ব্যবসায়ীদের শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এফবিসিসিআইকে দেখতে চাই : বাণিজ্যমন্ত্রী

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিকে (এফবিসিসিআই) দেশের ব্যবসায়ী সমাজের প্রকৃত প্রতিনিধিত্বকারী, কার্যকর ও অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ব্যবসায়ীদের শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এফবিসিসিআইকে দেখতে চাই।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা এবং সরকারের কাছে তাদের দাবি-দাওয়া কার্যকরভাবে উপস্থাপনে এফবিসিসিআই-এর ভূমিকা আরও শক্তিশালী ও সক্রিয় হতে হবে। প্রয়োজনে ইতিবাচক ও গঠনমূলক চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে নীতিগত সহায়তা আদায়ে সংগঠনটিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। তবে এফবিসিসিআইকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, আমরা এমন একটি এফবিসিসিআই দেখতে চাই, যা প্রকৃত অর্থেই সকল ব্যবসায়ীর সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এফবিসিসিআই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে নীতিনির্ধারণে বাস্তবভিত্তিক মতামত দেবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সংগঠনটিকে গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে যোগ্য, দূরদর্শী ও উদ্যমী নেতৃত্ব অপরিহার্য। এফবিসিসিআই-এর নেতৃত্ব ব্যবসায়ীদের মধ্য থেকেই আসা উচিত এবং সংগঠনটি যেন ব্যবসায়ী সমাজের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে—তা নিশ্চিত করা হবে।

ব্যবসায়ী নেতাদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নতুন আমদানি নীতি (ইমপোর্ট পলিসি) চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগির তা উন্মুক্ত করা হবে। পাশাপাশি বস্ত্র ও পাট, শিল্প এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সেবা সহজীকরণে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হবে।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) ও এফবিসিসিআই-এর প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান বক্তব্য দেন।

এছাড়া ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিজিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি এস এম ফজলুল হক, এফবিসিসিআই-এর সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন, বিকেএমইএ-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, এফবিসিসিআই-এর সাবেক পরিচালক নাসরিন ফাতেমা আউয়াল, আব্দুল হক, বাংলাদেশ সিএনজি মেশিনারিজ ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাকির হোসেন নয়ন, বাংলাদেশ সুপার মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, এফবিসিসিআই-এর সাবেক পরিচালক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী খোকন, রাঙ্গামাটি চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি বেলায়েত হোসেন ভূঁইয়া, এফবিসিসিআই-এর সাবেক সহ-সভাপতি নিজাম উদ্দিন রাজেশ এবং সাবেক পরিচালক সৈয়দ বখতিয়ার প্রমুখ।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী নেতারা এফবিসিসিআইকে আরও কার্যকর ও ব্যবসাবান্ধব সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন। তারা নির্বাচন পূর্ববর্তীতে ব্যবসায়ী সমাজ থেকে একজনকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাবও উত্থাপন করেন।




খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের শোক

তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান। তারা খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত চেয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধারণ করতে বলেছেন।

এফবিসিসিআইয়ের শোক

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক শোক বার্তায় জানিয়েছে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বেগম খালেদা জিয়ার অবদান ও দীর্ঘ সংগ্রাম জাতি কৃতজ্ঞতচিত্তে স্মরণ করবে। তার মৃত্যুতে জাতি একজন সৎ ও দেশপ্রেমিক নেত্রীকে হারালো। তার দীর্ঘ সংগ্রাম ও আপসহীন নেতৃত্বে জাতি সবসময় মুক্তির অনুপ্রেরণা পেয়েছে। ব্যবসায়ী সমাজ তাকে বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে পাশে পেয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, এফবিসিসিআই বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করছে। মহান আল্লাহ তাআলা তাকে বেহেশত নসীব করুন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধারণ করার শক্তি ও সাহস দান করুন।

বিজিএমইএর শোক

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) শোকবার্তায় বলা হয়েছে, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথিকৃৎ, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় আপসহীন নেত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছে। বিজিএমইএ পরিবার তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছে বিজিএমইএ।

বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এক বিবৃতিতে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরা সমগ্র পোশাকশিল্প পরিবার গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। দেশ একজন অভিভাবক ও কালজয়ী দেশপ্রেমিক নেতাকে হারালো। জাতীয় জীবনে এই অপূরণীয় শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। বিশেষ করে, তৈরি পোশাকশিল্পের বিশ্বব্যাপী প্রসারে তার আন্তরিকতা এবং সময়োপযোগী ও সাহসী সিদ্ধান্তগুলো আমাদের এই শিল্পের অগ্রযাত্রায় চিরকাল মাইলফলক হয়ে থাকবে। দেশের শিল্প ও বাণিজ্যের ইতিহাসে তার অর্থনৈতিক দর্শন ও কর্মময় জীবন অম্লান হয়ে থাকবে।

বিজিএমইএ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে যে, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে ও আধুনিক শিল্পায়নের পথ সুগম করতে বেগম খালেদা জিয়া অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তার সরকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই বাংলাদেশে মুক্তবাজার অর্থনীতির পূর্ণাঙ্গ পথচলা শুরু হয়, যা বেসরকারি খাতকে বিকাশের অবারিত সুযোগ করে দেয়।

বিজিএমইএর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পের বিশ্বব্যাপী প্রসারে বেগম খালেদা জিয়া বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন পোশাক খাতের জন্য সহায়ক শুল্ক নীতি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদানের ফলেই এ খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া নারী শিক্ষার প্রসার ও অবৈতনিক শিক্ষা চালুর মাধ্যমে তিনি দেশের এক বিশাল নারী জনগোষ্ঠীকে দক্ষ শ্রমশক্তিতে রূপান্তরিত করার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, যা পোশাক শিল্পে নারী কর্মীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে এবং নারীর ক্ষমতায়নে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।

বিজিএমইএ মনে করে, বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, গণতন্ত্র রক্ষা ও সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান কোনোদিন বিস্মৃত হওয়ার নয়। তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং দেশপ্রেমের যে দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। দেশ ও জাতির কল্যাণে তার আমৃত্যু সংগ্রাম এবং অসামান্য ত্যাগের জন্য বাংলাদেশ ও জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে চিরকাল তাকে স্মরণ করবে।

বিটিএমএর শোক

খালেদা জিয়ার মৃত্যতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে টেক্সটাইল মিলের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। সংগঠনটির সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এক শোক বার্তায় বলেন, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিটিএমএর পরিচালনা পর্ষদ এবং সব সদস্য মিলের পক্ষ থেকে গভীর শোক জানাচ্ছি। আমরা মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন। আমিন।

ঢাকা চেম্বারের শোক

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা গভীর শোক প্রকাশ করে তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

ডিসিসিআইয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়া, দেশের অন্যতম প্রবীণ ও প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ এবং বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। পাশপাশি মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করেন, সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের আর্থ-সামজিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি আজীবন নিরলসভাবে কাজ করে গিয়েছেন, যা জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

এতে বলা হয়, পরম করুণমায়ের নিকট তার রুহের মাগফেরাত কামনা ও জান্নাতের মর্যাদপূর্ণ স্থানে আসীনের প্রার্থনা করছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।

ডিএসইর শোক

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

তারা খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ, আত্মীয়স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোকাহত সবাইকে এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণের শক্তি দান করুন।

শোকবার্তায় ডিএসই’র চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ছিল সততা, নীতি, দায়িত্ববোধ ও জনকল্যাণের প্রতি অটল অঙ্গীকার। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় তিনি আজীবন লড়াই করে গেছেন এবং নীরব দৃঢ়তার সঙ্গে দেশের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, পাশাপাশি জাতীয় অর্থনৈতিক কাঠামো সুদৃঢ়করণে তিনি অনন্য অবদান রেখেছেন। তার ব্যক্তিত্বের সরলতা, মানবিকতা, সহনশীলতা ও দূরদৃষ্টি আমাদের জাতীয় জীবনে এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে৷

ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার শোকবার্তায় বলেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকালে তিনি সর্বদা চেষ্টা করেছেন দেশের ঐক্য, সম্প্রীতি ও অগ্রগতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে। রাজনীতির অস্থির সময়ে তার প্রজ্ঞাময় নেতৃত্ব নানা সংকট উত্তরণের পথ দেখিয়েছে। দেশ ও জনগণের প্রতি তার নিবেদিতপ্রাণ সেবার কারণে তিনি মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছেন এবং থাকবেন।
মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের শোক

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে মোবাইল গ্রাহকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপারসন আপসহীন নেত্রী জাতীয় একজন প্রবীণ নেত্রী ও রাজনৈতিক জীবনের অমোঘ ছাপ রেখে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি।

 

সংগঠনটির পক্ষে বলা হয়, আমরা মরহুমার জীবনের কর্ম ও অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তিনি একজন দৃঢ় নেতৃত্ব, গণতন্ত্রে অটল বিশ্বাসী ও দেশের উন্নয়নে নিবেদিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তার নেতৃত্ব ও জনগণের জন্য নিবেদিত সময়ের স্মৃতি সার্বক্ষণিক আমাদের মনে থেকে যাবে।

এতে আরও বলা হয়, শোকসন্তপ্ত পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের এই কষ্ট সহ্য করার শক্তি দান করুন। বাংলাদেশ আজ এক মহৎ নারী নেত্রীকে হারালো।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজ যৌথভাবে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তার অবদান ও সংগ্রাম দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় থাকবে।

বেসিসের শোক

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি, আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক এবং বাংলার মাটি ও মানুষের আকাঙ্ক্ষার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী সরকার প্রধান। সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, নারী শিক্ষার প্রসার ও নারীর ক্ষমতায়নে তার ভূমিকা দেশের ইতিহাসে অনন্য।

এ উপলক্ষে বেসিসের প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ্ খান বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে জাতি আজ এক সাহসী অভিভাবককে হারালো। দুঃসময়ে যিনি আপসহীনভাবে গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, মানুষের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে যিনি কখনো মাথা নত করেন নাই। তার নেতৃত্ব, ত্যাগ ও সংগ্রাম শুধু রাজনৈতিক ইতিহাস নয়—কোটি মানুষের হৃদয়ে গেঁথে থাকবে। তার সাহসী ও আপসহীন নেতৃত্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। এই শূন্যতা কখনোই পূরণ হবার নয়।

বেসিসের পক্ষ থেকে মরহুমার রূহের মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।




আবদুল হককে এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ঘোষণা

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সাবেক পরিচালক আবদুল হককে সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শাহবাগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামের ব্যানারে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন- সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাশরুর রিয়াজ, এফবিসিসিআই’র সাবেক সহসভাপতি আবুল কাসেম হায়দার প্রমুখ।

আবদুল হক রিকন্ডিশন্ড গাড়ি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকেলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বারভিডা) সভাপতি।

অনুষ্ঠানে আবদুল হক বলেন, বাংলাদেশ আজ এক সন্ধিক্ষণ অতিক্রম করছে। বিশ্ব বাণিজ্য যুদ্ধ ও আমাদের জাতীয় প্রেক্ষাপট মিলিয়ে আমরা সত্যিকারের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এমতাবস্থায়, গত এক বছরে সরকারি নীতিমালা প্রণয়ন বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের উপস্থিতি প্রায় অনুপস্থিত। অথচ দেশের সর্বোচ্চ বাণিজ্য সংগঠন হিসেবে এফবিসিসিআই এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি সুযোগ পেলে এ সংগঠন বিশ্বমানের নেয়া চেষ্টা করবো।

তিনি বলেন, গত এক বছর প্রশাসক দিয়ে এফবিসিআইয়ে শুধুমাত্র রুটিন কাজ সম্পন্ন হয়েছে, সরকারের নীতিমালা প্রণয়ন কিংবা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় এফবিসিসিআই’র অনুপস্থিতি দেশের ব্যবসা বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে স্থবির করে ফেলেছে। এই স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে হলে দ্রুত সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করে একটি নির্বাচিত পরিচালক পর্ষদের হাতে এফবিসিসিআই’র নেতৃত্ব হস্তান্তর করা অত্যন্ত জরুরি।

আবদুল হক বলেন, দ্রুত এফবিসিসিআই নির্বাচন সম্পন্ন করে একটি নির্বাচিত পরিচালক পর্ষদ গঠন করতে হবে এবং তাদের নেতৃত্বে কার্যকর এফবিসিসিআই প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একজন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে এই কঠিন কাজ সুচারুরূপে সম্পন্ন করার জন্য আপনাদের সক্রিয় সহযোগিতা চাই।




