মোবাইল ব্যাংকে লেনদেন ১ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা

হিসাব খুলতে কোনো টাকা লাগে না। শহর কিংবা গ্রামে নিমেষেই পাঠানো যায় টাকা। কেনাকাটা, বিল পরিশোধ, ঋণ গ্রহণসহ যুক্ত হচ্ছে নতুন নানা পরিষেবা। বিদেশ থেকে আসছে রেমিট্যান্স। এসব কারণে মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) ওপর মানুষের আগ্রহের পাশাপাশি বাড়ছে নির্ভরশীলতা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা গেছে, মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ১ লাখ ৮ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। গড়ে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ ৩ হাজার ৬১২ কোটি টাকা।

গ্রাহক সাড়ে ২১ কোটি

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেনের সঙ্গে দিনদিন বাড়ছে গ্রাহক সংখ্যা। বর্তমানে বিকাশ, রকেট, ইউক্যাশ, মাই ক্যাশ, শিওর ক্যাশসহ নানা নামে ১৩টির মতো ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠান এমএফএস সেবা দিচ্ছে। ২০২৩ সালের আগস্ট মাস শেষে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ কোটি ৫০ লাখ ৪১ হাজার জন। গ্রাহক বেশি হওয়ার কারণ অনেক গ্রাহক একাধিক সিম ব্যবহার করছে। লেনদেনের সুবিধার্থে একাধিক সিমে হিসাব খুলছে।

নিবন্ধিত এসব হিসাবের মধ্যে পুরুষ গ্রাহক ১২ কোটি ৪২ লাখ ৯১ হাজার ৭ ও নারী ৯ কোটি ১ লাখ ৬৭ হাজার ৭১৫ জন। আলোচিত সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ২৯ হাজার ৭১৬টি।

নিয়ম অনুযায়ী টানা তিন মাস একবারও লেনদেন ক‌রে‌নি এমন হিসাবকে নিষ্ক্রিয় বলে গণ্য করে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো। সেই হিসাবে সেপ্টেম্বর শেষে সক্রিয় গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৩৮ লাখ ৪৬ হাজার।

এখন গ্রাহক ঘরে বসেই ডিজিটাল কেওয়াইসি (গ্রাহক-সম্পর্কিত তথ্য) ফরম পূরণ করে সহজে ঝামেলা ছাড়াই এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে হিসাব খুলার সুযোগ পাচ্ছেন।

২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১১ সালের ৩১ মার্চ বেসরকারি খাতের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালুর মধ্য দিয়ে দেশে মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসেসের যাত্রা শুরু হয়। এরপর ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে বিকাশ। বর্তমানে দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার সিংহভাগই বিকাশের দখলে। এরপরই রয়েছে ‘নগদ’-এর অবস্থান।

বিভিন্ন সেবা

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে শুধু লেনদেন নয়, যুক্ত হচ্ছে অনেক নতুন নতুন সেবাও। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল অর্থাৎ সেবা মূল্য পরিশোধ, কেনাকাটার বিল পরিশোধ, মোবাইল রিচার্জ, বেতন-ভাতা প্রদান, বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো অর্থাৎ রেমিট্যান্স প্রেরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সেবা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া এখন গাড়িচালক, নিরাপত্তাকর্মী ও গৃহপরিচারিকাদের বেতনও এখন দেওয়া হচ্ছে বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো সেবা মাধ্যম ব্যবহার করে। পোশাকখাতসহ শ্রমজীবীরা এমএফএস সেবার মাধ্যমে গ্রামে টাকা পাঠাচ্ছেন। ফলে দিনে দিনে নগদ টাকার লেনদেন কমে আসছে। এই প্রবণতা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সেপ্টেম্বর মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ঢুকেছে ৩৪ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা আর উত্তোলন হয়েছে ২৯ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা। এসময় ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি হিসাবে ৩০ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এসময় প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ৫২০ কোটি টাকা।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা বাবদ বিতরণ হয় ২ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। এছাড়া বিভিন্ন পরিষেবার দুই হাজার ৯১৬ কোটি টাকার বিল পরিশোধ হয় এবং কেনাকাটায় ৪ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়।




এনআইডি ছাড়া এমএফএস হিসাব খোলার সুযোগ পাবে কিশোর-কিশোরীরা

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ছাড়া মোবাইলে আর্থিক সেবাদানকারী (এমএফএস) বা মোবাইল ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবেন ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সের কিশোর-কিশোরীরা। ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তোলা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রসারে এমন সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেয়।

এমএফএস পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার জন্য ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রসারে ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী নবীনদের এমএফএস অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দিয়ে নতুন নীতিমালা জারি করা হয়েছে।

হিসাব খোলার যোগ্যতা

১৪-১৮ বছর বয়সী নবীনরা এমএফএস হিসাব খুলতে পারবে। তবে, ১৪-১৮ বছর বয়সী হিসাব খুলতে আগ্রহী ব্যক্তি এবং অভিভাবক উভয়কেই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।

