এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ৫ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে: বাণিজ্য সচিব

এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে নতুন কর্মপরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আওতাধীন এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্কের (ইআইএফ) তৃতীয় পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করা কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্ট (সিপিডি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব লক্ষ্য অর্জনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টের ভ্যালিডেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। একদিকে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি, অন্যদিকে রফতানি খাতে নন-ট্যারিফ বাধা, আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইআইএফ এর আগের ফেজগুলোয় যে সুপারিশ দিয়ে আসছে, কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টে সেই বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখানে ১২টি কার্যক্রম রাখা হয়েছে, যার প্রতিটিই বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বাণিজ্য সচিব বলেন, শুধু নীতিমালা বা গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করলেই হবে না, এর সফল বাস্তবায়নই মূল বিষয়। তিনি বলেন, স্টাডির পাশাপাশি বাস্তবায়ন পর্যায়ে কীভাবে সংস্কারগুলো কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকতে হবে। মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত এসব সংস্কারের সুফল পৌঁছাতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ, উদারীকরণ, সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

কর্মশালায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও) খাদিজা নাজনীন বলেন, ডব্লিউটিওর এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক (ইআইএফ) কর্মসূচির মাধ্যমে এলডিসি দেশগুলোকে বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা দেয়া হয়। এই কর্মসূচিতে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সুইডেনসহ কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী দেশ অর্থায়ন করে থাকে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ইআইএফের আওতায় ইতোমধ্যে দুটি পর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে এবং শেষ হয় ২০১৫ সালে। দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয় ২০১৬ সালে, যা ২০২৪ সালে শেষ হয়েছে। এখন তৃতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হবে। তৃতীয় পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করা কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টের ভিত্তিতে বাংলাদেশ অর্থায়ন সহায়তা পাবে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই কার্যক্রম চলতি বছর থেকেই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও ইআইএফের পরামর্শক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিদ্যমান নীতি, কৌশল ও পূর্ববর্তী গবেষণার সুপারিশগুলো বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ডিটিআইএস, রফতানি নীতি, শিল্পনীতি, বাণিজ্য নীতি, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন অ্যাগ্রিমেন্ট এবং বিনিয়োগ সুবিধা বিষয়ক উদ্যোগ থেকে প্রাধান্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫২টি প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে উন্নয়ন সহযোগীদের সম্ভাব্য সহায়তা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা বিবেচনা করে সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১২টি কার্যক্রমে সীমিত করা হয়েছে।এসব কার্যক্রমের মধ্যে রফতানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য সহজীকরণ, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।




এলডিসি উত্তরণে মানবসম্পদের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় নিরাপত্তা ও পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষেত্রে বিরোধ নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এলডিসি উত্তরণের পরিবর্তনে আমাদের ব্যবসায়িক সংগঠন এবং মানবসম্পদের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকার স্থানীয় একটি হোটেলে ‘বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত জাতীয় কর্মশালার’ উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন তিনি।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ ২০২৬ সালের নভেম্বরে এলডিসি থেকে উত্তীর্ণ হতে চলেছে, যা আমাদের অর্থনৈতিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই পরিবর্তনটি প্রচুর সুযোগ তৈরি করবে, তবে এর জন্য আমাদের ব্যবসায়িক সংগঠন এবং মানবসম্পদের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, আমরা যতই এগিয়ে যাব, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) এবং সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক আলোচনায় জড়িত হবে। এছাড়াও ইইউ, এসএএসইসি এবং আসিয়ানের মতো আঞ্চলিক ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও গভীর হবে।

তিনি আরো বলেন, তিন দিনের কর্মশালা ডব্লিউটিওর নিয়ম ও পদ্ধতি সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের বোধগম্যতা বৃদ্ধি করবে এবং তাদের কাজে এই অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগ করার সক্ষমতা উন্নত করবে।




জলবায়ু সম্মেলনে ২০০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাবে ইইউর সমর্থন চাইল বাংলাদেশ