এফবিসিসিআই নির্বাচন ৪৫ দিন পেছাল

দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-এর ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন ৪৫ দিন পেছানো হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বুধবার (২ জুলাই) সংগঠনটির মহাসচিব মো. আলমগীর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এফবিসিসিআই নির্বাচন বোর্ড পুনঃতফসিল ঘোষণা করবে এবং নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করবে। নির্বাচন বোর্ড জানিয়েছে, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিগগিরই নতুন সময়সূচি প্রকাশ করা হবে।

এর আগে, গত ১৮ জুন পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে এফবিসিসিআই নির্বাচন বোর্ড। তখন নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়েছিল ৭ সেপ্টেম্বর। তবে সময়সীমা বৃদ্ধির ফলে সেই তারিখ পরিবর্তিত হবে।

এফবিসিসিআই নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন চেম্বার, অ্যাসোসিয়েশন ও বাণিজ্য সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে থাকেন। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দুই বছরের জন্য সংগঠনটির নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হয়।

 




এফবিসিআইয়ে প্রশাসক নিয়োগ

বাণিজ্য সংগঠন আইন ২০২২ এর ১৭ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সদস্য (অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব) মো. হাফিজুর রহমানকে বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মহাপরিচালক বাণিজ্য সংগঠন) ড.নাজনীন কাউসার চৌধুরি স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, নিয়োগকৃত প্রশাসক ১২০ দিনের মধ্য একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচিত কমিটির নিকাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবে।

এদিকে জানা গেছে, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মাহবুবুল আলম পদত্যাগ করেছেন। ই-মেইলের মাধ্যমে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠনের ডিটিও বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।




পদত্যাগ করেছেন এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম

এবার পদত্যাগ করেছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মাহবুবুল আলম। ই-মেইলের মাধ্যমে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠনের ডিটিও বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) সং‌শ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্ট‌কে এ তথ‌্য নি‌শ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, মাহবুবুল আলম সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখান থেকেই তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।

এদিকে বাণিজ্য সংগঠন আইন ২০২২ এর ১৭ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সদস্য (অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব) মো. হাফিজুর রহমানকে বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মহাপরিচালক বাণিজ্য সংগঠন) ড.নাজনীন কাউসার চৌধুরি স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

২০২৩ সালের ২ আগস্ট ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) পরিচালনা পর্ষদের ২০২৩-২৫ মেয়াদে সভাপতি নির্বাচিত হন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিনিধি মাহবুবুল আলম।

এ ছাড়া সেদিন জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন মো. আমিন হেলালী। তিনি বাংলাদেশ পাঠ্যপ্রস্তুক মুদ্রক ও বিপণন সমিতির প্রতিনিধি। রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই ভবনে নির্বাচিত ও মনোনীত পরিচালকদের ভোটে তারা নির্বাচিত হন।




ব্যবসার নামে অর্থ লুটকারী‌দের কঠোর শাস্তি চান শীর্ষ ব্যবসায়ীরা

ব্যবসার নামে অর্থ লুটপাটকারীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে আলোচনা শেষে এ কথা জানান তারা।

 

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, যারা অন্যায়ভাবে সম্পদ লুট করেছে, অন্যায়ভাবে সম্পদ অর্জন করেছে এবং যারা ব্যাংকগুলো লুট করেছে তাদের বিরুদ্ধ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা গভর্নরকে বলে এসেছি। যেসব ব্যবসায়ী লুটপাটে জড়িয়েছে তাদের বিরুদ্ধে যেকোনো ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে আমরা (ব্যবসায়ীরা) আছি।

এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, আমরা দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে, লুটপাট-পাচারের বিরুদ্ধে। পাচারকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ঋণের কিস্তির সময় বাড়ানোর কথা বলেছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটা না করা হলে অনেকেই খেলাপি হয়ে পড়বেন।

 

তিনি বলেন, ডলারের উচ্চ মূল্যের কারণে লোকসানে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। এটা নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা গভর্নরকে বলেছি। অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বলা হয়েছে আমাদের পক্ষ থেকে। অর্থনীতি ঠিক রাখার জন্য কাজ করবে ব্যবসায়ীরা। সরকারের সব ভালো পদক্ষেপ এবং দেশের উন্নয়নে ব্যবসায়ীরা পাশে থাকবে।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ইডিএফের ফান্ড কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে আমদানি-রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। তিন মাস কিস্তি পরিশোধ সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ছয় ব্যাংকের কার্যক্রম সীমিত করায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ বিষয়ে বিবেচনা করার কথা বলেছি।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ব্যাংকিং পলিসি সবগুলো সঠিক ছিল না, সেগুলো সংশোধনের কথা বলা হয়েছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করার কথা বলেছি। গভর্নর আমাদের বলেছেন আগামী ৬-৭ মাসের মধ্যে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে। সুদের হার নিয়ে কথা হয়েছে। ইডিএফ অনিয়ম, যারা দুর্বৃত্তায়ন করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে থাকবে ব্যবসায়ীরা।




সংবাদপত্রকে জনগুরুত্বপূর্ণ শিল্প ঘোষণার দাবি এফবিসিসিআইয়ের

সংবাদপত্র শিল্পকে জনগুরুত্বপূর্ণ শিল্প হিসেবে ঘোষণা এবং সংবাদপত্র, টেলিভিশন, অনলাইনসহ সব গণমাধ্যমের ওপর আরোপিত কর সহনীয় করার আহ্বান জানিয়েছে এফবিসিসিআইয়ের প্রেস ও মিডিয়া বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটি।

মঙ্গলবার (২১ মে ) মতিঝিলে অবস্থিত এফবিসিসিআই আইকনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির চেয়ারম্যান এবং এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক এম. শোয়েব চৌধুরী। ডিরেক্টর ইন-চার্জ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক মো. রাকিবুল আলম (দিপু)।

এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, স্বাধিকার আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। আমাদের ব্যবসা, বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে দেশের গণমাধ্যম। আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রেস ও মিডিয়াকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এজন্য সংবাদপত্র শিল্পের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি গণমাধ্যম কর্মীদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করতে গণমাধ্যম মালিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।

সংবাদ মাধ্যমের চ্যালেঞ্জসমূহ চিহ্নিতকরণ এবং সমাধানে এই শিল্পের সব অংশীজনকে স্ট্যান্ডিং কমিটিতে সম্পৃক্ত করে সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন তৈরির তাগিদ দেন এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী।

স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান এম. শোয়েব চৌধুরী বলেন, অন্যান্য শিল্পের মতো সংবাদ মাধ্যমকেও ব্যবসা করে টিকে থাকতে হয়। কাজেই অন্যান্য খাতের ন্যায় সংবাদ মাধ্যমকেও কিছু সুযোগ-সুবিধা দেওয়া উচিত। কাগজ, কালি, ছাপার যন্ত্রাংশের ওপর আরোপিত কর কমিয়ে আনা দরকার। টেলিভিশনের ব্যান্ডউইথের ওপরও বিদ্যমান কর কমানো প্রয়োজন। সম্পূরক বাজেটে প্রেস ও মিডিয়ার জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখাসহ এই শিল্পকে জনগুরুত্বপূর্ণ শিল্প হিসেবে ঘোষণার আহ্বান জানাই।

সংবাদ মাধ্যমের সংকট দূর করতে কমিটির উদ্যোগে একটি কৌশলপত্র তৈরি করে তথ্যমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারক এবং অংশীজনদের নিয়ে শিগগিরই সেমিনার আয়োজন করা হবে বলে জানান কমিটির ডিরেক্টর ইন-চার্জ মো. রাকিবুল আলম (দিপু)। এজন্য কমিটির সদস্যদের সুনির্দিষ্ট মতামত লিখিত আকারে জমা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের জন্য কর সহনীয় করা, সহজ শর্তে ঋণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, গণমাধ্যমকর্মীদের বেতন-বোনাস ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত, এ খাতে ব্যবহৃত উপকরণ ও যন্ত্রাংশ প্রাপ্তি সহজীকরণ, ক্রোড়পত্র ও বিজ্ঞাপন প্রাপ্তিতে পত্রিকাসমূহের সম-অধিকার নিশ্চিতকরণ, সরকারের কাছে বিজ্ঞাপন বাবদ প্রাপ্ত বিল দ্রুত পরিশোধ করাসহ বেশকিছু প্রস্তাব তুলে ধরেন কমিটির সদস্যরা। সেই সঙ্গে বেসরকারি খাতের সাথে সংবাদ মাধ্যমের সম্পৃক্ততা বাড়াতে এফবিসিসিআইয়ের উদ্যোগে প্রতি ৩ মাস পর পর সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের মালিক, সম্পাদকসহ, ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত সৌজন্য সভা আয়োজনের আহ্বান জানান তারা।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক হাফেজ হাজী হারুন-অর-রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী, এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের বোর্ড অব গভর্নেসের (পিডিবিএফ) সদস্য বোরহান উদ্দিন আহমেদ, দ্য ব্লেজার বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রাজিব ইউ. এ. চপল, এফবিসিসিআইয়ের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান জাফর ইকবাল এনডিসি, কমিটির কো-চেয়ারম্যান আক্কাস মাহমুদ, মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু, তাওহিদা সুলতানা, এজাজ মোহাম্মদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




ফ্রান্সের সঙ্গে বাণিজ্য জোরদারে আগ্রহী এফবিসিসিআই

ফ্রান্সের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার ও দক্ষতা উন্নয়নে দেশটির সহযোগিতা চায় দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। বাণিজ্য জোরদারে ফ্রান্সের প্রধান বাণিজ্য সংগঠন মেদেফের সঙ্গে জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল গঠনেও আগ্রহের কথা জানিয়েছে এফবিসিসিআই।

রোববার (২৮ এপ্রিল) ঢাকায় অবস্থিত ফ্রান্স দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এই আগ্রহের কথা জানান এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী। ফ্রান্স দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগের প্রধান ঝুলিয়ে ডিউর প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

বৈঠকে মো. আমিন হেলালী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। বাংলাদেশের পঞ্চম বৃহত্তম রপ্তানি পণ্যের বাজার হিসেবে ধরা হয় ফ্রান্সকে। দেশটিতে তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার, চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্যসহ বেশ কয়েকটি পণ্য রপ্তানি করছে বাংলাদেশ। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য জোরদারে বাংলাদেশ রপ্তানি পণ্য বৈচিত্র্যকরণে কাজ করছে।

দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগের প্রধান ঝুলিয়ে ডিউর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক মজবুত করতে বিজনেস টু বিজনেস বৈঠকের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক তাবারাকুল তোসাদ্দেক হোসেন খান (টিটো), এফবিসিসিআই মহাসচিব মো. আলমগীর, ঢাকায় ফ্রান্স দূতাবাসের ইকোনমিক অ্যাটাচে ইয়ান রিগেল উপস্থিত ছিলেন।




পারস্পরিক সহযোগিতায় অর্থনৈতিক উন্নয়নে আগ্রহী বাংলাদেশ-ঘানা

অংশীদারিত্ব-পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিজেদের অর্থনীতিকে আরও সুদৃঢ় এবং মজবুত করতে চায় ঘানা ও বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য আরো বাড়াতে এ দেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী আফ্রিকার এই দেশটি।

মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) বিকেলে এফবিসিসিআই এর মতিঝিল কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআই’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী। তিনি বলেন, ঘানাসহ আফ্রিকার দেশগুলো প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। এছাড়া তাদের বিশাল ভূখণ্ড রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের রয়েছে বিপুল জনসম্পদ। অংশীদারিত্ব এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা সেখানে তুলাসহ কৃষি পণ্য উৎপাদন করতে পারি।

বাংলাদেশের বস্ত্র, ওষুধ, চামড়া, পাট, সিরামিকসহ ভোগ্যপণ্যের উৎপাদন সক্ষমতার চিত্র তুলে ধরে আমিন হেলালী বলেন, গুণগত দিক থেকে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য বিশ্ব মানের। বাংলাদেশে সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগ আফ্রিকান ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানান তিনি। এ দেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিটুবি সভা এবং সম্পর্ক জোরদারে এফবিসিসিআই সহযোগিতা করবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

এ সময় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের প্রধান এবং ঘানা জিইটি প্রোগ্রামের প্রধান ইউজেন টি স্যানমর্তে বলেন, ঘানা বিনিয়োগের জন্য অন্যতম প্রধান একটি গন্তব্য। পণ্য উৎপাদন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য আমাদের দরজা সব সময় খোলা।

এই বৈঠক অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ ও ঘানার অংশীদারিত্বকে গতিশীল করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বৈঠক উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই পরিচালক খন্দকার রুহুল আমিন, সৈয়দ মো. বখতিয়ার, এফবিসিসিআই’র মহাসচিব মো. আলমগীর, সাধারণ পরিষদের সদস্য, ব্যবসায়ী নেতা, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা প্রমুখ।




