চট্টগ্রাম বন্দরে এলপিজিবাহী দুই জাহাজ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে এলপিজি বোঝাই দুটি জাহাজ পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি এলএনজি ও এলপিজিবাহী জাহাজ পর্যায়ক্রমে দেশে আসছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে ডিএল লিলি এবং ভারত থেকে গ্যাস ক্যারেজ জাহাজ দুটি বন্দরে পৌঁছেছে।

তিনি আরও জানান, রোববার যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি নিয়ে কংটং জাহাজ আসার কথা রয়েছে। সোমবার মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে পল জাহাজ বন্দরে পৌঁছাবে। এছাড়া আগামী ১৫ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া থেকে এলএনজি নিয়ে দেশে পৌঁছাবে মারান গ্যাস হাইড্রা এবং ১৮ এপ্রিল আসবে এলএনজিবাহী লবিটো।

এলপিজি মূলত প্রোপেন ও বিউটেন গ্যাসের মিশ্রণ, যা সিলিন্ডারে ভরে বাসাবাড়ি ও রেস্তোরাঁয় রান্নার কাজে এবং যানবাহনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি বহনযোগ্য হওয়ায় পাইপলাইন বিহীন এলাকায় গৃহস্থালি ও ক্ষুদ্র শিল্পের তাপ উৎপাদনে প্রধান ভরসা।

অন্যদিকে এলএনজি হলো অতিশীতল প্রাকৃতিক গ্যাস যা মূলত বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং বড় বড় শিল্প কারখানায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সার কারখানা, টেক্সটাইল ও সিরামিকের মতো ভারী শিল্পে উচ্চ তাপ নিশ্চিত করতে পাইপলাইনের মাধ্যমে এটি সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সমুদ্রগামী জাহাজ ও দূরপাল্লার ভারী ট্রাকের জ্বালানি হিসেবেও এলএনজির ব্যবহার হয়।




যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৭৫২ কোটি টাকায় আমদানি করা হবে এক কার্গো এলএনজি

জ্বালানি চাহিদা মেটাতে চলতি বছরের ৩০-৩১ জানুয়ারির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এক কার্গো লিকুইডিফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। আন্তর্জাতিক কোটেশনে অংশ নিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মেসার্স এক্সেলারেট এনার্জি এলপি এই এক কার্গো এলএনজি সরবরাহ করবে। এই এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হবে ৭৫২ কোটি ৫০ লাখ ২৪ হাজার ৪১৬ টাকা।

মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০০৮’ অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে স্পট মার্কেট থেকে এক কার্গো এলএনজি (৩০-৩১ জানুয়ারি ২০২৫ সময়ে ৫ম) আমদানির অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।

 

জানা গেছে, পেট্রোবাংলা কর্তৃক এক কার্গো এলএনজি সরবরাহের জন্য মাস্টার সেল অ্যান্ড পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (এমএসপিএ) স্বাক্ষরকারী চুক্তিবদ্ধ ১৬টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব আহ্বান করা হলে ৩টি প্রতিষ্ঠান দরপ্রস্তাব দাখিল করে। ৩টি প্রস্তাবই কারিগরি ও আর্থিকভাবে রেসপনসিভ হয়।

দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটি’র (পিইসি) সুপারিশের প্রেক্ষিতে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মেসার্স এক্সেলারেট এনার্জি এলপি এক কার্গো এলএনজি সরবরাহ করবে। প্রতি এমএমবিটিইউ ১৫.৬৯ মার্কিন ডলার হিসেবে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হবে ৭৫২ কোটি ৫০ লাখ ২৪ হাজার ৪১৬ টাকা।

এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে কোরিয়ার পসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন থেকে এক কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। এই এক কার্গো এলএনজি আমদানির ব্যয় ধরা হয় ৬৯২ কোটি ৯৯ লাখ ১৯ হাজার ৩৬০ টাকা। অর্থাৎ আগের এখন বেশি অর্থ ব্যয়ে এলএমজি আমদানি করা হবে।




৬০৯ কোটি টাকার এলএনজি কিনবে সরকার

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি আইন ২০১০ এর আওতায় স্পট মার্কেট থেকে ১ কার্গো এলএনজি ক্রয়ের প্রস্তাব পাশ হয়েছে৷ যার মূল্য ধরা হয়েছে ৬০৯ কোটি ২৭ লাখ ৬৫ হাজার ৮৯৭ টাকা৷ ২০২৪ সালের ২১তম এলএনজি আমদানি ক্রয়ের প্রস্তাব এটি৷

বুধবার (৩ জুলাই) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব মো. মাহমুদুল হোসাইন খান সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন৷

সমন্বয় ও সংস্কার সচিব জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ এর আওতায় ‘মাস্টার সেল এন্ড পারসেজ এগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্য হতে কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় স্পট মার্কেট হতে ১ কার্গো এলএনজি আমদানির ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে৷