জলবায়ু সংকটের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দের প্রস্তাবে সমর্থন জানাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

শুক্রবার আজারবাইজানের বাকুতে কপ২৯-এর চূড়ান্ত ফলাফলের বিষয়ে এলডিসি মন্ত্রী এবং ইইউ মন্ত্রীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে এই আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (বায়ুমান ব্যবস্থাপনা) ও বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য মো. জিয়াউল হক।

বৈঠকে অবশিষ্ট সমস্যাগুলোর সমাধানে উভয় পক্ষের সহযোগিতার মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সমতাভিত্তিক চুক্তি অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি বলেন, অনেক সমস্যা এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। তিনি উভয় পক্ষকে একযোগে কাজ করার মাধ্যমে কপ-২৯-এ একটি অর্থবহ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চুক্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বৈঠকে এলডিসি মন্ত্রীরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তাদের মূল অবস্থান তুলে ধরেন।

ইইউ মন্ত্রীরা এলডিসি দেশগুলোর উদ্বেগের বিষয়গুলো স্বীকার করেন এবং জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, নির্গমন হ্রাস এবং গ্লোবাল স্টকটেক প্রক্রিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। কপ-২৯-এর চূড়ান্ত আলোচনায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার এ বৈঠক একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।




তৃতীয় টার্মিনাল বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে বের হতে সহায়তা করবে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে আরও বেশি সমৃদ্ধ করবে বলে মন্তব্য করেছেন জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত পার্লামেন্টারি ভাইস মিনিস্টার মাশাহিরো ওকামুরা।

শনিবার (৭ অক্টোবর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, দুই দেশের পতাকার মতোই জাপান ও বাংলাদেশের কূটনীতিক সম্পর্কের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। এ বছরের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্বে রূপ দিয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক খুব ভালোভাবে এগিয়ে চলছে। এরই অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সহযোগিতা এবং সম্ভাব্য অংশীদারত্ব চুক্তির জন্য যৌথ গবেষণা চলছে।

ভাইস মিনিস্টার আরও বলেন, বাংলাদেশ-জাপানের সম্পর্কের কথা বলতে গেলে অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টি উঠে আসে। গত ৫০ বছর ধরে জাপান বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। সর্বশেষ মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর এবং এ বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছে জাপান।

এ দুটি প্রকল্প বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হতে এবং আরও বেশি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

জানা গেছে, পাঁচ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটারের এ টার্মিনালে একসঙ্গে ৩৭টি প্লেন রাখার অ্যাপ্রোন (প্লেন পার্ক করার জায়গা) করা হয়েছে। মডার্ন টার্মিনাল বিল্ডিংয়ে দুই লাখ ৩০ হাজার স্কয়ার মিটারের বিল্ডিংয়ের ভেতরে থাকবে পৃথিবীর উল্লেখযোগ্য ও অত্যাধুনিক সব প্রযুক্তির ছোঁয়া। এতে রয়েছে বেশ কয়েকটি স্ট্রেইট এস্কেলেটর।

নতুন এ টার্মিনালে যাত্রীদের ব্যাগের জন্য সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি ও ব্যাংককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরের মতো অত্যাধুনিক তিনটি আলাদা স্টোরেজ এরিয়া করা হয়েছে। রেগুলার ব্যাগেজ স্টোরেজ, লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড এবং অড সাইজ (অতিরিক্ত ওজনের) ব্যাগেজ স্টোরেজ। যাত্রীদের স্বাভাবিক ওজনের ব্যাগেজের ১৬টি রেগুলার ব্যাগেজ বেল্ট থাকবে টার্মিনালটিতে। অতিরিক্ত ওজনের (অড সাইজ) ব্যাগেজের জন্য স্থাপন করা হয়েছে আরও চারটি পৃথক বেল্ট।