নারীকে বাদ দিয়ে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়: এফবিসিসিআই সভাপতি

অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য হ্রাস ও উদ্যোক্তা তৈরিতে নারীদের কারিগরি, প্রযুক্তিগত এবং প্রশাসনিক দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে দীর্ঘ মেয়াদে নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে রাজধানীর পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকার ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তারা।

শনিবার (৯ মার্চ) এফবিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সাপোর্টিভ ইকোসিস্টেম ফর উইমেন অ্যান্ট্রাপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড প্রফেশনালস শীর্ষক এক সেমিনারে ব্যবসায়ী নেতারা এ কথা বলেন।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৪ উদ্যাপন উপলক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করে দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন এফবিসিসিআই। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সিমিন হোসেন (রিমি)।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নারীদের দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে গতানুগতিক কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এর আগে স্বাগত বক্তব্যে এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, একজন নারীকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবারের উৎসাহ ও সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পুরুষদের অনুরোধ করি আপনার কন্যা, স্ত্রী কিংবা বোনকে উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে সহযোগিতা করুন। কারণ নারীকে বাদ দিয়ে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

মাহবুবুল অলম আরও বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন এখন আর শুধু স্বপ্ন না, এটি বাস্তবে রূপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। স্মার্ট ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নারীদের আরও বেশি এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি।

সেমিনারে জানানো হয়, রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের দিক থেকে বিশ্বের ১৪৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান যথাক্রমে ১২২, ১২৬ এবং ১৩৯তম।

এমন পরিস্থিতিতে রাজনীতির পাশাপাশি অন্যান্য সূচকে নারীর অংশগ্রহণ ও উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমা মোবারেক। তিনি বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের নারী উদ্যোক্তাদের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটাতে হবে। নারীদের প্রযুক্তি, কারিগরি এবং বিশেষায়িত দক্ষতা উন্নয়নে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের প্রশিক্ষণ কাঠামোর আধুনিকায়নে কাজ করছে।

সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে এফবিসিসিআই তার সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বস্ত করেন সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিন হেলালী। দেশের নারী উদ্যোক্তা ও কর্মজীবী নারীদের নিয়ে একটি সমৃদ্ধ তথ্যভান্ডার তৈরিতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এফবিসিসিআই’র সহ-সভাপতি শমী কায়সার।

সেমিনারে অংশ নিয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, আয়ের দিক থেকে নারী পুরুষের মধ্যে এখনও একটা বড় বৈষম্য রয়ে গেছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে বিবেচনায় রেখে নারীদের দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দেন তিনি।

অংশগ্রহণমূলক অর্থনীতি বাস্তবায়নে নতুন নতুন নারী উদ্যোক্তা তৈরির ওপর জোর দিয়ে এফবিসিসিআই’র সাবেক প্রথম সহ-সভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী বলেন, উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করতে নারীদের জন্য কর সুবিধা প্রদান করা যেতে পারে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র পরিচালক, ব্যবসায়ী নেতা, নারী উদ্যোক্তারাসহ অনেকে।




নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ সৃষ্টিতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ : প্রতিমন্ত্রী

মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সিমিন হোসেন (রিমি) বলেছেন, নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ সৃষ্টিতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সেই দিন খুব বেশি দূরে নয় যখন নারীরা পুরুষদেরকে পেছনে ফেলে আরো সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

 

শনিবার (৯ মার্চ) রাজধানীর এফবিসিসিআই ভবনে একটি সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে নারীর ক্ষমতায়নের যে স্বপ্ন জাতির পিতা দেখেছিলেন, তা পূরণের জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

 

তিনি বলেন, নারীকে শুধু একজন নারী হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। নারীদের কর্মক্ষেত্রে উপযুক্ত পরিবেশ পুরুষদেরকেই তৈরি করে দিতে হবে।

 

এই সময় তিনি নারীদের প্রতি পুরুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের আহ্বান জানান।

 

কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণের কিছু সমীক্ষা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২২ সালের ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের প্রতিবেদনের মতে শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ ৪২.৭ শতাংশ। রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে শ্রমশক্তির ৬৬ শতাংশ নারী।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রমান্বয়ে বড় হচ্ছে। আমরা এলডিসি থেকে বের হয়ে মধ্যম আয়ের দেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছি, যেখানে নারীদের উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে এবং ইনফরমেশন গ্যাপ কমাতে তথ্য আপা প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে জনগোষ্ঠীর মধ্যে সরকারের বিভিন্ন সেবামূলক উদ্যোগগুলো পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। জয়িতা ফাউন্ডেশনের ক্ষমতাবৃদ্ধি প্রকল্পের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে সরকার কাজ করছে।




আগুনের কারণে রমজানে চিনির সংকট হবে না : এফবিসিসিআই

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে দেশের অন্যতম শিল্প গোষ্ঠীর একটি চিনি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মাহবুবুল আলম। এ ধরনের দুর্ঘটনা খুবই অপ্রত্যাশিত ও দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর মধ্যে চিনি অন্যতম। পবিত্র রমজান মাসে চিনির চাহিদা অনেক বেশি থাকে। তাই চিনি পরিশোধনাগারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

 

তবে এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে আসন্ন রমজানে দেশের বাজারে চিনির সংকট তৈরি হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এফবিসিসিআই সভাপতি।

 

মাহবুবুল আলম বলেন, আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপণ্যের সরবরাহ নিয়ে আমরা একটি সভার আয়োজন করেছিলাম। দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে চিনির মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন এই খাতের ব্যবসায়ীরা। তাই চিনির সংকট তৈরি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

 

এসময় রমজান মাসে সব ধরনের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে খুচরা ব্যবসায়ী, পাইকারি ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, আড়ৎদার এবং মিল মালিকদের আরো তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি।

 

গত সোমবার (৪ মার্চ) বিকেলে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকায় সুগার রিফাইনারি নামের চিনি কারখানায় আগুন লাগে।




প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চান রুগ্ন শিল্পের মালিকরা

শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক চিহ্নিত রুগ্ন শিল্পগুলোর সরকার ঘোষিত এক্সিট সুবিধা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চেয়েছেন রুগ্ন শিল্পের মালিকরা।

মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এফবিসিসিআই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত রুগ্ন শিল্পের পুনর্বাসন সংক্রান্ত এফবিসিসিআই স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রথম সভায় শিল্প মালিকরা বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর, রুগ্ন শিল্পের পুনর্বাসন ও দায় দেনা নিষ্পত্তির জন্য ২০০৯ সালে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করেছিল।

পরবর্তী সময়ে টাস্কফোর্সের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কারখানার দায় দেনা অবসায়ন প্রকল্পে সরকার সার্কুলার জারি করেছে, কিন্তু ব্যাংকের অসহযোগিতার কারণে এক্সিট নিতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন তারা। এসব শিল্প রুগ্ন হলেও, ব্যাংকগুলোর মালিকদের খেলাপি দেখিয়ে অর্থঋণ আদালতে মামলা করেছে। এতে নতুন ব্যবসায়ীক উদ্যোগও গ্রহণ করতে পারছেন না তারা। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা চাইছেন রুগ্ন শিল্পের মালিকরা।

কমিটির চেয়ারম্যান ছাদেক উল্ল্যাহ চৌধুরী জানান, রুগ্নশিল্পের পুনর্বাসনের জন্য ১৯৯৮ সালে মুন্সেফ কমিটি গঠিত হয়েছিল। রুগ্ন শিল্প পুনর্বাসনে একশ কোটি টাকার তহিবল গঠন করেছিল তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার। পরে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তবে ২০০৮ সালে এফবিসিসিআই’র উদ্যোগে নতুন করে রুগ্ন শিল্পের ডাটাবেজ তৈরি হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে রুগ্ন শিল্পের এক্সিট সু্বিধা বাস্তবায়নসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা নিয়ে সরকারের সঙ্গে বৈঠকে বসার আশ্বাস দেন এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম।

কমিটির ডিরেক্টর ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজনু বলেন, ইজ অব ডুয়িং বিজনেস এর ক্ষেত্রে ওয়ান স্টপ সার্ভিস অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু রুগ্নশিল্পগুলোর মালিকরা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সভায় এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহসভাপতি মো. আমিন হেলালী, পরিচালক আবু মোতালেব, হাফেজ হাজী হারুন অর রশিদ, কাওসার আহমেদ, সাবেক পরিচালক নাজিবুর রহমান, কমিটির কো-চেয়ারম্যান ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




কর্মসংস্থান-গবেষণায় একসঙ্গে কাজ করবে এফবিসিসিআই-আইইউবিএটি

চুতর্থ শিল্প বিপ্লবের সুফলকে কাজে লাগাতে শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরি, তাদের কর্মসংস্থান এবং গবেষণা ও উন্নয়ন বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করবে দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস, অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি, বাংলাদেশ (আইইউবিএটি)।

বুধবার (১৭ জানুয়ারি) এফবিসিসিআই’র কার্যালয়ে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি সই করেছে উভয় প্রতিষ্ঠান। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে সই করেন এফবিসিসিআই’র সভাপতি মাহবুবুল আলম এবং আইইউবিএটি’র উপাচার্য ড. আব্দুর রব।

সমঝোতা চুক্তির আওতায় আইইউবিএটি’র শিক্ষার্থীদের জন্য যৌথভাবে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, শিক্ষানবিশদের কাজের ব্যবস্থা করা হবে। সেই সঙ্গে শিল্প সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সেশন এবং পেশাগত উন্নয়নমূলক কোর্স পরিচালনার বিষয়েও একসঙ্গে কাজ করবে এফবিসিসিআই এবং আইইউবিএটি। এছাড়া, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনের লক্ষ্যে নিজেদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করবে উভয় পক্ষ।

পণ্যের উৎপাদনশীলতা, বৈচিত্র্যকরণ, মূল্য সংযোজন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ দেশের ব্যবসা, বাণিজ্য ও শিল্পের টেকসই উন্নয়নে এ সমঝোতা চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন এফবিসিসিআই’র সভাপতি মাহবুবুল আলম।

আইইউবিএটি’র উপাচার্য ড. আব্দুর রব বলেছেন, দেশে দক্ষ কর্মী বাহিনী গড়ে তুলতে ইন্ডাস্ট্রি এবং একাডেমিয়ার সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে এফবিসিসিআই এবং আইইউবিএটি’র মধ্যেকার এ যৌথ প্রচেষ্টা উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—এফবিসিসিআই’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী, সহ-সভাপতি খায়রুল হুদা চপল, মো. মুনির হোসেন, কলেজ অব অ্যাগ্রিকালচারাল সায়েন্সের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল্লাহ মিঞা, এফবিসিসিআই’র সাবেক পরিচালক এবং কলেজ অব অ্যাগ্রিকালচারাল সায়েন্সের অধ্যাপক ড. ফেরদৌসী বেগমসহ অন্যরা।




এফবিসিসিআই’র পুঁজিবাজার সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি’র (সিএসই) চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিমকে এফবিসিসিআই’র পুঁজিবাজার ও বন্ড সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম এবং বোর্ড, আসিফ ইব্রাহিমকে ২০২৩-২০২৫ মেয়াদে এই পদের জন্য মনোনীত করেছেন ।

৫২ সদস্যের এই স্থায়ী কমিটিতে রয়েছেন পুঁজিবাজারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ, ব্রোকারস, সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিসমূহ, ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার এবং দেশের স্বনামধন্য ব্যবসায়ীরা। গঠিত কমিটিটি বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ও পুঁজিবাজারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও সুদূর প্রসারি সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করবে।

 




কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পেঁয়াজের দাম না বাড়ানোর আহ্বান

কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পেঁয়াজের দাম না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এর সভাপতি মাহবুবুল আলম।

পেঁয়াজের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে রোববার (১০ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই আহ্বান জানান।

গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এফবিসিসিআই সভাপতি পেঁয়াজসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে স্বাভাবিক মূল্যে বিক্রির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন। এসময় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পেঁয়াজের দাম না বাড়ানোর জন্যও ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে পেঁয়াজের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে এবং বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আপাতত বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে সাপ্লাই চেইন স্বাভাবিক রাখার কথা বলেন।

তিনি বলেন, নিন্মবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত পর্যন্ত সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রয়োজনীয় পণ্য হলো পেঁয়াজ। নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থে যারা দেশের সাধারণ মানুষকে সমস্যায় ফেলেছেন তারা কোনোভাবেই দেশের ব্যবসায়ী সমাজের প্রতিনিধিত্ব করে না। এই ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতামূলক মনোভাব প্রত্যাশা করেছেন এফবিসিসিআই সভাপতি।

কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে কেউ যাতে বাজার অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে মাহবুবুল আলম বলেন, পেঁয়াজের সরবরাহ ঠিক রাখতে প্রয়োজনে বিকল্প দেশ থেকে পেয়াজ আমদানি করে ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ করে বাজার স্বাভাবিক রাখতে হবে। পাশাপাশি পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে খুচরা, পাইকারি বাজার এবং আড়ৎ পর্যায়ে পণ্য কেনা-বেচায় নজরদারির তাগিদ দেন তিনি।




ব্যবসায়ীরা হয়রানি ছাড়া ব্যবসা করতে চায় : এফবিসিসিআই সভাপতি

ব্যবসায়ীদের সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেছেন, ব্যবসায়ীরা হয়রানি ছাড়া ব্যবসা করতে চায়। হয়রানি বন্ধ করুন। তাহলে ব্যবসায়ীরা সঠিকভাবে ট্যাক্স ও ভ্যাট দেবে। বর্তমানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা অনেক এগিয়ে। হয়রানি না করলে ব্যবসায়ীরা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে সবসময় আছে।

রোববার (১০ ডিসেম্বর) আগারগাঁওয়ের রাজস্ব ভবনের মাল্টিপারপাস হলে জাতীয় ভ্যাট দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ব্যবসায়ীদের মধ্যে হয়ত এক থেকে দুই শতাংশ ব্যবসায়ী কর নিয়ে ঝামেলা করে থাকতে পারে। হয়রানি কমিয়ে আনেন, ওটাও থাকবে না।

মাহবুবুল আলম বলেন, কর নেট বাড়াতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে ব্যবসা রয়েছে, সেখানে নজর দিতে হবে। সেখানে এনবিআরকে নজর দিতে হবে। সেক্টর ভিত্তিক ইএফডি বসানোর দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে ভ্যাট প্রদানকারী নয়টি প্রতিষ্ঠানকে (উৎপাদন, সেবা ও ব্যবসায়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে ৩টি করে) সম্মাননা দেওয়া হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।




দেশে উৎপাদিত লোহা রপ্তানিতে বড় সম্ভাবনা দেখছেন উদ্যোক্তারা

স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশে উৎপাদিত স্টিল বা লোহা এবং লোহা থেকে তৈরি পণ্য বিদেশেও রপ্তানির সম্ভাবনা দেখছেন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। তাদের হিসাবে, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে স্টিল বা ইস্পাত পণ্য রপ্তানি করে বার্ষিক ১০ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ রয়েছে।

সোমবার (৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ) আয়োজিত এক সভায় এসব কথা উঠে আসে। সভায় সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম।

এ সময় তিনি বলেন, ইস্পাত বা লোহা এবং লোহার পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা খুঁজে বেড় করতে হবে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং করণীয় নির্ধারণে এ খাতের উদ্যোক্তাদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তৈরি করতে হবে। বেসরকারি খাতের অভিভাবক হিসেবে এফবিসিসিআই তাদের সেসব প্রস্তাব নিয়ে নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলবে।

রপ্তানিপণ্য বহুমুখী করতে লোহা ও লোহার পণ্য বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মনে করেন এফবিসিসিআই সভাপতি।

সভায় অংশ নিয়ে কমনওয়েলথ এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কাউন্সিলের অ্যাডভাইজার জিল্লুর হোসেন জানান, যুক্তরাজ্যসহ কমনওয়েলথের সদস্য দেশগুলোতে বাংলাদেশের ইস্পাতসহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সরকারকেও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের লোহা ও লোহার পণ্য তৈরি হচ্ছে, প্রযুক্তি উন্নত- এমন দাবি বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের। তিনি বলেন, স্থানীয় কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় দেশের ইস্পাতের চাহিদা প্রায় ৫০ শতাংশ কম। উদ্বৃত্ত সক্ষমতার (ওভার ক্যাপাসিটি) ইস্পাত যদি আফ্রিকাসহ কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোতে রপ্তানি করা যায়, তাহলে এই খাত থেকে প্রতি বছর ১০ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।

এ সময় লোহা ও লোহার পণ্যকে রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপান্তরের জন্য সরকারের বিশেষ পৃষ্ঠপোষকাত চান ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে রয়েছে, রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে লোহা ও লোহার পণ্যের কাঁচামাল আমদানিতে বিশেষ শুল্ক সুবিধা, আংশিক বন্ড সুবিধা, নগদ সহায়তাসহ রপ্তানি অন্যান্য সহযোগিতা। রপ্তানিমুখী ইস্পাত কারখানায় জ্বালানি মূল্যে সুযোগ-সুবিধা, সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত করাসহ অন্যান্য নীতি সহায়তা।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, কমনওয়েলথ এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কাউন্সিলের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. সুমন চৌধুরী, এফবিসিসিআই পরিচালক এবং বাংলাদেশ আয়রন অ্যান্ড স্টিল ইমপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মো. আমির হোসেন নুরানী, মেট্রোসেম ইস্পাত লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহীদুল্লাহ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালক শুনিল কুমার অধিকারী প্রমুখ।




অবরোধে দৈনিক ক্ষতি সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা: এফবিসিসিআই

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মাহবুবুল আলম অবরোধ ও হরতালের রাজনীতি পরিহারের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এ ধরনের বিক্ষোভে দিনে অর্থনীতিতে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ক্ষতি হয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের পরিবর্তন চাই। হরতাল বা অবরোধে প্রতিদিন প্রচুর আর্থিক ক্ষতি হয়। তাই আমরা দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা চাই। আমরা ধর্মঘট বা অবরোধ চাই না। ধর্মঘট বা অবরোধ অর্থনীতির জন্য খুবই ক্ষতিকর। এ নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।’ খবর ইউএনবির।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মহাসড়কে সহিংসতা সৃষ্টি করছে, যা বিদেশি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের কাছে ভুল বার্তা দিচ্ছে আমাদের দেশ সম্পর্কে।’

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সরবরাহ প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হওয়ায় এবং পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ বেশি দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছে।’

রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা তাদের পূর্বে ক্রয় করা পণ্য সময়মতো পাচ্ছেন না মন্তব্য করে তিনি জানান, সরবরাহকারী ও পণ্য উৎপাদনকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
হরতাল ও অবরোধের কারণে কাঁচামাল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় শিল্পখাতে উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে বলে এ সময় আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আসন্ন রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখতে পর্যাপ্ত ভোগ্যপণ্য আমদানির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে এলসি খোলার জন্য ডলার সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। ডলার সংকটে ব্যবসায়ীরা এলসি খুলতে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন।’

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বিলাসবহুল ও অপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি বন্ধ এবং রমজান পর্যন্ত শিল্পকারখানার কাঁচামাল ও ভোগ্যপণ্য আমদানিতে অগ্রাধিকার দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবের পর উদ্যোক্তারা রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে সৃষ্ট ক্ষতি সহ্য করতে পারছেন না।

‘রাজনৈতিক দলগুলোকে অবশ্যই মেনে নিতে হবে যে স্থিতিশীলতা ছাড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অসম্ভব এবং নিম্ন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দিয়ে জনগণের কল্যাণ আসবে না।’

মাহবুবুল আলম বলেন, বাংলাদেশ একটি উদীয়মান অর্থনীতির দেশ এবং বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা ব্যাপক প্রচেষ্টায় এখানে বেশ কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছে।

অভ্যন্তরীণ অঙ্গনে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড বিদেশি ক্রেতাদের নেতিবাচক সংকেত দেবে বলেও উল্লেখ করেন এফবিসিসিআই সভাপতি।

তিনি বলেন, ‘সেক্ষেত্রে রপ্তানি আয় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা শিল্প খাতের টিকে থাকার পাশাপাশি তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য অপরিহার্য। তাই সরকার ও বিরোধী দলের উচিত রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করে হরতাল-অবরোধের পরিবর্তে বিকল্প কর্মসূচি নির্ধারণ করার ব্যসবস্থা করা।’




আয়কর রিটার্ন জমার সময়সীমা এক মাস বাড়াতে বলেছে এফবিসিসিআই

আয়কর রিটার্ন জমার সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের উদ্দেশে লিখিত এক চিঠিতে তারা বলেছে, রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো প্রয়োজন।

এর কারণ হিসেবে এফবিসিসিআই বলেছে, নতুন আয়কর আইন-২০২৩ প্রতিপালন ও আয়কর পরিপত্র বিলম্বে প্রকাশের কারণে এবার কারদাতারা প্রস্তুতি নেওয়ার তেমন সময় পাননি। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে অনেক করদাতার পক্ষেই ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা সম্ভব হবে না।

এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. মাহবুবুল আলম স্বাক্ষরিত চিঠিতে সংগঠনটি বলেছে, বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠন থেকে এফবিসিসিআইয়ের কাছে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বৃদ্ধির অনুরোধ করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আয়কর আইন-২০২৩–এর ৩৩৪ নম্বর ধারার আলোকে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত বৃদ্ধির অনুরোধ করেছে এফবিসিসিআই।

নতুন আয়কর আইনে কর দিবসের মধ্যে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা আছে। রিটার্ন জমার সময়সীমা বৃদ্ধি করতে হলে কর দিবস ৩০ নভেম্বরের পর অন্য কোনো দিনে পালনের ঘোষণা দিতে পারে এনবিআর।

এর আগে আরও একটি সংগঠন রিটার্ন জমার সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন করেছিল। ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশন রিটার্ন জমার সময়সীমা আরও দুই মাস বাড়ানোর দাবি জানায়। ৮ নভেম্বর এনবিআর চেয়ারম্যানকে এ ব্যাপারে চিঠি দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ উজ্জামান খান।




ডলার সংকটে বাংলাদেশ ব্যাংককে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিল এফবিসিসিআই

ডলার সংকট সমাধান এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও কার্যকরী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি- এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম। বিপরীত দিকে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে অর্থনীতির স্বার্থে সব ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ড পরিহারের আহ্বান জানিয়েছে তিনি।

মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) সংগঠনটির গুলশান কার্যালয়ে ‘বিরাজমান বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি’ নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই আহ্বান জানান মাহবুবুল আলম। সভায় চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা, ডলার সংকট, মূল্যস্ফীতি, বিলাসী পণ্যের আমদানি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংক ঋণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, এসিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সভায় এফবিসিসিআই, ডিসিসিআই, বিজিএমইএ সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতা, অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, বিগত কয়েক বছর যাবৎ দেশে অত্যন্ত স্থিতিশীল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশ বিরাজ করছে যা ব্যবসা, বাণিজ্য ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সম্প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর সহিংস কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়ছে। একই সাথে, তৈরি পোশাক খাতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।

দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা জাতীয় অর্থনীতিকে শঙ্কার দিকে ঠেলে দিচ্ছে উল্লেখ করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতি দেশের সাপ্লাই চেইনকে ভীষণভাবে বিঘ্নিত করছে, যার প্রভাব পণ্যের উৎপাদন, বাজার মূল্য এবং রপ্তানি ও সেবা খাতের ওপরও পড়ছে। এসময় রাজনৈতিক দলগুলোকে জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থে সব ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ড পরিহারের আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি।

তৈরি পোশাক খাতে শ্রমিক ও কর্মচারীদের চাহিদা অনুযায়ী মজুরি কমিশন গঠন এবং শ্রমিক-মালিক উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে, যা একটি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ। তার পরও তৈরি পোশাক খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। প্রকৃত শ্রমিকরা কোনোভাবেই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পাশাপাশি ডলার সংকট সমাধান এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও কার্যকরী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি। পাশাপাশি শিল্প কারখানায় উৎপাদন ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বর্তমান সহিংস রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সারা দেশের সকল চেম্বার, অ্যাসোসিয়েশনকে সঙ্গে নিয়ে ব্যবসায়ী সংহতি সমাবেশ আয়োজনের জন্য এফবিসিসিআইকে পরামর্শ দেন।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম অর্থনীতির এই সংকটের মুহূর্তে রাজনৈতিক সহিংস কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাব্যক্তিদের বিতর্কিত মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানান তিনি। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এনবিআর, কৃষি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করতে এফবিসিসিআইকে কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন তিনি। এ ছাড়াও বিদ্যমান সহিংস কর্মসূচির বিরুদ্ধে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য এফবিসিসিআইকে আহ্বান জানান তিনি।