হিসাব খোলার প্রক্রিয়া ও পরিচালন পদ্ধতি

> ১৪-১৮ বছর বয়সী নবীনদের এমএফএস হিসাব খোলার সময় অভিভাবকের যথাক্রমে জন্মসনদ এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর এন্ট্রি করতে হবে। হিসাব খোলার জন্য অভিভাবকের এমএফএস হিসাব বাধ্যতামূলকভাবে লিংকড এমএফএস অ্যাকাউন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হবে। তাই পিতা, মাতা, অভিভাবকের এমএফএস হিসাবের সত্যতা নিশ্চিত করে এ হিসাব খুলতে হবে।

> পিতা-মাতা বা আইনগত অভিভাবকের সম্মতি সাপেক্ষে এমএফএস হিসাব খুলতে হবে। হিসাব খোলার ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি গ্রহণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের মোবাইলে ওটিপি পাঠিয়ে সম্মতি নিতে হবে। এছাড়া এসব অ্যাকাউন্টসে লেনদেনের ক্ষেত্রে হিসাবধারীর মোবাইল নম্বরে মেসেজ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে লেনদেনের তথ্য অভিভাবককে জানাতে হবে এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

অর্থ জমা পদ্ধতি

১৪-১৮ বছর বয়সী নবীনদের এমএফএস হিসাবে শুধুমাত্র অভিভাবকের লিংকড এমএফএস হিসাব, ব্যাংক হিসাব, কার্ড বা ই-ওয়ালেট হতে অর্থ জমা করা যাবে। তবে হিসাবগুলোতে এজেন্ট পয়েন্ট অথবা অন্য কোনও এমএফএস হিসাব, ব্যাংক হিসাব, কার্ড বা ই-ওয়ালেট থেকে অ্যাড মানি করা যাবে না।

অনুমোদিত সেবা

ক্যাশ-ইন বা অ্যাড মানি, ক্যাশ-আউট, পিটুপি, মোবাইল রিচার্জ, ইউটিলিটি বিল পেমেন্ট, এডুকেশন ফি, মার্চেন্ট পেমেন্ট করতে পারবেন কিশোর-কিশোরীরা।

লেনদেনের সীমা

১৪-১৮ বছর বয়সী নবীনরা দৈনিক সর্বোচ্চ ৫টা লেনদেনের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা এবং মাসে ১০ বার লেনদেন করা যাবে (সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা)।

ক্যাশ আউট করা যাবে দৈনিক সর্বোচ্চ ৫টা লেনদেনের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা এবং মাসে ১০ বার লেনদেন করা যাবে (সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা)।

ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির (পিটুপি) হিসাবে দৈনিক সর্বোচ্চ ৫টা লেনদেনের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা এবং মাসে ১০ বার লেনদেন করা যাবে (সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা)।

পরিষেবা ও এডুকেশন ফি দেওয়া যাবে দৈনিক সর্বোচ্চ ৩টা লেনদেনের মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা এবং মাসে ১০ বার লেনদেন করা যাবে (সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা)। এছাড়া এসব হিসাবে স্থিতি হবে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা।

১৪-১৮ বছর বয়সী নবীনদের হিসাব নিয়মিত মনিটরিংসহ প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।




মোবাইল ওয়ালেটে আসবে রেমিট্যান্স

এখন থেকে ব্যাংক ও মোবাইলে আর্থিক সেবাদানকারী (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারের (পিএসপি) মাধ্যমে দেশে সরাসরি রেমিট্যান্স পাঠাতে পারবেন প্রবাসীরা।

সনদপ্রাপ্ত পিএসপির আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশ থেকে রপ্তানি আয় সংগ্রহ করতে পারবে। এক্ষেত্রে ব্যাংক ও এমএফএসের মাধ্যমে পাঠানো রেমিট্যান্সের সঙ্গে যে আড়াই শতাংশ প্রণোদনা ছিল, সেই সুবিধা এখানেও কার্যকর হবে। তবে, এসব প্রতিষ্ঠানের সরাসরি আউটলেট না থাকায় তারা অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিবেন। আর এই সেবার জন্য কোনো বাড়তি চার্জ যুক্ত হবে না।

মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়।

এতে বলা হয়েছে, এতদিন ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো রেমিট্যান্স আনতে পারত। নতুন নির্দেশনার পর থেকে তৃতীয় কোনো মাত্রা যোগ হলো।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র ও বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগের পরিচালক মো. সারওয়ার হোসেন বলেন, ‘ব্যাংক ও এমএফএসের পাশাপাশি রেমিট্যান্স সংগ্রহ করতে নতুন মাত্রা হিসাবে যোগ হলো পিএসপি। এতে রেমিট্যান্স সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান বাড়ায় সেবার পরিধি বৃদ্ধি পেল।’