তিনি বলেন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এই এলএনজির ক্রয়মূল্য ৬০৯ কোটি ২৭ লাখ ৬৫ হাজার ৮৯৭ টাকা (ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ)। এর একক মূল্য ধরা হয়েছে ১৩ দশমিক ৫৫৮০ মার্কিন ডলার৷ পূর্বে ছিল ১২ দশমিক ৯৬৯৭ মার্কিন ডলার৷

 

এ ক্রয় প্রস্তাবের সুপারিশকৃত দরদাতা মের্সাস এক্সিলেরেট এনার্জি এলপি, ইউনাইটেড স্টেটস৷

এর আগে গত সপ্তাহে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি বিশেষ বিধানের আওতায় জাপান থেকে এক কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার অনুমোদন দেয় সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। প্রতি কার্গোতে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানি হয়ে থাকে। প্রতি এমএমবিটিইউ ১৬.৫০ মার্কিন ডলার হিসেবে এ পরিমাণ জ্বালানি আমদানির খরচ হবে ৬৯০ কোটি ৪২ লাখ ৯ হাজার ৩১২ টাকা।




বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্র আগামী ১৫ বছর ভূমিকা রাখবে: পিটার হাস

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্র আগামী ১৫ বছর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত পিটার হাস।

বুধবার পেট্রোবাংলার সঙ্গে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেডের চুক্তিসই অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।

দেশে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ বাড়াতে এক্সিলারেট এনার্জি লিমিটেডের সঙ্গে তিন চুক্তি সই করেছে পেট্রোবাংলা।

চুক্তি অনুযায়ী, এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশকে বছরে ১০ লাখ টন এলএনজি সরবরাহ করবে। আগামী ২০৪০ সাল পর্যন্ত মার্কিন কোম্পানিটি থেকে এলএনজি পাবে বাংলাদেশ।

এলএনজির এই চুক্তির কারণে খুব কম খরচে বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে জানিয়ে পিটার হাস বলেন, দু-দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক উন্নয়নে এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

পিটার হাস আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ৪ বিলিয়ন ডলারের সরাসরি বিনিয়োগ রয়েছে বাংলাদেশে, যা বৈদেশিক বিনিয়োগের মধ্যে দ্বিতীয়। বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে, সেটা আমরা এগিয়ে নিতে চাই। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গতিশীল অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।

১৫ বছর মেয়াদি এ চুক্তি ২০২৬ সাল থেকে কার্যকর হবে। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৬ ও ২০২৭ সালে বছরে ৮.৫ লাখ টন এবং পরবর্তীতে ১০ লাখ টন করে এলএনজি সরবরাহ করবে বাংলাদেশকে।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, জ্বালানি সচিব মো. নুরুল আলম, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্রনাথ সরকার, এক্সিলারেট এনার্জি প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিভেন কোবোস প্রমুখ।

ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, চলমান নানা যে সংকট চলছে তা বৈশিক কারণে। এর জন্য বাংলাদেশ মোটেও দায়ী নয়। অন্যান্য দেশের দায় বাংলাদেশকে বহন করতে হচ্ছে। বৈশিক পরিস্থিতির কারণে আমাদেরকে ১৪ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়েছে। বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন।

নসরুল হামিদ বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ৬০ শতাংশই বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের। এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রয়েছে। তারা এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ করছে। নিরবচ্ছিন্ন ও সহজলভ্য জ্বালানির যে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এই চুক্তি অবদান রাখবে।যুক্তরাষ্ট্রের কম্পানি শেভরন দেশীয় গ্যাসের ৬৪ শতাংশই সরবরাহ করছে বলেও তিনি জানান।




দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পট মার্কেট থেকে এক কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন,২০১০ (সংশোধনী ২০২১) এর আওতায় মাস্টার সেল অ্যান্ড পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (এমএসপিএ) স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে কোটেশনের মাধ্যমে এই এলএনজি আমদানি করা হবে।

সূত্র জানায়, প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি ১৬.৩৪০০ মার্কিন ডলার হিসেবে এক কার্গো এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হবে ৭১৩ কোটি ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮৮ টাকা টাকা। সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই এলএনজি সরবরাহ করবে।

সূত্র জানায়, দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা পূরণের জন্য কাতার ও ওমানের সঙ্গে দুটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। স্পট মার্কেটে এলএনজির মূল্য স্বাভাবিক মূল্যেও চেয়ে বহুগুণে বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত স্পট মার্কেটে এলএনজির আমদানি বন্ধ ছিল। চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। গ্যাসের ঘাটতির ফলে শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে গ্যাস সরবরাহ নির্বিঘ্ন করতে এবং গ্যাসের উর্ধ্বমূল্য বিবেচনায় প্রয়োজনে বর্ধিত মূল্যে হলেও গ্যাস সরবরাহের জন্য অনুরোধ করা হয়।