সভায় এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ডলারের ওপর চাপ কমাতে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের আরও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রয়োজনে আগামী ৬ মাস থেকে এক বছর সময়ে অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসী পণ্য আমদানির হার আরও কমিয়ে আনতে হবে। অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে কাট-ছাটের কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সম্প্রতি তৈরি পোশাক খাতে সৃষ্ট সহিংস ঘটনায় বহিরাগতরা জড়িত উল্লেখ করে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, প্রকৃত শ্রমিকরা কখনও নিজ কারখানায় আগুন দিতে পারে না। উদ্দেশ্যমূলকভাবে তৈরি পোশাক খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় অন্যদের মধ্যে সাবেক মূখ্য সচিব ও এফবিসিসিআইয়ের প্যানেল উপদেষ্টা মো. আব্দুল করিম, সিপিডির গবেষণা পরিচালক ও প্যানেল উপদেষ্টা খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইয়ের প্যানেল উপদেষ্টা ড. মাসরুর রিয়াজ, আব্দুল মুক্তাদির, এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী, সহ-সভাপতি খায়রুল হুদা চপল, শমী কায়সার, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ব্যারিস্টার সামির সাত্তার, মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, বিকেএমইএ’র এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম, বিটিএমএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফজলুল হক, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন, নাসিব সভাপতি মির্জা নুরুল গণি শোভন, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি আসিফ ইব্রাহীম ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।




দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে ব্যক্তিপর্যায়ে যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে ব্যক্তিপর্যায়ে যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র সভাপতি মাহবুবুল আলম।

সোমবার (১৩ নভেম্বর) মতিঝিলে অবস্থিত এফবিসিসিআই কার্যালয়ে ফরেন সার্ভিস একাডেমির (এফসিএ) এক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরুণ কর্মকর্তাদের ২৯তম কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ কোর্স এবং আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর তরুণ কূটনীতিকদের বিশেষ কোর্সের অংশ হিসেবে এফবিসিসিআই পরিদর্শনে আসে এফসিএর এই প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর মাশফি বিনতে শামস।

এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, আসিয়ানের সদস্য দেশগুলো বাংলাদেশের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী এবং দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য বিপুল সম্ভাবনা বিরাজ করছে।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর বাণিজ্য বৃদ্ধিতে তরুণ পররাষ্ট্র কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মাহবুবুল আলম আরও বলেন, পরিবেশবান্ধব সবুজ শিল্পায়ন, দক্ষ কর্মী, নারী উদ্যোক্তা তৈরি ও ব্যবসা বাণিজ্যে তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে এফবিসিসিআই।

প্রধানমন্ত্রীর একটি উন্নত, স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে পণ্যের বৈচিত্র্যকরণে এফবিসিসিআই জোর দিচ্ছে বলেও জানান মাহবুবুল আলম।

এসময় বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশি পণ্যের ব্র্যান্ডিং এবং বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও উন্নত করতে ফরেন সার্ভিস একাডেমি প্রতিনিধিদলের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি।

ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর মাশফি বিনতে শামস বেসরকারি খাতের সুরক্ষায় এফবিসিসিআইয়ের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও এফবিসিসিআইয়ের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন তিনি।

বৈঠকে এফবিসিসিআইয়ের বিস্তারিত কার্যক্রম তুলে ধরেন সংগঠনের মহাসচিব মো. আলমগীর।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী। এসময় অন্যান্যের মধ্যে এফবিসিসিআই পরিচালক মোহাম্মদ ইশাকুল হোসেন সুইট, নিয়াজ আলী চিশতী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




বাংলাদেশ-সৌদি আরব এফটিএ সইয়ের এখনই উপযুক্ত সময়: এফবিসিসিআই

বাংলাদেশ এবং সৌদি আরবের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সইয়ের উপযুক্ত সময় এখনই। উভয় দেশের এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করে দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।

সোমবার (৬ নভেম্বর) সৌদি আরবে জেদ্দা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে বৈঠক করে এফবিসিসিআই’র ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল। এ সময় উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের স্বার্থে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা উত্থাপন করে এফবিসিসিআই।

এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘সারা বিশ্বেই ব্যবসা-বাণিজ্যের ধরন পরিবর্তন হচ্ছে। সেই সঙ্গে সামনে আসছে নিত্য নতুন চ্যালেঞ্জ। ২০২৬ সালনাগাদ এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর বাংলাদেশও বেশকিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। এমন অবস্থায়, সমন্বিত সাপ্লাই চেইনের সুফলকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে বাংলাদেশ এবং সৌদি আরবকে এখনই এফটিএ (মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি) সইয়ের উদ্যোগ নিতে হবে।’

বাংলাদেশের শ্রমশক্তি রফতানির অন্যতম একটি গন্তব্য সৌদি আরব উল্লেখ করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘সৌদি আরব বর্তমানে হাই-টেক ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট এবং শিল্প বহুমুখীকরণের জোড়ালো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই মুহূর্তে তাদের বিপুল দক্ষ কর্মী বাহিনীর দরকার হবে। এদিকে বাংলাদেশ এখন ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড সুবিধার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ দেশে বিপুল সংখ্যক কর্মক্ষম, অভিজ্ঞ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষ তরুণ জনশক্তি রয়েছে। সৌদি সরকারকে আহ্বান জানাই, বিভিন্ন সেক্টরে বাংলাদেশের দক্ষ তরুণ কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও প্রসারিত করুন।’

বৈঠকে সৌদি আরবের ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরে প্রস্তাবিত সৌদি অ্যারাবিয়া বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের আহ্বান জানান মাহবুবুল আলম। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য অর্থনৈতিক অঞ্চলেও সৌদি বিনিয়োগকারীদের শিল্প স্থাপনে আমন্ত্রণ জানান তিনি।

বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, অবকাঠামো, গাড়ির যন্ত্রাংশ, কেমিক্যাল, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও রবোটিকসসহ বেশকিছু খাতে সৌদি আরবের বিনিয়োগ সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয় বৈঠকে।

এ সময় বন্দর ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দেয় জেদ্দা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। পাশাপাশি সৌদি আরবে বাংলাদেশি পণ্যকে পরিচিত করতে ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ এক্সপো আয়োজনেও সহায়তা দেবে বলেন জানান তারা।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র সহ-সভাপতি মো. খায়রুল হুদা চপল, মো. রাশেদুল হোসেন চৌধুরী রনি, মো. মুনির হোসেন, পরিচালক মো. হাবিব উল্লাহ ডন, হাসিনা নেওয়াজ, খন্দকার রুহুল আমিন, মূনাল মাহবুব, মো. আলী হোসেন শিশির, মো. এনায়েত উল্লাহ, বি এম সোহেব, সহিদুল হক মোল্লা, ফখরুস সালেহীন নাহিয়ান, সালমা হোসেন এশ, মো. আমীর হোসাইন নুরানী, মো. ফায়জুর রহমান ভূঁইয়া, সৈয়দ মোহাম্মদ বখতিয়ার প্রমুখ।




বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক চুক্তি

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ জোরদারে চুক্তি সই করেছে দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) ও কোরিয়া ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (কোইমা)।

সোমবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এফবিসিসিআই ও কোইমার মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

এফবিসিসিআইয়ের পক্ষে সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী এবং কোইমার পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান কিম বিয়ং-কোয়ান চুক্তিতে সই করেন।

এই চুক্তি বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মন্তব্য করেন এফবিসিসিআই সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী।

তিনি বলেন, চলতি বছর বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে। দুই বন্ধুপ্রতীম দেশ নিজেদের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং অগ্রগতির জন্য দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে কাজ করছে। বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক আরও মজবুত এবং বাণিজ্য জোরদারে বিগত বছরগুলোতে একাধিক ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বিনিময় এবং একাধিক সমঝোতা স্মারক সই করেছে।

মো. আমিন হেলালী আরও বলেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৫৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির মাইলফলক অতিক্রম করেছে। প্রবৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত রেখে আমরা ট্রিলিয়ন-ডলার অর্থনীতির দেশ হওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি আধুনিক, স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তরিত করতে আমরা ৩০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। এই লক্ষ্য অর্জনে বিশ্বে নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং পণ্য বৈচিত্র্যকরণে সরকারের জন্য কাজ করছে এফবিসিসিআই।

দক্ষিণ কোরিয়া ইতোমধ্যেই বাংলাদেশকে একটি উচ্চ প্রতিশ্রুতিশীল বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। শুধুমাত্র কোরিয়ান বিনিয়োগকারীদের জন্য আমাদের সরকার একটি বিশেষ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (স্পেশাল ইপিজেড) প্রতিষ্ঠা করেছে। যেখানে ইতোমধ্যে কোরিয়ান বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সেখানে ১ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগকারীর (এফডিআই) স্বীকৃতি পেয়েছে। বর্তমানে ২০০টিরও বেশি কোরিয়ান কোম্পানি বাংলাদেশে কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সিনিয়র সহ-সভাপতি কোরিয়ান কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ এবং সাবকন্ট্রাক্টিংয়ে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। এসময় তিনি কোরিয়ান বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর, মাইক্রোচিপস, হাই-টেক, প্লাস্টিক, অটো পার্টস, কৃষি যন্ত্রপাতি, সিরামিক পণ্য এবং সফ্টওয়্যারসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্ভাবনা তুলে ধরে কোরিয়ান বিনিয়োগকারীদের দেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

কোরিয়া ইম্পোরটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (কোইমা) চেয়ারম্যান কিম বিয়ং-কোয়ান বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এ সমঝোতা স্মারক আমাদের দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত কোরিয়ান রাষ্ট্রদূত পার্ক ইয়ং সিক, এফবিসিসিআই সহ-সভাপতি শমী কায়সার, ডা. যশোদা জীবন দেবনাথ, মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত সরকার, পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।




সৌদির উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ চায় এফবিসিসিআই

সৌদি আরবের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে বাণিজ্য সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।

বৃহস্প‌তিবার (২ নভেম্বর ) এফবিসিসিআই থে‌কে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হ‌য়ে‌ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সৌদি আরব সরকারের বৈদেশিক বাণিজ্যবিষয়ক গভর্নরের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করে এফবিসিসিআইয়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল। সাক্ষাৎকালে সৌদি আরবের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে এই আহ্বান জানানো হয়। বুধবার রিয়াদে এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলমের নেতৃত্বে সৌজন্য সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি খায়রুল হুদা চপল, মো. মুনির হোসেন প্রমুখ।

বৈঠকে এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম জানান, দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে ব্যবসা, বাণিজ্য এবং শিল্প স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ বর্তমানে একটি উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচিত। বর্তমান সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্বে সারা দেশে আধুনিক ও উন্নত মাল্টি-মোডাল কানেক্টিভিটিসহ উন্নত অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণে বেসরকারি খাতকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে সরকার। গুণগত জ্বালানি এবং লজিস্টিকস সেবা উন্নয়নে গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে। এসব বিবেচনায় সৌদি আরবের ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে উৎসাহী হবেন বলে আশা প্রকাশ ক‌রেন তিনি।

মাহবুবুল আলম বলেন, সরকারের উদ্যোগে বাংলাদেশে একশটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হচ্ছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের বিশেষ সুবিধা প্রদান করছে সরকার। পাশাপাশি, জিটুজি এবং বিটুবির ভিত্তিতেও বাংলাদেশ এবং সৌদি আরবের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। সৌদি আরবের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসলে বেসরকারি খাতের অভিভাবক হিসেবে এফবিসিসিআই তাদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে।

এ সময় সৌদি সরকারের বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয় গভর্নর আব্দুল রহমান আল-হারবি বলেন, বাংলাদেশ সরকার বেসরকারি খাতের জন্য নীতি সহায়তা প্রসারিত করলে সৌদি আরবের ব্যবসায়ীরা সেখানে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে বলে আমার বিশ্বাস। দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করতে সৌদি সরকারও আন্তরিক থাকবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

সৌজন্য সাক্ষাতে আরও উপস্থিত ছিলেন সৌদি সরকারের বেসরকারি খাত বিষয়ক দপ্তরের জেনারেল ম্যানেজার কোহতান এফ. আল-দাগাইথার, সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন মো. আবুল হাসান মৃধা, ইকোনমিক মিনিস্টার মুর্তুজা জুলকার নাঈন প্রমুখ।

এফবিসিসিআই থেকে ৩৫ সদস্যের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল সাত দিনের সফরে সৌদি আরব গেছেন। সেখানে তারা ব্যবসায়ী পর্যায়ে একাধিক বৈঠকসহ পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে আগামী ৮ নভেম্বর দেশে ফিরবেন।