ডিজিটাল ব্যাংকের প্রস্তুতি, নগদ ফাইন্যান্সের লাইসেন্স প্রত্যাহার

ডিজিটাল ব্যাংক গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান নগদ। এ লক্ষ্যে নগদ ফাইন্যান্স পিএলসির লাইসেন্স প্রত্যাহার করে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২৯ আগস্টা) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ।

গত ১০ জুলাই ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) লাইসেন্স বাতিল চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি। পরে ২২ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভায় নগদ ফাইন্যান্সের লাইসেন্স প্রত্যহারের আবেদেন গ্রহণ করা হয়।

সম্প্রতি নগদের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে নগদ ফাইন্যান্স পিএলসিকে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স দেওয়া হয়। তবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করার আগেই নগদ ফাইন্যান্স পিএলসি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সমর্পণের আবেদন করে চিঠি পাঠায়।

অনুমোদন দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছিল, আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ১৯৯৩ এর ৪(১) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতা বলে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘নগদ ফাইন্যান্স পিএলসি’ কে বাংলাদেশে অর্থায়ন ব্যবসা পরিচালনার জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স দিয়েছে।

জানা যায়, নগদের এমএফএস সেবা এই প্রতিষ্ঠানের আওতায় পরিচালনার উদ্দেশ্যেই লাইসেন্সটি নেওয়া হয়েছিল। তবে এখন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সমর্পণ করেছে। কারণ ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স নিতে চাচ্ছে নগদ।




ক্যাশলেস লেনদেনে বছরে ১০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়: নগদ

ছাপা টাকা ব্যবহারের বদলে ‘ক্যাশলেস’ লেনদেন নিশ্চিত করতে পারলে প্রতি বছর অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন ডাক বিভাগের মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) নগদের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক।

মঙ্গলবার (৬ জুন) জাতীয় সংসদের শপথগ্রহণ কক্ষে সংসদ সদস্যদের জন্য আয়োজিত ‘টুওয়ার্ডস ক্যাশলেস ডিজিটাল ট্রানজেকশন সিস্টেম’ শীর্ষক আলোচনা অনু্ষ্ঠানে এই তথ্য তুলে ধরেন তানভীর এ মিশুক।

এ বিষয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নগদ জানায়, এই আলোচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরেন তানভীর।

তিনি বলেন, প্রতি বছর কেবল টাকা ছাপতেই সরকারের ৫০০ কোটি টাকার বেশি খরচ হয়। তাছাড়া এই টাকার ব্যবস্থাপনা, সরবরাহ, লেনদেনের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা এবং তার ফলে যে সম্ভাবনার অপচয় হয় সেটির মূল্য অন্তত ৯ হাজার কোটি টাকা।

স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে ডিজিটাল বা স্মার্ট লেনদেনের বিকল্প নেই উল্লেখ করে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে নগদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, আপনারা যদি আমাকে দেশের বিশেষ কোনো এলাকা বা অঞ্চলকে দেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেন, তাহলে আমরা নগদ থেকে ওই অঞ্চলকে ক্যাশলেস লেনদেনের মডেল হিসেবে তৈরি করে দেব।

শুধু ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন’ গ্রহণ করায় গত ১৪ বছরে বাংলাদেশের জিডিপি তিন গুণ হয়েছে জানিয়ে তানভীর বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উন্নত দেশ হওয়ার যে ভিশন এখন আমাদের সামনে আছে, সে অনুসারে এগোতে পারলে অল্প দিনেই আমাদের অর্থনীতি ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে সময় লাগবে না।

২০১৯ সালে নগদের যাত্রা শুরুর পর চার বছরে প্রতিষ্ঠানটি একের পর এক সরকারি ভাতা বিতরণ পদ্ধতিকে ডিজিটালাইজড করায় সরকারের খরচ কমেছে, সময় বেঁচেছে, স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং যার ভাতা তার হাতে যাওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত হয়েছে বলেও দাবি করেন তানভীর।

সরকারের ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে খুবই সময়োপযোগী মন্তব্য করে নগদের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা গেলে ব্যাংকের সব সুবিধা চলে আসবে হাতের মুঠোয়। কৃষকদের সার কেনার জন্য দশ হাজার টাকার জন্য তখন আর দাদন নিতে হবে না। তারা মুঠোফোন থেকেই ঋণ নিতে পারবে এবং ফসল বিক্রি করে ওই মোবাইলের মাধ্যমেই সেই ঋণ পরিশোধ করতে পারবে।

একইভাবে, আমদানি-রপ্তানির লেনদেনের মতো বড় বড় কাজও তখন অনায়াসেই দিন বা রাতের যেকোনো সময় মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই হবে বলে জানান তিনি।

সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব কে এম আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ। অনু্ষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কি-এক্সপার্ট ড. মোয়াজ্জেম গোলাম হোসেন।