এ অবস্থায় স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি আমদানির বর্ধিত আমদানি বর্ধিত ব্যয় নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে আদায়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গত ১৮ জানুয়ারি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের মূল্য ১৪ টাকা ঘনমিটার, ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ ও শিল্পে ব্যবহৃত গ্যাসের মূল্য ৩০ টাকা ঘনমিটার এবং বাণিজ্যিক (হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট ও অন্যান) ক্ষেত্রে ব্যবহৃত গ্যাসের মূল্য ৩০.৫০ টাকা ঘনমিটার নির্ধারণ করা হয়, যা ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।

দেশের নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের জন্য স্পট মার্কেট থেকে ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের জন্য অনুমোদিত ৯ কার্গোর অতিরিক্ত ৩ কার্গো এলএনজি ক্রয়ের জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী (প্রধানমন্ত্রী) নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন।

উল্লেখ্য বিদ্যুৎ, শিল্প ও সার কারখানায় গ্যাসের সরবরাহ বৃদ্ধি করার জন্য ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি ক্রয় করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি ক্রয়ের লক্ষ্যে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এমএসপিএ প্রস্তুত করে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং গ্রহণ করা হয় এবং সে প্রেক্ষিতে এমএসপিএ টি চূড়ান্ত করা হয়। পরবর্তীতে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদনের ভিত্তিতে পেট্রোবাংলা এমএসপিএ অনুস্বাক্ষরকারী ২১ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চূড়ান্ত করা এমএসপিএ স্বাক্ষর করে। এরপর ২০২০ সালে থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে ৬০টি দরপ্রস্তাব আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে ৫১টি কার্গো এলএনজি গ্রহণের জন্য সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন নেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ, ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ, শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের জন্য ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে স্পট মার্কেট থেকে ১ কার্গো এলএনজি ক্রয় করা প্রয়োজন। ২০২৩ সালের ২৪তম এলএনজি কার্গো আমদানির দাখিল করা দরপ্রস্তাব পর্যালোচনায় ২০২৩ সালের ২৪তম এলএনজি কার্গোর জন্য দাখিলকৃত দরপ্রস্তাবটি বিগত কয়েক মাসে পিপিসি কর্তৃক দাখিল করা সুপরিশ করা দরের চেয়ে বেশি হওয়ায় এবং পুনঃদরপ্রস্তাব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকায় পুনরায় দরপ্রস্তাব আহ্বানের সিদ্ধান্ত হয়। ফলে সার্বিক বিবেচনায় এমএসপিএ স্বাক্ষরকারী ২১টি প্রতিষ্ঠানের কাছে স্পট মার্কেট থেকে ডিসেম্বর মাসের জন্য এক কার্গো এলএনজি সরবরাহের দরপ্রস্তাব করলে ৫টি প্রতিষ্ঠান এতে সাড়া দেয়। টোটালএনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড প্রতি এমএমবিটিইউ ১৬.৩৪০০ ডলার উল্লেখ করে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে এই এক কার্গো এলএনজি সরবরাহ করবে। এতে মোট ব্যয় হবে ৭১৩ কোটি ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮৮ টাকা।




এলএনজির বৈশ্বিক রফতানি ১.৭ শতাংশ বেড়েছে

চলতি বছরের প্রথম আট মাসে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বৈশ্বিক রফতানি ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। ইউরোপের বাজারে ব্যাপক হারে চাহিদা বৃদ্ধি এক্ষেত্রে প্রধান প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে। রফতানিতে শীর্ষে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও কাতার। শিপব্রেকার প্রতিষ্ঠান বাঞ্চেরো কস্তা সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

বাঞ্চেরো কস্তার প্রতিবেদনে বলা হয়, সমুদ্রপথে এলএনজির বৈশ্বিক বাণিজ্য অব্যাহতভাবে বাড়ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করেছে। দেশটিতে সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেয় ইউরোপ। বিপরীতে অঞ্চলটিতে এলএনজি আমদানির পরিমাণ ব্যাপক বেড়ে যায়। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বৈশ্বিক এলএনজি রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭ কোটি ১৮ লাখ টনে।

 

বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান রেফিনিটিভের দেয়া তথ্যমতে, গত বছর বৈশ্বিক এলএনজি রফতানি আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৪০ কোটি ৪১ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে রফতানির গতি বলিষ্ঠ ছিল। তবে এরপর গতি কিছুটা ধীর হয়ে পড়ে।

চলতি বছরের প্রথম আট মাসে অস্ট্রেলিয়া ৫ কোটি ৩৯ লাখ টন এলএনজি রফতানি করে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। তবে এ সময় যুক্তরাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়াকে ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৭৪ লাখ টন।

