড়ক পিপিপি বিকাশে এডিবির নেওয়া একটি প্রোগ্রাম্যাটিক পদ্ধতির অংশ। বাংলাদেশে লেনদেন উপদেষ্টা হিসেবে এডিবির সঙ্গে একটি পিপিপি লেনদেনের দ্বিতীয় সফল আর্থিক সমাপ্তি এটি। বর্তমানে এডিবি জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দিচ্ছে, যা ১০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করবে।




 বাজেট সহায়তায় ৪০ কোটি ডলার দিচ্ছে এডিবি

সরকার প্রতিবছর যে বাজেট ঘোষণা করে, তার পুরোটা দেশীয় উৎস থেকে মেটানো সম্ভব হয় না। নির্ভরশীল হতে হয় বৈদেশিক ঋণের বাজেট সহায়তার জন্য। অভ্যন্তরীণ উৎসে সম্পদ অর্জন ও রাজস্ব আয় কম হওয়ায় বিদেশি ঋণদাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ঋণ নেয় সরকার। চলতি অর্থবছরের বাজেটে শেষের দিকে এসেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। এ অর্থবছরে বাজেট সহায়তায় ৪০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ইআরডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে এ বাজেট সহায়তার ঋণচুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ক্রমান্বয়ে কমতে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের তহবিল বাড়াতে সহায়তা করবে এডিবির বাজেট সহায়তা।

গত ২৪ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ২৯ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার। রিজার্ভের এ অর্থ সাড়ে ৩ মাসের আমদানি সুরক্ষিত করার জন্য যথেষ্ট। বিশ্বব্যাংকের দেওয়া বাজেট সহায়তা যোগ হওয়ার পর এ রিজার্ভ বেড়েছিল বলে জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এ অর্থবছরে (২০২২-২৩) ক্রমাগত ভঙ্গুর অর্থনীতি সামাল দিতে এ বাজেট সহায়তা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দাতা সংস্থা ও দেশগুলো সাধারণত উন্নয়ন প্রকল্পের অনুকূলে অর্থ দেয়। এ ধরনের অর্থসহায়তা পেতে নির্দিষ্ট একটি প্রকল্প তৈরি করতে হয়। এরপর ওই প্রকল্প ধরে দাতাদের সঙ্গে দর-কষাকষি চলে। কিন্তু বাজেট সহায়তার অর্থ দিয়ে সরকার নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করে না। বাজেট সহায়তার অর্থ সরকার যেকোনো খাতে খরচ করতে পারে। তাই অর্থনীতির চাপ সামলাতে বাজেট সহায়তার অর্থ নেওয়া সরকারের জন্য বেশি সুবিধাজনক। তবে এ জন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়।

এডিবির সঙ্গে এখন বাজেট সহায়তার যে দর-কষাকষি হয়েছে, তাতে বেশকিছু শর্ত রয়েছে। যেমন ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন, জ্বালানির দাম নির্ধারণ, ভর্তুকিসহ বিভিন্ন খাতে নীতি সংস্কার আনতে হবে। এসব শর্ত কতটা বাস্তবায়িত হলো, তা নিয়মিত নজরে রাখবে এডিবি। বাজেট সহায়তার জন্য কোনো খাত দেখাতে না হলেও এডিবিকে বাজেট সহায়তার অর্থের খরচের খাত জানাতে হয়। এবার যে ৪০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তা সরকার সামাজিক নিরাপত্তা খাতে খরচ করতে চায় বলে জানা গেছে।

এর আগে এডিবির নেতৃত্বে কো-ফান্ডিং উদ্যোগের মাধ্যমে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তা পেয়েছে। এ বাজেট সহায়তা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ কমাবে। দুই ধাপে এই তহবিল বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। প্রথম ধাপে এপ্রিলে এক দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন ডলার এসেছে দেশে। আগামী জুনে আরও প্রায় এক বিলিয়ন ডলার আসার কথা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বাংলাদেশ সরকারকে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৭৫৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঋণ দিয়েছে এডিবি। বাংলাদেশে উন্নয়ন সহায়তার ক্ষেত্রে এডিবি বিদ্যুৎ, শিক্ষা, পরিবহন, জ্বালানি, পানিসম্পদ, কৃষি, স্থানীয় সরকার, সুশাসন, আর্থিক ও বেসরকারি খাতকে প্রাধান্য দেয়।