বাংলাদেশের স‌ঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চালু কর‌তে চায় মিয়ানমার

মিয়ানমার-বাংলাদেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়ে আগ্রহের কথা জানিয়েছে মিয়ানমার। শনিবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানে এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলমের স‌ঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকা‌লে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত অং কিউ মোয়ে এ কথা জানান।

এ সময় এফবিসিসিআই’র সহ-সভাপতি শমী কায়সার ও পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক র‌য়ে‌ছে। প্রতিবেশী এই দুই দেশের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। প্রতিবেশী হওয়া সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ খুবই কম। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারের তাগিদ দেওয়া হয়।

সভায় মাহবুবুল আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য চলে আসছে। একসময় চট্টগ্রাম থেকে নৌ-পথে ইয়াঙ্গুনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পন্ন হতো। কিন্তু বেশ কিছু কারণে বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের হার কিছুটা কমে এসেছে। দুই দেশের সম্ভাবনাময় অনেক খাত থাকলেও সেই সুযোগ আমরা ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছি না। রোহিঙ্গা সমস্যাসহ দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান করলে বাণিজ্যিকভাবে উভয় দেশই লাভবান হবে।

এ সময় রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারকে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এফবিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, তৈরি পোশাক, ওষুধ শিল্প,সিরামিক,পাট,চামড়াজাত পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যে বিশ্বব্যাপী দারুণ সুনাম কুড়িয়েছে বাংলাদেশ। মিয়ানমার বাংলাদেশ থেকে এসব পণ্য আমদানি করতে পারে। পাশাপাশি চাল, পেঁয়াজ, মসলাসহ বিভিন্ন পণ্য মিয়ানমার থেকে আমদানি করতে পারে বাংলাদেশ। এছাড়াও, এদেশের জ্বালানির চাহিদা পূরণে মিয়ানমার এগিয়ে আসতে পারে।

এ সময় বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে মিয়ানমারের ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত অং কিউ মোয়ে বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ঐতিহাসিকভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে এসেছে। ১৯৭১ সালে যে ৫টি দেশ বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয়, সেই ৫টি দেশের মধ্যে একটি মিয়ানমার। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে মিয়ানমার আগ্রহী।

এ সময় মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়ে মিয়ানমারের আগ্রহের কথাও জানান রাষ্ট্রদূত অং কিউ মোয়ে। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমার সরকার বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।




এসএমই খাতের উন্নয়ন সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়: সালমান এফ রহমান

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, ‘‌সরকার এসএমই খাতের অনেক উদ্যোগ নিয়েছে। এ খাতে উন্নয়নে আরো অনেক কাজ করা দরকার। সরকারের একার পক্ষে এটি সম্ভব নয়। এফবিসিসিআইসহ বেসরকারি খাতগুলোকে এসএমই উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হলে এসএমই খাতের উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।’

গতকাল রাজধানীর গুলশানে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) গুলশান শাখা অফিস কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান, মীর নাসির হোসেন, কাজী আকরাম উদ্দিন, মো. জসিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইয়ের বর্তমান সভাপতি মাহবুবুল আলম।

 

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘‌শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন হিসেবে এফবিসিসিআই দেশের ব্যবসা, বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এফবিসিসিআইয়ের যেকোনো প্রস্তাব বা দাবিকে সরকারও গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করে। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের প্রবৃদ্ধির গতি বজায় রাখতে ব্যবসায়ীদের আউট অব দ্য বক্স চিন্তা করতে হবে। এছাড়া উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে এফবিসিসিআইকে ভূমিকা পালন করতে হবে।’

এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘‌গুলশানে শাখা অফিস চালুর মাধ্যমে এফবিসিসিআইয়ের কার্যক্রম আরো বেগবান হবে। ফলে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, বিদেশী বিনিয়োগকারী ও অতিথিদের সঙ্গে বৈঠক অনেক সাশ্রয়ী ও সহজতর হবে। পাশাপাশি এফবিসিসিআইয়ের অনুষ্ঠান ও ছোট পরিসরের সভা করার ক্ষেত্রে এ অফিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। গুলশান শাখা অফিসের পাশাপাশি পুরান ঢাকা ও চট্টগ্রামে শাখা অফিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। এরই মধ্যে রাজধানীর হাটখোলায় এফবিসিসিআই ইনোভেশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, টেকসই শিল্পায়ন ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সক্ষমতা অর্জনে এফবিসিসিআই সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমার বিশ্বাস।’

এ সময় অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত সরকার, ড. যশোদা জীবন দেবনাথ, শমী কায়সার, মো. মুনির হোসেন, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালকরাসহ ব্যবসায়ী নেতারা।




নারী জামানতকারী দেখিয়ে ঋণ নিতে পারবেন নারী উদ্যোক্তারা

ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে কেবল পুরুষ নয়, নারীকেও জামানতকারী দেখিয়ে ঋণ নিতে পারবেন নারী উদ্যোক্তারা। দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রতিনিধিদল। সাক্ষাতকালে এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলমের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নারী জামানতকারী দেখিয়ে ঋণ নিতে পারবেন বলে আশ্বাস দেন।

এ সময় এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি খায়রুল হুদা চপল, শমী কায়সার, মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত সরকার, ড. যশোদা জীবন দেবনাথ, মুনির হোসেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমান, আবু ফারাহ মো. নাছের, নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক উপস্থিত ছিলেন।

গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাতকালে এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খুলতে ব্যাংকগুলো ডলারের অতিরিক্ত দাম নেওয়া, সুদহার না বাড়ানোসহ বেশি কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছে। এর মধ্যে ডলারের অতিরিক্ত দাম না নেওয়ার বিষয়েও আশ্বাস দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, দেশের অর্থনীতিকে বেগবান করতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। এক্ষেত্রে পুরুষদের পাশাপাশি বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে চলেছেন নারী উদ্যোক্তারাও। কিন্তু ব্যবসা পরিচালনা এবং সম্প্রসারণের জন্য নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রাপ্তি এখনও ততটা সহজ হয়নি। নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোরও উৎসাহ কম দেখা যায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে। এছাড়া ঋণ পাওয়ার জন্য একজন নারী উদ্যোক্তাকে তার বাবা, ভাই কিংবা স্বামীকে জামানতকারী হিসেবে দেখাতে হয়। কোন নারীকে জামানতকারী হিসেবে দেখালে ব্যাংকগুলো সেটি গ্রহণ করতে চায় না উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে কামনা করেন। একই সাথে ক্ষুদ্র ও মাঝারি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক ঋণ সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকায় উন্নীত করার আহ্বান জানান মাহবুবুল আলম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে ব্যবসায়ীবান্ধব গভর্নর উল্লেখ করে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে করোনা মহামারির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধজনিত বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে আর্থিক ও নীতি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পলিসি সহায়তার কারণে করোনা মহামারির ধকল সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে এবং সে সাথে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধজনিত ধকল সন্তোষজনকভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে। এজন্য বাংলাদেশ গভর্নরসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

করোনা মহামারি, ইউক্রেন-রাশিয়া সংকটের দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে বিবেচনায় নিয়ে সব খাতের জন্য ঋণ পুনঃতফসিলীকরণের সুবিধা প্রদান ও বিদেশি বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে সুদের হার বৃদ্ধি না করার জন্য অনুরোধ জানান এফবিসিসিআই সভাপতি।

নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রাপ্তি সহজীকরণে বাংলাদেশ ব্যাংক নানাবিধ উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, ব্যাংকগুলো যেন নারীদেরকেও জামানতকারী হিসেবে গ্রহণ করে সেজন্য ব্যাংকগুলোকে বলা হচ্ছে। নারীদের ঋণ প্রাপ্তি সহজ করতে ব্যাংকগুলোকে সম্প্রতি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

গভর্নর বলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে আমরা ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছি। ব্যবসা, বাণিজ্য এবং শিল্প খাতে নারীরা যেন আরও এগিয়ে আসতে পারে সে লক্ষ্যে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ প্রাপ্তি ধাপে ধাপে আরও সহজ করার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ইতিমধ্যে যার সুফল ভোগ করছেন অসংখ্য নারী উদ্যোক্তা।




পুঁজিবাজারের উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করবে ডিবিএ ও এফবিসিসিআই

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করবে পুঁজিবাজার স্টক ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) এবং ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।

রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) এর সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও’র নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল। এ সময় উভয় সংগঠনের প্রতিনিধিদের মধ্যে পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা হয়।

এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম ডিবিএ’র সভাপতিসহ প্রতিনিধি দলকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় দেশের শিল্প তথা অর্থনৈতিক বিকাশে পুঁজিবাজারের গুরুত্ব ও ভূমিকার কথা তুলে ধরেন এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম। দেশের পুঁজিবাজারে উন্নয়নে এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

বৈঠকে ডিবিএ’র সভাপতি রোজারিও দেশের শিল্প, বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে পুঁজিবাজারের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। এ খাতের উন্নয়নে এফবিসিসিআই’র সার্বিক সহযোগিতা আহ্বান করেন তিনি।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র সহ-সভাপতি রাশেদুল হোসেন চৌধুরী রনি, এফবিসিসিআই‘র পরিচালকরা, ডিবিএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. সাজিদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মো. সাইফুদ্দিন, ডিবিএ’র পারিচালকরাসহ অন্যান্য সদস্য।




বাংলাদেশে বাণিজ্য বাড়তে আগ্রহী তুরস্ক

বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিনিয়োগের জন্য তুরস্কের ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই-এর সভাপতি মাহবুবুল আলম। এসময় বাংলাদেশে বাণিজ্য বাড়তে আগ্রহ প্রকাশ করেছে তুরস্ক।

রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) এফবিসিসিআই কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি। এসময় তারা উভয়ই বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি জানান, বহুকাল ধরেই তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। এসময় তুরস্ক ও বাংলাদেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সম্ভাবনাময় খাত ও ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে বিজনেস টু বিজনেস (বিটুবি) সভা আয়োজনের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মাহবুবুল আলম বলেন, বাংলাদেশ সরকার সারা দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শিল্প-কারখানা স্থাপন করেছেন। তুরস্কের বিনিয়োগকারীরা এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন। এর ফলে একদিকে যেমন বাংলাদেশের বিশাল ভোক্তাবাজারে তুর্কি ব্যবসায়ীদের প্রবেশ সহজতর হবে এবং শ্রমবান্ধব বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বিশাল সুযোগ তৈরি হবে। প্রয়োজনে তুরস্কের ব্যবসায়ীদের যাবতীয় সহযোগিতা দেবে এফবিসিসিআই।

তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি চমৎকার নীতিমালা রয়েছে বাংলাদেশে। আমাদের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে শিল্প স্থাপন করে তারা অন্যান্য দেশে পণ্য রপ্তানি করতে পারবেন। এখানে বিনিয়োগ করে লভ্যাংশ নিজ দেশে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াও অত্যন্ত সহজ। এসময় তুরস্কে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি জোরদারে শুল্ক বাধা দূর করতে আহ্বান জানায় এফবিসিসিআই।

সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশে তেল পরিশোধন শিল্প, নির্মাণ শিল্প, ওষুধ এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল কেমিক্যাল, পর্যটন, কৃষি ও দুগ্ধজাত শিল্প, জাহাজ নির্মাণ শিল্প, বেসামরিক বিমান চলাচল এবং নৌ-পরিবহন খাতে তুরস্কের বাণিজ্য সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়।

ঢাকায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে বাংলাদেশের সঙ্গে তুরস্ক কাজ করতে আগ্রহী বলে জানান। এসময় এফবিসিসিআই-এর নেতৃত্বে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলকে তুরস্কে সফরের আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে এফবিসিসিআই-এর সহ-সভাপতি খায়রুল হুদা চপল, মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত সরকার, রাশেদুল হোসেন চৌধুরী রনি, মো. মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




উন্নত বাংলাদেশ গড়তে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা চায় এফবিসিসিআই

বাংলাদেশের অবকাঠামো ও লজিস্টিকস উন্নয়ন এবং এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাসহ উন্নত বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রায় জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে এফবিসিসিআই। শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) এফবিসিসিআই কার্যালয়ে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইয়ামা কিমিনোরির সঙ্গে সৌজন্য স্বাক্ষাতে এ আহ্বান জানান এফবিসিসিআই’র সভাপতি মাহবুবুল আলম।

এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম বিশ্বস্ত অংশীদার জাপান। গত ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার সম্পর্ক ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। বাংলাদেশে মেট্রোরল, বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, মেঘনা সেতু, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন বৃহৎ প্রকল্প এবং অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের অবদান অনস্বীকার্য।’

বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীদের জন্য জাপানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ সহজ করতে ভিসাপ্রাপ্তি সহজ করা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনে দেশটির সহযোগিতা চান এফবিসিসিআই সভাপতি। প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানসহ লজিস্টিক সরবরাহে জাইকা, জেট্রোসহ উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। এসব ক্ষেত্রে এফবিসিসিআই’র সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে বলে জানান মাহবুবুল আলম।

দীর্ঘ সময় ধরে জাপানের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা এবং অংশীদারিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান জাপানের রাষ্ট্রদূত ইয়ামা কিমিনোরি। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ আরও বাড়াতে চাই আমরা। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতেও আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে।’ দু’দেশের যৌথ প্রকল্পগুলো নিয়ে আলোচনার আরও সুযোগ রয়েছে জানিয়ে এফবিসিসিআই’র পরামর্শ আহ্বান করনে রাষ্ট্রদূত।

জাপানে জনশক্তি রফতানি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত ইয়ামা কিমিনোরি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি বাণিজ্যিকভাবে দু’দেশের সম্পর্ক ও যোগাযোগ আরও উন্নত করতে। তবে বেশকিছু বাধাও রয়েছে। বিশেষ করে জনবল আমদানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে জাপান সরকার। পাশাপাশি সেখানে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ভাষাগত দক্ষতাও বড় ভূমিকা রাখে।’

বাংলাদেশিদের জাপান ভ্রমণ এবং দেশটিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে বলে আশ্বাস্ত করেন রাষ্ট্রদূত।

এছাড়া এদিন দুপুরে এফবিসিসিআই সভাপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত এনগুয়েন মান কুং। এ সময় বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে ভিয়েতনামের শিল্প উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম।

দু’দেশের বাণিজ্যের চিত্র তুলে ধরে মাহবুবুল আলম জানান, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ-ভিয়েতনামের মধ্যে বাণিজ্যের আকার ছিল ১১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কিছু বেশি। এর মধ্যে ১০১০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য বাংলাদেশ রফতানি করেছে ভিয়েতনাম। এর ফলে বাংলাদেশের রফতানির পরিমাণ মাত্র ৯২.৭৭ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বাংলাদেশ-ভিয়েতনামের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি বিশাল।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘ভিয়েতনামের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তবে বাণিজ্য ঘাটতি অস্বাভাবিক। বিশাল এই বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে ভিয়েতনাম থেকে আরও বেশি বিনিয়োগ চাই আমরা।’ পাশাপাশি ভিয়েতনামকে বাংলাদেশে থেকে আরও বেশি পণ্য আমদানির আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশে কৃষিপণ্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ইলেক্ট্রিক্যাল মেশিনারি ও যন্ত্রাংশ, সামুদ্রিক সম্পদ, আইসিটি ও টেলিকমিউনিকেশনস, হালকা প্রকৌশল, পর্যটন, চামড়া, পাট ও বস্ত্রসহ বেশকিছু খাতে ভিয়েতনামের বাণিজ্য সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয় সৌজন্য সাক্ষাতে।

এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত এনগুয়েন মান কুং বলেন, ‘ভিয়েতনামের বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ অন্যতম একটি সম্ভাবনাময় দেশ। এখানে বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠী রয়েছে। তাছাড়া দু’দেশের অর্থনৈতিক গতি-প্রকৃতির মধ্যেও মিল রয়েছে। আমি আশাবাদী, অদূর ভবিষ্যতে ভিয়েতনাম-বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।’

তিনি জানান, চলতি মাসের ২১ তারিখ ভিয়েতনাম ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি থেকে প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে সফরে আসবে। এই সফরের মধ্য দিয়ে দু’দেশের বাণিজ্য নতুন মাত্রায় পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এনগুয়েন মান কুং।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এফবিসিসিআই’র সহ-সভাপতি খায়রুল হুদা চপল, মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত সরকার, রাশেদুল হোসেন চৌধুরী রনি, মো. মুনির হোসেন এবং পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।




 নতুন বাজার অনুসন্ধানে যৌথভাবে কাজ করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-এফবিসিসিআই

নির্দিষ্ট বাজার নির্ভরতা বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য এবং অর্থনীতিকে ঝুঁকিতে ফেলবে। এমন পরিস্থিতিতে রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য বহুমুখীকরণের কোনো বিকল্প নেই। তাই নতুন নতুন বাজার অনুসন্ধানে যৌথভাবে কাজ করবে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।

সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) এফবিসিসিআই কার্যালয়ে সংগঠনটির সভাপতি মাহবুবুল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে আসেন পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন। এসময় বাণিজ্য সম্প্রসারণে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহের কথা জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এফবিসিসিআই।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘বিভিন্ন দূতাবাস এবং মিশনে দায়িত্বরত কমার্শিয়াল কাউন্সেলররা সেসব দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অন্যান্য পণ্যের প্রচার করলে আমাদের রপ্তানি পণ্যের বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে। পাশাপাশি যেসব দেশে আমাদের কোনো পণ্যের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে সেটি জানালে ব্যবসায়ীরা উদ্যোগ নিতে পারে।’

এ সময় আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন এফবিসিসিআই সভাপতি। তিনি বলেন, ‘অন্যান্য আঞ্চলিক জোটগুলোর মতো বাংলাদেশকেও আঞ্চলিক বাজারের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। এক্ষেত্রে বিমসটেকের মতো আঞ্চলিক জোটের মাধ্যমে বিভিন্ন মেলা আয়োজন, বিজনেস ফোরাম এবং বিমসটেক জয়েন্ট চেম্বার গঠন করা যেতে পারে।

বাংলাদেশের সেরা পণ্যগুলোকে প্রোমোট করার লক্ষ্যে শিগগিরই ভারতের মুম্বাইয়ে বেস্ট অব বাংলাদেশ এক্সপো আয়োজন করার পরিকল্পনার কথাও জানান মাহবুবুল আলম।

নির্দিষ্ট বাজার নির্ভরতা বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য এবং অর্থনীতিকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘আমাদের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। পণ্যের বহুমুখীকরণে ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসতে হবে। বিদেশে পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক্ষেত্রে নতুন বাজার অনুসন্ধানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তৎপর বলেও জানান তিনি।

রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে বেসরকারি খাত এবং সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক আরও জোরদারের করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন পররাষ্ট্রসচিব। বিভিন্ন মিশনে থাকা কমার্শিয়াল কাউন্সেলররা নতুন বাজার সম্প্রসারণে কোন কোন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে পারে, সে বিষয়ে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা চান তিনি।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই এর সহ-সভাপতি খায়রুল হুদা চপল, মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত সরকার, ড. যশোদা জীবন দেবনাথ, শমী কায়সার, রাশেদুল হোসেন চৌধুরী রনি এবং এফবিসিসিআই’র পরিচালকরা।




যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে আগ্রহী এফবিসিসিআই

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আরও জোরদার করতে চায় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রচলিত পণ্যের সাথে অপ্রচলিত পণ্য রফতানি বাড়াতে দেশটির সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে শীর্ষ এই বাণিজ্য সংগঠনটি।

বুধবার (২৩ আগস্ট) ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর জন ফে’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই আগ্রহের কথা জানান এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম।

এসময় এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের ভালো সম্পর্ক রয়েছে, এবং ক্রমেই তা আরও জোরদার হচ্ছে। দুই দেশই কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছে। করোনা মহামারির সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ভ্যাকসিন থেকে শুরু করে অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামাদি প্রদান করে বাংলাদেশের পাশে থেকেছে। বিগত বছরগুলোতেও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত ছিল। এখন সময় এসেছে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আরও জোরদার করার।

মাহবুবুল আলম আরও বলেন, “আমাদের প্রধান রফতানি পণ্যের মধ্যে তৈরি পোশাক, সুতা, বস্ত্র, চামড়াজাত পণ্য, কৃষি এবং হিমায়িত খাদ্য রফতানির বেশিরভাগ যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। যেহেতু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একক বৃহত্তম রফতানি গন্তব্য, তাই মূল্য সংযোজন ও সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদারের মাধ্যমে যাতে উভয় দেশই লাভবান হতে পারে সেজন্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) উদ্যোগ নেওয়ার এখনই সময়।”

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন যেখানে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ, গ্যাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে তাদের কারখানা ও শিল্পাঞ্চল স্থাপন করতে পারে। গার্মেন্টস পণ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের আইটি, পাটপণ্য, চামড়াজাত পণ্য, মৎস্যসহ অপ্রচলিত পণ্য রফতানিতে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের সহায়তা চায় এফবিসিসিআই। পাশাপাশি চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবিলায় উদ্ভাবন, গবেষণা, ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চান এফবিসিসিআই সভাপতি।

কমার্শিয়াল কাউন্সেলর জন ফে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে অন্যতম বৃহত্তর বিনিয়োগকারী দেশ। আমেরিকাভিত্তিক অনেক কোম্পানি বাংলাদেশে সফলভাবে ব্যবসা করছে। ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও দূতাবাস একযোগে কাজ করেছে বলে জানান তিনি। এসময় বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন জন ফে।

সভায় এফবিসিসিআই ইনোভেশন এবং রিসার্চ সেন্টারের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে এফবিসিসিআইর পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্ঞান, দক্ষতা ও কারিগরি সহযোগিতা আহ্বান করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইর সহসভাপতি খাইরুল হুদা (চপল), ড. যশোদা জীবন দেবনাথ, রাশেদুল হোসেন চৌধুরী (রনি), মুনির হোসেন, পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, মহাসচিব মো. আলমগীর প্রমুখ।




হালাল পণ্যের বাজার বাড়াতে একসঙ্গে কাজ করবে এফবিসিসিআই-আইওএফএস

হালাল পণ্যের বাজার বাড়াতে একসঙ্গে কাজ করবে এফবিসিসিআই-আইওএফএস
আন্তর্জাতিক বাজারে হালাল পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে হালাল পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ জোরদারে ইসলামিক অর্গানাইজেশন ফর ফুড সিকিউরিটির (আইওএফএস) সহযোগিতা চায় দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। পাশাপাশি হালাল পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ ও বৈশ্বিক হালাল পণ্যের বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব বাড়াতে এফবিসিসিআই এবং আইওএফএস একসঙ্গে কাজ করবে।

সোমবার (২১ আগস্ট) আইওএফএস ও এফবিসিসিআইয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় উভয় সংস্থার পক্ষ থেকে এ আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

সভায় এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম জানান, মুসলিম এবং অমুসলিম উভয় দেশগুলোতে ক্রমেই হালাল পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ বাজারের একটি উল্লেখযোগ্য পণ্য মুসলিম দেশগুলোর জোট অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) সদস্য দেশগুলো থেকে আসে। ২০২০ সালে হালাল পণ্যের বৈশ্বিক আকার ছিল ৩ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৮৪৩ মিলিয়ন ডলার মূল্যের হালাল পণ্য রপ্তানি করা হয়। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ হালাল পণ্য গেছে মুসলিম দেশগুলোতে।

এফবিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, স্থানীয় উৎপাদনকারী এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে হালাল সার্টিফিকেট দেওয়ার লক্ষ্যে ২০০৭ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে হালাল সার্টিফিকেশন বিভাগ চালু করেছে সরকার। কিন্তু হালাল সার্টিফিকেশনের ক্ষেত্রে এখনো অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। হালাল পণ্যের বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব বাড়ানো এবং হালাল সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া সহজীকরণে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর সহযোগিতা চান তিনি।

মাহবুবুল আলম বলেন, সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্ব দেশের কৃষিখাতে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ফলে উৎপাদনশীলতাও বেড়েছে। ২২টি কৃষি পণ্য উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দশটি দেশের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। তবে, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে অপর্যাপ্ততার কারণে সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা কমে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে, দেশের বিদ্যমান কৃষি অবকাঠামো এবং কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান তিনি।

বিগত কয়েক দশকে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদনের বৈপ্লবিক সাফল্যের প্রশংসা করে আইওএফএসের মহাপরিচালক অধ্যাপক ইয়ারলান বাইদুলেট বলেন, বাংলাদেশের মতো সদস্য দেশ পেয়ে আমরা (আইএফপিএ) খুবই গর্বিত। আমরা কৃষি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে এখানকার বেসরকারি খাতের সঙ্গে একটি শক্তিশালী অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী।