দুই বছর ধরে এলএনজি রফতানিতে কাতারকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। রেফিনিটিভের দেয়া তথ্যমতে, গত বছর অস্ট্রেলিয়া ৮ কোটি ১৩ লাখ টন এলএনজি রফতানি করে, যা মোট বৈশ্বিক রফতানির ২০ দশমিক ১ শতাংশ। কাতার রফতানি করেছে ৭ কোটি ৯৯ লাখ টন, যা বৈশ্বিক রফতানির ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ। ওই বছর যুক্তরাষ্ট্র রফতানি করে ৭ কোটি ৯৪ লাখ টন, যা বৈশ্বিক রফতানির ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ।

চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইউরোপের দেশগুলো ৬ কোটি ৯৮ লাখ টন এলএনজি আমদানি করে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। গত বছর অঞ্চলটি মোট ১০ কোটি ৯ লাখ টন এলএনজি আমদানি করে, যা ২০২১ সালের তুলনায় ৬৮ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি আমদানি।

এ আট মাসে এলএনজি আমদানিতে শীর্ষস্থানে ছিল ইউরোপ। মোট বৈশ্বিক আমদানির ২৫ দশমিক ৭ শতাংশই গেছে এসব দেশে। জাপান আমদানি করেছে ১৬ দশমিক ১ শতাংশ। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাজ্য ১ কোটি ১৩ লাখ টন এলএনজি আমদানি করে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি ৬ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। এ সময় চীন আমদানি করেছে ৫ কোটি ২৪ লাখ টন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি ১০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। ভারতের আমদানি এক বছরের ব্যবধানে ১ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৩৬ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। তবে জাপানের আমদানি এক বছরের ব্যবধানে ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।




আমদানি করা হচ্ছে দুই কার্গো এলএনজি

দেশে জ্বালানির চাহিদা মেটাতে পৃথক দুটি দরপ্রস্তাবের মাধ্যমে দুই কার্গো এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। প্রতি কার্গোতে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ করে দুই কার্গোতে মোট ৬৭ লাখ ২০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি থাকবে। এতে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ২৪২ কোটি ৮০ লাখ ৯৫ হাজার ৬৮০ টাকা।

সূত্র জানায়, দেশের বিদ্যমান ও ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা পূরণের জন্য রাস লাফ্ফান লিকুইডিফাইড ন্যাচারাল গ্যাস কোম্পানি (কাতারগ্যাস) এবং ওমান ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনালের (বর্তমান নাম ওকিউটি) সঙ্গে দুটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম অনেক বাড়ায় ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি বন্ধ ছিল। চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। গ্যাসের ঘাটতির ফলে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হয়। তাই, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে গ্যাস সরবরাহ নির্বিঘ্ন করতে বর্ধিত দামে হলেও গ্যাস সরবরাহের জন্য অনুরোধ করা হয়।

ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চ মূল্যে এলএনজি আমদানির বর্ধিত ব্যয় নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে আদায়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের মূল্য ১৪ টাকা ঘনমিটার, ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ ও শিল্পে ব্যবহৃত গ্যাসের মূল্য ৩০ টাকা ঘনমিটার এবং বাণিজ্যিক (রেস্টুরেন্ট ও অন্যান্য) ক্ষেত্রে ব্যবহৃত গ্যাসের মূল্য ৩০.৫০ টাকা ঘনমিটার নির্ধারণ করা হয়। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা কার্যকর হয়েছে।

সিসিইএ সভার অনুমোদনক্রমে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত ২১টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মাস্টার সেল অ্যান্ড পারচেজ (এমএসপিএ) চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়। পেট্রোবাংলা এক কার্গো এলএনজি সরবরাহের জন্য ২১টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব আহ্বান করলে দুটি প্রতিষ্ঠান দরপ্রস্তাব দাখিল করে, যা রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণ কমিটির (পিপিসি) সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ১৩.৭৭ মার্কিন ডলার হিসেবে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হবে ৫৯৫ কোটি ৪৫ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪০ টাকা।

সিসিইএ সভার অনুমোদনক্রমে অপর একটি প্রস্তাবে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত ২১টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমএসপিএ চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়। পেট্রোবাংলা এক কার্গো এলএনজি সরবরাহের জন্য ২১টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব আহ্বান করলে দুটি প্রতিষ্ঠান দরপ্রস্তাব দাখিল করে, যা রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণ কমিটির (পিপিসি) সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড, সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ১৪.৯৭ মার্কিন ডলার হিসেবে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ৬৪৭ কোটি ৩৫ লাখ ৭ হাজার ৪০ টাকা।

এ সংক্রান্ত দুটি প্রস্তাব সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির পরবর্তী সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।