অত্যাধুনিক এ টার্মিনাল ভবনে থাকবে ১০টি সেলফ চেক-ইন কিওস্ক (মেশিন)। এগুলোতে নিজের পাসপোর্ট এবং টিকিটের তথ্য প্রবেশ করালে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসবে বোর্ডিং পাস ও সিট নম্বর। এরপর নির্ধারিত জায়গায় যাত্রী তার লাগেজ রেখে দেবে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাগেজগুলো এয়ারক্রাফটের নির্ধারিত স্থানে চলে যাবে। তবে নির্ধারিত ৩০ কেজির বেশি ওজনের ব্যাগেজ নিয়ে এখানে চেক-ইন করা যাবে না। সেসব যাত্রীদের জন্য আরও ১০০টি চেক-ইন কাউন্টার থাকবে এ টার্মিনালে।

টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ করছে স্যামসাং গ্রুপের কনস্ট্রাকশন ইউনিট স্যামসাং কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ট্রেডিং (সিঅ্যান্ডটি) কর্পোরেশন। প্রতিষ্ঠানটির নির্মিত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে বুর্জ খলিফা, পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার, তাইপে ১০১, সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরের ৪ নম্বর টার্মিনাল, দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচেওন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আবুধাবির ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক। এছাড়াও টার্মিনালের ভেতরের ভবনটির নকশা তৈরি করেছেন বিখ্যাত স্থপতি রোহানি বাহারিন। তিনি সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি এয়ারপোর্টের টার্মিনাল-৩, চীনের গুয়াঞ্জুর এটিসি টাওয়ার ভবন, ভারতের আহমেদাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ইসলামাবাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনের নকশা তৈরি করেন।

২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর শাহজালাল বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পটির অনুমোদন দেয় একনেক। নির্মাণ কাজে অর্থায়ন করছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। বৃহৎ এই থার্ড টার্মিনাল প্রকল্পটির ব্যয় প্রথমে ধরা হয়েছিল ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা। পরে অবশ্য প্রকল্প ব্যয় ৭ হাজার ৭৮৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বাড়ানো হয়েছে।




অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষরে আগ্রহী জাপান

বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষর করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন ঢাকা সফররত জাপানের অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী নিশিমুরা ইয়াসুতোশি। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হওয়ার আগেই ইপিএ চুক্তি হলে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়বে না। এখন দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়ছে, বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রোববার (২৩ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে ‘আগামী ৫০ বছরে বাংলাদেশ-জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও শিল্পের উন্নতি’ শীর্ষক সামিটে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

সামিটে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন এবং আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। অনুষ্ঠানে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) আবাসিক প্রতিনিধি ইউজি আনদো, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। জাপানি রাষ্ট্রদূত কিমিনোরি ইওয়ামা, জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাজুশি নবুতানি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

জেটরো আয়োজিত সামিটে কো-স্পন্সর ছিল বিডা, এফবিসিসিআই, জেবিসিসিআই, সিসিসিআই এবং জেসিআইএডি।

প্রধান অতিথির ভাষণে জাপানের অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী নিশিমুরা ইয়াসুতোশি বলেন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জাপানের অনেক উদ্যোক্তা বিনিয়োগ করেছেন। অনেক পুরনো সম্পর্ক রয়েছে আমাদের মধ্যে। আমরা যমুনা সেতু, বিমানবন্দরসহ অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশের সহযোগী।

বাণিজ্য বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও ডিপ্লোমেসি বেড়েছে। জাপানের বড় বড় প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি বাড়ছে। আগামী ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত হতে হলে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও আইসিটি খাতের উন্নয়ন করতে হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক ও উন্নয়ন অংশীদার জাপান। বিগত ৫০ বছর বাংলাদেশকে নানাভাবে সহযোগিতা দিয়ে আসছে দেশটি। বাংলাদেশের বড় রপ্তানিবাজারে পরিণত হয়েছে জাপান। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ এসেছে, আরও আসছে। জাপানের সঙ্গে আমাদের আট বিষয়ে চুক্তি হয় প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরকালে। আগামীতে সহযোগিতার ক্ষেত্রে এসব চুক্তি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করবে বলে আশা করি।

শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেন, দেশের উন্নয়নে ভালো সহযোগী দেশ হলো জাপান। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপান সফর করেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে কৃষি, মেট্রোরেল, শিল্প উন্নয়ন, জাহাজ রিসাইক্লিং, শুল্ক, মেধাসম্পদ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, আইসিটি ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে আটটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, জাপান আমাদের বন্ধু দেশ। দেশটিতে মানুষের বয়সের হার একটি সমস্যা, আমাদের এখন ডেমোগ্রাফি ডিভিডেন্ড চলছে। আমাদের আগামীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞান অর্জনে ইউনিবেটর স্থাপনের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হবে। স্মার্ট বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদের তত্ত্বাবধানে স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য ইন্ডাস্ট্রি, গভর্নমেন্ট এবং একাডেমিয়ান কোলাবরেশন করা হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ। এজন্য জাপানি সহযোগিতা, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের ধারা আরও বাড়বে বলে আশা করি।




এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও অস্ট্রেলিয়ায় শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাবে বাংলাদেশ

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার বাজারে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাবে।

শুক্রবার (২১ জুলাই) অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম আল্লামা সিদ্দিকীর সঙ্গে বৈঠককালে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশটির বাণিজ্যবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী সিনেটর টিম আয়ার্স।

অস্ট্রেলিয়াস্থ বাংলাদেশের হাইকমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সিডনির কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অফিসে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বিজিএমইএ’র সভাপতি ফারুক হাসানও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠককালে হাইকমিশনার আল্লামা সিদ্দিকী কৃষি, তৈরি পোশাক, রেমিট্যান্স, অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাসহ আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে গত দশকে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়নের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। বাংলাদেশের প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ক্রমবর্ধমান আগ্রহের প্রশংসা করেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যবিষয়ক সহকারী মন্ত্রীকে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিসহ বাংলাদেশ সফরের আহ্বান জানান হাইকমিশনার।

বিজিএমইএ’র সভাপতি ফারুক হাসান বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের দক্ষ ও টেকসই সরবরাহ ব্যবস্থা এবং উৎপাদনশীলতাসহ শ্রমিকদের কল্যাণার্থে এ খাতে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে গৃহীত সংস্কারমূলক কর্মসূচি এবং অধিক গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপন, নারী-পুরুষ সমতা নিশ্চিতকরণ, উপযুক্ত কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করার মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে বিজিএমইএ’র ইএসজি অর্জনের লক্ষ্যের বিষয়টিও তিনি অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রীকে অবহিত করেন।

টিম আয়ার্স বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের উন্নয়ন এবং অস্ট্রেলিয়ার ক্রেতা ও বাংলাদেশের উৎপাদকদের দৃঢ় বাণিজ্যিক সম্পর্ক এ শিল্পকে বহুমুখীকরণে সহায়তা করছে। বিদেশি অংশীদারদের সাথে অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্য এবং সরকারের সম্পৃক্ততার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো টেকসই শ্রমিক ইউনিয়ন এবং শ্রমিক সংগঠন।

তিনি অস্ট্রেলিয়ার উল ও কটন শিল্পের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য বৃদ্ধির আগ্রহ প্রকাশ করেন। ২০২১ সালে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক এরেঞ্জমেন্টকে (টিফা) পরবর্তী স্তরে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করেন টিম আয়ার্স।

বর্তমানে বিজিএমইএ’র ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অস্ট্রেলিয়া সফর করছে। গত ১৮ জুলাই বাংলাদেশ হাইকমিশনের সহযোগিতায় মেলবোর্নে তৈরি পোশাক শিল্পবিষয়ক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এছাড়া আজ সিডনিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল যৌথভাবে এক সভার আয়োজন করে। এতে সিডনিতে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা তুলে ধরা হয়। এ সভায় অস্ট্রেলিয়ার ক্রেতা, ব্র্যান্ড ও শিল্পপ্রতিনিধিসহ ৩৫ জন উপস্থিত ছিলেন।