বিশ্বব্যাপী হালাল পণ্যের বাজারের বিপুল সম্ভাবনার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এ বাজারের বড় অংশই অমুসলিম দেশগুলোর দখলে। মুসলিম দেশগুলোতে হালাল পণ্যের বাজার ধরতে পণ্য সরবরাহ জোরদারে বাংলাদেশসহ মুসলিম দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্যে এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী বলেন, ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বে জনসংখ্যা হবে প্রায় ১০ বিলিয়ন। সেসময় বাংলাদেশের জনসংখ্যা দাঁড়াবে ২০০ মিলিয়ন বা ২০ কোটিতে। অতএব, বাড়তি এ মানুষদের জন্য আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে এখনো অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বিপুল বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রয়োজন।

ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ফুড প্রসেসিং অ্যাসোসিয়েশন (আইএফপিএ) এবং এফবিসিসিআইয়ের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ওই চুক্তিতে সই করেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাহবুবুল আলম এবং আইওএফএসের মহাপরিচালক ইয়ারলান বাইদুলেট।

চুক্তির অধীনে আইএফপিএ’র সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পাশাপাশি বেশকিছু পরিষেবা পাবে এফবিসিসিআই। যার মধ্যে রয়েছে- আইএফপিএ’র বিভিন্ন প্রকাশনায় অংশগ্রহণ, আইএফপিএ আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ, ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর বেসরকারি খাতের সঙ্গে ব্যবসায়ী পর্যায়ে (বিটুবি) সহযোগিতার সম্পর্ক স্থাপন প্রভৃতি।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র সহ-সভাপতি খায়রুল হুদা চপল, ড. যশোদা জীবন দেবনাথ, রাশেদুল হোসেন চৌধুরী রনি, মো. মুনির হোসেন, পরিচালক, ব্যবসায়ী নেতারা।




বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে এফবিসিসিআই’র নবনির্বাচিত কমিটির শ্রদ্ধা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়ার মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই।

শুক্রবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় এফবিসিসিআই’র নবনির্বাচিত সভাপতি মাহবুবুল আলমের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা জানান সংগঠনটির নেতারা।

এ সময় বঙ্গবন্ধুসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন এবং বঙ্গবন্ধু ও পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের সব শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন ব্যবসায়ী নেতারা।

এ সময় এফবিসিসিআই’র নবনির্বাচিত সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্যই আজ আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি। আমাদের ব্যবসায়ীরা আজ অনেকেই ব্যাংকের মালিক, বড় বড় ইন্ডাস্ট্রির মালিক, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার। শূন্য থেকে শুরু করে বাংলাদেশ আজ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে। দেশ স্বাধীন না হলে এগুলো সম্ভব হতো না। এজন্য আমরা বঙ্গবন্ধুর কাছে চিরকৃতজ্ঞ।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীন ভুখণ্ড দিয়েছেন, তার কন্যা শেখ হাসিনা দিয়েছেন অর্থনৈতিক মুক্তি। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার যে স্বপ্ন সেটি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। দেশের অর্থনীতির আকার বাড়ছে, আমাদের ব্যবসা বাণিজ্যের আকার বাড়ছে। প্রচলিত-অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানি বাড়ছে।

এ সময় এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ, উপ-কমিটির সদস্য সচিব মো. সিদ্দিকুর রহমান, এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, এফবিসিসিআই’র সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমিন হেলালী, সহ-সভাপতি খায়রুল হুদা চপল, মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত সরকার, ড. যশোদা জীবন দেবনাথ, শমী কায়সার, রাশেদুল হোসেন চৌধুরী রনি, মো. মুনির হোসেনসহ এফবিসিসিআই’র পরিচালক ও সাধারণ পরিষদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




এফবিসিসিআইকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে চাই

এফবিসিসিআইকে বিকেন্দ্রীকরণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এফবিসিসিআইয়ের নতুন সভাপতি মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন, সবার সহযোগিতা নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই। বিশেষ করে জেনারেল বডি মেম্বার ছাড়া চলতে পারে না এফবিসিসিআই। তাই এফবিসিসিআইকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে চাই। পুরান ঢাকায় একটা লিয়াজোঁ অফিস প্রস্তুত করাসহ রাজধানী ঢাকায় একটি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার করতে চাই, যা এরই মধ্যে চট্টগ্রামে করেছি আমরা।

১৪ আগস্ট এফবিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মাহবুবুল আলমের নেতৃত্বাধীন নতুন পরিচালনা পর্ষদের (২০২৩-২৫) কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন মো. জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন ২০২১-২৩-এর পরিচালনা পর্ষদ। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন সভাপতি এসব কথা বলেন। নতুন পরিচালনা পর্ষদের সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন বাংলাদেশ পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও বিপণন সমিতির সহসভাপতি এবং এফবিসিসিআইয়ের ২০২১-২৩ পর্ষদে সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মো. আমিন হেলালী।

 

মাহবুবুল আলম বলেন, ‘বেসরকারি খাতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব। এজন্য সবার সহযোগিতা চাই। আজ থেকে আমরা সবাই এক। আমাদের কথা ও দাবিও হবে এক। দিন শেষে আমাদের একটাই পরিচয়, আমরা ব্যবসায়ী। বেসরকারি খাতের সুরক্ষা ও বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করতে আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’

চেম্বার গ্রুপ থেকে সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খায়রুল হুদা চপল, গাজীপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত সরকার ও বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি যশোদা জীবন দেবনাথ।

অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ইকমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি শমী কায়সার, মেইজি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি রাশেদুল হোসেন চৌধুরী রনি ও এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মো. মুনির হোসেন।

বিদায়ী সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘‌শুরুতেই আমি নতুন বোর্ডকে স্বাগত জানাই। সামনে আমাদের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির জার্নি রয়েছে, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সেখানে নতুন বোর্ডের ওপর অনেক দায়িত্ব রয়েছে। আমার বিশ্বাস তারা সেটি সফলভাবে করতে পারবেন।’

এফবিসিসিআইয়ের নতুন সিনিয়র সহসভাপতি মো. আমিন হেলালী বলেন, ‘‌সাবেক সব সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি, সহসভাপতি ও পরিচালকরা সবাই কাজের মাধ্যমে তাদের পদচিহ্ন রেখে গেছেন। ‘‌গত দুই বছরে বোর্ডের নানা কার্যক্রমে সহায়তার কথা উল্লেখ করে পরিচালক ও সাধারণ পরিষদ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। ২০২৩-২৫-এর পরিচালনা পর্ষদের মধ্যে চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন থেকে ৪০ জন করে মোট ৮০ জন পরিচালক নির্বাচিত হন। নির্বাচিত পরিচালকদের মধ্য থেকে একজন সভাপতি, একজন সিনিয়র সহসভাপতি ও ছয়জন সহসভাপতি নির্বাচিত হন।




‘তেলা মাথায় তেল দেয়াই ব্যাংকের কাজ’

তেলামাথায় তেল দেওয়ার অভ্যাস রয়েছে কিছু ব্যাংকের। তারা শুধু বড় বড় ব্যবসায়ীকে ঋণ দেন, ছোটদের দেন না। যার টাকা আছে তাকেই ব্যাংকগুলো কেন টাকা দেবে? আমরা এটি নিয়ে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের নিয়ে বসেছি। এসএমইসহ ছোট-বড় সবার ব্যাংক লোনের সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি।

সোমবার (১৪ আগস্ট) এফবিসিসিআই কার্যালয়ে দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সদ্যবিদায়ী সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মাহবুবুল আলমের নেতৃত্বাধীন নতুন পরিচালনা পর্ষদ (২০২৩-২৫) এর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন ২০২১-২৩ এর পরিচালনা পর্ষদ।

মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এফবিসিসিআই ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন। এটি বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিত্ব করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছোট ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ঋণ পেতে সমস্যার পড়েন। ব্যাংক ঋণের কারণে ছোট ব্যবসা পরিচালনায় সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। তারা তেমন লোন পান না। আমরা শুরু থেকেই ছোট ব্যবসায়ীদের কথা মাথায় রেখে কাজ করেছি। ব্যাংকগুলোর অনেকেরই আবার তেলামাথায় তেল দেওয়ার অভ্যাস হয়ে ওঠে। যেসেব ব্যবসায়ীর টাকা আছে তাকেই টাকা (লোন) দিতে চান তারা। এ কারণে আমরা সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে বসেছি। ছোটদের ব্যবসা বৃদ্ধিতে কাজ করেছি। আগামীতেও নতুন বোর্ড কাজ করবে বলে আশা করি।

সদ্যবিদায়ী সভাপতি জসিম উদ্দিন নবনির্বাচিত পরিচালকদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, আমাদের ২০২১-২০২৩ মেয়াদে বোর্ডের শেষ কার্যদিবস ছিল আজ। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি। সরকারের উন্নয়নের দেখানো স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা কাজ করেছি।

বিদায়ী সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, দেশের চার কোটি ব্যবসায়ীর সংগঠন এফবিসিসিআই। ২০২১-২০২৩ মেয়াদে জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে আমরা ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেছি।




এফবিসিসিআই নির্বাচনে চলছে ভোটগ্রহণ

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) ২০২৩-২০২৫ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে।

সোমবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা করে নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করা হবে।

নির্বাচিত পরিচালকদের ভোটে আগামী ২ আগস্ট এফবিসিসিআই সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি ও ছয়জন সহসভাপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এফবিসিসিআই পরিচালনা পর্ষদের মোট ৮০ জন পরিচালকের মধ্যে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে ১৭ জন করে মোট ৩৪ জন পরিচালক হিসেবে ইতোমধ্যে মনোনীত হয়েছেন। এর বাইরে চেম্বার গ্রুপ ২৩ জন ও খাতভিত্তিক অ্যাসোসিয়েশন থেকে ২৩টি পদে সম্মিলিত নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও চেম্বার গ্রুপের ২৩টি পদের বিপরীতে ২৩টি মনোনয়ন পত্র জমা পড়ায় চেম্বার গ্রুপের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

খাতভিত্তিক অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপের ২৩ পদের বিপরীতে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৯ জন। এর মধ্যে পরিচালক প্রার্থী হিসেবে ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ প্যানেল থেকে ২৩ জন, সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ প্যানেল থেকে ২৩ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনজন।

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন জানান, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সঠিক নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব তুলে দিতে চায় এফবিসিসিআইয়ের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ। তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু ও অংগ্রহণমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র নির্বাচন বোর্ড গঠন করেছে এফবিসিসিআই। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য থাকবে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়া। আমি সব ভোটারদের শৃঙ্খলা বজায় রেখে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করছি।’

এর আগে ভোট প্রদানবিষয়ক নির্দেশনায় এফবিসিসিআই নির্বাচন বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভোট দেওয়ার জন্য একজন ভোটারকে একটি মাত্র ব্যালট পেপার সরবরাহ করবে পোলিং অফিসাররা। কোনো ভোটারকে ডুপ্লিকেট বা অতিরিক্ত ব্যালট দেওয়া হবে না। ব্যালট পেপার সরবরাহের সময় ভোটারের কাছ থেকে তার ভোটার আইডি কার্ড রেখে দেওয়া হবে, যা আর ফেরত দেওয়া হবে না। একজন ভোটার ব্যালট পেপারে উল্লিখিত প্রার্থীদের মধ্যে ২৩ জনকে ভোট দিতে পারবেন। ২৩ জনের কম বা বেশি প্রার্থীকে ভোট দিলে ব্যালটটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

নির্বাচন বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটার ছাড়া অন্য কারো নির্বাচন কেন্দ্রে প্রবেশাধিকার থাকবে না। নির্ধারিত ভোটার আইডি কার্ড ছাড়া কোনো প্রার্থী বা ভোটার কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।

ভোটের দিন আজ নির্বাচন কেন্দ্রের ১০০ গজের মধ্যে কোনো প্রচার-প্রচারণা, মিছিল বা শোডাউন করতে পারবেন না প্রার্থীরা। নির্বাচন কেন্দ্র বা তার আশপাশে কোনো প্রার্থী ভোটারদের উপহার সামগ্রী প্রদান করতে পারবেন না, এমনকি প্রার্থী বা ভোটার নির্বাচন কেন্দ্রে কোনো প্রকার আগ্নেয়াস্ত্র বা বিপজ্জনক বস্তু বহন করতে পারবেন না।

ভোট শুরুর ১৫ মিনিট আগে সব প্রার্থীর উপস্থিতিতে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স উন্মুক্ত করে প্রদর্শন করা হবে এবং সিলগালা করে ব্যালট বাক্স বন্ধ করা হবে।

এফবিসিসিআইয়ের ২০২৩-২০২৫ মেয়াদের নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সাবেক সভাপতি এ. মতিন চৌধুরী। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন-এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক মো. শামছুল আলম ও অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালক কে এম এন মঞ্জুরুল হক।