দেশীয় গ্যাসের মজুত কমতে থাকায় এলএনজি আমদানির দিকে ঝুঁকছে সরকার

দেশীয় গ্যাসের মজুত কমতে থাকায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির দিকে ঝুঁকছে সরকার। এ লক্ষে কাতার এবং ওমানের সঙ্গে চুক্তির পর স্থায়ী এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

জ্বালানি খাতে সরকারের নীতি এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান হাইড্রোকার্বন ইউনিট দেশের প্রধান জ্বালানি গ্যাসের চাহিদা এবং সরবরাহের প্রক্ষেপণে এমন চিত্রই উঠে এসেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে কোনও সংকট সৃষ্টি হবে না।

হাইড্রোকার্বন ইউনিট বলছে, ২০৩০ সালে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা বেড়ে হবে ৪ হাজার ৬২২ মিলিয়ন ঘনফুট। নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কার না হলে একই সময়ের মধ্যে আবার দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে শূন্যের কোঠায় নেমে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিপুল পরিমাণ গ্যাসের সংস্থান কী করে সম্ভব-এটি সবার জন্যই দুশ্চিন্তার বিষয় বলে মনে করছেন তারা।

হাইড্রোকার্বন ইউনিট এক প্রতিবেদনে বলছে, এখন দেশের অবশিষ্ট গ্যাসের মজুত রয়েছে ৯.৭৬ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। প্রতি মাসে গড়ে ০.০৭ সিটিএফ গ্যাস তোলা হচ্ছে। অর্থাৎ দেশীয় গ্যাসের মজুতে আর ১৩৯ মাস বা ১১ বছর চলবে। কিন্তু খনির গ্যাসের মজুত শেষ হয়ে আসলে সেখান থেকে গ্যাসের উৎপাদন কমে আসে।

হাইড্রোকার্বন ইউনিট আরেক প্রতিবেদনে বলছে, ২০২৩ সালে দেশে গড়ে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা রয়েছে ৪ হাজার ৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে এখন সরবরাহ রয়েছে দৈনিক দুই হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ ঘাটতি রয়েছে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন। এই চাহিদা ক্রমান্বয়ে আরও বৃদ্ধি পেয়ে ২০৩০ নাগাদ দাঁড়াবে দৈনিক ৪ হাজার ৬২২ মিলিয়ন ঘনফুট।

এই চাহিদা সামাল দিতে সরকার আগেভাগেই উদ্যোগ নিয়েছে। গত মাসেই দুটি চুক্তি হয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদী এলএনজি সরবরাহে কাতার এবং ওমানের সঙ্গ চুক্তি করা হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ১৫ বছরের এলএনজির সংস্থান হয়েছে। এর বাইরে অন্য নতুন কোম্পানির সঙ্গে এলএনজি আমদানি চুক্তি করতে চাইছে সরকার।

এলএনজি আমদানির দায়িত্বে থাকা সংস্থা রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাসের (আরপিজিসিএল) একজন কর্মকর্তা জানান, আমাদের সঙ্গে অনেকে যোগাযোগ করছেন। তারা এলএনজি বিক্রিতে দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তি করতে চাইছেন। এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

গত ১ জুন কাতারের রাজধানী দোহায় কাতার এনার্জির সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৬ সাল থেকে পরবর্তী ১৫ বছর বার্ষিক ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন টন এলএনজি বাংলাদেশের কাছে বিক্রি করবে কাতার।

এছাড়া গত ১৯ জুন ওমানের সঙ্গে আরও একটি এলএনজি সরবরাহ চুক্তি করে ঢাকা। এই চুক্তিতে বছরে ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন এলএনজি দেবে দেশটির বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ওকিউ ট্রেডিং লিমিটেড। যদিও দুই দেশের সরকারের মধ্যস্থতায় এই চুক্তি হওয়াতে এটিকে জি টু জি চুক্তি বলছে পেট্রোবাংলা। একই মাসে (১৪ জুন) সামিট গ্রুপকে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে পারে এমন একটি টার্মিনাল নির্মাণ করতে দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।




এবার সুইজারল্যান্ড থেকে এলএনজি কিনছে সরকার

জাপানের পর এবার সুইজারল্যান্ড থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশটি থেকে এক কার্গো বা ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানি করা হবে। এতে খরচ হবে ৬১৮ কোটি টাকা।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন পেট্রোবাংলার মাধ্যমে এই এলএনজি আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো বিবৃতিতে জানানো হয়, আজকের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় সুইজারল্যান্ডের টোটাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৬১৮ কোটি ২১ লাখ ১৯ হাজার ৪১৯ টাকা। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন পেট্রোবাংলার মাধ্যমে এই এলএনজি আমদানি করা হবে।

এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জাপানের জেরা কোম্পানি এক কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া। সে সময় ব্যয় ধরা হয় ৬৯০ কোটি ৪২ লাখ ৯ হাজার ৩১২ টাকা। মাস্টার সেল অ্যান্ড পার্চেজ অ্যাগ্রিমেন্ট বা মিলিত বিক্রয়-ক্রয় চুক্তিতে (এমএসপিএ) স্বাক্ষর করা প্রতিষ্ঠান থেকে থেকে কোটেশন সংগ্রহ করে ওই এলএনজি আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানিতে খরচ ধরা হয় ১৬ দশমিক ৫০ ডলার।

তার আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় স্পট মার্কেট থেকে এক কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। মাস্টার সেল অ্যান্ড পার্চেজ অ্যাগ্রিমেন্ট বা মিলিত বিক্রয়-ক্রয় চুক্তিতে (এমএসপিএ) স্বাক্ষর করা প্রতিষ্ঠান থেকে থেকে কোটেশন সংগ্রহ করে ওই এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তার আগে ২০২১ সালের ২৩ জুন অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় চার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মাস্টার সেল অ্যান্ড পার্চেজ অ্যাগ্রিমেন্ট বা মিলিত বিক্রয়-ক্রয় চুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়।

চলতি বছরের আগে পেট্রোবাংলা খোলাবাজার থেকে সর্বশেষ এলএনজি কিনেছিল গত বছরের মে মাসে। তখন প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম পড়েছিল ২৬ ডলার ৪ সেন্ট।

জানা গেছে, এলএনজি আমদানির জন্য বেশকিছু দেশের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। কিন্তু সরকার খুব সংক্ষিপ্ত সময়ে এলএনজি আমাদিন করতে চাই। এ জন্য ২০১৯ সালে খোলা বাজার থেকে এলএনজি আমদানির লক্ষ্যে এমএসপিএ পরিকল্পনা নেওয়া হয়। তারই অংশ হিসেবে ২০২১ সালে জাপান, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য এবং দুবাই- এর চার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মাস্টার সেল অ্যান্ড পার্চেজ অ্যাগ্রিমেন্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে গত কয়েক বছর বাসাবাড়ির পাশাপাশি শিল্পেও নতুন সংযোগ বন্ধ রেখেছে সরকার। প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট বিবেচনায় ২০১৮ সালের ২৫ এপ্রিল এলএনজি আমদানি শুরু করে সরকার। সামিট এলএনজি ও যুক্তরাষ্ট্রের এক্সেলারেট এনার্জির স্থাপন করা ভাসমান টার্মিনালের (এফএসআরইউ) মাধ্যমে আমদানিকৃত এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, দেশে দৈনিক প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে কম-বেশি ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৪০-৪২ কোটি ঘনফুট এলএনজি থেকে রূপান্তরিত গ্যাস। তবে দেশে দৈনিক ১০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি রূপান্তরের সক্ষমতা রয়েছে। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত স্পট মার্কেট থেকে দেশে ২৯ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হয়েছে।

গত জুনে সিএনজি বাদে সব শ্রেণির গ্রাহকের জন্য গ্যাসের দাম বাড়িয়েছিল সরকার। চলতি বছরের জানুয়ারিতে শিল্প, বিদ্যুৎ ও বাণিজ্য গ্রাহকদের জন্য ফের গ্যাসের দাম বাড়ায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।




জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস কাতারের

ক্রমবর্ধমান জ্বালানির চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে কাতার।

রোববার (৫ মার্চ) কাতারের ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে (কিউএনসিসি) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এক বৈঠকে এ আশ্বাস দেন দেশটির আমির শেখ তামিম বিন হামাদ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল সানির উদ্ধৃত করে বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কাতারের আমির বলেছেন, আমি আপনাকে সাহায্য করতে চাই। কাতার সবসময় বাংলাদেশকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে।

মোমেন বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কাতারের কাছ থেকে আরও বেশি জ্বালানি, বিশেষ করে বার্ষিক আরও এক মিলিয়ন মেট্রিক টন (এমটিএ) তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) চেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বলেছেন, আমরা কাতারের সাহায্য চাই। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশ জ্বালানি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। আমি চুক্তি নবায়ন করতে চাই। আমি আরও এলএনজি চাই। জবাবে কাতারের আমির জানতে চান বাংলাদেশ কতটা জ্বালানি চায়। তাকে বলা হয়, বাংলাদেশ আরেকটি এমটিএ অর্থাৎ ১৬-১৭ কনটেইনার জ্বালানি চায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে আমির বলেন, আপনার কাতার ছাড়ার আগে তার জ্বালানি মন্ত্রী এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে আলোচনা করবেন।
বাংলাদেশ বর্তমানে প্রায় ৪০টি কন্টেইনার জ্বালানি আমদানি করছে, যার পরিমান ১.৮-২.৫ এমটিএ।




১২৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন

দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আরও এক কার্গো লিকুইডিফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি), সয়াবিন তেল ও মসুর ডাল আমদানিসহ ৬ ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে মোট ব্যয় হবে এক হাজার ২৮৬ কোটি ৪৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির ভার্চুয়াল সভায় ক্রয় প্রস্তাবগুলোতে অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৩য় এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৬ষ্ঠ সভা হয়েছে। অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য ১টি এবং ক্রয় কমিটির অনুমোদনের জন্য ৪টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। ক্রয় কমিটির প্রস্তাবগুলোর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের ২টি, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ১টি এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের ১টি প্রস্তাব ছিল।

ক্রয় কমিটির অনুমোদিত ৪টি প্রস্তাবে মোট অর্থের পরিমাণ এক হাজার ২৮৬ কোটি ৪৮ লাখ ৩৫ হাজার ৫৩২ টাকা। মোট অর্থায়নের সম্পূর্ণ অর্থই জিওবি থেকে ব্যয় হবে।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) আইন-২০২১’-এর আওতায় স্পট মার্কেট হতে (২০২৩ সালের ২য়) এলএনজি আমদানির প্রত্যাশাগত অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিইএ) অনুমোদনক্রমে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি ক্রয়ের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত ২০টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মাস্টার সেল অ্যান্ড পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্ট (এমএসপিএ) চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়। পেট্রোবাংলা কর্তৃক ১ কার্গো এলএনজি সরবরাহের জন্য ২০টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব আহ্বান করা হলে ৬টি প্রতিষ্ঠান দরপ্রস্তাব দাখিল করে যা রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে প্রস্তাব প্রক্রিয়াকরণ কমিটির (পিপিসি) সুপারিশের প্রেক্ষিতে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স জেইআরএ কোং. ইনকরপোরেশন, জাপান এর থেকে এই এলএনজি সংগ্রহ করা হবে। প্রতি এমএমবিটিইউ ১৬.৫০ মার্কিন ডলার হিসেবে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হবে ৬৯০ কোটি ৪২ লাখ ৯ হাজার ৩১২ টাকা।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল)-এর জন্য ২০ হাজার মেট্রিক টন (+১০%) ফসফরিক এসিড আমদানির অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। ডিএপি সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল ফসফরিক এসিড বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে ২০ হাজার মে.টন (+১০%) ফসফরিক এসিড আমদানির জন্য আন্তর্জাতিক উম্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ২টি দরপত্র জমা পড়ে। ২টি দরপত্রই কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স সান ইন্টারন্যাশনাল এফজেডই, ইউএই (স্থানীয় এজেন্ট: মেসার্স এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনপুট, ঢাকা) ২০ হাজার মে.টন ফসফরিক এসিড সরবরাহ করবে। এতে ব্যয় হবে ১১৯ কোটি ৪৯ লক্ষ ৮০ হাজার ১০০ টাকা। প্রতি মে.টন ফসফরিক এসিড এর দাম ৫৫৯.৫০ মার্কিন ডলার।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, সভায় চট্টগ্রামের টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেড (টিএসপিসিএল)-এর জন্য ২৫ হাজার মেট্রিক টন (+১০%) রক ফসফেট (৭২% বিপিএল মিনিমাম) আমদানির অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। টিএসপি সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল রক ফসফেট বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে। ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে ২৫ হাজার মে.টন (+১০%) রক ফসফেট আমদানির জন্য আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে মাত্র ১টি দরপত্র জমা পড়ে যা রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ একমাত্র দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনপুট, ঢাকা (প্রধান সরবরাহকারী: মেসার্স উইলসন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং, মালয়েশিয়া) থেকে ২৫ হাজার মে.টন রক ফসফেট সংগ্রহ করা হবে। এতে ব্যয় হবে ৮২ লাখ ৪৬ হাজার ২৫০ ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮৮ কোটি ৬ লাখ ১৭ হাজার ৩৮ টাকা। প্রতি মে.টন রক ফসফেট এর দাম ৩২৯.৮৫ মার্কিন ডলার।

তিনি বলেন, ‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় ঝালকাঠি জেলার খয়রাবাদ নদীর ওপর ৭৩০ মিটার ব্রিজ নির্মাণের পূর্ত কাজের ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। প্রকল্পের পূর্ত কাজ ক্রয়ের জন্য এক ধাপ দুই খাম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ৬টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করে। তার মধ্যে কারিগরি ও আর্থিকভাবে ৪টি প্রস্তাব রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এম এম বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড এবং মেসার্স পোদ্দার এন্টারপ্রাইজ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে ব্যয় হবে ১২৩ কোটি ৯ লাখ ৭ হাজার ৮২ টাকা।

সভায় এজেন্ডায় ৪টি প্রস্তাব ছিল। এর বাইরে টেবিলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে কমিটি তাতে অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে টিসিবির মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ডধারী ১ কোটি পরিবারের মাঝে সাশ্রয়ী দামে বিক্রির জন্য এক কোটি ১০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল ক্রয়ের একটি প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত সচিব। প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৭৪.৫০ টাকা। এতে ব্যয় হবে ১৯১ কোটি ৯৬ লাখ ১০ হাজার টাকা। সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড এই সয়াবিন সরবরাহ করবে।

এছাড়া ৮ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার একটি প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে তুরস্ক থেকে মসুর ডাল আমদানি করা হবে। প্রতি মেট্রিক টন ৮৫৮ ডলার হিসেবে মোট ব্যয় হবে ৭৩ কোটি ৪৪ লাখ ৪৮ হাজার টাকা।




৬৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে জাপান থেকে এলএনজি কিনবে সরকার

জাপান থেকে এক কার্গো বা ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য ব্যয় হবে ৬৯০ কোটি ৪২ লাখ ৯ হাজার ৩১২ টাকা। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন পেট্রোবাংলার মাধ্যমে এই এলএনজি আমদানি করা হবে।

জাপান থেকে এই এলএনজি আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শেষে সভার সিদ্ধান্ত জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান। তিনি বলেন, আজকের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় জাপানের জেরা কোম্পানির এক কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন পেট্রোবাংলার মাধ্যমে এই এলএনজি আমদানি করা হবে।

তিনি আরও বলেন, মাস্টার সেল অ্যান্ড পার্চেজ অ্যাগ্রিমেন্ট বা মিলিত ক্রয়-বিক্রয় চুক্তিতে (এমএসপিএ) স্বাক্ষর করা প্রতিষ্ঠান থেকে কোটেশন সংগ্রহ করে ওই এলএনজি আমদানি করা হবে। জাপানের জেরা কোম্পানি থেকে ৬৯০ কোটি ৪২ লাখ ৯ হাজার ৩১২ টাকা ব্যয়ে এই এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানিতে খরচ হবে ১৬ দশমিক ৫০ ডলার।

গত ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় স্পট মার্কেট থেকে এক কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। মাস্টার সেল অ্যান্ড পার্চেজ অ্যাগ্রিমেন্ট বা মিলিত ক্রয়-বিক্রয় চুক্তিতে (এমএসপিএ) স্বাক্ষর করা প্রতিষ্ঠান থেকে কোটেশন সংগ্রহ করে ওই এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত হয়।

২০২১ সালের ২৩ জুন সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় চার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মাস্টার সেল অ্যান্ড পার্চেজ অ্যাগ্রিমেন্ট বা মিলিত ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়।

পেট্রোবাংলা খোলাবাজার থেকে সর্বশেষ এলএনজি কিনেছিল গত বছরের মে মাসে। তখন প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম পড়েছিল ২৬ ডলার ৪ সেন্ট। এরপর আর এলএমজি আমদানি করা হয়নি।

জানা গেছে, এলএনজি আমদানির জন্য বেশকিছু দেশের সঙ্গে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে। কিন্তু সরকার খুব সংক্ষিপ্ত সময়ে এলএনজি আমদানি করতে চায়। এজন্য ২০১৯ সালে খোলা বাজার থেকে এলএনজি আমদানির লক্ষ্যে এমএসপিএ পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে ২০২১ সালে জাপান, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য ও দুবাইয়ের চার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মাস্টার সেল অ্যান্ড পার্চেজ অ্যাগ্রিমেন্ট করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে গত কয়েক বছর বাসাবাড়ির পাশাপাশি শিল্পখাতেও নতুন সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট বিবেচনায় ২০১৮ সালের ২৫ এপ্রিল এলএনজি আমদানি শুরু করে সরকার। সামিট এলএনজি ও যুক্তরাষ্ট্রের এক্সেলারেট এনার্জির স্থাপন করা ভাসমান টার্মিনালের (এফএসআরইউ) মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজি বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে।

জানা গেছে, দেশে দৈনিক প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে কম-বেশি মিলিয়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এরমধ্যে ৪০-৪২ কোটি ঘনফুট এলএনজি থেকে রূপান্তরিত গ্যাস। যেখানে দেশে দৈনিক ১০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি রূপান্তরের সক্ষমতা রয়েছে। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত স্পট মার্কেট থেকে দেশে ২৯ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হয়েছে।

গত বছরের জুন মাসে কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) ছাড়া সব শ্রেণির গ্রাহকের জন্য গ্যাসের দাম বাড়িয়েছিল সরকার। চলতি বছরের জানুয়ারিতে শিল্প, বিদ্যুৎ ও বাণিজ্য গ্রাহকদের জন্য ফের গ্যাসের দাম বাড়ায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।